ফন্ট সাইজ:
থিম:
টক ঝাল নাকি মিষ্টি

১২তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_১২

গল্প:#টক_ঝাল_নাকি_মিষ্টি?

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

রাত্রির পড়নের ল্যাভেন্ডার কালারের কুর্তিটার উপর কোমর ছুই ছুই খোলা চুলগুলো ফ্যানের বাতাসে হালকা দুলছে।ফ্যানের বাতাসে সামনের চুলগুলো চোখের উপর পড়ায় বাম হাত দিয়ে সেগুলো কানের পিছনে গুঁজে ধরে আছে সে।

এদিকে শিশির টেবিলে হেড ডাউন করে পাশে বসে থাকা রাত্রির পাশে কোমল দৃষ্টিতে দেখছে।ছেলেটা যে বড়ই শান্তি পায় এই মেয়েটাকে দেখে।কলিজাটা যেন একদম শান্ত থাকে।রাত্রির সেদিকে কোনো ভুরুক্ষেপই নেই। মনোযোগ দিয়ে অংক করছে সে। শিশির তাকে ১৫ টা অংক করতে দিয়েছে। সময় বরাদ্দ করে দিয়েছে ৫ মিনিট। তাই কোনো পাশে চোখ ঘুরানোর সময় নেই তার।

"রাত্রি "

"হুম"

"আমার অনেক বোর লাগছে "

"হ্যাঁ তো আমি কি করবো? "

"আপুকে অনেকদিন থেকে জ্বালানো হয়নি"

রাত্রি এবার শিশিরের দিকে ঘুরলো।

শিশির রাত্রির দিকে এক দৃষ্টিতে দেখে আছে। হেড ডাউন করে থাকায় শুধু চোখ দুটো বের হয়ে আছে তার। মনে হচ্ছে পূর্ণিমার চাঁদ কালো রূপ ধারণ করে দু ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। সামনের কিছু ছোট চুল সেই চাঁদ গুলোর উপর বাঁশ পাতার মতো নড়ছে।

রাত্রি আবার অংকের খাতায় মনোযোগ দিল,

"আপুকে আবার কেন জ্বালাতে যাবা?"

শিশির মাথা উঠালো,

"ওকে জ্বালালেই তো বাসার এন্টারটেইনমেন্ট বাড়ে "

রাত্রি শিশিরের দিকে ঘুরলো,

"আবার কি কু বুদ্ধি মাথায় ঘুরছে তোমার?"

শিশির মুচকি হাসি দিল শুধু।

নাফিসা নক করে শিশিরের রুমে ঢুকলো,

"তোমরা এখানে?আর আমি পুরো বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছি"

নাফিসা বিছানায় এসে বসলো।

শিশির বলল,

"নাফিসা তোকেও বোর লাগছে, তাই না?"

"কলেজে এক্সাম চললে কার ভালো লাগে? "

"আমার কাছে একটা আইডিয়া আছে, শোন"

নাফিসা শিশিরের কথা শুনে ভড়কে উঠে,

" নো ওয়ে! শ্রিয়ন্তী আপু এটা কখনোই মানবে না।আর ভাইয়া কখনই গলবে না "

শিশির বলল,

"ভাইয়া গলবে কি গলবে না ওটা আমাদের ব্যাপার না।ওটা শ্রী আপুর ব্যাপার। আমরা তো শুধু মজা নিব"

"না ভাইয়া, ইটস ঠু রিস্কি "

"আরে জীবনে একটু রিস্ক না নিলে হয়?"

"যে রিস্ক নিবে সে-ই তো জানে না"

"কোন সমস্যা নেই। আমরা তাকে এখনই জানিয়ে দিব"

"আপু যদি না মানে "

শিশিরের ঠোঁটের কোনায় মুচকি হাসি ফুটে উঠল আবার,

"হয় সে আজকে রিস্ক নিবে,না হয় লাইফে প্রথমবার আমার সাথে ট্রুথ-ডেয়ার খেলায় হারবে"

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

শিশির শ্রিয়ন্তীর রুমের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো। শ্রিয়ন্তী বিছানায় শুয়ে ফোন দেখছে।

"উফ শিশির!কতবার বলেছি, ঢোকার সময় নক করে ঢুকবি!"

"আরে কই তুমি একদম বিশ্ব জয় করার কাজ করছ। উঠে বসো কথা আছে"

শিশিরের পেছন পেছন রাত্রি আর নাফিসাও এসে রুমে ঢুকলো।

শ্রিয়ন্তী উঠে বসলো,

"কি কথা?"

শিশির, রাত্রি ও নাফিসা বিছানায় পা তুলে বসল।

শিশির বলল,

"আমরা এখন ট্রুথ-ডেয়ার খেলব "

মেকি হাসলো শ্রিয়ন্তী,

"আমার কাছে এতবার ডেয়ারে হেরেও তোর স্বাদ মেটেনি, তাই না?"

"স্বাদ তো ওটা কখনোই মিটবে না। চলো এখন খেলি"

বিছানার মাঝখানে একটা হার্ড বোর্ড রেখে তার ওপর একটা কলম ঘোরানো হলো। নাফিসার দিকে কলমের মাথা গিয়ে থামল।শ্রিয়ন্তী যেহেতু কলম ঘুরিয়েছে তাই শ্রিয়ন্তী প্রশ্ন করবে।

"ট্রুথ অর ডেয়ার?"

"ট্রুথ "

শ্রিয়ন্তী মুখে একটা কোমল হাসি আনল,

"তোমার কি আমাদের সাথে থাকতে ভালো লাগছে?"

নাফিসা হেসে উঠলো,

"এতগুলো ভালোবাসা পেলে কার না ভালো লাগবে?"

শিশির বলল,

"ট্রুথ-ডেয়ার খেলতে বসেছো! সিরিয়াস ভাবে খেলো!আমরা যেগুলোর উত্তর জানি ওগুলো প্রশ্ন করে লাভ নেই"

শিশির নাফিসার পাশে ঘুরে দুই পাটি দাঁত বের করে হাসি দিল।

এবার নাফিসার কলম ঘোরানোর পালা। কলমের মাথা এবার শিশিরকে দেখছে।

নাফিসা বলল,

"ট্রুথ অর ডেয়ার?"

"ট্রুথ"

"তুমি সিরিয়াস হতে বললে, তাই না? আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি কোনো মেয়েকে পছন্দ করো কি?"

শিশির আতকে উঠল যেন। মাথা নিচু করে একটা হাসি দিল সে, "নাহ, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো মেয়ে চোখে পড়েনি"

শিশির নিজেই তার এক নাম্বার মাইনাস করে দিল। কারণ সে জানে সে সততার সাথে ট্রুথ-ডেয়ার খেলছে না।

নাফিসা বলল,

"আমার বিশ্বাস হয়না। তুমি নিশ্চয়ই খেলায় চিটিং করছো"

রাত্রি বলল,

"আরে না নাফিস আপু। ভাইয়া সত্য কথাই বলছে। ভাইয়ার ফোনের গ্যালারিতে দুইটা ফোল্ডার। একটাতে হাতে গনা দশ-পনেরোটা তার বাইক ও তার ছেলে বন্ধুদের ছবি আছে। আর অন্যটাতে আমারই হাজারটা ছবি। আমিই ওই ফোল্ডারটা বানিয়েছি। ভাইয়ার ফোনে ছবি ভালো আসে তো।আর কোনো মেয়ের ছবি নেই। আর ইউটিউবের সার্চ সেকশনে শুধু বাইক কেমন করে সব সময় চকচকা-ঝকঝকা রাখতে হয় সেগুলোর টিউটোরিয়াল। তার চ্যাট লিস্টেও কোনো মেয়ে নেই। আমি চেক করেছি"

রাত্রি এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে তার জিহ্বার মাথায় কামড় বসায়।

শিশির মাথা তুলে রাত্রির পাশে দেখে বিস্ফোরিত কন্ঠে বলল,

"তুই আমার ফোন চেক করিস!!!"

রাত্রি চোখ বড় বড় করে শিশিরের দিকে দেখছে,

"গেমের বাইরে কোনো প্রশ্ন করা রুলস এ নেই!"

শিশির রাত্রির দিকেই তার কঠোর চোখগুলো রেখে কলমের মাথাটা রাত্রির দিকে রাখল,

"উত্তর দে!! "

চোখ-মুখ খিচে নিল রাত্রি,

"এটা কিন্তু চিটিং!! তুমি আমাকে জিজ্ঞাসাও করলে না যে আমি ট্রুথ নাকি ডেয়ার নিব!! "

"তুই ট্রুথ নিবি!! এখন আমার প্রশ্নের উত্তর দে! তুই আমার ফোন কেন ঘাটিস!"

রাত্রি অন্যদিকে ঘাড় ঘোরালো।মিনমিনিয়ে বলল,

"তোমার ফোনের স্ক্রিনটা অনেক স্মুদ তো, তাই স্ক্রল করতে ভালো লাগে"

"রাত্রি তুই সত্যি বলছিস না! তোর এক পয়েন্ট মাইনাস! আমি আজকেই ফোনের পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করবো!"

রাত্রি শিশিরের সাথে চোখ না মিলিয়েই কলম ঘুরালো।কলমের মাথা শিশিরের দিকে থামল।

রাত্রি মাথা নিচু করেই বলল,

"ট্রুথ না ডেয়ার? "

শিশির কঠোর সুরে বলল,

"ট্রুথ!"

রাত্রি এবার মাথা তুলে শিশিরের দিকে দেখল,

"তুমি যে আমাকে ১৫টা অংক করতে দিয়েছিলে, সেগুলো কি আদোও পাঁচ মিনিটে করা সম্ভব?"

"পরীক্ষার হলের শেষের পাঁচ মিনিটে ঠিকই সম্ভব!"

শিশির কলমটা ঘুরালো। কলমটা থামল। শিশিরের মুখের কোনায় হাসি ফুটে উঠলো। শ্রিয়ন্তীর দিকে মাথা তুলে দেখল সে,

"শ্রী দেবী, তুমি ডেয়ার না নিলে কিন্তু খেলার আসল মজাই জমবে না"

হেসে উঠল শ্রিয়ন্তী,

"যাহ্,নিলাম ডেয়ার।কি ডেয়ার দিবি দে।এই শ্রী দেবী সব পারে"

শিশির মাথা উপর পাশে করে একটা ভিলেনি হাসি দিল। শ্রিয়ন্তীর দিকে দেখে বলল,

"দেখা যাবে "

শ্রিয়ন্তী কঠোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে আছে ডেয়ারে না হারার।

শিশির বলল,

"কালকে ছুটির দিন। সবাই বাসায় থাকবে। তুমি কাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাসায় শাড়ি পরে ঘুরবা"

শ্রিয়ন্তী ফিক করে হেসে উঠলো,

"এটা তোর ডেয়ার?"

শিশির বলল,

"থামো শ্রী দেবী। আমার কথাটা আগে শেষ করতে দাও। তারপর হাসিও। কালকে সবার সাথে আদর্শ ভাইয়াও বাসায় থাকবে। তোমাকে কালকে সারাদিন শাড়ি পড়ে আদর্শ ভাইয়ার পেছনে নতুন বউয়ের মতো ঘুরঘুর করে বেড়াতে হবে"

"কিহ!!!"

শ্রিয়ন্তী আর বসে থাকলো না।বিছানার উপরে উঠে দাঁড়ালো সে,

"শিশির আর ইউ ম্যাড! অসম্ভব এটা! "

"ডেয়ারের নিয়মই তো এটা শ্রী দেবী!ইটস ইম্পসিবল,বাট ইউ হ্যাভ টু ডু ইট! "

শ্রিয়ন্তী ধপাশ করে বিছানায় বসে পড়ে,

"না শিশির! আমার সাথে এমন করিস না, প্লিজ! "

শিশির হেসে উঠলো,

"তাহলে তুমি হার মেনে নিচ্ছো শ্রী দেবী? চিন্তা করো একবার, আমার কাছে সব সময় জেতার রেকর্ড ভেঙ্গে যাবে কিন্তু "

এবার রাত্রি শিশিরের সাথে যোগ দিলো,

"না আপু! তুমি এতো তাড়াতাড়ি হার মানতে পারো না! এটা তোমার ডিকশনারিতে নেই!"

শ্রিয়ন্তী রাত্রির দিকে দেখে শিশিরের দিকে ঘুরলো। মুখের ভাবখানা তার এমন,' ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি' কিন্তু শিশিরের মন গললো না।

শিশির বলল,

"আমরা এখন উঠি। কালকে রাতে আবার আসবো। ভালো করে আজকে ঘুমাইও শ্রী দেবী।গুড নাইট! "

নাফিসা, শিশির ও রাত্রি তিনজনই রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

শ্রিয়ন্তী বিছানায় শরীর ছেড়ে দিয়েছে।এই অ-আদর্শ তো তাকে এমনিতে দেখলেই কেমন বিরক্তির ভাব মুখটাতে এনে রাখে। তার উপর কালকে যদি শ্রিয়ন্তী ওসব করে তাহলে তো শ্রিয়ন্তীকে পুরো কাঁচা চিবিয়ে যাবে।শ্রিয়ন্তী হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে গঙ্গাতে শুরু করল। আজ রাতের ঘুমটাও তার ভালো হবে না।

✿এই পর্বের নৈতিক বাক্য:

পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করায় রাত্রির ফোন চেক করা হবে না।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন