ফন্ট সাইজ:
থিম:
ব্লাডিং হার্ট

২৭তম পর্ব

লেখক: স্বপ্নীল সৃজনী
#ব্লাডিং_হার্ট
#স্বপ্নীল_সৃজনী
পর্ব: ২৭
রিধি কয়েক বার চেষ্টা করেও দরজা খুলতে পারে না দেখে অসহায় চোখে হৃদের দিকে তাকায়। রিধির চোখের ভাষা বুঝতে পেরে মুচকি হেসে দরজার দিকে এগিয়ে আসে হৃদ। তখনই দরজার বাইরে থেকে কয়েক জনের হাসির শব্দ শোনা গেল।
হৃদ তীক্ষ্ম কন্ঠে বললো-" কি হচ্ছে কী এখানে?"
দরজার ওপাশ থেকে আবির বললো-" ভাইয়া তেমন কিছুই হচ্ছে না। বিশ্বাস কর আমরা একদমই তোমার ঘরে আড়ি পাতছিলাম না।"
আবিরের সাথে তাল মিলিয়ে রিশা বললো-" হ্যাঁ । ভাইয়া সত্যি বলছে আবির। আমরা কিচ্ছু শুনিনি।"
হৃদ কঠিন স্বরে বললো-" শুনিসনি ভালো কথা। আমার ঘরের সামনে কি করছিস শয়তানের দল।"
-" হিহি.....। ভাইয়া তেমন কিছুই না। ঐ আরকি কালকের কাজটা আজ করতে এসেছি।"
হৃদ না বুঝতে পেরে বললো-"মানে।"
রকি বললো-" ভাইয়া আপু টাকার কথা বলছে"
রিশা রকিকে থামিয়ে বললো-" আহ রকি। আমি বলছি তো। তুই চুপ থাক। তো যা বলছিলাম ভাইয়া কাল বোকা বানিয়ে টাকা দিস নি। আজ যে পর্যন্ত টাকা না দিবি। দরজা খোলা হবে না।"
রিধি তখন ইনোসেন্ট স্বরে বললো-" আপুওওও। আমার খুব খুদা লাগছে।  আমাকে যেতে দাও তোমার ভাইকে যতক্ষণ খুশি আটকে রাখো।
হৃদ রিধির দিকে চোখ গরম করে তাকালো। রিধি ভোলাভালা একটা হাসি দিল।
দরজার ওপাশ থেকে রিশা বললো-" সরি বোন। ওপস সরি তুই তো এখান আমাদের বড় ভাবি। তাই তোর কথা রাখতে পারবো না বোনু। "
-" ও আপু প্লিজ না। কত দিন পর বাড়ি ফিরলাম কই আদর যত্ন করে খাওয়াবা তা না।না খাইয়ে রাখছো।"
-" ভাবি সাহেব আমরা তো আপনাদের আদর যত্ন যা আছে সব করে খাওয়াতে চাই। কিন্তু আপনার বর তো আমাদের কথা মানছে না।"
-" আপু কী ভাবি ভাবি করছো একদম ভালো লাগছে না। তুমি আগের মতো রিধি বলে ডাকোনা প্লিজ ।কেমন যেন লাগে আমার ভাবি ডাক শুনলে।'
হৃদ রিধিকে ফিসফিসিয়ে বললো-" কেমন লাগে?"
রিধি হৃদকে দেখিয়ে বললো-" কেমন আবার নিজেকে কেমন বুড়ি বুড়ি লাগে। আমি কি বুড়ি হয়ে গেছি নাকি। আপনার জন্য ওরা আমাকে ভাবি ভাবি ডাকছে।দিয়ে দিন না কি চাচ্ছে।"
হৃদ তখন উচ্চস্বরে বললো-" কত দিতে হবে বল। দিয়ে দিচ্ছি।"
রিশা খুশিতে গদগদ হয়ে বললো-" বেশি না ভাইয়া ত্রিশ হাজার দাও। তুমি যেহেতু আমাদের শ্রদ্ধেয়ো বড় ভাইয়া তাই তোমার জন্য আজ ডিসকাউন্ট করে দিলাম ...."
রিধি তখন থামিয়ে বললো-" কী আপু। মাত্র ত্রিশ হাজার চাচ্ছো পঞ্চাশ চাও।"
হৃদ রিধির দিকে তাকিয়ে বললো-" তুই আমার দলে না ওদের। "
রিধি গা ছাড়া ভাব নিয়ে বললো-" অবভিয়াসলি ওদের। হুহ.....।
হৃদ অসহায় চোখ করে রিধির দিকে তাকালো। রিধি সেদিকে খেয়াল না দিয়ে বললো-" আপু দরজাটা খুলে দাও না প্লিজ। টাকা তুলে দেওয়ার দায়িত্ব আমার প্রমিজ।"
রিশা দরজা খুলে দিতে দিতে বললো-" তোকে বিশ্বাস করি কিন্তু খুলে দিলাম। তোর জামাইয়ের মতো মীরজাফর গিরি করলে কিন্তু খবর আছে।"
রিধির রিশার কাছে গিয়ে ফিসফিসিয়ে  বললো-" কী আপু। আমি ওনার বউ হওয়া আগে তো তোমার বোন নাকি। আর শোন দশ কিন্তু আমাকে দিতে হবে।"
শেষের কথাটা বলে মুচকি হেসে চোখ  টিপ দিল রিধি।
আবির পাশ থেকে বললো-" ডান আপু ডান।"
নিশাত পাশ থেকে বললো-" কী তোমরা দুই বোন তখন থেকে গুজুর গুজুর করছো। রিশা আমার কিন্তু ঘুম পাচ্ছে। তুমি সে কখন আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে নিয়ে এসেছো।"
রিশা নিশাতের পায়ে পা দিয়ে খোচা দিয়ে ওকে চুপ করতে বললো। নিশাত মুখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝালো সে আর কথা বলবে না।
হৃদ পকেট থেকে মানি ব্যাগ বের করে রিশার হাতে টাকা দিতে দিতে বললো-" যা দিচ্ছি চুপচাপ নিয়ে বিদেয় হ।"
রিশা  গুনে দেখলো দশ হাজার অসহায় চোখে রিধির দিকে তাকালো। রিধি হৃদের কাছ থেকে মানি নিয়ে রিশাকে দিয়ে বললো-" আপু এই নাও তো। নো গুনা গুনি একদিনই তো আপনি এমন করছেন কেন? এত টাকা কি করছেন। আবার বিয়ে করার ইচ্ছে নাকি। "
-" উল্টো পাল্টা কথা না বললে হয় না একদম। আমি টাকার পাহাড় গড়ি না দেশের জন্য কাজ করি।"
রিধি য়খন বললো-" সে তো আমিও দেশের জন্য কাজ করি.........
থেমে গেল রিধি আর বললো না। চোখ দুটো অশ্রুতে টুইটুম্বুর হয়ে গেল তার। দ্রুত পায়ে সেখান থেকে নিচে চলে গেল রিধি।
জাবিদ তখন হৃদের কাছে এসে বললো-" স্যার রিধি কে হয়তো কষ্ট পেল।"
জবাব দিল না হৃদ। সবাই চলে গেল নিচে। হালকা পায়ে ঘরে চলে এলো সে। রিধির চোখে পানি দেখে তার মনটাও খারাপ হয়ে গেছে তার। 
বিছানায় বসে আপন মনে হৃদ বললো-" সরি রিধি।হয়তো আমারই ভুল। কিন্তু তুই একদম চিন্তা করিস না। আমি তোকে সব ফিরিয়ে দেব। তোর দুনিয়া ভরে দেব আনন্দ।"
_____________
খাওয়া দাওয়াত শেষ করে অনেকক্ষণ আগেই হেদ ঘরে চলে গেছে। রিধি এখনো নিচে বসে সকলের সাথে গল্প করছে। অয়না চৌধুরী আর ইরিনা চৌধুরী তো রিধিকে ছাড়তেই নারাজ। এ নিয়ে রকি আবির বেশ কয়েক বার গাল ফুলিয়ে বলেও ফেলছে-" তোমরা শুধু আপুকে আদর করো আমরা তো কেউ না। "
রকি আবির কথায় মুচকি হেসে রিধি বলেছি-" হ্যাঁ। তোকে তো ড্রেনের কাছে পেয়েছিল। কেন তুই জানিস না বুঝি। হাহাহা.....।"
তখন থেকে গাল ফুলিয়ে বসে আছে আবির।
__________
অনেকক্ষণ ধরে ঘরে এসে রিধির জন্য অপেক্ষা করছিল হৃদ। কিন্তু রিধির আসার নাম গন্ধ নেই। শেষে না পেয়ে বারান্দায় এসে হৃদ বললো
-" রিধি একটু ঘরে আয়। দরকার আছে।"
ইরিনা চৌধুরী রাগ দেখিয়ে বললো-"হৃদ কী তুই -তুকারি করে কথা বলছো। রিধি এখন তোমার বউ সম্মান দিয়ে কথা বলো।"
হৃদ ইতস্তত করে অসহায় ফেস করে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো-" ইয়ে মানে সরি মা আর হবে না।"
তারপর রিধির দিকে তাকিয়ে বললো-" মহারানী আপনি দয়া করে আপনার পদ ধুলি আমার দরবারে দিয়ে আমাকে ধন্য করুন প্লিজ।"
হৃদের কথায় ড্রয়িং রুমের সকলে উচ্চস্বরে হেসে উঠলো। হৃদ মাথা চুলকাতে চুলকাতে মুখে মিথ্যে হাসি ফুটিয়ে চলে এল নিজের ঘরে।
অয়না চৌধুরী তখন রিধিকে বললো-" ঘরে যাও রিধি। দ্যাখো হৃদের কী দরকার।"
রিধি মাথা এপাশ- ওপাশ  করে ঘরের দিকে পা বাড়ালো।
............................
   রিধি ঘরে আসতেই হৃদ রাগ দেখিয়ে বললো-" এতো টাইম লাগে ঘরে আসতে।"
   
-" কই এতো টাইম লাগলো। আপনি না এখনই আমাকে ডাকলেন।"
-" হুহ। না ডেকে উপায় আছে। মহারানী সেই যে নিচে নামছে আর তো উপরে আসার নামই নিচ্ছিল না।
-" কী করবো। মা- ছোট মা ছাড় ছিল না।"
-' ইয়েহ, আসছে। মায়ের দোহাই দিতে। 
রিধি অসহায় মুখ করে বললো-" দোহাই দিলাম কোথায়?"
হৃদ রিধির হাত ধরে নিজের কাছে নিয়ে বললো-" নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে। বরকে একা রাখতে নেই মহারানী। বলা যায় না কখন কোন পরির নজর পরে যায়।"
-" পরির না পেত্মির নজর পড়বে। হাহাহাহাহা।"
হৃদ রিধির মুকে হাত দিয়ে রিধির হাসি থামিয়ে দিলো।তারপর ফিসফিসিয়ে বললো
-' তাই বুঝি সৌমিলির সাথে আমার বিয়ের কথা শুনে......
রিধি হৃদের কলার ধরে বললো-"  একদম ঐ কথা মুখে আনবেন হোক তা নাটক।"
হৃদ মুচকি হাসলো। তারপর রিধিকে কোলে তুলে নিলো। 
-" একি কোলে নিলেন কেন। আমি তো হাটতে পারি নাকি।"
হৃদ জবাব দিল না বেলকনিতে এসে রিধিকে দোলায় বসালো।
রিধি দোলটা দেখে বললো-" একি এটা তো আমার ঘর‍ে ছিল। এখানে কখন আনলেন?"
হৃদ মুচকি হেসে বললো-" ঘরের মালিকই তো আমার ঘরে। তো এটা ঐ ঘরে রেখে কী হবে।"
-" হুম........
-"হুসস.....। আর কোন কথা না। চুপ করে একটু বসুন মহারানী।
রিধি গোলগোল চোখ করে হৃদের দিকে তাকালো ।হৃদ মুচকি হাসলো রিধিকে চোখ বুজতে বললো। রিধি চোখ বন্ধ করলো। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যে তার নাকে তীব্র একটা গন্ধ ভেসে এলো। হৃদ কিছু একটা করছে সে অনুভব করতে পারছে। কিন্তু কী করছে ঠিক ধরতে পারছে না রিধি। একটু পর রিধি চোখ খুলে দেখলো তার হাতে পায়ে গলায় বকুল ফুলের মালা দিয়ে গয়না পড়ানো। এ যেন ফুলের রানী। মুচকি হেসে হৃদের দিকে তাকালো রিধি। 
-" এগুলো তো সেই বকুল ফুলসগুলো।
-" হুম।
-" কখন করেছেন এই সব। অনেক সুন্দর হয়েছে।
- "তোমার সেই এলোমেলো অগোছালো ফুল গুলো। একটু একটু করে সাজিয়েছি আমি। আমার মহারানীর জন্য; আমার ফুলের রানীর জন্য।
             যদি বলো মনে পড়ে কতবার
             আমি বলবো নিশ্বাস নেই যতবার
             যদি বলো আমায় কী ভালোবাসো
          আমি বলবো তোমার জন্য হবো আকাশও
          
           কারণ আমি তোমায় প্রেমিকা নয় 
                      জীবন মেনেছি 
                ভালোবাসা নয় নিশ্বাস হয়েছি।
       
 চলবে.........?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন