ফন্ট সাইজ:
থিম:
রুশ রহস্য (প্রথম পরিচ্ছেদ)

৩৭তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া তিন্তি

#রুশ_রহস্য

#কলমে_সাদিয়া_তিন্তি

গল্পের ধরন: বন্ধুত্ব, প্রেম, রহস্য, গুপ্তধন, পারিবারিক ড্রামা।

বিঃদ্রঃ বিনা অনুমতিতে কপি করবেন না।

পর্ব- ৩৭

মেঘ ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে কি না, তা আমি জানি না। তবে আজ কলেজের করিডোরে মাকে দেখে মুহূর্তেই মনে পড়ল। মেঘ বলেছিল, মা আসবে। হয়তো মেঘ সত্যিই জানত, নয়তো সে কেবল আন্দাজ করেছিল। কিন্তু কেন যেন আজ মাকে দেখে আমার মধ্যে এক অদ্ভুত সংকোচের ঢেউ উঠল। এমন নয় যে মা প্রথমবার এলেন, তবু কেন যেন মনে হলো, আমি আড়াল খুঁজি, নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে চাই। এ কি সংকোচ না কি ভয়? নিজেকেই জিজ্ঞেস করলাম, অথচ কোনো উত্তর পেলাম না।

আর আমার কপাল ও এমন ঠিক তখনই মা সামনে এসে দাঁড়ালেন যখন আমি ইমরানের সাথে খুব হেসে হেসে মজা নিচ্ছিলাম। মা এগিয়ে এসে আমাদের সামনে বরাবর দাঁড়াতেই আমার আত্মায় পানি শুকিয়ে এলো। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই মা মিষ্টি হেসে বললো, “রুশা ক্লাস শেষ তোমার?”

আমি ভীতু হয়ে বললাম, “আরো দুটো ক্লাস আছে। কিন্তু তুমি এই সময়ে এখানে কি করছো?”

মা আমার প্রশ্ন জেনে বুঝে এড়িয়ে গেলেন। ইমরানের দিকে তাকিয়ে বললেন, “এটা কে, তোমার বন্ধু?”

আমি ভয়ে আরো চুপসে গেলাম, খুব সংকুচিত গলা নিয়ে বললাম, “ আমার ক্লাস মেট।“

মা খুব স্বাভাবিক নিলেন। ইমরানের মাথায় গতদিনের আঘাতের ব্যান্ডিস দেখে খুব চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার মাথায় কি হয়েছে বাবা।“

মা যে কারো সাথে এমন মিষ্টি করে কথা বললো তাও আবার আমার কলেজের, এটা দেখেই আমার চোখ কপালে উঠার দায়। ইমরান খুব সাধারণ ভাবে বললো, “একটা ছোট এক্সিডেন্ট হয়েছিল। এখন ঠিক আছি।“

মা খুব মিষ্টি করে বললো, “সাবধানে থাকবে তো। তোমরা আজকালকার ছেলেমেয়েরা খুব বেপরোয়া।“

মায়ের ব্যবহার আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। ইমরানও যে বেশ অপ্রস্তুত হয়ে গেছে তা পরিষ্কার। ওরা যেমন আমার মায়ের ভয়ংকর রুপ সম্পর্কে শুনেছে আর আজ যা দেখছে তা তো মোটেও এক না। আমি নিজেই মাকে চিনতে পারছি না। আর ওরা কি চিনবে।

আমার এই ভাবনার মাঝেই মা বললো, “রুশা, ক্যান্টিনে কি এখনো সেই গুড়ের চা আর ছোটু মামার শর্মা পাওয়া যায়? আমাদের সময় এটা বেশ ফেমাস ছিল।“

আমি একটু জড়তা নিয়েই বললাম, “হ্যাঁ পাওয়া যায়।“

মা নিশ্চিত একগাল হাসলেন। আমি মায়ের নেকাবের মাঝে মায়ের হাসিটা দেখতে পেলাম না। মা বরাবরই বেশ পর্দাশীল। বোরকা, নেকাব এগুলো ছাড়া বাইরে বের হতে কখনোই মাকে দেখিনি আমি।

মা বললেন, “চলো রুশা আজ তোমাকে আমি গুড়ের চা আর শর্মা খাওয়াই।“

ইমরানের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমিও চলো বাবা।“

আমি আর ইমরান দুজন দুজনের দিকে তাকাচ্ছিলাম শুধু। এর মাঝেই রাফি এসে হাজির। ওরা অবশ্যই কেউই আমার মাকে কাছ থেকে দেখে নি, আর কথাও বলেনি মায়ের সাথে। এই একবছরের কলেজ জীবনে মা আমাকে প্রায় রোজ দেয়া নেয়া করে তারপরও ওদের সাথে মা কখনোই কথা বলেনি। এমনকি সেই পিকনিকের সময় যখন নামিয়ে দিতে এসেছিলেন তখনো ও না। কিন্তু আজ ঠিক কি হলো?

রাফি এসেই আমার সাথে কিছু বলতে যাবে তবে মাকে দেখে থেমে গেলো। ও কিছু বলার আগেই আমি পরিচয় করিয়ে দিলাম। মা তার সেই একই হাস্যোজ্জ্বলতা রেখে বললো, “রাফি বাবা তুমি ও চলো ক্যান্টিনে।“

আমরা ক্যান্টিনে একটা টেবিলে চার জন চার কোনে। তবে কারো মুখে কোন শব্দ নেই। ইমরান, রাফি আর আমি তিনজন গরম চায়ের ধোঁয়া ওঠা দেখছি আর চুপ করে বসে আছি। মা ও যেনো আমাদেরই পর্যবেক্ষণ করছেন। মা এবার হেসে বললেন, “তোমরা কি কেঊ কারো সাথে কথা বলো না?”

রাফি এবারো মুখ খুলবে তার আগেই ইমরান বললো, “না। রুশা কারো সাথে মিশতে পছন্দ করে না তেমন।“

মায়ের যেন খুব অপছন্দ হলো কথাটা। তিনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “এটা ঠিক না রুশা।“

আমি চুপচাপ আড়ষ্টতা নিয়েই বসে রইলাম। এরপর ক্লাসের সময় এসে গেলো। মা খুব স্বাভাবিক ভাবেই চলে গেলেন। শুধু মিষ্টি হেসে বলে গেলেন মন দিয়ে ক্লাস করো। আমি অফিস শেষে এসে নিয়ে যাবো।

আমার জন্য এ বিষয়টা একদম স্বাভাবিক নয়। আর না ইমরান এ বিষয়টা স্বাভাবিক নিয়েছে। মা- যে কলেজে আসবেন এটা মেঘ বলেছিলেন। তবে মা এতো শান্ত?

দিনটা তারপরও কেমন করে যেন কেটে গেল। মেঘ আর অরূপের লাইমাইতে যাওয়া, মায়ের কলেজে আসা, মায়ের ইমরানের সঙ্গে কথা বলা—সব যেন বিচ্ছিন্ন ঘটনা, অথচ কোথাও যেন একটা অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা। সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার, মা কিছু বলেননি। কোনো অভিযোগ নয়, কোনো ধমক নয়। বরং ইমরানের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেছেন, এমনভাবে, যেন তিনি খুশি। অথচ এতদিন তো মা আমার বন্ধুত্ব নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না! স্কুল-কলেজে কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হলেই মায়ের কড়া দৃষ্টি পড়ত, কঠিন কথা শুনতে হতো, আর সেই ভয়েই আমার বন্ধুরা আমার থেকে সরে যেত। কিন্তু আজ?

তবে এসবের পর আর মেঘের সাথেও কথা হয়নি। কলেজে তো ফেরেনি আর। ক্লাস শেষে আজ এক মূহুর্ত দাঁড়ানোর সময় ও পাইনি। সবচেয়ে রহস্যময়, লালমাই গিয়ে কী ঘটল, সেটা জানা হলো না। ফোন করে মেঘকে জিজ্ঞেস করব সেটাও সম্ভব নয়, দিনের বেলায় এভাবে ফোন বের করা বিপদের আলামত।

আজ আমার চারপাশে শুধু প্রশ্নের পাহাড়, কোনোটারই উত্তর নেই। অথচ মনে হচ্ছে, এই উত্তরহীন প্রশ্নগুলোই আমার মাথার আকাশে ট্রাফিক জ্যাম তৈরি করেছে। যেখানে চিন্তাগুলো আটকে আছে, পথ খুঁজে পাচ্ছে না।

বাইরের আচমকা বৃষ্টি যেন আমার অসমাপ্ত অনুভূতিগুলোর সমাপ্তি ঘটাতে চায়, তবে ঠান্ডা বাতাস আর অঝোর ধারা আমার ভেতরের ঝড়কে থামাতে ব্যর্থ। এই শহরকে ছাড়তে চাই না, এটাই সত্যি। তার জন্য যদি কিছু করতে হয়, তা সব আমি করো।

শহরের আলো ঝাপসা হয়ে আসছে, বৃষ্টি যেন ধুয়ে দিচ্ছে পুরোনো দিনের জটিলতা। কিন্তু আমার মনে জমে থাকা প্রশ্নগুলোর জট এখনো খুলছে না। আমি যতো সামলাতে চাইছি ততো সব গুলিয়ে যাচ্ছে।

আজকের সকালটা আমার একদমই পছন্দ হচ্ছে না। এই রৌদ্দুরের রঙ ও যেন খুব ফেকাসে। সত্যি বলতে মনের মাঝে শান্তি না থাকলে হয়তো সব এমন অর্থহীন, ব্যার্থ মনে হয়। এই শহরের মায়া বারবার ভীত করছে আমায়, তবে এই মায়ার রাজা বলা চলে মেঘ।

ঘড়িতে সকাল ৮ বেজে ৩৫ মিনিট, আমাকে কলেজের জন্য তৈরি হতে হবে। কাল তো মেঘের সাথে কথাই হলো না, যে একটা বৃষ্টি গেল। এই বৃষ্টিটা যেন সব আবর্জনা নিজের মাঝে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। শুধু আমার সমস্যা গুলোই নিলো না।

মা দরজার কড়া নেরে বললো, "রুশা, মামনি ওঠো কলেজ যেতে হবে।"

আমি ও রোজকারের মতো বললাম, "জ্বি মা উঠে গেছি।"

সব কি বদলে গেছে? নাকি বদলাচ্ছে? আজকাল কেন যেন মায়ের সাথে তেমন কথা হয় না। কলেজে আসার সম্পূর্ণ রাস্তায় দুজনেই এক গভীর নিরবতা পালন করছিলাম।

আমার কেন যেন এখন সব কিছুই দুঃখ বিলাস মনে হয়। খুশি থাকা মানেই কলেজের লাইব্রেরী না হয় ক্যান্টিন। কিন্তু ক্যান্টিনে ও আজ থমথমে পরিবেশ, যেন সবাই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর আজ সব থেকে শেষে আমিই পৌঁছালাম। সবাই আমার অপেক্ষায় বসে ছিল।

আমি পৌঁছাতেই প্রীয়তা জিজ্ঞেস করলো, "তোর এতো দেরি কেন?"

আমি চেয়ার টেনে বসে বললাম, "মায়ের কিছু কাজ ছিল সেটা শেষ করতেই দেরি হয়ে গেছে।"

মেঘ সোজা আমার চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, "তোমার ফোন বন্ধ কেন?"

আমি থমকে গিয়ে বললাম, "কাল রাতে বৃষ্টির জন্য ইলেকট্রিসিটি ছিল না, তাই চার্জ করতে পারি নি।

তোমাদের কালকের লালমাই ভ্রমণ কেমন ছিলো?"

প্রীয়তা বললো, "হ্যাঁ মেঘ আমিও জানতে চাইছিলাম। ভাইয়া ক্যাম্প থেকে বাসায় ফিরবে সামনে সপ্তাহ। ও থাকলে তো ওর থেকেই শুনতাম।"

মেঘ বেশ একটা প্রাপ্তির হাসি দিয়ে বললো, "লালমাই তে যাওয়াটা সার্থক হয়েছে। ওখানে রুয়ানাই নামের উপজাতিরা থাকে। যতটা জানা যায় ওরা রাশিয়ান বংশোদ্ভূত আর ওরা ইয়ালিক ধর্ম অনুসারী।"

আমি বললাম, "ইয়ালিক! এটা কি ধর্ম?"

মেঘ বললো, "এটা অনেকটা সনাতন ধর্মের মতো, তবে পার্থক্য আছে। এটা খুবই পুরাতন একটা ধর্ম, অনুমান করা হয় ইয়ালিক ধর্মের সূচনা করেন ইয়াংরি দিফিন। যাকে ইয়ালিকরা গুরু পিতা বলে। তিনি ছিলেন একজন সাধক।"

ইমরান বললো, "আচ্ছা ওনার কথা বাদদে ধর্মের কথা বল।"

মেঘ বললো, "এই ধর্ম অনুসারী ওরা কোন হাতে তৈরি মূর্তির পূজা দেয় না; ওরা আসল অখন্ড পাথরের পূজা দেয় এবং ওদের মতে এটি ঈশ্বরের রুপ। পাথরে তৈরি প্রাকৃতিক নানা রুপকে ওরা ঈশ্বরের রুপ বলে। এমনকি চাঁদ, সূর্য আর গাছের পূজা ও করে ওরা। মনে আছে নীল পাহাড়ের যখন আমরা সফরে গিয়েছিলাম তখন স্যার বলেছিলেন।"

ইমরান বিরক্তি নিয়ে বললো, "এতো কিছু মনে নেই। তোরা আসলে জানতে কি পেরেছিস এটা বল।"

মেঘ হেসে বললো, "ইমরান জানতে তো অনেক কিছু পেয়েছি। তবে সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে লালমাইতে মাঝে মাঝেই একদল গবেষকরা যায় আর ওখানকার মাটি নিয়ে নানা গবেষণা চালায়। যতটুকু বুঝলাম ওখানকার মানুষ একদমই হিংস্র নয়। শুধুমাত্র কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ওদের কে হিংস্রের একটা মুখোশ পরিয়ে রেখেছে, যাতে সাধারণ মানুষ লাইমাইতে না যায়। এখন আমাদের এটা জানতে হবে যে আসলে গবেষকরা কি গবেষণা করতে যায়। আর এই গবেষকরাই বা কারা।"

অরুপ বললো, "গবেষকদের পাওয়া গেলে, কি নিয়ে গবেষণা চলছে এটা জানা যাবে।"

ইমরান বেশ অবাক হয়ে বললো, "মাটি নিয়ে গবেষণা! মেঘ, সারা সানন্দপুরে কেবলমাত্র আমাদের কলেজের গবেষণাগারেই মাটি নিয়ে গবেষণা করা হয়। তার মানে আমাদের কলেজের গবেষণারগার থেকেই গভেষক দল যাওয়ার কথা।"

মেঘ কিছু একটা ভাবতে ভাবতে বললো, "যদি এটি না হয় তাহলে একটা অবৈধ গবেষক দল। তবে তারা কে বা কারা?"

প্রীয়তা অবাক হয়ে বললো, "অবৈধ কেনো হবে! হতে পারে অন্য জেলার কোন গভেষক দল।"

মেঘ মাথা নাড়িয়ে বললো, "না, এটার অনুমতি নেই। কারন ওটা বর্ডার এলাকা। আর এই সব পাহাড়ে সরকার কর্তৃক অনুমোদন ছাড়া যে কোন গবেষণা চালানো অবৈধ।"

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "তাহলে কি আমাদেরটাও অবৈধ হবে!"

মেঘ বললো, "না আমাদেরটা হবে না। তার একটা কারণ হচ্ছে আমি ওখানে গিয়ে মিথ্যে পরিচয় দেবো।"

আমি অবাক হলাম বেশ। মিথ্যা পরিচয়? "কেমন?"

মেঘ বললো, "ব্রিটিশ ভূতত্ত্ব বিজ্ঞান গবেষণাগার থেকে এসেছি এটাই বলতে হবে। সোজাকথা সরকারি লোক, কিন্তু তার আগে এটা কনফার্ম হতে হবে যে আসলে এখন গবেষণা করছে কারা।"

ইমরান মেঘের কথার উওরে বললো, "মেঘ ভুলে যাস না তার আগে আরও কিছু কাজ আছে।"

মেঘ বললো, "আজ যা কাজ আছে সব তোর। ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত সব ফাইল গুলো দেখতে হবে। আচ্ছা শোন, কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের ফাইল আর গবেষকদের ফাইল এক জায়গায় থাকে কি?"

ইমরান বললো, "না। গবেষণাগারের পেছনের রেকর্ড রুমে থাকে গবেষকদের ফাইল গুলো।

দুটোই দেখতে হবে?"

মেঘ কিছু একটা ভাবতে ভাবতে বললো, "হুম দুটোই। ১৯৯৪ এর টা দেখবি ছাএ ছাত্রীদের আর ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত দেখবি গবেষকদের। তুই খুব ভালো করে জানিস কাদের দেখতে হবে।"

ইমরান উঠে দাঁড়িয়ে বললো, "ঠিক আছে অরুপ চল আমার সাথে।"

রুবাই বললো, "আমি ও যাব।"

মেঘ বললো, "ওকে ও নিয়ে যা।"

অরুপ মেঘকে বললো, "তুই ও চল।"

মেঘ খুব দৃঢ় কন্ঠে বললো, "না আমি রুশাকে নিয়ে একটু বাইরে যাব, তোরা প্রীয়তাকেও নিয়ে যা। আমাকে যে কোনো সমস্যায় কল করিস।"

ইমরান অনেক প্রশ্ন চোখে নিয়ে বললো, "সেটা করা যাবে। তোর আসতে কতক্ষণ লাগবে?"

মেঘ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, "দু'ঘন্টা।"

সবাই উঠতে যাবে ঠিক তখনই রুবাই বলে উঠলো, “আরে দাঁড়াও দাঁড়াও। রুশা তোর বাসার ঘটনা বল? তোর মা কি বলেছিল বাসায় গিয়ে?”

শ্রোতা মহল সবাই মনোযোগী হলো। কাল ক্লাসে সবাই ছিল। তবে প্রীয়তা আর রুবাই মাকে দেখে সামনে আর আগায়নি। রাফি বেচারা খেয়াল না করেই চলে এসেছিল।

আমি খুব স্বাভাবিক ভাবে বললাম, “মা কাল কিছুই বলে নি। সব কিছু একদম স্বাভাবিক ছিল।“

মেঘ জিজ্ঞেস করলো, “ইমরান রাফির বিষয়েও কিছু বলে নি?”

আমি বললাম, “কিছুই না। মা ঠিক তেমন স্বাভাবিক যেন কিছুই হয়নি।“

প্রীয়তা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বললো, “আহারে কাল কি মিসটা করলাম। আমিও গুড়ের চা আর শর্মাটা খেতাম!”

যেকোনো সিযিয়াস মুহুর্ত বা এমন কোনো সময় যেখানে সবাই কিছু নিয়ে চিন্তিত, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রীয়তার এমন কিছু বলতেই হবে যা আসলেও অপ্রাসঙ্গিক। আর এটা প্রীয়তার সব থেকে সুন্দর বদ অভ্যাস। এটাতে সাময়িক বিরক্তি এলেও সবার কঠিনতা একটু কমে।

প্রীয়তার এই বোকা বোকা খাওয়ার আফসোস শুনে অরুপ কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইমরান বললো, “থাক বোন। তোর আফসোস করতে হবে না আমি তোকে খাওয়াচ্ছি। ইমরানের কথায় প্রীয়তা যেন ছোট শিশুর মতো খুশি হলো। যেন জীবনেও সে গুড়ের চা আর শর্মা খায় নি।

সবাই হাসলো। অরুপ একগাল শয়তানি হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “প্রীয়তা একটা সত্যি কথা বলো। এই যে তোমার খাবার দেখলেই মনে চায় একটু খেতে। এই খাবার গুলো আসলে কোথায় যায়? মানে শরীরে তো লাগে না। তাহলে যাচ্ছে কোথায়?”

প্রীয়তা রেগে বললো, “তুমি কি আমাকে খাবার খোঁটা দিচ্ছো?”

অরুপ বললো, “না না না। আমি তো তোমার শরীরের প্রশংসা করছিলাম।“

অবস্থা বেগতিক দেখে ইমরান চেঁচিয়ে বললো, “এই চুপ কর দু’জনই। তোদের জীবনে এই ঝগড়া করা ছাড়া আর গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই?” অরুপ কিছু বলতে যাবে ওকে থামিয়ে ইমরান আবার বললো, “চুপ। কোন কথা না যা চা গুলো আন আগে। আমার শরীর খারাপ আমি আনতে পারবো না।“

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলো। আজ অকারনেই আমি সবাইকে পর্যবেক্ষণ করলাম অনেক সময়। এদের ছাড়া আমি থাকবো কিভাবে?

এই দুনিয়াটা কতোটা অদ্ভুত তাই না? কিছু অপরিচিত মানুষ যাদের সাথে আমাাদের কোন পরিচয় কিংবা জানা শোনা থাকে না। তারাই জীবনে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জীবনের এমন একটা অংশ হয়ে যায় যাদের ছাড়া চিন্তা করতে পর্যন্ত কষ্ট হয়।

হাসি মজা আড্ডা বেশ কিছু সময় চললো। আর এর সমাপ্তির আগেই মেঘ আমার দিকে তাকিয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো, “রুশা আমাদের যেতে হবে।“

মেঘের কথায় উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষ কেমন মিটি মিটি হেসে উঠলো। হুট করেই কেমন এক আরষ্টতা আমাকে ঘিরে ধরল‌। আমার গাল লাল হয়ে উঠলো। আমি আর কারো মুখের দিকে না তাকিয়ে চুপচাপ মেঘের সাথে উঠে বেরিয়ে এলাম।

চলবে........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন