৭৫.
সবকিছু ক্রমেই ভয়ংকর হচ্ছে। প্রীয়তা এবার ভয় পাচ্ছে। এই লোকটাকে সে বুঝতে পারছে না।
ঠিক তখনই দরজার বাইরে হালকা শব্দ হলো। প্রীয়তা চমকে উঠল। তার শরীরের সব রক্ত যেন জমে গেল। কারও পায়ের শব্দ। ধীর। নিয়ন্ত্রিত। আর পরমুহূর্তেই দরজাটা ঠেলে খুলে গেল। প্রীয়তা ঘুরে দাঁড়াতেই জমে গেল।
দরজায় দাঁড়িয়ে রুবাই। তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেছে। মুখের অভিব্যক্তি কয়েক সেকেন্ডের জন্য অবিশ্বাসে স্থির হয়ে রইল।
“প্রীয়…?” প্রীয়তার বুকের ভেতর ধক করে উঠল। তার কি আরো সাবধান হওয়া উচিত ছিল? রুবাইয়ের থেকেও তো গোপন করার কথা মেঘ বলেছিল। এবার কি করবে সে?
রুবাই দ্রুত ভেতরে ঢুকে দরজাটা টেনে বন্ধ করল। তার গলায় চাপা আতঙ্ক। “তুই এখানে কী করছিস? কেউ দেখলে কি হবে জানিস?”
প্রীয়তা মুহূর্তের মধ্যে ফোনটা কোমরের কাছে শাড়ির ভাঁজে লুকিয়ে ফেলল। মুখে কষ্ট করে স্বাভাবিক ভাব এনে বলল, “আমি… আমি সার্চ করছিলাম। তোকে তো সেদিনই বলেছিলাম।”
“দিনকে দিন তোর সাহস বাড়ছে। আমি ভেবেছিলাম তুই পারবি না। ভাইয়া তো চাবি খুব গোপনে রাখে। তুই সন্ধান কোথায় পেলি?”
“সে যা পেয়েছি। তুই এখানে কি করছিস?”
রুবাইয়ের গলায় এবার বিরক্তি, “এঘরে আমরা কেউ আসি না। ভাইয়া পছন্দ করে না। ভাইয়া দেশে না থাকলেও আসি না। ভাইয়া জানতে পারলে খারাপ হয়ে যাবে বিষয়টা।”
প্রীয়তা চুপ। রুবাই আরও নিচু গলায় বলল, “তুই এবাড়িতে বন্দি প্রীয়তা। কেন বুঝছিস না?”
প্রীয়তা গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে রইলো। রুবাইয়ের কণ্ঠে ভয়। রাগের চেয়ে যেন আতঙ্ক বেশি। সে এগিয়ে এসে প্রীয়তার হাত টেনে বাইরে নিয়ে এল। করিডোরে এনে স্টাডি রুমের দরজাটা নিজ হাতে বন্ধ করল। তারপর ভারী তালাটা লাগিয়ে দিল। তালা বন্ধের শব্দটা অদ্ভুতভাবে কানে বিঁধল।
রুবাই প্রীয়তার দিকে ফিরে বলল, “জলে থেকে কুমিরের সাথে শত্রুতা করা যায় না, প্রীয়। রুপমহলে অনেক কিছু আছে, যেগুলো না জানাই ভালো। যত কম জানবি, তত নিরাপদ থাকবি।”
“তুই কী বলতে চাইছিস?”
“আমার ভাই সুবিধার মানুষ নয়। ও ভয়ংকর। জঘন্য রকম ভয়ংকর।”
প্রীয়তা এখন এই কথাটাকে সত্য মানে। শেহতাজ সত্যিই ভয়ংকর।
এদিকে শহরের অন্য প্রান্তে গবেষণাগারের বিশাল কাচঘেরা কক্ষে বসে আছে মেঘ আর ইমরান। তাদের সামনে টেবিলে রাখা সেই কালো পাথরের আংটিটা। যেটা অরুপের কাছ থেকে মাত্র এনেছে মেঘ। মাইক্রোস্কোপের নিচে সেটাকে পরীক্ষা করতে করতে মেঘের চোখ আরও গভীর হয়ে উঠছে।
ইমরান পাশে দাঁড়িয়ে উদ্বিগ্ন গলায় বলল, “কিছু বুঝতে পারছিস?”
“এটা হীরের অংশ নয়।”
“মানে?”
মেঘ স্ক্রিনের দিকে ইশারা করল, “এটা একটা বাহ্যিক আবরণ। অত্যন্ত ঘন কার্বন শেল। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি। এর ভেতরে কিছু আছে।”
ইমরানের চোখ বড় হয়ে গেল, “হীরে?”
“সম্ভবত। রুশ থেকে হীরে আলাদা করার একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে হয়ত। তবে এটা সাধারণ রাফ ডায়মন্ড নয়।”
সে স্ক্রিনে জুম করল। ভেতরে ক্ষীণ আলোক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। একটা কেন্দ্র। চকচকে। অস্বাভাবিক।
ইমরান ফিসফিস করে বলল, “তাহলে?”
“এই হীরেটুকু আলাদা করতে পারলে আমরা এমন কিছু পেতে পারি… যা পুরো খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেবে।”
“এটা বের করার উপায় কি হামজা আংকেল কোথাও জানিয়ে যান নি?” এটুকু বলেই ইমরান থামলো এরপর হুট করে আবার বলে উঠলো, “মে…ঘ চন্দ্রমহলে তুই যে চামড়ার কাগজ পেয়েছিলি তার তাৎপর্য কি? সব গুলোর ব্যখ্যা তো মিলেছে। সেটার ব্যখ্যা কোথায়?”
“আমি জানি না। এত সব প্রেশারে সেটা নিয়ে বসতেই মাথায় ছিল না।”
“আমার মনে হয় ওটায় এমন কিছু আছে যা এই রুশ থেকে হীরে আলাদা করার পদ্ধতি বলতে পারে।”
“জানি না। সব কিছু এত অগোছালো…” মেঘ থামতে না থামতেই একজন স্টাফ এসে মেঘেকে জরুরি বার্তা দিতে হাজির হলো। তার তলব হয়েছে মেইন অফিস থেকে। ডক্টর স্টিফেন ব্রেন্জুয়ার তাকে এখনই যেতে বলেছেন। মেঘও আর সময় নিল না। সে সাথে সাথেই উঠে দাঁড়ালো হেড অফিসে যেতে।
মেইন অফিসের করিডোরটা আজ অস্বাভাবিক নিরব। করিডোরের শেষ মাথায় কাঁচঘেরা বিশাল কক্ষ ডক্টর স্টিফেন ব্রেন্জুয়ারের অফিস। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্ত থামলো মেঘ। তার ভেতর হালকা চাপা অস্বস্তি কাজ করছে। গত কয়েকদিনের ব্যস্ততার মধ্যে সে না গবেষণাগারে নিয়মিত এসেছে, আর না তার দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেছে। এসবের মাঝে ডক্টর স্টিফেনের জরুরি তলব সাধারণত শুভ লক্ষণ নয়।
দরজায় নক করতেই ভেতর থেকে ভারী গলা ভেসে এল, “Come in.”
মেঘ দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল। বিরাট ঘরের মাঝখানে কালো কাঠের টেবিলের পেছনে বসে আছেন ডক্টর স্টিফেন ব্রেন্জুয়ার। তাঁর ধূসর চোখ দুটো বরফের মতো ঠান্ডা। কপালের ভাঁজ দেখে বোঝাই যাচ্ছে তিনি খুশি নন।
মেঘ ভেতরে ঢুকতেই স্টিফেন চশমার ওপর দিয়ে তাকিয়ে কঠোর স্বরে বললেন, “মিস্টার আশিয়ান আহমেদ, আমি কি আপনাকে গতকাল রিপোর্ট জমা দিতে বলিনি? আপনি কি ই-মেইল চেক করেন না?”
মেঘ খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল, “স্যা..র… আমি…”
“আমি অজুহাত শুনতে চাই না।” স্টিফেনের কণ্ঠ আরও কঠিন হয়ে উঠল। “এই গবেষণাগারে প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রতিভার কোনো মূল্যও নেই। তুমি জানো এই প্রতিষ্ঠানে ডেডলাইন মিস করার অর্থ কী?”
“Sorry, sir.”
কয়েক মুহূর্ত ঘরটা নিস্তব্ধ রইল। তারপর আচমকাই স্টিফেনের মুখের কঠোরতা মিলিয়ে গেল। ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল।
“যাই হোক…” তিনি ধীরে টেবিলের ওপর রাখা একটি ফাইল তুলে ধরলেন। “Congratulations, Megh.”
মেঘ বিস্ময়ে মাথা তুলল। স্টিফেন এবার উঠে দাঁড়ালেন। তার কণ্ঠে গাম্ভীর্যের সঙ্গে স্পষ্ট প্রশংসা, “রুশের বিষাক্ত উপাদান শনাক্ত করা এবং সেটার বিষক্রিয়া পরীক্ষায় প্রমাণ করা এটা এই দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হতে পারে। তুমি জানো এর অর্থ কী?”
মেঘ হতবাক হয়ে টেবিলের দিকে তাকাল। ওখানে তার নিজের টাইপ করা রিপোর্ট। প্রতিটি পৃষ্ঠা, প্রতিটি গ্রাফ, প্রতিটি পর্যবেক্ষণ সব তারই। তার কপাল কুঁচকে গেল, “স্যার… এই রিপোর্ট এখানে এল কীভাবে?”
স্টিফেন হালকা হাসলেন, “তুমি না জানালেও সব খবর আমার কাছে পৌঁছে যায়, মেঘ। পুরো গবেষণাগার সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের আওতায়। তোমার কাজ, তোমার পরীক্ষা সবই আমার নজরে থাকে।”
মেঘের চোখে প্রশ্ন জমাট বাঁধল, “কিন্তু রিপোর্টটা… কে জমা দিয়েছে?”
“তোমার বন্ধু।”
মুহূর্তে মেঘের মুখের রং বদলে গেল। “স্যার, একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এই আবিষ্কার আমার নয়।”
“Explain.”
মেঘ সব খুলে বলল। আব্দুল্লাহ আল হামজার ড্রাফট, সেই পুরনো গবেষণা নথি, আর তারপর সেই সূত্র ধরে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে বিষক্রিয়া প্রমাণ করাসহ সব। তার গলায় ছিল নিখাদ সততা। “আমি শুধু তার অসমাপ্ত গবেষণাটাকে যাচাই করেছি, স্যার। এই গবেষণার প্রকৃত কৃতিত্ব গবেষক আব্দুল্লাহ আল হামজার। আমার নাম থাকলে সেটা অন্যায় হবে।”
ডক্টর স্টিফেন কয়েক সেকেন্ড স্থির দৃষ্টিতে মেঘের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর তার মুখে এক তৃপ্ত হাসি ফুটে উঠল, “আমি বহু বছর ধরে বিজ্ঞানী দেখেছি, মেঘ। প্রতিভাবান মানুষ অনেক আছে। কিন্তু সততা? সেটা বিরল।”
তিনি এগিয়ে এসে মেঘের কাঁধে হাত রাখলেন। “আজ তুমি প্রমাণ করলে তুমি শুধু বিজ্ঞানী নও, বড় মানুষও। আব্দুল্লাহ আল হামজারের নাম যথাযথ সম্মানেই প্রকাশ পাবে। আর তোমার নাম থাকবে পরীক্ষাগত ভাবে গবেষণার পূর্নতা দেয়ার জন্য।”
মেঘ অদ্ভুত ভাবে অভিভূত হল। সে কখনোই তার হামজা আংকেলকে দেখে নি। তবে যতটা শুনেছে তিনি ওর আদর্শে এবং সম্মানের জায়গায়। তার সাথে নিজের নামটা শোনাও কেমন গর্ববোধ করাচ্ছে তাকে।
অফিস থেকে বেরিয়েই মেঘের চোখ পড়ল করিডোরের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা ইমরানের ওপর। ইমরান দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে। মেঘকে বেরোতে দেখেই সোজা হয়ে দাঁড়াল। কিন্তু মেঘ কোনো কথা না বলে তার হাত চেপে ধরে টেনে গবেষণাগারের এক ফাঁকা অংশে নিয়ে গেল, “তুই রিপোর্টটা দিলি কেন?”
ইমরান থমকে গেল, “আমি তো ভেবেছিলাম তুই ব্যস্ততায় দিতে পারছিস না। তোর এত দারুন একটা আবিষ্কার সকলের জানা উচিত।”
“আমার অনুমতি ছাড়া?”
“হ্যাঁ। কারণ আমি তোর সফলতা দেখতে চাই, মেঘ।”
“আমি এটা এখনই প্রকাশ করতে চাই নি।”
“কিন্তু আমি চেয়েছি। রুশের বিষাক্ততা বিপদ আনছে মানুষের। সেটা থেকেও তো একটা সুরক্ষা দরকার।”
মেঘ চুপ। ইমরান ধীরে বলল, “তাছাড়া সবসময় নিজেকে আড়ালে রাখিস। তোর কাজের কৃতিত্ব অন্যরা নিয়ে যাক এটা আমি দেখতে পারি না। তুই যা করেছিস, তার স্বীকৃতি তোর প্রাপ্য।”
মেঘ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ইমরান ওর বন্ধু নয় ভাই। ওকে প্রচন্ড রকম ভালোবাসে এই ছেলেটা। মেঘের ছায়া ইমরান। মেঘের রাগটা যেন মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। তারা আরও কয়েক ঘণ্টা গবেষণাগারেই কাটালো। কালো আংটিটার ওপর পরীক্ষা চলল, স্ক্রিনে নতুন নতুন ডেটা ভেসে উঠল। সব কাজ শেষ করে তারা বের হতেই দেখলো, শহরের আকাশে নরম কুয়াশা নেমেছে। দুজনে আজিম চাচার টং দোকানে বসলো কিছু সময়।
আজিম চাচা নিজ হাতে কাচের গ্লাসে ধোঁয়া ওঠা চা এগিয়ে দিলেন। “আজ খুব ক্লান্ত লাগতেছে বাবারা।”
ইমরান হেসে বলল, “চাচা, আপনার চা খেলেই সব ক্লান্তি চলে যাবে।”
মেঘ চুপচাপ গ্লাসটা হাতে নিল। আজিম চাচা জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের আরো লোক কোই? কলেজে আসে না দেখি অনেক দিন। তোমরাও তো আসো না।”
মেঘ আর ইমরান দুজন দুজনের দিকে একবার তাকিয়ে নিল। সত্যিই জীবনটা অদ্ভুত হয়ে গেছে। কত দিন একসাথে দেখা হয় না। বসা হয় না! দু'জনের চোখেই একই শূন্যতা। তবে মুখে শব্দ নেই।
রাস্তার ওপারে শহরের আলো ঝাপসা হয়ে জ্বলছে। দূরে কোথাও রাতের ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল। মেঘ ইমরানকে নামিয়ে দিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরলো। আজকের দিনটা অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ ছিল। মেঘ সোজা ওয়াশরুমে গিয়ে মুখে ঠান্ডা পানি দিল। বেশ লম্বা সময় সাওয়ার নিয়ে ঘরে ফিরলো। গবেষণাগারে প্রবেশের সময় সেই যে ফোন বন্ধ করেছিল সেটা আর অন করতেই মনে ছিল না মেঘের। সে ফোনটা সুইচ অন করতেই টুং করে মেসেজ ঢুকল। প্রীয়তার পাঠানো একের পর এক ছবি। ১৭টা মিসড মেসেজ।
প্রথম ছবিটা দেখে মেঘ ভ্রু কুঁচকাল। সাদা কাগজে কালো কালিতে আঁকা এক ফণা তোলা সাপ। নিখুঁত স্কেচ। বিষাক্ত চোখ। পাক খাওয়া শরীর। দ্বিতীয় ছবিতে আরও স্পষ্ট। স্কেলের মাপ, অ্যানাটমিক্যাল ডিটেইলস। নিচে বড় করে লেখা, “KING COBRA”
মেঘের চোখ সরু হয়ে এল। পরের ছবিটা খুলতেই সে থমকে গেল। শেহতাজের জন্মসনদ। তার চোখ গিয়ে থামল মায়ের নামের লাইনে,
Mother: Ileana D’Souza
মেঘ কয়েক সেকেন্ড নির্বাক হয়ে বসে রইল।
“ইলিয়ানা ডিসুজা?” সে নিজের অজান্তেই ফিসফিস করল। তার জানা সব রেকর্ড, সব পরিচিত তথ্য, সব পাবলিক ডেটাবেসে শেহতাজের মায়ের নাম আনজুম আরা বেগম। তাহলে এই নামটা কোথা থেকে এল?
তারপর একে একে ভেসে উঠল পিস্তলের ছবি। সাইলেন্সার। ম্যাগাজিন। অচেনা মানুষদের ফটো। লাল কালি দিয়ে ক্রসচিহ্ন।
মেঘের মুখের রঙ বদলে গেল। সে এক মুহূর্তও দেরি করল না। ড্রয়ার থেকে ল্যাপটপ বের করে টেবিলে রাখল। ঘরের সব আলো নিভিয়ে শুধু ডেস্কল্যাম্প জ্বালাল। তারপর প্রীয়তার পাঠানো সাপের ছবিটা স্ক্যান করে হাই-রেজোলিউশন ফরম্যাটে কনভার্ট করল।
প্রথম সার্চে তেমন কিছুই এল না। সাধারণ প্রাণিবিদ্যার রেফারেন্স, কিং কোবরার শারীরিক গঠন, বিষক্রিয়ার তথ্য। কিন্তু মেঘ থামল না। সে আরও গভীরে ঢুকল। ছোটবেলা থেকেই তার এই সাইবার জোন, ইন্টারনেট নিয়ে বেশ ইন্টারেস্ট। তাই এসব খুঁটিনাটি তার নখদর্পনে। ডার্ক আর্কাইভ, পুরনো নিউজ আর্কাইভ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ডেটাবেস, অবসোলিট ইন্টারপোল রিপোর্ট, ক্লোজড ফোরাম একটার পর একটা স্তর খুলতে লাগল। তারপর…স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটা পুরনো রিপোর্ট।
“The King Cobra Syndicate: Europe’s Silent Venom.”
মেঘের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। ফাইলটা খুলতেই একের পর এক ভয়ংকর তথ্য সামনে আসতে লাগল। প্রায় আট বছর আগে ইউরোপের কয়েকটি দেশে একাধিক হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড, হীরক চোরাচালান, আর বায়োলজিক্যাল কন্ট্রাব্যান্ড ট্রাফিকিংয়ের তদন্তে উঠে এসেছিল এক রহস্যময় মাফিয়া নেটওয়ার্কের নাম, কিং কোবরা। তাদের সদস্যদের পরিচয়চিহ্ন ছিল হাতে খোদাই করা কিং কোবরা ট্যাটু। ঠিক যেমনটা শেহতাজের হাতে। মেঘের বুকের ভেতর কাঁপন ধরল। সে আরও পড়তে লাগল।
সংগঠনটার কার্যপদ্ধতি ছিল অদ্ভুত। তারা প্রকাশ্যে কখনো অস্তিত্ব স্বীকার করত না। তাদের সদস্যরা সাধারণ ব্যবসায়ী, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা কিংবা গবেষক পরিচয়ে সমাজে মিশে থাকত। বাইরে থেকে সম্মানিত মুখ। ভেতরে ছায়াজগতের বিষধর সাপ। সেভেন সিক্রেট নামেই তারা নিজেদের হাইড রাখত। এই হিসেবে ধারণা করা যায় তাদের মূল টিমে সাতজন মানুষ। মেঘের আঙুল কীবোর্ডে আরও দ্রুত চলতে লাগল। সে সরাসরি সার্চ দিল, Shehtaz Sheikh
একটার পর একটা ইন্টারভিউ উঠে এল। ডায়মন্ড ব্যবসায়ী। আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা। দাতব্যকর্মী। বিনয়ী, মার্জিত, নিখুঁত ইমেজ। একটা ভিডিও ইন্টারভিউতে সাংবাদিক হেসে প্রশ্ন করেছিল, “আপনার হাতের কিং কোবরা ট্যাটুর কোনো বিশেষ অর্থ আছে?”
শেহতাজ ঠান্ডা হাসি হেসে উত্তর দিয়েছিল, “It’s personal.”
চলবে.... 💝
#রুশ_রহস্য_দ্বিতীয়_পরিচ্ছেদ
#রুশ_রহস্য (রুশ এবং রহস্য)
#সাদিয়া_তিন্তি
বিঃদ্রঃ অনুগ্রহ পূর্বক কার্টেসি ছাড়া কপি করবেন না।
{ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর নিজেদের মন্তব্য রেখে যাবেন অবশ্যই ♥️