ফন্ট সাইজ:
থিম:
টক ঝাল নাকি মিষ্টি

১০ম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_১০

গল্প:#টক_ঝাল_নাকি_মিষ্টি?

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

নাফিসা গাড়ির ভেতর থেকে ট্রাফিক লাইটের লাল বাতি দেখছে। পাশে থাকা সেকেন্ডের নাম্বারগুলোও। এখনো ১২ সেকেন্ড বাকি। নাফিসা সেপাশ থেকে মাথা ঘুরিয়ে জানালার পাশে দেখতেই রাস্তার পাশে একটা বিড়ালকে দেখল।বিড়ালটার একটা পা খুবই খারাপভাবে আ'ঘাত পেয়েছে। নাফিসার বুকটা ধুক করে উঠলো যেন।কোনো কিছু না ভেবেই গাড়ির দরজা খুলে বিড়ালটার কাছে গেল।বিড়ালটি ব্যথায় কেমন যেন আওয়াজ করছে।নাফিসা বিড়ালটিকে কোলে নিয়ে গাড়িতে এসে বসলো। ড্রাইভারকে তাড়াতাড়ি কাছের কোনো ভ্যাটেনারিতে নিয়ে যেতে বলল।

নাফিসা একপ্রকার দৌড়েই ভ্যাটেনারি হসপিটালে ঢুকে।কাউন্টারে অনেক বড় লাইন। কোনো উপায় না দেখে সে এমার্জেন্সি কাউন্টারে গেল,

"এক্সকিউজ মি, আমি একটি বিড়ালকে এখানে ভর্তি করাতাম "

"জি, এটা কি আপনার পালিত বিড়াল?"

"না "

"ম্যাম এখানে পালিত বিড়ালদের আমরা আগে সার্ভিস দেই। পেছনে অনেক লোক আছে, আপনি একটু পরে আসেন"

"কিন্তু ম্যাটারটা অনেক সিরিয়াস! "

"ম্যাম আমরা পারছি না। আমাদের রুলস এ নেই"

"বিড়ালের চিকিৎসা করতেও মনে হয় রুলস লাগে?! আপনি বোঝার চেষ্টা করেন! খুবই খারাপ অবস্থা! "

"ম্যাম আপনি বোঝার চেষ্টা করেন! "

"এক্সকিউজ মি, এখানে কি হচ্ছে? "

এক ছেলের কন্ঠে নাফিসা পেছনে ঘুরে।ইন করা সাদা শার্ট ও কালো ফরমাল প্যান্ট পড়িহিত একটি ছেলে কাউন্টারে বসা লোকটির পাশে দেখছে।

কাউন্টারের লোকটি বলল,

"এই মেয়ে বলছে একটা বিড়ালকে ভর্তি করাতে যেটা ওনার নিজের না। আমাদের কিছু ফর্মালিটিস আছে। আমরা সেটা অমান্য করতে পারবো না"

নাফিসা কাউন্টারের লোকটির দিকে ঘুরে এবার একটু জোরেই বলে উঠলো,

"এই বিড়ালের কিছু হলে আপনাদের হসপিটালের নামে কেস করে দিব আমি!!"

কাউন্টারের লোকটি উঠে দাঁড়ালো,

"আপনার সমস্যা কি? বলেছি যে করা যাবে না!"

ছেলেটি বিড়ালটির পাশে দেখে নাফিসার পাশে নজর দেয়।একটা রাস্তার বিড়ালের জন্য এই মেয়ে হসপিটালের নামে কেস করার কথা বলছে।শব্দহীন হেসে সে কাউন্টারের লোকটির দিকে ঘুরলো,

"ঠিক আছে তাহলে। এখানে আপনারা মানছেন না তাহলে আমি আপনাদের হেড ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি "

কাউন্টারের লোকটি বলল,

"বললেই আপনি যেতে পারবেন? "

ছেলেটি তার পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে কাউন্টারের লোকটির সামনে রাখলো,

"হ্যাঁ। আমি যেতে পারব"

কাউন্টারের লোকটি কার্ডটা দেখে আতকে উঠল যেন,

"সরি স্যার,আপনার সাথে এভাবে কথা বলার জন্য।কিন্তু আমাদের রুলস এ নেই এটা"

ছেলেটি গম্ভীর দৃষ্টিতে লোকটির দিকে দেখে আছে,

"ট্রিটমেন্টটা যেন পাঁচ মিনিটের মধ্যে শুরু হয়"

ছেলেটি বলার সাথে সাথে যেন কাউন্টারের লোকটির দৌড়াদৌড়ি উঠে গেল। একটা নার্স এসে নাফিসার হাত থেকে বিড়ালটিকে নিয়ে এক কথায় দৌড়েই একটা রুমে ঢুকে।

নাফিসার মাথায় কিছুই ঢুকছে না।এই ছেলেটা এমন কি দেখালো যে লোকগুলোর দৌড়াদৌড়ি উঠে গেল?

"টেনশন নিয়েন না। বিড়ালটার কিছু হবে না"

ছেলেটির কথায় নাফিসা পেছনে ঘুরলো।ভ্রু কুচকে শুধালো নাফিসা,

"আপনার পরিচয়টা জানতে পারি? "

"হ্যাঁ অবশ্যই। আমার নাম ফারদিয়ায জয়"

"আপনি লোকটাকে এমন কি দেখালেন যে উনি ব্যস্ত হয়ে গেল?"

"তেমন কিছু না। আমার পরিচয় পত্র দেখিয়েছি। আপনার নামটা শোনা হলো না"

"ও, সরি সরি। আমার নাম নাফিসা ইবনাত"

জয় নাফিসার পাশে দেখে মৃদু হাসি দেয়,

"আপনি বিড়াল এতো পছন্দ করেন?"

"না তেমন পছন্দ করি না।কিন্তু রাস্তায় বিড়ালটাকে এমন অবস্থায় দেখে আর চুপ থাকতে পারিনি"

তার কথার মাঝেই একটি নার্স এসে তাদের সামনে দাঁড়ালো,

"বিড়ালটির ট্রিটমেন্ট চলছে। আশা করছি ঠিক হয়ে যাবে। আপনারা কি তাকে নিয়ে যাবেন, নাকি এখানে এনিমেল হাউজে রেখে দিবেন?"

নাফিসা বললো,

"আমি ওকে নিয়ে যাব না। আপনারা ওকে এনিমেল হাউজেই রেখে দিন। আমি কি দেখতে পারি সে কেমন আছে? "

"এখন দেখা সম্ভব না। আপনি চাইলে কালকে এনিমেল হাউজে এসে দেখতে পারেন"

নাফিসা চিন্তা করে বলে উঠল,

"আগামী সোমবার এই টাইমে ওকে দেখা যাবে? "

"হ্যাঁ অবশ্যই "

"আচ্ছা আপনাদের পেমেন্ট কাউন্টারটা কই?"

জয় এবার তাদের কথার মাঝখানে ঢুকলো,

"পেমেন্ট আমি করে দিয়েছি"

নার্স, নাফিসা দুজনই জয়ের দিকে ঘুরলো।

নাফিসা বলল,

"আপনি তখন থেকে এখানেই দাঁড়িয়ে আছেন। পেমেন্ট কখন করলেন?"

ভড়কালো জয়,

"আ-আমার মানে আমি পেমেন্ট করে দিব"

"আপনার অফারের জন্য থ্যাংক ইউ। কিন্তু বিড়ালটাকে আমি যেহেতু নিয়ে এসেছি তাই আমিই পেমেন্টটা করব"

"এখন এটা নিয়ে আমার সাথে ঝগড়া করিয়েন না, প্লিজ।পেমেন্টটা আমাকে করতে দিন"

নাফিসা মুখে হাসি নিয়ে শ্বাস ছাড়লো,

"আচ্ছা ঠিক আছে। অযথা আপনাকে আমি ঝামেলায় ফেললাম"

"না না,এটাতে আবার ঝামেলার কি আছে?"

নাফিসা হাতের ঘড়ির দিকে নজর দেয়,

"সরি, কিন্তু আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।আমার বাসায় যেতে হবে"

"আমি কি আপনাকে লিফট দিতে পারি?"

"আরে না না!আমি আমার গাড়ি নিয়ে এসেছি।আপনার সাথে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। আশা করছি আবার দেখা হবে"

নাফিসা হসপিটাল থেকে বের হয়ে গেল।

জয় তার যাওয়ার পানে দেখে আছে,

"সেটা তো অবশ্যই হবে "

জয় সেপাশ থেকে মাথা ঘুরাতেই দেখল একটা ছেলে তার পাশে গম্ভীর দৃষ্টিতে দেখে আছে। হাতে তার একটা বিড়াল।

"তুমি এদিকে মেয়েদের সাথে ফ্লার্টিং করছ! আর আমি তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে পাগল হচ্ছি!"

"জাহিদ বেশি বকিস না তো।আমি কোনো ফ্লার্টিং করছিলাম না। মেয়েটাকে হেল্প করছিলাম শুধু।আর তুই আমার উপরে কেন রাগ হচ্ছিস! আমার তো তোর উপরে রাগ হওয়ার কথা! তোর লজ্জা করে না! অফিস টাইমে অফিসের বসকে নিয়ে তুই তোর বিড়ালের চেকআপ করাতে এসেছিস!"

"হ্যালো মিস্টার সি্-ই্-ও্, বসের আগে তুমি আমার বড় ভাই হও" জাহিদ দুষ্টু হেসে বলল,

"আসল কথা হলো আমার না খুব মজা লাগে।এত বড় কোম্পানির সি.ই.ও. -কে নিয়ে যেখানে-সেখানে ঘুরতে।আমার ঘোরা হয় আর তোমার পকেট খালি হয়"

জয় ভারী শ্বাস ছেড়ে বলে,

"হয়েছে তোর বিড়ালের চেকআপ? "

"হ্যাঁ হয়েছে।শুধু পেমেন্টটা বাকি। আজকে তো তুমি আবার আমার পেমেন্ট বাদেও অন্য কারো পেমেন্ট করবা। সত্যি করে বলতো ভাইয়া, মেয়ে পছন্দ হয়েছে নাকি?"

জয় গম্ভীর চেহারা নিয়ে জাহিদের দিকে দেখল,

"বেশি কথা বললে তোকে এখানে ভর্তি করে দেব।চল এখন! তোর পেমেন্ট করি"

✿এই পর্বের নৈতিক বাক্য:

পাওয়ার থাকলে সব হয়।বিড়ালের চেকাপও।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন