ফন্ট সাইজ:
থিম:
ব্লাডিং হার্ট

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: স্বপ্নীল সৃজনী
#ব্লাডিং_হার্ট 
#স্বপ্নীল_সৃজনী
পর্ব: ৬
ফোনের অপর পাশ থেকে এসিপি ইশতিয়াক হাসান বললো-" আই  থিংক তুমি বুঝতে পেড়েছো হৃদ। কালই তুমি কুষ্টিয়া যাবে।"
হৃদ তখন ব্যস্ত স্বরে বলে উঠলো-" ওকে স্যার।"
পরের দিন কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো হৃদ। পড়নে তার সাদা শার্ট কালো প্যান্ট। চুল গুলো ব্লাস করে পিছনে দিয়ে রেখেছে। পায়ে ফরমাল শু। চোখে সানগ্লাস।একদম মি.পারফেক্ট। হৃদের সাথে আছে রিধি, ভোর আর জাবিদ। জাবিদ গাড়ি ড্রাইভ করছে। গাড়ির কাচটা হালকা ফাঁক করে রাখা। সেখান দিয়ে শুশু করে বাতাস ভিতরে ডুকছে। হৃদ ভাবেছিল আজ অহনার কথা বাড়িতে বলবে। কিন্তু হঠাৎ কুষ্টিয়া যাওয়ার কারণে আজ বলতে পারবে না। গাড়ির বাইরে দৃষ্টি রেখেই হৃদ বললো-" জাবিদ আর কতোক্ষণ লাগবে।'"
জাবিদ গাড়ি চালাতে চালাতে বললো-" আর পনেরো মিনিট স্যার।"
..............
...................
সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করে ক্লান্ত জাবিদ, ভোর,রিধি আর হৃদ। একটা গোপন কেসের জন্য কুষ্টিয়া এসেছিল তাঁরা। ক্লান্ত দেহ নিয়ে যখন তারা পুনরায় ঢাকার দিকে রউনা দিল। হঠাৎ করেই ভোর সামনের গ্লাসের দিকে তাকিয়ে বললো-" স্যার মনে হচ্ছে আমাদের  একটা গাড়িটা কেউ ফলো করছে।"
 হৃদ তখন স্বাভাবিক  স্বরে সিটে হেলান দিয়ে বললো-" একটা নয় ভোর। তিন তিনটা গাড়ি ফলো করছে আমাদের।"
 -" কী বলছেন স্যার। কিন্তু কেন?"
 -" বোঁকাদের মতো কথা বলো না ভোর। আমরা কোন ডিপার্টমেন্টে কাজ করি ভুলে যাও নি নিশ্চয়ই।"
 -" স্যার। ওরা কীভাবে জানলো আমরা এখানে এসেছিলাম। আমরাতো সিকরেটলি এসেছিলাম।"
 -"হুম সেটা ভাবার বিষয়।"
গাড়িটা যখন একটা ব্রিজ অতিক্রম করবে জাবিদ তখন বললো-" স্যার সামনে একটি গাড়ি দাড় করানো পিছনেও একটা আসছে এখন কী করবো?"
 ভয়াবহ বিপদ দেখে ঘামতে লাগলো জাবিদ,ভোর। তখন রিধি ব্যস্ত স্বরে বললো-"স্যার সিটের নিচের অস্ত্র গুলো কি বের করবো?"
 হৃদ বাঁকা হেসে বললো-" তার দরকার নেই। এরা তো জাস্ট চুনোপুটি।"
 হৃদের গাড়িটা ব্রিজের ঠিক মাঝ বরাবর দাড়িয়ে। হৃদ তখন বললো-" জাবিদ তুমি প্রথমে নরমাল স্প্রিডে গাড়িটা সামনে নিবে।আর আমি ইশারা করতেই।হাই স্প্রিডে পিছনের দিকে নেবে। আর রিধি তুমি সামনে থেকে আক্রমণ হলে তার জবাব দিবে। ভোর তুমি রিধি কে গাইড করবে।"
 হৃদের কথা শেষ হতেই সামনের গাড়ি থেকে গুলি আসা শুরু হলো। হৃদ তখন বললো-"আমাদের গাড়ি বুলেট প্রুভ সো ভয় নেই। লেটস গো টিম রেডি হয়ে যাও।"
 জাবিদ প্রথমে নরলাম গতিতে গাড়ি চালিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল।সামনের পিছনে উভয় গাড়ি থেকে গুলি আসতে শুরু করলো। হৃদ, রিধি,ভোর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে গুলির জবাব দিতে লাগলো। গোলাগুলির এক পর্যায়ে রিধি হৃদের নির্দেশে পেছনের গাড়িটার টায়ারে শুট করতেই হৃদ  বলে উঠলো-" জাবিদ গো ব্যাক।"
 সামনের গাড়ি এগিয়ে আসসে  প্রচন্ড গতিতে। পেছনের গাড়িটা এখন থেমে আছে। তবে গুলি ছোঁড়া বন্ধ হয়নি। সামনের গাড়িটাকে ওভার টেক করার সময় হৃদ দক্ষ হাতে কিছু  ছুড়ে মারলো গাড়িতে। ব্যাস দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো গাড়িটি। পিছনের গাড়িটা সামনে আগুন দেখে আর এগিয়ে আসতে পাড়লো না।
 
 হৃদ দের গাড়িটা যখন ব্রিজের রাস্তা পেরিয়ে কাঁচা রাস্তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই অপজিট সাইট থেকে একটা গাড়ি এগিয়ে আসলো তাদের দিকে। কাছে আসতেই গাড়িটি থেকে গুলি করা শুরু হলো। হৃদ তখন বললো-"জাবিদ গাড়ি থামাবে না যাই হোক। আর আঁকা বাঁকা করে গাড়িটা এগিয়ে নিয়ে চলো যাতে ওরা বুঝতে পারে না আমরা কোন দিক দিয়ে ওদের ওভারটেক  কবরো।আর রিধি,ভোর নিজেদের রক্ষা করতে ভুলো না।"
  দুটো গাড়িই এগিয়ে চলছে ভয়ানক গতিতে। কখন কি হয় বলা যাচ্ছে না। শুট করার এক পর্যায়ে একটা গুলি এসে লাগলো ভোরের হাতে। ভোরের দুর্বল শরীরটা  সিটি নেতিয়ে পড়লো। হৃদ তখন বললো-"জাবিদ। ভোরকে হসপিটালে নিতে হবে। ওদের সাথে মেকাবেলার সময় এখন নেই। গাড়ির এক চাকা রাস্তায় রেখে আরেক চাকা চাষের জমি দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাও। আর ওরা গুলি করলে আমি দেখে নিব।রিধি হাইলি এ্যালার্ট হও।"
  
হৃদের কথা মতো তাই করলো রিধি আর জাবিদ।গাড়িটা একটা সরকারি হসপিটালের সামনে থামলো।হৃদ, জাবিদ দ্রুত ভোরের ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করে হসপিটাল থেকে বের হলো। হসপিটাল থেকে বের হয়ে জাবিদ বললো-"স্যার এখন কি করব। হসপিটালে তো কাউকে এ্যালাউ করবে না। এদিকে রাত হয়ে আসসে।"
-" গাড়িটা সামনের কোনো হোটেলে নিয়ে চলো।" 
আজকে রাতটা আমরা হোটেলই থাকবো।"
জাবিদ গাড়িতে উঠে বললো-" ওকে স্যার।"
চারিদিকে মাগরিবের আজান শোনা যাচ্ছে।এমন সময় হৃদ দের গাড়ি টা থমথমে নির্জন এক পরিবেশে থেমে গেল।হৃদ বিরক্তির স্বরে বলে উঠলো -" কি হলো জাবিদ? গাড়ি থামালে কেন?"
-" স্যার আমি নেমে দেখছি।"
একটু পর জাবিদ এসে বললো-" স্যার ইঞ্জিননে প্রবভেল হয়েছে। আর তেলের ট্যাংকি প্রায় ফাঁকা।'"
হৃদ গাড়ি থেকে নেমে রাগে গাড়িতে একটা লাথি  মারলো। তারপর মাথার চুল গুলো টেনে ধরলো। তখন রিধি বললো-" স্যার  পিছনে আমরা একটা ছোটখাটো গ্যারেজ ফেলে এসেছি।"
হৃদ  কোনো উত্তর দিল না। জাবিদ বললো-" কী বলছো রিধি কোথায়?"
-" এইতো এখান থেকে দশ থেকে পনেরো মিনিট দূরে হবে।"
হৃদ তখন বললো-"জাবিদ আমরা এগিয়ে গিয়ে দেখছি কোথাও রাতে থাকার জন্য  জায়গা পাই কিনা। একসাথে দুইজন গাড়ির পিছনে সময় দিলে রাতে থাকার ব্যবস্থা করতে করতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। তুমি গাড়ি ঠিক করে আমাকে কল করো। আর গান টা সাথে করে রেখো। বিপদের আভাস পেলে সাথে সাথে আমাকে জানাবে।"
হৃদের কথায় সায় জানিয়ে জাবিদ গ্যারেজের দিকে চলে গেল।
হৃদ এগিয়ে চলেছে কাঁচা রাস্তা দিয়ে।রিধি হৃদের পিছু  পিছু যাচ্ছে। হঠাৎ রিধি চিৎকার করে বললো-"ভাইয়া।"
রিধির চিৎকার শুনে পিছনে তাকালো হৃদ। রিধির দিকে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো-" কি হয়েছে।এভাবে চিৎকার করছিস কেন। সারাদিন তো তেমন কিছু খাসনি তবুও গলার জোড় কমেনি।"
রিধি মুখ বাকিয়ে বললো-"ঐ দিকে একটা ঘর দেখা যাচ্ছে।"
-"তো এটা ভালো ভাবে বললেই হতো। এভাবে চিল্লাসছিলি কেন?"
উত্তর দিল না রিধি এগিয়ে গেল ঘরের  দিকে।
............
.................
সহসা আকাশে ঘন মেঘে দেখা দিল। চাঁদটাও মুখ লুকিয়েছে মেঘের কোলে। শান্ত পরিবেশে দেখা দিল তুমুল ঝড়। আশেপাশে গাছের ডালপালা ভেঙ্গে যাওয়ার অবস্থা প্রায়। কোথাও কোথাও গাছের ডালে মটমট শব্দ হচ্ছে। বৃষ্টির এখনো নামেনি যথচ ক্ষণে ক্ষণেই মেঘ গর্জন করে উঠছে। কোথাও কোনো জনমানবের দেখা নেই। চারিদিকে যেন মরমর অবস্থা। যদিও গ্রামে সন্ধ্যার পরেই মানুষের আনাগোনা কমে যায়। তার মধ্যে ঝড় হলে তো কথা নেই। 
ঘনঘন কালো মেঘ পেড়িয়ে যখন ধুলিধরায় বৃষ্টির ফোঁটা টুপটাপ করে ঝরে পরলো। হৃদ আর রিধি তখন অঙ্গাত বাড়িটির উঠোনে গিয়ে থাই নিলো।
 উঠোনে দাড়িয়েই হৃদ বলে উঠলো-" অসম্ভব। আমি এখানে থাকতে পারবো না। কেমন কাঁদা,কাঁদা হয়ে গেছে চারিদিকে।"
রিধি তখন বললো-"ভাইয়া মাটির উঠোন তো তাই এমন হয়েছে। তাছাড়া এখানে আপনি হোটেল পাবেন কোথায়। তার মধ্যে এমন ঝড়।"
উত্তর দিল না হৃদ।চুপচাপ ঘরটি দরজা খুলে ভিতরে ডুকে গেল। মাটির ঘর হওয়ায় সহজে ভিতরে ডুকতে পড়লো রিধি আর হৃদ।
টিনের চালে যখন রিমিঝিমি তালে বৃষ্টি পড়ছে।রিধি তখন বিচলিত স্বরে হৃদকে বললো-"ভাইয়া বাড়িতে কল করা দরকার ছিল। সবাই হয়তো টেনশন করছে। আমিই করতাম কিন্তু আমার ফোন অফ হয়ে গেছে।"
 
হৃদ তখন বিরক্তিকর খিটখিটে মেজাজে বললো-'" নেটওয়ার্ক পাচ্ছি না। অনেকক্ষণ ধরে বাড়িতে আর জাবিদ কে কল করার ট্রাই করছি। না জানি এই ঝড়ের মাঝে জাবিদ কোথায় আছে।"
হতাশ হয়ে ঘরে রাখা খাটটিতে বসলো রিধি।
__________
ঝড় থেমে গেছে প্রায় আধা ঘণ্টা।চারিদিকে গুমোট পরিবেশ। চারপাশে গাছপালায় ভর্তি তবুও গাছের একটি পাতাও  নড়ছে না। কেমন ভ্যাপসা গরম। গরমের জন্য মনেই হচ্ছে না একটু আগেও যে ধরিত্রীতে বারিধারা ঝরে গেছে। গরমের সাথে না পেরে রিধি ঘর থেকে বের হয়ে উঠোনের আসলো। সেখান হৃদ প্রায় এক ঘন্টা যাবৎ নেটওয়ার্ক পাওয়ার চেষ্টা করছে। সব কিছুই বিরক্ত লাগছিল তার। তাই ভাবলো সামনের গাছ গাছালির মাঝে গিয়ে একটু প্রাণ ভরে নিশ্বাস নিয়ে আসা যাক। শহরে তো এমন পরিবেশ তেমন পাওয়া যায় না। তাছাড়া অন্যরকম একটি এক্সপেরিয়েন্সও হয়ে যাবে। কুড়ে ঘর পেরিয়ে রিধি গাছপালা ঘেরাও একটা জায়গায় আসলো।হৃদ ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় রিধিকে খেয়াল করেনি। আকাশের জ্বলজ্বল করা  চাঁদটা দিপ্তি ছড়াচ্ছে চারিদিকে।রাস্তা ঘাট যেন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।পাশেই একটি লেকের মতো দেখতে পেল রিধি। লেকের ঠিক মাঝ বরাবর থেকে থেকে জোনাকিপোকা জ্বলে জ্বলে উঠছে। খুশিতে হেসে ফেললো রিধি।লেকের ধারে পাশেই একটা বকুল ফুল গাছ দেখতে পেল রিধি। বকুল ফুলের মিষ্টি সুগন্ধে চারিদিকে মম করছে।বকুল ফুল দেখে রিধি নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না। দ্রুতগামী পায়ে এগিয়ে গেল বকুল ফুল গাছের নিচে। একটু আগে ঝড় বৃষ্টি হয়েছে বিদায় গাছে নিচে বকুল ফুলে ছেয়ে গেছে। রিধি ফুল গুলো হাতে নিয়ে সুগন্ধ নিল।আহ্। এ যেন অন্যরকম প্রশান্তি। রিধি যখন ফুলের রাজ্যে মগ্ন তখনই কুড়েঘরে দিক থেকে হৈচৈএর আওয়াজ শুনে পেল। রিধি দৌড়ে কুড়ে ঘরের দিকে গেল। সেখানে হৃদ কয়েক জন লোকের সাথে দস্তাদস্তি করছে। রিধি তখন ব্যস্ত কণ্ঠে হৃদ কে বললো-" ভাইয়া,এরা করা। আর কি হয়েছে?"
হৃদ তখন রাগী কণ্ঠে বললো-" দেখতে পাচ্ছিস না মদ খেয়ে মাতলামো করছে।"
 রিধিকে দেখেই দুজন লোক রিধির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললো-" এতো দেখছি একা না রে। সাথে মেয়েও আছে। আজ মনে হয় ভাগ্যটা অনেক ভালো এদের থেকে টাকাকড়িও পাওয়া যাবে, সাথে মেয়েটাকেও।" 
 কথাটা বলেই বিভৎস ভাবে হেসে উঠলো তারা। রিধি কথা না বাড়িয়ে কোমর থেকে রিভলবার বের করে শুট করলো তার দিকে এগিয়ে আসা লোক দুটোকে।   হৃদ কুড়েঘড়ের কাছে পাঁচ -ছয় জনের সাথে একাই মারামারি করছিল। কিন্তু এতো গুলোর সাথে একা তেমন পেরে উঠছিলো না।শুধু নিজের দিকে আসা আঘাত গুলো রুখে যাচ্ছিল। পাল্টা আঘাত করতে পারছিল না। 
রিধি হৃদের দিকে আসতে আসতে বললো-" ভাইয়া আপনার রিভালবার কোথায়?'"
 
 হৃদ ত্যাড়ামো করে বললো
 -" রিভলবারে বুলেট থাকলে কি আমি এদের সাথে এভাবে মারামারি  করি।"
 রিধি কিছু না বলে সামনের দিকে শুট করতে যাবে। তখন শুনতে পেল গ্রামবাসী দের হৈচৈ এর শব্দ।গ্রামবাসীরা এদিকেই আসছে বুঝতে পেরে লোক গুলো পালিয়ে  জঙ্গলের দিকে গেল। রিধি গিয়ে হৃদের কাছে এসে দাড়ায়। গ্রামবাসীরা এসে তাদের ঘেরাও করে দাড়ালো। এতো গুলো মানুষের মাঝে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে নিজেকে কেমন অপরাধী অপরাধী লাগছে তার। রিধি যখন এসব ভাবছিল তখন গ্রামবাসীর এক জন বললো-" তোমরা কে?আর এখানে  কি করছো?"
 হৃদ তখন বললো-" আমরা বিপদে পড়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। আমরা একটা কাজে এখানে এসেছিলাম।"
  তখন গ্রামবাসীর মাঝে চাপা গুঞ্জন শুনা গেল-" কে এরা? রাতের বেলার একসাথে।দুটো যুবক -যুবতি। এদের মাঝে কি সম্পর্ক।এরা কি বিবাহিত,নাকি অবিবাহিত দুটো ছেলে-মেয়ে?
  
 এসব কানাঘুসো শুনতে পেয়ে হৃদ রাগি সুরে বললো-" লিসেন। আমরা ভাই-বোন। সো স্টপ দিস।"
 
  তখন ভিড় থেকে কেউ বললো-" ধরা পড়লে এরকম অনেকেই ভাই-বোন সাজে।"
হৃদ তখন ক্ষেপে গিয়ে লোকটার কলার ধরে বললো-" হুয়াট ডু ইউ মিন বাই ধরা পরলে।"
হৃদের এমন ব্যবহারে গ্রামবাসীরা আরও ক্ষিপ্ত হলো।তাদের মাঝে একজন বলে উঠলো-" মেয়ে নিয়ে ধরা পরেছে আবার বড় বড় কথা বলছে। আবার আমাদের উপর চড়াও হচ্ছে। ধরো এদের আজই এখানে এদের বিয়ে দেওয়া হবে।"
 রিধি তখন ঠান্ডা মাথায় বললো-" দেখুন আমরা সিআইডিতে কাজ করি। আমাদের গাড়িটা খারাপ হয়ে গেছে তাই নিরুপায় হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি।"
 
তখন আরেক জন  মহিলা বলে উঠলো-" এদের তো কথারই ঠিক নেই। একজন বলছে তারা সম্পর্কে ভাইবোন। তো আরেক বলছে তারা নাকি সিআইডি।"
কথাটা শেষ করেই মহিলাটি নোংরা ভাবে হেসে উঠলো।
রিধি তখন বললো-" আপনাদের বিশ্বাস হচ্ছে না তো আমরা সিআইডি।ওয়েট আমাদের অফিসিয়াল আইডি কার্ড দেখাচ্ছি।"
রিধি হৃদের দিকে গিয়ে বললো-" ভাইয়া আপনার আইডি কার্ডটা এদের দেখান।"
হৃদ পকেটে আইডি কার্ড না পেয়ে বললো-" কার্ড গাড়িতেই ফেলে এসেছি।"
রিধির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরলো। ফ্যাকাশে মুখ করে বললো-" আমার আইডি তো এখনো হয়নি।এখন কি করবো।'"
তখন গ্রামবাসীদের মধ্যে এক মাঝ বয়সী লোক বললো-"দেখেছো এদের সব কথাই মিথ্যা। খারাপ কাজ করতে এসে ধরা পরে এখন নাটক করছে।"
হৃদের রাগে তার লোকটার কলার ধরে  বললো-" হেই ননসেন্স। মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ। তা না হলে এখনই  তোকে খুন করে ফেলবো।"
 হৃদের এমন কাজে গ্রামবাসীদের সাথে তার ছোটখাট মারামরি হয়ে গেল।রিধি......হৃদ বা গ্রামবাসী কাউকেই আটকাতে পারে নি। আপাতত হৃদকে গ্রামবাসীরা মিলে কুড়েঘড়ে বন্দি করে বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে। আর রিধিকে চার- পাঁচ মহিলা মিলে ধরে রেখে নানারকম কথা বলছে। রাত প্রায় শেষের দিকে ফজরের আজান শোনা যাচ্ছে চারিদিক থেকে। এমন সময় কাজি এসে উপস্থিত হলো। কাজিকে অনেক আগেই খবর দেওয়া হয়েছিল কিন্তু গ্রামের রাস্তা হওয়ায় আসতে আসতে এতো দেরি হলো।
 ________
তিন ঘন্টার প্রচেষ্টায় অনেক জোড়াজোড়ি করে গ্রাম বাসীরা মিলে শেষ পর্যন্ত রিধি আর হৃদের বিয়েটা দিয়ে দিল। নতুন  সম্পর্কে আবদ্ধ হলো হৃদ, রিধি। তিন কবুল তাদের সম্পর্ককে অন্য দিকে মোড় দিল। রিধি থম মেরে দাড়িয়ে আছে বুঝতে পাড়ছে না কি থেকে কি হয়ে গেল আর হৃদ উঠোনে বসে রাগে দাউদাউ করে জ্বলছে। চারিদিকে দিনের আলো ফুটে গেছে। গ্রামের অনেকেই চলে গেছে আবার অনেকেই এখনো দাড়িয়ে আছে।
_______
গাড়ি ঠিক কর‍ে অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করার পরেও জাবিদ যখন হৃদ কে ফোনে পেল না। তখন জাবিদ হৃদের ফোনের লোকেশন ট্রেস করে কুড়েঘরে সামনে উপস্থিত  হলো । গ্রামবাসীদের কাছে সব কথা শুনে ক্রোধান্বিত স্বরে বললো-"এটা আপনারা কি করেছেন। ওনারা তো ঠিকই  বলেছিল। জানেন অন ডিউটি  অফিসারদের হেরাজমেন্ট করার অপরাধে আমরা আপনাদের জেলে ঢোকাতে পারি।"
 তখন গ্রামবাসীদের কিছু লোক ভিত হয়ে হৃদের পা জড়িয়ে বললো-"  ভুল হয়ে গেছে। মাফ করে দিন। মাঠে ঘাটে  খেটে খাওয়া মানুষ আমরা। গ্রামের বদনাম হওয়ার ভয়ে এমন টা করেছি। গ্রামের বদনাম হলে আমাদের গ্রামে মেয়েদের বিয়ে দিতে গেলে অনেক কথা শুনতে হতো। আমাদের মাফ করে দিন।"
হৃদ দাড়িয়ে পড়লো। জাবিদকে বললো -" গাড়ি ঠিক হয়েছে।"
জাবিদ মাথা এপাশ ওপাশ করে হ্যাঁ বললো। তখন হৃদ ভিড় ঠেলে হনহনিয়ে চলে গেল। তাকে অনুসরণ করে রিধি আর জাবিদও চলে এলো।
________
গাড়িতে চুপচাপ বসে আছে হৃদ। কোনো কথা বলছে না। ঢাকায় ফেরত যাবার পথে ভোরকে হসপিটাল থেকে পিক আপ করে নিল জাবিদ।
 ঢাকার দিকে এগিয়ে চলেছে কালো রঙের গাড়ি 
 টা। গাড়ির পিছনের সিটে বসে আছে হৃদ আর রিধি। একসাথে বসে আছে তবুও তাদের মাঝে আকাশ-পাতাল ফারাক। বাইরের স্নিগ্ধ হওয়া ছুয়ে দিচ্ছে হৃদ আর রিধি কে। শান্ত হওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে একজন ভাবছে নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ  নিয়ে আরেক জন নিজের ভালোবাসার মানুষকে হারানোর ভয় পাচ্ছে।
 _________
তপ্ত দুপুর। সূর্য তখনোও খাখা করে ক্ষণপ্রভা ছড়াচ্ছে। এমন সময় বাড়ির গেইটের সামনে প্রেস রিপোর্টার দের দেখে একটু বিরক্ত হলো হৃদ। বাড়ি তে ডুকতেই হৃদের বাবা ইশতিয়াক চৌধুরী বললো -" এসব কি হচ্ছে হৃদ। তুমি নাকি রিধি কে বিয়ে করেছ?"
হৃদ গা ছাড়া ভাবে বললো-" তোমাদের এসব কে বলেছে।'"
-"বাইরে নিউজ রিপোর্টার দেখেছো নিশ্চয়ই। তাদের কাছ থেকেই জেনেছি। কোথা থেকে জেনেছি তার থেকে বড় কথা হচ্ছে কথাটা সত্য নাকি মিথ্যা। এসব রিপোর্টার দের আমি বিশ্বাস করি না।এরা টাকার লোভে পড়েও অনেক সময় ফেইক নিউজ ছাড়ায়।"
হৃদ তখন ক্লান্ত কন্ঠে পরিবারের সবাইকে সব খুলে বললো। রিধি তখনও বাড়ির এক কোণে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। কোনো কথা বলছে না সে। সব কিছু কেমন স্বপ্নের মতো লাগছে তার। মনে হচ্ছে ঘুম ভেঙ্গে লেগেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
_________
লন্ডনে কোনো এক শহরে মদের গ্লাস হাতে নিয়ে বসে আছে একজন। নিকষ কালো অন্ধকার ছুয়ে দিচ্ছে তাকে। দিনের বেলা তবুও আলোর ছিটে ফোঁটা মাত্র নেই। ঘরের সব দরজা জানালা বন্ধ করে রাখা। মদে বোতলটা মেঝেতে আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে  হৃদের ছবির দিকে তাকিয়ে বললো-" রিশাদ চৌধুরী হৃদ তোর জীবন আমি বিষিয়ে দেব।তোর সব কাছের মানুষকে আমি কেড়ে নেব। আজ যেমন তোর ভালোবাসার মানুষ থেকে তোকে দূরে করলাম ঠিক তেমন করে।  তছনছ করে দেব তোর জীবন। নিশ্বাস নিতেও ভয় পাবি তুই।মরার জন্য ছটফট করবি। কিন্তু মরতে পারবিনা।"
কথাটা বলেই বিভৎস ভাবে হেসে উঠলো লোকটি।কি ঝড় আসতে চলেছে হৃদের জীবনে।
#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন