ফন্ট সাইজ:
থিম:
রুশ রহস্য (প্রথম পরিচ্ছেদ)

৪৫তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া তিন্তি

#রুশ_রহস্য

#সাদিয়া_তিন্তি

গল্পের ধরন: বন্ধুত্ব, প্রেম, রহস্য, গুপ্তধন, পারিবারিক ড্রামা।

বিঃদ্রঃ বিনা অনুমতিতে কেউ কপি করবেন না।

পর্ব- ৪৬

রেড মুন ক্যাফে।

এই ক্যাফেটা আমার কাছে শুধুই একটা কফি হাউজ নয়। এটা একটা সময়ের কথা বলে, একটা অনুভবের, একটা শুরুর। এখানেই প্রথমবার আমি আর মেঘ মুখোমুখি বসেছিলাম। সেই দিনটার প্রতিটা মুহূর্ত যেন আজও রঙিন হয়ে চোখে আছে। এতো রঙ কোথায় গেলো? চায়ের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে থাকা সেই হাসি, ভয়ে সিটিয়ে যাওয়া আর আমাদের প্রথম "হ্যালো"।

কিন্তু আজ...

আজ যেন সবকিছু অন্যরকম।

আজ এই ক্যাফেতে বসে আমি ঠিক সেই মানুষটা নই। আজ আমি ক্লান্ত, বিভ্রান্ত।

কাল রাতে যা ঘটেছে, তার ছায়া এখনো আমার চারপাশে ঘুরছ। আমি মনে করতে চাইছি না সেসব কিছুই। আমি জানি, আমি নিজের সব সীমা অতিক্রম করেছি, হয়তো নিজের সিদ্ধান্তে ভেসে গিয়েছি। তবু আজ, কঠিন পরীক্ষা।

ক্যাফের দেয়ালগুলো আজও সেই পুরনো গান চালিয়ে রাখে, সেই চেনা সুবাস, সেই কর্কশ কাঠের চেয়ারের শব্দ। তবু আজ এদের মাঝখানে যেন একটা শূন্যতা। একটা অদৃশ্য ভার যেন বুকের উপর চেপে বসে আছে।

মেঘ, আমার সামনে বসে গভীর মনোযোগে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। আচ্ছা, এই যুদ্ধটা তো আমার একান্ত ব্যক্তিগত ছিল! কি আরামে এই মানুষগুলো আমার যুদ্ধটাকে নিজের করে নিয়েছে। আমি আনমনে হাসলাম। জীবন হয়তো এটাই, হুট করেই কে কার আপন হয়ে যায়, বলা যায় না।

আমার অন্যমনস্কতা টের পেয়ে মেঘ জিজ্ঞেস করলো, “ঠিক আছো তুমি?”

আমি হঠাৎ চমকে উঠি, যেন নিজের ভাবনার গভীর থেকে উঠে এলাম।

কিছু একটা বলতেই হবে। আমি একটা লোক দেখানো হাসি ঠোঁটে টেনে বললাম,

“হ্যাঁ। একদম ঠিক আছি।”

তবে সেই হাসির আড়ালে আমি জানি, কিছুই ঠিক নেই।

আজকের দিনটা কেমন যাবে, আমি জানি না।

এখান থেকে আমরা কোথায় যাব, কে কি দায়িত্ব নেবে, কিছুই ঠিক করা নেই।

তবে একটা জিনিস আমি ঠিক করেই এসেছি। আজকের দিনের শেষটা আমি করবো, বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করে।

আজকের এই অস্থিরতার মাঝেও আমি আশার একটা ধুলো মাখা রশিতে ঝুলে আছি।

হয়তো দিনটা শেষ হবে চোখের জলে, হয়তো কাঁপা হাসিতে।

হয়তো বাবাকে একটা চিঠি লিখবো, যেটা তিনি কোনদিনও পড়তে পাড়বেন না, হয়তো কাউকে চুপচাপ জড়িয়ে ধরবো।

তবে দিনটা শেষ হবে কোনো না কোনোভাবে।

আর আমি চাই, সেটার মধ্যে যেন অন্তত একটা পূর্ণতার ছোঁয়া থাকে।

একটা সমাপ্তির স্বস্তি।

একটা গল্প শেষ করার সাহস।

মেঘ কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল। ওর চোখে তখন অদ্ভুত এক তীব্রতা, ঠোঁটের কোণে জমে থাকা শব্দ যেন ধীরে ধীরে তীক্ষ্ণ হয়ে উঠছিল। তারপর হঠাৎ এক নিঃশ্বাসে বলে উঠল,

“আমাদের প্ল্যানিং টাইম শেষ। এখন আর কাগজে-কলমে আঁকা মানচিত্র দিয়ে চলবে না, যা করার মাঠে নেমেই করতে হবে। আজ শিলাবদল উৎসবের শেষ দিন। আজ ছাড়া আর কোনো সুযোগ নেই। এই সুযোগ হাতছাড়া হলে, আমরা কখনোই আর মন্দিরে ঢুকতে পারবো না।”

ক্যাফের বাতাস হঠাৎ থমকে গেল, যেন কথাগুলো শুধু শব্দ নয়, বরং সময়ের একটা গম্ভীর শঙ্খনাদ।

মেঘ কথার ছন্দে একপলক থেমে নিল, যেন আমাদের চোখে চোখ রেখে পরবর্তী কথাগুলো প্রবেশ করাতে চায় হৃদয়ের গভীরে।

“মন্দিরে তিনটি দরজা।

প্রথম সদর দরজা। ওটাই প্রধান প্রবেশপথ। তবে এখন সেখানে দেবতার বিশেষ আসন স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ঢোকা নিষেধ।

দ্বিতীয় দরজা সোজা যায় সেবায়েতদের আশ্রম দিয়ে, খুব রিস্কি।

তৃতীয় দরজা, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মন্দিরের একদম পেছনের দিকে, একটা জঙ্গল ঘেরা সংকীর্ণ পথের শেষে, পরিত্যক্ত মনে হলেও এটা আমাদের একমাত্র প্রবেশপথ।”

প্রীয়তা জানলার পাশে দাঁড়িয়ে চিন্তিত কণ্ঠে বলল,

“কিন্তু ওখানে তো প্রচণ্ড ভিড় থাকবে আজ। উৎসবের শেষ দিন বলে কথা! নিরাপত্তা তো চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকবে, বিশেষ করে মন্দিরের মূল অংশে কাউকে ঢুকতে দেবে না।”

মেঘ শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় বলল, “এই ব্যাপারে সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। প্রীতম ভাইকে জানানো হয়েছে। ওর ফোর্স থাকবে বাইরে, আমাদের আড়াল দেওয়ার জন্য। আর আমি আর অরুপ আগেই সেখানে গিয়েছিলাম ফটোগ্রাফার সেজে। এবারও সেই পরিচয়েই যাবো।

তুমি আর রুশা যাবে প্রীতম ভাইয়ের রেফারেন্সে।

রুবাই আর ইমরান তোমরা যাবে উপজাতিদের ছদ্মবেশে।

আমরা সবাই একেকটা ভিন্ন চরিত্রে ঢুকবো, কিন্তু লক্ষ্য হবে একটাই মন্দিরের ভেতরকার মূল চেম্বারে পৌঁছানো।”

এক মুহূর্তের নিস্তব্ধতার পর আমি ধীরে ধীরে বললাম, “কিন্তু, একটা ব্যাপার এখনো পরিষ্কার নয়... কী এমন আছে ওদের সেই মন্দিরে, যা এত সিকিউরিটির কারণ?”

মেঘ এবার একটু নিচু গলায় বলল, যেন শব্দগুলো কানে নয়, সরাসরি গায়ে গিয়ে লাগে, “আদিবাসী ‘রুয়ানাই’ সম্প্রদায় তাদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত।

এই মন্দিরটা শুধু তাদের ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বরং একটা লুকানো ইতিহাসের ধ্বংসাবশেষ। এমন সব প্রাচীন কারুকাজ, এমন জ্যামিতিক চিহ্ন, এমন রহস্যময় খোদাই, যেগুলো পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই আছে।

আর সেই কারণেই ওটা শুধু রুয়ানাইদের নয়, আততায়ীদেরও নজরে পড়েছে। কিছু শক্তিধর বাহিনী, যারা পাহাড় দখলের ষড়যন্ত্র করছে, তারাও এই সুযোগে ওখানে হামলা চালাতে পারে।”

ইমরান ঠোঁট কামড়ে বলল, “আর ভূমি বিজ্ঞানীদের সেই দল? তাদের তো চোখে শকুনের চাহনি। তারা যা খুঁজছে তা কোনো সাধারণ বস্তু নয়। ওরাও রুশকেই খুঁজছে, এটাই এখন প্রায় নিশ্চিত।”

আমি অবাক হয়ে তাকালাম ওর দিকে। “রুশ? কিন্তু ওরা কেন রুশকে খুঁজবে? তারা কারা?”

মেঘের চোখে তখন অদ্ভুত এক গম্ভীরতা। “আমরা ঠিক জানি না তারা কে। তবে এটা নিশ্চিত রুশ ওদের জন্য কিছু বিশেষ। হয়তো রুশ সম্পর্কে জানে এমন কিছু, যা বাইরে আসলে তাদের বিপদে ফেলতে পারে। অথবা অর্থের লোভ। রুশ কোন সাধারণ পাথর তো নয়!

আর আমরা সেই মাঝের সেতু।

আজকের রাত হয়তো অনেক কিছু বদলে দেবে। শুধু আমাদের নয়, এই অঞ্চলের ইতিহাসও।”

ওর ঠান্ডা গলায় থাকা আগুন টের পাওয়া যাচ্ছিল স্পষ্টভাবে।

আমরা সবাই চুপচাপ। কেউ আর কিছু বলছে না।

মেঘ শেষ কথাগুলো বলল, যেন নেতৃত্ব দেওয়া সৈনিক।

“ইমরান, তুই রুবাইকে নিয়ে প্রস্তুত হয়ে নে। ১২টার আগে ঠিক পৌঁছে যেতে হবে।

আমি ওদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ছি। সামনে যা আসবে, সেভাবেই সামলাবো।মনে আছে তো!

আজ আমাদের পরীক্ষা, আজ আমাদের গল্পের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ে প্রবেশ করতে হবে... আলো খোঁজার আশায়।”

ইমরান কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, “ঠিক সময়ে পৌঁছে যাবো। সমস্যা নেই।”

বাতাস যেন আরো গাঢ় হয়ে উঠছিল, যেন কেউ নিঃশব্দে বলে যাচ্ছিল,

“এই উৎসব শুধু শেষ নয়। শুরু একটা বিপ্লবের।”

আমরা আর এক মুহূর্তও দেরি না করে রওনা দিলাম লালমাই পাহাড়ের দিকে, গাড়ির জানালা দিয়ে সূর্যের আলো ঝলমল করতে করতে আমাদের চোখের সামনে দিয়ে পিছিয়ে পড়ছিলো পরিচিত পথের সব ধূলিধূসর দৃশ্য। যেন শহর নামক এক ক্লান্ত, ক্লান্তিকর জীবনকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলেছি এক রহস্যময় অভিযানের দিকে। চারপাশের প্রকৃতি ক্রমেই বদলে যাচ্ছিলো। গাছপালা ঘন হয়ে উঠছে, বাতাসে হঠাৎ একটা কাঁচা মাটির গন্ধ, দূরে পাহাড়ের চূড়া মেঘের চাদরে ঢাকা, সব কিছুই যেন আমাদের ডেকে বলছে, “স্বাগত, অন্য এক জগতে।”

লালমাইয়ে পৌঁছে মনে হলো আমরা যেন একটা চিত্রকল্পের ভেতর পা রেখেছি। এখানকার মানুষের জীবন অনেক সরল, সহজ আর একে অন্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। এই নির্জন শান্ত পরিবেশে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারলাম। আমাদের শহুরে জীবনের কোলাহল, অবিরাম দৌড়ঝাঁপ আর যান্ত্রিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বাইরে সত্যিকারের জীবনটা অনেকটা এরকমই হওয়া উচিত ছিলো। প্রকৃতি যেন এখানে নিজের রঙে নিজেকে আঁকতে পেরেছে, কারো কোনো বাধা ছাড়াই।

প্রকৃতি এখানে যেন এক নিঃশব্দ জাদুকরের মতো। সবকিছু নিজস্ব ছন্দে, নিজস্ব রঙে সাজানো। পাহাড়ের ঢালে ঢালে লতা-গুল্মের দোল, বাতাসে শুকনো পাতার খসখস শব্দ সব মিলিয়ে এক মোহনীয় পরিবেশ। মনে হচ্ছিল, একটা ছায়াছবির মধ্যে ঢুকে পড়েছি, যার প্রতিটি দৃশ্য আমাদের জন্যই তৈরি।

গাড়িতে বসে মেঘ চোখ রেখেছিল জানালার বাইরের দিকে, কিন্তু তার কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। হঠাৎ মুখ ঘুরিয়ে বলল,

“প্রীয়তা, তোমরা সোজা প্রীতম ভাইয়ের কাছে যাবে। উনি তোমাদের মন্দিরের পেছন দিকে নিয়ে যাবেন। রুশা, তুমি মুখটা ভালো করে ঢেকে রাখবে—এখানে যে কেউ আমাদের ফলো করতে পারে।”

আমরা সবাই একটুকুও প্রশ্ন না করে সম্মতি জানালাম। এ মুহূর্তে আস্থা, সাহস আর নিরবতা এই তিনটাই ছিলো আমাদের প্রধান অস্ত্র।

গাড়ি থেকে নামতেই আমাদের চারপাশে যেন এক জীবন্ত উৎসবের ঢেউ এসে পড়ল। দুপুরের কড়া রোদে মন্দির চত্বর উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। শঙ্খের ধ্বনি, ঢাকের বাজনা, মানুষের গলার জপ সব মিলিয়ে চারপাশ যেন এক পবিত্র কুয়াশায় আবৃত। মন্দিরের বাইরে অসংখ্য মানুষ, তাদের চোখে ধর্মীয় উন্মাদনা। এই দৃশ্য আমি শুধু টিভির পর্দায় দেখেছি, কিন্তু আজ নিজ চোখে দেখে বুঝলাম এই শহুরে কোলাহল থেকে অনেক দূরে, পাহাড়ের পাদদেশে অন্য এক প্রাণ, অন্য এক বিশ্বাসের রাজত্ব।

তবে আমাদের কাছে এই উৎসবের রঙিনতা ছায়ার মতো। আমরা জানি, এর পেছনে লুকিয়ে আছে অজানা রহস্য, বিপদ, আর এক অদ্ভুত আকর্ষণ ‘রুশ’।

আমি আর প্রীয়তা এগিয়ে চললাম প্রীতম ভাইয়ের উদ্দেশ্যে। তার চোখে ছিল সতর্কতা আর বিশ্বাসের এক অদ্ভুত মিশেল। আমাদের জন্যই ছিল তার তিক্ষ্ন প্রতিক্ষা। তিনি একবার কুশল বিনিময় করেই তার ফোর্স সহ আমাদের নিয়ে এগিয়ে চললেন। মন্দিরের পেছনের সরু পথে সবাই একে একে ছায়ার মতো মিশে গেলাম। আমাদের নিঃশব্দ পায়ের শব্দ যেন মাটিও টের পায় না। একজোড়া পাথরের সিঁড়ি ডিঙিয়ে যখন মন্দিরের পেছনে পৌঁছালাম, তখন আমাদের মনে হচ্ছিল, আমরা যেন কোনও গোপন সাম্রাজ্যের দ্বারে দাঁড়িয়ে আছি।

সেখানে আগেই পৌঁছে গিয়েছিল মেঘ আর অরূপ। দেখে কে বলবে, এরা আদতে একটা গোপন মিশনের নকল ফটোগ্রাফার! গলায় ক্যামেরা ঝুলছে, কাঁধে একটা জীর্ণ ব্যাগ, আর গলায় আইডিকার্ড ঝুলিয়ে এমন ভাব they’ve been covering royal weddings for a decade! সেই আইডিকার্ড কোথা থেকে জোগাড় করেছে সেটা ভেবেই আমার মাথায় সন্দেহের পোকা গুটি গুটি হাঁটতে শুরু করল। আইডির লোগো দেখেই মনে হলো, এটা কোনো নামীদামী পত্রিকার না, বরং প্যাঁক প্যাঁক করে উঠলে যেটা শুনতে পাবে, তেমন নামের কোনো মিডিয়া হাউজ!

তাদের দিকে চোখ রাখতেই পেছন থেকে এক দমকা হাওয়ার মতো উদয় হল ইমরান আর রুবাই। কিন্তু তারা যেভাবে এল, সেটা একেবারে অন্য স্তরের কমেডি। আদিবাসীদের সাজে নিজেদের জাহির করেছে। তবে সেটা এমন এক মিশ্রণ, যা দেখে মনে হচ্ছিল ‘যেমন খুশি তেমন সাজো ফ্যাশন শো’র জন্য বেছে নেয়া টোকাইদের দল।

ইমরানের গায়ে ছিল একটা লাল-সবুজের হাত বোনা গামছা টাইপের কিছু, যেটা বোধহয় একটা টেবিলকভার থেকে কেটে বানানো হয়েছে। পায়ে গোঁজানো ছেঁড়া স্যান্ডেল, কপালে তিলক না হয়ে যেন ভুল করে লাল ফেভিকল মেখে এসেছে। মাথায় একটা বেঁকানো পাখির পালক, যা দেখে মনে হচ্ছিল বেচারা পাখিটাই চোট খেয়ে পালিয়ে গেছে।

রুবাইর সাজ আরও বর্ণময়। পরনে আধা-সাদা, আধা-ছাই রঙের লুঙ্গির মতো কিছু একটা, উপরে রঙচটা একটা ফতুয়া, যেটার বোতাম তিনটে ঝুলছে সুতায়। মাথায় বাঁধা একটা গামছা, যা দেখে বোঝা যাচ্ছিল সে সম্ভবত চুল না শুকিয়ে সরাসরি এটা মুড়িয়ে ফেলেছে। পায়ে রাবারের পুরনো স্লিপার, যা হাঁটলেই চট্ চট্ করে আওয়াজ করে, একবার শুনলেই না তাকিয়ে যাওয়া যাবে না।

ওদের দেখে হাসি চেপে রাখতে রাখতে আমরা প্রায় হাঁসফাঁস করছি। তবে প্রশংসা করতে হবে, দু’জনেই নিজের সাজকে এমন গম্ভীর মুখে ধারণ করেছিল যেন সত্যিই আদিবাসী সংস্কৃতি রক্ষায় দারিদ্রতা ছাপিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করছে। তবে ওদের হাঁটা, তাকানো, কথা বলার স্টাইল দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, ভেতরে ভেতরে দুজনেই নিজেদের সাজে কতটা অস্বস্তিতে আছে।

সব মিলিয়ে এক বিচিত্র দল। নকল ফটোগ্রাফার, ছেঁড়া কাপড়ে সেজে আসা আদিবাসী দম্পতি, মুখ ঢেকে রাখা রহস্যময় মেয়ে আর তার এক সু সঙ্গি যাদের রীতিমতো থ্রিলার বাস্তবতায় ঢুকে পড়তে হয়েছে। এই দৃশ্যটা দেখে সত্যি মনে হচ্ছিল, কেউ যেন গোটা টিমকে একটা নাটকের মঞ্চে ভুল করে ফেলে রেখে গেছে।

প্রীতম ভাই সকলের দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে হাসতে চাইলেও হাসতে পারলেন না। নিজেকে সামলে ধীর গলায় বলে উঠলেন, “মেঘ, তোমাদের হাতে খুব কম সময়। সোয়েব তোমাদের মন্দিরের মেইন কক্ষ দেখিয়ে দেবে। আমার ফোর্স বাইরে থাকবে, নজরে রাখবে পরিস্থিতি। আমার আব্বু আসবে, আমাকে ওখানে থাকতে হবে। তবে প্রয়োজনে একটা কল করলেই আমি চলে আসবো।”

মেঘ মাথা নাড়িয়ে বলল, “ধন্যবাদ ভাইয়া, আপনি অনেক করেছেন। ফোর্স আমাদের পেছনে থাকলে নজরে পড়ে যেতে পারি। আপনি বরং দ্রুত কাজ শেষ করে চলে আসুন।”

প্রীতম ভাই একটু চিন্তিত ভঙ্গিতে বললেন, “তবু বলছি, সাবধান থেকো। উৎসবের শেষ আরতির আগে বেরিয়ে যাও, নয়তো... ঝুঁকি অনেক বেশি।”

“বোঝা গেছে,” প্রীয়তা বলল, তার কণ্ঠে দৃঢ়তা, “আমি ফোন খোলা রাখছি।”

প্রীতম ভাই হাতঘড়িতে সময় দেখে বললো, “ভালো। এগিয়ে যাও সবাই। আর হ্যাঁ, কেউ ধরা পড়লে বাকি সবাই যেন প্ল্যান বুঝে কদম ফেলতে পারে এটা মাথায় রেখো।”

আমরা মাথা নাড়ালাম। চোখে চোখে চুপচাপ এক প্রতিজ্ঞা বিনিময় হলো। ফিরে যাবো, কিন্তু খালি হাতে না।

আমরা ধীর পায়ে মন্দিরের দিকে এগোলাম। আশেপাশে তখনও আরতির শব্দের রেশ, ধূপ ধুনোর ঘ্রাণে বাতাস ভারি। জনস্রোত মন্দিরের মূল প্রাঙ্গণ ছেড়ে ধীরে ধীরে সরছে, আমরা তখন যেন ঠিক উল্টো স্রোতে হাঁটছি, সময়ের গহীন কোনো গোপন দরজার দিকে।

আমি, প্রীয়তা, আমার জীবনে কখনো কোনো মন্দিরে প্রবেশ করিনি। তাই পা ফেলার আগেই মনে হচ্ছিল, যেন কোনো নিষিদ্ধ সীমারেখা পেরিয়ে যাচ্ছি। মন্দিরে ঢুকে সেই অনুভূতি আরও গভীর হলো। এই মন্দির যেন আর পাঁচটা সাধারণ উপাসনালয় নয়, এটা যেন একটা জীবন্ত রহস্য! সারা মন্দিরজুড়ে প্রাচীন সময়ের অস্পষ্ট অথচ জটিল চিত্রকর্ম খোদাই করা পাথরের শরীরে ফুটে আছে হাজার রকমের প্রতীক, পাখি, সূর্য, চাঁদ, অদ্ভুতাকৃতির গাছ, কিছু ভয়ানক মুখাবয়ব। কেউ যেন এক অজানা ভাষায়, এক যুগের পর যুগ ধরে এই দেয়ালগুলোকে একটা গল্প শোনাতে চেয়েছে।

দেয়ালের চতুর্দিকে জ্বলছে চৌদ্দটি প্রাচীন মশাল, যারা আগুন নয়, যেন আলোর আত্মা জাগিয়ে রেখেছে চারদিকে। ছাদ থেকে ঝুলে থাকা প্রদীপগুলো কাঁপতে কাঁপতে ছায়া ফেলে দেয়ালজুড়ে, সেই ছায়া যেন নিজেই জীবন্ত হয়ে ওঠে, চলতে থাকে মৃদু শব্দে।

মন্দিরের কেন্দ্রস্থলে আছে একটি উঁচু তামার তৈরি আসন, ঠিক যেন কোনো রাজার সিংহাসন। আসনের চারপাশে ঘিরে রাখা ছোট্ট চৌবাচ্চার মতো জলাধার, যার জলে ফুটে আছে কয়েকটি নীলচে পদ্মফুল। মেঝেতেও খোদাই করা জটিল নকশা। প্রতিটি পা ফেললেই মনে হয়, কোনো গূঢ় সংকেতের ওপর পা রেখেছি।

মেঘ একটু থেমে চারদিক ভালো করে পর্যবেক্ষণ করল। তারপর ধীরে ধীরে নিচু স্বরে বলতে শুরু করল, যেন কোনো পাঠ পড়ছে যা সে আগে থেকেই জানত:

“আসল ধাঁধা তবে এখান থেকে শুরু।

শীলায় শীলায় ঘর্ষণ,

তাতে আগ্নেয়গিরি স্বর্গলোকে।

স্বরলিপির পঞ্চ দারে

সূর্য চললো চাঁদের কাছে, খুললো তাতে মনন দোর।

নিম্ন মাটি পদ তলে, এবার তবে মক্কা দেশে উল্টো নয়,

শত এর এক, শূন্য লোপে ঘুমিয়ে আছে ইং সপ্তে

তোমার জন্য দেবী।

আমার লোহিত আমায় মেলাবে কালোর অহংকার।”

শব্দগুলো মাথার ভেতর যেন গুঞ্জন তুলল। এমন সব সংকেত, যেন কেউ প্রাচীনকালের ধাঁধার ভিতর থেকে ভবিষ্যতের জন্য রেখে গেছে। মেঘের চোখ তখন জ্বলছে তাতে স্পষ্ট, সে কিছু বুঝেছে। আর আমি? আমি অনুভব করলাম এই মুহূর্তে আমি আর আমি নেই। আমি একজন চরিত্র, এক রহস্যময় নাটকের ভিতর ঢুকে পড়েছি, যার দৃশ্যপটে এখন শুধু ছায়া, আগুন আর অতীতের জীর্ণ ধ্বনি।

আমরা সবাই বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম মেঘের দিকে। তার চোখে সেই চিরচেনা আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক, কিন্তু এবার তাতে মিশে আছে এক অদ্ভুত গোপন রহস্যের উত্তেজনা।

ইমরান কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “এটা কি বললি? ধাঁধার মতো শোনাচ্ছে!”

মেঘ ধীরে মাথা ঝাঁকালো, “এটাই সেই সূত্র… রুশের রাস্তাটাই এর ভিতরে লুকিয়ে আছে।“

আমি অবাক হয়ে এগিয়ে এলাম, “তুমি এটা কোথায় পেলে?”

মেঘ একটু থেমে বলল, “তোমার বাবার লেখা বইয়ের শেষ পাতায়।“

আমার চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল। “কিন্তু আমি তো এমন কিছু দেখিনি! আমি তো বইটা শতবার পড়েছি!”

সে হালকা হাসল, যেন ঠিক এই প্রতিক্রিয়াটার জন্যই অপেক্ষা করছিল। “সাদা কালিতে লেখা ছিল। গত রাতেই আবিষ্কার করলাম।“

“সাদা কালিতে? তাহলে দেখলে কিভাবে!” আমার কণ্ঠে তখনো অবিশ্বাস।

মেঘ এবার বইয়ের একটি পুরনো লাইন উদ্ধৃত করল, ধীরে, থেমে থেমে, “শুভ্রর মাঝে শুভ্র খোঁজো, আঁধার রত্ন দেখিবে জ্বলছে।”

আমি এক মুহূর্তে চমকে উঠলাম। “এই লাইনটা তো আছে বইয়ের একদম শেষ পাতায়! যেটার মানে বুঝতে না পেরে তোমাকেই জিজ্ঞেস করেছিলাম!”

মেঘ মাথা ঝাঁকাল, “হ্যাঁ, সেটাই আমাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। গতকাল রাতে হঠাৎ আমার ছোটবেলার সেই ম্যাজিক কলমটার কথা মনে পড়ে গেল যেটা দিয়ে সাদা কাগজে লিখলে শুধু অন্ধকারে আলোর নিচে দেখা যেতো লেখাগুলো।“

সে এক গর্বিত অথচ আবেগময় ভঙ্গিতে বলল, “তারপর আমি পুরো বইটাই অন্ধকারে নিয়ে গিয়ে আলো ফেলে ফেলে খুঁজে বের করতে থাকি। সবশেষ পাতায়, একেবারে নিচে, অন্য কোনো লেখা ছাড়াই একা দাঁড়িয়ে ছিল এই সূত্রটা।“

আমরা সবাই কিছুক্ষণ নীরব রইলাম। যেন এক অদ্ভুত বাস্তবতা আমাদের ঘিরে ফেলেছে। মেঘ তখনও হাতের মুঠোয় ধরা রহস্যের পঙক্তিগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আমার মনে হচ্ছিল, বাবার লেখা বইটা যেন এখন আর শুধু কোনো স্মৃতিচিহ্ন নয়। এটা এক জীবন্ত চাবি, যা খুলে দিতে পারে এমন কোনো দরজা, যেটার অস্তিত্ব আমরা এতদিন জানতেও পারিনি।

সবাই তখনও মেঘের শেষ কথাগুলো ভাবছে। এর মধ্যেই অরুপ কপাল কুঁচকে হালকা বিরক্তিতে বলে উঠল, "এটা ঠিক না। পৃথিবীর যতো এমন গুপ্তধনের কাহিনী আছে তাতে এমন উল্টা পাল্টা ধাঁধা থাকবেই। মানে কেন! কেউ আমাকে বল যদি সহজ ভাষায় লিখে যায় তবে কার কি যাবে।"

প্রীয়তা একটু হেসে বলল, “অনেক কিছুই ক্ষতি হতো। যদি সবকিছু এত সহজে লেখা থাকত, তাহলে নিজেদের তো আর গোয়েন্দা মনে হতো না! খুঁজে বের করার আনন্দটা কোথায় যেত বলো?”

অরুপ ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, “তা ঠিক… আসলে কাল রাত থেকে নিজেকে একটু ‘বোমকেশ’ বোমকেশ লাগছে!”

রুবাই খিলখিল করে হেসে উঠল, “আর আমার মনে হচ্ছে আমি যেন গোয়েন্দা গিন্নি!”

সবাই হেসে উঠল মুহূর্তে। তবে ইমরান হাত তুলে তাদের থামাল, “আচ্ছা, মজা অনেক হলো। এখন কাজের কথায় আসা যাক। মেঘ, প্রথম লাইনটা আবার বলো তো।“

মেঘ মনঃসংযোগ করে উচ্চারণ করল, “শীলায় শীলায় ঘর্ষণ তাতে আগ্নেয়গিরি স্বর্গলোকে।“

অরুপ ভ্রু কুঁচকে বলল, “শীলায় শীলায় ঘর্ষণ... মানে পাথরের সঙ্গে পাথরের ঘর্ষণে আগ্নেয়গিরি, তাপ বা আগুন সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এই মন্দিরে তো সবদিকে আগুনই জ্বলছে। কিসের আগুনের কথা বলছে এটা?”

ইমরান আশপাশে তাকিয়ে বলল, “মশালের আগুন হতে পারে। এই মন্দিরের দেয়ালের চারপাশেই তো বিশাল বিশাল পাথরে খোদাই করা আছে নানা দেবতার চিত্র। আর ঠিক সেগুলোর মাঝেই টাঙানো মশাল জ্বলছে। তাই হয়তো বলা হয়েছে, ঘর্ষণ আর আগুন, আর দেবতারা তো থাকেন স্বর্গে।“

মেঘ আবার বলল, “তারপরের লাইন: ‘স্বরলিপির পঞ্চ দারে সূর্য চললো চাঁদের কাছে, খুললো তাতে মনন দোর।‘”

ইমরান কপাল কুঁচকে বলল, “স্বরলিপি মানে কি ওই সা, রে, গা, মা, পা, ধা, নি?”

অরুপ মাথা নাড়ল, “হ্যাঁ।"

মেঘ দেয়ালের দিকে নজর রেখে বলল, “দেখো তো, সূর্য কোথায় আছে।“

আমি ভালো করে দেখে এক জায়গায় আঙুল তুললাম, “এই যে! এখানে সূর্য খোদাই করা।“

মেঘ বললো, “স্বরলিপির পাঁচ নম্বরটা ‘পা’ তাহলে পা তে কি! সূর্যকে আগে উপরে চাঁদের কাছে নিতে হবে। কিন্তু কিভাবে?”

রুবাই চারপাশে দেখে বললো, “এই দেয়ালে এই চিত্রকর্মের মাঝে দেখো দুইটা টাইলস ফাঁকা, দেখে মনে হচ্ছে এই দুইটা ফাঁকাই রাখা হয়েছে। “

আমি প্রীয়তার কথায় দুটো ফাকা জায়গা দেখে চেঁচিয়ে বলে উঠলাম, “ম্যাচিং বোর্ড!”

রুবাই একটু অবাক হয়ে বলল, “মানে?”

আমি ব্যাখ্যা করলাম, "ছোট বেলায় খেলতাম। এমন একটা বোর্ড থাকতো, যেখানে কোন ছবি বা সংখ্যা একটার পর একটা মিলাতে হতো। আর ঐ বোর্ডে একটা কার্ড বা গুটির জায়গা ফাঁকাই থাকতো।"

অরুপ দেয়ালের কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো, "এখন কি এই টাইলস গুলোকে সরাতে হবে!!”- এর টাইলসল গুলো সরানোর বৃথা চেষ্টা করলো। এই চেষ্টার চালাতে চালাতেই বললো, “এই টাইলস গুলো তো সরছেই না!"

ইমরান এগিয়ে এসে হাত উঠিয়ে বললো, "ফাঁকা জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। অনেক যুগ এভাবে পড়ে আছে জং তো লাগবেই, চেষ্টা করলেই সরবে। একটা সরাতে পারলে বাকি গুলোর জন্য এতো কষ্ট করতে হবে না। "

এ যেন এক রহস্যে মোড়ানো জাদুকরী খেলা। যেন এক মহাকালের ধাঁধা, যার প্রতিটি ইঞ্চি জুড়ে ছড়িয়ে আছে প্রাচীন কোনো বুদ্ধিমান জাতির ছায়া। পুরো দেয়ালজুড়ে শিল্প আর ধাঁধার অপূর্ব মিশ্রণ। নিখুঁত কারিগরি, প্রতিটি রেখা যেন কথা বলে। কোনো এক বিস্মৃত যুগের জ্ঞানী মানুষদের অদ্ভুত এক সংকেত, যা সময়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে অটুট।

দেয়ালের প্রতিটি চিত্র যেন একেকটি রহস্যের চাবিকাঠি। আর তাদের মাঝখানে লুকিয়ে আছে সেই অপার গুপ্তধনের পথ। সাধারণ চোখে এসব কিছুই নয় শুধু প্রাচীন শিল্প। কিন্তু যাদের চোখে কৌতূহল আর মনে প্রশ্নের ঝড়, তারা বুঝতে পারবে, এ যেন এক বুদ্ধির খেলা, সাহসের পরীক্ষা।

মেঘ আর ইমরান অনেকটা যুদ্ধ করেই সূর্যচিহ্নকে সরিয়ে আনলো চাঁদের নিচে। তাদের কপাল জুড়ে ঘাম, হাতের কাঁপুনি, কিন্তু চোখে একরাশ আশার দীপ্তি। মুহূর্তটি যেন থমকে রইল। নিঃশব্দে সবাই তাকিয়ে রইলো দেয়ালের দিকে। হয়তো এখনই কিছু খুলে যাবে, হয়তো এখনই কোথাও কিছু নড়ে উঠবে...

কিন্তু কিছুই হলো না।

সবকিছু যেন আগের মতোই নিস্তব্ধ, স্থির। আশার বদলে মনে নামলো হতাশার ছায়া।

রুবাই ধীরে বলে উঠলো, “কোথায় কিছু হলো না তো!”

তার গলায় ভরসাহীন এক সুর। বাতাসটাও যেন একটু ভারি হয়ে এলো।

মেঘ কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে চোখ সরাল দেয়াল থেকে। চোখে এক গাঢ় চিন্তার রেখা। হঠাৎ তার দৃষ্টি আলোকিত হলো। সে ধীরে বললো, “স্বরলিপির পঞ্চ দারে সূর্য চললো চাঁদের কাছে... পঞ্চ মানে পঞ্চম স্বর, ‘পা’। আর পা মানেই পাশে। আমরা তো সূর্যটাকে চাঁদের নিচে বসিয়েছি!”

তার গলা কাঁপছে উত্তেজনায়, যেন কোনো অমীমাংসিত প্রশ্নের হঠাৎ এক উত্তর পেয়ে গেছে। বাকিরা তাকিয়ে আছে তার দিকে, নিঃশব্দে।

মেঘ একটু জোর দিয়ে বললো, “চাঁদের ঠিক পাশেই বসাতে হবে সূর্যকে। ওটাই আসল সংকেত। নিচে নয় পাশে।”

এই কথার সাথে সাথেই যেন আবার বাঁচা যায়। ইমরান এগিয়ে এলো, তার চোখে ঝলক। সবাই আবার আশায় বুক বাঁধলো।

চলবে......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন