#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ
#মায়িশা_নুরাইন
#পর্ব_৬
--- " মামী, তাড়াতাড়ি খাবার দাও। হাসপাতালে যাবো তো,,,"
--- " হ্যা, রে। দিচ্ছি, আয় তুই। শোন মেয়েটাকে দেখে আমাকে একটু জানাবি। বাচ্চা একটা মেয়ে, কি বড় বিপদ গেলো। "
--- " আচ্ছা, জানাবো। এখন খাবার দাও। "
মামী খাবার দিতেই নাওরা তাড়াতাড়ি খাবার খেয়ে নেয়। খাবার খেয়ে সে নাফসানকে ফোন করে।
--- " স্যার, আপনি কোথায় এখন? "
--- " হাসপাতালে। কেনো? "
--- " আমি আসতেছি, তাই আরকি। "
--- " তোমার আর আসতে হবে না। সব ঠিক আছে এখন। "
--- " আমি গেলে কি কোন ক্ষতি হবে নাকি? তাছাড়া নাইলার তো জ্ঞান ফিরা পর্যন্ত থাকতে পারি নি। আমার উচিত না একটু গিয়ে দেখে আসা। "
--- " আচ্ছা, আসো তাহলে। তবে সাবধান, কোন বাড়তি কথা বলবে না। "
--- " আমি কি বলেছিলাম নাকি। আর আপনি যখন না করেছেন, তবে আরও বেশি করে বলবো। "
বলেই নাফসানকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন কেটে দেয়। তারপর মামীকে বিদায় জানিয়ে তাড়াতাড়ি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পরে।
নাওরা হাসপাতালে পৌছে নাইলার কেবিন খুঁজে পায় না। তাকে তো অন্য কেবিনে দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ বো'কার মতো আশে পাশে ঘুরে তারপর নাফসানকে ফোন দেয়। নাফসান ফোন রিসিভ করতেই বলে,,
--- " স্যার, খুঁজে পাচ্ছি না তো আপনাদের। কোথায় আপনারা? "
তবে নাফসানের বদলে ফোন ধরে নাফসানের বড় ভাই নাশিত খান।
--- " কে তুমি? "
--- " আব... এটা নাফসান স্যারের নাম্বার না? আমি তো স্যারকেই ফোন দিলাম। "
বলেই ফোন সামনে এনে দেখে নাম্বার তো ঠিকই আছে। একটু আগেও এই নাম্বারে কথা বললো।
--- " এটা তো নাফসান স্যারের নাম্বার। আপনি কে? "
--- " আমি নাফসানের বড় ভাই। "
গম্ভীর কন্ঠে এমন কথা শুনে নাওরা একটু থতমত খেয়ে যায়। ওনার কথাতো নাফসানের মতোই গম্ভীর। নাওরা মৃদু স্বরে পুনরায় বলে,,
--- " আসলে আমি নাইলার সাথে দেখা করতে এসেছিলাম। কিন্তু কেবিনটা খুঁজে পাচ্ছি না। তাই স্যারকে ফোন দিয়েছিলাম। "
একথা শুনে নাশিত নাইলার কেবিনের ঠিকানা বলে দেয়। নাওরা ফোন রেখে সেদিকেই চলে যায়।
ধীরে ধীরে কেবিনের কাছে গিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে ভিতরে অনেকেই আছে। বেডে ইলা শুয়ে আছে। আর আশে পাশে মানুষের অভাব নেই। এরা কি হাসপালটাকে নিজেদের বাড়ি পেয়েছে নাকি!
পেছন থেকে কারও শব্দ শুনে চমকে তাকিয়ে দেখে নাফসান এসেছে। নাফসানের আজকে পরনে অন্য পোশাক পড়া। হয়তো রাতে বাসায় গিয়ে ফ্রেস হয়ে এসেছেন৷
--- " ভিতরে না গিয়ে উঁকি দিচ্ছ কেন? "
--- " আপনি কোথায় ছিলেন? আপনার ফোন কোথায়? "
--- " ভাইয়ার কাছে। কেনো? "
--- " ইলার কেবিন খুঁজে না পেয়ে ফোন দিয়েছিলাম। অন্য একজন আপনার মতো গম্ভীর কন্ঠে ঠিকানা বলে দিয়েছে। আমার ভাসুর ছিলো বুঝি,,,,"
বাহিরে কারও কথা বলার আওয়াজ শুনে ভিতর থেকে নাফসানের ভাবী মেহরিন এগিয়ে আসে।
--- " নাফসান, কার সাথে কথা বলছো? "
--- " ভাবী, নাওরা। গতকাল ইলাকে নিয়ে এসেছিলো। "
--- " ওহহ, তুমিই ছিলে। ভিতরে আসো, ইলাকে দেখতে এসেছো তো? "
--- " জ্বী, ভা...আপু। "
নাওরা মেহরিনের সাথে ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে নাফসানের দিকে তাকায়। একটুর জন্যই নাফসানের মতো মেহরিনকে ভাবী বলে ফেলছিলো। নাফসান তাকে চোখ রাঙানি দিতেই নাওরা মুখ ভেঙচি দিয়ে চলে যায়।
ভিতরে গিয়ে মেহরিনই সবার সাথে নাওরার পরিচয় করিয়ে দেয়। নাওরা সবার সাথেই টুকটাক কথা বলে। নাফসান দাড়িয়ে দেখতে থাকে নাওরা কতটা ভদ্র মেয়ের মতো সবার সাথে কথা বলছে। অথচ এই মেয়েটাই কি না তার আশেপাশে চরম অভদ্রতা করে।
নাফসানকে আসতে দেখেই নাশিত ফোনটা দিয়ে দেয়। তারপর ফিসফিসিয়ে বলে,,
--- " নে তোর ফোন। এভাবে তোর ফোন আমার কাছে দিয়ে যাবি না। জানিসই তো তোর ভাবী ছাড়া আমি আর কোন মেয়েদের সাথে কথা বলি না। "
--- " সেটা তো ভালো করেই জানি। ভাবীকে বলবো নাকি আগের নাশিতের কথা? "
--- " আম্মুকে বলবো এখনকার নাফসানের কথা? "
--- " আমার কিছুই নেই। বেশি বুঝো তুমি। "
--- " আমারো তবে কিছুই ছিলো না। বেশি জানিস তুই। "
নাওরাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নাফসানের মা মাহমুদা বেগম নাওরাকে ইলার বেডেই বসায়। ইলা এমনিতেই অসুস্থ, তাই নাওরা একটু দূরত্ব রেখেই বসে।
এখন তো নাওরা পরেছে বিপদে। কারও বিপদে কিভাবে স্বান্তনা দিতে হয়, সেটা নাওরা জানে না। এখন ইলার সাথে কি কথা বলবে সেটাও বুঝতে পারছে না। তার তো উচিত ছিলো ইলার সাথে দেখা করা, সেজন্যই এসেছে। এখন আর কি করবে জানা নেই।
নাওরা আরও একটা ভুল করে ফেলেছে। রোগী দেখতে এসে কিছুই আনে নি। এমন কিছু তো নাওরা কখনো করে নি। নিজেদের ফ্যামিলিতে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হলে মামী সাথে থাকতো। নয়তো মামী একা যেতো, আর সে বোনদের সাথে বাসায় থাকতো।
এখন এমন পরিস্থিতিতে নাওরার অনেক লজ্জা করছে। আত্মীয়-স্বজন যারাই ইলাকে দেখতে যাচ্ছে, সবাই কিছু না কিছু আনছে। আর সেখানে নাওরা খালি হাতে চলে এসেছে।
নাওরাকে অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নাফসান তাকে ইশারা করে কেবিনের বাহিরে আসতে বলে। নাওরা বাহিরে যেতেই নাফসান বলে,,
--- " এমন কাচুমাচু ভঙিতে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? কি সমস্যা? "
--- " স্যার, একটা অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। "
--- " এসব ভুল তুমি সবসময়ই করো। তা আজ কি ভুল করেছো? "
--- " রোগী দেখতে এসে কিছুই আনি নি। আমার খুব সংকোচ লাগছে স্যার। আমি এখন কি করবো? সবসময় তো মামী সাথে থাকতো, আজ একা এসে আমি বো'কার মতো কাজ করে ফেললাম। "
নাওরাকে এমন অপ্রস্তুত দেখে নাফসান একটু অবাকই হয়। নাওরা নিজেকে যতই সাহসী দেখাক না কেন, কথায় যতই চঞ্চল হোক না কেনে, মেয়ে কিন্তু বড় বো'কা। মনে মনে এসব ভেবে নাফসানের খুব হাসি পায়। তবে নাওরাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে সত্যিই অনেক সংকোচে আছে। তাই স্বান্তনা দিতে নাফসান বলে,,
--- " নিজেদের মানুষ দেখতে আসলে কিছু নিয়ে আসা বড় কথা না, ভালোবাসাটাই বড় কথা। তুমি যে ইলাকে দেখতে এসেছো এটাই অনেক আমাদের কাছে। আমার মাকে দেখলে বুঝার কথা তিনি এসব বিষয়ে খেয়ালই করেন নি। শুধু এতেই খুশি যে তুমি দেখতে এসেছো। "
--- " তারপরও তো আমার উচিত ছিলো কিছু নিয়ে আসা। "
--- " ওয়েট, তোমাকে কি কেউ কিছু বলেছে? "
--- " আরে না, কে কি বলবে? আমাকে কি কেউ চিনে নাকি? "
--- " আচ্ছা দাঁড়াও এখানে, আমি আসছি। "
বলেই নাফসান এগিয়ে গিয়ে মাহমুদা বেগমকে কিছু বলে। নাওরা দেখে নাফসানের মা তার দিকেই এগিয়ে আসছে। এতে সে আরও লজ্জা পেয়ে যায়। তবে কি নাফসান ওনাকে সব বলে দিয়েছে!
মাহমুদা বেগম এসেই বলে,,
--- " তুমি বাহিরে দাঁড়িয়ে আছো কেন? এত এত মানুষ আসছে, তাই তোমার সাথে কোন কথাই বলতে পারছি না। কিছু মনে করো না মা। "
--- " না না আন্টি। আমার সমস্যা নেই কোন। "
--- " তুমি নাফসানের স্টুডেন্ট তাই না? "
--- " জ্বি আন্টি। "
ভিতর থেকে মাহমুদা বেগমের ডাক পরলে তিনি বলেন,,
--- " মনে হয় না তোমার সাথে শান্তিতে কথা বলতে পারবো। এখনি ডাক পরে গেলো। তুমার সেই বোনটা আছে না, ইলা বান্ধবী হয় না,,ওকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসো। তখন শান্তিতে তোমার সাথে দু'টো কথা বলতে পারবো। "
--- " ঠিক আছে আন্টি। "
--- " মনে করে আসবে কিন্তু। আমি নাফসানকে বলে রাখবো। "
--- " জ্বি আচ্ছা আন্টি। "
নাওরার মুখে এতক্ষণে হাসি ফুটে উঠে। মাহমুদা বেগম চলে যেতেই নাফসান নাওরার কাছে আসে।
--- " কি মনে হলো আমার মা-কে দেখে? "
--- " দেখলাম যে আমার শ্বাশুড়ি মা অনেক সুইট। ইসস, ভাবতেই ভালো লাগছে আমি এত্ত ভালো একটা শ্বাশুড়ি পেয়েছি। "
--- " এই যে, শুরু হয়ে গেলো,,,,"
--- " বিরবির বাদ দেন। কথা হচ্ছে, শ্বাশুড়ি যে আমাকে শ্বশুরবাড়ির দাওয়াত দিয়ে দিলো। "
--- " আম্মু দাওয়াত দিয়েছে? "
--- " জ্বি স্যার। আচ্ছা, আমার কি শাড়ি পড়ে যাওয়া উচিত, শ্বশুর বাড়ি বলে কথা। "
--- " আমার পরিবার কি জানে তুমি আমার বউ? "
--- " আপনি তো জানেন। ওরাও জানবে। শুনুন, সুন্দর করে সেজে মাথায় গোমটা দিয়ে গিয়ে বলবো, শ্বাশুড়ি মা, আমি আপনার পুত্র নাফসান খানের বউ। ওনি আমাকে বিয়ে করে এখন আমাকে মানতে চাইছে না। আপনি মানলে বলুন, দুজনে মিলে একসাথে আপনার পুত্রকে সাইজ করবো। "
--- " দেখো মানাতে পারো নাকি,,,"
--- " এই দাঁড়ান,, আপনার মা-কে রাজি করাতে পারলে আপনিও রাজি হবেন?
নাফসান কিছু না বলেই চলে যায়। মুখে তার মৃদু হাসি দেখা যায়। অপরদিকে নাওরা ভাবতে থাকে নাফসানের কথা। ওনি কি বুঝালো!! তবে কি আমাকে নিয়ে ওনার কোন সমস্যা নেই? ওনি এই বিয়ে মেনেছেন? মেনে নিলেও এমন ব্যবহার করেন কেন, যেন আমাকে বউ হিসেবে পেয়ে একটুও সন্তুষ্ট নয়। মানলাম, আনাদের বিয়েটা একটু অন্যরকমভাবে হয়েছে। ঘটনাটা কাউকে বললেও বিশ্বাস করবে না। তাতে কি, বিয়ে তো সত্যিই হয়েছে। তিন কবুল বলে বিয়ে হয়েছে। একদম সঠিক বিয়ে যাকে বলে।
🌿
অনেকক্ষণ হয়ে গেছে নাওরা হাসপাতালে এসেছে। আর কত থাকবে, এখন তো চলে যাওয়া উচিত। তাই কেবিনে গিয়ে ইলার সাথে একটু কথা বলে।
--- আপু, সাফিয়াকে নিয়ে বাসায় আসবেন। আমি জানি সাফিয়া হাসপাতালে নাকি থাকতে পারে না। বলেছিলো একদিন,,,
--- " ঠিক আছে। তুমি সাবধানে থাকবে। আমি স্যারের কাছে তোমার খবর নিবো। "
--- " বাসায় আসবেন প্লিজ। আমাকে মনে হয়ে কালকের মাঝে রিলিজ দিয়ে দিবে। পরেরদিনই সাফিয়াকে নিয়ে আসবেন৷ সাফিয়াকেও তো ধন্যবাদ জানানো হয় নি। এখন তো কয়েকদিন কলেজে যেতে পারবো না। "
--- " তোমরা বান্ধবী না, ধন্যবাদ দেওয়ার কি দরকার। সাফিয়ার কিছু হলে তুমিও তো এভাবে এগিয়ে যেতে, তাই না? এসব নিয়ে চিন্তা করবে না। সাবধানে থাকবে, তাহলেই তাড়াতাড়ি সুস্হ হয়ে যাবে। "
তারপর মাহমুদা খানের দিকে তাকিয়ে বলে,,
--- " আন্টি, আমি আসি তাহলে। "
--- " সাফিয়াকে নিয়ে বাসায় আসবে কিন্তু,,"
--- " ঠিক আছে আন্টি। "
নাফসান একপাশে বসে ফোন দেখছিলো। মাহমুদা বেগম নাফসানের দিকে তাকিয়ে বলে,,
--- " নাফসান, নাওরাকে বাসায় পৌছে দিয়ে আয় তো। একা মেয়েটা আসলো। "
--- " না না আন্টি, আমি একাই যেতে পারবো তো.... "
--- " চলো আমার সাথে। "
তবে তাকে অবাক করে দিয়ে নাফসান দাঁড়িয়ে পরে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাই নাওরা আর মানা করে না। সেও তো একটু সুযোগ পেয়েছে নাফসানের সাথে যাওয়ার জন্য।
--- " আসো তুমি। "
নাওরা মাথা নাড়িয়ে নাফসানের পিছু পিছু বেরিয়ে পরে। একটু এগিয়েই নাফসানের পাশে পাশে হাটতে থাকে। নাফসান দুই হাত পকেটে ডুকিয়ে সোজা হাটছিলো। যেন তার আশে পাশে আর কেউ নেই। নাওরা নাফসানকে ডেকে বলে,,
--- " স্যার শুনছেন? "
--- " নাহ "
--- " ওই দেখুন সামনে কানের ডাক্তারের চেম্বার। আপনার কানের একটা চেকাপ করিয়ে আনি চলেন। "
--- " কেনো? "
--- " এত কাছে থেকেও আপনি আমার কথা শুনতে পারছেন নাহ। তাই আরকি,,,"
--- " একটু চুপ থাকতে পারো না তুমি? "
--- " আমি তো চাই। তবে আমার মুখ তো অটোমেটিকলি চলে। আমার কোন দোষ নেই এখানে। "
--- " আমার মুখ না চালাতে চাইলে নিজের মুখ অফ রাখো। "
ততক্ষণে তারা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গিয়েছে।
--- " গাড়িতে উঠো। "
--- " দরজাটা খুলে দেন। "
নাফসান গাড়ির ডোর খুলে দিতে দিতে বলে,,
--- " আগে কখনো এসব গাড়িতে উঠো নি নাকি। "
নাওরা গাড়িতে উঠে বসতেই নাফসান ড্রাইভারের সীটে বসে।
নাওরা মুখ গোমড়া করে বলে,,
--- কখনো এসব গাড়িতে না-ই উঠতে পারি। এভাবে বলার কি আছে? বড়লোক জামাই তো এই কিছুদিন ধরে পেলাম। এর আগে তো এমন জামাই ছিলো না। "
--- " বাসা কোথায়? "
--- " সোজা যেতে থাকেন। পরে বলবো। "
--- " একবারে ঠিকানা বললে কি হয়? "
--- " আপনাকে বিশ্বাস নেই। সেদিনের মতো আবার না জানি কোথায় নিয়ে যান। বিয়ে তো হয়েই গেছে। আর করতে পারবো না। "
--- " সেটা তো শহরের বাহিরে ছিলো তাই। "
--- "আপনাকে বিশ্বাস করি না আমি। "
--- " বা'চাঁল একটা। "
--- " আপনার বউ বাচাঁল। "
--- " আই নো। এখন মুখটা অফ রাখো। "
--- " নাহ। শুনুন আরেকটা কথা। "
নাফসান কোন উত্তর না দিলেও নাওরা বলতে থাকে,,
--- "আচ্ছা তখন যে বললেন, আপনার মুখ খুললে আমার মুখ বন্ধ হবে,,, বুঝিয়ে বলুন তো। "
--- " নিজে বুঝে নাও। "
--- " বাই এনি চান্স, আপনি কি........"
--- " নাওরা, এখনো মুখ বন্ধ না করলে তোমাকে পরীক্ষায় মার্ক কমিয়ে দিবো। "
--- " তো মার্ক কম পেলে আপনার বউ পাবে। আমার কি তাতে!! "
নাফসানের আর বলার মতো ভাষা নেই। পরিস্থিতি ঠিক রাখতে নিজের মুখটাই অফ রাখে। নাওরা কথা বলতে বলতে হাঁপিয়ে যায়।
--- " পানি আছে আপনার কাছে? "
--- " আমি তো আর গাড়িতে পানির দোকান দিয়ে বসে নেই। "
নাফসানের এমন কথা শুনে নাওরা মুখ ভোঁ'তা করে ফেলে। একটু তো পানিই চেয়েছে, এভাবে বলার কি আছে! তাই সে চুপ করে থাকে। কিছুদূর গিয়ে নাফসান গাড়ি থামিয়ে দোকান থেকে পানি আর কিছু খাবারের জিনিস নিয়ে আসে। টাকার মিল করতে একটা চকলেটের প্যাকেট নিয়েছিলো। নাওরা না খেলে নাওরার ছোট বোন খাবে না হয়।
গাড়িতে গিয়ে নাওরাকে পানি আর খাবার দিলে নাওরা চুপ থেকেই পানিটা খেয়ে নেয়। তারপর বাকী সব রেখে সেই চকলেটটাই হাতে তুলে নেয়। নাফসান আড়চোখে তাকিয়ে সবটাই দেখে,, তবে কিছুই বলে না।
অনেকক্ষণ ধরে নাওরা চুপচাপ আছে। এটা যেন নাওরার স্বভাবের মাঝে পরে না। তাই নাফসান নিজেই বলে,,
--- " একা একাই সব খেয়ে নিচ্ছো। "
--- " তো কি ভেবেছেন আপনাকে খাইয়ে দিবো? দুঃখিত, পারবো না। "
--- " বেশি বুঝো তুমি। আমার কথা বলেছি আমি? তোমাদের বাসায় না ছোট বাচ্চা আছে, তাদের কথা বলেছি। "
--- " আমাদের বাসায় আমি ছাড়া আর কোন বাচ্চা নেই। "
--- " বিয়ে করে বসে আছো, আর নিজেকে বাচ্চা বলছো? "
--- "জামাই মানে নি আমায়। তাই এখনো অবিবাহিত আমি। "
নাফসান শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এই মেয়ের সাথে কথায় পারা যায় না। সব কথার উত্তর যেন রেডী থাকে তার। নাওরার হাসবেন্ডের ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার, সেটা নাফসান হারে হারে বুঝতে পারছে। নাফসান বিয়েটা মানলোই না, এখনি জ্বা'লিয়ে মা'রছে। বিয়েটা মেনে নিলে না জানি কি করে,,,,,
চলবে.....
(কোন কিছু অতিরিক্ত মনে হলে জানাবেন। আমি ঠিকঠাক লিখার চেষ্টা করবো। আর সবাই গঠনমূলক মন্তব্য করবেন প্লিজ। ❤️)