#পারমিতা_২
#পর্ব_১৬
#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ (সেহরিশ)
নাস্তার টেবিলে বসে আছে মিতা। আজ টেবিলে শুধু আনিকা চৌধুরী আর মিতাই আছে। হাবিব চৌধুরী এখনো নিচে নামেননি। মিতা যখন নিচে এসেছিল, তখন অরিয়ন মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে। আবরার কোথায়, তা সে জানে না। আবরারকে পাওয়া যেন দুষ্কর হয়ে উঠেছে।
আজ হাবিব চৌধুরীর আগে টেবিলে হাজির হওয়ার কারণটা ভিন্ন। সাকিবের টিউশন নিয়ে হাবিব চৌধুরীর অনুমতি নিতে চায় মিতা। সাকিবের কথার সঙ্গে আসলেই একমত মিতা। বিয়ের আগে যা ছিল, তা কবুল বলার সঙ্গেই শেষ। কিন্তু সাকিবের এই খারাপ মুহূর্তে টিউশনটা ছেড়ে দিলে মিতার হয়তো কিছুই হবে না, কিন্তু সাকিবের অনেক কিছুই হবে। তাকে ভালোবাসতে না পারুক, তার সঙ্গে নিষ্ঠুরের মতো কাজ করতে পারবে না সে।
হাবিব চৌধুরী নিচে নেমে আসতেই মিতা নড়েচড়ে বসে। মুখে হাসি ফোটায়।
“গুড মর্নিং, চাচ্চু” বলে মিতা।
“গুড মর্নিং, মিতা” চেয়ার টেনে বসে বলেন হাবিব চৌধুরী।
“অরিয়ন কোথায়?” টেবিলে অরিয়নকে না দেখে প্রশ্ন করেন হাবিব চৌধুরী।
“রুমে, রেডি হচ্ছে” জবাব দেয় মিতা।
“ওহ।” নিউজপেপার নিয়ে পড়া শুরু করেন হাবিব চৌধুরী। মিতা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। আনিকা চৌধুরী হাবিব চৌধুরীর প্লেটে নাস্তা দিচ্ছেন। রান্নাঘর থেকে সব কিছু এনে দিচ্ছে শায়লা।
“চাচ্চু, কিছু বলার ছিল” কাচুমাচু করে বলে মিতা। হাবিব চৌধুরী খবরের কাগজ টেবিলে রাখেন।
“কী বলবে?”
“আমার কলেজে যাওয়া নিয়ে। পরীক্ষার আর পাঁচ-ছয় মাস বাকি আছে” মাথা নিচু করে মৃদুস্বরে বলে মিতা।
“ঠিক আছে তো। কলেজে তো যেতেই হবে। বিয়ের ঝামেলা শেষ। এখন নিয়মিত কলেজে যাবে। আমি ড্রাইভারকে বলে দেব” উত্তর দেন হাবিব চৌধুরী।
মিতার বুক ধড়ফড় করছে। সাকিবের কথাটা কীভাবে বলবে, বুঝতে পারছে না।
“টিউশন...”
“টিউশন টিচার লাগবে? ভালো একজন টিচার ঠিক করে দেব। টেনশনের কিছু নেই” মিতার কথা শেষ হওয়ার আগেই বলেন হাবিব চৌধুরী। মিতা অবাক হয়। মনে মনে ভয় কাজ করছে। সাকিবকে দারিদ্র্যের দোড়গোড়ায় ছেড়ে দেওয়ার ভয়।
“চাচ্চু...” বিনয়ী কণ্ঠে ডাকে মিতা। হাবিব চৌধুরী ভ্রু কুঁচকান। মিতার কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করেন।
“আমার আগের টিচারকে আসতে বলি? আমি উনার পড়ানো ভালোভাবে বুঝি” কথাগুলো গলায় আটকে আসছে মিতার। মনে হচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে চোখ দিয়ে পানি পড়বে। কিন্তু সে নিজেকে সামলে নেয়।
“আগের টিচার? এখানে আসতে পারবেন?” প্রশ্ন করেন হাবিব চৌধুরী। মিতা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে।
“ঠিক আছে, তাহলে আসতে বলো। তোমার যেভাবে পড়ে ভালো লাগে, সেভাবেই পড়ো” হাবিব চৌধুরীর কথা শুনে মিতার বুক থেকে যেন বিশাল পাথর নেমে যায়। আগের চেয়ে এখন একটু ভালো লাগছে।
“তাহলে কাল থেকে আসতে বলি?”
“কে আসবে?” অরিয়নের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসে। সবাই সিঁড়ির দিকে তাকায়। অরিয়নের পরনে একটা সাদা টি-শার্ট ও ধূসর রঙের ট্রাউজার। চুল ভেজা, একপাশে আঁচড়ানো। হেঁটে এসে মিতার চেয়ারের পাশে দাঁড়ায়।
“পাশের টায় যা” মিতার দিকে তাকিয়ে চেয়ার বদলাতে বলে অরিয়ন। মিতা হতবাক হয়ে তার দিকে তাকায়। চেয়ার খালি থাকতে তাকে উঠে জায়গা দিতে হবে? এই লোকের মাথার তার কি ছিঁড়ে গেছে?
“পাশের চেয়ারে বসতে পারছিস না তুই? ওকে উঠে গিয়ে জায়গা করে দিতে হবে কেন?” মিতা কিছু বলার আগেই বলে ওঠেন আনিকা চৌধুরী।
“বড়দের সম্মান করবে আর কী!” দাঁত বের করে হেসে বলে অরিয়ন। মিতা দাঁত কিড়মিড় করে। পাশের চেয়ারে গিয়ে অরিয়ন মিতার পাশে বসে।
“কে আসবে?” প্রশ্ন করে অরিয়ন।
“মিতার টিচার” বলেন হাবিব চৌধুরী।
“এত তাড়াতাড়ি?” ভ্রু কুঁচকায় অরিয়ন।
“তাড়াতাড়ি কোথায়? বিয়ের কারণে অনেকদিন তো বিরতি দিয়েছে” বলেন আনিকা চৌধুরী।
“ওনাকে না করে দাও। ওর জন্য ভালো টিচার ঠিক করব আমি।”
“না” অরিয়নের কথা শেষ হতেই মিতা হঠাৎ বলে ওঠে। কণ্ঠস্বর স্বাভাবিকের চেয়ে একটু উঁচু মনে হয়। সবাই মিতার দিকে তাকায়।
“আমি অন্য টিচারের কাছে পড়া বুঝি না। আর উনি আমাকে অনেকদিন ধরে পড়াচ্ছেন। হঠাৎ করে পরিবর্তন করতে চাই না আমি” স্বাভাবিক কণ্ঠে বলার চেষ্টা করে মিতা।
“আহা, ও যার কাছে পড়ে শান্তি পায়, সেখানেই পড়ুক। সমস্যা কোথায়?” বলে ওঠেন আনিকা চৌধুরী। অরিয়ন মিতার দিকে তাকিয়ে আছে এখনো।
“হ্যাঁ, আনিকা ঠিক বলেছে। পড়াশোনা মিতার, মিতাকেই সবটা ঠিক করতে দেওয়া উচিত” হাবিব চৌধুরীও সমর্থন করেন। অরিয়ন আর কিছু বলে না। নাস্তা খাওয়া শুরু করে।
“চাচ্চু, আমি কি আজ একটু বাড়ি থেকে ঘুরে আসব? মাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে” বলে মিতা।
“ওমা, তোর বাড়িতে যাবি, তাতে আবার অনুমতি নিতে হবে কেন? ইচ্ছে হলে আজ থেকে আসিস” মিতার দিকে তাকিয়ে হেসে বলেন হাবিব চৌধুরী। মিতার মুখে হাসি ফোটে।
“আমি নামিয়ে দিয়ে আসব তাহলে” বলে অরিয়ন। মিতা আর কথা বাড়ায় না। বাড়িতে যেতে পারলেই হলো, কে দিয়ে আসবে তা নিয়ে মাথা ঘামায় না।
-------------
গাড়িতে বসে আছে মিতা। অরিয়ন কিছু একটা নিয়ে হাবিব চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলছে। অরিয়ন এসেই গাড়ি ছাড়বে। পেছনের সিটে বসে আছে মিতা। তার দৃষ্টি মোবাইলে। ফেসবুকে সাকিবের প্রোফাইলে ঢুকেছে। এক সপ্তাহ আগে সাকিব শেষ পোস্ট করেছিল। তাও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের রাস্তার একটা ছবি। নির্জন রাস্তা। মন শক্ত করে সাকিবকে আনফ্রেন্ড করে মিতা।
মেসেঞ্জারে চলে যায়। সাকিবের ইনবক্সে প্রবেশ করে। শেষ মেসেজটা দেখতেই মিতার চোখে পানি এসে যায়।
‘ভালোবাসি’ লিখে পাঠিয়েছিল মিতা, যার উত্তরে সাকিব লিখেছিল ‘আমিও’। এক ফোঁটা পানি মোবাইলের স্ক্রিনে পড়ে। মন শক্ত করে কথোপকথন ডিলিট করে ফেলে মিতা। অতীত নিয়ে আর পড়ে থাকতে চায় না সে। বিশেষ করে সাকিবের সামনে। যদি আর্থিক সমস্যা না থাকত, তাহলে সাকিবের জীবন থেকে মিতা তেমনভাবেই হারিয়ে যেত, যেমন গ্রীষ্মের আকাশ থেকে মেঘ হারিয়ে যায়।
মিতা:
আসসালামু আলাইকুম, স্যার। চাইলে আগামীকাল থেকে পড়াতে আসতে পারবেন।
ঠিকানা: ********* মুরাদপুর।
কখন আসবেন, তা জানিয়ে দিলেই হবে।
ডাটা বন্ধ করে মিতা। মোবাইল ব্যাগে রেখে জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। খোলা আকাশের দিকে আপন মনে তাকিয়ে থাকে।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে অরিয়ন। সকালের পোশাক বদলে নিয়েছে। কালো শার্ট আর প্যান্ট পরা। শার্টের হাতা ভাঁজ করে কনুই পর্যন্ত তুলেছে। অরিয়নকে দেখামাত্র মিতা সোজা হয়ে বসে। পেছনে এসে বসার জন্য অপেক্ষা করে। কিন্তু অরিয়ন গিয়ে ড্রাইভারের সিটে বসে।
“সামনে চলে আসুন, ম্যাডাম। আমি আপনার ড্রাইভার নই” সিটে বসতেই বলে অরিয়ন। মিতা দ্রুত বেরিয়ে সামনের সিটে গিয়ে বসে। সিটবেল্ট বাঁধতেই অরিয়ন গাড়ি ছাড়ে। গাড়িতে নীরবতা। অরিয়ন বা মিতা, কেউই কথা বলছে না।
“আনতে যাব কখন?” নীরবতা ভেঙে কথা শুরু করে অরিয়ন।
“আমি আজ বাড়িতে থাকব” অন্য দিকে তাকিয়ে জবাব দেয় মিতা।
“আনতে যাব কখন?” আবার প্রশ্ন করে অরিয়ন। এবার মিতা ফিরে তাকায়। অরিয়নের কথায় বিরক্ত হচ্ছে সে।
“আমাকে আনতে যেতে হবে না। আমি আমাদের গাড়িতে চলে আসতে পারব” জবাব দেয় মিতা। অরিয়ন ঘাড় ঘুরিয়ে মিতার দিকে তাকায়। পরক্ষণে ব্যঙ্গাত্মক হাসি হাসে। মিতা ভ্রু কুঁচকায়। পাগলের মতো কারণ ছাড়া কে হাসে?
“পরী, পরী, পরী” মাথা নেড়ে বলে অরিয়ন। তার কণ্ঠে ডাক শুনতেই মিতার মুখ মলিন হয়। অতীত আবার ভাসতে শুরু করে তার চোখের সামনে। জামা শক্ত করে মুঠোয় ধরে রাখে।
“আমাকে এই নামে ডাকবেন না” গম্ভীর কণ্ঠে বলার চেষ্টা করে মিতা।
“কেন? তোর স্বপ্নে তো এই নামেই ডেকেছিলাম, তাই না?” মিতার চোখে চোখ রেখে বলে অরিয়ন।
“আপনার একটুও অনুশোচনা হয় না, তাই না? আমার আপুর জন্য বিন্দুমাত্র খারাপ লাগাও কাজ করে না আপনার মধ্যে” বলে মিতা।
“কেন করবে?” অরিয়নের কথায় মিতা অবাক হয়। ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকায় তার দিকে।
“না আমি আফরিনকে ভালোবাসি, না আফরিন আমাকে ভালোবাসে। তাহলে যা হয়েছে, তার জন্য কেন আমি অনুশোচনা করব? নাকি তোর সঙ্গে যা হয়েছে, তার জন্য অনুশোচনা করা উচিত আমার?” উলটো মিতার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছোড়ে অরিয়ন।
“তাই করা কি উচিত নয়? আমি আপনার থেকে এগারো বছরের ছোট। তার ওপর যা হয়েছে, তাতে আমার সম্মতি ছিল না” বলে মিতা।
“তো? তুই একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী। তোর ইচ্ছায় যেমন হয়নি, তেমন আমার ইচ্ছায়ও হয়নি। আর আমার সঙ্গে না হলে অন্য কারো সঙ্গে হলেও হতো। নাকি এসব সম্পর্কে তুই অবগত নোস?”
“ছিঃ, আপনার লজ্জা...”
“আমার লজ্জা থাকা উচিত? বয়স হয়েছে তো, তাই লজ্জাও হারিয়ে গেছে” আবার দাঁত বের করে হেসে বলে অরিয়ন। মিতা অগ্নিদৃষ্টিতে তাকায় তার দিকে। পরক্ষণে মুখ ফিরিয়ে অন্য দিকে তাকায়।
-------------
বসন্ত ভবনের সামনে গাড়ি থামতেই মিতা তাড়াতাড়ি নামে। এক মিনিটে দৌড়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। অরিয়ন গাড়ি পার্ক করে ধীরেসুস্থে।
মিতাকে দেখামাত্র মায়া চৌধুরীর মুখে হাসি ফোটে। মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন। মিতাও যেন তার মনের আনন্দ ফিরে পায়।
“মা, আমি আজ এখানে থাকব” প্রাণখোলা হাসি দিয়ে বলে মিতা।
“ঠিক আছে, থাকিস। তুই কার সঙ্গে এসেছিস? ড্রাইভার?” প্রশ্ন করেন মায়া চৌধুরী।
“না। অরিয়ন ভাইয়া এসেছে সঙ্গে” মিতার কথা শুনে খুশি হন মায়া চৌধুরী। মিতা আর অরিয়নের মধ্যে সবকিছু ঠিক চলছে ভেবে তিনি খুশি হন। তার চোখে আলো ফোটে, যা মিতার চোখ থেকে আড়াল হয় না। সে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।
অরিয়ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই মায়া চৌধুরী দ্রুত এগিয়ে যান। অরিয়ন পা ধরে সালাম করে। দুজনে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মিতা তাদের রেখে দোতলায় নিজের রুমে চলে যায়। মনে হচ্ছে, অনেকদিন পর এই বাড়িতে এসেছে।
-------------
অরিয়ন চলে গেছে। আধা ঘণ্টার মতো ছিল। মায়া চৌধুরী বারবার বলার পরেও থাকেনি। বাড়িতে ফিরে মিতা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কিছুক্ষণ মায়া চৌধুরীর সঙ্গে গল্প, কিছুক্ষণ আফরিনের সঙ্গে আমেজে মেতে ওঠে সে। আফরিন শুধু মিতার দিকে তাকিয়ে মলিন হাসে।
ছোটবেলা থেকে মিতাকে দেখে এসেছে আফরিন। কখন মানুষ দেখানোর হাসি হাসে আর কখন প্রাণ খুলে হাসে, তা সে ভালো করেই জানে। প্রতিটি মুহূর্তে খিলখিল করে হাসার পেছনের রহস্য তাকে ভাবাচ্ছে। আফরিনের মনে এক অজানা, অদ্ভুত প্রশ্ন জাগে, যা সে কল্পনাও করেনি। তার মুখের হাসি নিমিষে বিলীন হয়।
রাতে খাওয়া শেষ হতেই আফরিন আর অপেক্ষা করল না। তার মনে জাগ্রত প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে। দ্রুত হেঁটে মিতার রুমে চলে যায়।
“ঠকঠক” দরজায় কড়া নাড়ে আফরিন। অপেক্ষা না করে ধাক্কা দিতেই দরজা খোলে। মিতা চমকে যায়। তার মনোযোগ মোবাইলে ছিল। আফরিনকে দেখতেই মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। পরক্ষণে মোবাইল বালিশের নিচে রেখে মুখে হাসি ফোটায়।
“কী বলবে, আপু?” মৃদু হেসে প্রশ্ন করে মিতা।
“আমি যা জিজ্ঞেস করব, তার সরাসরি উত্তর দিবি। কোনো ভণিতা করবি না” আফরিনের কথায় মিতার হাসি মিলিয়ে যায়।
“কী হয়েছে?” চিন্তিত হয়ে প্রশ্ন করে মিতা। উঠে দাঁড়ায়। আফরিনের হঠাৎ গম্ভীর চেহারা তাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
“বিয়ের আগে...” আফরিনের কণ্ঠে কথা আটকে যায়। তার অন্তরাত্মা কাঁপছে। ভয় করছে।
“বিয়ের আগে তুই কি কাউকে ভালোবাসতিস?” এক নিমিষে বলে ফেলে আফরিন। মিতার চেহারায় কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ক্ষণিকের জন্য যেন পাথর হয়ে যায় সে।
“কী হলো? উত্তর দে। চুপ করে থাকিস না” অধৈর্য আফরিন আর অপেক্ষা করতে পারছে না। তার হৃদয় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
“কী সব আজেবাজে বলছ তুমি” কাচুমাচু করে বলে মিতা। কিন্তু আফরিনের সঙ্গে চোখ মেলাতে পারে না।
“মিতা” দু-কদমে মিতার সামনে গিয়ে তার বাহু ধরে আফরিন। দুজন দুজনের দিকে তাকায়। আফরিনের চোখে অজানা ভয়, নিজের প্রতি রাগ। অন্যদিকে মিতার চোখ ভিজতে শুরু করেছে।
“উত্তর দে, বোন আমার” অনুশোচনায় বিভোর হয়ে অনুরোধ করে আফরিন। মিতা কিছু বলে না। আফরিনের দিকে তাকানো মিতার দুচোখ বেয়ে শুধু পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে। আফরিন পিছিয়ে যায়। মুখে হাত রাখে।
ইচ্ছে করছে নিজের গালে নিজেকে থা'প্পড় দিতে। মিতাও যে কাউকে ভালোবাসতে পারে, তা কেন কখনো তার মাথায় আসেনি? কেন ক্ষণিকের জন্য ভাবতে পারেনি যে, মিতা আর ছোট নেই? আফরিনের হাত থরথর করে কাঁপছে। দ্রুত মিতার সামনে এগিয়ে যায়। কাঁপা হাতে মিতার হাত ধরে। মিতা আফরিনের প্রতিক্রিয়া দেখে কিছুটা অবাক হয়। আফরিন এভাবে কাঁপছে কেন? আর তার হাত এত ঠান্ডা হয়ে গেছে কেন?
“খবরদার। ভুলেও যেন এ কথা অরিয়ন জানতে না পারে” নিম্নস্বরে বলে আফরিন। তার কণ্ঠ স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু। মিতা ভ্রু কুঁচকায়। এসবের সঙ্গে অরিয়নের কী সম্পর্ক?
“কেন?” প্রশ্ন করে মিতা।
“কারণ...” একটু থামে আফরিন। ঢোক গিলে আস্তে করে।
“কারণ ও জানতে পারলে সেই ছেলেকে জ্যান্ত মা'টিতে পুঁ'তে ফেলবে” ভয়ার্ত কণ্ঠে বলে আফরিন।
চলবে...
সত্যিকারের ভালোবাসা মুখের কয় নয় যে, বিয়ের পরের দিনেও ভুলে যাবে মানুষ। মানুষের ভুলতে সময় লাগে। মিতারও সময় লাগবে সাকিবকে ভুলতে। বাস্তবতার সাথে হুবুহু গল্প মেলানো যায় না, তাই বলে এতোটা অবাস্তবিকও রাখা যায় না। কিছু জিনিস বাস্তবের থেকে লিখতে হয়। আর মানুষের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট বলতেও একটা শব্দ আছে। তাতে সময় লাগে। প্রথম পর্বে ঘৃণা আর দ্বিতীয় পর্বে ভালোবাসার কাহিনি আমি লিখি না৷ তাই সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করবো।