ফন্ট সাইজ:
থিম:
পারমিতা (সিজন ১)

৫৩তম পর্ব

লেখক: নাবিলা আহমেদ

#পারমিতা

#পর্ব_৫৩

#লেখিকা_Nabila_Ahmed

--তুই।

মিতার মাথায় পি*স্তল ঠেকিয়ে বলে করিম রহমান।

হাবিব চৌধুরী, আবরার ও অরিয়ন সকলেই করিম রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে। মিতার মুখ দেখে মনে হচ্ছে কথাটা শুনে শান্তি পেয়েছে মিতা। চোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করছে সব কিছু শেষ হওয়ার জন্য। মিতার মুখে শান্তির প্রতিচ্ছবি দেখে দাঁতে দাঁত চেপে ধরে অরিয়ন।

হঠাৎ করেই অরিয়ন কোনো কিছু না ভেবেই দৌড়ে গিয়ে করিম রহমানের হাত ধরে ফেলে। অরিয়নকে দৌড় দিতে দেখেই ঘুরে পিঁছনে থাকা লোককে ধাক্কা দেয় আবরার। সাথে সাথেই ব্যালেন্স হারিয়ে নিচে পড়ে যায় লোকটি,ছিটকে কিছুটা দূরে পড়ে ব*ন্দুক। ছিটকে পড়া ব*ন্দুক নিতে দৌড় দেয় আবরার। গু*লি করার জন্য প্রস্তুত থাকা করিম রহমানের হাত ধরতেই তা অন্যদিকে ঘুরে যায়।

অরিয়ন আর করিম রহমান হাতাপায়ি করতেই রুমের মধ্যে থাকা কয়েকজন দৌড়ে অরিয়নকে ধরে টানতে থাকে। বাকি কয়েকজন যায় আবরারকে ধরতে। আবরার বন্দুকে হাত দিতেই মাটিতে পরে থাকা লোকটিও দৌড়ে গিয়ে বন্দুক ধরে ফেলে।

দুজনে মিলে ব*ন্দুক ধরে উঠে দাঁড়ায়,টানাটানি করতে থাকে দুজনেই।

মিতা আতংকিত ভাবে সব কিছু দেখছে। হাবিব চৌধুরী আর মিতা অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে। যদিও হাবিব চৌধুরী নিজের হাতের বাধণ খোলার চেষ্টা করছে তাও খুলতে সফল হচ্ছে না।

--আহহহ......

এতো কিছুর মধ্যে হঠাৎ করেই ফায়ারিং এর শব্দ শুনতেই সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। অরিয়ন ব*ন্দুক ধরা অবস্থাতেই পিঁছনের দিকে ফিরে তাকায়।

--আরিয়ান ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়া...

চিৎকার করে উঠে মিতা।

অরিয়ন আর করিম রহমানের হাতাপায়িতে ট্রিগারে চাপ পড়তেই গু*লি গিয়ে আঘাত করে আরিয়ানের উরুতে। বন্দুক ধরে রাখা অবস্থায় ই গুজিয়ে পড়ে আবরার। হাতে থাকা ব*ন্দুকে টান অনুভব করতেই শক্ত করে চেপে ধরে ব*ন্দুক।

আবারও ফায়ারিং এর শব্দ হয়।

--আয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া....

আবারও চিৎকার করে উঠে মিতা।

এবার আর অরিয়নের সাহস হচ্ছে না আবরারের দিকে তাকানোর। নিজের শরীর যেন আপনা-আপনি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাও মাথা তুলে আবরারের দিকে তাকাতেই চোখ বড় বড় হয়ে যায় অরিয়নের।

আবরার অবাক দৃষ্টিতে আগে থেকেই অন্য দিকে তাকিয়ে আছে।

গু*লি আবরারের গায়ে লাগেনি।

পরক্ষণেই চোখ যায় চেয়ারে বসে থাকা হাবিব চৌধুরীর দিকে। হাবিব চৌধুরীর পেটে গিয়ে লেগেছে।

আবরার আর বন্দুক ধরে রাখা লোকের টানাটানি এবার গুলি ছুরেছে এই বন্দুক থেকে, যা গিয়ে আঘাত করেছে হাবিব চৌধুরীকে।

হাবিব চৌধুরী গু*লি লাগার সাথে সাথেই সেন্স হারিয়ে ফেলেছে। বয়স্ক শরীর এতো টর্চার এর পাশাপাশি ব*ন্দুকের গু*লি সহ্য করতে পারেনি। মুখ দিয়ে লালার মতো করে র*ক্ত পড়তে শুরু করেছে হাবিব চৌধুরীর।

--চাচ্চুউউউউউউউ....

--বাবায়ায়ায়ায়ায়ায়া...

একই সাথে অরিয়ন আর আবরার চেঁচিয়ে উঠে।

নিজের বাবার এ অবস্থা দেখে ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলে দুজনের। সাথে সাথেই ব*ন্দুক ধরে রাখা দুজনেই ধাক্কা দেয় দুই ভাইকে।

--কু*ত্তার বাচ্চা।

মাটিতে পড়ে থাকা অরিয়নকে গালি দেয় করিম রহমান। হাতে তার ব*ন্দুক।

--না না না না, ওকে ছেড়ে দেও। ওদেফ ছেড়ে দেও। আমি সব লিখে দিবো। আমাকে মে*রে ফেলো। ওদের ছাড়ো প্লিজ।

অনুরোধের সুরে কাঁদতে থাকে মিতা। হাত পা বাধা থাকার কারণে অরিয়নের কাছেও দৌড়ে যেতে পারছে না মিতা।

উরু বেড়ে র*ক্ত পায়ের পাতাতে চলে এসেছে আবরারের। যেখানে অরিয়ন আর আবরার ২০ মিনিটে এখানে চলে আসতে পেরেছে সেখানে পুলিশের কেন এতো সময় লাগছে তা বুঝতে পারছে না আবরার। তবে কী আজ কেউই বেঁচে ফিরতে পারবে না?

--সবার আগে তোকেই শেষ করবো। বাপ আর ভাইকে তো নিজেরাই করলি শেষ।

ব*ন্দুক অরিয়নের দিকে তাক করে বলে করিম রহমান।

মিতার আহাজারি কেউ যেন শুনতেই পারছে না।

অরিয়নের দৃষ্টি আঁটকে আছে জ্ঞানহারা হাবিব চৌধুরীর দিকে।

আবারও ফায়ারিং হয়।

--রিয়ননননননননন.....

--ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়া.....

একসাথে রুহ কাঁপানোর মতো করে চিৎকার করে উঠে মিতা আর আবরার।

আবারও ফায়ারিং হয়।

করিম রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আবরারের পাশে বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিও মাটিতে পড়ে যায়। অস্ত্রহীন সকলেই ভয়ে হাত উপরে উঠিয়ে আত্নসমর্পণ করে।

পুলিশ এসে পৌঁছেছে। ওয়াহিদ চৌধুরী পুলিশের পিঁছনেই দাঁড়িয়ে আছে। আজ একটুর জন্য ম*রতে গিয়েছিলো।

করিম রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই অরিয়ন দ্রুত উঠে দাঁড়ায়। দৌড়ে যায় হাবিব চৌধুরীর দিকে। ইচ্ছে করছে করিম রহমানকে জ্যান্ত মাটিতে পু*তে ফেলতে। কিন্তু এখন হাবিব চৌধুরী আর আবরারের চাইতে কেউ বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় ভেবেই সরে যায় অরিয়ন।

--বাবা? বাবা?? বাবা কথা বলো।

--বাবা?

বলে আবরার।

--আরিয়ান, তোর অবস্থাও তো ভালো না। চাচ্চু....

পুলিশ ফোর্সের সবাই একেক জনকে ধরতে ব্যস্ত। সকলের হাতে রাইফেল। ওয়াহিদ চৌধুরী মিতার হাতের বাধণ খুলতে ব্যস্ত। অরিয়নের ডাক শুনতেই ঘুরে তাকায় ওয়াহিদ চৌধুরী।

--ভয় পাস না। ফায়ারিং এর শব্দ শুনতেই আমরা এম্বুলেন্সে কল করেছি। কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসবে।

মিতার পায়ের বাধণ খুলতে খুলতে বলে ওয়াহিদ চৌধুরী।

অরিয়ন দ্রুত হাবিব চৌধুরীর শরীর থেকে বাধণ খুলে তাকে নিজের কোলে তুলে নেয়। দুজন পুলিশ এসে আবরারকে ধরে। মিতা আর ওয়াহিদ চৌধুরী অরিয়নের পিঁছন পিঁছন হাটছে।

মিতা খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছে। সবগুলো গু*লি মিতার গায়ে লাগলে হয়তো নিজের পাপের ফল ভোগ করতে পারতো মিতা,কিন্তু এখন নিজেকে আরও বেশি পাপি মনে হচ্ছে মিতার। হাবিব চৌধুরী আর আবরারের এবস্থার জন্য একমাত্র দায়ী মিতা। ওয়াহিদ চৌধুরী মেয়ের মায়ায় মেয়েকে কিছুই বললো না। উলটো বুকে জড়িয়ে ধরেছে। অরিয়ন দ্রুত বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে যায় হাবিব চৌধুরীকে নিয়ে। বিল্ডিং এর সামনেই দাঁড়িয়ে আছে এম্বুলেন্স। তাড়াতাড়ি করে তাতে উঠে যায় অরিয়ন আর আবরার।

মিতা আর ওয়াহিদ চৌধুরীকে পেঁছনে ফেলেই এম্বুলেন্স তার গতিতে ছুটতে শুরু করেছে।

মিতা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। চোখের পানি পড়া বন্ধ হচ্ছে না।

--দ্রুত চল, মা। ওদের মাথা ঠিক নেই ভাইয়াকে এই অবস্থায় দেখে। কষ্ট পাস না তুই।

মিতার মাথায় হাত রেখে বলে ওয়াহিদ চৌধুরী।

পুলিশের গাড়িতে উঠে বসে মিতা আর হাবিব চৌধুরী। কিছুক্ষণের মধ্যে সকলকেই নিচে নামিয়ে আসে পুলিশ। করিম রহমানের পায়ে গু*লি করেছে পুলিশ। তাও টেনেহিঁচড়ে নিয়ে এসেছে পুলিশ।

একে একে সকলকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলে পুলিশ। একটু পরেই গাড়ি চলতে শুরু করে।

***********************

সকলেই সোফায় বসে আছে। মায়া চৌধুরী, আনিকা চৌধুরী, আফরিন সবাই বসে বসে অপেক্ষার প্রহর গুনছে। দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই করা নেই তাদের। মোবাইল টি টেবিলের উপর রাখা। ফোনে কল বাজতেই লাফিয়ে উঠে সবাই। আফরিন দ্রুত রিসিভ করে। অন্যরা অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে আফরিনের দিকে।

--কিহ?

কথাটা বলতেই আফরিনের চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করেছে।

--আম....আমরা এক্ষুনি আস...আসছি।

কথাটা বলে মোবাইল কাটে আফরিন।

--কি হয়েছে আফরিন? তুই কাঁদছিস কেন? কার ফোন ছিলো?

জিজ্ঞেস করে মায়া চৌধুরী।

--কি হয়েছে? বলো কাঁদছো কেন?

প্রশ্ন করে আনিকা চৌধুরী।

--আফনান কল করেছিলো।

--কি বললো?

মায়া চৌধুরী কিছু বলার আগেই বলে উঠে আনিকা চৌধুরী। মনের মধ্যে অজানা ভয় কাজ করছে তার।

--বড় চাচ্চু...

--হাবিবের কী?

আনিকা চৌধুরীর নিশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছে। চোখে পানি চলে এসেছে তার।

--বলো আফরিন...

--বড় চাচ্চু আর আরিয়ানের গু*লি লেগেছে..

--নায়ায়ায়ায়ায়ায়া...

দু পা পিছিয়ে গিয়ে চিৎকার করে উঠে আনিকা চৌধুরী।

--এখন হাসপাতালে যাচ্ছে ওরা।

--কি বলছিস তুই, আফরিন!

বলে মায়া চৌধুরী।

--তোমার মেয়ে এসব কী বলছে, মায়া? হ্যাঁ? ওদের কিছু হয়নি।

কাঁদতে কাঁদতে বলে আনিকা চৌধুরী।

--নিজেকে সামলান আন্টি। আমাদের এক্ষুণি যেতে হবে।

--নিজেকে সামলান আপা। ওদের কিছু হবে না।

--তোমার মেয়ে...তোমার মেয়ে এখন আমার স্বামী আর ছেলের পিঁছনে লেগেছে। আমার মেয়েকে খেয়ে ওর মন ভরেনি, মায়া।

কাঁদতে কাঁদতে বলে আনিকা চৌধুরী।

মায়া চৌধুরী কিছু বললো না। কী বলবে জানা নেই তার। এবস্থায় যে কেউ মিতাকেই দোষারোপ করবে।

--চলুন আপা। আমাদের তাড়াতাড়ি যেতে হবে।

--ওদের কিছু হলে,ওদের কিছু হলে আমি তোমার মেয়েকে কোনোদিনও ক্ষমা করবো না, মায়া।

--চলুন আপা।

মায়া চৌধুরী আর আফরিন, আনিকা চৌধুরীকে ধরে গাড়িতে বসায়। নারায়নগঞ্জের **** হাসপাতালে যাচ্ছে অরিয়ন। সেখানেই যাবে এখন তারা।

*************************

এম্বুলেন্সে শুয়ে আছে হাবিব চৌধুরী। সেন্স এখন একটু ও নেই। রক্ত পড়ার জায়গায় নিজের শার্ট খুলে চেপে ধরেছে অরিয়ন। অরিয়নের পাশেই বসে আছে আবরার। পা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়নি এখনো। মুখটা ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে আসছে দু জনের।

--আই এম সো সরি বাবা, সো সরি।

মাথা নিচু করে বলে অরিয়ন।

সীটের সাথে হেলান দিয়ে থাকা আবরার,অরিয়নের কথা শুনতেই চোখ খুলে তাকায়। অরিয়ন মাথা নিচু করে আছে। নিজের হাত রাখে অরিয়নের কাঁধে।

--তোর কোনো দোষ নেই।

বলে আবরার।

--হুম।

সায় দেয় অরিয়ন।

**************************

অপারেশন করে গু*লি বের করে নেওয়া হয়েছে দুজনেরই। ডাক্তার জানিয়েছে ভয়ের কিছু নেই। হঠাৎ গু*লির ব্যাথা সহ্য করতে পারেনি হাবিব চৌধুরী, তাই সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলো। গু*লি পেটে লাগলেও তেমন কোনো মারাত্মক ক্ষতি করতে পারেনি।

পুলিশ প্রসেসিং এর যা করার তা পরে গিয়ে করবে বলে জানিয়েছে অরিয়ন। হাবিব চৌধুরী ঠিক হলেই সবটা ঠিক করা হবে। বর্তমানে থানাতেই রাখা হয়েছে করিম রহমান ও তার সাথীদের।

হাবিব চৌধুরীর সাথে বসে আছে আনিকা চৌধুরী। অবস্থা ভালো আছে যেনে কান্নাকাটি একটু থেমেছে তার।

অরিয়ন আর আফরিন, আবরারের রুমে আছে। মিতাকে নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ওয়াহিদ চৌধুরী। হাবিব চৌধুরীর অপারেশন শুরু হওয়ার একটু পরেই একজন নার্স এসে মিতার ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ করে গেছে। হাবিব চৌধুরী বা আবরার কারো রুমেই যেতে ইচ্ছে করছে না মিতার। মনের মধ্যে কেমন যেন ভয় কাজ করছে মিতার সাথে অনুশোচনাও।

--বাড়িতে চলে যা। এখানে আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবি?

হাবিব চৌধুরীর রুম থেকে বেড়িয়ে বলে মায়া চৌধুরী।

--না, মা। আমি ঠিক আছি।

জবাব দেয় মিতা।

--কিছু ভুল আমাদের হুশ ফিরিয়ে আনে। হিতাহিত জ্ঞান ফিরিয়ে আনে। মনে করিস এটা তোর জন্য সেরকম একটা ঘটনা ছিলো।

বলে মায়া চৌধুরী।

--হুম।

মাথা নিচু করে বলে মিতা।

--ওর জন্য খাবারের কিছু নিয়ে আসো ওয়াহিদ।

মায়া চৌধুরীর কথা শুনতেই দ্রুত হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে যায় ওয়াহিদ চৌধুরী।

--যা করেছিস তার জন্য খুব সহজেই ক্ষমা কামনা করিস না।

মিতার কাছাকাছি গিয়ে বলে মায়া চৌধুরী।

--সরি মা।

জবাব দেয় মিতা।

--সেটা ওদের ফিল করাস। কতটা অনুশোচনা বোধ করছি তা। তোর জন্য আনিকা আপা আজ সব হারাতে বসেছিলো।

মায়া চৌধুরীর কথা শুনতেই মাথা তুলে তাকায় মিতা।

--আশা করি এরকম ভুল আর কোনোদিন করবি না।

মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায় মিতা। মায়া চৌধুরী আবারও রুমে প্রবেশ করে।

***********************

গরম গরম কফি আর স্যান্ডউইচ নিয়ে হাজির হয় ওয়াহিদ চৌধুরী। বাইরে রাখা চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছে মিতা। কিসের অপেক্ষা করছে জানেনা। সবাই মোটামুটি ভালো আছে এখন। তাও কেন বা কার জন্য অপেক্ষা করছে মিতা?

--খেয়ে নে।

মিতার সামনে কফি এগিয়ে দিয়ে বলে ওয়াহিদ চৌধুরী।

--মিতা হাত বাড়িয়ে শুধু কফিটাই নেয়।

ওয়াহিদ চৌধুরী মিতার পাশের চেয়ারে গিয়ে বসে।

--আমাকে কী ওরা ক্ষমা করবে, বাবা?

নিম্নস্বরে বলে মিতা।

--অবশ্যই করবে। তুই তো ইচ্ছে করে করিস নি কিছু। মানুষ মাত্রই ভুল মিতা।

জবাব দেয় ওয়াহিদ চৌধুরী।

মিতা আর কিছু বললো না। ওয়াহিদ চৌধুরীর বাহুর সাথে হেলান দিয়ে নিজের মাথা তার কাঁধে রাখলো। এতো বড় শাস্তি কেন পাচ্ছে মিতা?

********************

ওয়াহিদ চৌধুরীর নড়াচড়া অনুভব করতেই চোখ খুলে তাকায় মিতা। কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলো তা বুঝতে পারেনি। সামনেই দাঁড়িয়ে আছে অরিয়ন। ওয়াহিদ চৌধুরীর সাথে কিছু নিয়ে কথা বলছে। ঘুম ঘুম চোখে সব স্পষ্ট শুনতে পারছে না মিতা। মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়ায় মিতা।

অরিয়ন মিতার দিকে তাকালো না।

--আমি বাসায় যাচ্ছি। তুমি একটু এদিকে খেয়াল রেখো।

ওয়াহিদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলে অরিয়ন।

--আচ্ছা। টেনশন করিস না তুই।

জবাব দেয় ওয়াহিদ চৌধুরী।

অরিয়ন মিতার দিকে না তাকিয়েই হাটা শুরু করেছে। মিতাও অরিয়নের পিছন পিছন হাটা শুরু করেছে।

পার্কিং-এ গিয়ে গাড়িতে বসতেই মিতা দ্রুত গিয়ে পাশের সীটে বসে। অরিয়ন একবার মিতাকে দেখে নেয়। মিতা আলতো এক হাসি দেওয়ার চেষ্টা করে। অরিয়ন সেদিকে নজর দিলো না। গাড়ি স্টার্ট করে।

****************************

বাড়ির সামনে গাড়ি এসে থামতেই অরিয়ন দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে আসে। অরিয়নের দেখাদেখি মিতাও নেমে যায়। অরিয়নের সাথে আজ হাটাও যেন পারছে না মিতা। কোনোদিকে না তাকিয়ে সরাসরি নিজের রুমে প্রবেশ করে অরিয়ন।

ঢাকার এই বাড়িতে মাঝে মধ্যেই এসে থাকে হাবিব চৌধুরীর পরিবার। তাই সকলের মন মতো করে রুম সাজানো আছে এখানে।

অরিয়নের সাথে সাথে মিতাও রুমে প্রবেশ করে।

--রিয়...

--শাট দা ফা*ক আপ।

চেঁচিয়ে উঠে অরিয়ন।

হঠাৎ করে চেঁচানোর ফলে লাফিয়ে উঠে মিতা।

--ইউ নো হোয়াট? ইউ আর এ ফুল, ইউ আর সাচ এ ফুল।

দাঁতে দাঁত চেপে বলে অরিয়ন।

মিতা কিছু বললো না। রাগে অরিয়নের শরীর কেমন করছে তা অরিয়ন নিজেও বলতে পারছে না। জিদ করে খাটের পায়াতে এক লা*থি মা*রে।

--ফুল,ফুল,ফুল,ফুল।

একের পর এক লা*থি মা*রতে মা*রতে বলে অরিয়ন।

মিতার চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ে যাচ্ছে। অরিয়ন তো ঠিকি বলেছে। মিতার বোকামির জন্য আজ বিশাল বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারতো।

--তোর জন্য, শুধুমাত্র তোর জন্য....

কথাটা বলেই ড্রেসিং টেবিলের সামনে থাকা টুল ধরে আছার মা*রে অরিয়ন।

--তোর জন্য, তোর জন্য।

আছার মা*রতে মা*রতে বলে অরিয়ন।

--রি....রিয়ন।

কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে মিতা।

মিতার কণ্ঠ শুনে অরিয়নের রাগ যেন আকাশ ছুলো। মিতার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায় অরিয়ন। দু কদমে মিতার কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়িয়ে মিতার বাহু শক্ত করে ধরে।

--আহ...

ব্যাথায় শব্দ করে উঠে মিতা।

--তোকে আমি এতো ভালোবেসেছি আর তুই...তুই আর তোর বোকামির জন্য আমি আজ আমার বাবাকে, আমার ভাইকে হারাতাম।

গম্ভীর কন্ঠে বলে অরিয়ন।

--তোর কারণে আজ আমার বাপ, ভাই ম*রতে বসেছিলো।

--শুধুমাত্র তোর বেশি বুঝা আর বোকামির কারণে।

আবারও বলে অরিয়ন।

মিতা কিছু বলছে না। চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ে যাচ্ছে।

--সত্যি কথা কি জানিস?

কথাটা বলে একটু থাকে অরিয়ন।

--তুই আমার ভালোবাসার যোগ্য না।

মিতার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে অরিয়ন।

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন