ফন্ট সাইজ:
থিম:
ব্লাডিং হার্ট

১ম পর্ব

লেখক: স্বপ্নীল সৃজনী
#ব্লাডিং_হার্ট
#স্বপ্নীল_সৃজনী
প্রথম অধ্যায়
সূচনা পর্ব
চারিদিকে গোলাগুলির শব্দে অন্তর আত্মা কেঁপে উঠার জোগাড় ।যদিও এরিয়াটিতে নো এন্টার সিল লাগানো বিদায় আপাতত এরিয়াটিতে কোনো মানুষের আনাগোনা নেই। দূর আকাশে কিংবা আশেপাশে কোনো পাখপাখালি দেখাও নেই। নির্জন পরিবেশে গুলির এমন মরণাত্তক শব্দের সাথে ঝরে পড়ছে অজস্র প্রাণ।
 তখনই কেউ দ্রুত কণ্ঠে বলে উঠলো -" সিচুয়েশন আনডার কনট্রল স্যার। আতঙ্কবাদী দের অনেকেই  আমাদের  হাতে বন্দি। পালের গোদা কে আমরা চাইলে এক্ষুণি  এ্যারেস্ট করতে পারি।"
 -"ওকে গুড জাবিদ। ইউ টেক ইউর পজিশন এন্ড রিধি ইউ ফলো মি।"
 দুই জনই উচ্চ কন্ঠে ব্যস্ত স্বরে বলে উঠলো -"ওকে স্যার।"
_______
দেশের  কুখ্যাত  আতঙ্কবাদী এন্ড  ড্রাগস ডিলার আনিস মির্জা। দেশের যুব সমাজকে মাদকে আসক্ত করে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছিল।আজ বিদেশি বায়ার দের সাথে তার খুব বড় একটা ডিল ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু কোথা থেকে কি হয়ে গেল তার কিছুই বুঝতে পারছে না আনিস মির্জা।  দলের অনেকেই সিআইডিদের হাতে বন্দি হয়ে গেছে।যেকোনো সময় তাকেও এ্যারেস্ট করা হবে। আনিস মির্জা ব্যস্ত স্বরে কাউকে ফোন করে বললেন-" প্লিজ হেল্প মি। সিআইডির সিনিয়র ইন্সপেক্টর রিশাদ চৌধুরী হৃ...........!
ব্যাস আর বললে পারলো না আনিস মির্জা।হঠাৎ করেই একটা গুলি এসে  লাগলো তার বাম পায়ে।তাল সামলাতে না পেড়ে  বসে পড়লো আনিস মির্জা। পিছনে তাকিয়ে দেখে রিশাদ চৌধুরী হৃদ দাড়িয়ে আছে। গুলিটা টা এসেছে হৃদের পাশে দাড়ানো জাবিদের গুলি থেকে। আনিস মির্জার রক্ত বিজড়িত পায়ে দিকে তাকিয়ে হৃদ করুনার স্বরে বললো-"ইশ পায়ের কি অবস্থা হয়েছে। জাবিদ তুমি এটা কি করলে। বেচারা কত কষ্ট পাচ্ছে।"
আনিস মির্জা রাগান্বিত স্বরে বললো-" আমাকে ছেড়ে দে বলছি। তানা হলে তোর জীবন তছনছ হয়ে যাবে। "
পাশে থাকা চেয়ারে লাথি মেরে হৃদ দ্বিগুণ রাগান্বিত কণ্ঠে আনিস মির্জার কলার ধরে দাড় করিয়ে বললো-"হেই আস্তে কথা বল। রিশাদ চৌধুরী হৃদ উচ্চস্বর একদম পছন্দ করে না। আর কি বললি তুই আমার জীবন তছনছ কবরি। হাহাহাহাহা.....।রিশাদ চৌধুরী হৃদ নিজেই একটা আতঙ্ক,ধ্বংশ। হৃদ একবার যাকে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত।তুইও মরবি।"
আনিস মির্জার কলার ছেড়ে  ব্যস্ত হাতে বন্দুক বের করলো হৃদ। বুকের ঠিক মাঝ বরাবর গুলি করলো আনিস মির্জার। মৃত্যুর কড়াল অন্ধকার গ্রাস করলো আনিস মির্জাকে। বন্দুকটা কোমরে গুজে পকেটে হাত দিয়ে বেশ আয়েশ করে দাড়ালো হৃয় যেন কিছুই হয়নি। স্বাভাবিক ভাবেই পাশে দাড়ানো জাবিদ কে বললো-" জাবিদ লাশ টা কী করতে হবে জানা আছে নিশ্চয়ই।"
জাবিদ ও স্বাভাবিক ভাবেই ব্যস্ত স্বরে বললো-" ইয়েস  স্যার।"
 এতোক্ষণ তাদের পাশেই দাড়িয়ে ছিল সিআইডি জুনিয়র ইন্সপেক্টর অয়নিকা চৌধুরী রিধিমা। এতোক্ষণ কোনো কথা বলেনি সে। কিন্তু এখন আর চুপ করে থাকতে পারলো না সে। খানিক রাগী স্বরে বললো-"স্যার ওকে মারার কি দরকার ছিল। আইনের হাতে তুলে দিলেই তো হতো। আমাদের কিন্তু আপরাধীকে মেরে ফেলার কোনো নির্দেশনা ছিল না।"
 রিধির কথায় রাগী কন্ঠে হৃদ বললো-"হেই ইউ। তোমার কাছ থেকে শিখতে হবে আমি কি করব। হৃদ নিজের মর্জিতে চলে সবসময়। নেক্সট টাইম আমার কাজে বাগড়া দেওয়ার আগে হাজার বার ভেবে নিবে। মাইন্ড ইট।"
 বাইরের দরজার দিকে এগিয়ে গেল হৃদ। যেতে যেতে জাবিদ কে বলে গেল-" জাবিদ লাশটা সরিয়ে ফেল আর প্রেস রিপোর্টার দের কি বলতে হবে জানা আছে নিশ্চয়ই।
 দ্রুতগতিতে মাথা নাড়ালো জাবিদ।যার অর্থ সে জানে। হৃদের পারসোনাল এ্যাসিসটেন্ট জাবিদ। যার পরিপ্রেক্ষিতে হৃদের এমন হঠাৎ হঠাৎ খুন করা সম্পর্কে সে অবগত।
 __________
 
 চারিদিকে একটাই  ব্রেকিং নিউজ -"দেশে কুখ্যাত  অতঙ্কবাদী এন্ড ড্রাগস ডিলার আনিস মির্জা এনকাউন্টারে প্রতিপক্ষের গুলিতে মারা গেছেন।"
সংবাদটা দেখে বাঁকা হাসলো হৃদ। বিরবির করে সে নিজেই বললো-"দেশের কোনো শত্রুকে বাচিঁয়ে রাখা মানে বোকামি করা।আর রিশাদ চৌধুরী হৃদের ডিকশনারিতে বোকামি শব্দটা নেই।"
______
ব্যস্ত পায়ে বাড়ি ফিরলো হৃদ। গত আটচল্লিশ ঘণ্টা ধরে একটুও ঘুমায়নি সে। ডিউটিতে ব্যস্ত ছিল।এখন একটানা একটু ঘুম দরকার। বাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে বসার ঘরের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে তার মা ইরিনা চৌধুরীকে ডেকে উঠলো হৃদ।
রান্না ঘরে কাজ করছিলেন ইরিনা চৌধুরী আর অনিমা চৌধুরী। ছেলের ডাক শুনে হাতের কাজ রেখে রান্না ঘর থেকে বের হয়ে এলেন ইরিনা চৌধুরী। ছেলের সামনে আসতে আসতে বলতে লাগলো-"কী ব্যাপার হৃদ তুমি একা কেন। রিধি কোথায়া?"
হৃদের খামখেয়ালী উত্তর 
-" রিধি কোথায় আমি কিভাবে জানবো মা।"
ছেলের এমন খামখেয়ালী পানায় ইরিনা চৌধুরী রেগে গিয়ে বললেন-" আমি কিভাবে জানবে মানে। তুমি আর রিধি তো এক সাথেই অপারেশনের জন্য বের হয়েছিলে। তুমি ফিরে এসেছো রিধি এখনো ফিরেনি।মনে রেখ রিধি তোমার অফিসে জুনিয়র হওয়ার পাশাপাশি তোমার আপন চাচাতো বোন। তোমার কি কোনো দায়িত্ব ঙ্গান নেই।"
মায়ের কথায় হৃদ স্বাভাবিক ভাবেই বললো-" মা রিধি কোনো বাচ্চা মেয়ে নয় যে ধরে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসতে হবে। ও এখন  এডাল্ট। আর আমি কারো bodyguard না যে তাকে গার্ড দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসবো।"
ছেলের কথার বিপরীতে ইরিনা চৌধুরী যখনই কিছু বলতে যাবে তার আগেই অয়না চৌধুরী বলে উঠলো-" আহ্ আপা। তুমি চুপ করতো। ছেলেটা মাত্রইতো বাড়িতে এলো ওকে একটু রেস্ট তো নিতে দাও।"
কথাটা বলে হৃদের দিকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিল অয়না চৌধুরী।গ্লাসটা দিতে দিতে বললো-"হৃদ বাবা।তুই উপরে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে আয়। আমি ডাইনিং টেবিলে তোর খাবার দিচ্ছি।"
পানি খেয়ে হৃদ ক্লান্ত কণ্ঠে বললো -"  ওকে ছোট মা।"
তারপর সিড়ি বেয়ে উপরে নিজের বেড রুমে চলে গেল হৃদ। হৃদের জয়েন ফ্যামিলি। একে অন্যের সাথে বেশ ভালো বনডিং তার পরিবারে। শুধু রিধি কে হৃদের কম পছন্দ।ছোট মা নিজের আপন মা না হলেও তাকে মায়ের মতোই ভালোবাসে।
হৃদ উপরে চলে যেতেই ইরিনা চৌধুরী অয়না চৌধুরীকে বললো-" তুই  দিন দিন ছেলেটাকে লাই দিচ্ছেস ছোট।তোর জন্য ছেলেটাকে শাষণ করাই যায় না।"
অয়না চৌধুরীর  তখন বললো -"আহ্ আপা তুমি চুপ করো তো।  ওকে লাই দেব না তো কাকে লাই দেব। হিরের টুকরো ছেলে আমাদের। আর তুমি রিধিকে নিয়ে টেনশন করো না তো। রিধি এখন নিলিমার সাথেই  আছে। রিধি আমাকে কল করেছিল।"
অয়না চৌধুরীর কথায় ইরিনা চৌধুরী বললো-" মেয়েটাকে আবার নিলিমা কম্পানিতে যেতে বললো কেন । সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ওর এখন একটু রেস্ট নেওয়ার  দরকার ছিল।"
-"তুমি চিন্তা করো না আপা ওরা চলে আসবে।"
তখনই পিছন থেকে কেউ বলে উঠলো-" ওরা চলে আসবে না মা। আমরা চলে এসেছি মা।"
কথাটা বলেই মা বড়মাকে জরিয়ে ধরলো রিধি। চঞ্চলতা হাসি,খুশি থাকা মেয়েটার  স্বভাবের একটা অংশ। উজ্জল সাদা তার গায়ের রঙ।আপাতত ফরমাল গেট আপে আছে রিধি। পড়নে তার শুভ্র সাদা শার্ট টি ইং করে রাখা, সাথে কালো প্যান্ট।লেডিস শু।মাথার ঘন কালো চুল গুলো জুটি করে বাধা। ঘামে জড়িত শরীর নিয়েও মা বড় মায়ের সাথে কথা বলছিল রিধি। তখনই নিলিমা চৌধুরী বলে উঠলো-"চেঞ্জ করে ফ্রেস হয়ে নে রিধি। তোর  জামা তো ঘামে একাকার। তোর কিন্তু অল্পতেই ঠান্ডা লেগে যায়। তোর ঠান্ডা লেগে গেলে বাড়ির দুই  গিন্নি মিলে আবার আমার বিচার সভা বসাবে। ডিউটি  শেষে তোকে আমার  অফিসে ডেকেছিলাম কিনা।"
নিলিমার কথায় রিধি বাধ্য মেয়ের মতো মাথা এলিয়ে ঘরে চলে গেল।
রিধি চলে যেতেই  নিলিমা চৌধুরী অয়না চৌধুরী আর ইরিনা চৌধুরীর দিকে তাকালো। তারা তার দিকেই  তাকিয়ে ছিল। তাদের একসাথে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিলিমা চৌধুরী বললো-" কী ব্যাপার বড় ভাবি,ছোট ভাবি তোমরা এভাবে তাকিয়ে  আছো কেন। যেন আমি কোনো অপরাধ করে ফেলেছি।"
ইরিনা চৌধুরী তখন বলে উঠলো-" বড় ভাবিদের নিয়ে  পিঞ্চ মেরে কথা বললা। তো তাকাবো না।'"
তখনই  অয়না চৌধুরী বলে উঠলো-" তুমি আর পাল্টালে না নালিমা। ভাবিদের নিয়ে মসকরা করার স্বাভাব তোমার গেল না।"
 দুই ভাবির কথায় নিলিমা দুই ভাবির দিকে এগিয়ে গিয়ে হাত ধরে  বলে  উঠলো-" আহ্ ভাবি। বদলাবো কেন। দুই সন্তানের মা হয়েছি বলে বদলে যেতে হবে। একদম না। মনে রেখ তোমরা বুড়ি হয়ে গেলও তোমাদের নিয়ে  পিঞ্চ করা আমার বন্ধ হবে না।"
নিলিমার কথায়  উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো তিন রমনী।বাড়ির প্রতিটি ইট,সিমেন্ট যেন হেসে উঠছে তাদের হাসির তালে।
হাসি থামিয়ে  ইরিনা চৌধুরী বললো-" হয়েছে হয়েছে আর হাসতে হবে না। তারাতারি তুমিও চেঞ্জ করে খেতে এসো।"
_______
মাত্রই শাওয়া নিয়ে বের হয়েছে হৃদ। পড়নে তার শুধু একটা টাওজার। মাথার চুল থেকে টুপটাপ পানি পড়ছে কখনো। শরীরের বিন্দু বিন্দু  পানি এখনো রয়েছে তার। ফুরফুরে মেজাজে ছিল হৃদ। তখনই  তার ফোনটা বেজে উঠলো। কলটা ধরেই হৃদ বলে উঠলো-"হুম বলো।"
চলবে...
 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন