ফন্ট সাইজ:
থিম:
ডুবেছি তোমার মায়ায়

১৪তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান
#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান 
#পর্বঃ১৪
জানালা দিয়ে সকালের মিষ্টি রোদ এসে মুখে পড়তেই উৎসাহের চোখ কুঁচকে গেল ৷ চোখের উপর হাত দিয়ে কিছুক্ষণ রোদ আটকানোর চেষ্টা করে শেষে ব্যর্থ হয়ে চোখ মেলে তাকাল ৷ হাই তুলতে তুলতে হঠাৎ পাশে তাকাতেই ও চ'মকে উঠল ৷ জিনি ওর শিয়রে বসে বিছানায় আধশোয়া হয়ে ঘুমিয়ে আছে ৷ সূর্যের আলো এসে ওর মুখে পড়ায় মুখটা একদম মোমের পুতুলের মতো লাগছে ৷ উৎসাহ মুগ্ধ নয়নে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ জিনি সূর্যের আলোর জন্য চোখমুখ কুঞ্চিত করতেই উৎসাহ ওর মুখের উপর নিজের হাত দিয়ে সূর্যের আলো আটকানোর চেষ্টা করতে করতে বলল,,
আমার বিবিজানকে ঘুমাতে দাও ৷ ডিস্টার্ব করবে না একদম সূর্যমামা ৷
কিছুক্ষণ পর জিনির ঘুম ভেঙে গেল ৷ উৎসাহ এখনও ওর মুখের উপর নিজের হাত দিয়ে আছে ৷ আড়মোড়া ভেঙে ও উৎসাহের দিকে তাকিয়ে বলল,,
কখন ঘুম ভেঙেছে? আমাকে ডাকেননি কেন? কি লাগবে আপনার?
উৎসাহ শান্ত গলায় বলল,, এতো ব্যস্ত হতে হবে না ৷ আমি একদম ঠিক আছি ৷
ঠিক আছে বললেই হলো নাকি? আমাকে দেখতে দিন ৷
বলেই জিনি উৎসাহের কপালে হাত দিল ৷ তারপর ভ্রু কুঁচকে বলল,,
জ্বর একটু কমেছে কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হননি ৷
উৎসাহ শীতল চোখে জিনির সিরিয়াস মুখটার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ জিনি পুনরায় বলা শুরু করল,,,
উঠুন ফ্রেশ হয়ে নিন ৷ তারপর কিছু খেয়ে ওষুধ খাবেন ৷
উৎসাহ বাধ্য ছেলের মতো উঠে বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসল ৷ ফোন হাতে নিয়ে সময় দেখতেই ব্যস্ত হয়ে বলল,,
 নয়টা বেজে গেছে! আমাকে ব্যুরোতে যেতে হবে জিনাত ৷ওখানে গিয়ে কিছু খেয়ে নিব ৷
জিনি গম্ভীর গলায় বলল,, এক পা ও নড়বেন না এসিপি সাহেব ৷ পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমি আপনাকে কোথাও যেতে দিব না ৷ আগে সুস্থতা পরে কাজ ৷ চুপচাপ বিছানায় গিয়ে বসুন ৷ আমি গরম গরম স্যুপ নিয়ে আসছি ৷
উৎসাহ জিনির দিকে তাকিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ৷ ওকে বসতে না দেখে জিনি ভ্রু কুঁচকে জোর করে ওকে বসিয়ে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল ৷ ওর যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে উৎসাহ আনমনে হেসে উঠে বলল,,
একদম মা আর ছোট মায়ের মতো শাসন করতে শুরু করেছো বিবিজান?
টেবিলে রাখা ফোনটা উঠিয়ে উৎসাহ রিফাতের কাছে ফোন দিল ৷ রিসিভ করেই রিফাত বলল,,
স্যার আপনি কখন আসবেন?
