ফন্ট সাইজ:
থিম:
পারমিতা (সিজন ২)

২৩তম পর্ব

লেখক: নাবিলা আহমেদ

#পারমিতা_২

#পর্ব_২৩

#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ(সেহরিশ)

সকাল থেকেই আজ চৌধুরী বাড়িতে হট্টগোল লেগে আছে। একটু পরেই রওনা হবে শরীয়তপুরের উদ্দেশে। সুটকেস গাড়িতে তুলতে ব্যস্ত দুজন কাজের লোক। একটা সুটকেস রাখা হতেই অন্যটা নিতে দৌড়ে ড্রয়িং রুমে আসছে তারা। শায়লা টুকটাক জিনিসপত্র গুছাতে ব্যস্ত। একই সঙ্গে অন্য কাজের লোকদের সবকিছু বুঝিয়ে দিচ্ছে। আজ সকলের সাথে সেও যাবে।

ড্রয়িং রুমে বসে আছে আবরার। হাতে মোবাইল, তাতে গেম খেলছে। পরনে একটা কালো প্যান্ট ও লাল টি-শার্ট। আবরারের পাশে এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে অরিয়ন। কানের কাছে মোবাইল, একটু পরপর এটা-সেটা নিয়ে কথা বলছে সে। তার পরণে কালোর মধ্যে সাদা স্ট্রাইপের টি-শার্ট ও ধুসর রঙের প্যান্ট।

সোফায় বসে আছেন হাবিব চৌধুরী। হাতে চায়ের কাপ। সকলে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেও তাকে দেখে মনে হচ্ছে না যে তিনি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

“টেন্ডার আমি সামলে নেব। তুমি টেনশন করো না” চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলেন হাবিব চৌধুরী। অরিয়ন ঘুরে হাবিব চৌধুরীর দিকে তাকায়। মিনিট দুয়েক পর কল কেটে হাবিব চৌধুরীর সামনে এসে দাঁড়ায়।

“টেন্ডার নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। সবটা আমি সামলে নিয়েছি,” হাবিব চৌধুরীর পাশে বসে অরিয়ন। ট্রেতে থাকা চায়ের কাপ তুলে নেয় সে। মুখে দিতেই নাক সিটকায়। চিনির পরিমাণ বেশি হয়ে গেছে।

“চিনি তো কম হয়ে গেছে, আরেকটু দিলে মনে হয় ভালো হতো” অরিয়নের কথা শুনতেই ডাইনিং রুম থেকে দৌড়ে আসে এক ২২/২৩ বছরের মেয়ে।

“দিন স্যার, আমি নতুন করে আরেক কাপ এনে দিচ্ছি, চিনি বেশি দিয়ে” অরিয়নের সামনে গিয়ে হাত বাড়িয়ে বলে মেয়েটি।

আবরার আর হাবিব চৌধুরী দুজনেই মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। আবরারের ঠোঁটের কোণে হাসি। মনে হচ্ছে নিজের হাসি অনেক কষ্টে আটকে রেখেছে। হাবিব চৌধুরীও মুচকি হেসে আবার চায়ে চুমুক দেন। অরিয়ন কিছু বলল না, চায়ের কাপ মেয়েটির দিকে এগিয়ে দেয়।

“নয়নতারা...” একপ্রকার দৌড়ে ড্রয়িং রুমে আসে শায়লা।

“জি, শায়লা আপু?”

“তুমি কি পাগল হয়েছ? স্যার বুঝিয়েছেন তার চায়ে চিনি বেশি হয়েছে। আর স্যার, ওটা আপনার জন্য না, আবরার স্যারের জন্য ছিল” কথাটা বলতেই অরিয়ন বড় বড় চোখ করে আবরারের দিকে তাকায়। আবরার দাঁত বের করে হাসে।

“আমি মুখ লাগিয়েছিলাম, সেটাই তুই খেলি”

“তোকে আমি আজ গাড়ি থেকে লা'থি মে'রে যদি না ফেলে দিই, তাহলে বলিস আমাকে”

“হেহেহেহে” আবরারের হাসিতে অরিয়নের রাগ বেড়েই চলেছে। ইচ্ছে করছে ওকে এখানে রেখেই চলে যেতে।

আনিকা চৌধুরী আর মিতা একসঙ্গে নিচে নেমে আসে। মিতার পরনে গোলাপি রঙের একটা কটনের ড্রেস, অন্যদিকে অফ-হোয়াইট রঙের ড্রেস পরা আনিকা চৌধুরী।

“তুমি কি অফিস যাবে না? এখনো গোসল না করেই বসে আছো” হাবিব চৌধুরীর কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ান আনিকা চৌধুরী। মিতা দৌড়ে গিয়ে আবরারের পাশে বসে। মিতাকে দেখতেই মিষ্টি করে হাসে আবরার। মিতাও প্রাণ খুলে হাসছে। অরিয়ন সবটাই লক্ষ করছে। দুজন কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে একে অপরের সাথে আছে, তা দেখছে সে।

“যাব, যাব। তোমরা একবার বের হয়ে যাও, এরপর আমিও বের হয়ে যাব”

“তুমি কিন্তু বিয়ের দিন চলে যাবে। শেষ সময়ে এসে আবার বলো না পারবে না”

“ঠিক আছে বাবা, বলব না। এবার আমি যাবই” সকলে তাকিয়ে আছে আনিকা চৌধুরী ও হাবিব চৌধুরীর দিকে। দুজনের এই দুষ্টু-মিষ্টি ঝগড়া ভালোই লাগে তাদের।

“মনে থাকে যেন”

“এখন কি বের হব? নাকি আরও দেরি করবে?” সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায় আবরার। মিতাও একই সঙ্গে দাঁড়ায়।

“হ্যাঁ, চল। এরপর দেরি হয়ে যাবে” অরিয়ন, আবরার আর মিতা হাবিব চৌধুরীর কাছ থেকে বিদায় নেয়।

গাড়ি ছেড়েছে। মাইক্রো গাড়ি নিয়েছে আজ তারা। প্রাইভেট কারে জায়গা হবে না তাই। ড্রাইভারের সাথে সামনে বসেছে আবরার। এরপর বসেছেন আনিকা চৌধুরী ও শায়লা। তাদের পিছনের সিটে বসেছে অরিয়ন আর মিতা।

গাড়ির মধ্যে নীরবতা। কেউ কিছু বলছে না। অরিয়ন আড়চোখে মিতার দিকে তাকাল, মিতা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। দুজন দুপাশের জানালার কাছে বসা। মাঝখান ফাঁকা। অরিয়ন একটু এগোতে গিয়েও এগোল না। সামনেই বসে আছেন আনিকা চৌধুরী। মায়ের সামনে কীভাবে মিতার কাছাকাছি গিয়ে বসবে, তা বুঝতে পারছে না অরিয়ন।

“আবরার?”

“জি ভাইয়া” আবরারের কণ্ঠে দুষ্টুমি ফুটে উঠেছে। আবরার যে কখনোই এতটা সুন্দর করে কথা বলার মানুষ নয়, তা সকলেই জানে। মিতা অরিয়নের দিকে তাকায়, পরক্ষণেই সামনে আবরারের দিকে তাকায়।

“গান ছাড়, বোরিং লাগছে। সুন্দর গান ছাড়বি”

“ওকে ভাইয়া” আবারও দাঁত বের করে বলে আবরার। অরিয়ন রাগে মাথা নাড়ায়। এই দাঁত সে ঘুষি দিয়ে ভেঙে ফেলবে।

আবরার কান থেকে ব্লুটুথ খুলে নেয়। কানেক্ট করে গাড়ির ব্লুটুথের সাথে। মোবাইলে সময় দেখাচ্ছে ৭টা ১০।

আমি তো ভালো না ভালো লইয়াই থাইকো

অতীতের কথাগুলো

পুরোনো স্মৃতিগুলো

অতীতের কথাগুলো

পুরোনো স্মৃতিগুলো

মনে মনে রাখি

আমি তো ভালো না ভালো লইয়াই থাইকো।

অরিয়ন হাবাগোবার মতো আবরারের দিকে তাকিয়ে রইল। আবরার এমন কিছু করবে বলেই সে সুন্দর গান ছাড়তে বলেছিল, আর আবরার সেই ঝাকানাকা গানই ছাড়ল। বিরক্ত লাগছে অরিয়নের, সকাল সকাল এই ঝাকানাকা গান কে শোনে? অন্যদিকে আবরার গানের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে হাত দোলাচ্ছে।

“আবরার ভাইয়া?” মিতার কণ্ঠস্বর শুনতেই অরিয়ন মিতার দিকে তাকায়।

“বল” নাচতে নাচতে বলে আবরার।

“এটা শেষ হলে ‘ট্যাক্সি গাড়ি লই’ ছাড়িও”

“ঠিক আছে” অরিয়ন হাঁ করে মিতার দিকে তাকিয়ে আছে। তার ভাই কি কম পাগল ছিল যে তার সাথে তাল মিলাতে মিতাও এখন পাগলামি শুরু করেছে?

“এই ঝাকানাকা গান যে ছাড়বি, আর যে এই বুদ্ধি দিয়েছে, দুজনকেই গাড়ি থেকে ফেলে দেব আমি” অরিয়নের কণ্ঠ গম্ভীর।

“অরিয়ন, ওদের আনন্দ করতে দাও। তোমার ভালো না লাগলে কানে ব্লুটুথ লাগাও” আনিকা চৌধুরীর কথায় অরিয়ন খিঁচ মে'রে রইল। রাগান্বিত দৃষ্টিতে একবার আবরারের দিকে, তো একবার মিতার দিকে তাকায়।

ঐ ট্যাক্সি গাড়ি লই যাম সিলঙ্গন

ওরে ছোড়ি তুইও যাবি নগদ

সেলফি মারি যাম উকা পাহাড়ত

আইয়ো দেখি মিঠা মিঠা পরত

ছিলনিয়া একা বেকা দীঘলিয়া পথ

তোরি লগে যাবো মুই দিলাম আমার মত

আরে কুয়ালিয়া বারে বারে করিবো আঘাত

দরাধরি করি নেবো নো লাগিবু আঘাত।

গানের তালে তালে হাত নেড়ে দুলে দুলে নাচতে ব্যস্ত মিতা। তার কাছে ভালোই লাগছে। গানের চেয়েও বেশি ভালো লাগছে অরিয়নের চেহারা। লোকটার মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। কানে ব্লুটুথ ঢুকিয়ে রেখেছে সে, কিন্তু আবরারও ছেড়ে দেওয়ার লোক নয়। সাউন্ড আগের তুলনায় বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতি মিনিটে মিনিটে রেগে যাচ্ছে অরিয়ন, একবার মিতার দিকে তাকায়, তো একবার আবরারের দিকে।

----------

কুমিল্লায় এসে থেমেছে গাড়ি। হালকা পাতলা খাবার খেয়ে আবার গাড়ি ছাড়বে। আবরার আর মিতার হাতে আইসক্রিমের কোন। আনিকা চৌধুরী আর অরিয়নের হাতে কফি। শায়লা ছবি তুলতে ব্যস্ত। ড্রাইভার পান খাচ্ছে।

“খুব বেড়েছিস, তাই না?” মিতার পাশে গিয়ে দাঁড়ায় অরিয়ন। আবরার খানিকটা দূরে। আইসক্রিম খাওয়া বন্ধ করে মিতা। গোমড়া মুখে অরিয়নের দিকে তাকায়।

“হাসি বন্ধ হল কেন? হাস। দাঁত বের করে হাস” কফি পান করে অরিয়ন। মিতা এদিক-ওদিক তাকিয়ে কারও মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা করে। ডাক দিলেই সে ভোঁ দৌড় দেবে। সবাই ব্যস্ত, তার দিকে তাকানোর সময় কারও নেই। আইসক্রিমে মুখ লাগায় মিতা। হতাশ। খুব হতাশ সে।

“এত আইসক্রিম খাস কেন?”

“আপনি এত বিড়ি টানেন কেন?” নিজের অজান্তেই বলে ফেলে মিতা। পরক্ষণেই জিভে কামড় দেয়। অরিয়ন অবাক হয়ে মিতার দিকে তাকিয়ে আছে। মিতা একটু হাসার চেষ্টা করে।

“হা হা হা। সিরিয়াস হবেন না। ইট’স এ জোক। হা হা হা”

“যদি ঠান্ডা লেগে যায়, তাহলে খবর আছে, দেখিস” কফি শেষ হতেই ওয়ান-টাইম কাপ ছুড়ে ফেলে অরিয়ন। গিয়ে পড়ে দূরে থাকা ডাস্টবিনে। বিস্ময়ের সাথে তাকিয়ে থাকে মিতা। মিতার দিকে ফিরে তাকাতেই লক্ষ করে সে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এত দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও সে কীভাবে কাপটা ফেলল, তা ভাবছে মিতা। অরিয়ন কিছু বলল না, মাথা নিচু করে মিতার কোন থেকে এক কামড়ে অনেকখানি আইসক্রিম নিয়ে নেয়।

“আমার আইসক্রিম!” হাত সরিয়ে নেয় মিতা। এতক্ষণে অরিয়ন অনেকখানি নিয়ে ফেলেছে। আইসক্রিম খেতে খেতে মিতার সামনে থেকে চলে যায় অরিয়ন।

“বজ্জাত লোক” দাঁতে দাঁত চেপে বলে মিতা।

-------------

“কাকা, আপনি গিয়ে বসেন। আমি এখন ড্রাইভ করব” ড্রাইভার গাড়িতে উঠতে নিতেই বলে ওঠে অরিয়ন। আবরার মাত্র গিয়ে সামনের সিটে বসেছে। মিতা গাড়িতে উঠার জন্য সবে এক পা রেখেছে।

“এখনো তো অনেক রাস্তা বাকি আছে স্যার, আপনি না হয় পরে চালান” নরম সুরে বলেন মধ্যবয়সী ড্রাইভার।

“আপনাকে বলেছি আমাকে স্যার না ডাকতে। আর এখন আমি চালাব, পরে আপনি চালাবেন তাহলেই হবে” ড্রাইভার আর কিছু বলল না। গাড়ির দরজা খুলে পিছনের সিটে বসার উদ্দেশে চলে যায়।

“আপনার জন্য কি নিমন্ত্রণপত্র পাঠাতে হবে? বের হন আপনি” গাড়ির দরজায় হেলান দিয়ে আবরারের উদ্দেশে বলে অরিয়ন।

“মানে? আমি কেন বের হব? আমি এখানেই বসি। তোর নিমন্ত্রণপত্র লাগলে তুই এখান থেকে বাড়িতে চলে যা”

“আবরার!” পেছন থেকে আনিকা চৌধুরীর কণ্ঠস্বর সতর্কবার্তার মতো ভেসে আসে।

“তুই এখানে বসলে মিতা কোথায় বসবে? পিছনে কাকার সাথে?” অরিয়নের কথায় আবরার এবার একটু চিন্তায় পড়ল। ঘাড় ঘুরিয়ে মিতার দিকে তাকায়। মিতা এখনো বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। হালকা বাতাসে মিতার খোলা চুলগুলো উড়ছে আপন মনে।

“মার স...”

“আর শায়লা?” ভ্রু উঁচু করে বলে অরিয়ন। আসলেই তো, শায়লা আর মিতা দুজনেই মেয়ে। তাদের কীভাবে ড্রাইভার কাকার সাথে বসতে দেবে? নিজের পরাজয় বুঝতে পেরে রাগ হয় আবরারের।

“ধুর! পরের বার আমিও বউ নিয়ে আসব” কথাটা বলেই গাড়ি থেকে নেমে যায় আবরার। সরাসরি গিয়ে পিছনের সিটে বসে। ড্রাইভিং সিটে বসে অরিয়ন। মিতাও আর অপেক্ষা করল না, দ্রুত গাড়িতে উঠে বসে। রোদ উঠেছে খুব। গরমে দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল হয়ে উঠেছে। গাড়ি স্টার্ট দেয় অরিয়ন।

হাইওয়ে ধরে গাড়ি চলছে। কুমিল্লার সেই সুন্দর দৃশ্যগুলো মুগ্ধতার দৃষ্টিতে দেখে যাচ্ছে মিতা। এসি বন্ধ, প্রতিটা জানালা খোলা। ঠান্ডা বাতাস শীতল করে দিচ্ছে মিতার শরীর। সবুজে ঘেরা এই কুমিল্লার রাস্তাটা তার খুব পছন্দের। ইচ্ছে করে বৃষ্টির দিনে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে।

“বৃষ্টি হলে ভালো হতো” বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকা মিতা নিম্নস্বরে আপন মনে বলে ওঠে। অরিয়ন মিতার কথা স্পষ্ট শুনতে পেয়েছে। আসলেই, বৃষ্টি হলে সুন্দর হতো। তার পরীর মুখে ভুবন ভুলানো হাসি থাকত। পকেট থেকে মোবাইল নিয়ে ব্লুটুথ কানেক্ট করে অরিয়ন।

তুমি বললে আজ দুজনে নীল রঙা বৃষ্টিতে ভিজব

রোদেলা দুপুরে একসাথে

নতুন সুরে গান গাইব।

শেষ বিকেলের ছায়ায় নীল

আকাশের বুকে আমি, লাল রঙা স্বপ্ন আঁকব।

আমি কবি নই, তবু কাব্যের ভাষায় বলব আজ

তোমার হাসির শ্রাবণ ঢলে

স্বপ্ন নিয়ে ভাসতে চাই।

গান বাজতেই মিতা ঘাড় ঘুরিয়ে অরিয়নের দিকে তাকায়। অরিয়ন মিতার দিকে আগে থেকেই তাকিয়ে আছে। দুজনের চোখাচোখি হতেই মৃদু হাসে অরিয়ন। গালে টোল পড়ে অরিয়নের। কিছু কিছু মুখে হাসি এতটাই মানানসই মনে হয়, যেন প্রতিবার তার হাসিতে আশপাশের সবকিছু নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পায়। তেমনই লাগল মিতার।

সবুজে ঘেরা এই রাস্তা, ঠান্ডা বাতাস, গান আর অরিয়নের হাসিতে এই পথ পাড়ি দেওয়া তার কাছে স্বার্থক মনে হচ্ছে। আলতো করে হাসি ফিরিয়ে দেয় মিতা। রাস্তার দিকে তাকায় অরিয়ন। অরিয়নের হাত স্টিয়ারিংয়ে। অন্য হাত তার উরুতে। গানের সাথে ঠোঁট মিলাচ্ছে সে।

মিতা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অরিয়নের দিকে। অরিয়নের বয়স কত? ৪০/৫০? ধুর, কী ভাবছে সে। ২৯। অরিয়নের বয়স ২৯। তাও কতটা প্রফুল্ল তার মন। কৈশোরকালীন সময়ে কেমন ছিল সে? সেও কি মিতার মতো এত চঞ্চল ছিল? নাকি সব সময় এতটাই গম্ভীর মুখ করে থাকত?

হঠাৎ ঘাড় ঘুরায় মিতা। তার মুখ মলিন। বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে হতবাক হয়ে। অরিয়নের কথা এত ভাবার কী আছে? তার জীবনের এত কষ্ট, এত বেদনা—সবটাই তো তার দান। তাহলে এই লোকের কৈশোর কেমন ছিল, তা জানার কেন সখ জাগবে তার? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তার। মাথা ঝাকিয়ে সব কিছু মাথা থেকে বের করার চেষ্টা করে। আবারও মনোযোগ দেয় বাইরের দিকে।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন