#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২৪
দীর্ঘ সময় পর উৎসাহ জিনিকে ছেড়ে দিল ৷ ছেড়ে দিতেই জিনি ওকে হাত দিয়ে ঠেলে কিচেন থেকে বের করে দিয়ে বলল,,,,
আপনি বসারঘরে যান ৷ আমি কফি নিয়ে আসছি ৷
উৎসাহ মুচকি হেসে ড্রয়িংরুমে গিয়ে উৎকর্ষের পাশে বসল ৷ উমা বি'রক্ত মুখে উষা আর উৎকর্ষের মাঝে বসে আছে ৷ ও কিচেনে যাওয়ার কথা বলার পরেই দুজনে ওকে শক্ত করে ধরে নিজেদের মাঝে বসিয়ে রেখেছে ৷ উৎসাহ ওদের তিনজনের দিকে ভ্রু কুঁচকে বলল,,,
কি ব্যাপার বলতো? এভাবে বসে আছিস কেন তোরা?
ওর কথা কানে যেতেই উৎকর্ষ আর উষা চোখ তুলে একপলক উৎসাহের দিকে তাকাল ৷ উৎকর্ষ নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,,,
চোখ বড় বড় করে চুপচাপ বসে থাকলে শরীরের রক্ত আরো লাল হয় বাঁন্দরের পা'ছার মতো আর রক্তের পরিমানও তরতর করে বৃদ্ধি পায় যেভাবে আহটের ভুতগুলো দেখার সাথে সাথেই আমার স্বাভাবিক মুখমন্ডল পরিবর্তন হয়ে দম আটকে হাসি আসে ঠিক সেভাবে ৷
এতো বড় শ'ক খাওয়ার পরও উৎকর্ষের কথা শুনে উষা জোরে হেসে ফেলল সাথে উমাও ৷ উৎসাহ শান্ত চোখে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
তুই কবে থেকে ডাক্তার হয়ে গেলি? দয়া করে তোর এই অমুল্যবান পরামর্শ কাউকে দিতে যাস না গণপি'টুনি খেয়ে আসবি ৷
জিনি প্রথমে এক কাপ কফি হাতে ড্রয়িংরুমে এসে বাকিদের দেখে আবারও কিচেনে গিয়ে সবার জন্য টুকটাক নাস্তা নিয়ে আসল ৷ এসে এক এক করে সবাইকে কফি আর শুকনো নাস্তা দিয়ে দিল ৷ জিনিকে দেখতেই উৎকর্ষ আর উষা আবারও অস্বস্তিতে মাথা নিচু করে ফেলল ৷
জিনি উষার পাশে বসে কপাল কুঁচকে বলল,, নতুন বউদের মতো ল'জ্জা পাচ্ছিস কেন?
উষা জিনির কানের কাছে নিজের মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,,, কিভাবে সবকিছু ঠিক হলো? কবে ঠিক হলো? আমাকে কিছু বলিস নি কেন?
জিনি অবাক হয়ে বলল,,, কি?
ভাইয়া আর তোর সম্পর্ক ৷ কিচেনে যেভাবে চুমু খাচ্ছিল দেখে তো পুরো আ'হাম্মক হয়ে গিয়েছিলাম আমি আর উনি ৷
কথাটা কর্ণগোচর হতেই জিনির কাশি উঠে গেল ৷ উৎসাহ ব্যস্ত কন্ঠে বলল,,
আস্তে খাও জিনাত ৷
জিনি উৎসাহের দিকে না তাকিয়ে উষার চোখে চোখ রেখে অবাক কন্ঠে বলল,, উৎকর্ষ ভাইয়াও সব দেখেছে?
দুজনে একসাথে গিয়ে দেখেছি ৷
জিনি দুহাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেলল ৷ বিরবির করে বলল,,,
ছিহ! উৎকর্ষ ভাইয়া কি ভাববে? এসব কি হয়ে গেল?
আর এক মুহূর্ত না থেমে জিনি ড্রয়িংরুম থেকে চলে গেল ৷ এই সুযোগে উষাও সেখান থেকে চলে গেল ৷ উৎসাহ হ'তভম্ভ হয়ে ওদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,,,
হঠাৎ কি হলো ওদের? কিছুক্ষণ আগেও তো সব ঠিকঠাক ছিল ৷
উমা তড়াক করে উঠে বলল,,, ভাইয়া আমি গিয়ে দেখে আসছি ৷
উমা চলে যেতেই উৎকর্ষ গলা খাকারি দিয়ে বলল,,, অপরিচিতার মন জয় করে নিয়েছিস তাহলে? এসিপিও দেখি অনেক রোমান্টিক!
উৎসাহ ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,,, লুকিয়ে লুকিয়ে এসব দেখতে ল'জ্জা করে না? প্রাইভেসি বলেও তো একটা কথা আছে নাকি?
উৎকর্ষ টিটকারি মেরে বলল,,, হ্যাঁ তুই তো খুব প্রাইভেট জায়গায় নিজের রোমান্টিকতা জাহির করছিলি তাই না? শা'লা কিচেন সবার জন্য উন্মুক্ত , একটু তো জায়গা বুঝে কাজ করবি!
উৎসাহ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,, তবুও দো'ষ তোর ৷ বাই দা ওয়ে, বড় ভাইকে শা'লা বলছিস নি'র্লজ্জ ছেলে!
উৎকর্ষ গম্ভীর মুখে ওর দিকে তাকিয়ে ছিল কিন্তু শেষের কথাটা শুনে বাকা হেসে বিরবির করে বলল,,,
শা'লা তো আমি তোকেই বানাব তাই আগে থেকেই প্রাক্টিস করছি ৷ তোর বোন আমার বউ হবে ৷ লাল টুকটুকে বউ তবে বাঁ'ন্দরের পা'ছার মতো না, লাল গোলাপের মতো ৷
উৎসাহ ভ্রু কুঁচকে বলল,,, বিরবির করে কি বলছিস?
উৎকর্ষ চ'মকে উঠে অপ্রস্তুত হেসে বলল,,, তোর শোনার মতো কিছু না ৷
উৎসাহ সন্দেহী চোখে উৎকর্ষের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ তা দেখে উৎকর্ষ টপিক বদলানোর জন্য বলল,,,
তোর মিশনের কি খবর? গাজাকে তো ই'য়াবা বানিয়ে দিয়েছি দুজনে মিলে ৷ ওর বসের কোনো খোঁজ পেয়েছিস?
উৎসাহ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,,, এখনও কোনো খোঁজ পাইনি ৷ ওদের বসটা খুবই ধু'রন্ধর আর চ'তুর ৷ নিজের সবচেয়ে বিশ্বাসভাজন ডান হাতকেও আসল পরিচয় তো দূর নিজের চেহারা পর্যন্ত দেখায়নি তাই খুঁজে বের করা একটু কঠিন ৷ কিন্তু যতই কঠিন হোক না কেন , ওদের আমি গোড়া থেকে ধ্বং'স না করে ছাড়ছি না ৷
আমি জানি তুই পারবি ৷ কিন্তু বিপদে পড়লে আমাকে ডাকবি কারন তোর কিছু হয়ে গেলে এই পরিবার বাঁচতে পারবে না বিশেষ করে পিচ্চি ভাবী , মেয়েটা অল্প বয়সে ভ'য়ানক য*ন্ত্রণা স'হ্য করেছে ৷ তাই দয়া করে সবসময় নিজের আপডেট আমাকে জানাবি ভাই ৷ এখন বল আপাতত কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?
একদম টেনশন করিস না ৷ কোনো সমস্যা নেই আর যেসব সমস্যা আছে ওগুলো আমি একাই সামলে নিতে পারব ৷
মুখে নেই বললেও বেশ কিছুদিন থেকে উৎসাহকে আননন নাম্বার থেকে কেউ ক্রমাগত হু'মকি দিয়ে যাচ্ছে ৷ সেই নাম্বারগুলোর খোঁজ নিয়েও কোনো সুরহা করতে পারেনি কারন হু'মকি দেওয়া শেষেই প্রতিটা সিম ন'ষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল ৷
উৎসাহকে অন্যমনস্ক হয়ে থাকতে দেখে উৎকর্ষ বলল,,, আর ইউ সিউর ভাই? আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছিস না তো?
না ৷ তোকে এতো ভাবতে হবে না ৷ তুই মনোযোগ দিয়ে বিজনেস সামলা ৷
উৎকর্ষ হাই তুলে বলল,,, বোরিং কাজ ৷ এডভ্যান্সার ছাড়া জীবনটা পানসে পানসে লাগে ৷
উৎসাহ হেসে বলল,,, তুইও চুলবুলের মতো ভুত সেজে জীবনে এডভ্যান্সার নিয়ে আয় ৷
উৎকর্ষ 'চ' কারান্ত উচ্চারণ করে বলল,,, ওই বা'লবুলের কথা বলিস না তো ভাই , অ'সহ্য লাগে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
জিনি উৎসাহের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো গুছিয়ে ব্যাগে ভরে দিল ৷ বাথরুম থেকে গোসল সেরে বেরিয়ে উৎসাহ টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে জিনির দিকে পলকহীন চোখে তাকিয়ে থাকল ৷ হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়তেই জিনি ল'জ্জায় রাঙা হয়ে গেল ৷ উৎসাহ টাওয়াল ছুড়ে ফেলে জিনির কাছে এসে ওর কোমড় জরিয়ে নিজের নিকটে নিয়ে আসল ৷ তারপর দু গালে দুটো চুমু খেয়ে ঠোঁটে গভীরভাবে চুম্মন করতে লাগল ৷
চুম্মন শেষে জিনি উৎসাহের বুকে নিজের মুখ লুকিয়ে ফেলল ৷ তা দেখে উৎসাহ নিঃশব্দ হেসে বলল,,,
এখনও লজ্জা পাচ্ছ বিবিজান?
জিনি মুখ তুলে উৎসাহের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,,, আর একবার ডাকুন এসিপি সাহেব ৷
বিবিজান ৷
আরেকবার বলুন ৷
বিবিজান ৷
আরেকটিবার ডাকুন ৷
বিবিজান ৷
জিনি তৃপ্তির হাসি দিয়ে বলল,,, এই ডাকটা শুনলে আমার কতটা অসাধারণ অসম্ভব সুন্দর অনুভূতি হয় তা আপনি ভাবতেও পারবেন না এসিপি সাহেব!
তোমার থেকে 'এসিপি সাহেব' শুনলে আমারও ঠিক একই অনুভূতি হয় বিবিজান ৷
হঠাৎ ড্রেসিং টেবিলের উপর ফুলের তোড়ার দিকে নজর পড়তেই উৎসাহের গতকালের কথা মনে পড়ে গেল ৷ সাথে সাথেই ওর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল ৷ গম্ভীর গলায় বলল,,,
তাহসিনের থেকে ফুল আর চকলেট নিয়েছো কোন সাহসে তাও আবার হাসিমুখে?
জিনি অবাক হয়ে বলল,,, আপনি কিভাবে জানলেন?
কাল তোমার জন্য ফুল চকলেট আইসক্রিম কিনে তাড়াতাড়ি বাড়িতে এসে ওই দৃশ্য দেখে মাথা খা'রাপ হয়ে গিয়েছিল আমার! এখন বলো নিয়েছো কেন? ওই ছেলে তোমাকে কোন অধিকারে ওসব দিয়েছিল?
জিনি উৎসাহের এমন রুপ দেখে ঘা'বড়ে গেল তাই প্রথম অংশটুকু স্কিপ করে বলল,, নতুন ভাবী হিসেবে দিয়েছে ৷ আপনার বউকে সামান্য উপহার দিয়েছে ভাই হিসেবে ৷
উৎসাহের মুখমন্ডল কিছুটা শীতল হলো ৷ তা দেখে জিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল ৷ হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই বলল,,,
এই দাঁড়ান ৷ আপনি না বললেন আমার জন্য ফুল,চকলেট , আইসক্রিম এনেছেন সেগুলো কোথায়?
উৎসাহ মাথা চুলকে ই'তস্তত করে বলল,,, তোমার উপর রা'গ করে সব ফেলে দিয়েছি ৷
জিনি গ'র্জন করে বলল,,, কিহ! তারপর বুকে দুহাত গুজে চোখমুখ কুঁচকে গম্ভীর গলায় বলল,,,
যেখান থেকে পারেন ওসব আমাকে এনে দিন নয়তো আমি আমার বাবার বাড়িতে চলে যাব সারাজীবনের জন্য ৷
উৎসাহ তৎক্ষণাৎ লম্বা লম্বা পা ফেলে দৌঁড়ে বাড়ির বাইরে চলে গেল যেখানে কাল রাতে ও সবকিছু ফেলে দিয়েছিল ৷ ভাগ্য ভালো সবকিছু এখনও ওখানেই পড়ে ছিল ৷ সবকিছু নিয়ে উৎসাহ কয়েক মিনিটের মধ্যেই জিনির সামনে উপস্থিত হলো ৷ হতাশ কন্ঠে বলল,,,
ফুলগুলো একটু ন'ষ্ট হয়ে গেছে কিন্তু চকলেট আইসক্রিম আর ফুসকা ঠিক আছে বিবিজান ৷
জিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে সবকিছু নিয়ে নিল ৷ তারপর ফুলগুলোর উপর পানি ছিটিয়ে দিল আর চকলেট , আইসক্রিম খেতে খেতে বলল,,,
অনেক অনেক ধন্যবাদ আর ভালোবাসা এসিপি সাহেব ৷ তবে আমি ফুসকা খাই না ৷ উষার ফুসকা পছন্দ , আমার না ৷
উৎসাহ অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,,, এতো অল্প উপহারে কেউ এতোটা খুশি হতে পারে?
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উষা মনের আনন্দে টমেটো সস খেতে খেতে লনের দিকে যাচ্ছে ৷ আজ ও অনেক খুশি ৷ উৎসাহ আর জিনির সম্পর্কটা নতুন মোড়ে চলে গেছে এটা উষার কাছে অত্যন্ত শান্তির খবর ৷ ও যখন সবচেয়ে বেশি খুশি হয় তখন টমেটো সস খায় ৷ টমেটো সস ওর সবচেয়ে বেশি পছন্দের, ফুসকার চেয়েও বেশি ৷ তাই তো উৎকর্ষকে টমেটো সস বলে ডাকে ৷
লনের দিকে পা বাড়াতে যাবে এমন সময় মিতা ইয়াসমিনের একটা কথা কানে আসতেই ও থেমে গেল ৷
ভাবী ফারিহা মেয়েটাকে তোমার কেমন লাগে?
উর্মিলা রহমান একটা বিস্কুটে কামড় দিয়ে বললেন,,, ভালো লাগে ৷ দেখতে সুন্দরী, ব্যবহার ভালো, শিক্ষিতা ৷ হঠাৎ ফারিহার কথা বলছিস কেন ছোট?
মিতা ইয়াসমিন অত্যন্ত আগ্রহের সহিত বললেন,,, উৎকর্ষের সাথে কেমন মানাবে ফারিহাকে? আমার তো দুজনকে একসাথে অনেক সুন্দর লাগে ৷
উর্মিলা রহমান হাতের বিস্কুটটা স্বশব্দে নিচে রেখে গম্ভীর গলায় বললেন,,, ছোট এসব কি বলছিস? আমি তোর থেকে এমনটা আশা করিনি ৷
উনার এমন পরিবর্তনে মিতা ইয়াসমিন ভীত কন্ঠে বললেন,,, কেন ভাবী? কি সমস্যা? তুমিই তো বললে মেয়েটাকে তোমার পছন্দ ৷
তুই না আমাকে বড় বোন বলিস?
হ্যাঁ তুমি তো আমার বড় বোন ই ৷
তাহলে এতো সুন্দর একটা চিন্তা তুই আমাকে ছাড়া কিভাবে করতে পারলি? আমার মাথায় কেন এটা আসল না আগে?
মিতা ইয়াসমিন যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,,সেটা বলো , আমি তো ভ'য় পেয়ে গিয়েছিলাম ৷ তোমাকেই তো সর্বপ্রথম বললাম ৷ উৎকর্ষের সাথে মেয়েটার সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপুর্ণ ৷
আমার মনে হয় ফারিহা আমাদের উৎকর্ষ বাবাকে পছন্দ করে ৷ আর যতদূর উৎকর্ষের বিষয়টা , সেটাও পজিটিভ দেখতেছি ৷ নাহলে দেখ এতো মানুষ থাকতে ও ফারিহাকেই কেন জিনি আর উষাকে পড়ানোর জন্য নিয়ে আসল?
মিতা ইয়াসমিন উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন,,, কারন ও আমাদের সাথে ফারিহাকে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিল ৷
উর্মিলা রহমান প্রফুল্ল চিত্তে মিতা ইয়াসমিনের সাথে হাই ফাইভ দিলেন ৷ দুজনে যে প্রচন্ড খুশি তা তাদের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ৷ উর্মিলা রহমান নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন,,,
তাহলে ছোট দ্রুত ওদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে ৷
মিতা ইয়াসমিন উনার সাথে তাল মেলালেন ৷ দুজনেই বিয়ে নিয়ে নানা শলা পরামর্শ করতে লাগল ৷ অন্যদিকে পিছনে উষা ছলছল চোখে মা আর ছোট মায়ের হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ ওর হাত থেকে অনেক আগেই টমেটো সস পড়ে গেছে ৷ পায়ে শক্তি ফিরে পাওয়ার সাথেই উষা দৌঁড়ে নিজের রুমের দিকে ছুটে গেল ৷
দরজা বন্ধ করে ও বিছানায় হেলান দিয়ে মেঝেতে হাটু মুড়ে বসে পড়ল ৷ নিজের ফোনের গোপন ফোল্ডার টাতে ঢুকে উৎকর্ষের ছবি বের করে অবিচল চোখে কিছুক্ষণ সেই স্থির প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ তারপর মুখে কঠোরতা এনে চোখ থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়া নোনাজল মুছে বলল,,
তোমরা যতই পরিকল্পনা করো না কেন এ বিয়ে হবে না ৷ তোমাদের ধারনায় ভেজাল রয়েছে ৷ উনি আমাকে ভালোবাসেন , ওই ডা'য়নিকে না ৷ তোমরা প্রস্তাব রাখার সাথেই উনি নাকচ করে দিবেন দেখে নিও! আজ থেকে আমিও নিজেকে যোগ্য করে তুলব তোমার বউমা হওয়ার জন্য ছোট মা ৷ নিজেকে এমনভাবে পরিবর্তন করব যে তুমি অন্য মেয়ের কথা ভুলে যাবে , তুমি শুধু চোখের সামনে নিজের পুত্রবধু হিসেবে আমাকেই দেখতে পাবে ৷
কিছুক্ষণ নিরব থাকার পর উষা আবারও বলতে শুরু করল,,, আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি উৎকর্ষ এবং আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আপনিও আমাকে ভালোবাসেন ৷ আপনি কবে নিজের মনের কথা আমাকে বলবেন টমেটো সস? আমি সবসময় আপনাকে হারানোর ভ'য় নিয়ে বেঁচে থাকতে পারব না! যদি জোর জবরদস্তি করে আপনাকে ওই ডা'য়নির সাথে বিয়ে দিয়ে দেয় তাহলে আমি ম'রে যাব!
জিনি এসে ওর দরজা ধা'ক্কিয়ে বলল,, উষা এই ভর দুপুরে দরজা বন্ধ করে আছিস কেন? তোর সাথে কিছু পরামর্শ ছিল , দরজা খুলে দে ৷
উষা নিজের মুখমন্ডল স্বাভাবিক করে দরজা খুলে দিয়ে দু'ষ্টু হেসে বলল,,, তো ভাবীজান কালকের বাসর কেমন কাটল?
জিনি আশেপাশে পর্যবেক্ষণী নজর বুলিয়ে কাউকে না দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল ৷ তারপর উষাকে কয়েকটা ঘু'ষি মে*রে বলল,,,
বে'শরম মেয়ে! নিজের বড় ভাইয়ের বাসর সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিস ছিহ!
ছিহ কিসের? আমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের বাসর সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি আর তোর স্বামী আমার দুলাভাই হয় ৷
দুলাভাই হওয়ার আগে ওটা তোর ভাইয়া বে'দ্দপ মেয়ে! আচ্ছা বাদ দে যার জন্য আসলাম সেটা শোন ৷
কি?
আজ থেকে রান্নাবান্না শিখতে চাচ্ছি আমি ৷ উনাকে নিজের হাতের রান্না খাওয়াতে চাই ৷
উষা নাটকীয়ভাবে বলল,, ও মা গো টুরু লাভ ৷
জিনি ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর গলায় বলল,, একদম মজা নিবি না উষা!
উষা হাসি থামিয়ে মুখটা কঠিন করে বলল,, আমিও তোকে এটা বলতে চাচ্ছিলাম ৷ শুধু তুই না আমিও আজ থেকে সাংসারিক কাজকর্মের দিকে মনোযোগ দিব ৷
চলবে,,,,,,,