ফন্ট সাইজ:
থিম:
পদ্মপাতা

১ম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#পদ্মপাতা~🪷

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

#পর্বঃ- ০১

🚫⛔কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫

🪷🪷🪷

সবুজ সুন্দর গাছপালা দিয়ে ভরা একটা গ্রাম। আর এই গ্ৰামের প্রবেশ দ্বারে একটা বাস এসে দাঁড়ালো। তারপর বাস থেকে বেশ চিকন চাকন একটা চশমা পড়া ভদ্র সভ্য ছেলে নামলো।

“হ্যাঁ মা হ্যাঁ হ্যাঁ আমি পৌঁছে গেছি। আরে মা এখানের গ্ৰামের লোকেরা তো খুবই ভালো।..”

বাস থেকে নামা সেই ছেলেটি ফোনে তার মাকে বলে উঠলো। আর এদিকে পাশেই চায়ের দোকানে বসে থাকা গ্ৰামের কিছু ছেলেপেলে ঐ চশমা পড়া ছেলেটিকেই দেখছিল। যেন তারা এই ছেলেটির জন্যই অপেক্ষা করছিল। তারপর চায়ের দোকানে বসে থাকা ছেলেগুলোর উস্তাদ বলে উঠলো…

“আরে ছেলেটা তো একবারেই চিকনা রেএএ।..”

“আরে ভাই ছেলে হিসেবে নয়, জামাই হিসেবে দেখো।..”

উস্তাদের সাথে থাকা চ্যালাদের মধ্যে একজন বলে উঠলো।

“ও মা সময়টা বদলে গেছে, গ্ৰামে এখন গুন্ডা মাস্তান কম আর ইন্টারনেট স্পীড অনেক বেশি। তোমায় তো বলছি ধরে বেঁধে এখন আর বিয়ে দেওয়া হয় না।..”

চশমা পড়া সেই ছেলেটি গ্ৰামের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে ফোনে তার মাকে বলে উঠলো।

“মা আজ আমার চাকুরীর প্রথম দিন, তাই এখন সোজা স্কুলেই যাবো।..”

এই বলে সেই চশমা পড়া ছেলেটা গ্ৰামের স্কুলের দিকে এগিয়ে গেল। এই গ্ৰামে এই একটাই স্কুল রয়েছে। আর চশমা পড়া এই ছেলেটির এই স্কুলে চাকুরী হয়েছে।

“গুড মর্নিং স্টুডেন্ট…টটটট..”

“গুড মর্নিং মাস্টার মশাইইইইই..!..”

চশমা পড়া সেই ছেলেটি স্কুলের একটি নির্দিষ্ট ক্লাসে ঢুকতে ঢুকতে বলে উঠলো। কিন্তু ক্লাসের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীরা নয়, গ্ৰামের প্রবেশ দ্বারে চায়ের দোকানে বসে থাকা সেই গুন্ডা বাহিনী বসে আছে। প্রত্যেকে হাতে বন্দুক নিয়ে চশমা পড়া ছেলেটার দিকে দুষ্টু হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে।

“মনে হচ্ছে আমি ভুল ক্লাসে চলে এসেছি।‌ আমি আসি হ্যাঁ আল্লাহ হাফেজ।…”

চশমা পড়া ছেলেটা ওদের দিকে তাকিয়ে ভয়ে ভয়ে বলে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলো। আর তখনই সব ছেলেগুলো বেঞ্চ থেকে উঠে এসে মাস্টার মশাইয়ের চারপাশে বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল।

“অভিনন্দন মাস্টার মশাই, আজ আপনার বিয়ে। আর সেটাও…”

গুন্ডা বাহিনীর উস্তাদ বলে উঠলো। আর বাকিরা সবাই চিল্লিয়ে বললো…

“আর সেটাও ধরে বেঁধে…”

আর তখনই ক্লাস রুমের দরজা খুলে একটা হ্যাবলা ছেলে হাতে একটা বস্তা নিয়ে এগিয়ে এলো। এগুলো দেখে মাস্টার মশাই তো ভীষণ ভয় পাচ্ছে।

“আল্লাহ, কাউকে পাঠাও আমাকে সাহায্যের জন্য।…”

আর তারপরই গুন্ডা বাহিনী মাস্টার মশাই কে সেই বস্তায় ভরে নিল।

— — —

এক বিশাল চাষাবাদের ক্ষেত, আর তার পাশেই একটা যুবতী মেয়ে তার জমিতে হাল চাষা গরুকে গোসল করাচ্ছে।

হঠাৎ সেই মেয়েটা খেয়াল করলো দূর থেকে কেউ একজন আসছে। তার হাতে দুটো মাঝারি সাইজের পানির ট্যাংক রয়েছে। মহিলা টা সেগুলো নিয়ে ঠিক ভাবে হাঁটতে পারছেন না।

প্রায়ই তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক তখনই সেই মেয়েটা তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে নিল।

“আরে আরে আরে মা সাবধানে দেখে, তুমি ঠিক আছো?!.. আর এতো ভারি জিনিস কেন নিয়ে যাচ্ছো??!..”

সেই মেয়েটা মহিলা টিকে বলে উঠলো।

“তাহলে কি আর করবো পদ্ম?.. পাম্পে তো চল আসছে না। এখন যদি সারা ক্ষেতে পানি না দিই, তাহলে ঐ নিষ্ঠুর শামসু জোমাদ্দার আমাদের ছাড়বে বল??..”

“আরে আমার মা তুমি এতো চিন্তা করছো কেউ?.. যখন সঙ্গে আছে তোমার এই পদ্ম।‌..”

পদ্ম তার মায়ের কাঁধে হাত রেখে বলে উঠলো।

“হ্যাঁ, তুই মনে হয় এই এতো বড় ক্ষেতে একা পানি দিতে পারবি??!..”

“উফ্ মা কেন পারবো না?!... আমি একজন কৃষকের মেয়ে, কষ্ট করতে জানি আর সমাধান টাও জানি।..”

তারপর পদ্ম উঠে দাঁড়িয়ে মায়ের থেকে পানির ট্যাংক দু'টো নিয়ে একটা মজবুত বাঁশের দু মাথায় শক্ত করে দড়ি দিয়ে বেঁধে নিল। তারপর ট্যাংক দু'টো একটা লোহার ধাতু দিয়ে অনেক গুলো ফুটো করে দিল।

যাতে সেগুলো থেকে পানি বের হয়। আর তারপর সেই বাঁশের মাঝখানটা কাঁধে রেখে ও ক্ষেতের মধ্যে ঘুরতে লাগলো। আর এতে করে সেই ট্যাংকের ফুটো গুলো থেকে পানি সারা ক্ষেতে পরতে লাগলো। হালকা গোলাপি রঙের সেলোয়ার কামিজ পরে থাকা পদ্ম সারা ক্ষেতে ঘুরে ঘুরে পানি দিতে লাগলো।

“মানছো তো মা, কেমন এক তুড়িতেই সবকিছু ঠিক করে দিয়েছি!.. তুমি দেখে নিও মা, কাল আমাদের ব্যাংকের লোন টা ঠিক পাস হয়ে যাবে। আর তারপর আমাদের জমিতে নামও আমাদের আর কাজও হবে আমাদের।..”

এরমধ্যেই সেই বিশাল ক্ষেতের পাশের পাকা রাস্তা দিয়ে বেশ অনেক গুলো মোটরসাইকেল এগিয়ে আসতে লাগলো। আর আকাশের দিকে তাক করে একের পর এক গুলি করতে লাগলো।‌ অবশেষে মোটরসাইকেল গুলো এসে পদ্ম দের সামনে থামলো।

ওদের দেখে পদ্ম ও তার মা ভীষণ ঘাবড়ে গেল। ওরা হাত ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো। পদ্ম ভয় পেয়ে মায়ের দিকে এগিয়ে গেল। ওদের মা মেয়ের মুখ শুকিয়ে এইটুকুন হয়ে গিয়েছে।

পদ্মর মা ওদের নিজেদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে অতীত মনে করলেন।

“আমার ভাইকে গুলি করে পালিয়েছে তোমার স্বামী। আমি শামসু জোমাদ্দার না নিজের অপমান ভুলে যাই, আর না নিজের ক্ষমতা। তাই আগে তোমার স্বামী কে গুলি করে নিজের ভাইয়ের প্রতিশোধ নেবো। আর তারপর ঋণের পরিবর্তে তোমার মেয়ে কে তোমার চোখের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাবো।..”

“আপনার পা ধরে ক্ষমা পাইছি, এমনটা করবেন না। আমরা যেভাবেই হোক আপনার ঋণ শোধ করে দেবো।..”

“আড়াই লাখ টাকার ঋণ রয়েছে তোমাদের উপর। তোমার মেয়ের আঠারো বছর হওয়ার আগেই আমার ঋণ যেন পরিশোধ হয়ে যায়। না হলে তোমাদের আদরের পদ্ম ফুলের মতো থাকবে না, শুকিয়ে যাওয়া পাতায় পরিনত হয়ে যাবে। ওকে তখন সারা জীবন এই শামসু জোমাদ্দারের কাজে থাকতে হবে। শামসু জোমাদ্দার ওকে বিয়ে করবে। আর তারপর না জানি কি না কি করবে। সেটা তোমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারবে না।..”

শামসু জোমাদ্দার ও তার দলবল কে পদ্মর দিকে এগিয়ে যেতে দেখে পদ্মর মা অতীত থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি তড়িঘড়ি করে কাঁপতে কাঁপতে মেয়ের কাছে গিয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন।

শামসু জোমাদ্দার পদ্মর দিকে এগিয়ে গিয়েই নিজের হাতে থাকা ছাতা দিয়ে পদ্মর হাতের বাহু পেঁচিয়ে ধরে ওর মায়ের আড়াল থেকে বের করে নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল।

“জোমাদ্দার বাবু..”

পদ্মর মা ভয় পেয়ে বলে উঠলেন। শামসু উনার দিকে তাকিয়ে বলল..

“সালাম কাকিমা..।

খুশি?.. এবার তো তোমার মাকেও সালাম দিলাম। এসবের মায়ায় জড়িয়ে তুমি নিজের যৌবন নষ্ট করছো। তার থেকে ভালো তুমি আমার কথা শোনো, বিয়ে করে নাও আমাকে। তাহলে এই পুরো গ্ৰাম তোমার পায়ের কাছে এনে রাখবো।..”

এই বলেই শামসু খিট খিট করে হেসে উঠলো। তারপর ওর সাথে আসা একটা চ্যালা কে ডেকে উঠল। তারপর সেই ছেলেটি একটা সাজানো ডালা নিয়ে আসলো। শামসু জোমাদ্দার সেই সাজানো ডালা টা নিজের হাতে নিয়ে পদ্মর সামনে বাড়িয়ে দেয়।

“এই দেখো, তোমার জন্য আমি লাল পাড়ের শাড়ি এনেছি। এই লাল পাড়ের শাড়ি পরে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগবে। একদম আমার লাল পরী!..”

শামসুর এই কথা শুনে পদ্ম মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়েছে। তারপর নিজের হাতটা ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল…

“আজকের মজুরি টা দিন শামসূ জোমাদ্দার।..”

“বাবু, আরে শামসু জোমাদ্দার বাবু। ভাইয়ের নামের আগে সবাই বাবু বলে।..”

শামসু জোমাদ্দারের সাথে আসা তার এক চ্যালা বলে উঠলো। এই কথা শুনে শামসু খুশি হয়ে পদ্মর দিকে তাকালো। পদ্ম মাথা নিচু করে বলল…

“তাতে কি আসে যায়, সাপ তো ছোবল দেবেই। সে আপনি নাম ধরে ডাকেন, আর বাবু বলে ডাকেন।..”

শেষের কথাটা শামসু জোমাদ্দারের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো। আর ওর এই কথা শুনে শামসু জোমাদ্দার ও তার চ্যালারা বেশ রেগে গেল।

“এইইইইইই?!...”

শামসু জোমাদ্দারের ছেলেপেলে চিৎকার করে কিছু বলতেই শামসু তাদের হাত উঁচিয়ে থামিয়ে দিল। তারপর পদ্মর দিকে তাকিয়ে খটখটিয়ে হেসে উঠলো।

“আরে সাপের যা করার সেটা তো সে করবেই, তাইনা?..!..”

“তারপর আবার হেসে বললো…

কিন্তু তুমি না একটা কথা মনে রেখো। যে মেয়েদের আর পিঁপড়েদের পা একটু দেখে শুনে সাবধানে ফেলা উচিত। পাছে আবার না কারো পায়ের তলায় পড়ে পিষে মারা যায় কেউ বুঝতেই পারে না।..”

এই বলে শামসু জোমাদ্দার ও তার চ্যালারা এক যোগে হেসে উঠলো। এরপর শামসু ইশারা করে একটা ছেলে কে টাকা দিতে বললো। তারপর ছেলেটা একটা টাকার বান্ডিল এগিয়ে দিল। কিন্তু শামসু সেখান থেকে মাত্র একটা নোট তুলে নিল। তারপর সেটা পদ্মর দিকে বাড়িয়ে দিল। পদ্ম টাকা টা নিতে চাইলেই শামসু হাত সরিয়ে ফেললো। তারপর আবার পদ্ম হাত বাড়িয়ে দিতেই দিয়ে দিল। টাকা টা নিয়ে পদ্মর মুখটা ছোট হয়ে গেল।

“আজকেও শুধু একশো টাকা?!..”

পদ্ম একশো টাকার নোট টা হাতে নিয়ে মন খারাপ করে বলে উঠলো। শামসু জোমাদ্দার ওর দিকে তাকিয়ে বলল..

“ওটাই তো সমস্যা, আমি সেই কখন থেকে বোঝাচ্ছি। কিন্তু তুমি বুঝতেই চাইছো না। আবারও বলছি তুমি আমাকে বিয়ে করে নাও, নাহলে পুরুষ মানুষের রাগ তো তুমি জানোই। প্রাণ চলে যায় কিন্তু ঋণের টাকা নিয়েই ছাড়বো। কি তাইতো?!...”

এই বলে শামসু জোমাদ্দারের আবারও ভয়ংকর ভাবে হেঁসে উঠল। পদ্ম একটু ঘাবড়ে গিয়ে তুতলিয়ে বলে উঠলো..

“আমাকে অনাথ ভাববেন না, শামসু জোমাদ্দার। যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছেন। আর আমার তো মাও আছে, আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাকে সাহায্য করবেন। আর আমি আপনাকে ওয়াদা করছি, আমাদের জমি আমি আপনার কাছ থেকে ছাড়িয়েই ছাড়বো। চলো মা!..”

এই বলে পদ্ম ওর মাকে সাথে নিয়ে তাড়াতাড়ি ওখান থেকে বাড়ির দিকে যেতে শুরু করলো। পেছন থেকে শামসু জোমাদ্দার বলল..

“এখনো ভালো করে বোঝাচ্ছি, বুঝে যাও। সুদের টাকা দেওয়ার ক্ষমতা নেই তোমাদের, আবার আসল কিভাবে দেবে??! তাই বলছি আমাকে বিয়ে করে নাও, তাহলে সব ঋণ শোধ হয়ে যাবে।…”

কিন্তু শামসু জোমাদ্দারের এতো কথা শুনেও পদ্ম দাঁড়ালো না। ও হেঁটেই যাচ্ছে। এই দেখে শামসু জোমাদ্দার বলে উঠলো…

“নাহলে যেভাবে তোমাদের রুপার জোর করে বিয়ে করাচ্ছি না?.. সেভাবেই তোমাকেও ধরে বিয়ে দিয়ে দেবো।…”

এই কথা শুনে পদ্ম চমকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। তারপর পিছন ফিরে শামসু জোমাদ্দারের দিকে তাকালো। পদ্মর মা ওকে জোর করে টেনে নিয়ে চলে গেল।

“আরে এই পদ্মফুল এই পদ্ম..”

এই বলে শামসু জোমাদ্দার আবার হেসে উঠলো। আর পদ্ম কে ওর মা ওখান থেকে নিয়ে চলে গেল।

— — —

এদিকে মাস্টার মশাই কে জোর করে জামাই সাজিয়ে বিয়ের আসরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। আর তার চারপাশে কিছু ছেলে বন্ধুক তাক করে দাঁড়িয়ে আছে।

“জোর করে বিয়ে, তাই কোনো ঝামেলা হওয়ার আগেই বিয়েটা তাড়াতাড়ি হয়ে যেতে হবে, ব্যাস।..”

একজন মুরুব্বি মাস্টার মশাইয়ের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বন্ধুক হাতে থাকা ছেলেদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো।

এদিকে শামসু জোমাদ্দারের থেকে জানতে পেরে পদ্মও এখানে চলে এসেছে।

পদ্ম একা আসেনি, ওর সাথে ওর দাদী ও ওর মা এসেছে। রুপা রা হচ্ছে পদ্মদের প্রতিবেশী, আর রুপা পদ্মর খুব ভালো বান্ধবী।

“দাদী!.. দাদী!.. রুপার মাথা খারাপ হয়ে গেছে, ও বিয়ে করতে চাইছে না।..”

রুপার চাচাতো বোন দৌড়ে এসে পদ্মর দাদীকে বলে উঠলো। এই কথা শুনে পদ্মর দাদী তড়িঘড়ি করে সেদিকে এগিয়ে যেতে চাইলো। কিন্তু পদ্ম তাকে বাধা দিয়ে বলল…

“দাদী তুমি বরং এদিকে রুপার মায়ের সাথে কথা বলো আমি রুপা কে দেখে আসছি।…”

এই বলে যেই না পদ্ম ভিতরের দিকে যেতে চাইলো, দাদী পদ্মর হাতের বাহু টেনে ধরলেন।

“রুপা কে বোঝানোর জন্য শুধু কথা ব্যবহার করতে হবে। আর কোনো বাড়তি ঝামেলা নয়।..”

পদ্ম দাদীর কথায় মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে ভিতরে রুপার রুমের দিকে চলে গেল।

“আমি মরে যাবো কিন্তু তারপরেও জোর করে এই বিয়ে আমি করবো না।..”

রুপা কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো। ওর মা এবার এগিয়ে এসে রুপার গলা টিপে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল..

“ঠিক আছে তাহলে মরে যা, মরে যা মরে যা তুই।..”

আর ঠিক তখনই পদ্ম রুপার ঘরে ঢুকলো। তারপর ও তড়িঘড়ি করে রুপার মায়ের দিকে এগিয়ে গেল।

“কি করছো, চাচী কি করছো তুমি?.. ছাড়ো.. ছাড়ো ওকে। রুপার লেগে যাবে তো!..”

“পদ্ম তুই তো আমার বান্ধবী বল, তুই আমাকে একটু বোঝার চেষ্টা কর?!..

মাকে একটু বোঝা না, এমন করে কি জোর করে বিয়ে দেওয়া উচিত?!...”

রুপা পদ্ম কে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো। পদ্ম রুপা কে কিছু ইশারা করে বলল…

“এই বিয়েটা তোর ভালোর জন্যই হচ্ছে রুপা। আমি দেখেছি বাইরে, ছেলেটা খুব ভালো। আয় রোজগারে আর দেখতে সবকিছুতেই ভালো। এর থেকে ভালো স্বামী তুই আর কোথায় পাবি‌?!...”

রুপা ওর কথা শুনে চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। পদ্ম রুপার মাকে বলল…

“চাচী, তুমি বাইরে যাও। আমি রুপা কে দু মিনিটেই নিয়ে আসছি।..”

“হ্যাঁ রে মা একটু তাড়াতাড়ি নিয়ে আসিস।..”

এই বলে চোখ মুছতে মুছতে রুপার মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। পদ্ম রুপার দিকে এগিয়ে গেল।

“তুই তো জানিস, এইভাবে বিয়ে দেওয়ার পর মেয়েদের সাথে কি হয়। এই জোর করে দেওয়া বিয়ের পরিণতি ঠিক কেমন হয়। রিতার জামাই আজো ওর সাথে কথা বলে না। আর আমি এরকম বিয়ে করতে চাইনা।..”

রুপা পদ্ম কে ছেড়ে সারা ঘর জুড়ে পায়চারী করতে করতে বলে উঠলো। ওর চোখ থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। পদ্ম ওকে টেনে বিছানায় বসিয়ে দিল। তারপর ওর কাঁধে হাত রেখে বলল…

“আরে তুই এতো চিন্তা করিস না। আমি আছি তো তোর সাথে। তুই না চাইলে বিয়েটা করিস না।..”

রুপা চমকে উঠে ভীষণ খুশি হয়ে পদ্ম কে ধরে বলল…

“কিহহ সত্যি?..”

পদ্ম ওকে আশ্বাস দিয়ে বলল…

“আমি জানি রিতার সাথে কি হয়েছে। তখন আমি ওর জন্য কিছুই করতে পারিনি। কিন্তু আমি তোকে ঐ কষ্ট পেতে দেবো না।..”

রুপা ভীষণ খুশি হয়ে পদ্ম কে জড়িয়ে ধরলো। পদ্ম ওকে টেনে নিয়ে বলল..

“কিন্তু এইভাবে কেউ বিয়ে আটকায় নাকি??!.. এই আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে কিচ্ছু হবে না। আমাদের ভেবে চিন্তে পা ফেলতে হবে না। আমি এই বিয়ে কখনোই হতে দেবো না।..”

পদ্মর এই কথা শেষ হতে না হতেই রুপার রুমের দরজা খুলে একটা মেয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো। পদ্ম ও রুপা এতে বেশ ঘাবড়ে গেল, মেয়েটা সবকিছু শুনে ফেললো না তো??!..

ওরা দুজনে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। সেই মেয়েটা ওদের দিকে এগিয়ে গেল। পদ্ম ও রুপা মেয়েটাকে ওদের কাছে আসতে দেখে ভয়ে মাথা নিচু করে নিল। আর এটা দেখে সেই মেয়েটা মুখে হাত চেপে জোরে হেসে উঠলো।

“আরে আমি এখানে তোর বিয়ের দাওয়াত পেয়েছি। আর সেজন্যই তো আমি এখানে চলে এলাম। কিন্তু আমি এটা জানতাম না যে তোর বিয়েটা জোর করে হচ্ছে।..”

এই মেয়েটা হচ্ছে রুপার খালাতো বোন। ওর নাম মিথিলা, ওরা শহরে থাকে। রুপার বিয়ের খবর শুনে এখানে এসেছে। মিথিলা রুপার থেকে দু-তিন বছরের বড়, তাইতো মিথিলা কে দেখে রুপা ও পদ্ম ঘাবড়ে গিয়েছিল।

“কিন্তু এটা শুনে খুব ভালো লাগলো যে পদ্ম তোর সাথে আছে। এই উচ্চ মূল্যে যৌতুকের বিরুদ্ধে উত্তর ধরে বেঁধে বিয়ে, এটা হতেই পারে না। কিন্তু কোন ব্যাপার না, আমি তো এসে গেছি। এখন আমিও পদ্মর সাথে তোকে সাহায্য করবো।

পদ্ম মনে এবার একটু সাহস পেল। ও একটুখানি হেসে বলল…

“সত্যিই?.!..”

“হ্যাঁ!..”

রুপা ওদের মাঝখানে থেকে ঘাবড়ানো কন্ঠে বলে উঠলো..

“কিন্তু তোমরা এই বিয়েটা আটকাতে পারবে তো??!...”

“পদ্ম রুপা কে আশ্বাস দিয়ে বলল..

আরে আমি কৃষকের মেয়ে, কষ্ট করতেও জানি। আর তারপর সমাধানটাও জানি। তাই তুই চিন্তা করিস না। তুই এখন তাড়াতাড়ি গিয়ে তৈরি হয়ে নে। কেউ যেন কিছু বুঝতে না পারে, এমন ভাব করবি যেন তুই এই বিয়েতে রাজি আছিস।…”

তারপর মিথিলার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল…

“আর বাকি সব আমরা দুজনে সামলে নেবো।..”

“তুই খুব ভালো পদ্ম, খুব ভালো। আমি আল্লাহর কাছে তোর জন্য দোয়া করবো। আল্লাহ যেন তোকে তোর মনের মতো জীবনসঙ্গী দেন।..”

এই বলে রুপা পদ্ম কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। পদ্ম হেসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।

—চলবে—

ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন