#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকাঃ_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ৫
চারপাশের গাছগাছালি থেকে পাখির কিচিরমিচির শব্দ ভেসে আসছে ৷ উষা শান্ত চোখে মা আর ছোট মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ শাড়ির আঁচল দিয়ে উনারা চোখের পানি মুছে নিলেন ৷ নিজেকে ধাতস্ত করে উর্মিলা রহমান বললেন,,
এতোসব হয়ে গেল আর উৎসাহ আমাদের কিছুই বলল না? আমাদের ফোন করে বললে কি আপত্তি করতাম?
উষা স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,, হয়তো ভাইয়া ভেবেছে জিনির মতো মেয়েকে তোমরা বউমা হিসেবে মেনে নিবে না যেহেতু ও কিডন্যাপ হয়েছিল আর তিনদিন অনেকগুলো ছেলের সাথে ছিল ৷
মিতা ইয়াসমিন অভিমানী কন্ঠে বলে উঠল,, উৎসাহ আমাদের এই চিনল? আমরা কি ওই মহিলাগুলোর মতো যে জিনিকে ভুল বুঝব?
উর্মিলা রহমান কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,, আমরা বুঝি এতোই খারাপ যে একটা মেয়ে কিডন্যাপ হওয়ার কারনে তাকে আমরা চরিত্র'হীনা ভাবব?
উৎকর্ষ হাত উচিয়ে বলল,, চুপ করো তোমরা ৷ ওই মাথামোটার গা'ধামো লজিক শুনে ভাইকে ভুল বুঝবে না খবরদার!
উষা চোখ পাকিয়ে বলল,,তাহলে আপনি বলুন দেখি কি কারনে ভাইয়া আমাদের কিছু না জানিয়েই বিয়েটা করল?
উৎকর্ষ শীতল চোখে উষার দিকে তাকিয়ে বলল,, তুই বললি না মহিলাগুলো জিনির বাবার দিকে জুতা ছু'ড়ে মে'রেছিল?
হু ৷
তারপর ভাই উনাদের গ্রেফতার করার ভয় দেখানোর পরেও জিনিকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলা থামায় নি ঠিক না?
একদম ঠিক ৷ আপনি কি বলতে চাচ্ছেন?
আমি বলতে চাচ্ছি যে ভাই যদি তৎক্ষণাৎ বিয়ে না করতো তাহলে এই মহিলাগুলো না জানি জিনির পরিবারকে কতটা অপদস্ত করতো ৷ তখন ভাইয়ের মাথায় শুধু জিনির পরিবারের সম্মান বাঁচানোর কথা ঘুরতেছিল তাই বাড়িতে ফোন দেওয়ার সময় পায়নি ৷ তারপরেও বিয়ে করা শেষেই ভাই আমাকে ফোন করে বিয়ে করার কথা বলেছিল যদিও কারনটা বলেনি কেননা ভাই চেয়েছিল বাড়িতে এসে সবাইকে সামনাসামনি সবকিছু বোঝাতে ৷
পাশ থেকে উর্মিলা রহমান বলে উঠলেন,, তাহলে বাড়িতে এসেও সবকিছু কেন বলল না আমাদের?
উৎকর্ষ এবার বড় মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,, তোমরা কথা বলার সুযোগ দিয়েছিলে? তোমরা তো ছিলে তোমাদের অভিমান নিয়ে ৷
মিতা ইয়াসমিন বললেন,, অভিমান করব না কেন? বাড়ির বড় ছেলের বিয়ে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল সব তো শেষ করে দিল ৷
উৎকর্ষ আড়মোড়া ভেঙে মুচকি হেসে বলল,, সমস্যা কি আবার বিয়ে দিব ৷ তাছাড়াও আমার বিয়ে তো এখনও বাকি আছে ৷ তখন না হয় নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করো ৷
বিয়ের কথা শুনতেই উষা মুখভার করে উৎকর্ষের দিকে তাকাল ৷মায়েদের থেকে মুখ ঘুরিয়ে উৎকর্ষ উষার দিকে তাকাল ৷ ও তাকাতেই উষা দ্রুত ওর থেকে চোখ সরিয়ে নিল ৷ উৎকর্ষ শান্ত চোখে কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ উর্মিলা রহমান নিজেকে সামলে নিয়ে কন্ঠটা গম্ভীর করে উষাকে বলল,,
যাও গিয়ে ওকে নিয়ে আসো ৷
উষা অন্যমনস্ক হয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকায় মায়ের কথা শুনতে পেল না ৷ উর্মিলা রহমান পুনরায় বললেন,,
শুনতে পারছো না?
উষা চ'মকে উঠে বলল,, হু?
ওকে নিয়ে এসো ৷
উষা অবাক হয়ে বলল,, কাকে?
কাকে আবার তোমার প্রাণের ভাবীকে ৷
মা এখনও জিনির উপর রে'গে আছো?
আহ বেশি কথা বলো না ৷ যাও গিয়ে নিয়ে এসো তোমার কলিজার ভাবীকে ৷
মা!
যেতে বলেছি উষা ৷ আমাকে রা'গাবে না ৷
উষা মনমরা হয়ে বাড়ির ভিতরে চলে গেল ৷ কয়েক মিনিট পর উষা জিনিকে নিয়ে আসল ৷ জিনি মাথা নিচু করে বলল,,
আমাকে ডেকেছিলেন?
উর্মিলা রহমান গম্ভীর গলায় বললেন,, হ্যাঁ ডেকেছি ৷ বাড়ির সবাই এখানে আছে তো তুমি কেন একা একা ঘরে বসে থাকবে?
আপনাদের সামনে এসে আপনাদের কোনো ক'ষ্ট দিতে চাই না ৷
মিতা ইয়াসমিন চোখ সরু করে বললেন,, তুমি কি আমাদের দা'জ্জাল শ্বাশুড়ির উপাধি দিতে চাচ্ছ?
জিনি ব্যস্ত হয়ে বলল,, না না আমি সেভাবে বলিনি কথাটা ৷
উর্মিলা~ তো কিভাবে বলতে চেয়েছিলে? আমরা কি তোমাকে আমাদের সামনে আসতে মানা করেছি? নাকি তোমাকে ক'টু কথা শুনিয়েছি বা নি'র্যাতন করেছি?
জিনি দারুন অস্বস্তিতে পড়ে গেল ৷ কন্ঠটা নমনীয় করে বলল,, আমি আপনাদের আঘাত দেওয়ার জন্য কথাটা বলিনি আন্টি ৷ মাফ করে দিন ৷
এতোক্ষণ দুজনেই অন্যদিকে মুখ রেখে কথা বলতেছিল ৷ এবার তড়াক করে জিনির দিকে চোখ ঘুরিয়ে উর্মিলা রহমান বললেন,,
আন্টি বলছো কেন? আমি তোমার স্বামীর মা ৷ তুমিও আমাকে মা বলে ডাকবে ৷
মিতা ইয়াসমিন~ আর আমাকে ছোট মা বলে ডাকবে ৷ বুঝতে পেরেছো?
জিনির অস্বস্তি কমে গেল ৷ মৃদু হেসে বলল,,, জ্বি বুঝতে পেরেছি ৷
তারপর উর্মিলা রহমান নিজের পাশের চেয়ারটাতে হাত রেখে বললেন,, এখানে এসে বসো ৷
জিনি কয়েক মূহুর্ত ভেবে ধীর পায়ে শ্বাশুড়ির পাশে গিয়ে বসে পড়ল ৷ মিতা ইয়াসমিন ফ্ল্যাক্স থেকে কাপে চা ঢেলে জিনিকে দিয়ে বলল,
চা খাও ৷ চা খেলে মাইন্ড ফ্রেস থাকে ৷
জিনি মুচকি হেসে চায়ের কাপটা নিয়ে নিল ৷ উর্মিলা আর মিতা দুজনেই চা খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে আড়চোখে জিনির দিকে তাকাচ্ছে ৷ প্রথমের দিকে জিনিকে রিমান্ডে নিয়ে একটার পর একটা প্রশ্ন করার সময় উষার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়েছিল কিন্তু এখন অনেকটা হালকা লাগছে ৷ মুচকি হেসে উষা উৎকর্ষের পাশের চেয়ার টাতে গিয়ে বসল ৷ উৎকর্ষ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,
উষা যা এক কাপ কফি বানিয়ে আন ৷
উষা কাটকাট গলায় বলল,, পারব না ৷ নিজে গিয়ে বানিয়ে খান নয়তো বিয়ে করে বউ নিয়ে আসুন ৷ প্রতিদিন কফি বানিয়ে দিবে আপনাকে ৷
উৎকর্ষ বাকা হেসে বলল,, আনব তো ৷ তবে যতদিন বউ না আনছি ততদিন তুই বানিয়ে খাওয়াবি ৷ এখন যা নিয়ে আয় ৷
উষা ক্ষু'ব্ধ চাহনিতে উৎকর্ষের দিকে তাকাল ৷ সেটা পাত্তা না দিয়ে উৎকর্ষ ফোন scrolling করতে লাগল ৷ পাশ থেকে উর্মিলা রহমান খেকিয়ে উঠে বললেন,,
কি হলো যাও উৎকর্ষের জন্য কফি বানিয়ে আনো ৷ কফি বানানো ছাড়া তো আর কিছুই পারো না ৷ সেটাও যদি না করো তাহলে তুমি করবে টা কি? শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তো আমাদের নাক কাটাবে ৷
উষা রা'গি মুখে ধুপধাপ পা ফেলে কিচেনে চলে গেল ৷ কফি বানাতে বানাতে উষা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,
খুব শখ বিয়ে করার তাই না? এতোই যখন শখ তাহলে আমাকে বিয়ে করলেই তো পারেন ৷ বাইরের মেয়ে আনার কি দরকার ৷ আর সবচেয়ে বড় কথা তাহলে তো আমি কাজ না পারলেও কেউ আমার বাপের বাড়ি তুলে গা'লি দিতে পারবে না ৷
এভাবেই বিরবির করতে করতে উষা কফি বানিয়ে লনে চলে গেল ৷ উৎকর্ষের হাতে কফি দিয়ে উমার পাশের চেয়ারে গিয়ে বসে পড়ল ৷ ভ্রু কুঁচকে সেদিকে এক নজর চোখ বুলিয়ে নিল উৎকর্ষ ৷ জিনি এতোক্ষন সন্ধানী চোখে উষা আর উৎকর্ষের গতিবিধি লক্ষ্য করে মুচকি হাসল ৷
সন্ধ্যার দিকে উমায়েত আর উসায়েত ফারুকী বাড়িতে ফিরলেন ৷ এসেই গম্ভীর কন্ঠে সবাইকে ডাকতে শুরু করলেন ৷ কিচেন থেকে উর্মিলা আর মিতা ছুটে আসলেন ৷ উর্মিলা রহমান ভ্রু কুঁচকে বললেন,,,
কি হয়েছে এতো চেঁচামেচি শুরু করেছেন কেন?
উমায়েত ফারুকী গম্ভীর গলায় বললেন,, চেঁচামেচি করব না তো কি করব? তোমাদের গুণধর ছেলে তো কাউকে কিছু না বলেই বিয়ে করে এনেছে ৷
উর্মিলা~ বিয়ে করেছে বেশ করেছে ৷
মিতা~ আমাদের ছেলে বিয়ে করায় আমরা ওর প্রতি গর্ববোধ করতেছি ৷
দুভাই অবাক হয়ে উনাদের দিকে তাকিয়ে আছেন ৷ উসায়েত ফারুকী উর্মিলাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,,,
ভাবী তোমরাই না ফোন দিয়ে কেঁদে কেঁদে একাকার হয়ে গিয়েছিলে উৎসাহ না জানিয়ে বিয়ে করায়? এখন আবার কি হলো?
উর্মিলা~ ছেলে বড় হয়েছে ৷ ওকে বিয়ে দেওয়ার তোমাদের কোনো তাড়াই নেই ৷ সেজন্য আমাদের ছেলে নিজ দায়িত্বে বিয়ে করে এনেছে ৷ এতেও তোমাদের সমস্যা?
উমায়েত ফারুকী হতাশার শ্বাস ফেলে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,,, মেয়েদের মন বোঝা বড়ই কঠিন ৷
উসায়েত ফারুকীও ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে হতাশার শ্বাস ফেলল ৷ পুনরায় উমায়েত ফারুকী বললেন,,,
সে না হয় মানলাম কিন্তু এভাবে বিয়ে করার কি দরকার ছিল? আমাদের বললেই তো ধুমধাম করে বিয়ে দিয়ে দিতাম ৷
মিতা ইয়াসমিন ভাব নিয়ে বললেন,, আমাদের ছেলে ইউনিক ভাবে বিয়ে করতে চেয়েছিল তাই না জানিয়েই করেছে ৷ নতুন জিনিসের অভিজ্ঞতা হওয়া ভালো ৷
উর্মিলা রহমান সায় দিয়ে বললেন,, তাই তো ৷ আর যদি এতো সমস্যা হয় তাহলে আবার ওদের বিয়ে দিব ৷
দু ভাই শান্ত চোখে নিজেদের বউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ তারপর একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে ইশারা করে বোঝাল "ওদের সাথে তর্কে জেতা আমাদের কর্ম নয় ৷ হার মেনে নেওয়াই উত্তম ৷"
চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে উষা, উমা আর জিনি ড্রয়িংরুমে চলে আসল ৷ জিনির দিকে চোখ পড়তেই দু ভাইয়ের গম্ভীর মুখ শীতলতায় ছেয়ে গেল ৷ উসায়েত ফারুকী ভাইয়ের কানে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল,,
উৎসাহের পছন্দ আছে বলতে হচ্ছে ৷
তখনই সদর দরজা দিয়ে উৎসাহ ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করল ৷ সবার দিকে তাকিয়ে উৎসাহ নরম কন্ঠে বলল,,,
তোমাদের সাথে আমার কিছু কথা ছিল ৷
মিতা ইয়াসমিন ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে শাড়ির আঁচল দিয়ে ওর কপালের ঘাম মুছে দিয়ে বললেন,,
পরে বলিস বাবা ৷ কাজ করে আসলি ৷ ফ্রেশ হয়ে নিচে খেতে আয় ৷ পরে যা বলার বলিস ৷
উৎসাহ অবাক হয়ে সবার দিকে তাকাল ৷ তারপর জিনির দিকে তাকাতেই উমা বলে উঠল,,,
ভাইয়া, মা আর বড় মা ভাবীকে মেনে নিয়েছে ৷ আজকে লনে বসে আমরা সবাই চা খেতে খেতে গল্প করেছি ৷ দারুন মজা হয়েছে ৷
উৎসাহ চোখ বড় বড় করে একবার মা আর ছোট মায়ের দিকে তাকাল আরেকবার জিনির দিকে তাকাল ৷ জিনি মাথা নিচু করে উষার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ৷ উর্মিলা রহমান তাড়া দিয়ে বললেন,,
উৎসাহ বাবা যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও ৷
উৎসাহ নিজের হতভম্ভ ভাব কাটিয়ে সিড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে গেল ৷ তারপর ডায়নিং টেবিলে এসে জিনির পাশে চেয়ার টেনে বসে পড়ল ৷ উষা বারবার দোতলার দিকে তাকাচ্ছে উৎকর্ষ আসল কিনা দেখার জন্য ৷ লন থেকে আসার পরই ও ঘুমিয়ে পড়েছিল এখনও উঠেনি ৷ উর্মিলা রহমান বলে উঠলেন,,
উৎকর্ষ বাবা কি এখনও উঠেনি?
সুযোগ পেয়ে উষা বলে উঠল,, মা আমি গিয়ে দেখে আসছি ৷
কারো উত্তরের অপেক্ষা না করেই উষা দৌঁড়ে দোতলায় চলে গেল ৷ দোতলার সবশেষের রুমটা উৎকর্ষের , প্রথমের টা উষার আর মাঝের টা উৎসাহের ৷উষা দরজাটা আলতো করে ফাঁক করে রুমের ভিতর চোখ বুলিয়ে দেখল উৎকর্ষ উদম গায়ে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে ৷ ওকে উদম গায়ে দেখতেই উষা ল'জ্জা পেয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রুমে ঢুকে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,,
এই যে শুনছেন উঠুন ৷ আপনাকে খেতে ডাকছে ৷
বেশ কয়েকবার ডাকার পর উৎকর্ষ চোখ মেলে তাকাল ৷ তারপর উষাকে অন্যদিকে মুখ করে রাখতে দেখে হাই তুলে বলল,,,
ওদিকে তাকিয়ে আছিস কেন?
আপনার ল'জ্জা করে না এভাবে খালি গায়ে ঘুমাতে?
উৎকর্ষ মুচকি হেসে বলল,, না করে না ৷
খেতে আসুন ৷
বলেই উষা অন্যদিকে মুখ রেখেই দৌঁড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল ৷ ওর অবস্থা দেখে উৎকর্ষ রহস্যময় হাসি হেসে অস্ফুট স্বরে বলল,,
ল'জ্জাবতী প্রেয়সী ৷
তারপর ফ্রেশ হয়ে উৎকর্ষ নিচে চলে গেল ডিনার করার জন্য ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎসাহ ল্যাপটপে কাজ করতেছে ৷ জিনি বিছানা ঝেড়ে গুটিশুটি মেরে বিছানার এক কোনায় বসে আছে ৷ ওর ভীষন অস্বস্তি লাগতেছে উৎসাহের সাথে এক বিছানায় ঘুমাতে হবে এটা ভেবে ৷ উৎসাহ ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে জিনির দিকে ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হয়তো ওর মনের কথাগুলো পড়ে ফেলল ৷ শীতল কন্ঠে বলল,,
তুমি নিশ্চিন্তে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ো জিনাত ৷ আমি সোফায় ঘুমিয়ে পড়ব ৷
উৎসাহের কথায় জিনি চ'মকে উঠল ৷ বিরবির করে বলল,,
উনি কিভাবে বুঝলেন আমি এটা নিয়েই চিন্তা করতেছি?
ওকে অবাক হতে দেখে উৎসাহ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,, অবাক হওয়ার কিছু নেই ৷ ভুলে যেও না আমি সিআইডি অফিসার ৷ এতোটুকু বোঝা আমার জন্য বড় কোনো ব্যাপার না ৷ আজকে অনেক জার্নি করেছো ৷ নিশ্চয় অনেক ক্লান্ত ৷ তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ো ৷
জিনি কিছুক্ষণ ইতস্তত করে বিছানার এক সাইডে পা গুটিয়ে শুয়ে পড়ল ৷ কিছু সময় পর উৎসাহ কাজ শেষ করে রুমের লাইট অফ করে দিয়ে সোফায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ৷ জিনি এখনও পুরোপুরি ঘুমোয়নি ৷ উৎসাহকে ঘুমাতে দেখে জিনিও এবার ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেল ৷
মাঝরাতে কারো গোঙানির আওয়াজ শুনে উৎসাহের ঘুম ভেঙে গেল ৷ কান খাড়া করে চোখ খুলে উৎসাহ পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করল ৷ বিছানায় চোখ যেতেই ডিম লাইটের মৃদু আলোয় দেখল জিনি ঘুমন্ত অবস্থায় ছটপট করতেছে ৷ উৎসাহ দ্রুত উঠে লাইট জ্বালিয়ে দিয়ে জিনির গালে হালকা থা'প্পড় দিয়ে ব্যস্ত কন্ঠে বলল,,
কি হয়েছে জিনাত? আমার কথা শুনতে পাচ্ছ? চোখ খোলো ৷
কয়েক মুহূর্ত পর জিনি চোখ মেলে তাকাল ৷ পুরো শরীর ঘেমে ভিজে গেছে ওর ৷ ঘুমের ঘোরে একটা ছেলেকে নিজের সামনে দেখে জিনি মৃদু আ'র্তনাদ করে দূরে সরে গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,,
আমাকে ছুঁবেন না ৷ দূরে যান ৷ আমাকে আর আমার ভাইকে ছেড়ে দিন ৷
জিনাত আমি উৎসাহ ৷ তোমাকে আমি বিয়ে করেছি ৷ তুমি এখন আমার রুমে আছো ৷
জিনি হাত দিয়ে চোখ ডলে উৎসাহকে ভালো করে দেখল ৷ তারপর অপ্রত্যাশিত ভাবে উৎসাহের বুকে ঝাপিয়ে পড়ে কাঁদতে লাগল ৷ এমন ঘটনায় প্রচন্ড অবাক হলেও উৎসাহ নিজেকে সামলে নিয়ে জিনির মাথায় হাত রেখে শীতল গলায় বলল,,
রিল্যাক্স কিছু হয়নি ৷ ওটা একটা দুঃস্বপ্ন ছিল ৷ আমি থাকতে তোমাকে কেউ ছুঁতে পারবে না ৷
জিনি এখনও শক্ত করে উৎসাহকে জরিয়ে ধরে আছে ৷ হঠাৎ হুশ ফিরতেই জিনি উৎসাহকে ছেড়ে দিয়ে দূরে গিয়ে মাথা নিচু করে বলল,,
দুঃখিত ৷
দুঃখিত বলার কিছু নেই ৷ ঘুমিয়ে পড়ো ৷
বলেই উৎসাহ লাইট অফ করে সোফায় গিয়ে চোখের উপর হাত রেখে ঘুমিয়ে পড়ল ৷ জিনি কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে নিজেও ঘুমিয়ে পড়ল ৷
চলবে,,,,,