ফন্ট সাইজ:
থিম:
টক ঝাল নাকি মিষ্টি

৭ম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৭

গল্প:#টক_ঝাল_নাকি_মিষ্টি?

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

শিশিরের রুমের দরজা খোলা। রাত্রি ভেতরে ঢুকে তার ব্যাগটা ধপাশ করে বিছানায় রাখল।শিশির টেবিলে বসে বই পড়ছে।মুখে হাসি নিয়ে পেছনে রাত্রির দিকে ঘুরলো সে,

"কলেজের প্রথম দিন কেমন গেল?"

রাত্রি পকেট থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করে হাতে দোলাতে নিয়েই ঠোঁটে দুষ্টু হাসি আনলো।ন্যাকা করে বলল সে,

"লাভ লেটার পেয়েছি"

শিশিরের মুখে হাসিটা আর থাকলো না।চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো সে,

"কিহ!!"

রাত্রির হাত থেকে কাগজটা ছিনিয়ে নিয়ে খুলে দেখলো শিশির। কলেজের স্বাগতম পত্র।শিশির হতবম্ব চেহারা দেখে রাত্রি জোরে জোরে হাসতে শুরু করে।

শিশির মাথা নিচু করে শ্বাস ছাড়লো,

"রাত্রি..আজকে কোনো ছেলে কি কিছু বলেছে? "

রাত্রি হাসা বন্ধ করলো,

"না বাবা, কেউ কিছু বলেনি "

শিশির রাত্রির পাশে মাথা তুলে দেখল,

"কোনো ছেলে কিছু বললে আমাকে সাথে সাথে জানাবি "

"উফ ভাইয়া, আমি এখন কলেজে উঠেছি।এখন তো একটু ছেড়ে দাও।স্কুলে তো তোমার ভয়ে আমার পাশে কেউ দেখতোও না। এখন তো একটা প্রেম করতে দাও"

শিশির এগিয়ে এসে রাত্রির একটা বেনি টেনে ধরল,

"খুব উড়ানো হচ্ছে বুঝি? কালকেই তোর কলেজে গিয়ে ছেলেদের অ্যাসেম্বলি দাঁড়া করাবো "

রাত্রি চুলের টানে আর্তনাদ করে উঠলো,

"আহা লাগছে!ছাড়ো!"

শিশির চুলের বেনিটা ছেড়ে দিতেই রাত্রি মুখ গোমরা করে বলে উঠে,

"তোমাকে যেতে হবে না। কোনো ছেলে আমাকে দেখলেও আমিই তোমাকে এসে বলব"

শিশির বুঝলো রাত্রির অভিমান।রাত্রির গাল দুটো টানতে নিয়ে বলল,

"উ-লে-লে-লে,রাত্রি সোনা রাগ করেছে? "

"আহা ছাড়ো আমার গাল!করিনি রাগ!"

শিশির রাত্রির গাল ছেড়ে দিয়ে চেয়ারে বসে।

রাত্রি তার গাল বোলাতে লাগল,

"আমার কত ইচ্ছা ছিল নাফিসা আপুর কলেজে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু তুমি তো আমাকে ওটা প্রথম চয়েজ দিতেই দাওনি"

শিশির ঠোঁট বন্ধ করে হেসে বলল,

"কারণ ওই কলেজে আমাকে কেউ চিনে না "

রাত্রির মুখ এক হাত খুলে গেল যেন,

"ভাইয়া,তুমি কি আমাকে নজরে রাখা বন্ধ করবা! "

"না"

"লজ্জা করে না এমন সরাসরি না বলতে!?"

"না"

রাত্রি বিস্ফোরিত হওয়ার উপক্রম।

শিশির মাথা না ঘুরিয়েই বলল,

"তোর ব্যাগ এখানে রাখলি কেন? তোর রুমে নিয়ে যাহ্"

রাত্রি মুখ বাঁকা করলো,

"আমার রুম অনেক পরিপাটি করে গোছানো আছে।তাই এই আওজানটাকে এই আবর্জনায় রাখলাম "

শিশির পেছনে ঘুরলো,

"কি বললি! "

খিলখিলিয়ে হেসে উঠল রাত্রি।শিশির আর কিছু বলবে তার আগেই ব্যাগটা নিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

আদর্শ একটা ধূসর রঙের পাঞ্জাবি পরেছে।ব্যস্ত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলো সে।দেখে মনে হচ্ছে সাদা মেঘের সাথে কালো মেঘ মিশেছে।এখনই মনে হয় গর্জে উঠবে।

তয়া বেগম আদর্শকে দেখে বলে উঠলেন,

"কই যাচ্ছিস আদর্শ?"

আদর্শ তার হাতের ঘড়িটা পড়তে নিয়েই বলল,

"আমি যে স্কুলে পড়তাম সেখানে আজ আমাদের ব্যাচের এক ওরিয়েন্টেশন রেখেছে।ওখানেই যাচ্ছি"

স্কুলের গেটের ভেতরে ঢুকে দেখল এক ছেলে গেটের কাছে একটা টেবিল নিয়ে বসে আছে।

আদর্শকে দেখেই বলে উঠল,

"নাম?"

"আদর্শ"

ছেলেটি মাথা তুলে আদর্শের দিকে দেখল,

"শাহরিয়ার আদর্শ? "

"জি"

ছেলেটি উঠে দাঁড়িয়ে আদর্শের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়,

"আরে কেমন আছিস তুই?আমাকে চিনতে পেরেছিস?আমি জয়"

ছোটবেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে চিনতে পেরে আদর্শ হাত মিলিয়ে কোলাকুলি করল,

"আমি ভালো আছি। তুই কেমন আছিস? "

"এইতো ভালো। তুই আসবি আমি এক্সপেক্টই করিনি"

জয় টেবিলের সামনে থেকে সরে এসে আদর্শের সাথে হাঁটতে লাগলো।

আদর্শ বললো,

"আসলেই আসা হতো না। আমেরিকা থেকে পার্মানেন্টলি চলে এসেছি তো, তাই আসতে পারলাম "

"পার্মানেন্টলি চলে এসেছিস মানে? "

"হ্যাঁ, দেশেই এখন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আছি "

"তো স্যার এখন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার?"

"হ্যাঁ, তুই কি করছিস? "

"তুই তো আগে থেকেই জানতি আব্বু আমাকে তার কোম্পানির সি.ই.ও. বানাতে চেয়েছিল।গত বছরেই সেখানে জয়েন করেছি"

"রেলি?! তোকে দেখে কেউ বলতেই পারবে না যে তুই কোনো কোম্পানির সি.ই.ও.! "

জয় হেসে উঠলো,

"সাধারণভাবে চলতে সমস্যা কোথায়? সি.ই.ও. হয়েছি দেখেই কি কোট-প্যান্ট পড়ে ঘুরতে হবে?তুই এখন কই থাকিস? যাওয়ার সময় না সবকিছু তোর দাদু বিক্রি করে দিয়েছিলেন "

"আমি এখন আমার চাচার বাসায় আছি "

"তোর চাচার বাসায় মানে? তোর চাচাও আছে?"

"হ্যাঁ, ও কথা না হয় পরে কোনো একদিন হবে "

"তো কে তোর চাচা?"

"মিস্টার শাহরিয়ার নয়ন "

"তুই নয়ন আঙ্কেলের ভাতিজা! "

"হ্যাঁ, তুই চিনিস?"

"উনাকে কে না চেনে। আর আমার এক আত্মীয়ের বিয়েতে আঙ্কেলের ফ্যামিলির সাথে আমার পার্সোনালি দেখা হয়েছিল। উনার একটা মেয়ে আরেকটা ছেলে আছে, তাই না?শ্রিয়ন্তী আর শিশির? "

"হ্যাঁ "

"দুজনেই খুব মিশুক। ওদের সাথেও কথা হয়েছিল"

জয় ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটালো,

"তো, তোর কি খবর? আমার কোনো ভাবি বানিয়েছিস নাকি? "

হেসে উঠলো আদর্শ,

"আরে না না। এখনো বানাইনি "

"জয় ভাইয়া, স্টেজের সব রেডি হয়ে গিয়েছে"

একটি ছেলে এসে পেছন থেকে জয়কে ডাক দেয়।

আদর্শ ও জয় দুজনেই পেছনে ঘুরলো।ছেলেটিকে দেখে আদর্শ চমকেছে বেশ।

ছেলেটি চোখ সরু করে আদর্শের দিকে দেখতে লাগলো,

"আপনি...শ্রিয়ন্তীর ফিয়ান্সে না?"

জয় আদর্শের পাশে ঘুরে।ভ্রু কুচকে শুধালো সে,

"শ্রিয়ন্তীর ফিয়ান্সে? শ্রিয়ন্তী না তোর চাচাতো বোন হয়"

আদর্শ দেখলো ছেলেটি তার পাশে সন্দেহের চোখ নিয়ে দেখছে। এখন এই ছেলেকে কিছুতেই বুঝতে দেওয়া যাবে না যে সেদিন শ্রিয়ন্তী এই ছেলের সামনে যেগুলো বলেছিল সব মিথ্যা ছিল। নাহলে শ্রিয়ন্তী অনেক বড় বিপদে পড়ে যাবে।

ছেলেটি বলল,

"শ্রিয়ন্তীর চাচাতো ভাই? কিন্তু সেদিন না শ্রিয়ন্তী বলল আপনি তার ফিয়ান্সে হন"

আদর্শ এবার মুখ খুলে,

"হ্যাঁ। আমি ওর চাচাতো ভাইও হই ওর ফিয়ান্সেও হই "

জয় বললো,

"তুই না আমাকে এখনই বললি আমার কোনো ভাবি বানাসনি "

ছেলেটি আর জয় আদর্শকে যেন মৌমাছির মতো জাপটে ধরেছে একদম।বেচারা আদর্শ ঢোক গিললো,

"আরে!এনগেজমেন্ট হয়েছে।বিয়ে তো আর হয়নি। বিয়ে হলে না বলতাম তোর ভাবি আছে "

জয় হেসে উঠল,

"আদর্শ। বাংলাদেশে এনগেজমেন্ট হওয়া মানেই অর্ধেক বিয়ে হয়ে গিয়েছে "

"ওহ, আচ্ছা"

আদর্শও হেসে উঠল।সামনের ছেলেটির দিকে ঘুরে বললো,

"এটা কে?"

জয় বলল,

"এটা আমার ভার্সিটির জুনিয়র,আশিশ।ওরিয়েন্টেশনের কিছু হেল্প করার জন্য ডেকেছিলাম"

আশিশ আদর্শকে সালাম দেয়। আদর্শ তার সালাম নিলো।

আশিশ বললো,

"আসলে ভাইয়া কিছু মনে করিয়েন না। আমি শ্রিয়ন্ত্রীকে অনেক পছন্দ করি তো তাই একটু ঘুরাঘুরি করছিলাম "

আদর্শ হালকা কঠোর দৃষ্টিতে আশিশের পাশে দেখলো,

"পছন্দ কর-তে, এখন না। সে আমার ফিউচার ওয়াইফ"

জয় একবার আদর্শের পাশে আরেকবার আশিশের পাশে দেখল,

"এ আশিশ,বুঝেছিস তো?ভাবীকে আর জ্বালাস না"

আশিশ মাথা নিচু করে বলল,

" হ্যাঁ ভাই। আমি আসি এখন পরে দেখা হবে"

মাথা নিচু করে চলে গেল আশিশ।

জয় আদর্শের কাঁধে হাত রাখল,

"আরে টেনশন নিস না। এখনকার ছেলেপেলে এরা। একেক দিন একেকটা মেয়ের পেছনে পড়ে। ওকে বাদ দে। তুই বল, বিয়েটা কবে?"

ভড়কালো আদর্শ,

"আআআ।ডেট এখনো ফাইনাল হয়নি"

"ডেট ফাইনাল হলে আমাকে আবার বলতে ভুলিস না। তোর বিয়ের খাবার ছাড়তে আমি একদম রাজি নই "

"হ্যাঁ হ্যাঁ, তোকে তো অবশ্যই দাওয়াত করব "

আদর্শ হাসতে শুরু করল।

আদর্শ ভাবতে লাগলো শ্রিয়ন্তী যদি জানতে পারে যে সে তার ও শ্রিয়ন্তীর বিয়ে ঠিক করে দিয়েছে,আর একজন মেহমানও যোগাড় করেছে তাহলে নির্ঘাত একটা শাড়ি আদর্শের গলায় পেচিয়ে ফ্যানের সাথে লটকে দিত।

✿এই পর্বের নৈতিক বাক্য:

সে আমার ফিউচার ওয়াইফ।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন