#পর্ব_২১
গল্প:#টক_ঝাল_নাকি_মিষ্টি?
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
আদর্শ রান্নাঘরে ঢুকে তয়া বেগমকে ডাক দিল।তয়া বেগম পেছনে ঘুরেন,
"হ্যাঁ কি হয়েছে?"
"কাল রেহান আসছে"
"রেহান আসছে মানে?"
"মানে রেহান কাল দেশে আসছে"
"কেন?"
"ওর অফিসের কিসের যেন কাজের জন্য আসছে।কল দিয়েছিল আমাকে"
"এখানে কোথায় থাকবে?"
"আমি তো ওকে বললাম হোটেলে বুকিং দিতে।বাসায় জায়গা নাই"
তয়া বেগম আদর্শের কাঁধে একটা বারি দিলেন,
"ধুর পা'গল!কল দাও ওকে!এখানে আসতে বলো!"
"আহা মা,এখানে এসে অযথা ঝামেলা বাড়াবে"
তয়া বেগম কঠোর চোখে ছেলের দিকে দেখলেন,
"আদর্শোওওও"
আদর্শ চোখ উল্টালো,
"হ্যাঁ হ্যাঁ,দিচ্ছি কল"
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
আজ ল্যাবে শ্রিয়ন্তী নিজের হাতে মানুষের পাকস্থলীর খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করেছে।দুপুরে কোনো খাবার খেতে পারেনি সে সেজন্য।খাবার দেখলেই তার বমি আসছে। ডাক্তার হওয়ার সিদ্ধান্তটা নিয়ে মনে হয় নিজের গলায় একটা অদৃশ্য রশি ঝুলিয়ে দিয়েছে সে।
সারাদিন কলেজ করে সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফিরছে শ্রিয়ন্তী।মেইন গেট দিয়ে ঢুলতে ঢুলতে বাসায় ঢুকছে সে।সোফায় নাফিসার পাশে একটা ছেলে বসে আছে।ছেলেটা শ্রিয়ন্তীর পাশে দেখল।শ্রিয়ন্তী ভ্রু দুটো উপরে করে নাফিসার পাশে দেখল।
নাফিসা বলল,
"ফুপির ছেলে,রেহান ভাইয়া"
শ্রিয়ন্তী রেহান পাশে দেখে ঠোঁট বন্ধ রেখেই একটা হাসি দিল।রেহান একটা বড় ধরনের হাসি দেয়।শ্রিয়ন্তী আবার নাফিসার পাশে দেখল।নাফিসা বলল,
"আদর্শ ভাইয়ার থেকে ছোট,তোমার থেকে বড়"
শ্রিয়ন্তী হকচকিয়ে উঠে রেহানকে সালাম দেয়।রেহান সালাম নিল,
"ইউ মাস্ট বি শ্রিয়ন্তী, রাইট?"
"জি"
"তয়া আন্টি তোমার যেভাবে বিবরণ দিল,তুমি তো তার থেকেও বিউটিফুল"
শ্রিয়ন্তী হালকা অবাক দৃষ্টিতে রেহানের পাশে দেখে আছে।টেবিলের উপরে রাখা মিষ্টির ওপর চোখ পড়তেই শ্রিয়ন্তীর ল্যাবের পাকস্থলীর কথা মনে পড়ে।মুখে হাত দিয়ে উকাতে শুরু করে শ্রিয়ন্তী তার রুমের দিকে দৌড় মারে।
নাফিসা হেসে উঠে বলল,
"সুখবর?"
রেহান চিৎকার দিয়ে উঠলো,
"কিহ!!শ্রিয়ন্তী প্রেগনেন্ট!!!"
রেহান এত জোরে চিৎকার দিয়ে উঠলো যে বাসার প্রত্যেকের কানে সেটা পৌঁছালো।যে যেখানেই ছিল বের হয়ে শ্রিয়ন্তীকে খুঁজতে লাগলো।কি হয়েছে শ্রিয়ন্তীর!শ্রিয়ন্তী প্রেগনেন্ট মানে!সবাই দৌড়ে শ্রিয়ন্তীর রুমে গেল।শ্রিয়ন্তী ওয়াশরুমে অনেক জোরে জোরে উকাচ্ছে।
সবার চিল্লাচিল্লি শুনে আদর্শ তার রুম থেকে বের হয়। কি বলছে সবাই?শ্রিয়ন্তী কেন প্রেগনেন্ট হতে যাবে? সে তো কিছু করেনি।আদর্শ এসে শ্রিয়ন্তীর রুমের দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়ায়।
এত বড় বাসায় থাকা সব মানুষ শ্রিয়ন্তীর রুমে।সবাই ওয়াশরুমের বন্ধ দরজার দিকে দেখে আছে।ভেতরে শ্রিয়ন্তী জোরে জোরে উকাচ্ছে।রেহান এসে আদর্শের পাশে দাঁড়ালো।
শ্রিয়ন্তী তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বের হয়। অমনি রুমি বেগম শ্রিয়ন্তীকে ধরে ঝাকাতে শুরু করলেন,
"শ্রিয়ন্তী তুই প্রেগনেন্ট হলি কিভাবে!"
নয়ন সাহেব বললেন,
"কে সেই ব্যক্তি! যে আমার মেয়েকে প্রেগনেন্ট বানিয়েছে!"
শিশির বলল,
"আপু অন্তত বিয়েটা তো আগে করে নিতে!"
মিলি বলল,
"আপি তোমার পেটে বেবি আছে?"
এতো সব ব্যস্ত কন্ঠের মধ্যে আদর্শ পেছন থেকে শান্ত কন্ঠেই বলে উঠে,
"ওকে তোমরা কিছু বলতে তো দাও।দেখো কেমন অবাক হয়ে তোমাদের পাশে দেখে আছে"
সবাই আদর্শের কথা শুনে চুপ হয়ে শ্রিয়ন্তীর পাশে দেখে আছে।
শ্রিয়ন্তী জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো,
"তোমাদেরকে কে বলেছে আমি প্রেগনেন্ট?"
সবাই একে অপরের মুখে মুখে দেখছে। পেছন থেকে রেহান হাত তুলে কাচুমাচু সুরে বলল,
"আমি বলেছি"
এতক্ষণ থেকে শান্ত হয়ে থাকা আদর্শ এবার রেহানের উপর চোখ দিয়ে গুলি বর্ষণ করতে লাগলো।রেহানের শার্টের কলারটা চেপে ধরে বলল,
"তুই বলেছিস মানে!!কি করেছিস তুই!!!"
কাইকুই করতে লাগলো রেহান,
"আদর্শ আমার গলাটা ছাড়!আমি কিছু করিনি!আমার কথাটা তো শোন!!"
নাহিদ সাহেব এসে আদর্শের হাত থেকে রেহানের শার্টের কলারটা ছাড়িয়ে নেয়।রেহান কাশছে।আদর্শ এখনো রেহান দিকে চোখ দিয়ে গু'লি বর্ষন করছে,
" কি বলবি তাড়াতাড়ি বল!!আমি শোনার জন্য দাঁড়িয়ে আছি!!"
রেহান কাশা বন্ধ করল,
"শ্রিয়ন্তী উকাচ্ছিল।তখন নাফিসা বলে উঠে সুখবর।তাই আমি শ্রিয়ন্তীকে প্রেগনেন্ট মনে করি"
সবাই নাফিসার দিকে নজর ফেলে।নাফিসা হাত দিয়ে মুখ লুকিয়ে বলল,
"সরি"
শ্রিয়ন্তী বলল,
"তোমাদের প্রবলেম সলভ হয়েছে?তাহলে রুম থেকে একটু বের হও তোমরা।আমার খুব খারাপ লাগছে।আমি একটু শুবো"
সবাই শ্রিয়ন্তীর রুম থেকে বের হয়ে আসে।আদর্শ তয়া বেগমের পাশে এসে বলল,
"দেখেছ। বাসায় এসেই ঝামেলা শুরু করে দিয়েছে।আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম"
তয়া বেগম বললেন,
"আদর্শ। কিছুদিনের জন্য এসেছে সে।একদম কিছু বলবি না।সবসময় হাসিমুখে ওর সাথে কথা বলবি"
আদর্শ তার বত্রিশ পাটির দাঁত বের করে বলল,
"এমন করে?"
"হ্যাঁ"
"ওকে,মম"
রাত্রি এতক্ষণ পর রুম থেকে বের হলো।কান থেকে ইয়ারফোনটা খুলতে খুলতে দেখল বাসার সবাই শ্রিয়ন্তীর রুম থেকে বের হচ্ছে।নাফিসাকে জিজ্ঞেস করল রাত্রি,
"তোমরা সবাই আপুর রুমে কি করো?"
শিশির নাফিসার পাশে দাঁড়িয়ে রাত্রির দিকে দেখে বলল,
"এ-ই ভালো কাজ করেছে"
রাত্রি ভ্রু কুচকে নাফিসা ও শিশিরের দিকে দেখে আছে,
"কিছু বলবা?আপুর কিছু হয়েছে কি?"
শিশির বলল,
"আপু এখনে প্রেগনেন্ট হয়ে গিয়েছিল"
"কিহ!!"
চিৎকার দিয়ে উঠে আবারো ভ্রু কুচকালো রাত্রি,
"হয়ে গিয়েছিল মানে?"
নাফিসা হেসে উঠলো,
"রুমে চল, আমি বলছি"
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
আদর্শ হাতের ল্যাপটপটা বন্ধ করে গা চাড়া দিল।এই অফিসের বসটা তার পুরো সুযোগের সৎ ব্যবহার করছে।অফিসের কোনো কিছু হলেই,'আদর্শ প্লিজ কাজটা করে দাও'। কোন দিন যে এই বুড়ো বসটা একটা মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে এসে সাথে ২-১টা সাক্ষিও এনে আদর্শকে জুম মিটিং এ কল দিয়ে বলবে,'আদর্শ প্লিজ বিয়েটা করে দাও'।
আদর্শ ফোনে দেখলো,একটা পনেরো বাজে।কাজ যাক বুড়িগঙ্গা নদীতে।তার এখন ঘুমের প্রয়োজন।চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো আদর্শ।নিশুতি রাতে নিচ থেকে কার যেন গলার আওয়াজ আসছে।আদর্শ ভালো করে কান বাড়িয়ে শুনল।ইস,এই রেহানটা আবার এত রাতে কার মাথা চাবাচ্ছে?আদর্শ রুম থেকে বের হয়ে নিচে গেল।রেহান ডাইনিং টেবিলে বসে আছে।আর শ্রিয়ন্তী রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে তার সাথে কথা বলছে।
আদর্শের মুখটা গম্ভীর হয়ে এলো।আদর্শ রেহানের কাছে না থেমে সোজা শ্রিয়ন্তীর কাছে গিয়ে তার হাতটা টেনে ধরে রান্নাঘরে ঢুকলো,
"তুমি আজকেও খাওয়ার জন্য উঠেছ?"
শ্রিয়ন্তী কাচুমাচু মুখ নিয়ে আদর্শের পাশে দেখল,
"ক্ষুধা লাগলে কি করব?"
"সারাদিন তো কিছু খাওনা,আর রাত বারোটার পরে তোমার পেটে ইঁদুর দৌড়ায়,তাই না?"
"সারাদিন না খাওয়ার কারণ আছে। ল্যাবে কি কু কর্মাগুলো আমাদের করায়,জানেন? ওগুলো করে কার পেটে খাবার যাবে?"
"আমার মা আর চাচীরা যে এত সুন্দর খাবার বানিয়েছে ওগুলো তোমার চোখে পড়ে না?এত রাতে রান্না করতে এসেছ কেন?"
শ্রিয়ন্তী ভ্রু কুচকালো,
"রাত বারোটার পরে আবার ভাত কে খায়?এখন তো হরেক পদের রেসিপি বানিয়ে ট্রাই করার নিয়ম"
"এই নিয়ম কি তোমার মেডিকেল কলেজের?"
"না্।দিবীকা শ্রিয়ন্তীর"
আদর্শ রান্নাঘরের দরজার পাশে দেখে আবার শ্রিয়ন্তীর পাশে দেখল,
"রেহান এখানে কি করে?"
শ্রিয়ন্তী কান্নার ভঙ্গিতে বলল,
"আমি আসার পাঁচ মিনিট পর এসেছে। না আমাকে রান্না করতে দিচ্ছে, না সে ঘুমাতে যাচ্ছে"
আদর্শ একটা ফোত করে নিঃশ্বাস ছাড়লো।রান্নাঘর থেকে বের হয়ে রেহানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,
"চল, ঘুমাতে যাব"
রেহান ফোন থেকে মাথা তুলে আদর্শের পাশে দেখলো,
"ঘুমাতে যাব মানে?আমি তো শ্রিয়ন্তীর হাতের খাবার খাওয়ার জন্য বসে আছি"
"তোকে আমি কালকে রান্না করে খাওয়াবো।এখন চল"
"আদর্শ।আমেরিকায় তোর হাতের রান্না তো প্রায়ই খেতাম।এখন না হয় শ্রিয়ন্তীর হাতের রান্না খাই"
আদর্শের মন তো চাচ্ছে রেহান এর কানটা ধরে তার রুমে নিয়ে গিয়ে ছুড়ে মারুক। কিন্তু তয়া বেগম বলেছে দাঁত বের করে হাসি মুখে রেহানের সাথে কথা বলতে।আদর্শ রান্নাঘরের দিকে আগাতে লাগল,
"শ্রিয়ন্তী! চলো আমি তোমাকে হেল্প করি"
আদর্শ রান্নাঘরে ঢুকে দেখল শ্রিয়ন্তী তার পাশে হাঁ করে দেখে আছে,
"আপনি রান্না করতে পারেন?! "
"তো আমাকে কি তোমার মতো বলোদ মনে হয়?"
শ্রিয়ন্তী মুখ বাঁকা করে বলল,
"আমাকে হেল্প করতে হবে না"
"তোমাকে আবার হেল্প করবে কে?তুমি এখানে চুপ করে বসে থাকো,আমি রান্না করবো"
"কিন্তু রেহান ভাইয়া আমার হাতের রান্না খেতে চেয়েছে"
আদর্শ কুকিং ক্লথটা পড়তে পড়তে বলল,
"আমি চাইনা রেহান তোমার হাতের রান্না খেয়ে ম'রুক"
"এক্সকিউজ মি!ঐদিন না আপনিই বললেন,আমার হাতের রান্না ভালো"
"আমি অবাক হয়েছিলাম।বলিনি ভালো হয়েছিল"
"একদমই না!অতদিন আগের রান্নার কথা আপনি মনে হয় ভুলে গিয়েছেন!"
"ওসব কুখ্যাত খাবারের টেস্ট আবার ভোলা যায় নাকি?"
শ্রিয়ন্তী বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে আদর্শের কাছে এসেদাঁড়ালো,
"এরপরের বার আমি আপনাকে খাবার দিলে নির্ঘাত বি'ষ মিশিয়ে দেব!"
আদর্শ তার পাশের সেল্ফের একটু জায়গা ফাঁকা করে দিল,
"ঠিক আছে দিও।এখন চুপ করে এখানে বসে থাকো"
শ্রিয়ন্তী মুখ বাকা করে সেল্ফের উপর উঠে বসলো।একটা চামুচ মুখের কাছে নিয়ে আস্তে করে বলতে লাগলো সে,
"হুশিয়ার!মাস্টার শেফ শাহরিয়ার আদর্শ পাধাররাহে হে!"
আদর্শ শ্রিয়ন্তীর দিকে দেখে একটা শব্দহীন হাসি দিয়ে আবার পেঁয়াজ কাটায় মনোযোগ দেয়।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
আদর্শ ফ্রাইং প্যানের ফ্রাইড রাইস উল্টে-পাল্টে মিক্স করছে।
শ্রিয়ন্তীর নাকে একটা সুগন্ধ এসে লাগল,
"আমার আর ধৈর্য কুলাচ্ছে না।তাড়াতাড়ি করেন"
ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো আদর্শ,
"জি মিস শ্রি দেবী"
আদর্শ তিনটা প্লেটে ফ্রাইড রাইস ঢাললো।শ্রিয়ন্তী সেল্ফ থেকে নেমে দুটো প্লেট হাতে নিতেই আদর্শ বলে উঠলো,
"দাঁড়াও দাঁড়াও!!"
"কি হয়েছে?"
আদর্শ চিলি ফ্লেক্স এর বোতলটা হাতে নিয়ে একটা প্লেটে মন মতো চিলি ফ্লেক্স ঢেলে দিল।শ্রিয়ন্তী অবাক হয়ে বলল,
"কি করছেন এটা!"
"এটা রেহানকে দিও"
"কেন! "
"ও না তোমার হাতের রান্না খেতে চেয়েছে "
"কি দোষ করেছে ছেলেটা! "
"মহা দোষ "
আদর্শ রেহানের প্লেট আর আরেকটা প্লেট হাতে নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল।শ্রিয়ন্তীও সামনে রাখা প্লেটটা নিয়ে বেরিয়ে এলো।আদর্শ রেহানের মুখোমুখি হয়ে বসেছে।শ্রিয়ন্তী গিয়ে তাদের মাঝখানের চেয়ারে বসলো।
আদর্শ বললো,
"রেহান।দেখ খেয়ে।কেমন হয়েছে?শ্রিয়ন্তীর হাতের রান্না"
রেহান আশেপাশের পরিস্থিতি একদম অনুভব করতে পারল না।এক চামুচ রাইস তুলে মুখে দিল সে,
"হুম,ইটস ভেরি গুড"
রেহান নাক টানতে লাগলো,
"বাট আ লিটিল বিট স্পাইসি"
আদর্শ বললো,
"তাই নাকি?আমি তো খাচ্ছি।সব তো ঠিকই লাগছে।তাই না শ্রিয়ন্তী?"
শ্রিয়ন্তী আদর্শের পাশে দেখে একটা ঢোক গিলে রেহানের পাশে দেখে জোরে জোরে হ্যাঁ সূচকে মাথা নাড়াতে লাগলো।রেহান বলল,
"আই থিংক দেশের খাবার অনেকদিন পরে খাচ্ছি তো,তাই মনে হয় একটু বেশি ফ্লেভারফুল মনে হচ্ছে"
শ্রিয়ন্তী আবার একটা ঢোক গিলল।কারণ সে জানে,এটা দেশের খাবার না।এটা শাহরিয়ার আদর্শের রান্নাঘরের স্পেশাল খাবার!
"তোমরা আবার আজকে এখানে কি করছো?"
নাহিদ সাহেব প্রশ্ন সূচক চেহারা নিয়ে তিন জনের পাশে দেখছে।
আদর্শ বললো,
"আজকে তোমার ভাতিজিকে আমার হাতের রান্না খাওয়াচ্ছি"
"তোমাদের আর কাজ নেই,না? মাঝ রাতে হুতুম প্যাঁচার মতো রান্নাঘরে এসে পার্টি করো।তোমাদের এই অবস্থায় দেখে কে কোন দিন যে হার্ট অ্যাটাক করবে?"
আদর্শ বললো,
"তুমি তো করনি,তাই না?"
শ্রিয়ন্তী রেহানের দিকে দেখছে।রেহানের নাক-গাল লাল হয়ে গিয়েছে একদম।নাহিদ সাহেবের দিকে তার খেয়ালই নেই।সে মাথা নিচু করে শোশাচ্ছে,
"শ্রিয়ন্তী,খাবারটা অনেক মজা হয়েছে।কিন্তু আমার মনে হয় এখন ঘুমানো উচিত।ইটস ঠু লেট"
রেহান মাথা নিচু করে উঠে তার রুমের দিকে হাটা দিল।আদর্শ মিনমিনিয়ে বলল,
"ইয়াহ,ইটস ঠু লেট"
নাহিদ সাহেব বললেন,
"তোমরাও তাড়াতাড়ি খেয়ে ঘুমাতে যাও। কাল সকালে ওঠার প্ল্যান নেই নাকি?"
শ্রিয়ন্তী বললো,
"বড় চাচু তুমি গিয়ে শুয়ে পড়ো।আমরা খেয়ে উঠেই যাচ্ছি"
নাহিদ সাহেব একটা নিশ্বাস ছেড়ে তার রুমে চলে গেল।আদর্শ শ্রিয়ন্তীকে বলল,
"তো।আমার হাতের রান্না কেমন লাগলো?"
শ্রিয়ন্তী মুখ বাঁকা করে বলল,
"কেমন আবার লাগবে? খাবারের মতো"
আদর্শ একটা মুচকি হাসি দেয়,
"তোমার রিভিউ এর কোনো দরকার নেই।আমি জানি আমার রান্না কেমন"
শ্রিয়ন্তী একটু হেসে উঠল,
"আপনার ভবিষ্যৎ কিন্তু খারাপ আছে।এই রান্না খেয়ে বউ কিন্তু আর রান্নাঘরে ঢুকবে না"
আদর্শ ঠোঁটের কোনে হাসি নিয়ে বলল,
"না ঢুকল রান্নাঘরে"
শ্রিয়ন্তী অবাক হয়ে বলল,
"এতো ভালো ছেলে যে কার ভাগ্যে জুটবে?!! "
আদর্শ মাথা নিচু করে মিনমিনিয়ে বলল,
"কোনো এক শরেয়া গাছের পে'ত্নীর ভাগ্যে"
"কিহ?!"
"কিছু না মিস শ্রি দেবি।আপনি খান"
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
সকালে রেহান নাস্তার টেবিলে এসে বসলো। সে এখনো শোশাচ্ছে।আদর্শ তয়া বেগমকে বলল,
"মা,রেহানকে এক গ্লাস দুধ দাও তো।ওটা এখন তার খুবই প্রয়োজন"
✿এই পর্বের নৈতিক বাক্য:
ইঞ্জিনিয়ারদেরও হাতের রান্না ভালো হয়,এবং তাদের মতো স্পাইসি-ও।
#চলবে