ফন্ট সাইজ:
থিম:
ডুবেছি তোমার মায়ায়

৩৬তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান
#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকাঃ_সিনথিয়া_জাহান 
#পর্বঃ৩৫ (যবনিকা পর্বের ২য় ও শেষ অংশ) 
                       
উষা উৎকর্ষের রুমে এসে নানান জাতের রঙ বেরঙের ফুল দিয়ে সাজানো বিছানায় বসার পর থেকেই বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতেছিল ৷ নিজেকে স্বাভাবিক করতে কিছুটা সফলও হয়েছিল কিন্তু উৎকর্ষকে রুমে প্রবেশ করতে দেখেই আবার বুকের ধুকপুকানি শুরু হয়ে গেল ওর ৷ উৎকর্ষ মাথার পাগড়ি টা খুলে বেড সাইড টেবিলে রেখে দিল ৷ উষা নিজেকে যতটা সম্ভব গুটিয়ে নিয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকল ৷
উৎকর্ষ আড়চোখে ওর দিকে একনজর তাকিয়ে সামান্য হেসে বলল,,,
ওযু আছে?
উষা অত্যন্ত ক্ষীণ স্বরে বলল,,, জ্বি ৷
তাহলে নফল নামাজ আদায় করা যাক ৷
দুজনে নামাজ আদায় করে জায়নামাজ গুছিয়ে রাখল ৷ উষা পুনরায় বিছানার এককোণায় গিয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে পড়ল ৷ উৎকর্ষ আস্তে করে ওর সম্মুখে গিয়ে বসে বলল,,,
প্রেয়সী আমার দিকে তাকাও ৷
উষা অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,, আমাকে তুমি করে বলছেন?
বউকে তুই বলে ডাকব? আমি কি তোর মতো বেআক্কল?
উষা হেসে উঠে বলল,, আবার তো তুই বললেন ৷
উৎকর্ষ ঘোর লাগা দৃষ্টিতে ওর হাসির দিকে নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকল ৷ ওর এমন দৃষ্টি দেখে উষার আত্মা শুকিয়ে গেল ৷ হাসি থামিয়ে পুনরায় মাথা নিচু করে ফেলল ৷ উৎকর্ষ ওর থুতনি ধরে মুখটা তুলে বলল,,,
প্রেয়সী আজ একটু নিয়ন্ত্রণহীন হতে চাই ৷ বাধা দিও না ৷
বলেই উৎকর্ষ ওর ওষ্ঠের সাথে নিজের ওষ্ঠ মিলিয়ে দিয়ে গভীরভাবে চুম্মন করতে লাগল ৷ উৎকর্ষের শক্তির সাথে পেরে না ওঠে উষা বিছানায় পড়ে গেল ৷ উৎকর্ষ ঠোঁট ছেড়ে এবার ঘাড়ে চুমু খেতে লাগল ৷ এতোদিন নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখা উৎকর্ষ আজ ভীষণ ধৈর্যহারা হয়ে পড়েছে নিজের প্রেয়সীকে কাছে পেয়ে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সকালের মিষ্টি রোদ চোখে মুখে এসে পড়তেই উষার ঘুম ভেঙে গেল ৷ আলতো করে চোখ খুলে ভালোভাবে আশেপাশে তাকাতেই দেখতে পেল উৎকর্ষ ওর বুকের সাথে লেপ্টে আছে ৷ উষা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিল ৷ পর মুহূর্তে রাতের কথা মনে হতেই ল'জ্জায় লাল হয়ে গেল ৷
উৎকর্ষকে আস্তে করে নিজের থেকে ছাড়িয়ে উষা বাথরুমে চলে গেল ফ্রেশ হওয়ার জন্য ৷ কিছুক্ষণ পর কমলা রঙের একটা সুতির কাপড় পড়ে বেরিয়ে আসল ৷ উৎকর্ষ ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলল,,,
সকাল সকাল কোথায় যাচ্ছ উষা?
আপনার মুখে তুমি ডাকটা ভীষণ অদ্ভুত লাগে!
উৎকর্ষ বিছানায় উঠে বসে বলল,,, অদ্ভুত তো লাগবেই ৷ ভালো কিছু তো তোমার সহ্য হয় না ৷
এতোক্ষন উৎকর্ষ ঘুমঘুম চোখেই কথা বলছিল ৷ চোখ ডলে ভালোভাবে উষার দিকে তাকাতেই ওর কথা বন্ধ হয়ে গেল, একদৃষ্টিতে নিজের সদ্য ১ দিনের বিবাহিতা স্ত্রী কে দেখতে লাগল ৷ ওকে এভাবে তাকাতে দেখে উষা ল'জ্জায় অন্যমুখ হলো ৷ উদম গায়ে উৎকর্ষ গিয়ে ওকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরল ৷ ওর সুগন্ধিময় চুলে কিছুক্ষণ মুখ ডুবিয়ে রেখে উৎকর্ষ ওকে নিজের সম্মুখে আনল তারপর ওষ্ঠপুটে চু'ম্মন করতে লাগল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎসাহ জিনির মাথা আঁচড়িয়ে দিচ্ছে পরম যত্নে ৷ জিনি আয়নায় ওর প্রতিবিম্বের দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে আছে ৷ এমন সময় উৎকর্ষ এসে দরজায় নক করল ৷ জিনি মাথায় ঘোমটা দিয়ে দিল আর উৎসাহ উৎকর্ষের সাথে নিচে চলে গেল ৷
ওরা যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই উষা জিনির কাছে চলে আসল ৷ একে অপরের দিকে তাকিয়ে দুজনেই মুচকি হাসল ৷ উষা গিয়ে বিছানায় বসে পড়ল ৷ জিনি পেটে হাত রেখে ওর কাছে যেতেই ওর ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ তারপর মুচকি হেসে বলল,,
রোমিও তোমার অবস্থা দেখতেছি পুরোই কাহিল!
উষা অবাক হয়ে বলল,,, কি বলছিস? কি হয়েছে আমার?
তোর সারা শরীরে দেখছি ছোট ছোট ক্ষ'তের চিহ্ন ৷
উষা ভীষণ ল'জ্জা পেয়ে শাড়ির আঁচলটা দিয়ে নিজেকে আরো ভালোভাবে ঢেকে নিল ৷ তা দেখে জিনি মুখে হাত চেপে হাসতে লাগল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
বিয়ে হওয়ার ১ সপ্তাহ পার হয়ে গেছে ৷ সবাই ডায়নিং টেবিলে বসে চুপচাপ খাচ্ছে ৷ উর্মিলা রহমান উমায়েত ফারুকী কে চিমটি কেটে চোখ দিয়ে কিছু একটা ইশারা করলেন ৷ উমায়েত ফারুকী পেটে হাত বুলাতে বুলাতে গম্ভীর গলায় ফিসফিস করে বললেন,,,
এভাবে কেউ চিমটি কাটে? অল্পের জন্য চামড়া খুলে আসেনি!
উর্মিলা রহমান দাঁত বের করে বললেন,,, দুঃখিত বুঝতে পারিনি ৷
উমায়েত ফারুকী গম্ভীর মুখেই উনার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চোখ ঘুরিয়ে নিলেন ৷ তারপর গলা খাকারি দিয়ে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করলেন ৷ সবাই কৌতুহলী দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকাল ৷ উমায়েত ফারুকী বলে উঠলেন,,,
আমরা বড়রা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে তোমরা দুই জুটি কিছুদিনের জন্য বাইরে থেকে ঘুরে আসবে ৷ যেমন ধরো কক্সবাজার ৷
কথাটা শুনে উষা আর জিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল ৷ উমা মুখভার করে বলল,,,
শুধু ওরা কেন? আমিও যাব ৷
উমায়েত ফারুকী নরম কন্ঠে বললেন,,, মামনি এবার তোমার ভাইয়া আর ভাবীরা যাক ৷ পরেরবার ছোট বাবু পৃথিবীতে আসার পর পুরো পরিবার মালদ্বীপ ট্যুরে যাব ৷
উমার লটকানো মুখটা মুহূর্তেই জ্বলমলিয়ে উঠল ৷ হাসিমুখে পুনরায় খাবার খেতে শুরু করল ৷ উমায়েত ফারুকী উৎসাহ আর উৎকর্ষকে উদ্দেশ্য করে বললেন,,,
কি বলো তোমরা? যাবে ঘুরতে?
উৎকর্ষ তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল,, কেন নয়? অবশ্যই যাব ৷ তুমি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করো ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
জিনি একটা ব্যাগে নিজের আর উৎসাহের প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রগুলো গুছিয়ে নিল ৷ উৎসাহ নেভি ব্লু কালারের একটা শার্ট, সাদা প্যান্ট আর হাতে কালো ঘড়ি পড়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসল ৷ বোরকা পরিহিত জিনি একনজর স্বামীর দিকে তাকিয়ে বলল,,,
মাশাআল্লাহ কারো যেন নজর না লাগে ৷
উৎসাহ ওর ঠোঁটে চুমু খেয়ে বলল,,, তুমি থাকতে কারো নজর লাগার কথা না ৷ সব গুছিয়ে নিয়েছো?
জিনি মুচকি হেসে মাথা উপর নিচ করল ৷ উৎসাহ ওকে ধরে ধরে নিচে নিয়ে গেল ৷ জিনির পাঁচ মাস চলতেছে তাই হাঁটতে একটু অসুবিধা হয় ৷ উষা আর উৎকর্ষ ইতোমধ্যেই গাড়ির কাছে চলে গেছে ৷
উষা জিনির মতোই বোরকা পড়েছে ৷ উৎকর্ষ কালো প্যান্টের সাথে সাদা শার্ট , হাতে ঘড়ি আর চোখে চশমা দিয়ে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৷ ওদের আসতে দেখে উৎকর্ষ বলল,,,
সব ঠিকঠাক ব্রো?
উৎসাহ ইশারায় হ্যাঁ বোঝাল ৷ সকলের থেকে বিদায় নিয়ে ওরা এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে চলে গেল ৷ ওদের নামিয়ে দিয়ে ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে বাসায় চলে গেল ৷ সব ফর্মালিটিস কমপ্লিট করে ওরা ফ্লাইটে উঠে পড়ল ৷
একে অপরের থেকে কিছুটা দূরে দূরে ওরা বসেছে যেন জড়তাহীন ভাবে প্রিয় মানুষের সাথে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করতে পারে ৷ জিনি উৎসাহের কাধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে আছে ৷ এর আগে কখনো প্লেনে চড়েনি তাই বেচারী ভয় পেয়ে গেছে ৷ উৎসাহ মুচকি হেসে ওর হাতটা শক্ত করে ধরে বলল,,,
আমি আছি তো বিবিজান ৷ ভয় কিসের?
উৎকর্ষ আর উষা একে অপরের হাত ধরে চুপচাপ বসে আছে ৷ উৎকর্ষ ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,
প্রেয়সী ভয় লাগছে?
আপনি সাথে থাকলে আমার কোনো কিছুকেই ভয় লাগে না টমেটো সস ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
দীর্ঘ জার্নির পর ওরা কক্সবাজারে এসে পৌঁছাল ৷ একটা ক্যাব ভাড়া করে ওরা নির্দিষ্ট রিসোর্টের উদ্দেশ্যে চলে গেল ৷ আগে থেকেই বুকিং করে রেখেছিল তাই কোনো ঝামেলা ছাড়াই রুমের চাবি নিয়ে যে যার কক্ষে চলে গেল ৷ প্রথমে ওরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিবে , খাওয়া-দাওয়া করবে তারপর বিকেলের দিকে সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যাবে ৷
রিসোর্ট টা জিনি আর উষা মুগ্ধ হয়ে ঘুরে ঘুরে দেখতেছে ৷রিসোর্ট টা গাছগাছালি দিয়ে ঘেরাও হওয়ায় এর সৌন্দর্য দ্বিগুন বেড়ে গেছে ৷ জিনি আর উষা গাঢ় নীল রঙের শাড়ি সাথে ম্যাচিং করা হিজাব পড়ে আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতেছে ৷ উৎসাহ আর উৎকর্ষ আসলেই ওরা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যাবে ৷ ওরা অপরিবর্তিত পোশাকে ওদের দিকে এগিয়ে আসল ৷ তারপর চারজন সমুদ্র সৈকতে চলে গেল ৷
উষা , জিনি মুগ্ধ হয়ে সমুদ্রের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে লাগল ৷ শাড়ি একটু উচু করে উষা সমুদ্রের পাড়ের দিকে ছুটে গেল ৷ উৎকর্ষও ওর পিছু পিছু ছুটে গেল ৷ ওর হাত ধরে টেনে ধ'মক দিয়ে বলল,,,
সমুদ্রের ঢেউ সম্পর্কে ধারনা আছে? অল্প একটু অসাবধান হলেই ভাসিয়ে নিয়ে যাবে ৷
উষা ওর গাল টেনে দিয়ে বলল,,, আপনি থাকতে আমার কিছু হতেই পারে না ৷
হঠাৎ মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি খেলে যাওয়ায় উষা উৎকর্ষের মুখে পানি ছিটিয়ে দিল ৷ আচমকা এমন ঘটনায় উৎকর্ষ হতভম্ভ হলেও পর মুহূর্তে নিজেও ওর দিকে পানি ছিটাতে শুরু করল ৷ দুজনেই ছোট বাচ্চার মতো খিলখিল করে হাসতে হাসতে একে অপরের দিকে পানি ছিটাতে শুরু করল ৷ 
জিনিকে ধরে উৎসাহ আস্তে আস্তে সমুদ্রের পাড় দিয়ে হাঁটতেছে ৷ হালকা হালকা বাতাস এসে উৎসাহের চুল উড়িয়ে দিচ্ছে ৷ জিনি সন্তর্পণে সেগুলো সরিয়ে দিতে লাগল ৷ জুতো খুলে দুজনে দাঁড়িয়ে পড়ল ৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই বড় একটা ঢেউ এসে ওদের পা ভিজিয়ে দিয়ে গেল ৷ এতে জিনি মনের আনন্দে হাসতে লাগল ৷ হাসিহাসি মুখে জিনি বলল,,,
সমুদ্র টা চমৎকার তাই না এসিপি সাহেব?
উৎসাহ শান্ত স্বরে বলল,, হু ৷ তবে আমার বিবিজানের চেয়ে বেশি না ৷
জিনি চকিতে উৎসাহের দিকে তাকাল ৷ উৎসাহ ওর চোখে চোখ নিবদ্ধ রেখে বলল,,,
সমুদ্রের গভীরতার থেকেও আমার ভালোবাসার গভীরতা অনেক বেশি বিবিজান ৷ তোমার ওই গহীন চোখের মায়ায় বহু আগেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি ৷ 
জিনি পলকহীন চোখে উৎসাহের দিকে তাকিয়ে থেকে ওর গালে হাত রেখে বলল,,, ঢেউ ছাড়া সমুদ্রের সৌন্দর্য যেমন ফিকে পড়ে যায় তেমনি আপনি হীনা আমি রঙহীন হয়ে যাই ৷ আপনি ছাড়া আমি অপূর্ণ, আপনাতেই আমি পরিপূর্ণ ৷ এই সমুদ্রের বিশালতার মতো আপনি আমার মনে জায়গা দখল করে আছেন ৷ আমাকে সারাজীবন এভাবেই ভালোবাসবেন তো এসিপি সাহেব?
জানি না কারন তুমি আমার ভালোবাসা নও ৷ বয়সের সাথে সাথে জীবনের বিভিন্ন ধাপে ভালোবাসা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায় ৷ কিন্তু কারো মায়ায় পড়ে গেলে সেটা সময়ের সাথে সাথে বাড়তেই থাকে ৷ আর তুমি আমার সেই মায়া ৷ ডুবেছি তোমার মায়ায় বিবিজান যে মায়া ইহকাল কেন পরকালেও আমি কাটাতে চাই না ৷
আরো একটা ঢেউ এসে ওদেরকে ভিজিয়ে দিয়ে গেল কিন্তু সেদিকে ওদের কোনো খেয়াল নেই, ওরা তো ডুবে   আছে একে অপরের মায়ায় ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
পানি ছিটাতে ছিটাতে দুজনে প্রায় অর্ধভেজা হয়ে গেছে ৷ সাদা শার্ট পড়ে থাকায় উৎকর্ষের বডি খানিকটা বোঝা যাচ্ছে ভিজে যাওয়ার কারনে ৷ কয়েকটা মেয়ে ওকে আড়চোখে দেখছে আর নিজেদের মধ্যে ফুসুরফুসুর করছে ৷ সেটা লক্ষ্য করতেই উষা ভ্রু কুঁচকে পানি ছিটানো বন্ধ করে দিল ৷ তারপর উৎকর্ষের কাছে গিয়ে ওকে জরিয়ে ধরল ৷ উৎকর্ষ অবাক হয়ে বলল,,,
কি করছো?
ওই মেয়েগুলো আপনার বডির প্রতি নজর দিচ্ছে তাই ঢেকে রাখছি আপনাকে ৷
উৎকর্ষ নিঃশব্দ হেসে বলল,,, প্রেয়সী আমি শুধুমাত্র তোমার আর সারাজীবন তোমারই থাকব ৷
উষা হাসিমুখে ওর দিকে তাকাল ৷ উৎকর্ষ ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সামনে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বলল,,,
ওদিকে তাকাও প্রেয়সী ৷
উষা ওকে জরিয়ে রাখা অবস্থাতেই পিছু তাকাল ৷ সূর্যাস্ত হতে চলেছে ৷ এমনিতেই সূর্যাস্তের দৃশ্য অপরুপ সুন্দর তার উপর সেটা যদি হয় সমুদ্রের পাড়ের সূর্যাস্ত তাহলে তো আর কথাই নেই ৷ উৎকর্ষ আর উষা মুগ্ধ হয়ে চমৎকার সূর্যাস্ত দেখল ৷ তারপর উৎকর্ষ বলল,,,
সূর্য যেভাবে সমুদ্রের মাঝখানে ডুবে গেল আমি তেমন তোমার মায়ায় ডুবেছি প্রেয়সী ৷
ভালোবাসি টমেটো সস ৷ সারাজীবন আপনার সাথে সূর্যাস্ত দেখতে চাই ৷
উৎকর্ষ উষাকে জরিয়ে ধরে সামনে ডুবস্ত সূর্যটার দিকে অনিমেষ তাকিয়ে থাকল ৷
         ~সমাপ্ত ~
[একটা বিষয় খেয়াল করেছো উৎকর্ষ কিন্তু একবারও উষাকে 'ভালোবাসি' কথাটা বলেনি🌚]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন