ফন্ট সাইজ:
থিম:
পদ্মপাতা

৮ম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#পদ্মপাতা~🪷

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

#পর্বঃ- ০৮

🚫⛔কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫

🪷🪷🪷

“আজ মাকে রাণীর মতো করে ডাল ভাত রান্না করে খাওয়াবো। আমাদের রাজপ্রাসাদ নেই তো কি হয়েছে, পদ্ম ঐ খড়কুটোর তৈরি ঘরেরই রাজকন্যা হবে।..”

এই ভাবতে ভাবতেই খুশি মনে বাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পদ্ম।

এদিকে আরমান ক্লিনিকের বাহিরে দাঁড়িয়ে আরিনার সাথে কথা বলছে।

“আমি বলেছিলাম যে তোমার জন্য অন্য কোনো পাত্রী ঠিক করবে তোমার বাড়ির লোকজন। আর দেখো সেটাই হচ্ছে।..”

আরিনা মন খারাপ করে আরমান কে বলে উঠলো।

“আরে বাবা এখনো ঠিক হয়নি তো, তুমি এতো টেনশন করছো কেন?!.. যাস্ট রিল্যাক্স থাকো। আমি এখান থেকে গিয়েই বাড়িতে তোমার কথা জানাবো।..”

“ আরে কিসের রিল্যাক্স, এভাবে রিল্যাক্স বললেই রিল্যাক্স থাকা যায় নাকি?!.. তোমার ফুফু আম্মা কিছুতেই মানতে চাইবেন না। আমার ভীষণ টেনশন হচ্ছে।…”

“আরিনা তুমি আমাকে বিশ্বাস করো তো?!..”

“হ্যাঁ করি তো, আমি তোমাকে অনেক ভরসা করি আরমান। আমাকে ঠকানোর চেষ্টাও করো না কিন্তু।....”

এই বলে আরিনা কলটা কেটে দিল। আর তখনই আরিনার রুমে ওর মা প্রবেশ করলেন।

“গলে গেলে তো?!. আমি আগেই জানতাম এমন কিছুই হবে। ও তোমাকে বললো যে আমি আমার পরিবারের সাথে কথা বলবো। আমাকে বিশ্বাস করো তো?!.. আর তুমিও অবুঝ ও বোকা মেয়েদের মতো হ্যাঁ বলে দিলে।…”

আরিনার মা আমেনা বেগম বলে উঠলেন।

“মা তুমি কি বলতে চাইছো, একটু স্পষ্ট করে বলো তো।..”

“আমি যা বলতে চাইছি তুই সেটা বুঝতে পারছিস না। দেখ আমি জানি যে তোরা দু'বছর ধরে দুজনে একে অপরকে পছন্দ করিস। কিন্তু মা সেটা শুধু আমি জানি ওর পরিবার জানে না।..”

“কিন্তু মা ও বলেছে তো যে ও ওর বাড়িতে জানাবে। তুমি এতো চিন্তা করছো কেন?!...”

আরিনা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো। ওর মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে অধৈর্য স্বরে বললেন…

“কবে জানাবে?!.. কবে জানাবে ও তোর কথা ওর পরিবার কে। তোর হয়তো শুনতে ভালো লাগবে না, কিন্তু আমি জানি ওদের বাড়ির সকলে একই রকমের। ওরা শুধু নিজের সুবিধা বুঝে, ওরা শুধু সবাইকে ঠকাতেই জানে।..”

আরিনা মায়ের এমন কথা শুনে মায়ের কাঁধে হাত রেখে বলল…

“মা প্লিজ তুমি এভাবে বলো না। আমার সাথে আরমান এমনটা কখনো করবে না।…”

“আরিনা মা আমার কথাটা বোঝার চেষ্টা কর। দেখ আমরা যদি ওদের কে এভাবেই সুযোগ দেই , তাহলে ওরা এরকমই করবে। এভাবেই ঠকাতে থাকবে।..”

“না মা তুমি আরমান কে চেনো না। ও একদমই অন্যদের মতো নয়। ও সবার থেকে আলাদা, আমাকে সত্যিই ভীষণ ভালোবাসে। তাই তুমি নিজেও চিন্তা করো না, আর আমাকেও অযথাই প্রেশার দিওনা।..”

এই বলে আরিনা রুম থেকে বেরিয়ে গেল। আর ওর মা মেয়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।

“কিন্তু আমি আরমান কে বিশ্বাস করি না। আর ওর পরিবার কে তো কখনোই বিশ্বাস করি না। যাই হয়ে যাক না কেন, আমি আমার মেয়ের জীবন কিছুতেই নষ্ট হতে দেবো না। আর এর জন্য আমাকে যা কিছু করতে হবে সবকিছু করবো।..”

এই বলে আমেনা বেগম নিজেও আরিনার রুম থেকে বেরিয়ে এলেন।

— — —

এদিকে পদ্মর দাদী পাটি বিছানো চৌকিতে বসে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। আর পাশেই ঘরের এক কোণে পদ্মর মা চুলার কাছে বসে আছেন। এরমধ্যেই দরজা টোকানোর শব্দ ভেসে আসলো। পদ্মর মা উঠে দরজা খুলতে গেলেন।

কিন্তু তিনি দরজা খুলতেই দেখলেন শামসু জোমাদ্দার ও তার চ্যালারা দাঁড়িয়ে আছে। শামসু জোমাদ্দার সরাসরি পদ্ম মাকে সালাম দিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে গেল। আর তারপর পদ্মর দাদীর কাছে গিয়ে বলল…

“সালাম দাদী, কেমন আছেন আপনি?!..”

“ভালোই আছি বাবা, আমি তো ভেবেছিলাম যে তুমি আর আসবে না।..”

পদ্মর দাদী খুশিতে গদগদ হয়ে বলে উঠলেন। শামসু জোমাদ্দার হেসে বলল…

“আরে কি বলছেন আসব না কেন?!.. আপনাদের সাথে সম্পর্ক হতে চলেছে আর আমি আসবো না সেটা কিভাবে হয়।..”

তারপর আবার বলল…

“এই গ্ৰামের জমিদার পুত্র আমি, তাই আমারও তো কিছু দায়িত্ব আছে। কিছু কর্তব্য আছে, সেইজন্য তো আমি এই আনাজের পুটলিটা মাঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারপর মন টা দেখুন কেমন করে উঠলো, আসলে ভালো লাগলো না। তাই দেখুন এক পুটলির বদলে আমি পুরো এক বস্তা নিয়ে এসেছি।…”

ওর ছেলেদের কাছে থাকা বস্তা টা দেখিয়ে বলে উঠলো। পদ্মর দাদী সেই বস্তা দেখে তো চমকে উঠলো। তিনি তড়িঘড়ি করে জিজ্ঞেস করলেন…

“এই বস্তা টা আমাদের জন্য?!..”

“হ্যাঁ, আর না তো কা..?!..”

পদ্মর দাদী এই কথা শুনে পারে না যেন লাফ মারতে। তিনি শামসু জোমাদ্দারের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল…

“সুখী হও বাবা, খুব সুখী হও!..”

তারপর শামসু জোমাদ্দার পদ্মর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল…

“দেখুন শাশুড়ি মা, আপনার আর পদ্মর সব খরচাপাতি আমি বুঝে নেবো। ডাল ভাত খাওয়ার দিন শেষ। এখন দৈনিক ষোলো পদের রান্না হবে বুঝতে পারছেন তো নাকি?!...”

এই বলেই শামসু জোমাদ্দার খটখটিয়ে হেসে উঠলো। আর ঠিক তখনই পদ্ম ওদের ঘরের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। ও ঘরের ভেতরে শামসু জোমাদ্দার কে দেখেই একপাশে লুকিয়ে পড়লো।

“বলছিলাম আপনারা হচ্ছেন পদ্মর আপন মানুষ। আপনারা যদি একবার হ্যাঁ বলে দেন, তাহলে আমাদের এই সম্পর্ক টা আরও শক্ত মজবুত হবে।..”

পদ্মর মা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। তিনি এই কথা শুনে হারিয়ে গেলেন অতীতে…

“যদি তোমার মেয়ের আঠারো বছর বয়স হওয়ার আগে আমার ঋণ শোধ করতে না পারো, তাহলে তোমাদের আদরের পদ্ম ফুল আর ফুলের মতো থাকবে না। তখন ফুল তার সৌন্দর্য হারিয়ে পরে থাকবে এই শামসু জোমাদ্দারের ঘরে। আর আমি তখন সেই ফুলের কাঁটা হবো।..”

পদ্মর মা অতীত থেকে বর্তমানে আসলেন। তিনি ভাবছেন কি করবেন?!.. না করলেও বিপদ আর হ্যাঁ বললেও বিপদ। এ যেন জলে কুমির আর ডাঙায় বাঘ।

“আরে হ্যাঁ বলে দাও বৌমা, তাহলে পদ্মর , আমাদের, এই বাড়ির সবার জন্য ভালো হবে।..”

পদ্মর দাদী জোহরা ভানু বলে উঠলেন। শামসু জোমাদ্দারও তার কথায় খুশি হয়ে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলতে বলছে। এদিকে লুকিয়ে থাকা পদ্ম তখন কলিজা হাতে নিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে।

পদ্মর মা এবার সাহস করে মাথা তুলে শামসু জোমাদ্দারের দিকে তাকিয়ে বলল…

“এটা আপনার ভালো মনের পরিচয় যে আপনি আমাদের সাহায্য করতে চাইছেন। কিন্তু আমার দিক থেকে উত্তর না’ই থাকবে।..”

পদ্ম মায়ের উত্তর শুনে খুশিতে কেঁদে ফেললো। মা কখনো ওর ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিচ্ছু করবে না। আর পদ্মর মা শামসু জোমাদ্দার কে সেটাই বললো।

“আমি পদ্মর মতের বিরুদ্ধে গিয়ে কখনো এই বিয়ের জন্য সম্মতি দিতে পারবো না।..”

কিন্তু পদ্মর মায়ের এই কথা পদ্মর দাদী ও শামসু জোমাদ্দারের পছন্দ হলো না। শামসু জোমাদ্দার হাঁটতে হাঁটতে বললো…

“গ্ৰামের সবাই জানে ভ্যাগের রেখা আর ক্ষমতার প্রভাব ভীষণ কষ্টদায়ক। ভাবলাম যে সেই সুযোগ টা আপনাদের দিই, এখনো পর্যন্ত আপনারা আমার ভালো মানুষি দেখেছেন, এবার থেকে আমার ক্ষমতা দেখবেন।আসছি এখন!…”

এই বলে শামসু জোমাদ্দার হনহনিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। আর ওর সাথে ওর ছেলেপেলেরাও চাল ডালের বস্তা টা নিয়ে বেরিয়ে এলো। পদ্ম ওদের কে দেখে আবার আড়ালে চলে গেল। আর পদ্মর দাদী জোহরা ভানু ওদের পিছু পিছু ডাকতে ডাকতে বেরিয়ে এলো।

“বাবা…বাবা যেওনা, যেওনা বাবা… শোন বাবা।..”

কিন্তু শামসু জোমাদ্দার আর একবারের জন্যও থামলো না। এবার পদ্মর দাদী পদ্ম কে দেখতে পেয়ে ওর দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু আগেই পদ্মর মা বেড়িয়ে এসে মেয়ের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।

“মুখপু্রী, হতচ্ছাড়ি কখনো এই বাড়ির ভালো হতে দেবে না তোমরা দুজনে। আমি তো ভেবেছিলাম আমাদের দুই বেলা খাবারের জন্য আর কখনো কারো কাছে যেতে হবে না। আর চিন্তাও করতে হবে না। কিন্তু তোমরা দুজনে সবকিছু শেষ করে দিলে, সবকিছু শেষ।..”

পদ্মর দাদী রাগে ক্ষোভে গজগজ করে বলে উঠলেন। পদ্ম ও তার মা চুপ করে থাকল। তারপর পদ্ম উঠে দাদীর দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল…

“দাদী, দাদী তুমি রাগ করো না, এটা তোমার শরীরের জন্য ভালো নয়। তুমি চাইলে আমাকে মেরে মেজাজ ঠান্ডা করে নিতে পারো। কিন্তু এভাবে দুশ্চিন্তা করে নিজের শরীর খারাপ করো না।…”

পদ্মর দাদী ওকে এক ধাক্কায় দূরে সরিয়ে দিল। পদ্ম গিয়ে পড়লো ওর মায়ের উপর।

“আরে যা সর, তোকে আমার শরীরের চিন্তা করতে হবে না। এই চিন্তা নিয়েই আমাকে কবরে যেতে হবে।..”

এই বলে পদ্মর দাদী হনহনিয়ে ঘরে ঢুকে গেল। পদ্ম চোখের পানি মুছে নিল।

“না দাদী, হাতে এতো গুলো রেখা আছে, সবগুলো তো আর দুঃখের নয়। এর মধ্যে সুখের রেখাও আছে নিশ্চয়ই। আর সেই সুখের জন্য এভাবেই লড়াই করে যাবো। আল্লাহ একদিন না একদিন অবশ্যই মুখ তুলে চাইবেন।..”

পদ্ম মনে মনে কথাগুলো বলে উঠলো।‌ তারপর ওর মাকে বলল…

“মা তুমি একটুখানি দাঁড়াও।…”

এই বলে পদ্ম নীচে থেকে ব্যাগটা হাতে নিল। তারপর ব্যাগটা পেছনে লুকিয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।

“আমি সকালে তোমাকে বলেছিলাম না যে আজকে তোমাকে ডাল ভাত খাওয়াবো!..”

“হ্যাঁ বলেছিলি তো..”,

“নিজের আঁচল টা সামনে পাতো!..”

“কেন কি হয়েছে?!..”

“আরে তুমি আঁচল টা পাতো না, তাহলেই দেখতে পাবে।..”

“আচ্ছা ঠিক আছে।..”

তারপর ওর মা আঁচল পাততেই পদ্ম চাল ডালের পুটলি মায়ের আঁচলে রাখলো।

“এই দেখো মা!..”

‘কিন্তু এসব কোত্থেকে আসলো!..”

পদ্মর মা খুশি হয়ে চমকে উঠে জিজ্ঞেস করল।

“শামসু জোমাদ্দার তো বলল সবকিছু ফেলে দিয়েছে। তাহলে এগুলো কোত্থেকে এলো?!...”

“তুমি অতো সব চিন্তা করো না তো মা।..”

এই বলে পদ্ম সামনে ঘুরে চলে যেতে চাইলো। কিন্তু তখনই ওর মা পদ্মর হাতটা টেনে ধরলো। উনি পদ্মর হাতের কনুইয়ের ক্ষতটা দেখে ফেলেছেন।

“পদ্ম তোর হাতে এখানে এটা কিভাবে হলো?!...”

“আরে মা এটা তো সামান্য আঘাত। এটাই তো একজন কৃষকের চিহ্ন।..”

“এই তুই চুপ থাক তো, কতটা রক্ত বের হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে হলুদ আর বন্যপাতার প্রলেপ না লাগালে এটা কমবে না।..”

‘কিচ্ছু লাগবে না মা। তুমি অস্থির হইও না তো।..”

“আরে তুই বেশি বুঝিস?!.. চল আমার সাথে এক্ষুনি চল। গ্ৰামে তো ডাক্তার এসেছেই, তাড়াতাড়ি চল।..”

পদ্ম মায়ের কথা শুনে ঘাবড়ে গিয়ে মায়ের হাত টেনে ধরল।

“না না মা আমি ঐ শহুরে ডাক্তারের কাছে যেতে পারবো না। গ্ৰামের লোকজনও আমাকে নিষেধ করেছে, আর তাছাড়া আমি উনাকে আসছে পরেই কত বিরক্ত করেছি। উনি আমার চিকিৎসা কেন্ করবেন?!..”

“কেন করবেন না?!.. উনি ডাক্তার, আর ডাক্তারের ধর্মই হলো রোগীর চিকিৎসা সেবা করা। তুই এক্ষুনি আমার সাথে চল, নাহলে আমি একটা দানাও মুখে তুলবো না। একদম কিচ্ছু খাবো না, খালি পেটেই থাকবো।…”

পদ্ম মায়ের জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হলো। তারপর ও বলল…

“আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে, আমি যাবো। কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে।..”

“আবার কি শর্ত?!..”

“বলছি , তুমি আগে ঘরে তো চলো।..”

এই বলে পদ্ম মাকে নিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে গেল।

— — —

এদিকে আরমান সবকিছু ঠিকঠাক করে গুছিয়ে নিয়ে চেয়ারে বসলো। তারপর চারপাশে তাকিয়ে দেখলো। এবার এটাকে কোনো ক্লিনিকের মতো মনে হচ্ছে। ও যখন এসেছিল যখন তো ধুলো ময়লা দিয়ে ধ্বংসস্তূপের মতো লাগছিল।

আর ডাক্তারের বসার জন্য সেই ভাঙা চেয়ার টাই আছে। তাই আরমান বুদ্ধি খাটিয়ে সেটাতেই বসে আছে। চেয়ারের যেই পায়া টা ভাঙ্গা ছিল, ও সেখানে আধভাঙা ইটের টুকরা এনে সিরিয়াল‌ করে সেই পায়ার জায়গায় লাগিয়ে নিয়েছে। “এজন্যই লোকে বলে বুদ্ধি থাকলে ঘরজামাই থাকতে হয় না।”

আরমান একটুখানি হেসে গিয়ে চেয়ারটায় বসলো। আর তারপর ইট দিয়ে বানানো পায়া টার দিকে তাকিয়ে দেখলো যে ঠিকঠাক আছে, নাকি আবার রোগীদের সামনে ভেঙে পড়ে মানইজ্জত যাবে। না ঠিকই আছে, চেয়ার টা এবার আর নড়ছে না। আরমান নিশ্চিন্ত হয়ে বসলো।

“যাক এই ধুলো মাখা ক্লিনিক টা তো পরিষ্কার করতে পারলাম। এবার এক মাস পরে যখন বাড়িতে ফিরে যাবো, তখন আরিনার মনে যে ভয়টা আছে, আমার বিয়ে অন্য কারো সাথে হয়ে যাবে। সেটাও এভাবেই দূর করে দেবো। ..”

এই বলে আরমান আবার উঠে দাঁড়ালো। কি ব্যাপার কোনো লোকজন আসছে না কেন?!.. ও এটা ভাবতে ভাবতেই বাহিরে বেরিয়ে এলো। আর তারপর এদিকে ওদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলো যে কেউ এসেছে কিনা?!..

আর তারপর ঘুরে পিছনে ফিরতেই দেখলো উস্তাদ ও তারা চ্যালারা ওর পেছনে দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। আর তাদের সাথে গ্ৰামের কিছু পুরুষ মহিলাও রয়েছে। কিন্তু আরমান হঠাৎ করে পিছনে ফিরে এদের কে একসাথে তাকিয়ে থাকতে দেখে প্রচন্ড চমকে উঠলো।

এই গ্ৰামে যে ওকে আরও কতকিছুর সম্মুখিন হতে হবে, আল্লাহ জানেন। ও নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল…

“কি কি হয়েছে আপনাদের?!.. কারো কোন সমস্যা হয়েছে?!.. কারো কি কারো কি সমস্যা হয়েছে, ডাক্তার দেখাতে এসেছেন?!...”

তারপর আরমানের কথা শুনে উস্তাদের এক চ্যালা বলল…

“কারো কোন সমস্যা নেই, কেউ ডাক্তার দেখাতে আসেনি। আমরা তো শুধু আপনাকে দেখতে এসেছি।..”

এই কথা শুনে হতভম্ব হয়ে আরমান তড়িঘড়ি করে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে নিল।

“মানেহ?!.. কি বলছেন কি আপনারা?!...”

“ কে কে আছে আপনার বাড়িতে?!.. আর আপনার কোনো রোগ নেই তো যেমন ঐ মিরকি?!..”

এবার উস্তাদ আরমানের দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে জিজ্ঞেস করল।

“আপনি কোন শহর থেকে এসেছেন?!..”

“আপনার কোনো ভাই বোন আছে?!..”

“কত টাকা ইনকাম করেন?!..”

“আপনার বাড়ি আছে, নাকি ভাড়ায় থাকেন?!..”

এভাবেই একেক জন একেক প্রশ্ন করেই চলেছে। আরমান খুব বিরক্ত হয়ে ওদের কথা না শোনার ভান করে ভিতরে চলে যেতে লাগল। আর তখন আবার পিছন থেকে একজন ডেকে উঠল।

“ডাক্তার সাব, আপনার বিয়ে হয়ে গেছে নাকি?!.. নাকি এখনো সিঙ্গেল আছেন?!..”

এই কথাটা যে বললো, সেই ছেলেটা ক্লিনিকের বারান্দার চালের আড়া ধরে ঝুলে আছে। আরমান পেছনে তাকিয়ে এটাকে ঝুলে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল।

“বলুন ডাক্তার সাব?..”

একজন মুরুব্বি গ্ৰামবাসী আরমানের দিকে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল।

“দেখুন আপনাদের মধ্যে কারো কোনো রোগ থাকলে আমাকে বলুন। নাহলে যে যার বাড়ি চলে যান, এখানে কোনো সিনেমা করতে আসিনি আমি।..”

আরমান বেশ বিরক্ত হয়ে কঠিন গলায় বলে উঠলো। এরা কি শুরু করেছে ওর সাথে?!.. মাথা টা ওর গরম হয়ে যাচ্ছে এবার।

আরমান ফট করে ভেতরে ঢুকে গিয়ে দরজাটা আটকে দিল। আর বাহিরে থাকা সবাই ডাক্তার সাব, ডাক্তার সাব বলে ডাকতে লাগল।

“আরে এরা কি ধরনের লোকজন?!.. এমন সব প্রশ্ন করছে যেন আমি এখানে ডাক্তারি নয় বিয়ে করতে এসেছি। আর ওরা পাত্র বাছাই করছে। যত্তসব ফালতু লোকজন। আর এমন ভাবে তাকিয়ে ছিল যেন আমি কোনো অষ্টম আশ্চর্যের জিনিস। ড্যামেট , এ কোথায় এসে ফেঁসে গেলাম আমি?!…”

তারপর আরমান টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। এই গ্ৰামে আজকে প্রথম দিনই ওর এই অবস্থা, এক মাস পর না জানি ওর কি অবস্থা হয়। এরা যদি এভাবে প্রতিদিন আসে , তাহলে ওকেই ডাক্তারি ছেড়ে পাবনায় চিকিৎসা নিতে যেতে হবে।

—চলবে—

ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন