ফন্ট সাইজ:
থিম:
আবরণ

১৭তম পর্ব

লেখক: সাহারা জান্নাত মুমু

#আবরণ

#সাহারা_জান্নাত_মুমু

#পর্ব_১৭

রাত অনেক গভীর। পুরো শহর জুড়ে মানুষের চোখে রাজ্যের ঘুম। চারপাশ নিস্তব্ধ হলেও ফারিবার চোখে আজ ঘুম নেই।

বিছানায় শুয়ে বারবার এপাশ ওপাশ করছে সে। মাথার ভেতর সারাদিনের ঘটনাগুলো একটার পর একটা ভেসে উঠছে।

তন্ময়ের র/ক্তাক্ত হাত, এক্সি*ডেন্ট, সেই রহস্যময় সাদা গাড়ি, আদিলের শান্ত অথচ অদ্ভুত গভীর দৃষ্টি সবকিছু যেন এখনো তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

বিছানা জুড়ে এপাশ ওপাশ করে বেরাচ্ছে, ফারদিন চলে যাওয়ার পর থেকে একটা রাতও সে শান্তিতে ঘুমোতে পারেনি, বারবার আতঙ্কিত হয়ে ঘুম থেকে জেগে গিয়েছে।

হঠাৎ তার চোখ গিয়ে থামল পাশের টেবিলে রাখা একটা ছোট্ট ফ্রেম বন্দি ফারদিন এর ছবির দিকে।

ফারিবা ধীরে উঠে বসল। কয়েক সেকেন্ড স্থির দৃষ্টিতে ছবিটার দিকে তাকিয়ে থেকে কাঁপা হাতে ফ্রেমটা তুলে নিল।

ছবির মানুষটা এখন আর নেই কিন্তু হাসিটা ঠিক আগের মতোই মিষ্টি আছে। মনে হচ্ছে যেন মানুষটা এখনো তার পাশে আছে, এখনো সব ঠিক আছে, সব কিছুই আগের মতোই আছে। কিন্তু এগুলো সবটাই তার ধারণা।

ফারিবার ঠোঁটে হালকা কাঁপুনি ফুটে উঠল।

“তুমি জানে ফারদিন, আজ আবার খুব ভয় পেয়েছিলাম আমি।”

কথাটা বলতেই তার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।

আজ তন্ময়ের এক্সি*ডেন্টের দৃশ্যটা যেন হঠাৎ করেই তাকে তিন বছর আগের সেই ভয়ংকর রাতটার সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে বারবার। সেই রাতটা মুখোমুখি হচ্ছে, যেই রাতটা তার পুরো জীবনটা কে বদলে দিয়েছিল।

ফারিবা উঠে গিয়ে ফারদিন এর ছবিটা নিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসে, ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন। এরপর চোখ বন্ধ করতেই স্মৃতির দরজাটা ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করে।

-----------------

ফারিবা আর ফারদিন এক জায়গায় ঘুরতে এসেছে, মেয়েটা পরনে গোলাপি শাড়ি কোমর ছড়ানো ঘন কালো চুল গুলো খোলা। একপাশে দাড়িয়ে আছে, অপেক্ষা করছে ফারদিন এর জন্য ছেলেটা ওকে দাঁড় করিয়ে কোথাও একটা গেছে। হঠাৎ পেছন থেকে ডাক পরে,

“ফারিবা”

চেনা কণ্ঠটা শুনেই মেয়েটা তড়িঘড়ি করে পিছনে ফিরল। আর ফিরতেই দেখতে পেল ফারদিনকে, পরনে সাদা রঙের শার্ট, দুই হাত পেছনে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে সেই চিরচেনা দুষ্টু হাসি। এই মুহূর্তে তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ লাগছে ফারিবার কাছে।

ফারদিন ফারিবার কাছে আসতেই, সে ভ্রু কুঁচকে বলল,

“এভাবে হাসছো কেনো?”

ফারদিন ভান করে গম্ভীর মুখে বলল,

“হাসছি কারণ আমার সামনে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে তাই।”

ফারিবা সাথে সাথে চারপাশে তাকিয়ে বলল,

“কোথায়?”

ফারদিন কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে নাটকীয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“ইস! আমার বউটা এত বোকা কেনো আল্লাহ।”

ফারিবা রাগে চোখ রাঙিয়ে বলল,

“কি আমি বোকা, তুমি না একদম অসহ্য।”

ফারদিন হেসে সামনে এগিয়ে এলো। তারপর ধীরে ধীরে হাত দুটো সামনে আনতেই ফারিবা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

তার হাতে ছোট ছোট সাদা বেলি ফুলের মালা।

ফারদিন মুচকি হেসে বলল,

“কন্যা, অনেক কষ্ট করে ফুলগুলো এনেছি শুধুমাত্র আপনার এই লম্বা কেশের জন্য। এখন যদি বলেন পছন্দ হয়নি তাহলে কিন্তু আমি দুঃখ পাব।”

ফারিবার চোখ দুটো মুহূর্তেই ঝলমল করে উঠল।

“বেলি ফুল।”

ফারদিন মুগ্ধ চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলল,

“হুম, কারণ আমার বউটার মতো এই ফুলটাও খুব শান্ত আর খুব মায়াবী।”

কথাটা শুনে ফারিবার গাল লাল হয়ে উঠল। সে আস্তে করে মালাটা হাতে নিতেই ফারদিন হঠাৎ তার হাত ধরে ফেলল।

ফারিবার হাত থেকে নিয়ে আর খোলা চুলে ফুলের মালাটা ক্লিপ দিয়ে আটকে দিল। ফারিবার এই লম্বা কালো চুল গুলোই তো তার খুব পছন্দের।

ফারিবা মুচকি হাসলো, হঠাৎ করে ফারদিন নরম গলায় বলল,

“একটা কথা বলি?”

“কি?”

“যেদিন আমি থাকব না, সেদিনও কি আমাকে এভাবেই ভালোবাসবে, কন্যা?”

কথাটা শুনে ফারিবার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। সে সাথে সাথে ফারদিনের মুখ চেপে ধরে কেঁপে ওঠা গলায় বলল,

“এমন কথা আর কখনো বলবে না। কখনো না।”

ফারদিন কিছুক্ষণ স্থির চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ করেই হেসে ফারিবাকে নিজের বুকে টেনে নিল।

আর ফারিবা চোখ বন্ধ করে শান্ত হয়ে রইল সেই পরিচিত বুকের ভেতর।

কিন্তু সে কি জানত একদিন এই বুকের উষ্ণতাটুকুই তার সবচেয়ে বড় স্মৃতি হয়ে যাবে।

ফারদিনের বুকের ভেতর মুখ লুকিয়ে শান্ত হয়ে ছিল ফারিবা। চারপাশে হালকা রাতের বাতাস বইছে, দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ শোনা যাচ্ছে। মুহূর্তটা এতটাই সুন্দর ছিল যে সময়টাকে সেখানেই থামিয়ে দিতে ইচ্ছে করছিল তার।

ফারদিন আলতো করে ফারিবার মাথায় থুতনি রেখে বলল,

“আচ্ছা ফারিবা, একটা কথা বলো তো, তুমি আমাকে এত ভালোবাসো কেনো?”

ফারিবা তার বুক থেকে মুখ তুলে ভ্রু কুঁচকে বলল,

“এটার আবার কোনো কারণ লাগে নাকি?”

ফারদিন গম্ভীর হওয়ার ভান করে বলল,

“অবশ্যই লাগে। আমি জানতে চাই আমার কোন জিনিসে ম্যাডাম এত ইমপ্রেস।”

ফারিবা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বলল,

“তোমার সাথে থাকলে আমার খুব নিরাপদ লাগে। মনে হয় পৃথিবী উল্টে গেলেও তুমি আমার হাত কখনো ছাড়বে না।”

কথাটা শুনে ফারদিনের চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত একটা অনুভূতি ফুটে উঠল। সে মুচকি হেসে ফারিবার কপালে আলতো টোকা দিয়ে বলল,

“পাগলি একটা।”

ফারিবা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,

“তুমি আবার আমাকে পাগলি বললে।”

ফারদিন হেসে ফেলল।

“কারণ তুমি সত্যিই পাগলি। আর এই পাগলি মেয়েটাকেই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।”

ফারিবার ঠোঁটের কোণেও অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল। ফারিবা ফারদিন এর শার্টের বোতাম লাগিয়ে দিচ্ছিল, আর সে এক ঘোরে ফারিবার দিকে তাকিয়ে আছে। ফারিবা এইভাবে ফারদিন কে তাকিয়ে থাকতে দেখে লজ্জায় তার নিরাপদ আশ্রয় এর বুকে মুখ লুকায়। ফারদিন খুব শক্ত করে তার ফারিবাকে নিজের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখে।

-----------

কি সুন্দর মুহূর্ত ছিল তাদের কাছে আর আজ সবকিছুই যেন কল্পনা, সবকিছু আলো আঁধারী হয়ে ঘিরে আছে অতীত হয়ে।

যা একদিন ছিল সব বাস্তব আর আজ তা স্মৃতির পাতা ছাড়া আর কোথাও নেই। কল্পনার জগতে ফারদিন তার কতটা কাছে কিন্তু বাস্তবতা কত নিষ্ঠুর।

যে মানুষটা একদিন বলেছিল কখনো হাত ছাড়বে না, সেই মানুষটাই এখন তাকে একা রেখে চলে গেছে না ফেরার দেশে।

এই কষ্ট ফারিবা কখনো কোনো কিছু দিয়ে পূরণ করতে পারবে না, হয়তো সে চায়ও না।

ফারিবা এখনো বান্দায় বসে কাঁদছে, পুরোনো স্মৃতি গুলো এমনিতেই তার পিছু ছাড়ে না, আর আজ যেনো তাকে পেয়ে বসেছে। ফারদিন এর স্মৃতি ভালোবাসা কখনো ভোলার মত নয়।

সবাই বলে সে যেনো নিজের জীবনটাকে সুন্দর মতো করে পুনরায় সাজিয়ে নেয়। কিন্তু তার এই মনে যে ফারদিন এর বসবাস, সে যেখানে ফারদিন কে ভুলতেই পারবে না নতুন করে কাওকে জায়গা দিবে কি করে।

ফারিবা আকাশের দিকে তাকায়, ফারদিন কে মনে করে বলে,

“দেখো না ফারদিন তোমাকে ছাড়া আমি কি থেকে কি হয়ে যাচ্ছি। তোমাকে ছাড়া তোমার কন্যা খুব কষ্টে আছে। তুমি কিভাবে পারলে আমাকে একা ফেলে যেতে। তুমি ছাড়া আমার কে আছে বল। এখন যে আমি তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছি, তুমি কি পারোনা আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যেতে।”

হঠাৎ করেই যেনো একটা ঠান্ডা বাতাস ফারিবাকে ছুঁয়ে দিয়ে গেলো, আর এই অনুভূতি পেয়ে তার চোখের নোনা জল আবারও গড়িয়ে যেতে লাগলো। তার কাছে হয়তো এই ঠান্ডা বাতাস ফারদিন এর শীতল ছোঁয়ার অনুভূতি এনে দিয়েছে।

রাতের শেষ প্রহর, চারপাশ নিস্তব্ধ, শুধু দূরে কোথাও কুকুরের ক্ষীণ ডাক আর ঠান্ডা বাতাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

ফারিবা বারান্দার এক কোণে চুপচাপ বসে আছে। হাঁটু জড়িয়ে নিজের মাঝে গুটিয়ে রেখেছে নিজেকে। চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। মাঝে মাঝেই ভেজা চোখে আকাশের দিকে তাকাচ্ছে।

আজকের রাতটা যেন তাকে আবারও পুরোনো সব ক্ষতের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।

মেয়েটা ধীরে চোখ বন্ধ করলে বুকের ভেতরটা বারবার মোচড় দিয়ে উঠে।

হঠাৎ করেই দূরের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে এলো ফারিবার কানে,

“আল্লাহু আকবার... আল্লাহু আকবার...”

চারপাশের নিস্তব্ধতার মাঝে আজানের ধ্বনি যেন অদ্ভুত শান্তি এনে দিল।

ফারিবা চোখের পানি মুছে ধীরে উঠে দাঁড়াল। তারপর ওযু করে নামাজে দাঁড়িয়ে গেল। জায়নামাজ বিছিয়ে নিয়ত বেঁধে নামাজ শুরু করলো।

সিজদায় গিয়ে তার চোখ আবারও ভিজে উঠল।

কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে শুধু একটা কথাই বারবার বলতে লাগল,

“আল্লাহ, আমার ফারদিনকে ভালো রাখবেন। ওকে শান্তিতে রাখবেন।”

নামাজ শেষে জায়নামাজের উপর কিছুক্ষণ নিশ্চুপ বসে রইল সে। ধীরে ধীরে রাতের অন্ধকার কাটতে শুরু করেছে।

পূর্ব আকাশে হালকা আলো ফুটছে। জানালার ফাঁক দিয়ে ভোরের কোমল বাতাস ভেতরে ঢুকছে।

ফারিবা নিঃশব্দে আবারও বারান্দায় এসে দাঁড়াল। নতুন একটা সকাল শুরু হচ্ছে। কিন্তু তার ভেতরের অন্ধকারটা এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে।

সে এখন যেনো তার পরিবারের জন্যই বেঁচে আছে, তার অস্তিত্ব সেইদিন ফারদিন এর সাথেই শেষ হয়ে গেয়েছিল।

বেশ অনেকটা সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে সে। ধীরে ধীরে ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। চারপাশ জুড়ে পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত হয়ে উঠেছিল পরিবেশ।

ফারিবা অফিসে যাওয়ার জন্য সব কিছু গুছিয়ে নিল। একবার রান্না ঘরের দিকে গিয়েছিল কিন্তু মা এক কাপ চা দিয়ে জোর করে ঘরে পাঠিয়ে দিল।

চা শেষ করে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে বের হলো, এরপর আয়নাতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে নিল, কয়দিনে কাজের চাপ আর মানসিক যন্ত্রণার কারনে চোখের নিচে কালি পরে গেছে।

কালকে কাঁদার ফলে চোখ ফুলে লাল হয়ে গেছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চুল শুকিয়ে নিল। এরপর ধীরে ধীর তৈরি হয়ে নিল।

এইদিকে ফারদিনের মা রান্নাঘরে নাস্তা বানাতে ব্যস্ত। গত রাতের ঘটনার পর থেকে মেয়েটার দিকে তাকালেই তার বুকটা হুহু করে উঠছে।

নিজেকেই বারবার মনে মনে বকে যাচ্ছে সে কি করে পারলো এই কাজ করতে। তার চোখ দেখেও মনে হচ্ছে রাতে তার চোখের পাতায়ও ঘুম এসে ধরা দেয়নি।

কিছুক্ষন পর ফাইয়াজ ঘুম জড়ানো চোখে টেবিলে বসে বলল,

“আম্মু, আপু উঠেছে?”

তিনি হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

“অনেক আগেই উঠেছে বাবা। ফজরের নামাজও পড়ে ফেলেছে। তোকে কতবার ডাক দিলাম তুই আজ উঠলি না।”

ফাইয়াজ হাই তুলে বলল,

“যহুর নামাজের সাথে পরে নিব আম্মু, কালকে রাত জেগে পড়েছিলাম তাই উঠতে পারিনি।”

ঠিক তখনই ফারিবা ধীরে ধীরে ডাইনিংয়ের দিকে এলো। মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট, তবুও ঠোঁটে ছোট্ট হাসি আনার চেষ্টা করল।

ফারদিনের বাবা খবরের কাগজ ভাঁজ করে তার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বললেন,

“মা শরীর ঠিক আছে তো?”

ফারিবা মাথা নেড়ে মৃদু হেসে বলল,

“হ্যা আব্বু আমি ঠিক আছি।”

ফারদিনের মা এবার প্লেট এগিয়ে দিয়ে বললেন,

“আজ অফিসে না গেলেও পারতি।”

ফারিবা শান্ত স্বরে বলল,

“একদিন না গেলে অনেক কাজ জমে যাবে মা। আর আমাদের কোম্পানি অনেক বড় একটা প্রজেক্ট পেয়েছে তাই কাজের চাপটা বেশি। আর জানেন আমাকে বস বিশ্বাস করে অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছে তার জন্যই আমার আর একটা মেয়ে আছে, আপনাকে মেহজাবিন এর কথা বলে ছিলাম না মা।”

ফারদিন এর মা ফারিবার কথা সম্মতি জানিয়ে মাথা নাড়ায়। এরপর ফারিবা আবার কথা শুরু করে,

“ওই মেহজাবিনকে আর আমাকে এই প্রজেক্টের ডেমো মিটিংয়ে প্রেজেন্টেশন করার দায়িত্ব দিয়েছে।”

ফারদিন এর বাবা চায়ের কাপে চুমুক বসিয়ে মাথা নেড়ে মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে,

“আমি জানি মা তুই খুব সুন্দর মতোই প্রজেন্টেশন দিতে পারবি। তুই বিয়ের আগে যেই এনজিও তে কাজ করতি ওখানে কত সুন্দর করে সবাইকে অ্যাপ্রচ করতি মনে আছে। হাহা আমার এখনো মনে আছে ফারদিন যেদিন তোকে দেখানোর জন্য আমাকে তোর এনজিওর সামনে নিয়ে গেলো আমাকে তুই কোনো কোম্পানির ওনার ভেবে কি সুন্দর ভাবে অ্যাপ্রচ করলি।”

কথাটা বলে সবাই হেসে দেয় একসাথে, ফারিবাও মন খুলে হাসলো আজ অনেক দিন পর। সে বিয়ের আগে নিজের দায়িত্ব নাওয়ার জন্য একটা ছোট এনজিও তে কাজ করতো। সেখানে একটা ওয়েলফেয়ার ছিল যেটা অনাথ আর আসহায় নারীদের জন্য।

সেই ওয়েলফেয়ারে বড় বড় কোম্পানির ওনার, সিইও দের অ্যাপ্রচ করে ফানডিং করা হত। তাদের সাহায্য নিয়ে অনাথ এবং অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানো হত।

সে আগে ছোট একটা কাজ করত, এখন এত বড় একটা কোম্পানি এতবড় একটা পোস্ট আর এত বড় দায়িত্ব দেখেই সে হিমশিম খায় যদি তার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে যায়। কিন্তু আজ ফারদিন এর বাবা তার মধ্যে যেনো পুরোনো সেই আত্মবিশ্বাস টা ফিরিয়ে আনলো। সে পারবে তারসব কাজ ঠিক মত করতে, অবশ্যই পারবে।

এরপর তারা আজ অনেক কথা বলতে বলতে নাস্তা করে নিল, ফারিবা সবার থেকে বিদায় নিয়ে ফাইয়াজ কে নিয়ে বের হয়ে গেলো, আজ ফাইয়াজ এর স্কুলে একবার যেতে হবে বেতন পরিশোধ করতে।

সবকাজ মিটায়ে ফারিবা সেই প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে ফিরে আসলো। আফিসের ভেতরে প্রবেশ করার আগে কিছু সময় দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখে নিলো।

এরপর ভেতরে আসতেই সেই পরিচিও দৃশ্য, সেই রোজকার ব্যস্ততা। সবার কথা হাসা হাসি, কাজের ব্যস্ততা। এই ডেস্ক থেকে ওই ডেস্কে ছোটা, সবকিছুই আগের মত পরিপাটি।

তবে ফারিবার কাজে অফিসের পরিবেশ আজ অদ্ভুত শান্ত বলে মনে হচ্ছে। সে নিজের ডেস্কের দিকে চলে গেলো।

তন্ময়ের অনবরত কথা আর দুষ্টুমি ছাড়া পুরো ফ্লোরটাই যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে সবার কাছে। সবাই একজনের পর একজন বলেই যাচ্ছে তন্ময় কে ছাড়া আজ তারা কাজে শক্তি পাচ্ছে না।

আবির কয়েকবার চারপাশে তাকিয়ে পাশের কলিগদের বলল,

“সত্যি বলতে কি, লোকটাকে ছাড়া অফিসটা একদম বোরিং লাগছে।”

তারসাথে সবাই সম্মতি দিল।

মেহজাবিন ফাইল গুছাতে গুছাতে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও ভেতরে ভেতরে সেও অদ্ভুত শূন্যতা অনুভব করছে।

আজ কেউ এসে তাকে বিরক্ত করছে না। বারবার অদ্ভুত প্রশ্ন করছে না। হুটহাট নাটকীয় ডায়লগও দিচ্ছে না। এমনি কেউ অদ্ভুত নামেও ডাকছে না।

সবকিছুইতো প্রতিদিনের মত কিন্তু তারপরও কেন যেন সবকিছু অসম্পূর্ণ লাগছে তার কাছে। তার এই অদ্ভুত অনুভূতির কারণ হয়তো সে বুঝতে পারে কিন্তু তন্ময় এর অনুভূতি সম্পর্কেও সে বেশ ভালো মতোই আন্দাজ করতে পারে। মন ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে হয়তো সে তার অনুভূতি গুলোকে পাত্তা দেয় না।

বেশ কিছুক্ষন পর আদিল কেবিন থেকে বের হয়ে শান্ত গলায় সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“সবাই কনফারেন্স রুমে আসুন। আজকের প্রেজেন্টেশন নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আছে।”

আদিল এর কথায় সাড়া দিয়ে সবাই গিয়ে মিটিংয়ে বসতেই আদিল প্রজেক্টের কিছু ফাইল টেবিলে রাখল।

তার গলা সবসময়কার মতোই স্থির আর গম্ভীর।

সে একে একে সবাইকে কাজ বুঝিয়ে দিতে লাগল।

ফারিবা চুপচাপ সব শুনছিল। মাঝে মাঝে তার চোখ গিয়ে আদিলের উপর আটকে যাচ্ছে।

গত রাতের কিছু কথাও বারবার মনে পড়ছে তার।

মিটিং শেষ হওয়ার পর মেহজাবিন আর ফারিবা একসাথে ফাইল গুছাচ্ছিল।

মেহজাবিন ফাইল গোছানোর মাঝে তন্ময় কে একবার ফোন করে তার খোঁজ খবর নেয়। এরপর তাকে কাজ বুঝিয়ে দিতে থাকে। কারণ অফিসে না আসতে পারলেও কাজ তো করতেই হবে।

তন্ময়ও আজ যেনো বাদ্ধ ছেলেদের মত সিরিয়াস হয়ে সব কাজ বুঝে নিল। মেহজাবিন একটু অবাক হলেও পাত্তা দিল না।

মেহজাবিন ফোন রেখে ফারিবা এর দিকে বলে,

“আপু তুমি ঠিক আছো।”

ফারিবা ছোট করে হুম বলল।

মেহজাবিন কিছুক্ষন চুপ থেকে আবার বলে,

“আপু কাল যে প্রেজেন্টেশন শেষ করার কথা ছিল সেটা শেষ করি চল।”

ফারিবা সম্মতি দিতেই তারা কাজ শুরু করে দেয়। বেশ কিছুক্ষন পর দ্বিধা থেকে ফারিবা ধীরে বলল,

“মেহজাবিন তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?”

মেহজাবিন ফাইলের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে বলে,

“হুম আপু বলো।”

“তোমার আর স্যারের সম্পর্কটা, মানে শুধু অফিসের নাকি....?”

মেহজাবিন কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে হালকা হেসে ফেলল। তারপর ধীরে বলল,

“আসলে আদিল স্যার শুধু আমার বস না এর থেকেও অনেক বেশি কিছু।”

ফারিবা অবাক চোখে তার দিকে তাকাল। মেহজাবিন চেয়ারটায় হেলান দিয়ে ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল,

“আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে আমার আব্বু-আম্মু দুজনেই একটা এক্সি*ডেন্টে মা/রা যান। তখন আমি পুরোপুরি একা হয়ে গিয়েছিলাম। আমর আর কোনো ভাই বোন ছিল না। আম্মু আব্বু পরিবারের অসম্মতিতে বিয়ে করেছিলেন বলে আমার নানার বাড়ি থেকে আমাদের কখনো মেনে নেননি। আমি কখনে তাদের দেখিনি। আম্মু মা*রা যাওয়ার পর মামা কে জানানো হয়েছিল তখন তিনি বললেন আমার কোনো বোন নেই, ভাগ্নি আসবে কোত্থেকে। মামা অস্বীকার করলো। আত্মীয়স্বজন সবাই ছিল, কিন্তু বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না গো আপু। আমার বাবার অনেক সম্পত্তি ছিল, যেহেতু আমি একা ছিলাম তাই সব আমার নামে ছিল। আমার চাচারা সম্পত্তির লোভেই আমাকে রাখতে রাজি হয়। বাবা-মা যখন মা*রা যায় তখন আমার ষোলো বছর ছিল আমাকে দুটো বছর অনেক যত্ন করেছে তারা।”

কিছুক্ষণ চুপ থেকে হালকা হাসল মেহজাবিন।

কিন্তু সেই হাসির ভেতরেও কোথাও যেন চাপা কষ্ট লুকিয়ে ছিল। সে ধীরে বলল,

“জানো আপু, আমার আঠারো বছর হওয়ার অপেক্ষাতেই ছিল সবাই।”

ফারিবা ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাল। মেহজাবিন কিছুক্ষণ টেবিলের দিকে তাকিয়ে থেকে আবার বলতে শুরু করল,

“আঠারো বছর হওয়ার সাথে সাথেই চাচারা খুব ভালোবাসার অভিনয় শুরু করল। আমি তখন এতটাই সরল ছিলাম যে কিছুই বুঝিনি। নানান কাগজে সই করিয়েছিল, বলেছিল এগুলো নাকি আব্বুর কিছু অফিসিয়াল কাজ যেটা আমি ছাড়া কেউ এপ্রুভ করতে পারবে না। পরে বুঝতে পারি, ওগুলো ছিল আমার সব সম্পত্তি তাদের নামে লিখে নেওয়ার কাগজ।”

কথাগুলো বলার সময় তার ঠোঁট কেঁপে উঠল।

“যেদিন সবটা বুঝলাম, সেদিন থেকে আমার জীবনটা যেন পুরো বদলে গেল। সেইদিন থেকে শুরু হল তাদের নানান অত্যাচার। আগে অন্তত একটু আদর দেখাত। কিন্তু সম্পত্তি হাতানোর পর আমি তাদের চোখে বোঝা হয়ে যেতে শুরু করি। চাচিরা আমাকে দিয়ে বাসার সব কাজ করাতো। সামান্য ভুল হলেই গায়ে হাত তুলতো। ঠিকমতো খেতেও দিত না।”

মেহজাবিন মৃদু হেসে বলল,

“মাঝে মাঝে মনে হতো আমি ওই বাড়ির কেউ নই আমাকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনেছে।”

তার চোখ ধীরে ধীরে ভিজে উঠতে শুরু করে,

“একবার না, অনেকবার আমাকে মে*রে ফেলার চেষ্টাও করেছিল তারা।”

ফারিবা চমকে উঠল। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে ছিল তার দিকে। মেহজাবিন শান্ত গলাতেই বলল,

“খাবারের সাথে বি*ষ মিশিয়ে দিত, কিন্তু আমার একটা চাচাতো বোন ছিল ও অনেক ভালো আমাকে অনেক আদর করতো, আমাকে যখন রাতে না খাইয়ে রাখতো তখন ওই আপু আমার জন্য লুকিয়ে খাবার নিয়ে আসতো। ও একদিন আমার খাবারে বিষাক্ত কাছু মিশাতে দেখেছে তারপর আমাকে জানায় যেনো আমি সেই খাবার না খাই। প্রতিবার একি কাজ করতো কিন্তু আল্লাহ এর রহমতে আর আপুর সহায়তায় আমি প্রতিবার বেঁচে গেছি।”

কথাটা শুনে যেনো ফারিবার বুকটা কেঁপে উঠল অনেক জোরে। ফরিবা ভাবতেই পারছে না একটা মানুষ এতটা নিচে কিভবে নামতে পারে।

মেহজাবিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলল,

“এরপর এক বছর কেটে গেল এই অত্যা*চার দিয়ে। আমি উনিশে পা দিতেই তারা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগল। কিন্তু কেমন মানুষ জানো?”

সে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল।

“আমার থেকে বিশ-বাইশ বছরের বড় লোকের সাথে। কারো আগের বউ মারা গেছে, কারো আবার দুইটা বাচ্চাও ছিল। তাদের কাছে আমি মানুষ না শুধু একটা বোঝা ছিলাম যাকে যত তাড়াতাড়ি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা যায়।”

ফারিবার মুখটা ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে উঠছে। চোখ দুটো ছলছল করতে শরু করে। মেহজাবিন এবার গভীর শ্বাস নিয়ে বলল,

“একদিন আমাকে জোর করে একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাওয়া হলো পাত্র দেখানোর জন্য।”

তার চোখে সেই দিনের আতঙ্ক যেন আবারও ফিরে এলো কাঁপানো কন্ঠে বলল,

“আপু জানো সেখানে গিয়ে দেখি লোকটা প্রায় আমার আব্বুর বয়সী। আমি তাকে দেখেই কেঁদে ফেরি, আমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিল যে আমার গা ঘিনঘিন করছিল। আমি সোজা বলে দিই আমি এই বিয়ে করবো না। তারপর সবার সামনে চাচা আমাকে এমনসব ভাষায় অপমান করল যেগুলো আজও মনে পড়লে শরীর কেঁপে ওঠে। একটা সময় রাগে, অপমানে উনি আমাকে থাপ্পড় মেরে বসেন।”

ফারিবার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। মেহজাবিন নিচের দিকে তাকিয়ে বলল,

“আমি আর সহ্য করতে পারিনি আপু। কাঁদতে কাঁদতে রেস্টুরেন্ট থেকে দৌড়ে বের হয়ে যাই। তখন মাথায় কিছুই কাজ করছিল না। শুধু মনে হচ্ছিল আমি বাঁচতে চাই না। রাস্তা পার হওয়ার সময় হঠাৎ একটা গাড়ি আমার সামনে এসে পড়ে। আমি ভেবেছিলাম এবার বুঝি সব শেষ।”

ফারিবা নিঃশ্বাস আটকে শুনছে। মেহজাবিনের চোখের দৃষ্টি নরম হয়ে এলো।

“কিন্তু গাড়িটা আমার সামনে এসেই থেমে যায়। তারপর গাড়ি থেকে একজন ভদ্রলোক নামলেন। কালো শার্ট পরা খুব ভদ্র, শান্ত একটা মানুষ। উনি আমার কাছে এসে এত মায়া নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন— ‘তুমি ঠিক আছো?’”

মেহজাবিন হালকা হেসে ফেলল।

“জানো আপু ওই একটা প্রশ্ন শুনেই আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিল ওই অপরিচিত মানুষটাকে জড়িয়ে ধরে কাঁন্না করি। কারণ এত বছর পর কেউ প্রথমবার আমার দিকে মানুষ হিসেবে তাকিয়েছিল। এত মায় নিয়ে প্রশ্ন করেছে, রাগী বা বিরক্তিতে নয় মায়া ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে। আমি না চাইলেও উনার সামনে সব বলে ফেলেছিলাম। সব অপমান, সব কষ্ট, সব ভয়।”

মেহজাবিনের ঠোঁটে এবার কৃতজ্ঞতার হাসি ফুটে উঠল।

“আর সেই মানুষটাই ছিল আদিল স্যার, আমার আদিল ভাই।”

কিছুক্ষণ নীরব থেকে আবার বলল,

“চাচা সেইদিন পরে আমাকে খুঁজে পেয়ে টেনে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু আদিল ভাই তাদের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। আমি আজও ভুলতে পারি না সেদিন উনার চোখের দৃষ্টি, উনার রাগী গম্ভীর গলা, ভাইয়া খুব গম্ভীর গলায় বলেছিল, ‘আজ থেকে মেহজাবিনের দায়িত্ব আমি নিলাম। ভবিষ্যতে ওর গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড়বো না আমি।’”

ফারিবার বুকের ভেতর কেমন যেন হয়ে উঠল। কেমন যেনো একটা সম্মান ছেয়ে গেলো তার মনে। মেহজাবিন আবার বলল,

“সেইদিন আমি আদিল ভাইয়ের সাথে তার বাড়িতে চলে যাই। এরপরের দিন থেকেই আইনিভাবে আমাকে অ্যাডপ্টও করারা প্রসেসিং শুরু করে থেলে, যেন পরে আর কেউ আমার ওপর অধিকার দেখাতে না পারে। তারপর থেকে উনিই আমার সব। উনি আমার রক্তের কেউ না হলেও আইনি ভাই হয় আমার। উনার সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক।”

তার চোখে পানি চলে এলো।

“মামোনিও আমাকে নিজের মেয়ের মতো আগলে রেখেছেন। কখনো বুঝতেই দেননি আমি বাইরের কেউ। সত্যি বলতে, আমার জীবনে আদিল ভাই ফেরেশতার মতো এসেছিল আপু। উনি আমাকে আগলে রেখেছে সাত বছর ধরে, আমার সব দায়িত্ব নিয়েছে। আমার সব আবদার পুরোন করেছে। আমি তার নিজের কেউ না তবুও আমার জন্য সব করতে পারে। আমি অনেক দিন পর্যন্ত ভাইয়ের বাড়িতে ছিলাম এক বছর ধরে হোস্টেলে সিফ্ট হয়েছি। কিন্তু ভাই অনেক রাগ করে। আমিও বলেছি যেইদিন ভাবি গিফট করবে সেইদিন থেকে আবার থাকতে যাব তার বাড়ি।”

ফারিবা চুপচাপ বসে সব কথা শুনল। তার কাছে আদিল কে মহৎ কেউ বলে মনে হতে লাগলো। তার মনে হলো তাই তো আদিল তার সাথেও কতো ভালো ব্যবহার করে। ফারিবার খুব ভালো লাগতে শুরু করে মেহজাবিন এখন সুখে আছে শুনে।

মেয়েটা অনেক কিছু সহ্য করেও যদি এত সুখে হাসি-খুশি ভাবে থাকতে পারে তাহলে সে কেনো পারবে না। তারও তো তার পরিবিরের মানুষগুলোর জন্য ভালো থাকতে হবে।

তার চোখ ধীরে ধীরে কাঁচের ওপাশে এইচ-আর এর কেবানে বসে থাকা আদিলের দিকে চলে গেল।

লোকটা এখনো ল্যাপটপে কাজ করছে। মুখে সেই চিরচেনা গম্ভীর ভাব।

কিন্তু আজ কেন জানি ফারিবার চোখে মানুষটাকে অন্যরকম লাগছে।

হয়তো এই প্রথম তার মনে আদিলের প্রতি অদ্ভুত এক সম্মান জন্ম নিল। হয়তো আদিলের এই রুপ তাকে মুগ্ধ করছে। এই মুগ্ধতা কি শুধু একটা রেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি তাদেরকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে.....

চলবে.....

[ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আর গল্পটা কেমন লাগলো সুন্দর মতামত দিবেন, ধন্যাবাদ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন