Dark Obsession
Writer: Faiza Noor
Part: 6
রোমের রাতটি আজ অভিশপ্তের মতো ভারী ও নির্জন। আকাশ থেকে কালো মেঘের ঘন আস্তরণ নেমে এসেছে, আর বাতাসে ভেসে আসছে সমুদ্রের তীব্র নোনা গন্ধ। ডি’অ্যাঞ্জেলো ম্যানশনের বিশালাকার বাগানজুড়ে মেটাল লাইটগুলোর ঝাপসা আলোয় কেবল কালচে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল। পুরো ম্যানশনের সিকিউরিটি গাঢ় উদ্বেগে মোড়ানো—সবাই জানে আজ রাতে ইতালির মাটিতে কী ভয়াবহ ধ্বংসলীলা ঘটতে চলেছে।
নূর নিজের বেডরুমের গ্লাস উইন্ডোর কাছে একদম নিথর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তার হাতের মুঠোয় অ্যালেনের দেওয়া সেই ছোট চিরকুটটি এতক্ষণে ভিজে নরম হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের ঘরে টিকটিক শব্দে এগিয়ে চলছে। আর মাত্র ১৫ মিনিট। তার হৃদস্পন্দনের গতি এত দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল যে মনে হচ্ছিল বুক চিরে হৃৎপিণ্ডটা বাইরে বেরিয়ে আসবে।
আজ রাতে এনজো তাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে কতটা অন্ধ হতে পারে, তা ভাবলেই নূরের গায়ের পশম খাড়া হয়ে উঠছিল। কিন্তু এই মাফিয়া সাম্রাজ্য, এই সোনার শিকল আর এনজোর বিষাক্ত আসক্তির কাছে নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে দেওয়ার চেয়ে মৃত্যুও হয়তো অনেক ভালো!
হঠাৎই ঘরের বাইরে ভারী ও দ্রুত বুটের শব্দ পাওয়া গেল। বিকট আওয়াজে ঘরের ওক কাঠের ভারী দরজাটি সজোরে খুলে গেল।
ভেতরে প্রবেশ করল এনজো।
তার পরনে পুরোপুরি শক্ত ব্ল্যাক ট্যাকটিক্যাল জ্যাকেট, কোমর ও বুকে একাধিক রিভলবার ও ম্যাগাজিনের হোলস্টার বাঁধা। তার ধূসর চোখ দুটো রক্তবর্ণ ধারণ করেছে, সেখানে কোন প্রকার স্বাভাবিক মানুষের আলো নেই—রয়েছে এক আদিম ও ধ্বংসাত্মক মাফিয়া রাজার হিংস্রতা। তার শরীর থেকে বারুদ ও রক্তের তাজা গন্ধ বের হচ্ছিল।
এনজো এক ধাপে নূরের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। নূরের কাঁপা থুতনিটি নিজের বিশাল ও শক্ত আঙুলের মুঠোয় জাঁকিয়ে ধরে তাকে নিজের একদম মুখোমুখি নিয়ে এলো।
"ইমরান রোমের সীমারেখায় পা ফেলেছে, নূর," এনজো চরম নিচু ও থমথমে গলায় ফিসফিস করে বলল। "চার বছর আগে ঢাকায় যে খেলা সে অসম্পূর্ণ রেখেছিল, আজ রোমের মাটিতে আমি তার চূড়ান্ত সমাপ্তি টানতে যাচ্ছি।"
নূর নিজের ভয় চেপে রেখে এনজোর রক্তচক্ষুর দিকে তাকাল। "আপনি... আপনি তাকে মেরে ফেলবেন?"
"আমি তাকে শুধুই মারব না," এনজো নিষ্ঠুর এক হাসি দিল, যা দেখে যেকোনো মানুষের বুকের ভেতর বরফ জমে যাবে। "যে হাত দিয়ে সে তোমাকে ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, আমি সেই হাত দুটি কেটে রাজপথে ফেলে দেব। আজ রাতে রোমের বাতাস কেবল এনজো ডি’অ্যাঞ্জেলোর শত্রুদের রক্তে ভারী হবে।"
কথাটি বলেই এনজো পকেট থেকে একটি বিশেষ এনক্রিপ্টেড ফোন বের করে নূরের সামনের ড্রেসিং টেবিলে রাখল।
"ম্যানশনের চারপাশের সিকিউরিটি আজ বাইরের অ্যাটাক সামলাতে ব্যস্ত থাকবে। অ্যালেনকে আমি ম্যানশনের অভ্যন্তরীণ পাহাড়ায় রেখে যাচ্ছি," এনজো নউরের কানের কাছে ঝুকে ফিসফিস করে বলল, "যদি কোনো কারণে আমার ফিরতে দেরি হয়, অথবা যদি কোনো বিপদ দেখে তোমার মনে হয় এই শয়তানের রাজত্ব ছেড়ে পালিয়ে যাবে... তবে মনে রাখবে নূর, পৃথিবীর শেষ প্রান্তেও যদি তুমি লুকিয়ে থাকো, আমি মাটি খুঁড়ে হলেও তোমাকে খুঁজে বের করব।"
এনজো নূরের ভেজা গালে নিজের বরফশীতল ঠোঁট চেপে ধরল। সেই দীর্ঘ ও অধিকারবোধে ভরা চুম্বনে ছিল এক আতঙ্কজনক বার্তা। মুহূর্তের মধ্যেই সে ঘুরে দাঁড়াল এবং ঘরের দরজা সজোরে বন্ধ করে বেরিয়ে গেল।
নিচে একাধিক স্পোর্টস কারের স্টার্ট হওয়ার বিকট গর্জন আর বুটের শব্দ ভেসে এলো। এনজো তার প্রাইভেট স্কোয়াড নিয়ে ম্যানশন ছেড়ে বেরিয়ে গেল ইমরান খানের গোপন আস্তানায় হামলা চালাতে।
রাত ঠিক ১২টা।
ম্যানশনের চারপাশটা এখন শ্মশানের মতো নিঝুম। অ্যালেন খুব সাবধানে করিডোর দিয়ে হেঁটে নূরের দরজায় এসে দুইবার আলতো করে টোকা দিল। নূর দ্রুত এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলল।
"ভাবী, এটাই উপযুক্ত সময়!" অ্যালেন বেশ উদ্বিগ্ন গলায় বলল। "ভাই মূল শহরের দিকে রওনা হয়েছেন, সেখানে ইমরান খানের দলের সাথে তুমুল বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। পুরো শহরের পুলিশ এবং মাফিয়া নেটওয়ার্ক এখন ওদিকে ব্যস্ত। পেছনের সিক্রেট গেটের গার্ডদের আমি কৌশলে সরিয়ে দিয়েছি। দ্রুত চলুন!"
নূর কোনো কথা না বাড়িয়ে কেবল একটি কালো ওভারকোট গায়ে জড়িয়ে অ্যালেনের পিছু পিছু দৌড়াতে শুরু করল।
ম্যানশনের পেছনের প্রাচীন বাগানটি বিশালাকার পাথুরে দেয়াল দিয়ে ঘেরা। বৃষ্টির জলে কাদা জমে পিচ্ছিল হয়ে ছিল চারপাশ। গাছের ডালপালা নূরের পোশাকে আটকে যাচ্ছিল, কিন্তু সে থামল না। প্রাণের ভয়ে এবং স্বাধীনতার তীব্র টানে সে অ্যালেনের সাথে পেছনের গোপন লোহার গেটের দিকে এগোতে লাগল।
গেটের কাছে পৌঁছে অ্যালেন হেভি লকটি খুলে দিল। বাইরে একটি কুচকুচে কালো সিডান গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল, যার ইঞ্জিন আগেই চালু করা।
"ভেতরে উঠুন ভাবী," অ্যালেন তাড়াহুড়ো করে বলল। "গাড়ির ড্রাইভার আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ লোক। সে আপনাকে সরাসরি রোমের লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বিমানবন্দরে নিয়ে যাবে। ওখানে আপনার জন্য ভুয়া নামে পাসপোর্ট এবং ঢাকার টিকেটের ব্যবস্থা করা আছে। বিমানে উঠে পড়ার পর ভাই আর আপনাকে রোমের বাইরে সহজে ট্র্যাক করতে পারবেন না।"
নূরের চোখ দুটো কান্নায় ভরে উঠল। সে অ্যালেনের দিকে তাকিয়ে বলল, "তুমি কেন আমার জন্য এত বড় ঝুঁকি নিচ্ছ অ্যালেন? এনজো যদি জানতে পারে..."
"ভাই আপনাকে ভালোবাসেন ভাবী, কিন্তু তার ভালোবাসা একটা বিষাক্ত বন্দিশালা," অ্যালেন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল। "আপনি এখানে থাকলে প্রতিদিন তিলে তিলে মরবেন, আর আপনাকে ওভাবে দেখলে ভাই আরও বড় দানব হয়ে উঠবেন। আপনি চলে যান। ভাইয়ের রাগ সামলানোর ব্যবস্থা আমি করব।"
নূর আর এক মুহূর্তও দেরি না করে গাড়ির পেছনের সিটে গিয়ে বসল। গাড়িটি দ্রুত গতিতে রোমের ভিজে যাওয়া হাইওয়ের দিকে ছুটে চলল। নূর পেছনের কাঁচ দিয়ে তাকিয়ে দেখল, অন্ধকারে ডি’অ্যাঞ্জেলো ম্যানশনের চূড়াটি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। তার বুক হালকা লাগার কথা ছিল, কিন্তু এক অজানা আতঙ্কে তার পুরো শরীর বরফ হয়ে আসছিল।
এদিকে শহরের কেন্দ্রস্থলে এক পরিত্যক্ত শিপইয়ার্ডে তখন নরক নেমে এসেছে।
চারিদিকে অনবরত গুলির তীব্র শব্দ, কার্বাইনের গর্জন আর বিকট বিস্ফোরণ। ইমরান খানের প্রায় ৫০ জনের সশস্ত্র মাফিয়া বাহিনী এনজোর মাত্র ১০ জনের প্রাইভেট স্কোয়াডের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছিল। এনজোর প্রশিক্ষিত শুটারদের সামনে ইমরান খানের লোকগুলো টিকতেই পারছিল না।
কালো জ্যাকেটে রক্তের দাগ লেগে আছে এনজোর। সে নিজের অটোমেটিক সাইডআর্ম দিয়ে একটার পর একটা শত্রুর মাথার খুলি উড়িয়ে দিয়ে একদম সামনের দিকে এগোচ্ছিল। তার সামনে এখন হাঁটু গেড়ে বসে আছে ইমরান খান—যার শরীর গুলি এবং রক্তের আস্তরণে ঢেকে গেছে।
"তুমি... তুমি ভেবেছিলে আমাকে এভাবে রোমে ডেকে এনে মারতে পারবে, এনজো?" ইমরান থুথু দিয়ে রক্ত ফেলে বিষাক্ত হেসে বলল। "তুমি ভেবেছ নূর তোমার হয়ে গেছে? চার বছর আগের সত্যিটা সে জানলে তোমাকে থুথু ফেলবে!"
এনজো ধীরপায়ে ইমরানের কাছে এগিয়ে এলো। সে তার বুট দিয়ে ইমরানের বুকের ওপর সজোরে পা দিয়ে চেপে ধরল।
"সে সব জেনে গেছে ইমরান," এনজো খুব নিচু ও ঠাণ্ডা গলায় বলল। "কিন্তু তবুও সে আমার। আর তুমি... তুমি কেবল একটা মৃতদেহের নাম।"
এনজো এক বিন্দু দয়া না দেখিয়ে ইমরানের কপালে রিভলবারের নল ঠেকিয়ে ট্রিগার টেনে দিল। বিকট শব্দে ইমরানের দেহ নিথর হয়ে মেঝের ওপর গড়িয়ে পড়ল।
এনজো নিজের রক্তমাখা জ্যাকেটটি খুলে নিচে ফেলে দিয়ে ফ্যাবিওর দিকে তাকাল। "সব পরিষ্কার কর। আমরা ম্যানশনে ফিরে যাচ্ছি।"
ঠিক সেই মুহূর্তে এনজোর এনক্রিপ্টেড ফোনে একটি জরুরি সিগন্যাল বেজে উঠল। এটি ছিল তার ম্যানশনের মেইন ট্র্যাকিং সিকিউরিটি এলার্ম—যা কেবল তখনই বাজে যখন নউরের রুমের সিক্রেট এরিয়া বা ম্যানশনের পেছনের বর্ডার সিকিউরিটি ব্রেক করা হয়!
এনজোর হাতের রিভলবারটি থরথর করে কেঁপে উঠল। তার ধূসর চোখের দৃষ্টি মুহূর্তেই শতগুণ বেশি হিংস্র ও পৈশাচিক হয়ে উঠল।
"ফ্যাবিও!" এনজো বিকট গর্জন করে উঠল, যা পুরো পরিত্যক্ত গুদামঘরে প্রতিধ্বনি তৈরি করল। "ম্যানশনের সিকিউরিটি এলার্ম ট্রিগার হয়েছে! নূর ম্যানশনে নেই!"
ফ্যাবিওর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। "কী বলছেন বস? অ্যালেন তো ম্যানশনে ছিল!"
এনজো আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না। সে নিজের ল্যাম্বরগিনিতে উঠে বসল এবং অবিশ্বাস্য স্পিডে এক্সিলারেটর চেপে ধরল। তার মাথায় তখন রক্ত উঠে গেছে। নূর তার কথা শোনেনি! সে এই মাফিয়া ডনকে ধোঁকা দিয়ে পালানোর সাহস দেখিয়েছে!
হাইওয়ে দিয়ে নূরের গাড়িটি রোম এয়ারপোর্টের দিকে পূর্ণ গতিতে ছুটে চলছিল। বাইরে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বেড়েছে। নূরের হাত পা বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল। সে প্রতি মুহূর্তে গাড়ির পেছনের আয়নায় তাকাচ্ছিল।
হঠাৎ করেই পেছনের অন্ধকারে দুটো ভয়াল হেডলাইটের তীব্র আলো জ্বলে উঠল।
একটি কুচকুচে কালো ল্যাম্বরগিনি অবিশ্বাস্য গতিতে তাদের গাড়ির পিছু নিয়েছে। সেই গাড়ির ইঞ্জিন গর্জন করছিল যেন কোনো হিংস্র পশুর তাড়া করার ডাক!
নূরের বুকের ভেতর আতঙ্কে ধক করে উঠল। "ড্রাইভার! গাড়ি আরও জোরে চালান! দ্রুত!"
ড্রাইভার এক্সিলারেটর চেপে ধরল, কিন্তু এনজোর ল্যাম্বরগিনির স্পিডের সামনে সেই সাধারণ গাড়ি কিছুই ছিল না। এনজোর গাড়িটি মুহূর্তে নূরের গাড়ির একদম পাশে চলে এলো।
ল্যাম্বরগিনির ড্রাইভিং সিটের জানালার কাঁচ নেমে গেল। সেখানে দেখা যাচ্ছে এনজোকে। তার চুলগুলো বৃষ্টিতে ভিজে কপালে লেপ্টে আছে, ধূসর চোখে ফুটে উঠেছে এক চরম পৈশাচিক ও অন্ধ আসক্তি। তার হাতে ধরা রয়েছে এক কালো আধুনিক গান!
এনজো নূরের দিকে এক নজর তাকাল—যে দৃষ্টিতে ছিল বিশ্বাসঘাতকতার তীব্র যন্ত্রণা আর এক ডনের ভয়াল শাসন।
এনজো সরাসরি নূরের গাড়ির সামনের টায়ারে সজোরে গুলি চালিয়ে দিল!
বিকট শব্দে টায়ার ফেটে নূরের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাইওয়ের ওপর কয়েকবার চক্কর কেটে রাস্তার পাশে ড্রেন ও রেলিংয়ের সাথে আছড়ে পড়ল! সজোরে ধাক্কা লেগে গাড়ির সব কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
নূরের কপাল কেটে তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগল। তার মাথা ঝিমঝিম করছিল, চারপাশের সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছিল। গাড়ির দরজার হ্যান্ডেল ধরে সে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু শরীর আর সায় দিচ্ছিল না।
এনজো নিজের গাড়ি থামিয়ে ধীরপায়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে নূরের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল।
সে নূরের দরজার ভাঙা কাঁচের ভেতর দিয়ে হাত বাড়িয়ে দরজাটি টেনে খুলে ফেলল। নূর রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির সিটে পড়ে ছিল। এনজো ঝুঁকে নূরের অবশ প্রায় শরীরটিকে নিজের দু’হাতে কোলে তুলে নিল।
নূর অস্পষ্ট চোখে এনজোর দিকে তাকাল। এনজোর পরনে তখন রক্তের ছিটেফোঁটা, বৃষ্টিতে ভিজে তার রূপ আরও ভয়ংকর লাগছে।
"আমি তোমাকে বলেছিলাম না নূর?" এনজো নূরের কানের কাছে একদম নিচু, কাঁপা ও হিংস্র গলায় ফিসফিস করে বলল। "এই মহাবিশ্বের কেউ তোমাকে আমার হাত থেকে মুক্ত করতে পারবে না। এমনকি তুমি নিজেও না।"
নূর আর কিছু বলতে পারল না, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও আতঙ্কে তার চোখের সামনে অন্ধকার নেমে এলো। সে এনজোর বুকে ঢলে পড়ল। এনজো নূরকে বুকে জড়িয়ে ধরে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে রইল—এক বিজয়ী কিন্তু চরম আসক্ত দানবের মতো!
চলবে...