ফন্ট সাইজ:
থিম:
বৃষ্টি ভেজা রাতে তুই এলি এই জীবনে

১ম পর্ব

লেখক: হুররামের আম্মু

আকাশে কালো মেঘের ছায়া মাজে মাজে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে বাতাসের সাথে সাথে বেরেছে বৃষ্টি, ধমকা হওয়া এসে ছুয়ে দিচ্ছে শরিলের প্রতিটি অংশ কে. বৃষ্টি জেন আজকে থামার নামই নাই. আজকে সারাদিন আবহাওয়া টা বেশ ঠান্ডা ছিলো তবে বৃষ্টি নামেনি. 

বাতাশের মাজে সবাই নিজেদের সুখ খুজেছিলো.আসলে বৃষ্টি হলে যেমন ভালো লাগে তেমন কিন্তু বৃষ্টি হওয়ার আগেও ভালো লাগে জারা বৃষ্টিতে ভিজতে পারে না বা ভিজতে চাই না তারা এই বৃষ্টির আগের মুহুর্ত টা কে অনেক ভালোবাসে বাতাসের সাথে সাথে চুল উড়ে উড়ে থাকে ওইটা বেশ ভালো লাগে. সারাদিন বৃষ্টি না হলে রাত সাতটা থেকে তুমুল বৃষ্টি পরছে.
এই বৃষ্টি মাঝেই রাস্তায় গাড়ির বিতর বিরক্তি নিয়ে বসে আছে তুফান অফিস শেষ করে বাসায় ফিরার সময় রাস্তায় হটাৎ বিপক্তি বাদে একটা গাছ পরে.
:
:
বাতাসের সাথে পেরে না উঠে গাছ টা রাস্তায় পরেই গেলো হয়তো অনেক চেষ্টা করেছে না পরার কিন্তু কথায় আছে আগুন আর বাতাসের সাথে কেউ পেরে উঠে না হলোও তাই না পেরে এখন রাস্তার মাজে পরে রয়েছে গাছটা আসে পাশে আরও অনেক ঢাল পাতা পরে আছে. 
:
তুপানের এবার রাগ চরম লেভেবের উঠে গেছে এতো রাতে তো আর কেউ গাছ টা উঠাতে আসবে না তাই সে বিরক্তি নিয়ে সিটে মাথা ঠেকিয়ে বসে রয়েছে, বৃষ্টি তো থামার নামই নাই উল্টো আরও বেরেই চলেছে তুপান ভাবে অফিসে ফিরে যাবে জেই ভাবে সেই কাজ সিট থেকে মাথা তুলে গাড়ি উল্টো পথের দিকে ঘোরায় সামনে চোখ যেতেই সে তো অবাক সাথে বিরক্তি নিয়ে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে একটা মেয়ে বৃষ্টিতে ভিজতেছে তাও এতো রাতে রাস্তায় দারিয়ে গাড়ির আওয়াজ পেতেই মেয়েটা সেদিকে থাকায় গাড়িটা কালো রঙের হওয়ায় স্পষ্ট দেখ ছিলো না তবে সে বুজেছে এখানে একটা গাড়ি আছে তাই সে রাস্তা থেকে সরে দারায় নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চাই. 
তুপান গাড়ি নিয়ে অফিসের দিকে যেতে থাকে কিন্তু তার আর যাওয়া হলো না রমনীর সামনে যেতে গাড়িটা নষ্ট হয়ে যায় তুপানের রাগ এবার দেখে কে, আজকে বৃষ্টি হওয়ার ফলে তার এসিস্ট্যান্ট কে সে বাড়িতে চলে যেতে বলে সাথে ড্রাইভার কেও আর আসতে বলে নাই ভেবে ছিলো নিজেই চলে যাবে কিন্তু কে জানে তার যাওয়ার পথে এতো বাধা আসবে. সে ধুম করে গাড়ির মধ্যে একটা ঘুশি দেই সাথে সাথে গাড়ি কেপে উঠে সে আরও এক দুইবার ঘুশি দিয়ে হন হনিয়ে গাড়ি থেকে বের হয়ে যায় ফোনটাও বন্ধ হয়ে গেছে আজকে না হলে কাউকে কল দিয়ে গাড়ি আনতে বলত কিন্তু এখন তাও সম্ভব না. গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথে সেও বৃষ্টিতে ভিজে যায় গাড়ির কাছে গিয়ে রাগে কাপতে থাকে সে রাগ সামলাতে না পেরে আবারও একটা লাথি দেই গাড়ির মধ্যে,
:
 কন্যা টি এইসব দেখছিলো এতোক্ষণ তবে এবার তার সত্যি অনেক হাসি আসে তাই সে হাসতে থাকে হাসির শব্দ পেয়ে তুপান সে দেখিকে তাকিয়ে দেখে মেয়েটা হাসতেছে রাগ তার আরও বেরে যায় একটা মানুষ বিপদে পরেছে আর এই মেয়ে হেল্প না করে উল্টো হাসতেছে,
: 
এবার সে ধমক দিয়ে উঠে এই মেয়ে এই এইভাবে হাসতেছো কেন এতো হাসি কীসের হে চুপ করো বলছি,
: 
ঝড় বৃষ্টির বাতাসের সাথে জেন তাল মিলিয়ে এই ধমক টাও আরও জোর পেয়েছে ধমক খেয়ে মেয়েটি কেপে উঠে এতো জোরে কেউ ধমক দিতে পারে মেয়ে টা আজ জানতে পারলো সে. জীবনেও সে এতো বড় ধমক কখনো কারো কাছ থেকে শুনেনি মেয়েটির হাসি উধাও হয়ে যায় তারও রাগ হচ্ছে এবার,
 সে হাসবে না কি হাসবে না সেটা একমাত্র তার বিষয় অন্য কেউ বলার কোনো অধিকার নাই সে কারো খায়ও না পরেও না তাই অধিকার যেহেতু নাই সেহেতু ধমক দেওয়ার জন্য অবশ্য ক্ষমা চাইতে হবে যদিও ক্ষমা করে নাও দিতে পারি কেননা এতো বড় ধমক জীবনে প্রথম খেয়েছি শালারে ইচ্ছে করছে ধরে ঠাস করে থাপ্পড় দিতে কিন্তু না আগে দেখা জাক সরি বলে কি না এইসব কথা মনে মনে ভেবে সে চোখ তুলে ছেলে টার দিখে থাকায় চোখ তুললেই কি আর সে দেখতে পারবে হাহ হাস্যকর একটা সামান্য ৫ ফুটের মেয়ে কখনো একটা ৬ফুট৫ইঞ্জি ছেলের মুখ দেখতে পাবে না এটা স্বাভাবিক সে এবার মাথাটাও তুলে থাকায় ছেলে টার দিখে গেইটের সামনে লাইটের আলো থাকায় সে অনেক টা দেখতে পাই ছেলে টা রে, এতো সুন্দর ছেলে মানুষ মনে হয় সে এই প্রথম দেখেছে একদম তার মনের মতো ছেলে টার বয়স আর কতো হবে বয়স টা ঠিক বুজতে পারেনি কিন্তু তার মনের মতো হলে কি আর হবে অনেক খারাপ হবে হয় তো না হলে এতো জোরে ধমক কি কেউ দেই এতো সুন্দর মেয়ে কে কখনো কেউ ধমক দিতে পারে না এই ছেলে খারাপ তাই দিয়েছে হু,
:
আবার এইসব কথা ভেবে সে রেগে বলে সমস্যা কি আপনার আমার হাসি আমার ইচ্ছে করছে তাই হেসেছি আপনার কি তাতে আমি আপনার খায় না পরি যে আপনি আমাকে ধমক দিবেন এতো সাহস আপনার এখনই ক্ষমা চান,
:
 এক নিশ্বাসে সব কথা বলে দেই মেয়ে টা জা শুনে তুপান নিজে কে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করতেছে কেননা থাকেও কেউ কখনো এইভাবে কথা বলেনি বলার সাহস ও কারো নাই এবার সে আরও একটা ধমক দিতে যাবে তার আগেই মেয়েটা বলে উঠে,
:
 কি হলো বলেন সরি আপনি অনেক খারাপ লোখ দেখতেছি সরি না বললে কিন্তু থাপ্পড় দি.... ঠাস বেচারি মুখ থেকে পুরা কথা বের করতে পারলো না তার আগে নিজের গালে পরলো থাপ্পড় টা সে গালে হাত দিয়ে অবাক হয়ে যায়,
:
 সে কখনো বাইরের মানুষের সামনে নরম নই যতো কষ্ট পাবার পাবে কিন্তু কখনো বাইরের মানুষের সামনে ভেঙে পরবে না আজও তাই হলো সে থাপ্পড় খেয়ে গালে হাত দিয়ে রেগে বলে আপনার মতো বাজে মানুষ আমি আর একটা দেখিনি শুধু টাকা থাকলে হয় না একটু মানুষের ভিবেগ থাকতে হয় নিজে কে কি মনে করেন হে অনেক সুন্দর অনেক বড় তাই না কিন্তু আপনি কি জানেন আপনি যে দেখতে বাদরের মতো এই বাজে স্বভাবের কারণে আপনার বউ ও থাকবে না. 
:
এইসব বলে সে তুপান কে থাপ্পড় মারার জন্য হাত উঠায় কিন্তু তার হাত টা তুপানের গালে যেতে পারে না তার আগে তুপান হাত ধরে নেই দুইজন এতো কাছা কাছি ছিলো দেখে মনে হবে ওরা হয় তো কাপল কিন্তু আসলে ওরা যে এখানে মারামারি করতেছে তা কি কেউ জানে উহু কেউ জানে না,
:
হাত ধরে রাখার কারণে কন্যা টি আরও রেগে যায় এবার সে জোরে তুপানের হাতে নখের আচর লাগিয়ে দেই যেখানে যেখানে নখের আচর লেগেছে সেখান থেকে রক্ত বের হচ্ছে তুপানের সেইদিকে কোনো খেয়াল নেই তার চোখ দুটো অসম্ভব লাল হয়ে গেছে, অনেক গুলো নখের আচর লাগিয়ে কন্যা টা একদুরে চলে যায় সেখানে থেকে, 
ওর যাওয়ার পথে থাকি থাকে তুপান,
:
:
সকাল তখন দশটা চার মিনিট সারা রাত বৃষ্টি হয়ে মিষ্টি একটা সকাল উপহার দিয়েছে প্রাকৃতিক মিষ্টি বাতাস আর রোদ্দুর ছুয়ে দিচ্ছে জানলার কাছে দারিয়ে থাকা কন্য কে, 
মনে মনে কালকের কথা মনে করে কন্যা টি হতাশ হয় তার সাথে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি কালকেও হতো না কিন্তু বাবা মায়ের কথা অনেক বেশি মনে পরার কারণে নিজে কে কন্ট্রোল করতে পারেনি সে বাবা মা কে ছাড়া একা থাকে সে, পড়ালেখা সব কিছু এখান থেকে করে সে একটা ফ্লাটে থাকে সে, সাত তালার একটা বিশেষ সুন্দর একটা ফ্লাটের তিন তলায় কন্যা টি থাকে, তার অবশ্য এতে কোনো সমস্যা নাই সে নিজের ইচ্ছেতেই এখানে থাকে তবে মাজে মাজে বাবা মায়ের কথা মনে পরলে অনেক খারাপ লাগে,
:
দরজায় কেউ বার বার নক করছে দেখে সে দরজা খুলতে যায় গিয়ে দেখে বাড়িওয়ালা এসেছে সাথে উনার মেয়েও এসেছে মেয়েটির বয়স (১৩বছর) সে আবার ওর অনেক বড় বক্ত মানি যখন তখন এখানে চলে আসে, 
ওদের দেখে সে ও হাসি মুখে বলে আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল কেমন আছে, বাড়িওয়ালা সালামের উত্তর দিয়ে বলে,
:
আর বলো না অঞ্জলি মা পাখি তোমার কাছে আসার জন্য সকাল থেকে ঘ্যানঘ্যান করতেছিলো বললাম একটু পর যাও কিন্তু না সে তখন থেকে ভায়না ধরেছে তোমার কাছে চলে আসবে, আমিও একটু ছাদের দিখে যাচ্ছি তাই ও কে নিয়ে আসলাম নাও রাখো তোমার বোন কে আর জেন কখনো আমার বাসায় না যায় বলে তিনি হাসলে অঞ্জলি ও হাসলো, পাখি বলে হ্যা হ্যা যাবো না আমি তোমার বাসায় আমি আপুর কাছেই থাকবো বলে হাসি দিয়ে ভিতরে ঢুকে যায়, বাড়িওয়ালা ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করে চলে যান,
চলবে......
#বৃষ্টি ভেজা রাতে তুই এলি এই জীবনে 
#হুররামের আম্মু
#(১)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন