ফন্ট সাইজ:
থিম:
ব্লাডিং হার্ট

৪র্থ পর্ব

লেখক: স্বপ্নীল সৃজনী
#ব্লাডিং_হার্ট
#স্বপ্নীল_সৃজনী
পর্ব: ৪
বসার ঘরে বাবা ইশতিয়াক চৌধুরী,চাচা  অয়ন চৌধুরীকে অসময়ে বসে থাকতে দেখে একটু অবাক হলো হৃদ।তার পাশের সোফায় তার ফুপি নিলিমা চৌধুরীও বসে আছে। মা, চাচি রান্নার কাজে ব্যস্ত।হৃদকে বাড়িতে ডুকতে দেখেই তার বাবা ইশতিয়াক চৌধুরী বলে উঠলো-" হৃদ এখানে এসো।তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।"
হৃদ এগিয়ে গিয়ে তার বাবার অপর পাশে রাখা সোফায় বসে বললো-" কী হয়েছে বাবা?"
-"হৃদ তুমি তো জানোই নিশাতের সাথে রিশার বিয়ে অনেক আগেই ঠিক হয়ে আছে। নিশাত সামনের মাসে একটি বিজনেস ডিল ফাইনাল করতে বিদেশে যাবে। তাই ওরা চাচ্ছে এই মাসেই বিয়ে টা দিয়ে দিতে।"
-"হুম। রিশা আর তোমরা যদি রাজি থাকো পাঁকা করে ফেল।আমার কোনো আপত্তি নেই।"
কথাটা বলেই উপরে চলে গেল হৃদ। এসব পারিবারিক আলোচনা তার তেমন পছন্দ না।
_______
পরের দিন খুব সকাল সকাল ফরেনসিক ল্যাবে উপস্থিত হৃদ। সেখানে গতকালের লাশটা নিয়ে কাজ করছে ফরেনসিক এক্সপার্ট তাহসান তামিম আর অহনা।হৃদ গিয়ে অহনার পাশে দাড়িয়ে  তামিমকে বললো-" তো কিছু জানতে পেরেছো তামিম।"
তামিম তখন হৃদের দিকে তাকিয়ে বললো-"এটা যে একটা খুন তা নিয়ে কোনো ডাউট নেই হৃদ। লাশ টার হাতে দেখ।"
হৃদ লাশটার হাতের দিকে তাকিয়ে বললো-" এগুলো তো কোনো সিরিন্জের দাগ।"
-"তুমি একদম ঠিক ধরেছো হৃদ। এগুলো সিরিন্জেরই দাগ। এই মহিলা কে সায়ানাইট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমে কিন্তু দেখে কেউ বিষয়টা বুঝবে না। এই মহিলাকে দীর্ঘ এক মাস যাবৎ একটু একটু করে বিষ দেওয়া হয়েছে।"
তখনই অহনা বলে উঠলো-" তুমি তো জানো হৃদ সায়ানাইট কতটা বিষাক্ত। হঠাৎ করে ওভার ডোজ দিলে তখনই মহিলাটা মারা যেত। যেকারো ডাউট হতো। তাই কিলার খুব ঠান্ডা মাথায় কাজ টা করেছে।"
 তামিম মহিলাটির হাত পা দেখিয়ে বললো-"এই দেখ হৃদ  এনার হাত পা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে হালকা নীল বর্ণ ধারণ করছে। একে ধীরে ধীরে  একটু একটু করে বিষ দেওয়ার ফলে এর দেহের ভিতরের  লিভার,হার্ট সহ অন্যান্য অঙ্গাণু বিষক্রিয়ায় ফটে ইনি মারা গেছেন।"
 হৃদ তখন বললো-"ওহ,আচ্ছা। আর কিছু জানা গেলে আমাকে ইনফ্রম করো। আসি। বাই অহনা।"
 অহনা হাসি মুখে বললো-" বাই,হৃদ। সি ইউ সুন।"
 _________
ফরেনসিক ল্যাব থেকে বেড়িয়ে হৃদ তার পারশোনাল এ্যাসিসটেন্ট জাবিদ আর ফিংগার প্রিন্ট এক্সপার্ট  ভোর কে কল করে ঘটনা স্থলে পৌছাতে বললো আর ভোর কে বললো আসার সময় রিধি কে কল করতে।
অনেক দিন হলো ভার্সিটিতে যায় না রিধি। এইবার সে অনার্স থ্রার্ড ইয়ারে পড়ে।তাই ভাবছিল আজ ভার্সিটিতে যাবে।কিন্তু তার আগেই ভোর তাকে কল করে কালকে যে খুন হয়েছে সেই ঘটনা স্থলে পৌছাতে বলে। এদিকে বাড়িতে কোনো গাড়ি নেই এখন।সবাই গাড়ি নিয়ে কাজে বেড়িয়ে গেছে। তাই গেটের সামনে দাড়িয়ে ভাবছিল রিধি কি করা যায়। এমন সময় একটি গাড়ি এসে থামলো তার সামনে। গাড়ি থেকে ভোর বলে উঠলো-" উঠে এসো রিধি।"
রিধি বিনা বাক্যে গাড়িতে উঠে বললো-"স্যার আপনি এই দিকে।"
-" হ্যাঁ। এখান দিয়েই যাচ্ছিলাম। তোমাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ভাবলাম তোমাকেও তুলে নেই।"
আধা ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পৌছালো ভোর আর রিধি। সেখানেই সামনে জাবিদ আর হৃদ দাড়িয়ে কারো সাথে কথা বলছিল। রিধি আর ভোর হেসে হেসে কথা বলতে বলতে সেখানেই যাচ্ছিল। তা দেখে হৃদ কঠিন কন্ঠে বললো-"এটা হাসি -ঠাট্টা করার জায়গা না। হাসি - ঠাট্টা করতে হলে অন্য কোথাও গিয়ে কর এখানে নয়।"
রিধি তখন বিরবির করে বললো-"খবিশ কোথাকার।"
হৃদকে অনুসরণ করে খুন হওয়া ফ্ল্যাটে চলে গেল তারা। ফ্ল্যাটে কাজের মহিলা ছাড়া কেউ নেই।হৃদ কাজের মহিলাটিকে প্রশ্ন করলো-" মারা যাওয়া মহিলাটির স্বামী কোথায়?"
-"স্যার তো বাড়িতে নেই অফিসে গেছে। আমি বাড়িতে এসে দেখি কেউ নেই।"
-ওহ ওকে। তো বাড়ির কোনো কিছুতে কি হাত দিয়েছেন।"
--" না স্যার এখনই আসলাম আমি।"
-"কিছুতে হাত দেওয়ার দরকার নেই। আমরা বাড়িতে  এখন সার্চ করবো।বাড়িটা সিল করে দেব আপনার সাথে কিছু কথা আছে বাইরে গিয়ে দাড়ান।"
মহিলাটি হৃদের কথা মতো বাইরে গিয়ে দাড়ালো। হৃদ তখন রিধি আর ভোরকে বললো পুরো বাড়ি সার্চ করতে।জাবিদ কে বললো আসে পাশে সিসি ক্যামেরা আছে কিনা দেখতে। সবাই ইয়েস স্যার বলে কাজে লেগে পড়লো।
হৃদ যখন  মহিলাটিকে জিঙ্গাসাবাদ করছিল তখন রিধি একটি সিরিন্জ এনে হৃদকে দিয়ে বললো-"স্যার এটা ডাস্টবিনে পেয়েছি।"
-"ওকে এটা টেস্টের জন্য ফরেনসিকে পাঠিয়ে দাও। "
রিধি সায় দিয়ে চলে গেল। হৃদ তখন কাজের মহিলাটি বললো-" যিনি খুন হয়েছেন তিনি কি অসুস্থ ছিলেন?"
-"হ্যাঁ,স্যার। আপামনির হার্টের সমস্যা ছিল।"
-" কোন ডাক্তারের কাছে যেত তিনি।"
-"তা বলতে পারলাম স্যার।'"
তখন জাবিদ এসে বললো-" সিসি ক্যামেরা আছে স্যার। তবে তেমন কেউ আসতো না ফ্ল্যাটে।আর উনাদের স্বামী -স্ত্রীর মাঝে প্রায় জগড়া লেগে থাকতো। কিন্তু গত একমাস যাবৎ সব ঠিকঠাকই চলছিল।"
জাবিদের কথা শেষ হতেই হৃদ ভোর আর রিধি কে  জিঙ্গেস করলো-"আর কিছু কি পেয়েছো?"
ভোর তখন বললো-"এই  রিপোটা গুলো পেয়েছি স্যার। এগুলো খুন হওয়া মহিলার মেডিকেল রিপোর্ট।"
রিপোর্ট দেখে হৃদ জাবিদকে বললো-"এই হসপিটালে গিয়ে ডাক্তারের কাছে খবর নাও।"
জাবিদ মাথা নাড়িয়ে চলে গেল। 
______
 বিকেল তিনটায় ফরেনসিক ল্যাবে গেল হৃদ।সেখানে গিয়ে অহনা, তামিম কে বললো-"কিছু পেয়েছো?"
 
 -"হ্যাঁ হৃদ। এই সিরিন্জ দিয়েই বিষ দেওয়া হয়েছে।"
 
পাশ থেকে ভোর তাকে ফিংগার প্রিন্টের একটা রিপোর্ট দিল।রিপোর্ট দেখে হৃদ বাঁকা হেসে চলে গেল। আর বললো রাতে অপারেশন এ  নামবে।
রাত আটটা। খুন হওয়া ফ্ল্যাটের সামনে লুকিয়ে পাহারা  দিচ্ছে হৃদ, রিধি,জাবিদ আর ভোর। ভোর তখন বললো-"স্যার। আপনি সিউর সে আসবে।"
-"রিশাদ চৌধুরী হৃদ সিউর না হয়ে কোনো কাজ করে না।"
হৃদের কথা শেষ হতেই ফ্ল্যাট থেকে একটা শব্দ হলো।হৃদ শয়তানি হাসি দিয়ে বললো-" পাখি খাঁচায় ধরা দিয়েছে।চল যাওয়া যাক।"
হৃদ হালকা পায়ে ফ্ল্যাটে ডুকে লাইট জ্বালিয়ে বললো-" কী মি.আসিফ। প্রমাণ লোপাট করতে এসেছেন।"
চমকে উঠলো আসিফ। ঘরের বারান্দার দিকে দৌড় দিবে তার আগেই জাবিদ গুলি করলো তার পায়ে।
হৃদ মুখ দিয়ে চুচু....শব্দ করে বললো-" ইশ পালানো হলো না মি.আফিস। তো এখন ভালোই ভালোই বল নিজের স্ত্রী কে মারলি কেন।
..........আসিফ উচ্চ কন্ঠে ওলে উঠলো-"মেরেছি বেশ করেছি।আমি অন্য একজন কে ভালোবাসতাম। কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে ডিভোর্স দিতে চাচ্ছিল না। তাই ওকে ওর ঔষধের সাথে ভিটামিনের নাম করে একটু একটু করে বিষ দিতাম।"
আসিফের কথায় হৃদ সজোরে একটা থাপ্পড় মেরে বললো-"এখন জেলে গিয়ে বিয়ে কর। জাবিদ একে নিয়ে যাও।'"
_______
চৌধুরী বাড়িতে জমজমাট পরিবেশ বাড়ির বড় মেয়ের বিয়ে বলে কথা। আজ বাড়ির সবাই একসাথে বের হয়েছে  শপিং করতে। হৃদও এসেছিল।কিন্তু পথি মধ্যে অহনার কল পেয়ে অহনার সাথে দেখা করতে চলে যায় হৃদ। এ নিয়ে রিধি খুব খুশি। হৃদ থাকলে নিশ্চিত তাকে কোনো না কোনো কিছু নিয়ে অপমান করতো। শাড়ির দোকানে বসে আছে রিধি,রিশা। রিশা এটা সেটা কিনেই চলেছে। কিন্তু রিধির কিছুই পছন্দ হচ্ছে না। যদিও রিশার জোড়াজোড়িতে কাঁচা হলুদ রঙের শাড়ি নিয়েছে সে।
রিশা বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের সাথে গয়নার দোকানে গয়না কিনছিল। রিধির ভালো লাগছিল না বিদায় সবাইকে বললো-"তোমাদের গয়না কেনা শেষ হলে আমাকে কল দিয়ো। আমি মল টা একটু ঘুরে আসি। রিধি যখন সেকেন্ড ফ্লোর থেকে থ্রার্ড ফ্লোরের দিকে যাবে।তখনই একটা ড্রেস দেখে নজর আটকে গেল তার। এগিয়ে গেল ড্রেসটার দিকে একই রকম ড্রেস দুইটা। একটা বেবি পিংক কালারের আরেকটা হোয়াইট কালারের। দুই ড্রেসের কোনটা নিবে সেটাই ভাবছিল বিধি। তখনই কেউ পিছন থেকে বলে উঠলো-" পিংক কালারটা বেশি মানাবে।"
রিধি পিছনে তাকিয়ে  দেখলো। সেদিন ফোন কিনতে এসে যাকে থাপ্পড়  মেরেছিল সেই ব্যক্তি। মুহূর্তেই রেগে গিয়ে রিধি বললো-"আপনি?"
-"হুম আমি। আর বেবি পিংক কালার টা পড়লে আপনাকে বেশি সুন্দর লাগবে।"
রিধি তখন দোকানদারের দিকে তাকিয়ে বললো-" ভাইয়া হোয়াইট কালার ড্রেসটা প্যাক করে দিন।'"
 রিধি বলতেই দোকানদার হোয়াইট কালার ড্রেসটা প্যাক করে দিল। রিধি বিল পে করে  দ্রুত চলে গেল।
পিছনে দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি রিধির যাওয়ার পানে তাকিয়ে বললো-" যা বাবা। শুধু এইটুকুতেই রেগে গেল।মেয়ে মানুষের মন বোঝা সত্যই অসম্ভব। সেদিন শুধু শুধুই থাপ্পড় মারলো আর আজ সরি তো বললোই না উল্টো রাগ দেখিয়ে চলে গেল।"
________
চৌধুরী বাড়ি যেন আজ কোনো এক স্বপ্নপুরীর রূপ নিয়ে।চারিদিকে ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। সাথে রয়েছে রঙ বেরঙের লাইট সিস্টেম।সেই সাথে রয়েছে চৌধুরী বাড়ির লোকেদের নজরকারা সাজ। চৌধুরী বাড়ি যদি বাগান হয় তাহলে বাড়ির প্রত্যেকটি সদস্যকে এক একটি  ফুল বললে ভুল হবে না। বাড়ির প্রত্যেকটি মানুষের সাথে একে অপরের কি নিবিড় সম্পর্ক। তা বরাবরই আশেপাশের মানুষের আলোচনার বিষয়।
সন্ধ্যায় রিশার গায়ে হলুদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়ির সামনে বাগানে সুন্দর করে স্টেজ সাজানো হয়েছে। সবাই যখন সেজেগুজে স্টেজের সামনে চলে গেছে রিধি তখনও  গালে হাত দিয়ে ঘরে বসে রয়েছে।রিধি কে অনুষ্ঠানের কোথাও দেখতে না পেয়ে রিধির মা রিধির ঘরে এলো মেয়ের খোঁজ নিতে।
-"  কী ব্যাপার রিধি এখনো রেডি হোসনি কেন?"
রিধি তখন  কাঁদো  কাঁদো চোখে মাকে বললো-"মা তুমি খুব ভালো করে জানো আমি শাড়ি পড়তে পারি না।  তোমাকে  আমি সেই কখন বলেছিলাম শাড়ি পড়িয়ে দিতে কিন্তু তুমি এখন এসে বলছো রেডি হই নি কেন।"
-"আহা মা আমার হয়েছে হয়েছে। এতো বড় হয়েছিস এখনো শাড়ি পড়তে পাড়িস না। রিশার পরে তো তোকে বিয়ে দিতে হবে। শ্বশুরবাড়ি গেলে কে শাড়ি পড়িয়ে দেবে।"
-"শোন মা আমি এক্ষুণি তোমাদের ছেড়ে যাচ্ছি না।আর যদি বল শাড়ি পরার কথা তাহলে বলবো শাড়ি পরাতে পারে এমন ছেলে কেই বিয়ে কবর আমি।"
শেষের কথাটা একটু ভাব নিয়ে বললো রিধি। রিধির ঘরের সামনে দিয়েই রেডি হয়ে নিচে নামছিল হৃদ। রিধির কথা শোনে হৃদ বললো-" ছোট্ট মা তোমার পেত্মী মেয়েকে নিজের কাছেই রেখে দিয়ো সারাজীবন।তানাহলে যার সাথে ওর বিয়ে হবে তার জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে।"
কথাটা বলেই চলে গেল হৃদ। আর রিধি বিরবির করে করে হৃদকে বকতে লাগলো। মা যদি শুনে বাড়ির বড় ছেলেকে সে বকছে তাহলে রিধির খবর করে ছাড়বে তার মা অয়না চৌধুরী। বাড়ি নয়নের মণি কিনা।
গায়ে হলুদটা ভালোই ভালোই কেটে গেল। কাল বিয়ে। বাড়িতে মানুষের আনাগোনা।সেই সাথে চারিদিকে রয়েছে করা নিরাপত্তা। 
__________
সারাদিন কাজ শেষে রাতে বারান্দার রেলিং এ  হেলান  দিয়ে অহনার সাথে ফোনে কথা বলছিল হৃদ। তখনই বাগানের দিকে কাউকে এগিয়ে যেতে দেখলো হৃদ।
তারাতাড়ি ফোন কেটে বাগানের দিকে গেল হৃদ। কেউ একজন বাড়ির পিছনের প্রাচীরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।হৃদও ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। যখনই বাড়ির প্রাচীর টপকাতে যাবে।তখনই হৃদ বলে উঠলো-" কে তুমি?"
রিধি তখন চোরা দৃষ্টিতে  হৃদের দিকে পিছনে তাকালো। হৃদকে দেখে খানিক ঘাবরেও গেল সে।
-" এতো রাতে কোথায় যাচ্ছিলি তুই?"
রিধি আমতা আমতা করে বললো-" আসলে ভাইয়া হয়েছে কি।"
-" কোনো প্রেমিকের সাথে দেখা করতে যাচ্ছিস নাকি। যাইহোক তাই বলে প্রাচীর টপকে। এতো দিন দেখেছি ছেলেরা প্রাচীর টপকে মেয়েদের সাথে দেখা করতে যায়। এখন দেখছি মেয়েরাও কম যায় না।"
-"ভাইয়া আপনি সব সময় দুই লাইন বেশি বোঝেন কেন? আমি আইসক্রিম খেতে  যাচ্ছিলাম। ফ্রিজে আইসক্রিম নেই। আর আমার এখনই আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে। গেট দিয়ে গেলে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তাই প্রাচীর টপকে যাচ্ছি।"
-"কিহ! আর ইউ জোকিং উইট মি? এত রাতে কে তোর জন্য আইসক্রিম নিয়ে বসে আছে?"
-"সামনের গলির পিছনে একটা দোকান আছে ঐটা অনেক রাত পর্যন্ত খোলা থাকে।আমি আগেও অনেক বার গেছি এইভাবে আইসক্রিম খেতে।"
-" যত্তসব রিডিকিউলাস হ্যাবিট। তাইতো বলি তোর মতো স্টুপিডের প্রেমে কে পড়বে। জেনে শুনে কে কুয়ায় জাপ দিবে। ধুর, মুড টাই খারাপ হয়ে গেল।"
কথাটা বলেই হৃদ হনহনিয়ে বাড়িতে ডুকে গেল।হৃদ চলে যেতেই রিধি বললো-" হনুমান কোথাকার।আমি বুঝি না এর মতো খবিশ কিভাবে আমার চাচাতো ভাই হয়। যাচ্ছিলাম একটা শুভ কাজে। নিজের মুখ টা দেখিয়ে আমার যাত্রাটাই অশুভ করে দিল।ধুর আজ আর আইসক্রিম খাবো না।"
_________
চারিদিকে অতিথিদের ভিড়।চৌধুরী বাড়ির বিয়ে বলে কথা। এখান থেকে ওখানে যাওয়া কষ্ট সাধ্য হয়ে গেছে। আজ রিধি সেইদিনের কেনা হোয়াইট গ্রাউনটা পড়েছে। হোয়াইটের মাঝে কটন দিয়ে কাজ করা। তার উপর আবার গোল্ডেন পাথর যেন জ্বলজ্বল করে উঠছে। রিধির ফরসা শরীরে গোল্ডের কাজ করা গ্রাউন টাই রিধিকে একদম পরীর মতো লাগছে।চুল গুলোতে হেয়ার স্টেইটনার দিয়ে স্টেইট করে সামনে একটা বেবি পিংক কালারের হেয়ার ক্লিপ দিয়ে অল্প কিছু চুল  আটকিয়ে আগলা দিয়ে রেখেছে। গলায় ছোট একটা হোয়াইট পেন্ডেন। যেখানে লাভ সেপের মাঝে ছোট্ট করে রিধি লেখা। কানে হোয়াইট এয়ার রিং। একদম শুভ্র পরী লাগছে রিধিকে।
হৃদের সাথে কথা বলছিল অহনা। কথা বলার এক পর্যায়ে রিধি কে দেখে অহনা বললো-" দেখ হৃদ রিধিকে আজকে একদম ডলের মতো লাগছে।"
হৃদও রিধিকে দেখে আনমনে বললো -"হুম।"
 অহনা খুশিতে গদগদ হয়ে বললো-" আমি ছেলে হলে এতো দিন রিধিকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলতাম।"
 হৃদ কোনো জবাব দিল না।
 
 অহনা আহ্লাদী স্বরে রিধিকে ডেকে উঠলো। রিধি ভদ্র মেয়েদের মতো অহনার কাছে আসতেই রিধিকে হালকা করে জড়িয়ে ধরলো অহনা। বললো-" আজ আমার তোমাকে একদম পরীর মতো লাগছে রিধি। একদম কিউটের বস্তা।"
রিধিও হালকা হাসি দিয়ে বললো-" তোমাকেও অনেক সুন্দর লাগছে আপু।"
একটুপর সিআইডি টিমে অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত হলো। চৌধুরী পরিবারের পক্ষ থেকে হৃদ আর তার বাবা ইশতিয়াক চৌধুরী তাদের উষ্ণ অভিভাধণ জানালেন। রিধিও সকলের সাথে হেসে হেসে কথা বলছিল।
বিয়ের পূর্ব মূহুর্তে  রিশা আর নিশাতকে স্টেজে নেওয়া হলো। রিধি নিশাতের সাথেই ছিল। কখন কি লাগে দেখতে। তখন রিধি নিশাত কে বললো-"
ভাইয়া আপনাকে একদম হিরো জেসা লাগরাহাহে।"
-" তাই নাকি শালিকা।তোমাকেও একদম নায়িকা দের মতোই লাগছে। আমি যখন রিশা কে দেখতে এসেছিলাম তুমি কোথায় ছিলে। না হলে তোমাকেই বিয়ে করে নিয়ে যেতাম।"
-" চিন্তা নেই ভাইয়া আপনার পকেট ফাঁকা করার জন্য আমি সব সময় আপুর সাথে আছি। আমার আপু আবার সঞ্জয়ী মানুষ।"
খানিক থেমে রিধি আবার নিশাত কে পিন্চ মেরে বললো-" ভাইয়া মেয়েদের মতো মেকআপ টেকআপ করেছেন নাকি। আজকে এতো সুন্দল লাগছে। আমি তো চিন্তায় আছি আমার আপু আবার আপনাকে দেখে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার আগেই সেন্সলেস হয়ে যায় কিনা।"
-" চিন্তা নেই শালিকা  তোমার আপু সেন্স হারালে তুমিই নিয়ে যাব।"
কথা বলেই নিশাত রিধি দুজনেই হেসে উঠলো।
______
বিয়ে পড়ানো শেষ হয়েছে অনেক আগে। দ্রুত পায়ে সিড়ি বেয়ে নিজের ঘরের দিকে যাচ্ছিল রিধি।সে এখন চরম বিরক্তি নিয়ে উপরে উঠছে আর বিরবির করে বলছে-" কেন যে ঐ লোকটার উপর রাগ করে হোয়াইট কালার ড্রেসটা আনলাম। পিংক কালারটা আনলে একটুতেই দাগ হয়ে যেত না। জাস্ট একটু জুস পরার ফলেই কেমন দাগ হয়ে গেছে ধুর।"
হঠাৎ করে পা মচকে সিড়িতে পড়ে গেল রিধি। তখনই নিচে নামছিল হৃদ। রিধি কে পড়ে যেতে দেখে বললো-" পাড়িস তো খালি ছেলেদের সাথে ডলাডলি করতে আর তিড়িংবিড়িং করে লফাতে। ঠিক করে হাটতে পর্যন্ত পারিস না। পা ভেঙ্গে ঘরে বসে থাকলে শেষে কোনো রিকশা ড্রাইভার কেই বিয়ে করতে হবে।"
হৃদের কথায় অপমানে চোখ ছলছল করে উঠলো রিধির। মুখ বাঁকা করে বললো-" রিকশা ড্রাইভার কেউ বিয়ে করতে রাজি। কিন্তু আপনার মতো কাউকে না।"
রিধিকে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত হাতে রিধিকে ধরে উঠালো অহনা।হৃদ কে উদ্দেশ্য করে বললো-"আহ  হৃদ ওর সাথে এমন করছো কেন। মেয়েটা ব্যথা পেয়েছে পায়ে।"
রিধি আর কিছু না বলে অহনার থেকে হাত ছাড়িয়ে নিজের ঘরে দিকে চলে গেল।
রিধি চলে যেতেই অহনা হৃদকে বললো-" হৃদ তোমার সাথে আমার দরকারি কিছু কথা আছে।কাল কফি হাউজে দেখা করবে।"
 হৃদকে কিছু বলতে না দিয়েই অহনা চলে গেল। আর হৃদ অহনার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভাবলো। কি এমন বলবে অহনা। যার জন্য অহনার মুখটা পানসে হয়ে গেল।
#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন