৩৫.
দোকানি আজিম চাচার থেকে হাজী মনসুর পাটোয়ারীর ঠিকানাটা ইমরান লিখে নিলো। এই মুহূর্তটা ঠিক এমন যে, সবাই হন্য হয়ে যেটা খুঁজছে, সেটার পথ প্রদর্শক নিজে এসে বলছে দেখো আমাকে এই যে, ধরা দিতেই এসেছি।
সবাই চুপচাপ ঠিকানা লিখে নেয়া কাগজটাকে দেখে নিলো চোখ ভরে। এই ছোট্ট কাগজে লেখা দুই চার লাইনের ঠিকানাই যেন বহু পুরোনো রহস্যের পথনির্দেশক।
রুবাই হালকা স্বরে বলল, “তাহলে তো হাজী মনসুর পাটোয়ারীর সাথেই কথা বলতে হবে প্রথমে…! কবে যাবো আমরা?”
অরুপ বলে উঠলো, “কাল সকালেই, যতো দ্রুত সম্ভব যাওয়া উচিৎ।”
মেঘ মাথা নাড়লো, “দেরি করা মানেই, এখন কাজ বাড়ানো কিংবা বিগড়ানো।”
ঠিক তখনই একটা সাদা গাড়ি এসে থামলো দোকানের সামনে। গাড়ি থেকে নেমে রুশাদের ড্রাইভার ভদ্রভাবে এগিয়ে এসে বলল, “ম্যাডাম, বড় কর্তা আজ আমাকে পাঠিয়েছেন।”
ড্রাইভার আলম সাহেবের উপস্থিতি যেন পরিকল্পনা শুরুর আগেই সিদ্ধান্তে ফাটল ধরালো। মেঘ কিছু বলতে যাবে তার আগেই প্রীয়তার বাবাও এসে থামলেন দোকানের বাইরে। এটাই যেন নিরব ঘোষনা যে আজকের পরিকল্পনা এখানেই সমাপ্ত। আজ আর কিছুই এগোনোর সুযোগ নেই।
ইমরান নিঃশব্দে বলল, “তাহলে সবাই আজ ফিরি। গ্রুপ কলে সব ঠিক করে নেয়া যাবে।”
সকলেই সম্মতি জানিয়ে একে একে বিদায়ে পা বাড়ালো। গাড়িগুলো একে একে চলে যেতে লাগল।
সবাই বাড়ি ফিরে দিনের ক্লান্তিটাকে একটু জিরিয়ে আবার জমে বসলো নিজেদের দুনিয়ায়। সকলেই নিজেদের ঘরের দোর দিয়ে এঁটে সেঁটে বসলো। খুবই গোপন আর প্রয়োজনীয় একটা কাজ যে এটা। তা পরিষ্কার বোঝা গেলো।
রুশা কলটা দেবার মাত্রই রুবাই প্রথমে যুক্ত হলো। আর এরপর ঝড়ের গতিতে বিনা বিরতিতে অরুপ, প্রীয়তা, ইমরান আর মেঘ যুক্ত হলো। কেউ এক চুল পরিমান দেরি অব্দি করলো না কলে যুক্ত হতে।
কথাটা সবার আগে অরুপ তুলল, “তো, কালই যাই? হাজী মনসুর পাটোয়ারীর কাছে?”
রুবাই আগ্রহে বলল, “হ্যাঁ, কালই। মনে হচ্ছে সেই লোকটাই জানবে সব।”
প্রীয়তা বলল, “আমিও ভাইয়ার আলমারিটা দেখে নেবো সকালে। যদি বইটা থাকে, তবে কাল সবার প্রথমে রুশা তোকে দিচ্ছি। খোঁজ সব দিক থেকে নিতে হবে।”
ইমরান মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো, “কোন দিক ফাঁকা রাখা যাবে না। রূপনগরের ইতিহাসের দ্বিতীয় খন্ডটা যদি সত্যিই কোথাও থেকে থাকে, তবে কেন যেন মনে হচ্ছে এর আর কোন প্রয়োজন হবে না। হাজী মনসুর স্যারই সব থেকে বড় সমাধান টানতে পারেন হয়তো।”
অরুপ ইমরানের কথায় মাথা নাড়লো, “তাহলে কি ঠিক হলো? সকালে কলেজে যাওয়ার আগে হাজী মনসুর পাটোয়ারীর সঙ্গে দেখা করছি তো?”
মেঘ সায় দিয়ে যোগ করল, “হ্যাঁ। সকালে ৮টার মধ্যে সবাই প্রস্তুত থাকবে। কলেজের সামনের প্রাইমারি স্কুল রোড পার হলেই তো তার বাড়ি। গিয়ে সকলে কথা বলে তারপর কলেজে যাবো।”
প্রীয়তা বলল, “একটু বেশি সকাল হয়ে যায় না? আমরা ৯ অথবা ১০ টার দিকে যাই প্লিজ।”
রুবাইও সায় দিয়ে বলল, “হ্যাঁ মেঘ, প্রীয় ঠিক বলেছে। আমাদের জন্যও এতো দূর থেকে যেতে সমস্যা হয়ে যায়। আরেকটু পরে হলে কোন বাহানার দরকার হয় না।”
মেঘ সকলের কথায় সম্মতি টেনে বলল, “ঠিক আছে। সকলের যেভাবে সুবিধা। তাহলে কলেজ টাইমেই সকলে এসো।”
প্রীয়তা সাথে সাথেই বলে উঠলো, “আমি ভোরেই ভাইয়ার আলমারি চেক করবো। যদি বইটার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ থাকে…।”
রুবাই উত্তেজিত স্বরে বলল, “দু’দিক থেকেই খোঁজ নেওয়া। বেশ জমজমাট ব্যাপার! তবে আমার মনে হচ্ছে ইমরান ঠিক বলেছে। এই হাজী মনসুর পাটোয়ারী… উনি অনেক কিছু জানেন। অনেক বেশি। কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল বলে কথা!”
ইমরান ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “সত্যি কথা বলতে কি… জানেন তো অনেকেই অনেক কিছু, তবে সবটা আমাদের কাজের তো নয়!”
রুশা এবার মুখ খুলল, “একদম ঠিক। অনেকে অনেক কিছু জানে।”
রুবাই এবার প্রশ্ন ছুড়লো রুশার দিকে, “রুশা তুই জানতে কি চাইছিস আসলে? মানে রুপনগর এই জমিদারি এগুলোতে কি আছে এমন?”
“অনেক কিছু আছে। আমি সবটা জানতে চাই। এখানে সব ঘটনা কেন জানি মনে হয় একটার সাথে আরেকটা কানেক্টেড। একটার উওর মিললে বাকি সব গুলোর উওর মিলবে।”
রুবাই মাথা চুলকে বলল, “কিছুই বুঝলাম না। সব মাথার উপর দিয়ে গেলো…”
রুশা রুবাইকে থামিয়ে বলল, “ওসব তোর বুঝতে হবে না। যখন সব সমাধান হবে তখন সবই বুঝবি। আপতত শুধু আমি যা করতে চাইছি আমাকে করতে দে।”
রুশার কথায় এক মুহূর্তের জন্য সবাই চুপ করে রইল। এবার যেন রহস্যে কেন্দ্রে রুশা নিজে দাঁড়িয়ে পড়েছে। সবারই কম বেশি মনে হলো, সে ভয়ংকর কিছু একটা জানে কিংবা আঁচ করছে। যার প্রমাণ এখন খুঁড়ে ফিরছে।
এই লম্বা নিরবতা ভেঙ্গে ইমরান বলল, “তাহলে সবাই এখন ঘুমা। কাল সবাই ঠিক টাইমে এসে পড়বি। যে দেরী করবি তাকে ছেড়েই চলে যাবো বলে দিলাম।”
প্রীয়তা হাসল, “ঠিক আছে। আমি ঘুমে পড়ে যাচ্ছি। গেলাম আমি।”
সকলেই সম্মতিসূচক “ঠিক আছে”, “গুড নাইট”, “কাল দেখা হবে” বলে একে একে কল থেকে বেরিয়ে গেল।
শুধু রুশা স্ক্রিনে একা রইল। নিস্তব্ধ ঘর, পর্দা টেনে দেওয়া জানালা, টেবিল ল্যাম্পের সোনালি আলো সব মিলে যেন একটা শান্ত অথচ অদ্ভুত ভারী অনুভূতি। কেউ আর নেই, শুধু সে আর তার নিঃশ্বাসের শব্দ।
রুশা মোবাইলটা টেবিলে রেখে বিছানায় শুয়ে পড়ল। আজ রাতটা রুশার কাছে অন্যরকম শান্তি হয়ে নেমে এলো। কোনো স্বপ্ন তাকে তাড়া করলো না, কোনো অদ্ভুত চিন্তাও না। দীর্ঘদিন পর যেন তার শরীর আর মন একসাথে ক্লান্ত হয়ে পড়লো। সেই ক্লান্তিই তাকে টেনে নিয়ে গেল গভীর ঘুমের ভেতরে নিঃশব্দ, অচেতন, আর আরামদায়ক। ভোরের আলো জানালার ফাঁক গলে ঢুকলেও রুশা নড়ল না। সে যেন বহুদিন পর ঠিকমতো বিশ্রাম নিচ্ছে।
সকালে ঘুম ভাঙলো পরিচিত শব্দে। বাড়ির ভেতরে মানুষের গম গম অবস্থা। জানালা খোলা থাকায় বাগানের নানা আওয়াজ। কয়েকটা পাখিও বোধহয় বারান্দায় সকালের জানান দিতে এলো। রুশা ধীরে উঠে বসলো। মাথাটা অদ্ভুতভাবে হালকা, বুকের ভেতর সেই চিরচেনা ভারটা আজ যেন একটু কম।
এদিকে প্রীয়তার ঘুম ভাঙলো আজও একটা অপরিচিত নাম্বারের কলে। বেশ কয়েকদিন যাবত তাকে একটা নম্বর থেকে বারংবার কল করে বিরক্ত করা চলছে। এ আবার সাধারণ বিরক্ত নয়, কল করে কেউ চুপ করে বসে থাকে। সাধারণ কোন নম্বর হলে নাহয় ব্লক করে দিতো প্রীয়তা তবে এই কল গুলো আসছে প্রাইভেট নম্বর থেকে। প্রীয়তার বাবা তাকে নিয়ে অত্যাধিক চিন্তা করে, তাই আর তাকে এসব নিয়ে ঘাটে নি। আর তার বড় ভাই এখনো পাহাড়ি সিমান্তে। কবে সে আসবে তারপর নাহয় তাকে কিছু বলতে পারবে। তবে তার আগেই এই অজ্ঞাত ব্যক্তি যেন তার জীবন জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
প্রীয়তা উঠে হাত মুখ ধুয়ে আগে নিজের ভাইয়ের কক্ষে গেলো। তার প্রধান কাজ এখন বইটা খুঁজে পেতে চিরুনি অভিযান চালানো। যেই চিন্তা সেই কাজ, প্রীয়তা পারলে বইয়ের আলমারিটাকে উল্টে পাল্টে ঝাঁকিয়ে দেখতো যে, কোনো বই তার নজর ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে না তো আবার!! তবে এখানে সে ব্যর্থ। নেই সে বই। রুশার বাবার কাছে যেঈ ‘রুপনগরের ইতিহাস’ বইটা ছিল সেটা এখানেও ঠিকই আছে। তবে এর দ্বিতীয় খন্ডের টিকিটাও নেই। হতাশ হয়ে প্রীয়তা সবার আগে রুশাকে কল করলো। বার কয়েক বাজলো। তবে রুশা নিখোঁজ। এদিকে রুশা নাস্তার টেবিলে থাকায় কলটা আর রিসিভ করলো না। প্রীয়তা আর দেরি না করে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লো কলেজের উদ্দেশ্যে।
আজ আকাশটা বড্ড পরিষ্কার। শড়তের আকাশের মতো সাদা সাদা মেঘ উড়ছে গন্তব্যহীন। রোদ ঝকঝকে, অথচ তীব্র নয়। প্রীয়তার বাবা ওকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। মেঘ, ইমরান আর অরুপ আগে থেকেই উপস্থিত। তাদের অপেক্ষারত মুখ থেকে অবশ্য বোঝার উপায় নেই যে তারা ঠিক কতো লম্বা সময় ধরে অপেক্ষা রত। প্রীয়তা পৌঁছানোর মিনিট পাঁচেকের মাঝেই কলেজ মাঠে পৌঁছালো রুশা আর রুবাই। আজ অবশ্য কেউ দেরি করেনি। ইমরান দাঁড়িয়ে কিছু একটা বলছে প্রীয়তাকে, অরুপও সেদিকে মনোযোগী, মেঘ ফোনে কারো সাথে কথা শেষ করে পকেটে ঢুকাচ্ছে মোবাইল। রুশা আর রুবাই ওদের সামনে এসে দাঁড়াতেই ওরা সকলে মনোযোগী হয়ে উঠলো ওদের দিকে।
কথা না বাড়িয়ে সবাই একসাথে রওনা দিলো তাদের আজকের গন্তব্যে। কলেজের কোলাহল ছেড়ে তারা ঢুকে পড়লো তুলনামূলক শান্ত এক পাড়ায়। দোকানী আজিম চাচার দেয়া ঠিকানা খুব বেশি দূরে নয়। তবুও এই পথটুকু পেরোতে গিয়ে রুশার যেন মনে হচ্ছিল এ এক মস্তো লম্বা পথ।
দু’একজনকে জিজ্ঞেস করতেই পথ দেখিয়ে দিলেন তারা। আর বেশি খোঁজাখুঁজির দরকার পড়ল না। দুইতলা পুরোনো একটা বাড়ি। সামনে ছোট উঠোন, উঠোনের একপাশে কাঁঠাল গাছ, পাতার ছায়া মাটিতে ছোপ ছোপ দাগ ফেলেছে। বাড়িটার ভেতর থেকে একটা আশ্চর্য রকমের স্থিরতা। এই সানন্দাপুরের এই বাড়ির সৌন্দর্য গুলোও এক একটা ঐতিহ্য। তেমন কোনো উঁচু দালান এখানে নেই। সব থেকে উঁচুই যেন এই শহরকে ঘিরে রাখা পাহাড়। তাছাড়া ৫ তলা ভবনের উপরে অনুমতি নেই এই শহরে। আর অদ্ভুত নিয়মে সকলেই যেন জোরালো হুকুম হিসেবে এটাকেই মান্য করে চলে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় দুই কিংবা তিনতলা বাড়ি গুলো।
রুশা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্ত থামল। নেমপ্লেটে স্পষ্ট নামটা উল্লেখ্য, “প্রফেসর ড. হাজী মনসুর পাটোয়ারী।”
ইমরান বলল, “অবশেষে নতুন চরিত্রের ঠিকানায় পৌঁছানো গেলো।”
রুশা মাথা নাড়ল। সবাই একে অপরের দিকে তাকালো একটা নিঃশব্দ সম্মতি নিয়ে। তারপর ধীরে, খুব ধীরে, তারা এগিয়ে গেল হাজী মনসুর পাটোয়ারীর বাড়ির দরজার দিকে।
দরজার কাঠের পাল্লায় মেঘ আলতো করে নক করতেই ভেতর থেকে ভারী অথচ সংযত কণ্ঠ ভেসে এলো, “কে ওখানে?”
দরজাটা খুলে দাঁড়ালেন একজন মাঝবয়সি লোক। পরিপাটি পোশাক, চোখে সাবধানী দৃষ্টি, তবে তাকে দারোয়ান কম বাড়ির কেয়ারটেকার বেশি মনে হলো।
মেঘ ভদ্রভাবে বলল, “আমরা হাজী মনসুর পাটোয়ারী স্যারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। আমরা ব্রিটিশ ভূতত্ত্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজের শিক্ষার্থী।”
দারোয়ান একবার সবাইকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখে নিলেন। হয়তো তাদের চোখে থাকা আগ্রহ, কৌতূহল আর একধরনের অদ্ভুত তাড়না তাকে বিশ্বাস করাল। তিনি বললেন, “একটু অপেক্ষা করুন। আমি ভেতরে জানিয়ে আসছি।”
দরজা আবার বন্ধ হয়ে গেল। উঠোনের নিস্তব্ধতা আরও ঘন হলো। কাঁঠাল গাছের পাতায় হাওয়া লেগে মৃদু শব্দ তুলছে। কয়েক মিনিট যেন অস্বাভাবিক দীর্ঘ মনে হলো।
তারপর দরজাটা খুলল, “আসুন। হাজী সাহেব দেখা করবেন।”
সবাই একসাথে নিঃশ্বাস ছেড়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল।
বাড়িটা দোতলা, কিন্তু অযথা কোনো জাঁকজমক নেই। খুবই গোছানো। দেয়ালে পুরোনো ছবি, কোথাও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট, কোথাও হাতে লেখা নোট বাঁধানো ফ্রেমে। হলঘরে বড়সড় কাঠের সোফা, সামনে একটি নিম্ন টেবিল। বইয়ের তাক যেন দেয়ালের সাথেই মিশে গেছে বিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন, ধর্ম সবকিছুর সহাবস্থান।
ওরা বসতেই দারোয়ান মতো লোকটা চলে গেলেন।
পাঁচ কি ছয় মিনিটও হয়নি, সিঁড়ির দিক থেকে ধীর পায়ের শব্দ শোনা গেল। সবাই একসাথে তাকিয়ে পড়ল। হাজী মনসুর পাটোয়ারী প্রবেশ করলেন।
বয়স আশির ঘরের শেষের দিকে ছুঁইছুঁই, হয়তো নব্বইয়ের কাছাকাছি। ধবধবে সাদা দাড়ি বুক পর্যন্ত নেমে এসেছে। চোখে গোল চশমা, পরনে সাদা জুব্বা তাকে দেখলেই এক ধরনের আভিজাত্য নয়, বরং গভীর শান্তির অনুভূতি জাগে। যেন বহু বছরের জ্ঞান আর সংযম একসাথে এই মানুষটার শরীরে স্থির হয়ে আছে।
তিনি আসতেই সবাই একসাথে উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিলো, “আসসালামু আলাইকুম, স্যার।”
হাজী সাহেব মৃদু হেসে উত্তর দিলেন, “ওয়ালাইকুম আসসালাম।”
তারপর বসতে ইশারা করলেন, “বসো, বসো।”
নিজেও ধীরে সোফায় বসলেন। এক মুহূর্ত ওদের দিকে তাকিয়ে যেন মাপঝোক করলেন। তারপর হালকা হাসি নিয়ে বললেন, “তোমরা তো বাচ্চা মানুষ। আমি ভেবেছিলাম আমার কোনো পুরোনো ছাত্র এসেছে বুঝি।”
মেঘ সম্মান রেখে বলল, “স্যার, আমরা দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি।”
হাজী সাহেবের চোখে কৌতূহলের ঝিলিক ফুটে উঠল, “তাহলে বলো, এই বুড়ো মানুষটার কাছে তোমরা কেন এসেছো?”
মেঘ কথা শুরু করতে যাবে, ঠিক সেই মুহূর্তে রুশা যেন আর নিজেকে থামাতে পারলো না। তার বুকের ভেতরের সব প্রশ্ন একসাথে গলা বেয়ে উঠে এলো। সে খুব শান্ত, কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“স্যার, আপনি কি আব্দুল্লাহ আল হামজাকে চেনেন? উনি হয়তো আপনার ছাত্র ছিলেন। গভেষক আব্দুল্লাহ আল হামজা।”
ঘরটা মুহূর্তেই অন্যরকম হয়ে গেল। হাজী মনসুর পাটোয়ারীর মুখের হাসি একেবারে থেমে গেল না, বরং আরও গভীর হলো। তিনি সামান্য পেছনে হেলে চোখ বন্ধ করলেন এক সেকেন্ডের জন্য। তারপর ধীরে চোখ খুলে উচ্চারণ করলেন,
“হামজা…” নামটা যেন তার জিহ্বায় স্মৃতি হয়ে বসলো।
রুশা স্পষ্ট গলায় বলল, “উনি আমার বাবা।”
হাজী সাহেব রুশার দিকেই তাকিয়ে রইলেন বেশ কিছুক্ষণ। এরপর হালকা আওয়াজে বললেন, “আমার সব থেকে প্রিয় ছাত্র ছিল হামজা…।” তিনি আবারো একটু থেমে নরম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি… হামজার মেয়ে?”
রুশা মাথা নাড়ল, “জ্বি, স্যার।”
হাজী সাহেবের চোখ চকচক করে উঠলো। চশমার কাঁচের আড়ালে জল জমে উঠলো কি না বোঝা গেল না, তবে কণ্ঠে একটা কাঁপুনি স্পষ্ট।
চলবে.... 💝
#রুশ_রহস্য_দ্বিতীয়_পরিচ্ছেদ
#রুশ_রহস্য (রুশ এবং রহস্য)
#সাদিয়া_তিন্তি
বিঃদ্রঃ অনুগ্রহ পূর্বক কার্টেসি ছাড়া কপি করবেন না।
{ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর নিজেদের মন্তব্য রেখে যাবেন অবশ্যই ♥️}