#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ৩৪
উষা ড্রয়িংরুমে কিছুক্ষণ কাঁদার পর দৌঁড়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দিয়েছে ৷ জিনিও ওর পিছু পিছু ছুটে গিয়েছিল ৷ ও আলতো করে দরজায় করাঘাত করে নরম কন্ঠে বলল,,,
রোমিও দরজাটা খোল ৷ দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে ৷ বাবা আর ছোট মা তোদের সম্পর্ক মেনে নিবেন ৷
উষা ফোঁপাতে ফোঁপাতে উত্তর দিল,, কিছুই ঠিক হবে না ৷ বাবা মানবে না আমাদের সম্পর্ক ৷ জিনি রে আমি উনাকে ছাড়া বাঁচব না ৷ উনি ছাড়া অন্য কাউকে বিয়েও করতে পারব না ৷
করতে হবে না ৷ আমি মানিয়ে নিব আর এসিপি সাহেবকে বুঝিয়ে বলব ৷
বাবা যেহেতু মেনে নেয়নি তার মানে ভাইয়াও আমাদের সম্পর্ক মেনে নিবে না ৷
বলেই উষা কাঁদতে লাগল ৷ জিনি চিন্তিত মুখে বিরবির করে বলল,,,
আসলেই কি এসিপি সাহেবও ওদের সম্পর্ক মেনে নিবেন না?
আরো কিছুক্ষণ উষার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থেকে জিনি রুমে চলে গেল ৷ ভীষন অস্থির লাগতেছে ওর , আবার কান্নাও পাচ্ছে উষার অবস্থা দেখে ৷ নিজের মনকে কিছুটা শান্ত করে ও উৎসাহকে ফোন দিল ৷
উৎসাহ বিগত দিনের কেসগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করছিল তখনই ফোন বেজে উঠল ৷ মুচকি হেসে ফোনটা রিসিভ করে বাকা হেসে বলল,,,
আসতে না আসতেই আমাকে মিস করতে শুরু করেছো?
উৎসাহের কন্ঠ শুনতেই জিনির এতোক্ষন লুকিয়ে রাখা কান্নাগুলো গাল গড়িয়ে পড়তে লাগল ৷ ক্ষীণ স্বরে বলল,,
এসিপি সাহেব একটু বাড়িতে আসবেন?
জিনির এমন গলা শুনে উৎসাহের ঠোঁটের কোণের বাকা হাসিটা মিলিয়ে উদ্বিগ্নতায় ছেঁয়ে গেল ৷ ব্যস্ত হয়ে বলল,,,
কি হয়েছে বিবিজান? অসুস্থবোধ করছো? নাকি পড়ে গিয়ে কোথাও ব্যা'থা পেয়েছো? আমাদের বাচ্চা ঠিক আছে তো?
আমি আর আমাদের বাচ্চা ঠিক আছে ৷ কিন্তু অন্য কেউ ঠিক নেই ৷ আপনি দ্রুত আসুন ৷
নরমালি উৎসাহের ব্যুরো থেকে বাসায় আসতে ২০ মিনিটের মতো সময় লাগে কিন্তু আজ ৭-৮ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেল ৷ লম্বা লম্বা পা ফেলে নিজের রুমের দিকে চলে গেল ৷ জিনি ওকে দেখামাত্রই ছুটে গিয়ে ওর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল ৷ উৎসাহ ওর মাথায় হাত রেখে বলল,,,
কি হয়েছে বিবিজান? আমাকে একদম ভ'য় পাইয়ে দিবে না!
জিনি ক্রন্দনরত মুখেই ওকে সবকিছু খুলে বলল ৷ উৎসাহ বেশ শান্ত মুখে সবকিছু শুনল ৷ জিনি ওর হাত ধরে আকুতি করে বলল,,,
দয়া করে আপনি ওদেরকে ভুল বুঝবেন না ৷ ওরা একে অপরকে ভীষণ ভালোবাসে ৷ ওদের এক করিয়ে দিতে আমাকে সাহায্য করুন প্লিজ ৷
উৎসাহ সামান্য হেসে জিনির চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,,, হয়েছে কাঁদতে হবে না ৷ এতো টেনশন মাথায় নেওয়ার বয়স হয়েছে তোমার? আর শোনো ওদের বিষয়ে আমি অনেক আগে থেকেই জানি ৷
জিনি অবাক নয়নে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, আপনি জানতেন? ওদের সম্পর্ক নিয়ে আপনার কোনো অসুবিধা নেই তো?
অসুবিধা কেন থাকবে? আমার চেয়ে উৎকর্ষ কে ভালোভাবে কেউ বুঝতে পারে না ৷ আমি ওর চোখে উষার জন্য সত্যিকারের ভালোবাসা দেখেছি যে ভালোবাসায় কোনো খুঁত নেই ৷ প্রত্যেক ভাই ই তার বোনের জন্য এমন একটা ছেলেই চায় ৷
কিন্তু বাবা আর ছোট মা কেন চাচ্ছেন না?
উনারা এখন রে'গে আছেন ৷ ঠান্ডা মাথায় ভালোভাবে বুঝিয়ে বললেই উনারা এক সেকেন্ডেই রাজি হয়ে যাবেন ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উমায়েত ফারুকী নিজের রুমে গম্ভীর মুখে বসে আছেন ৷ এখনও উনার মুখটা রা'গে র'ক্তিম হয়ে আছে ৷ উৎসাহ দরজা ঠেলে শীতল গলায় বলল,,,
বাবা আসতে পারি?
উমায়েত ফারুকী এক পলক ওর দিকে তাকালেন তারপর কাট কাট গলায় বললেন,,,যদি নিজের ভাই বোনের তরফদারী করতে এসে থাকো তাহলে ওখানেই থেমে যাও ৷ ওরা যে ভুল করেছে এটা ওদের বুঝতে হবে ৷
উৎসাহ ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে বাবার সামনে হাঁটুমুড়ে বসল ৷ তারপর উনার হাতের উপর নিজের হাতটা রেখে নরম কন্ঠে বলল,,,,
আমার ভাইটা কি খুব খারাপ? ও কি উষাকে পাওয়ার যোগ্য নয়?
উমায়েত ফারুকী নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললেন,,, তুমিও কি ওদের মতো অবুঝ হয়ে গেলে উৎসাহ? ওরা মা'রাত্মক ভুল করেছে!
কি ভুল করেছে বাবা? একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করতে চেয়েছে, এটা কি দোষের? ওরা তো আর অবাধে মেলামেশা করে আমাদের পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ করেনি তাই না?
ওরা ভাই-বোন উৎসাহ এটা ভুলে যেও না!
নিজের তো না বাবা ৷ ইসলামে তো নিজের ভাই অথবা বোন ব্যতীত অন্যান্য সম্পর্কের ভাই অথবা বোনদের মধ্যে বিয়ে করা জায়েজ আছে ৷ তাহলে তুমি কেন না'জায়েজ প্রমাণ করতে চাচ্ছ?
উমায়েত ফারুকী চুপ করে থাকলেন ৷ উৎসাহ পুনরায় উনার হাত নিজের হাতের মুঠোয় রেখে শীতল গলায় বলল,,,
উৎকর্ষ কি ছেলে হিসেবে খারাপ? ওর কোনো ব'দ অভ্যাস আছে? কখনো সি'গারেট বা ম'দ ছুঁয়ে দেখেছে?
না কোনো ব'দ অভ্যাস নেই ৷ ও ছেলে হিসেবে লাখে একটা ৷ কিন্তু....
উসায়েত ফারুকী দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে বললেন,,, কিন্তু কি ভাইজান? আমার ছেলেকে না নিজের ছেলে নিজের ছেলে বলে দাবি করো তাহলে আজ কেন ওকে এমন অবজ্ঞা করছো? কেন ওর অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করছো না? আজ তুমি আমাকে চোখে আঙুল তুলে বুঝিয়ে দিলে যে উৎকর্ষকে শুধু মুখেই নিজের ছেলে দাবি করো আসলে মনে মনে কখনোই ওকে নিজের মনে করোনি!
উমায়েত ফারুকী অস্থির হয়ে বলল,,, ভুল বুঝছিস ভাই ৷ আমি ওকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসি ৷ আসলে..
আসলে কি? উষা মাকে আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিতে তোমার আপত্তি কোথায়? একবার ভেবে দেখো আমাদের সম্পর্কটাও আরো মজবুত হয়ে উঠবে আর আমাদের মেয়েটাও সারাজীবন আমাদের বাড়িতেই থাকবে ৷ এটা কি ভালো না?
উমায়েত ফারুকী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন ৷ তা দেখে উসায়েত ফারুকী হেসে দৌঁড়ে গিয়ে উনাকে জরিয়ে ধরে বললেন,,,
আজ থেকে আমরা বেয়াই হয়ে গেলাম ভাইজান!
দু ভাই একে অপরকে জরিয়ে ধরে তৃপ্তির হাসি হাসতেছেন ৷ তা দেখে উৎসাহ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
মিতা ইয়াসমিন বিছানার চাদর খামচে ধরে রা'গে গজগজ করতেছেন ৷ উনার থেকে কিছুটা দুরত্বে দাঁড়িয়ে উর্মিলা রহমান শান্ত চোখে উনার দিকে তাকিয়ে আছেন ৷ রাগ করে ড্রয়িংরুম থেকে আসার পর থেকেই কেউ এখনও কোনো কথা বলেননি ৷ বড় করে একটা দম নিয়ে উর্মিলা রহমান বললেন,,,
ছোট সমস্যা কি তোর?
মিতা ইয়াসমিন খেকিয়ে উঠে বললেন,, সমস্যা কি বুঝতে পারছো না? তোমার আদরের ছেলে ছোট মেয়েটাকে ম্যানুপুলেট করে নিজের প্রেমের জালে ফাঁসিয়েছে ৷ তাও তুমি এতোটা শান্ত কিভাবে থাকতে পারছো ভাবী? উষা না তোমার মেয়ে?
উর্মিলা রহমান উনার পাশে এসে বললেন,,, উষা কি এতোটাই অবুঝ যে ফাঁদে পড়বে? আর তুই এমন ভাবে বলছিস যেন ও কোনো খারাপ ছেলের খ'প্পরে পড়েছে!
ভাবী তুমি বুঝতে পারছো না উৎকর্ষের সাথে উষার যায় না! ছোট্ট মেয়েটাকে এতো বড় একটা ছেলের সাথে কিভাবে বিয়ে দিয়ে দেই? ওরা ছোট থেকে ভাই-বোনের মতো মানুষ হয়েছে ৷ এখন বিয়ে করাটা কেমন অ'স্বস্তিকর হয়ে যাচ্ছে না?
বুঝতে তুই পাচ্ছিস না ৷ আমরা ওদের ভাই-বোনের মতো দেখলেও ওরা হয়তো ছোট থেকেই একে অপরকে নিজের জীবনসঙ্গি হিসেবে দেখেছে ৷ আর এখানে সমস্যা কোথায়?
ওদের বয়সের পার্থক্য দেখেছো?
উর্মিলা রহমান হেসে বললেন,,, এটা কোনো কথা হলো ছোট? জিনি আর উৎসাহের বয়সের পার্থক্য কত সেটা মনে নেই? ওদের বয়সের পার্থক্য উষা আর উৎকর্ষের বয়সের পার্থক্যের সমান ৷ দেখছো না ওরা দিব্যি হেসে খেলে সংসার করছে আর কিছুদিনের মধ্যে আমরা নাতি-নাতনিরও মুখ দেখব?
মিতা ইয়াসমিন চুপ করে কিছু ভাবতে লাগলেন ৷ উর্মিলা রহমান হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়ায় বললেন,,,
নাকি উষার মতো মেয়েকে নিজের ছেলের বউ করতে চাস না? আমি জানি উষা কোনো কাজ ঠিকঠাক ভাবে করতে পারে না তবে বুঝিয়ে দিলে ও সব শিখে নিবে আস্তে আস্তে ৷ একটা বার শুধু সুযোগ দে আমার মেয়েটাকে ৷ ও নিজেকে তোর বউমা হওয়ার যোগ্য করে তুলবে ৷
ছি! ভাবী , এসব কি বলছো? উষার মতো মিষ্টি মেয়েকে সবাই নিজের বউমা করার জন্য মুখিয়ে থাকে ৷
তাহলে তুই কেন চাচ্ছিস না? মেয়েটাকে অন্যের ঘরে পাঠিয়ে দেওয়ার চেয়ে এখানেই আজীবন আটকে রাখতে পারলে আমি একটু শান্তিতে ম'রতে পারতাম রে ছোট ৷ ওকে নিয়ে সবসময় আমার চিন্তা হয় ৷
মিতা ইয়াসমিন উনার হাত ধরে বললেন,,, ভাবী এসব বলা বন্ধ করবে তুমি! উষাকে নিজের বউমা করতে পারলে নিজেকে আমি ধন্য মনে করব ৷ আসলে তখন মনে হয়েছিল উৎকর্ষ উষার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করেছে ৷ তাই রা'গের মাথায় যা নয় তাই বলে দিয়েছি ৷
বেয়াইন হবি আমার?
মিতা ইয়াসমিন উনাকে জরিয়ে ধরে বললেন,,, একশবার হব ৷
একশবার না একবার হলেই হবে ৷ আমার অতোগুলো বাচ্চা নেই আর না তোর আছে ৷
উনার কথায় মিতা ইয়াসমিন হেসে উঠলেন ৷ তারপর হঠাৎ উনাকে ছেড়ে দিয়ে চিন্তিত স্বরে বললেন,,, কিন্তু ভাইজান?
উমায়েত ফারুকী দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন,,, কিসের ভাইজান? আজ থেকে আমি তোমার বেয়াই হই বুঝলে? দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎসাহ উমায়েত ফারুকীর রুমে যাওয়ার পরপরই জিনি উষার দরজায় গিয়ে ধা'ক্কা দিতে লাগল কিন্তু উষার কোনো সাড়াশব্দ নেই ৷ জিনি বারবার ওর নাম ধরে ডাকছে কিন্তু ও কোনো জবাব দিচ্ছে না ৷ মিতা ইয়াসমিন জিনির পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন তারপর গম্ভীর গলায় বললেন,,,
উষা দরজা খুলে বাইরে আসো ৷
জিনি আড়চোখে উনার দিকে তাকিয়ে টেনশনে আঙুল ফুটাতে লাগল ৷ মিতা ইয়াসমিন ডাকার এক মিনিটের মাথায় উষা এসে দরজা খুলে দিল ৷ কান্না করার ফলে ওর চোখ-মুখ লাল হয়ে ফুলে গেছে ৷ মিতা ইয়াসমিন এখনও গম্ভীর মুখেই ওর দিকে তাকিয়ে আছেন ৷ উষা মাথা নিচু করে উনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে৷ মিতা ইয়াসমিন গাম্ভীর্য নিয়ে বললেন,,,
বেনারসি না লেহেঙ্গা পড়তে চাও বিয়েতে?
উষা এবার মিতা ইয়াসমিনের হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল,,, আমি বিয়ে করব না ছোট মা ৷ তুমি বাবাকে বলে বিয়ে ক্যান্সেল করে দাও ৷
আমার ছেলেকে বিয়ে করবে না কেন? কি কমতি রয়েছে ওর মধ্যে?
জিনি আর উষা হতভম্ভ চোখে উনার দিকে তাকালেন ৷ উষা অবাক হয়ে বলল,,, মানে?
মিতা ইয়াসমিন গাম্ভীর্যতার খোলস থেকে বেরিয়ে হেসে উঠে বললেন,,, মানে তোদের সম্পর্ক আমরা মেনে নিয়েছি ৷ খুব শ্রীঘ্রই তোদের চার হাত এক করে দেওয়ার পায়তারা করছি ৷
জিনি বুকে ফু দিয়ে বলল,,, ছোট মা এভাবে কেউ ভয় দেখায়? আমার তো আত্মা শুকিয়ে এতোটুকু হয়ে গিয়েছিল!
মিতা ইয়াসমিন হাসি থামিয়ে বললেন,,, আসলে শ্বাশুড়ি হওয়ার একটু ফিল নিচ্ছিলাম ৷ দেখলাম ডা'য়নি শ্বাশুড়ি হলে কেমন লাগে!
তারপর উষার দিকে তাকিয়ে বললেন,,, এবার বলো কি পড়তে চাও বিয়েতে? শপিং করতে হবে না?
উষা মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,, তোমার যেভাবে নিজের বউমাকে সাজাতে মন চায় ঠিক সেভাবেই সাজাও ৷
আচ্ছা তাহলে বেনারসি পড়িয়ে তোমাকে নিজের বউমা হিসেবে স্বীকৃতি দিব ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সবাই ড্রয়িংরুমে বসে বিয়ে নিয়ে বিস্তর শলা পরামর্শ করছে ৷ উৎসাহ আশেপাশে এক নজর তাকিয়ে বলল,,,
তা যাদের নিয়ে এতো আলোচনা তার মধ্যকার একজন কোথায়?
উমায়েত ফারুকী উর্মিলা রহমানের সাথে কিছু কথা বলছিলেন ৷ উৎসাহের প্রশ্নটা কানে যেতেই উনি কন্ঠটা গম্ভীর করে বললেন,,,
দেখো হয়তো কেরোসিন কিনতে গেছে ৷ হুমকি দিয়ে গেল না পুরো বাড়ি আ'গুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিবে! সেটার জন্য তো অল্প কেরোসিনে কাজ হবে না , আমাদের বাড়িটা তো বিশাল তাই হয়তো ট্রাক ভরে কেরোসিন আনতে গেছে ৷ আবার সবকিছু ছাড়'খার করে দেওয়ার হুমকিও তো দিয়ে গেছে , তার জন্য হয়তো পারমানবিক বো'মা-টোমাও কিনতে গেছে!
গম্ভীর মুখে উনার এমন কৌতুকময় কথা শুনে সকলে হেসে ফেলল ৷ হাসতে হাসতে মিতা ইয়াসমিন বললেন,,,
এসব বলে হুমকি দিয়ে গিয়েছিল?
তা আর বলছি কি? তোমার ছেলের দারুন তেজ ৷ যাই ওটাকে গিয়ে ধরে নিয়ে আসি নয়তো অযথা ভুল জায়গায় টাকা-পয়সা খরচ করে আসবে ৷
বলেই উনি সদরদরজা দিয়ে বাইরে চলে গেলেন ৷ উনার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে সবাই আরেক দফা হেসে নিল ৷ উষা হাসি থামিয়ে বিরবির করে বলল,,,
টমেটো সস আজ থেকে আপনি আমার পারমানেন্ট ব্যক্তিগত মানুষ ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎকর্ষ রা'গের মাথায় গাড়ি না নিয়েই বেরিয়েছে ৷ উদ্দেশ্যহীন ভাবে রাস্তার সাইড দিয়ে উদভ্রান্তের ন্যায় এলোমেলো পায়ে হেঁটে চলেছে ৷ ওর মাথা চিন্তায় ফেটে যাচ্ছে ৷ সবাইকে কিভাবে রাজি করাবে? উষাকে যদি অন্য কোথাও বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তখন কি হবে? ওকে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করে যদি বিয়েতে রাজি করিয়ে অন্য ছেলের সাথে মিলিয়ে দেয় তখন কি হবে?
এসব চিন্তাকে মাথা ঝাঁকিয়ে ঝেড়ে ফেলে উৎকর্ষ বলল,,, না না না ৷ উষা আমি ব্যতীত অন্য কারো হতে পারে না! ওকে আমি ব্যতীত অন্য কেউ স্পর্শ করার চেষ্টা করলে তার হাত আমি শরীর থেকে ছি'ন্নভিন্ন করে দিব! উষা শুধু আমার ৷ যে করেই হোক ওকে আমি বিয়ে করেই ছাড়ব ৷ কেউ সেটা আটকাতে পারবে না ৷
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে উৎকর্ষ রাস্তার মাঝে চলে গেছে সেটা ও উপলব্ধি ই করতে পারেনি ৷ পিছন থেকে একটা মালবাহী ট্রাক সমানে হর্ণ বাজিয়ে চলেছে কিন্তু ওর কানে সেসবের কিছুই পৌঁছাচ্ছে না ৷ ও এখন নিজের প্রেয়সীর চিন্তায় বিভোর হয়ে আছে ৷ ট্রাকটা উৎকর্ষকে ধা'ক্কা দিতে যাবে এমন সময় একটা বলিষ্ঠ হাত ওকে টেনে ট্রাকের সামনে থেকে সরিয়ে আনল ৷ ট্রাক ড্রাইভার পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় মুখ বের করে বলল,,,,
গা'ন্জা খেয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিস নাকি রে গা'ধা! দরকার পড়লে কু'ত্তার সাথে গিয়ে ধাক্কা খেতি আমার গাড়ির সামনে এসেছিলি কেন?
কথাগুলো বলতে বলতে ড্রাইভার ট্রাক নিয়ে দৃষ্টি সীমানার বাইরে চলে গেল ৷ উৎকর্ষের মাথায় কিছুই ঢুকছে না ৷ উমায়েত ফারুকী ওকে ঝাকি দিয়ে বললেন,,,
মাথা খারাপ হয়েছে তোমার? আমি যথা সময়ে না আসলে তো এতোক্ষণে ট্রা'কের নিচে ভর্তা হয়ে যেতে!
এসব কথাকে পাত্তা না দিয়ে উৎকর্ষ উনার হাত ধরে করুন কন্ঠে বলল,,, বড় বাবা আমি তোমার মেয়েটাকে চাই ৷ ওকে আমার সাথে বিয়ে দিয়ে দাও প্লিজ ৷ কথা দিচ্ছি জীবনে ওকে কখনো কোনো দুঃখ পেতে দিব না ৷ একটাবার আমাকে বিশ্বাস করে উষাকে আমার হাতে তুলে দাও ৷
উমায়েত ফারুকী হেসে বললেন,,, বিয়ে করানোর জন্যই তো তোমাকে নিতে এসেছি ৷
উৎকর্ষ অবিশ্বাস্য চাহনিতে উনার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,,, সত্যি বলছো?
আমাকে কখনো মিথ্যা বলতে দেখেছো?
উৎকর্ষের মন খারাপেরা মুহূর্তের মাঝেই হারিয়ে গিয়ে মুখে অমায়িক হাসি ফুটে উঠল ৷
চলবে,,,,