ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপ্রত্যাশিত অনুরাগ

১৬তম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ

#মায়িশা_নুরাইন

#পর্ব_১৬

(কপি করা নিষেধ)

--- " সব এখন ভাগ্যের উপর ঠেলে দিতে চাচ্ছেন? "

--- " অবশ্যই,,আমাদের ভাগ্যে এমনভাবেই বিয়ে ছিলো। তাই তো হয়েছে। আমার কোন হাত নেই এসবে,,,"

নাওরা হটাৎ করেই উঠে দাঁড়িয়ে আবারও তার বোরখা খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। থাকবে না সে এখানে। দরকার পরলে যত রাতই হোক না কেন, সে বাসায় চলে যাবে। এমন অভিনেতার সাথে এক মুহুর্তও থাকবে না সে।

নাফসান নাওরার কাছে গিয়ে থামাতে গেলে নাওরা হাত দেখিয়ে থামিয়ে দিয়ে বলে,,

--- " সাবধান, একদম কাছে আসবেন না। আমি.. আমি... আমি আপনার নামে মামলা করবো। আপনি ঠকিয়ে বিয়ে করেছেন আমায়। আপনাকে আমি ছাড়বো না মি. নাফসান খান।

নাফসান সারেন্ডারের ভঙিতে হাত তুলে বলে,,

--- " ওকে ওকে, ছেড়ো না মিসেস. নাফসান। ধরে রাখো আমায়,,,"

--- " আপনি একটা অসহ্য মানুষ। "

নাওরা এবার নিজের বোরখা না পেয়ে আরও রে'গে যায়। পাবেই বা কিভাবে,, নাফসান তো সেটা পাশের রুমে রেখে এসেছে। নাওরাকে সব জানালে যে সে এভাবে রে'গে যাবে, তা তো নাফসান আগেই জানতো। তাই তো নাওরার কোন জিনিস এই রুমে রাখে নি।

তবে নাওরাও তো কম না। সে তার বোরখা না পেয়ে গলায় ঝোলানো হিজাবটা মাথায় ওরনার মতো পেঁচিয়ে থ্রিপিচেই রওনা দিয়েছে। সে আজ এভাবেই এখান থেকে বেরিয়ে যাবে।

--- " নাওরা, প্লিজ থামো। এমন পা'গলামি করবে না। "

--- " বাহ, নাফসান খান, বাহ। আমাকে পা'গল বানিয়ে এখন পা'গলামি করতে না করছেন৷ বাহ বাহ। "

--- " তুমি অসুস্হ নাওরা। শরীর ঠিক হয়নি এখনো। এত লাফালাফি করছো কেন? "

--- " আমাকে নিয়ে আর ভাবতে হবে না আপনাকে। আমার ব্যপার আমিই বুঝে নিবো। "

--- " এত অ'বাধ্য হচ্ছো কেন? "

--- " আমি জন্ম থেকেই এমন। দুইদিনেই সহ্য করতে পারছেন না, পরে যে কি করবেন কে জানে। থাকবোই না আমি আপনার সাথে। "

নাফসান আবারও নাওরাকে ধরতে গেলেই নাওরা বলে,,

--- " একদম দূরে। এত অসভ্য হলেন কবে থেকে। কথায় কথায় খালি এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন। "

--- " ফা'লতু অপবাদ দিবে না। সব কথা না শুনে চলে যেতে চাচ্ছো কেন? "

--- " হাহ, একটু শুনেই মাথা খারাপ হয়ে গেলো। আপনার সব কথা শুনে পুরোপুরি পা'গল হতে চাচ্ছি না। "

--- " ওকে, সব শুনতে হবে না এখনি। "

--- " কি!! তারমানে আরও কথা আছে আপনার? কি বলবেন এখন? আমাকে আগে থেকেই ভালোবাসতেন, তাই এসব অভিনয় করে বিয়ে করেছেন আমায়? "

--- " একদম সঠিক। "

নাফসানের কথায় এবার নাওরার মুখ হা হয়ে যায়। নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,,

--- " ছি! এভাবে স্যার হয়ে মিথ্যা কথা বলতে নেই। আপনার স্টুডেন্টরাও পরে এসবই শিখবে আপনার কাছ থেকে। "

--- " তুমি তো কিছুই শিখলে না আমার থেকে,, "

--- " আপনার মতো মিথ্যা আর অভিনয় শিখতে বলছেন আমায়? "

--- " আমার মতো ভালোবাসাটা তো শিখতে পারো। "

--- " ভালোবাসা? আপনি? কবে থেকে? "

--- " অনেক আগে থেকে,,,"

--- " হায়রে মিথ্যুক। থাকবোই না এখানে। কোন মিথ্যেবাদীর সাথে আমি সংসার করতে চাই না। "

বলেই নাওরা চলে যেতে নিলে নাফসান পেছন থেকে হাত ধরে আটকায়। নাওরা নিজে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে। তখনই হটাৎ নাফসানের ফ্ল্যাটের মেইন দরজা খুলার শব্দ হতেই নাওরা চমকে যায়। আড়চোখে কোন ছেলেকে বাসায় ঢুকতে দেখে নাওরা ভয় পেয়ে নাফসানের পেছনেই গিয়ে লুকায়। যার থেকে পালাতে চায়, ঘুরে ফিরে তার পিছনেই লুকাতে গিয়েছে।

কেউ এভাবে নাফসানের ফ্ল্যাটে নাওরাকে দেখলে স্বাভাবিকভাবেই খারাপ কথা বলবে। সেটা ভেবে নাওরা অনেক ভয় পেয়ে যায়।

অপরদিকে নাহিল নাফসানের ফ্ল্যাটে এসে এভাবে নাফসানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয়। তখনই নাফসানের পেছন থেকে নাওরাকে একটু উঁকি দিতে দেখে বিস্ময়ের সাথে নাফসানের দিকে তাকায়। নাফসান কিছুই হয়নি ভাব ধরে সটান দাড়িয়ে আছে। পেছন থেকে নাওরা নাফসানের পড়নের টি-শার্ট খা'মচে ধরে দাড়িয়ে আছে।

এই মুহুর্তে না কিছু বলতে পারছে, আর না চলে যেতে পারছে। কি একটা মহা বিপদে পরে গেলো। কে জানতো এভাবে নাহিল আজই বাসায় চলে আসবে।

--- " আসসালামু আলাইকুম, ভাবী। ভালো আছেন? "

নাহিলের কথা শুনে নাওরার সারা শরীর ভয়ে জমে যায়। তাকে ভাবী বললো কেন? তবে কি নাহিল সব বুঝে গেলো?

--- " তুই এখন এখানে কেন? "

--- " স্যরি ভাইয়া। আজকে ভেবেছিলাম তোমার এখানে থাকতাম। মানে বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরি করতে গিয়ে দেরী হয়ে গিয়েছে, তাই আরকি। "

--- " নাওরা, রুমে যাও। "

নাওরা এবার কিছু না বলে চুপচাপ রুমে চলে যায়। নাহিলের কথার পরে কি বলবে, কিছুই বুঝতে পারছে না। এর থেকে রুমে চুপচাপ বসে থাকাই ভালো।

🌿

--- " ভাইয়া,, নাওরা এখানে যে? "

--- " অসুস্হ হয়ে পরেছিলো। তাই নিয়ে এসেছি। "

--- " বাড়িতে জানাবে কবে? "

--- " কি জানাবো? "

--- " না মানে,, বিয়ে করে সংসার করাও শুরু করে দিলে। বাড়িতে জানাবা না? নাকি একেবারে তিনজন হয়ে পরে জানাবে ভাবছো? "

নাফসান নাহিলের দিকে রাগান্বিত লুক দিয়ে বলে,,

--- " মা'ইর না খেতে চাইলে, মুখ অফ রাখবি। "

নাহিলের যেন এতে কোন প্রভাবই পরে নি। উল্টো শয়'তানি হাসি দিয়ে বলে,,

--- " ভাইয়া, আজ এসে ভুল করলাম নাকি। চলে যাবো? "

--- " হুম, চলে যা। "

নাহিল থতমত খেয়ে যায়। আরে বাড়ি যেতে পারবে না বলেই তো এখানে এসেছে। এখন এখান থেকেও তাকে চলে যেতে বলছে। যাওয়ার কথা বলে ভুল করে ফেললো নাকি!

--- " আচ্ছা, ডিস্টার্ব করবো না আমি। আমি পাশের রুমে আছি। এন্জয় ব্রো,,,"

বলে তাড়াতাড়ি করে পাশের রুমে চলে যায়। নয়তো কখন না জানি সত্যি সত্যিই বাসা থেকে বের করে দেয়। ফ্ল্যাটের চাবি ছিলো বলেই তো চলে আসতে পেরেছে। আজকে পর বোধহয় চাবিটাও নিয়ে নিবে।

🌿

--- " রুবিনা, নাওরা কোথায়? "

--- " বাসায় আসে নি আজ। বান্ধবীর বাসায় থাকবে। "

রাজিয়া বেগম শুধু মুখ বাকিয়ে বসেন। সাহেদ ইসলাম আসার পর সবাই বসে গল্প করছিলো। তখন নাওরাকে না দেখে সাহেদ নাওরার কথা জিজ্ঞাসা করেন৷ নাওরা বান্ধবীর বাসায় শুনে তিনি কিছুই বলেন নি। কারণ নাওরা এমনিতেই বাহিরে ঘুরাঘুরি কম করে। মাঝে মাঝে বান্ধবীর বাসায় ঘুরে আসলে মন ভালো থাকবে তার। তারা যতই আদর-ভালোবাসা দিয়ে বড় করুক না কেন,, নাওরার মাঝে একটা কিছুর অভাব থেকেই যায় সবসময়। তারা নিজেরাও জানে নাওরার ততটা দেখভাল তারা করতে পারেন না।

রাজিয়া বেগম সেখান থেকে উঠে চলে যেতেই রুবিনা বেগম বলেন,,

--- " শুনছো,,, নাওরা ভালো নেই আমাদের কাছে। আমরা পারছি না ওর সব দিক খেয়াল রাখতে। আমার কিছুই ভালো লাগে না এখন। আপার উপরেও কথা বলতে পারি না। আবার নাওরাকেও সামলে রাখতে পারি না। কি করবো আমি? "

সায়েদ ইসলাম নিজেও রাজিয়া বেগমের ভাবসাব খেয়াল করেছেন। বউয়ের বড়বোন বলে কিছুই বলেন নি। রুবিনা বেগম আবার বলেন,,

--- " সেদিন পাশের বাড়ির এক মহিলা এসেও কিছু কথা বলে গিয়েছিলো। নাওরার বাবা-মা নেই বলে দুঃখ প্রকাশ করে, আবার এটা সেটা কত কথা বলে গিয়েছে।

আমি চেষ্টা করেছি কথা ঘুরাতে। তবুও তারা তাদের মতো বলেই গিয়েছে। "

--- " নাওরা শুনেছে এসব? "

--- " হ্যা গো। তারপর মেয়েটার মন খুব খারাপ ছিলো। "

সায়েদ ইসলাম কিছুটা রা'গ দেখিয়ে বলেন,,

--- " কি করো তুমি সারাদিন। নাওরাকে কেন এসব কথা শুনতে হবে। ওসব মহিলার সাথে তোমার এত কথার কি আছে? "

--- " কি করবো বলো,,,ওরা নিজেরাই বাড়ি বয়ে এসে আলোচনা শুরু করে। চাইলেও তো খারাপ ব্যবহার করতে পারি না। "

সায়েদ ইসলাম টেনশনে পরে যান। এই পর্যন্ত তারা যেখানেই গিয়েছে,,মেয়েটাকে কিছু না কিছু শুনতে হয়েছে। বাড়িতেও ঠিকমতো থাকতে পারেনি তারা। মেয়েকে পালছে তারা,, তাতে বাহিরের মানুষের এত কিসের সমস্যা।

হটাৎই কিছু একটা মনে পরতে সায়েদ ইসলাম বলেন,,

--- " একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। সেদিন আমার এক কলিগের সাথে কথা হলো,, এই এলাকাতেই থাকে। ওনার একটা ছেলে আছে। পড়াশোনা করছে এখনো। নাওরাকে নাকি দেখেছে, ভালোও লেগেছে বললো।

আমি তো আগে ভাবি নি এটা নিয়ে। নাওরার বিয়ে নিয়ে তুমি কি বলো? "

--- " কিন্তু, এর আগে তো একবার....."

--- " আগের কথা ভুলে যাও। আমাকে হাজার বার বললেও আমি মানবো না। এর থেকে তাড়াতাড়ি নাওরার বিয়ে দিয়ে দিবো আমি। একটা খু'নির পরিবারের সাথে সম্পর্ক করার কোন ইচ্ছে নেই আমার। "

রুবিনা বেগম থেমে যান। কিছুই বলার নেই ওনার। এক্ষেত্রে সায়েদ ইসলাম যা সিদ্ধান্ত নিবেন, তিনিও তাই মেনে নিবেন। কারণ এটা নাওরার ভবিষ্যতের ব্যপার। নাওরা একটা ভালো ভবিষ্যৎ ডিজার্ভ করে। তার তো কোন দোষ নেই, সে কেন শাস্তি পাবে।

🌿

নাফসান রুমে গিয়ে দেখে নাওরা সোফায় গালে হাত দিয়ে বসে আছে।

--- " এভাবে বসে আছো কেন? "

নাওরা একপলক নাফসানের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বলে,,

--- " আপনার ভাই জানে সব? "

--- " নাহ, কিছুই জানে না। "

--- " তাহলে আমাকে ভাবী বললো কেন? "

--- " সে তো তুমি না করোনি, তাই ভাবী ধরে নিয়েছে। "

--- " আয়হায়, তাহলে তো এখনি গিয়ে বলা উচিত উনি ভুল ভাবছেন। আমি ওনার ভাবী নই। "

--- " তোমার মাথায় কি কোন ঘিলু নেই? "

--- " আজব, থাকবে না কেন? "

--- " একদমই নেই। তুমি আমার ওয়াইফ না? তাহলে তো নাহিলের ভাবীই হবে। "

--- " নাহ। আমি আপনার কেউ নই। শুধুই টিচার-স্টুডেন্ট আমরা। আর কিছুই না। "

--- " তাই নাকি?"

নাফসান নাওরার দিকে এগোতে থাকলে নাওরা ভয় পেয়ে বলে,,

--- " স্যার, অ-অস'ভ্যতামি করার চেষ্টাও করবেন না কিন্তু। ভালো হবে না বলে দিচ্ছি। "

--- " তো কি করবো তুমিই বলে দাও। "

নাফসান কাছে গিয়ে সোফায় হাত রেখে নাওরাকে দুহাতের মাঝে বন্ধি করে নেয়। নাওরা ভয়ে কাচুমাচু করে বসে থাকে।

--- " স-স্যার, প্লিজ। "

--- " হুম, প্লিজ কি? "

নাওরা কি বলবে বুঝতে না পেরে বলে উঠে,,

--- " ঘ-ঘুম পেয়েছে আমার। "

নাফসান হুট করেই হেসে উঠে।

--- " ঘুমাবে বলছো? কয়টা বাজে দেখেছো? মাত্র আটটা। এই সময় কেউ ঘুমায়? "

--- " আ-আমি ঘুমাই। দূরে সরুন না। "

নাফসান ফুস করে নিঃশ্বাস ফেলে বলে,,

--- " ওকে, বিছানায় যাও। ঘুমাও গিয়ে। "

--- " নাহ, সোফায় ঠিক আছি আমি। "

--- " হুমম, কে জানি একদিন বলেছিলো। বিয়ে করেছি, তাই আমার বিছানায়ও জায়গা দিতে হবে। তো আজ তো শুধু বিছানা না, মনেরও জায়গা দিয়েছি। নিচ্ছে না কেন সে? "

--- " কারণ, তার আর এইসব পুরনো জিনিসের দরকার নেই। নতুন জিনিস খুঁজছে সে,, পেয়ে গেলেই চলে যাবে। "

--- " নাওরা,,, তোমার মুখ বন্ধ করার একটা উপায় পেয়েছিলাম না সেদিন। প্রয়োগ করবো কি? "

--- " ন-না থাক। যাচ্ছি আমি। "

বলেই ভদ্র মেয়ের মতো চুপচাপ বিছানার একপাশে শুয়ে পরে। নাহিলটা এসে ঝামেলা করে দিলো। নয়তো সোজা ওই রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে বসে থাকতো। এখন না পেরে এখানেই থাকতে হচ্ছে।

আচ্ছা, নাফসানও তো এখানেই থাকবে, তাই না? ইসস, কি হবে তাহলে!

আজকের রাতটা কোনভাবে পার করতে হবে। তারপর আর নাফসানের সামনেই আসবে না সে। বাসাটা নাফসানের বলে আজ ছাড় পেয়ে গেলো,,হুহ। এতদিন তার সাথে করা প্র'তারণার শোধ তুলতে হবে তো। এত সহজে নাফসানের মুক্তি নেই। অ'সভ্য লোক একটা,,,

🌿

--- " ভাইয়া, ক্ষুধা লাগছে। "

--- " তো যা, রান্না করে খা গিয়ে। "

--- " কেন? ভাবী থাকতে কষ্ট করতে যাবো কেন? ভাবী রান্না করুক, দেখি কেমন পারে। "

--- " নাওরা অসুস্থ। যা করার নিজে কর গিয়ে। "

--- " আচ্ছা, আচ্ছা। এবার বলো,, বিয়েটা কিভাবে হলো তোমাদের। না মানে, ধরে নিয়েছি তোমরা বিবাহিত। তুমি তো আর এই সেই মেয়েকে ফ্ল্যাটে আনবে না, তাই না? "

--- " কোন সন্দেহ আছে? "

--- " একদমই না। কোন সন্দেহ নেই। কিভাবে কি হল, একটু বলো না। "

--- " আগে যা, খাবার রান্না করে আন। পরে বলবো। "

বলেই নাফসান ল্যাপটপে ব্যস্ত হয়ে পরে। নাহিল যেন আকাশ থেকে পরলো।

--- " আ-আমি রান্না করবো? ও ভাইয়া, পারি না তো। তুমি তো পারো, করে আনো না। সত্যিই ক্ষুধা লাগছে আমার। সারাদিন কিছুই খাই নি। "

শেষে বাধ্য হয়ে নাফসান রান্না করলে দুজনে খেয়ে পরে শান্তি। নাহিল পরে আর কিছুই জিজ্ঞাসা করে না। সময় হলে নাফসান নিজেই বলে দিবে সব।

🌿

--- " নাওরা, রাতে আর খাবে না? "

নাওরা যেন ঘুমিয়ে শেষ। নাফসানের ডাকে চোখ না খুলেই বলে,,

--- " উহুম। "

--- " আচ্ছা, ঘুমাও তবে। "

নাওরাকে যেহেতু সন্ধ্যায়ই খাইয়েছে, তাই আর জোড় করে নি। চুপচাপ গিয়ে লাইট অফ করে নিজেও বিছানায় এসে অপর পাশে শুয়ে পরে। সাথে সাথেই নাওরা নিজেকে আরও গুটিয়ে ফেলে। নাফসান সেটা অনুভব করে মৃদু হাসে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে হটাৎই বলে,,

--- " ঘুমাও নি এখনো, তাই না? "

নাওরা সাথে সাথে স্হির হয়ে যায়। আসলেই তো সে ঘুমায় নি। এত টেনশনে ঘুম আসে নাকি? তাও আবার নাফসানের বাসায়, তারই রুমে, তারই বিছানায়।

তখন নাফসান রুম থেকে বের হওয়ার পর নাওরা উঠে সারা রুমে শুধু ঘুরপাক করছিলো। ভাবছিলো এরপর থেকে কিভাবে কি করবে। আবার মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে দুই ভাইকে দেখছিলো যে তারা কি করছে।

নাফসান কি সুন্দর শেফদের মতো রান্না করছিলো। আর নাহিল ভাইয়ের সাথে দাঁড়িয়ে বকবক করছিলো। নাওরা তো এসবই পর্যবেক্ষণ করছিলো এতক্ষণ।

আজকাল নাফসানের দিকে শুধু তাকিয়েই থাকতে মন চায়। কত সুন্দর তার জামাইটা,, কিন্তু একটুই ভালো না। কি অভিনয়টাই না করলো।

আচ্ছা, ভালোবাসলে তো সরাসরি বাসায় বলেই বিয়ে করতে পারতো। এমন কাহিনী করার কি দরকার ছিলো? আচ্ছা, পরে জেনে নেওয়া যাবে এটা। আপাতত একটা নিউ এডভেঞ্চার হলো তো।

তবে সমস্যা একটা,, দুইজনের পরিবার এই ব্যপারটা কিভাবে নিবে। যদি তাদের বিয়েটা না মানে,, তবে নাওরা কি করবে?

এতদিন ভাবছিলো নাফসানকে মানানোর কথা,, এখন ভাবতে হবে পরিবারের কথা। আর পাশাপাশি শা'কচুন্নি তো আছেই। আরেক ঝামেলা।

--- " সেই কখন শুয়েছো, ঘুমাও নি কেন? "

--- " ঘুমিয়েছি তো,,,"

--- " ওহহ,, তো কথা বলছো কিভাবে? "

--- " আব... মাত্র সজাগ হয়ে গিয়েছি আরকি। "

--- " আচ্ছা, ঘুমাও আবার। আর হ্যা, টেনশনের কিছুই নেই, কিছুই করবো না.... এখনই। "

ইসস, আজ এখান থেকে বেঁচে ফিরুক নাওরা। এরপরে আর কখনো সুযোগটাই দিবে না। তবে আপাতত নাফসানের কথায় নিশ্চিত হয়ে নাওরা ঘুমিয়ে পরে।

সারারাত নাফসান ভদ্র থাকলেও নাওরা মোটেও ভদ্র ছিলো না। ঘুমানোর সময় এক মাইল দূরে থাকলেও মাঝরাতে নিজেই নাফসানের কাছে চলে এসেছিলো।

শুধু কাছেই আসে নি,,নাফসানের উপর একদম হাত-পা তুলে দিয়ে ঘুমিয়েছে। বেচারা নাফসান একভাবেই শুয়ে ছিলো। কোন নড়চড় আর করতে পারে নি।

🌿

সকালে একটু ঠান্ডা আবহাওয়ার নাওরার ঘুম ভাঙতেই নাওরা ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে,,

--- " এই সাফিয়া,,তোকে এমন শক্ত শক্ত লাগছে কেন রে? "

বলেই হাত নাড়িয়ে মানুষটাকে অনুভব করতে নেয়। তবে সাফিয়ার কোন কন্ঠ না শুনে চোখ মেলে তাকিয়ে সামনে নাফসানের চেহারা দেখেই ছিটকে দূরে সরে যায়। আঁড়চোখে তাকিয়ে দেখে নাফসানের চোখ এখনো বন্ধ। এটা দেখেই নাওরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। তার মানে নাফসান এখনো ঘুমাচ্ছে, কিছুই টের পায় নি তবে।

সাফিয়া সাথে থাকার পর থেকে নাওরার অভ্যাস হয়ে গেছে সাফিয়াকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে ঘুমানো। সেই অভ্যাসের জন্যই সাফিয়া ভেবে নাফসানকে এভাবে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছিলো। ভাবতেই তো নাওরা লজ্জা পাচ্ছে। যেখানে ঘুমানোর আগে নিজেই দূরে থাকার কথা বলেছিলো,, সেই কিনা ঘুমের ঘোরে নিজেই নাফসানের এত কাছে গিয়ে ঘুমিয়েছে। লজ্জায় নাওরা চোখ-মুখ ঢেকে ফেলে।

একটু পর আবারও নাফসানের দিকে তাকিয়ে দেখে কি সুন্দর ঘুমাচ্ছে লোকটা। অনেকক্ষণ ধরে নাফসানের দিকে তাকিয়ে থাকে নাওরা। ওনার কোন জিনিসটা নাওরার ভালো লাগে? হুম,, চেহারাটাই শুধু সুন্দর ওনার। চাপ দাড়ির জন্য আরও বেশি সুন্দর লাগে।

পরক্ষণেই মুখ ভেঙচি দিয়ে বলে,,

~~~ চেহারাটাই যা সুন্দর,, ব্যবহার না। অনেক পাঁজি একটা লোক। এত কাহিনী করে বিয়ে করার কি ছিলো! বললেই তো হতো। এখন বিয়ের পর পরিবার মানাতে কত ঝামেলা। ধ্যাত,, ভালো লাগে না এসব আর।"

নাফসানকে একটু নড়তে দেখেই নাওরা দ্রুত পায়ে ওয়াসরুমে চলে যায়। নাফসান কোনভাবে তার অবস্থা টের পেলে সে লজ্জায় শেষ হয়ে যাবে।

নাওরা চলে যেতেই নাফসান চোখ খুলে ফেলে। সে তো সেই কখন থেকে জেগে ছিলো। শুধুমাত্র নাওরাকে লজ্জায় ফেলতে চায় নি বলে তাকায় নি। নাওরার কথাগুলো শুনে তার বেশ হাসি আসছিলো। যদিও নাওরাকে কষ্ট করতে দিবে না সে,, যা করার সেই করবে।

নাওরা যেতেই সে আড়মোড়া দিয়ে উঠে বসে। একভাবে শুয়ে থাকতে থাকতে তার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। এই মেয়ের জন্য আর কত না জানি সহ্য করতে হবে তার।

নাফসান ভাবতে থাকে,,,বিয়ের ব্যপার মানার আগে নাওরা যা অবস্থা করেছিলো তার। এখন না জানি আর কি কি করে। নাওরাকে সামলানোর আগে সায়েদ ইসলামকে সামলাতে হবে। খুব তো বলেছিলো, মেয়ে দিবে না তার কাছে। হাহ, মেয়ে তো এখন নিজে থেকেই তার কাছে এসে বসে আছে। এখন কি করবে সায়েদ ইসলাম। চাইলেও আর কিছুতে বাধা দিতে পারবে না। খেলার মোড় যে এখন ঘুরে গেছে,,,সব এখন নাফসান খানের হাতের মুঠোয়। এখন যে চাইলেও নাওরাকে তার থেকে আলাদা করতে পারবে না।

এসব ভেবেই নাফসান একটা বাঁকা হাসি দেয়।

চলবে.....

( গল্প সম্পর্কে আপনাদের কোন মতামত থাকলে জানাবেন আমায়। আর অবশ্যই গঠনমূলক মন্তব্য করবেন সবাই। ❤️)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন