ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি চিরকাল সাথী আমার

২য় পর্ব

লেখক: হুররামের আম্মু

সকাল সকাল অলিভয়ার ঘুম ভেঙে যায় তার আবার অন্য কারো ঘরে ঘুম আসে না জা আসে তাও একটু ঘুমালে চলে যায় অথচ বাসায় হলে মায়ের হাতে মাইর না খাওয়া পর্যন্ত ঘুম থেকে উঠে না, অলিভিয়া উঠে ফ্রেশ হয়ে বিচানায় বসে বসে ফোনে ভিডিও দেখছে একটু পর সেজুতিও উঠে যায় সেও ফ্রেশ হয়ে অলিভিয়া কে নিয়ে ড্রইংরুমে গিয়ে বসে ওরা নিচে নামার সাথে সাথে নাস্তা খাওয়ার জন্য ডাক দেই বড় মামি,সেজুতি রা খাবার টেবিলে গিয়ে বসে পরে আসতে আসতে সবাই বসেছে,

তখনই নিচে নামে সূর্য সে সোজা গিয়ে অলিভিয়ার পাশের চেয়ারটা টেনে সেখানে বসে পরে, কারণ সেখানে আর কোনো চেয়ার নাই এই একটাই আছে,
:
অলিভিয়ার বাম পাশে বসেছে সূর্য ডান পাশে বসেছে সেজুতি তার সামনেই ফাহিম আর প্রিয়া বসেছে ফাহিম আর প্রিয়া একসাথে কিন্তু জগ্রা হবে না এমন টা ভাবাই বোকামি, কিন্তু তারা জগ্রা করতে পারছে না কারণ তাদের সামনে বসেছে দে গ্রেট অফ আদিব চৌধুরী সূর্য দুইজন চুপচাপ বসে রয়েছে মুখ কাচুমাচু করে ওদের অবস্থা দেখে সবাই মুখ টিপে টিপে হাসতেছে,
অলিভিয়ার পাশে সূর্য থাকায় তার অনেক নার্ভাস লাগছে,
 কেননা সে কখনো ছেলে দের পাশাপাশি বসেনি এবং কখনো তেমন কোনো ছেলের সামনে যায় না কিন্তু এখানে এসে থাকে একটা ছেলের পাশে বসে নাস্তা খেতে হচ্ছে এটা ভেবেই তার কান্না আসতেছে, তার প্লেটে সবাই নাস্তা তুলে দিচ্ছে সূর্য কে দিতে গেলে সে কাট কাট জবার দেই
:
:
আমি বাচ্চা না যে আমাকে তুলে তুলে দিতে হবে এতো কেয়ার আমার লাগবে না,
:
তার কথা শুনে আর কেউ থাকে নাস্তা দেবার সাহস করেনি,যদি আবার কেউ থাকে নাস্তা দিতে যেত তাহলে থাকে নির্গাত একটা থাপ্পড় আর নয় তো ধমক শুনতে হত,
:
:
কিরে মা নাস্তা কর এই ভাবে বসে আছিস কেন, আপা যদি জানে তুই না খেয়ে রয়েছিস তাহলে আমার উপর অনেক রাগ করবে খেয়ে নে মা,,  
:
সেজুতির মায়ের কথা শুনে অলিভিয়া অল্প একটু নাস্তা মুখে দেই,
:
সূর্য আঢ় চোখে আলিভিয়াকে দেখতেছে,
:
 বেচারা ফাহিম আর প্রিয়া এতোক্ষণ চুপ থাকলেও আর পারলো না অবশ্য আগে ফাহিম করেছে জগ্রা টা, প্রিয়ার নাস্তা করা শেষ হলে সে একটা কলা নয়েছে অম্নি ফাহিম ওর হাত থেকে কলা টা নিয়ে মুখে পুরে দেই সেজুতি কলা কেন নিয়েছিস বললেই জগ্রা বেধে যায় ওদের মধ্যে, 
ওদের এই ফ্যানফ্যানি সূর্যের মোঠেও পছন্দ হয়নি তাই সে ধমক দিয়ে উঠে,
:
:
ইস্টুপিট তোদের সমস্যা কি একটা কলার জন্য কেন দুইটা জগ্রা করতেছিস, ফাহিম তর কি কলা খাওয়ার অনেক সখ হয়েছে তাহলে আজকে দেখবো তুরা কে কইটা কলা খেতে পারিস যদি খেতে না পারিস তাহলে তোদের আমি দশটা করে কুত্তার কামর খাওয়াবো,
:
সূর্যর ধমক খেয়ে সবাই চুপ ওরা দুইজন ভয় পেয়ে কাপতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে কেননা সূর্য জা বলে তাই করে দুইজন দেরি না করে পটাপট ক্ষমা চেয়ে নেই,
:
সরি ভাইয়া আর কখনো এমন হবে না আজকের মতো মাপ করে দেও আর জীবনেও আমরা জগ্রা দিবো না,
দুইজন একসাথে কথা টা বলে একজন আরেকজনের দিকে থাকায় চোখে চোখে শাসিয়ে নেই তবে মুখে কিছু বলে না ভয়ে তাদের হাত পা অনেক বেশি কাপতেছে,
:
সূর্য কলার জুড়ি টা ওদের সামনে দিয়ে বলে নে শুরু কর,
:
:
খাওয়া পেটে কি আর এতো কলা যায় তবে মাইরের ভয়ে ওরা এতক্ষণে অনেক কলা খেয়ে ফেলেছে আর না পেরে প্রিয়া কান্না করে দেই, 
:
ভাইয়া প্লিজ এবার মাপ করে দাও দেখছো না ওদের অবস্থা কেমন হয়েছে আর কখনো জগ্রা দিবে না প্লিজ ভাইয়া মাপ করে দাও, বলে সুমি সূর্যের দিখে থাকায়, আবার বলে. প্লিজ ভাইয়া আমি তো চলেই যাবো আমার একটা কথা অন্তত রাখো আমি আমার ছোট ভাই বোন দের কষ্ট পেতে দেখতে পারছি না ভাইয়া প্লিজ,
:
সূর্য হনহনিয়ে নাস্তার টেবিল থেকে উঠে যায়, সোজা তার রুমে চলে যায়, 
প্রিয়া আর ফাহিম সুমি কে ধন্যবাদ দিয়ে তারাও চলে যায়,
তবে এইসবের মাঝে দুইটা মানুষের মুখে হাসি লেগে আছে সে দুইটা মানুষ আর কেউ নয় প্রিয়া আর ফাহিমের মা দুইজন দুইজনের দিখে থাকিয়ে চোখে চোখে বলে খুব ভালো হয়েছে আজকে একদম উচিত কাজ করেছে, 
:
সেজুতি চল রুমে যাবো আমার ভালো লাগছে 
:
সেজুতি বিনা বাক্য অলিভিয়ার সাথে রুমে চলে যায়,
:
কিরে তর ভাই টা এমন কেন রে মানুষ এতো পাষাণ হয় কিভাবে দুইটা বাচ্চা না হয় একটু ফাইজলামি করেছে এতে উনার এতো রাগ দেখানোর কি আছে, সবাই তো আর ওনার মতো বুড়ো হয়ে যায় নাই তাই না, বাচ্চারা ফাইজলামি করবে এটা স্বাভাবিক কিন্তু সে এমন রিয়েক্ট না করলেও পারত রে, আর বাসার কেউ কিছু বলেও নাই আপু কিছু না বললে হয় তো এতক্ষণে আরও শাস্তি পেতে হতো, এই এই আন্টি আঙ্কেল নানা নানি মামা মামি কেউ কিছু বলে নাই কেন,
শেষ কথা টা অলিভিয়া সেজুতি কে ধাক্কা দিয়ে বলে ছিলো, প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য সেজুতির দিখে থাকিয়ে আছে,
:
ভাইয়ার সামনে কথা বলার সাহস কারো নাই আর ভাইয়া এইসব ফাইজলামি একদম পছন্দ করে না সে জেই হোক যদি ভুলে করে তাহলে থাকে অবশ্য শাস্তি পেতে হবে, ভাগ্যিস আপু বললো অবশ্য অন্য সময় হলে আপুর কথা কানেও নিত না কিন্তু আপু চলে যাবে বলাই ভাইয়া আর কিছু বলে নাই, একটা দর্ঘশ্বাস নিয়ে সেজুতি কথা টা শেষ করে বলে, এই চল ছাদে যায় ওখানে গেলে অনেক ভালো লাগবে স্পেশালি তর তো অনেক ভালো লাগবেই,
:
আমার ভালো লাগবে না কি তর সেটা ভালো করে জানি আমি,
:
আরে এমন করে বলছিস কেন তর সাথেই তো দেখা করাবো আমি দেখবো না,
:
আচ্ছা উনি নাস্তা করতে আসেনি কেন?
:
কারণ মহারাজ তখন ঘুমিয়ে ছিলো আমরা খেতে বসার পর ঘুম থেকে উঠেছে আর সে আসার আগেই তো তুই চলে আসলি, আচ্ছা আচ্ছা চল ছাদে যায় উনি চলে আসবে, বলে অলিভিয়ার হাত ধরে ছাদের নিয়ে যায়, 
:
ছাদে এসে এবার সত্যি অলিভিয়ার অনেক ভালো লাগে, ছাদে অনেক রকম ফুল গাছ, অলিভিয়া ফুল অনেক পছন্দ, সে তো ফুল দেখে খুশি হয়ে সেগুলো দেখতে ছিলো, এখানে তার পছন্দের অনেক ফুল রয়েছে,
:
কেমন আছো ডিয়ার শালীকা, 
:
প্রশ্ন শুনে অলিভিয়া পিছনে পিরে দেখে একটা শেমবর্নের ছেলে দারিয়ে আছে হাইট হবে হয় তো (6ইঞ্জি) পরনে একটা সেন্টু গেঞ্জি আর টাওজার ছাড়া কিছু নাই,
রাগিনী এটা উনি, হাল্কা লজ্জা নিয়ে সেজুতি কথা টা অলিভিয়া কে বলে, অলিভিয়া সালাম গিয়ে কেমন আছে জিজ্ঞেস করে। আকাশ ও উত্তর দেই আকাশ খুব সুন্দর করে অলিভিয়ার সাথে কথা বলে, 
:
:
সেজুতি আর আকাশের রিলেশন প্রাই দুই বছর কিন্তু এখন তারা সেটা কাউকে বলে নি, আকাশ পড়ালেখা শেষ করে এখন বাবার বিজনেস দেখা শুনা করে, এখন বলেনি কারণ সেজুতি এখনো বিয়ের জন্য প্রস্তুত নয় আগে সুমি আপু আর সূর্য ভাইয়ার বিয়ে হয়ে জাক তার পর না হয় আমার টা এইসব বলে সেজুতি কাউকে বলে নাই,,
:
:
সময় তখন বিকাল ছয়টা সবাইকে ডাক দেই নাস্তা করার জন্য,, আসতে আসতে সবাই নিছে নামে অলিভিয়া আর সেজুতিও নামে ওদেএ দেখে সেজুতির মা বলে,,
:
তুরা তারা তারি নাস্তা করে রেডি হয়ে নে মার্কেটে যেতে হবে ওদিকে সুমির শশুর বাড়ির সবাই চলে আসবে তারা তারি রেডি হয়ে নে,,
:
এই বাল শুন আমি যাবো না, ওখানে অনেক মানুষ থাকবে আমি বেশি মানুষের সামনে যেতে পারবো না,,
:
অলিভিয়ার কথা শুনে সেজুতি বলে আরে গেলে কি হবে চল না প্লিজ যায়,,
:
বললাম তো আমি যাবো না তুই প্লিজ আমাকে জোর করিস না তুই জা আমি রুমে থাকবো,,
:
সেজুতি আর কিছু বললো না,, ওদের কথা বার্তা কেউ শুনেনি তাই সেজুতি বললো আমার অনেক খারাপ লাগতেছে তোমরা জাও,, ওরা অবশ্য বললো অলিভিয়া কে যেতে কিন্তু সে তো যাবে না তাই কোনো রকম অজুহাত দিয়ে আর যায়নি,, 
:
রাত তখন বারোটা পনেরো ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ভিজতেছে অলিভিয়া, গায়ে জরানো সুতির হলুদ শাড়ি, সোনালী পারের হলুদ শাড়িতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে,, বৃষ্টিও জেন থাকে ছুয়ে দিতে চাচ্ছে বারে বার,, ভেজা সরিলে শাড়ি টা গায়ে লেপ্টে গেছে, মেকাপ বিহীন এই রমনীকে দেখে কেউ একজন জেন নিজের ভিতর থেকে বের হয়ে গেছে,, 
সে শুধু তাকিয়ে আছে এই রমনীর দিকে তার চোখ জোরা আজকে কিছুতেই বন্ধ হবে না,, জদিও বা এই যুবকের ইচ্ছেও নাই চোখ সরানোর সে দেখতেছে তার প্রিয়তমাকে,তার সানফ্লাওয়ার কে হ্যা এটাই তার সানফ্লাওয়ার আদিব চৌধুরী সূর্যের সানফ্লাওয়ার,, তার এই জীবনে একমাত্র এই রমনীই আছে জার প্রতি সে দুর্বল,জাকে দেখার জন্য সেই দুর থেকে দুরের রাজ্যে পেলে চলে আসে শুধু একটা বার দেখার জন্য কিন্তু আফসোস এই রমনী এখনো জানলোই না থাকে দেখার জন্য আমি আদিব চৌধুরী সূর্য পাগল হয়ে যায়,,
সূর্যে দের ভাঙে অলিভিয়ার গানের সুর শুনে,, মুহুর্তেই সূর্য অবাক হয়ে ভাবতে থাকে তার প্রিয়তমার মনে কি অনেক কষ্ট? কই সে তো ঠিক মতো খুজ রাখে কখনো তো দেখে নাই বা শুনে নাই কিন্তু তার প্রিয়তমা আজকে এতো ভেঙে গেছে কেন? কেন সে এমন গান গাইছে?? আবারও সে গানের সুর শুনে,,
:
:
আশে পাশে এতো মানুষ তবু একা মন...
ভীরের মাঝে খুজে বেরায় আমার প্রিয়জন...
চার দেয়ালের মাঝে আমার যন্ত্রণা দের দেশ....
ভাঙা চুরা সপ্ন গুলো পুরছে অবশেষ...
তাই তো শুন্যে শুন্যে লাগে...
বড় শুন্যে শুন্যে লাগে...
আমার একলা ঘরে একলা আকাশ শুন্যে শুন্যে লাগে...
:
গানের সাথে চোখ দিয়েও অঝোরে পানি পরছে অলিভিয়ার,, বৃষ্টি কারণে চোখের জল গুলা দেখা না গেলে অনুভব করা যাচ্ছে, 
:
আজকে আকাশে চাঁদ নাই। নাই কোনো তারা মেঘের রাজত্ব চলতেছে আকাশে আজ, মেঘে রা নিজেদের মতো খেলা করছে আর বৃষ্টি এসে ছুয়ে দিচ্ছে প্রতি টা মানুষের মনে কারো বা গায়ে, কেউ বা এই বৃষ্টি মন দিয়ে অনুভব করছে চলে যাবে তাই আবার কেউ বা অপেক্ষা করছে কখনো চলে যাবে, অলিভিয়ার বৃষ্টি খুব পছন্দ সে চাই সারাজীবন বৃষ্টি হোক,, এখনো তার মন খারাপ তাই সে বৃষ্টির পানি গায়ে জড়িয়ে মন ভালো করছে, ভালো লাগতেছে আবার কান্নাও করতেছে গান ও গাইতেছে , তার এই কান্না ভেজা কন্ঠে গান শুনে সূর্যের জেন আর কিছুই ভালো লাগছে না সে ভাবতেছে কি হয়েছে তার প্রিয়তমার সাথে তার সানফ্লাওয়ার কান্না করছে এটা সে দেখতে পারছে না তার বুক পেটে যাচ্ছে কষ্টে,, 
:
যদি কেউ আমার সানফ্লাওয়ার কে একটু কষ্ট দেই আমি থাকে হাজার কষ্ট দিয়ে মারবো... 
আমার সানফ্লাওয়ারের গায়ে কেউ ফুলের টুকা দিলে আমি তার গায়ে বিশাক্ত সাপের চুবল দিবো...
গট প্রমিজ....
চলবে......
#  তুমি চিরকাল সাথী আমার 
# হুররামের আম্মু 
#(২)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন