#বসন্তের_চৈত্র
পর্ব-৬.
#নুসরাত_পুতুল
খবার টেবিলে আমি অর্ণ উপস্থিত থাকা স্বত্তেও আমার শাশুড়ী মুরগির রান টা তুলে দিলো তুলির প্লেটে,
আমাকে না হয় না দিলো। কিন্তু তার ছেলেকে তো দিতে পারতো। তা না করক আমার ভাইয়ের মেয়েকে দিলেন। আমার ভাইয়ের মেয়ের জন্য তার এতো কিসের দরদ? তবে কি সত্যি আমার আড়ালে কিছু চলছে? নাকি আমি ভুল ভাবছি, হয়তো মেহমান ভেবে উনি দিয়েছেন।
না এতো প্রশ্ন নিয়ে থাকা আর সম্ভব না। আজই বের হবো, খুঁজ নিতেই হবে। আসল সত্যি টা আমাকে জানতো হবে।
নাস্তা করে অর্ণ চলে গেলো আমাদের বিজনেসের ঐ খানে।
তুলিও চলে গেলো বাড়ি যাবে বলে।
সকাল ১১ টা নাগাদ। শাশুড়ী তার রুমে। আমি বোরকা পরে বের হলাম।
শাশুড়ী কে বলে গেলাম একটা ঔষধ আনতে যাচ্ছি। তিনি আমায় বলেছেন যেন অর্ণকে কল করে বলি নিয়ে আসতে। আমার শরীর ভালোনা তেমন বের হওয়ার দরকার নেই। আমি তাকে সাতপাঁচ বুঝিয়ে বের হলাম।
হতো দু দিনের কাজ কর্মে আমার শাশুড়ি কে ও সন্দেহ হচ্ছে আমার। তাই বুদ্ধি করে তার মোবাইলের সিমটা উল্টো করে লাগিয়ে দেখেছি। যেন সে বুঝতে না পারে কি জন্য ফোনে নেটওয়ার্ক পাচ্ছে না। তার অর্ণকে জানাতে না পারে আমি এখন বের হচ্ছি৷
বাড়ি থেকে বের হয়ে একটা রিক্সা করে সোজা চলে গেলাম আমাদের কারখানার সামনে।
বড় না বেশি মাঝামাঝি রকমের, ১০*১৫ জনের স্টাফ কাজ করে এখানে।
আমায় দেখে ম্যানেজার কিছু টা অবাক হলেন।
এ সময় আমাকে এ স্থানে আশা করেন নি হয়তো। তবুও সালাম দিয়ে বসতে বললেন।
" না বসবো না।এ দিক দিয়ে যাচ্ছিলাম তাই আর কি।
" আপনার না শরীর খারাপ। কাল নাকি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন?
আমি মুচকি হাসলাম, অর্ণ এখানেও সবাইকে বলেছে আমি অসুস্থ।
"হ্যা এই আর কি একটু খারাপ ছিল এখন ঠিক আছি। তা অর্ণ কোথায়?
আমার প্রশ্নে ম্যানেজারের কপাল কুচকে গেলো। ভাবনায় পরে গেলেন যেন তিনি। কি বলবে বুঝে কুল করতে পারছে না
আমি আবারও বললাম,
" কি হলো, কোথায় সপ?
ম্যানেজার একটু থতমত করে বললো,
" স্যার তো বলল আপনি অসুস্থ, তার পর তো আর আসেনি,
তাই আমি আরও ভাবলাম আপনার শরীর বেশি খারাপ তাই আসেনি।
কেন স্যার কি বাড়িতে না?
" হ্যা, মানে একটু বের হয়েছিলো। আছে হয়তো কোথাও,
আচ্ছা আপনি যান৷, নিজের কাজ করুন আমি একটু ঘুরে দেখি সব কিছু।
ম্যানেজার চলে গেলো।
দূরে গিয়ে কাউকে কল করতে দেখছি।হয়তো অর্ণকে কল করছে। তাতে আমার মাথা ব্যাথা নেই। সে আসতো আসতে আমি আমার কাজ সেরে ফেলতে পারব।
সব দিকটা ঘুরে একজন কে জিগ্যেস করলাম,
" আচ্ছা চাচা অর্ণ কাল কখন বেরিয়েছে এখান থেকে/
কর্মচারী আমার বাবার বয়সি।
তিনি আমার দিকে একটু তাকিয়ে বললো,।
" কাল তো তিনি দুপুরে এসেছিল মাত্র , আর তখনই আপনার বাসা থেকে কল আসো আপনি নাকি অজ্ঞান হয়ে গেছেন। আর তখনই চলে যায়। এরওর তো আর আসেনি এখানে।
কেন কোনো সমস্যা?
" না, না সমস্যা হবে কিসের।
আচ্ছা আমাদের এখানে রভিন নামের একটা ছেলে কাজ করতো? সে আসেনি আজ?
চাচা চার দিকে চোখ বুলিয়ে বলল,
" না সে তো দুই দিন ধরে আসে না,
আমি অবাক হলাম,
" কিন্তু কেন আসে না?
" তা তো জানি না, দুই দিন আগে কি নিয়া স্যারের লগে কথা কাটাকাটি হইছে। তার পর দিন থেইকা আর আসে না।
অহ আচ্ছা।
বলে আমি বেরিয়ে আসলাম।
ফোনের স্কিনে রভিনের নাম্বার টা ঝলমল করছে। অনেক বার ট্রাই করলাম,
কল ডুকছে না,
হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসলাম।
কোনো প্রশ্নের উত্তর পেলাম না, উল্টো গোলকধাঁধার মতো প্রশ্ন বেরে চলেছে।
এসে সাওয়ার নিতে চলে গেলাম।
ঝরনা ছেড়ে দাড়িয়ে আছি তার নিচে,
মাথায় প্রশ্ন ঘুরছে,
অর্ন কোথায় যায় অফিসের কথা বলে?
আর কাল তো সকালে বের হয়েছিল। তাহলে দুপুরে কেন পৌছালো সেখানে। বাকি সময় কোথায় ছিল। আর আজই বা কোথায়,?
আর রভিন সে কি নিয়ে ঝামেলা করেছিল অর্ণের সাথে? আর কোথায়ইবা চলে গেলো যে ফোনটা সুইচঅফ।
তাহলে কি রভিন করছে সব কিছু /
আমার মনে পরলো কালকের ঘটনা,
আমি তখন ফেসবুক স্কল করছিলাম,
তখনই রভিন কল করে বলে,
" একটা জিনিস দেখাতে চাই আপনারে,
" কি জিনিস দেখাও,
" না না, এই জিনিস তো এ ভাবে দেখানো যাবে না,
" আজব কি এমন জিনিস, আর কি ভাবে দেখানো ঢ়াবে? কি বাজে বকছো?
" হাহা, বাজে বকছি না ম্যাডাম, এটা এমন একটা জিনিস যা দেখলে আপনি আর কথা বলার অবস্থায় থাকবেন না।
" কু সব ফালতু কথা, রাখছি আমি,
" আহহহ আরে ম্যাডাম। এতো তারা কিসের। শুনেন তো একবার।
আপনার স্বামী?
আমি বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলাম,
" অর্ণ? কি হয়েছে অর্ণের।
" আহ আহ। অস্তিত্ব কেন হচ্ছেন।
আপনার স্বামীর কিছু হয়নি, হবে তো আপনার।
" কি বলতে চাও। সরাসরি বল।
" বলতে কিছু চাইনা। দেখাতে চাই। বর স্পেশাল সে জিনিস টা দেখতে হলে যে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে এক্ষুনি আমাকে,
আমি কোনো টাকা দিতে পারব না।আর দেখতেও তাই না।
" সত্যি চান না? আচ্ছা যদি বলি আপনার স্বামীর সাথে অন্য একটা মেয়ে,
" কিহ? একদম চুপ। আর একটা কথাও বলবে না।আমি বিশ্বাস করি অর্ণকে।
" হুম ম্যাডাম। তাইতো বলেছি।বলতে না দেখাতে চাই।
বললে বিশ্বাস করবেন না আগেই জানতাম।
" কিছু দেখব না আমি। বিশ্বাস করও আমি তাকে,
" দেখবেন না? নাকি ভয় পাচ্ছেন ম্যাডাম?
" ভয়? কিসের ভয়?
" এই যে আপনার স্বামীর আসল রূপ সহ্য করতে পারবেন কি না। সে ভয়।
" কি আবুল তাবুল বলছো?
" আবুল তাবুল না, এটাই সত্যি।
' বিকাশ নাম্বার দাও,
সে কল কেটে বিকাশ নাম্বার দিলো।
আমি টাকা সেন্ট করতে সাথে সাথেই হোয়াটসঅ্যাপে পিকচার।
যেখানে অর্ণ আর তুলির অন্তরঙ্গ ঢ়বি আর দুজনের মুখ স্পষ্ট ছিল। কিন্তু ছবিটা কোথায়, কোন রুম আশে পাশে কি সব ভালো করে দেখার আগেই জ্ঞান হারাই আমি।
এরপর হাসপাতাল থেকে এসে তো পিক গুলো উধাও। সাথে রভিন ছেলে টা ও।
তবে কি রভিন আমাকে বোকা বানিয়েছে মিথ্যা সব দিয়ে।?
হঠাৎ মনে পরলো পিকচারের একটা অংশ।
অহ এ ব্যপার তবে।
আমি ঝটপট শাওয়ার শেষ করে বেরিয়েছি,, আস্তে আস্তে সবটা ক্লিয়ার হয়ে যাচ্ছে
।
আমি বের হয়ে চুল আচরাচ্ছি তখন অর্ণ বাড়ি ফিরে আসে।
আজ বর ভনিতা নয়। অর্ণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলাম।
" এ অসময় তুমি বাড়িতে? আর কোথা থেকে এসেছ) তুমি তো কারখানায় যাওনি।
আজ অর্ণকে জবাব দিতেই হবে,
চলবে ইনশাআল্লাহ