উৎসাহ শান্ত গলায় বলল,, কালকে বৃষ্টিতে ভেজায় জ্বর এসেছে তাই বউ যেতে দিচ্ছে না ৷
কথাটা শুনতেই রিফাত মিটমিটিয়ে হাসল তারপর কন্ঠটা স্বাভাবিক করে বলল,, তাহলে না আসাই ভালো স্যার ৷  বউয়ের কথার অমান্য হওয়া ভালো পুরুষের গুণ নয় ৷ ম্যামের কথা শুনুন স্যার ৷ কাজ পরেও করা যাবে ৷
হয়েছে ৷ কাজটাও সমান জরুরি ৷ শোনো আমি ইন্সট্রাকশন যেভাবে দিচ্ছি সেভাবে সবকিছু  রেডি করে রাখো ৷ ২ দিন পর আমাদের মিশন যেন smoothly সম্পূর্ণ হয়ে যায়, গট ইট?
ইয়েস স্যার ৷
উৎসাহ রিফাতকে কাজ বুঝিয়ে দিতে লাগল ৷ 
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
জিনি কিচেনে গিয়ে উর্মিলা আর মিতা ইয়াসমিনের সামনে গিয়ে উশখুশ করতে লাগল ৷ ওকে ওমন করতে দেখে মিতা ইয়াসমিন নরম কন্ঠে বললেন,,,
কিছু বলবে মা?
জিনি ইতস্তত করে বলল,, ছোট মা একটু স্যুপ বানানো শিখিয়ে দিবেন? আসলে উনাকে খাওয়ালে উনার ভালো লাগবে ৷
মিতা জায়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল ৷ তারপর জিনিকে বলল,,
অবশ্যই শিখিয়ে দিব মা ৷ এদিকে আসো ৷
জিনি হাসিমুখে ছোট মায়ের কাছে গেল ৷ মিতা ইয়াসমিন দেখিয়ে দিচ্ছেন আর জিনি সে অনুযায়ী খুব মনোযোগের সহিত স্যুপ রান্না করতে লাগল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎসাহ ফোন কেটে সেটা টেবিলে রাখতেই জিনি স্যুপ নিয়ে রুমে প্রবেশ করল ৷ তারপর চোখ সরু চোখে জিনি উৎসাহের দিকে তাকাতেই উৎসাহ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,
সমস্যা নেই আমি যাব না ৷ যেতে না দাও ফোনে অন্তত কাজ করতে দাও ৷
জিনি ওর পাশে বসে বলল,, ঠিক আছে ৷ এখন চুপচাপ খেয়ে নিন ৷
জিনাত আমি অসুস্থ ৷
জানি তো ৷
তাহলে এটা কি তোমার উচিত নয় নিজ হাতে আমাকে তুলে খাওয়ানো?
জিনি বি'ব্রতিতে পড়ে গেল ৷ তারপর মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ ভেবে চামচে স্যুপ তুলে উৎসাহের মুখের সামনে ধরল ৷ উৎসাহ জিনির দিকে চোখ নিবদ্ধ রেখেই স্যুপ খেয়ে নিল ৷ খাওয়ার সাথেই ও মুখে হাত দিয়ে বলল,,
আহ্ এতো গরম কেউ খায়? অল্প একটুর জন্য জিহ্বাটা পুড়ে গেল না!
জিনি ব্যস্ত হাতে ওর দিকে পানি বাড়িয়ে বলল,, সরি আমি বুঝতে পারিনি ৷
উৎসাহ পানি খেয়ে গ্লাসটা টেবিলে রেখে দিল ৷ জিনি এবার চামচে স্যুপ নেওয়ার পর ফু দিয়ে ঠান্ডা করতে লাগল ৷ তারপর ওকে খাইয়ে দিতে লাগল ৷ উৎসাহ অপলক চাহনিতে ওর দিকে তাকিয়ে থেকে খেতে লাগল ৷ খেতে খেতে বিরবির করে বলল,,
তুমি যদি এভাবে সেবা-যত্ন করো তাহলে আমি সারাজীবন অসুস্থ থাকতে রাজি আছি বিবিজান ৷
এমন সময় কলেজ ড্রেস পড়ে উষা রুমে ঢুকে  উৎসাহকে বলল,,
এখন কেমন আছো ভাইয়া?
আলহামদুলিল্লাহ্ সুস্থ আছি ৷ তুই এখনও কলেজ যাসনি কেন?
জিনি রেডি হয়নি জন্য এখনও যাইনি ৷
জিনি তৎক্ষণাৎ বলে উঠল,, আমি আজ যাব না ৷ তুই যা ৷
উৎসাহ শীতল চোখে জিনির দিকে তাকিয়ে বলল,, যাবে না কেন? সামনে তোমার পরীক্ষা ৷
একদিন না পড়লে কিছুই হবে না ৷ আপনাকে অসুস্থ অবস্থায় রেখে আমি কলেজে যেতে পারব না ৷
উষা অন্যদিক মুখ করে সামান্য হাসল তারপর হাসি থামিয়ে মুখটা স্বাভাবিক করে বলল,, হ্যাঁ ভাইয়া জিনি বরং থাক ৷ আমি না হয় ওকে আজকের পড়া বুঝিয়ে দিব ৷
উৎসাহ আজ ভীষণ খুশি ৷ ওর বিবিজান ওকে নিয়ে এতো চিন্তা করে! উষা বিদায় জানিয়ে চলে গেল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎকর্ষ সদ্য গোসল সেরে অফিসের জন্য তৈরি হতে লাগল ৷ শুভ্র রঙের শার্টের সাথে নীল কোর্ট পড়ে চুল সেট করে নিল ৷ উষা গুটিশুটি পায়ে ওর দরজার সামনে এসে বলল,,
আসতে পারি?
উৎকর্ষ কপাল কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,, কি চাই?
আমাকে কলেজে ড্রপ করে দিবেন প্লিজ?
ভাইয়ের সাথে যা ৷ আমার গাড়িতে আমি পিচ্চি মেয়েদের বসার অনুমতি দেই না ৷
উষা থতমত মুখে বলল,, ভাইয়া অসুস্থ আর সেজন্য আজ জিনি কলেজ যাবে না ৷ 
উৎকর্ষ চকিতে উষার দিকে তাকিয়ে ব্যস্ত কন্ঠে বলল,, অসুস্থ মানে? কি হয়েছে ভাইয়ের?
এতো বি'চলিত হওয়ার কিছু হয়নি ৷ রাতে জ্বর এসেছিল জিনি ওষুধ খাইয়ে সুস্থ করে দিয়েছে ৷
উৎকর্ষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ব্যঙ্গ করে বলল,, পিচ্চি ভাবীর থেকে কিছু শেখ ৷ পড়াশোনার পাশাপাশি স্বামীর সেবা-যত্ন করে সওয়াবের পাল্লা ভারী করতেছে ৷
উষা বুকে দুহাত গুজে বলল,, আমার কি স্বামী আছে? থাকলে অবশ্যই আদর যত্নে ভরিয়ে রাখতাম ৷
বড় ভাইয়ের সামনে এসব বলতে একটুও ল'জ্জা করে না তোর? বে'শরম মেয়ে!
উষা ওর দিকে ক'টমট দৃষ্টিতে তাকাল ৷ তা দেখে উৎকর্ষ নিঃশব্দ হেসে মনে মনে বলল,,
তোকে জ্বা'লাতে এতো মজা লাগে কেন উষা!
রা'গ করে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে ধরতেই উৎকর্ষ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,
নিচে গিয়ে খেতে বস ৷ আমি ভাইয়ের সাথে দেখা করে আসতেছি ৷
উষা পিছনে না ঘুরেই গটগট পায়ে নিচে চলে গেল ৷ উৎকর্ষ ভাইয়ের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে নিচে ডায়নিং টেবিলে চলে গেল ৷ খাওয়া দাওয়া সেরে উৎকর্ষ আর উষা সবাইকে বিদায় জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎকর্ষের বিএমডাবলিউ গাড়িটা ধুলো উড়িয়ে ছুটে চলেছে ৷ উষা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে ৷ দুজনেই চুপচাপ বসে আছে ৷ আরো কিছু মুহূর্ত পর উৎকর্ষ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,,
তোর বয়স কত উষা?
হঠাৎ এমন প্রশ্নে উষা হকচকিয়ে ওর দিকে তাকাল ৷
কি হলো বল?
উষা অবাক হয়ে বলল,, আচমকা এমন প্রশ্ন করছেন কেন? জানেন না মেয়েদেরকে বয়স জিজ্ঞেস করতে নেই?
তুই মেয়ে! অনেক উপকার করলি ৷ আমি তো জানতামই না ৷
উষা রে'গে গিয়ে উৎকর্ষের পিঠে কয়েকটা ঘু'ষি মারল ৷ উৎকর্ষ হাসতে হাসতে গাড়ি চালানোয় মন দিল ৷ কয়েক মিনিট পর বলল,,
বুড়ি হয়ে যাচ্ছিস কিনা সেটা দেখতে হবে না? বিয়ে তো দিতে হবে নাকি?
উষা টিটকারি দিয়ে বলল,, নিজে ২৭ বছরের বুড়ো হয়ে আমাকে বুড়ি বলছেন? আমি এখনও শিশু ৷ আমার বয়স ১৭ আর সরকারের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু ৷
উৎকর্ষ মৃদু হেসে মনে মনে বলল,, তোকে এই ২৭ বছরের বুড়োকেই বিয়ে করতে হবে ৷ আর ২ টা বছর শুধু যাক তারপর তুই উৎকর্ষ আল ফারুকীর বউ হবি ৷
উৎকর্ষ কোনো জবাব না দেওয়ায় উষা চোখ সরু করে ওর দিকে তাকাল ৷ মুখভঙ্গি স্বাভাবিক রেখে উৎকর্ষ সামনের দিকে তাকিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে ৷ বাতাসের ঝাপটায় ওর সেট করা চুলগুলো কপালে এসে এলোমেলো ভাবে উড়ছে ৷ উষা হা হয়ে মুগ্ধ নয়নে একদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ বিরবির করে বলল,,
বারবার নিজের প্রেমে ফেলেন টমেটো সস! আমি দিনদিন আপনার প্রতি মা'রাত্মক ভাবে আ'সক্ত হয়ে যাচ্ছি!
উৎকর্ষ সামনে চোখ নিবদ্ধ রেখেই শান্ত স্বরে বলল,, আমার থেকে চোখ সরিয়ে সামনে দেখ উষা ৷
এভাবে ধরা পড়ায় উষা থতমত খেয়ে গেল ৷ লাজুক হেসে মাথা চুলকে ও মুখ ঘুরিয়ে নিল ৷ কিন্তু আড়চোখে তবুও ওর দিকে বারবার তাকাতে লাগল ৷ উৎকর্ষ মুখমন্ডল অপরিবর্তিত রেখে গাড়ির স্প্রিড ধীর করে দিল ৷ যেন আরেকটু সময় উষার কাছাকাছি থাকতে পারে ৷ 
কলেজের সামনে উষাকে নামিয়ে দিয়ে উৎকর্ষ গম্ভীর গলায় বলল,,,
সোজা ক্লাসে যাবি ৷ কলেজ ছুটি হলে বাড়ি থেকে পাঠানো গাড়িতে বাসায় চলে যাবি ৷পাখা গজিয়ে উড়ে বেড়ানোর কথা মাথাতেও আনবি না ৷
উষা রা'গ করার বদলে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলল,, ঠিক আছে ৷
উৎকর্ষের বক্ষপিঞ্জরে হা'তুড়ি পে'টা শুরু হলো ৷ বহু ক'ষ্টে ওর হাসির থেকে চোখ সরিয়ে নিজের অনুভূতি গুলোকে শান্ত করে ও গাড়ি স্টার্ট দিল ৷ উষা দৃষ্টি সীমানার বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত সেদিকে তাকিয়ে থাকল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
বিকেল হতেই উৎসাহ ব্যুরোতে যাওয়ার জন্য তৈরি হতেই জিনি দরজার সামনে টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে কঠিন গলায় বলল,,
খবরদার রুম থেকে বেরোবেন না ৷
আমি তো এখন সুস্থ জিনাত ৷ আমার অনেক জরুরি কাজ আছে ৷ হাত গুটিয়ে বাড়িতে বসে থাকা আমার মানায় না ৷
জিনি ধীর পায়ে ওর সামনে এসে চোখের দিকে দৃষ্টিপাত করে কন্ঠটা নরম করে বলল,,
একদিন অন্তত রেস্ট নিন এসিপি সাহেব ৷ বিশ্বাস করুন কালকে আর আটকাব না ৷ সুস্থ না হলে জরুরি কাজগুলো কিভাবে করবেন? কাজের জন্যই আপনাকে সুস্থ হতে হবে আর সুস্থ হওয়ার জন্য রেস্ট প্রয়োজন ৷
জিনির মুখের দিকে তাকিয়ে উৎসাহ আর না বলার সাহস পেল না ৷ বাধ্যের মতো শার্ট পাল্টে টি-শার্ট পড়ে নিল ৷ তা দেখে জিনি বিজয়ীর হাসি হাসল ৷ তারপর বলল,,
আপনি রেস্ট নিন ৷ আমি গেলাম ৷ ফারিহা ম্যাম কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবেন ৷
বলেই জিনি বইখাতা নিয়ে উষার রুমে চলে গেল আর উৎসাহ ফোনের মাধ্যমে কাজ করতে লাগল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সন্ধ্যায় লিভিংরুমে বসে উষা আর জিনি মুভি দেখতেছে ৷ টিভির দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থেকে জিনি প্রফুল্ল কন্ঠে বলল,,,
হায়য়য়য় আই এম ইমপ্রেসড ৷ নায়কটা আমার অনেক পছন্দের ৷ ডায়ালগ, কথাবার্তা, এটিটিউড এভরিথিং জাস্ট ওয়াও ৷ কত্তো কিউট দেখতে! তামিলনাড়ুর এনার্জেটিক স্টার রাম ৷
রিফাতের সাথে কথা বলতে বলতে উৎসাহ নিচে নামছিল ৷ জিনির কথা কর্ণগোচর হতেই ওর ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ ব্যস্ত কন্ঠে রিফাতকে বলল,,
আই উইল কল ইউ ব্যাক ৷ নাউ গেট ইনটু ওয়ার্ক ৷
ফোন কেটে দিয়ে থমথমে মুখে উৎসাহ সোফায় গিয়ে বসে পড়ল ৷ আড়চোখে দেখল জিনি এখনও হা হয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে ৷ নিজেও টিভির দিকে তাকিয়ে নায়কটাকে খুটিয়ে খুটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে গম্ভীর গলায় বলল,,,
এর চেয়ে জায়েদ খান বেশি সুন্দর দেখতে ৷
উষা আর জিনি চকিতে উৎসাহের দিকে তাকাল ৷ ওদের নজরকে পাত্তা না দিয়ে উৎসাহ পুনরায় বলে উঠল,,
এই ক'ঙ্কালকে নায়ক কে বানিয়েছে? মেয়েদের রুচি খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে দিনদিন!
উষা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,, আমাদের না ভাইয়া, দিনদিন তোমার টেস্ট নিচে নেমে যাচ্ছে ৷ সিরিয়াসলি রামের চেয়ে জায়েদ খান সুন্দর দেখতে!
জিনি মৃদু হেসে বলল,, আপনার কিছুক্ষণের আগে বলা লজিকটার চেয়ে হিরো আলমের গান শোনা শতগুণে ভালো ছিল ৷
উৎসাহ গম্ভীর মুখে বুকে দুহাত গুজে বসে থাকল ৷ কিছুক্ষণ পর শীতল গলায় বলল,,
তোমাদের না সামনে পরীক্ষা? টিভি অফ করে গিয়ে পড়তে বসো ৷ পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট না করলে কিন্তু তোমাদের কক্সবাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার ট্রিপটা ক্যানসেল করে দিব ৷
উষা অসহায় কন্ঠে বলল,, ভাইয়া পরীক্ষার রেজাল্টের সাথে ট্রিপের কি সম্পর্ক?
সম্পর্ক আছে ৷ চুপচাপ দুজনে গিয়ে পড়তে বসো ৷
জিনি ~ মুভিটা শেষ হলে যাই?
না এই মুহূর্তে পড়তে যাবে তোমরা ৷
উষা আর জিনি লটকানো মুখ নিয়ে টিভি অফ করে পড়তে চলে গেল ৷ উৎসাহ টিভির দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,,,
আজ থেকে আমাদের বাড়িতে রামের সমস্ত ছবি দেখা নি'ষিদ্ধ ৷
চলবে,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন