ফন্ট সাইজ:
থিম:
টক ঝাল নাকি মিষ্টি

১৪তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_১৪

গল্প:#টক_ঝাল_নাকি_মিষ্টি?

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

মিটিং রুমে বসে জয় বারবার তার হাতের ঘড়িটা দেখছে।সামনে চলা মিটিংয়ে তার কোনো মনোযোগ নেই।জয় উঠে দাঁড়ালো,

"সরি এভরিওয়ান।আমার কিছু জরুরী কাজ আছে তাই আমি আর থাকতে পারছি না। তোমরা কন্টিনিউ করো"

জয় মিটিং রুম থেকে বেরিয়ে জাহিদের কেবিনে এলো,

"জাহিদ! "

জাহিদ কম্পিউটার থেকে মাথা তুলল না,

"তুমি আমার রুমে কি করো? তোমার না মিটিং চলছে"

জয় রুমে ঢুকলো না।দরজায় দাঁড়িয়ে থেকেই বলল,

"মিটিং এর মাঝখানে একটা কথা মনে পড়ল।তোর বিড়ালকে চেকআপ করাতে হবে না?"

"কয়েকদিন আগেই তো গেলাম। কোনো দরকার নেই এখন"

"আরে আজকে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ওকে হাঁচি দিতে দেখেছি"

জাহিদ ভড়কে উঠে দাঁড়ালো একদম,

"কিহ!!"

"হ্যাঁ!এখন তাড়াতাড়ি চল! ওকে হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে!"

"তুমি গাড়ি বের করো, আমি যাচ্ছি!"

হসপিটালে ঢুকে জাহিদ দৌড়ে তার বিড়ালকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যায়।জয় মুচকি হেসে উঠল।জাহিদের কাজ শেষ।এখন জয় নিজের কাজে মনোযোগ দিক।

একটা নার্সকে জিজ্ঞেস করল সে,

"এখানে আপনাদের এনিমেল হাউজটা কই?"

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

এনিমেল কেয়ার রুমটা দেখে কে বলবে এটা বিড়ালদের জন্য? এত ভালো ব্যবস্থা থাকার পরেও সেদিন কেমন করছিল। মেঝেতে বসে নাফিসা বিড়ালটিকে কোলে নিয়ে আদর করছে। পায়ের আঘাতটা অনেকটা ঠিক হয়ে এসেছে এখন। দরজা খোলার শব্দ পেয়ে নাফিসা মাথা তুলল।খয়েরী রংয়ের শার্ট আর কালো ফার্মাল প্যান্ট পরিহিত এক সুদর্শন পুরুষ তার দিকে এক দৃষ্টিতে দেখে আছে।

"আরে আপনি এখানে? "

নাফিসার কথা শুনে জয় একটু নড়ে উঠে,

"আরে নাফিসা তুমি এখানে! হোয়াট আ কয়েন্সিডেন্স!"

ভড়কালো জয়,

"সরি আমি তুমি করে ডাক দিয়েছি"

স্মিথ হাসলো নাফিসা,

"না কোনো সমস্যা নেই। আমি মনে হয় আপনার থেকে ছোটই হব। আমি কলেজে পড়ি। আপনি আমাকে তুমি করে ডাকতে পারেন। বাই দ্যা ওয়ে, আপনি এখানে কি করছেন?"

জয় এসে নাফিসার পাশে বসে,

" আমার ভাইয়ের বিড়ালকে চেকআপ করানোর জন্য নিয়ে এসেছিলাম। তো ভাবলাম বিড়ালটাকেও একটু দেখে যাই। এখন কেমন অবস্থায় এর?"

"সুস্থ হয়ে এসেছে অনেকটা "

"তাকে না দেখে এই কয়দিন শান্তিতে ছিলা? "

"শান্তিতে না থাকলেও করার কিছু ছিল না। আমার কলেজে এক্সাম চলছে। তাই আজকে দেখতে এসেছি"

নাফিসা মাথা নিচু করে বিড়ালটিকে আদর করছে। জয়ের নজর বিড়াল যে কোলে নিয়ে আছে তার উপর। এই কয়দিনে সে এই মেয়েকে দেখার জন্য এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল কেন?তার এই মুখটা আতঙ্ক ছাড়া হাসিখুশি দেখতে কেমন লাগে সেটা দেখার জন্য?

"তো আপনি কি করেন? "

"তেমন কিছু না। একটা ছোট কোম্পানির বস আমি"

"দ্যাটস গ্রেট"

"হ্যাঁ, সেটা এখন মনে হচ্ছে"

জয়ের ফোন বেজে উঠল,

"হ্যাঁ জাহিদ, বল"

"কই গায়েব হয়ে গিয়েছো তুমি!"

"তুই চলে যা আমি পড়ে যাব"

"জি না স্যার! অফিস থেকে কল দিয়েছিল। আজ বিকেলে যে একটা ক্লায়েন্টের সাথে মিটিং আছে সেটা মনে আছে তোমার?"

"ক্যান্সেল করে দে না "

"পা'গল নাকি তুমি!কত বড় লস হবে, জানো!!ওয়েট ওয়েট, তোমার কি আবার সেই মেয়ের সাথে দেখা হয়েছে!"

"না তো "

"আমি সব বুঝি।কিন্তু এখন তাকে বিদায় জানাতে হবে। মিটিংটা বেশি ইম্পর্টেন্ট বস!!"

"তুই আমাকে একটু শান্তিও দিবি না।আসছি দাঁড়া"

জয় কল কেটে দিল। নাফিসা বিড়ালটির একটি কান নিয়ে খেলছে। হাসার কারণে তার বামদিকে উপরের বেড়া দাঁতটি বের হয়ে আছে।পা ভাজ করে বসায় সবুজ চুড়িদারটা মেঝেতে অনেকটা ছড়িয়ে আছে। কি সুন্দর লাগছে তাকে!জয় নাফিসার পাশে দেখে একটা প্রশান্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। বিকালের মিটিংটা ঠান্ডা মাথায় করতে পারবে সে।

"সরি নাফিসা, আমাকে এখন উঠতে হচ্ছে। একটা জরুরী কাজ আছে"

"আরে কোনো সমস্যা নেই। আশা করছি আবার দেখা হবে"

"হ্যাঁ, সেটা অবশ্যই"

জয় একটা মৃদু হাসি দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

জয় যাওয়ার পরপরই নাফিসা ফিক করে হেসে উঠে। তাকেও যে কেউ এত মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখতে পারে তার জানা ছিল না।বিড়ালটির দিকে মাথায় হেলিয়ে বলল সে,

"তোমার অছিলায় আজ আমাকে কেউ দেখতে এসেছিল, জানো?"

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

"জাহিদ তুই ড্রাইভ কর। আমি একটু মিটিং এর আগে মাথাটা ঠান্ডা করি"

জাহিদ ড্রাইভ করছে। আর জয় জাহিদের বিড়ালকে কোলে নিয়ে আদর করছে।সাদা বিড়ালটার মাথায় পরম আদরে হাত বুলিয়ে যাচ্ছে সে।সেটা দেখেই বলে উঠল জাহিদ,

"কি ব্যাপার ভাইয়া? তুমি তো পিকুকে একদম আদর করো না। আজ আবার কি হলো? কারো কথা মনে পড়ছে নাকি?"

"তুই সব সময় এত বেশি বুঝিস কেন? "

"আমি বেশি না, ঠিকটাই বুঝি। বলো না, বলো না, মেয়েটার নাম কি?"

জয় মুখে হাসি নিয়ে পিকুর মাথায় আদর করে দিচ্ছে,

"নাফিসা ইবনাত"

"কিসে পড়ে? "

"কলেজে "

"ও হো, ভাবি তাহলে আমার থেকেও ছোট"

ভড়কালো জয়।মুখ গম্ভীর করে জাহিদের দিকে দেখল,

"এখনে ভাবি ডাকিস না"

"এখন না হয় পরে তো ডাকতে হবেই"

"জাহিদ মাথাটা এখন খাশ না তো! চুপ থাক!"

✿এই পর্বের নৈতিক বাক্য:

পোষা বিড়ালকে ঘনঘন হসপিটালে নিয়ে যাওয়া উচিত।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন