ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপ্রত্যাশিত অনুরাগ

৩১তম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ

#মায়িশা_নুরাইন

#পর্ব_৩১

(কপি করা নিষেধ)

নাওরাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে খেয়াল না করলেও নাফসান হাসপালে নিয়ে নাওরার শরীরের আঘাতগুলো দেখতে পায়। দেখেই বুঝা যায় নাওরাকে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবুও তো ভয় কাটে না। নাওরাকে ট্রিটমেন্টের পর ডাক্তার এসে জানায়,,

--- " মি.নাফসান,,আমরা যেমনটা ভেবেছিলাম তেমন কিছুই হয় নি। আপনার ওয়াইফের সাথে খারাপ কিছু হয় নি। তবে ওনার শরীরের আঘাত দেখে মনে হচ্ছে, শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে৷ তবে ভালো বিষয় হচ্ছে,,শরীরের সামনে অংশে কিংবা মাথায় কোন আঘাতের চিন্হ পাওয়া যায় নি। পিঠের দিকে আঘাতের চিন্হ আছে। আর প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে,, ডান হাতের হাড়ে ফাটল থাকতে পারে৷ রিপোর্ট পেলেই আমরা সব ঠিকঠাক বলতে পারবো। "

ডাক্তারের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনার পর নাফসান যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। তারপর জিজ্ঞাসা করে,,

--- " আমার ওয়াইফ? "

--- " ওনাকে ব্যাথার ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। ব্যাথা কমলে ঘুমাবেন তিনি। আর কাধের ক্ষ'তটাতেও ব্যন্ডেজ করে দেওয়া হয়েছে। "

--- " আমি দেখা করতে পারবো কি? "

--- " তেমন কমপ্লিকেশন নেই। তবে ওনার রেস্ট প্রয়োজন। তাই বেশী শব্দ করবেন না। "

নাফসান মাথা নাড়াতেই ডাক্তার চলে যান। এতক্ষণে সে শান্তিতে বাহিরেই বসে। রুপা, সিয়াম সাথেই ছিলো। সিয়াম তো ভয়ে কাছেই আসছিলো না। দূরে এক জায়গায় চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে।

রুপা এগিয়ে এসে নাফসানের থেকে নাওরার খবর জেনে নেয়। সব জেনে নিজেও শান্তি পায়। নয়তো তাদের মাঝ থেকে নাওরার সাথে আজ খারাপ কিছু হলে রুপা নিজেও ভালো থাকতে পারতো না। রুপার এতক্ষণ বারবার নিজেকেই দোষী মনে হচ্ছিলো। তারাও তো নাওরার সাথে যেতে পারতো। শুধুমাত্র স্যার নাওরার স্বামী বলেই তারা যায় নি।

সিয়াম কিছুটা ভয় নিয়েই রুপার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করে,,

--- " ন-নাওরা ঠিক আছে? "

রুপা তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,,

--- " হুম। এবারের মতো বেঁচে গেলেন। নাওরাকে কে এভাবে আঘাত করেছে জানা নেই। তবে যদি এর সাথে আপনার সম্পৃক্ততা থাকে,,তবে আপনার রক্ষা নেই বলে দিলাম। "

সিয়াম সংকোচ নিয়েই বলে,,

--- " আমি তো বলেছিই, আমি এসবের কিছুই জানতাম না। শুধু নাওরাকে ওভাবে পরে থাকতে দেখে ক্লাসরুমে নিয়ে এসেছিলাম। "

🌿

বেশ রাত হওয়ায় হাসপাতালের করিডোরে কিছুটা ফাঁকাই আছে। সিয়াম চলে যেতে চেয়েও ভাবছিলো একটু নাওরার সাথে দেখা করতে পারবে কি না। এর মাঝে নাফসান গিয়ে একবার দেখে এসেছে। নাওরার ব্যাথা কমায় এখন ঘুমাচ্ছে। রুপাও একবার গিয়েছিলো দেখতে,,তবে সিয়াম যেতে পারে নি। সে তো ভয়ে নাফসানের সামনেও যায় নি। কখন না জানি তার উপর চড়াও হয়ে উঠে সেই ভয়ে।

এতক্ষণে সিয়াম সাহস করে গিয়ে নাফসানের সামনে দাড়িয়ে বলে,,

--- " স্যার,, আমিও একটু নাওরার সাথে দেখা করতে পারবো? "

নাফসান মাথা নিচু করে বসে ছিলো। সিয়ামের কথায় মাথা তুলে তার দিকে তাকায়। নাফসানের তাকানোতে সিয়াম একটু ভরকে যায়। তার চোখ দুটো কেমন যেন লালচে হয়ে আছে।

হটাৎই নাফসান উঠে দাড়িয়ে সিয়ামকে বলে,,

--- " কেন করলে এমনটা? শুধুমাত্র নাওরা তোমায় বিয়ে করেনি বলে? এতটা ক্ষো'ভ জমিয়ে রেখেছিলে, যে একটা মেয়েকে এমনভাবে মা'রলে? "

সিয়াম সাথে সাথে বলে,,

--- " আ-আমি কিছুই করি নি। সত্যি বলছি। আমি তো শুধু ওইদিকে গিয়ে নাওরাকে.... "

--- " কেন গিয়েছিলে তুমি? কি কাজ ছিলো তোমার? "

সিয়াম মাথা নিচু করে শান্ত স্বরে বলে,,

--- " অভ্যাসবসত চলে গিয়েছিলাম। ইচ্ছেকৃত ছিলো না। "

নাফসান তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। রুপা এসে জানায়,,

--- " স্যার, নাওরার মামী তাকে ফোনে না পেয়ে আমাকে কল দিচ্ছে। আমি ধরতে পারছি না। কি বলবো আমি? "

নাফসানের মনে পরে, সে তো কাউকে কিছুই জানায় নি এখনো। তবে রুপাকে একটু ভয় পেতে দেখে বলে,,

--- " তুমি ফোন ধরে জানিয়ে দাও, নাওরা আমার সাথে আছে। বাকীটা আমি ওনাদের কালকে জানাবো। আজ বললে আজই এখানে চলে আসতে চাইবে। "

রুপা মাথা নাড়িয়ে নাফসানের বলা কথাই মামীকে জানায়। মামী একটু রাগ করে ওনাকে ফোন করে না জানানোয়। তবে রুপা কোনরকমে ওনাকে ম্যানেজ করে। এর মাঝে রিচিকেও জানিয়েছে নাওরার খবর। এত অস্হিরতায় রিচির কথা মনেই ছিলো না। পরে রিচিকে জানানোয় রিচি একটু রাগ করেছিলো। সে জানিয়েছে, সকালেই সে নাওরাকে দেখতে চলে আসবে।

রাতে রুপা থাকতে চাইলেও নাফসান না করে দেয়। সে নিজেই সব সামলে নিবে। তাছাড়া রুপার নিজেরও অনেক কষ্ট হয়েছে। ওরও রেস্ট প্রয়োজন।

একটু রাত হওয়ায় নাফসান নিজেই সিয়ামকে দায়িত্ব দেয় রুপাকে বাসায় পৌছে তারপর বাসায় যাওয়ার জন্য। রুপাকে যাতে সেইফলি পৌছে দেয় সেজন্য একটু শাসিয়েও দেয়। যেহেতু তাদের দুজনের বাসা দুইদিকে,, তাই রুপা না করছিলো। তবে সিয়াম রাজি হয়ে যায় তাকে নামিয়ে দিতে। রাত হয়ে যাওয়ায় রুপার নিজেরও একটু ভয় করছিলো। তাই রুপাও আর মানা করে না

🌿

--- " কেমন আছেন, বেয়াইন সাহেবা? "

--- " আপনাকে তো বলেছি আমায় আপনি করে বলবেন না। আমি আপনার অনেক ছোট। "

--- " ওক্কে বেয়াইন সাহেবা। তবে এখন থেকে তুমি করে বলবো না হয়। "

সাফিয়া রিপ্লে দেয় না। এই নাহিল ছেলেটার সাথে কথা বলতে অনেক লজ্জা লাগে তার। কিন্ত ভালোবাসে বলে এড়িয়েও যেতে পারে না। কিন্তু নাহিল যেভাবে কথা বলে তার সাথে,,এসবে সাফিয়া আরও বেশী লজ্জা পায়।

🌿

নাফসান গিয়ে ঘুমন্ত নাওরার পাশে বসে থাকে। নাওরার শরীরের আঘাত গুলোতে হাত বুলিয়ে দেখতে থাকে। কতটা আঘাত পেয়েছে মেয়েটা। যে বা যারা এমন করেছে নাওরার সাথে,, নাফসান তাদের শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি পাবে না।

নাওরার ডান হাতে প্লাস্টার করে দেওয়া আছে। হাড়ে সামান্য ফাটল ধরেছে। আর শরীরের কয়েক জায়গায় কালশিটে দাগ পরে গেছে। নাফসান ঘুমন্ত নাওরার কপালে চুমু দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

কিছুক্ষণ পর নাওরার ঘুম ভাঙতেই শরীরে ব্যথা অনুভব করে। ডান হাত নাড়াতে গেলেই বুঝে ওটাতে ব্যন্ডেজ করা। আর বাম হাত কারও মুঠোয় বন্ধি। চোখ বন্ধ থেকে নাওরা বুঝে সে আর কেউ না,, তার স্বামী নাফসান খান।

নাওরা হাতটা অল্প নাড়াতেই নাফসান বলে,,

--- " ব্যাথা করছে এখনো? "

নাওরা চোখ খুলে নাফসানের অবস্হা দেখে চমকে উঠে। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে,, শার্টের উপরের দিকের বোতাম খোলা। চোখ-মুখ কেমন বিধ্বস্ত হয়ে আছে।

নাওরা ব্যাথা নিয়েই অল্প হেসে বলে,,

--- " আপনার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, মা'র আমি নই, আপনি খেয়েছেন। "

নাফসান চোখ জোড়া সরু করে বলে,,

--- " অসুস্থতার মাঝেও তোমার দুষ্টুমি যাবে না? "

নাওরা মাথা নেড়ে না জানায়। বলে,,

--- " দুষ্টুমি তো আমার রক্তে মিশে আছে। এইসব সামান্য ব্যাথা আমার দুষ্টুমিকে কেড়ে নিতে পারবে না। "

নাওরার কথার ধরণ দেখে নাফসানও হেসে ফেলে। নাওরার আঘাতগুলোর বিষয়ে কিছুই বলে না। তখনই নার্স এসে নাওরার আঘাতে মলম লাগিয়ে দেয়। নাফসান ততক্ষণ বাহিরে দাড়িয়ে ছিলো।

নার্স চলে যেতেই নাফসান পুনরায় ভিতরে প্রবেশ করে। নাফসানকে দেখে নাওরা মুখ ফুলিয়ে রাখে। নাফসান ভ্রু কুঁচকে বলে,,

--- " কি হলো তোমার? এভাবে মুখ ফুলিয়ে আছো কেন? "

--- " আপনি তখন বাহিরে চলে গেলেন কেন? "

নাফসান এসে বেডের পাশের টুলে বসে বলে,,

--- " তো কি বসে বসে তোমায় ওভাবে দেখতাম বলছো? "

--- " দ-দেখলে সমস্যা কি? আমি আ-আপনার বউ নই? "

নাফসান একটু এগিয়ে নাওরার কানের কাছে এসে ফিসফিসিয়ে বলে,,

--- " আমার কাছে চলে এসো। তারপর তোমার যেখানে যত সেবা দরকার, সবই আমিই করবো। "

নাওরা বেশ লজ্জা পায়। তবে তার লজ্জা ভাবটা প্রকাশ না করতে বলে,,

--- " নিয়ে চলুন না আপনার সাথে। আমিও তো যেতেই চাই। "

নাফসান কেঁশে উঠে। কিছুটা গম্ভীর স্বরে বলে,,

--- " অসভ্য মেয়ে। "

--- " সভ্য টিচারমশাই। "

--- " ব্যাথা করছে এখন। "

--- " আরে লাঠির বা'রি তো। টাটকা টাটকা বেশী ব্যাথা। এখন তো ঔষধ দিয়েছে। একটু কমেছে এখন। "

--- " লাঠির বা'রি মানে?

--- " বুঝছেন স্যার, টিচার হয়ে আপনি আমায় মানুষ না করতে পারলেও একজনকে করতে পেরেছেন। আপনার প্রিয় ছাত্রী, লামিয়াকে। ছোটবেলায় তো স্যাররা লাঠির বাড়ি দিয়ে শাস্তি দিতো। লামিয়া বোধহয় আপনার মতোই শিক্ষক হবে। তাই আমাকে দিয়ে প্রেকটিস করলো। "

বলেই নাওরা হেসে ফেলে। নাফসান শূন্য দৃষ্টিতে নাওরার দিকে তাকিয়ে থাকে। হাসতে হাসতে নাওরার চোখে পানি জমে। চোখের পানি মুছে নাফসানের দিকে মৃদু হেসে বলে,,

--- " আপনাদের না সেরা জুটি হতো। একজন বর্তমান টিচার, আর বউ হবে ভবিষ্যৎ টিচার। পারফেক্ট কাপল। মাঝখান থেকে আমি এক অবাধ্য ছাত্রী হয়ে পরে রইলাম। "

নাফসান নিঃশব্দে নাওরাকে আলগোছে জড়িয়ে ধরে। নাওরা সাথে সাথেই ফুপিয়ে কান্না করে দেয়। কান্নারত অবস্হাতেই বলে,,

--- " ভেবেছিলাম, হয়তো মেরেই ফেলতে এসেছে। তবুও তো শুধু লাঠির বা'রিই দিয়েছে। অনেক বড় হয়ে গেছি তো,, তাই হটাৎ এমন আঘাত সহ্য হয় নি। অনেক ব্যাথা লেগেছে। মনে হচ্ছিলো হাত-পায়ের হাড়গুলো বোধহয় জায়গা ছেড়ে দিয়েছে। "

হটাৎই কান্না থামিয়ে নাফসানের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে বলে,,

--- " আমিও এমন একদিনের জন্য টিচার হতে চাই। কিছু অবাধ্য ছাত্রীকে নিজের হাতে শাস্তি দিতে চাই স্যার। "

নাফসানও নিচু কন্ঠে তাকে আস্বস্ত করে,,

--- " পারবে তুমি। আমি তোমায় সেই সুযোগ করে দিবো। "

নাওরার মুখে হাসি ফুটে উঠে। তারপর সে অনেক কষ্টে উঠে বসে। নাফসানের মুখোমুখি হয়ে বসে বলে,,

--- " শুনুন, আমি বলি সব। "

--- " এখন বলতে হবে না। রেস্ট করো এখন। "

নাওরা অবাধ্য হয়ে বলে,,

--- " নাহ, এখনি বলবো। নয়তো পরে ভুলে গেলে সব ঠিকঠাক বলতে পারবো না। যদিও মানুষ নাকি তার উপর হওয়া আঘাতের কথা ভুলতে পারে না। কিন্ত আমার তো ঠিক নেই, ভুলে যেতেও পারি। "

তারপর নাওরা তখনকার কথা সব নাফসানকে বলতে শুরু করে।

🌿

নাওরার যাওয়ার পথে রাস্তায় হটাৎই তাদের ডিপার্টমেন্টের একটা মেয়ে নীলা রাস্তা আটকায়। বলে,,

--- " এই নাওরা,, তোকে ওইদিকে লামিয়া খুঁজছে। "

--- " আমাকে লামিয়া খুঁজতে যাবে কেন? "

--- " কি জানি ভাই। আমিও একটু অবাক হয়েছিলাম। তোদের মধ্যে তো সম্পর্ক ভালো নেই। তবে দেখলাম খুঁজতে,, তাই তোকে বললাম। "

--- " আচ্ছা ঠিক আছে,,তুই যা। আমি দেখছি। "

নীলা মেয়েটা চলে যেতেই নাওরা দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকে সে কি করবে। একটু তো অবাকও হয় লামিয়ার তাকে খুঁজতে থাকার কথা শুনে। প্রথমে ভাবে যাবে না সে। পরে আবার ভাবতে থাকে, একটু সময়ের জন্য দেখে চলে আসবে। যদি কোন দরকার থেকে থাকে!!

সে তো আর বেশীক্ষণ এখানে থাকবে না। নাফসানের সাথে দেখা করেই সে বাসায় চলে যাবে। আর এখানে থেকে কোন কাজ নেই।

তাই আগে সে লামিয়ার দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী সে এগিয়ে যেতেই দেখে জায়গাটা তাদের ডিপার্টমেন্টের পেছনের দিকে। এদিকে কেন কেউ ডাকবে তাকে!

নাওরার একটু ভয় ভয় লাগতেই সে না গিয়ে চলে আসতে চায়। তখনই তার সামনে লামিয়ার গ্যাং এসে উপস্হিত হয়। নাওরা হটাৎ এভাবে তাদের দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে,,

--- " নীলা বললো, আমাকে খুঁজছিলে তুমি। কেন? কোন দরকার? "

লামিয়ার এক বান্ধবী বলে,,

--- " দরকার তো অবশ্যই আছে। আমাদের স্যারের বউয়ের খাতির যত্ন করতে এসেছি আমরা। "

--- " মানে? কি বলতে চাচ্ছো তোমরা? "

--- " ওলে বাবা। ম্যাডাম বুঝতে পারছে না আমাদের কথা। কীভাবে বুঝাই বল তো?? "

লামিয়া একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বলে,,

--- " বুঝাচ্ছি তো। আগে একটু খাতিরযত্ন করতে দে। "

বলেই তাদের সাথে আনা লাঠি দিয়ে নাওরার উপর এলোপাতাড়ি লাঠির আঘাত দিতে থাকে। নাওরা তো হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলো। শরীরে পড়া লাঠির আঘাতগুলো অনুভূত হতেই নাওরা মাটিতে পরে যায়। মুখের উপর দুই হাত দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। কথা বলে তাদের থামানোর চেষ্টাও করতে থাকে। কিন্তু তারা তো থামে না। নাওরা চিৎকার করতে চায়। তবে হটাৎই যেন তার কন্ঠ দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছে না।

নাওরার গায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তারা থামে। নাওরা প্রচন্ড ব্যাথায় মাটিতে শুয়ে থাকে। পড়নের শাড়ির অবস্হাও খারাপ। শাড়ির কুঁচি খুলে যাওয়ার অবস্হা হয়ে গেছে। নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে পরনের হিজাবটারও অবস্হা নাজেহাল। কাঁধের দিকের একটা পিন বোধহয় চামড়ায় ডুকে গেছে। সেখানে প্রচন্ড ব্যাথা করছে।

বাহিরে গান-বাজনার আওয়াজের জন্য এসব কিছুই ধরা পরে না। নাওরার ব্যাথায় গোঙানির শব্দও গানের শব্দের নিচে ডাকা পরে যায়।

মাটিতে পরে থাকা নাওরার কাছে এসে লামিয়া বলে,,

--- " আমার থেকে আমার নাফসানকে কেড়ে নেওয়ার শাস্তি এটা। তুই তো জানিস না,,তোর জন্য নাফসান আমায় কতটা অপমান করেছে। আমাদের বিয়েটা ভেঙে দিয়ে তোকে বিয়ে করেছে। কিরে, কি দিয়ে বশ করেছিলি নাফসানকে? আমার থেকে বেশী সুন্দরী তো নস তুই। তবে কি এই শরীর দিয়ে বশ করেছিলি? দেখ তোর এই শরীরের কী হাল করলাম আমি। আগামী কয়েকদিন বিছানা থেকে উঠতে পারবি কিনা, সন্দেহ আছে।

আর এটা ভাবিস না, আমার নামে ডিপার্টমেন্টে বিচার দিবি। মনে রাখিস,,আমার বাবা এই শহরের বড় বিজনেসম্যান। কিচ্ছু করতে পারবি না আমার, কিচ্ছু না। "

নাওরা ততক্ষণে ব্যাথায় ছটফট করছে। লামিয়াদের আঘাতের সবগুলো হাতে আর পায়ে পরেছে। শরীরের সামনের দিকে বাঁচাতে গিয়ে উপুর হয়ে পরায় কিছু আঘাত পিঠেও পরেছে। তবে ভালো কথা, মাথায় আঘাত লাগে নি। তবে হাতে-পায়ের ব্যাথা গুলোই মারাত্মক। নাত-পা নাড়ানোর মতো শক্তিই পাচ্ছে না সে।

তাকে এ-ই অবস্হায় ফেলে লামিয়ারা চলে যায়। আর নাওরা এদিকে অতিরিক্ত ব্যাথায় অজ্ঞান হয়ে পরে। কে জানতো এমন ছোট্ট একটা বিষয়ে কেউ এতটা এগ্রেসিভ হয়ে পরবে। তার আজ এখানে আসাটাই উচিত হয় নি। না সে এখানে আসতো, আর না এতটা আঘাত পেতো।

🌿

গাড়িতে সিয়াম রুপার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বসে। কোন কথাও বলে না। রুপা সেটা দেখে মনে মনে ভাবে,

~~~ কত ঢং ছেলের। অথচ এখানে নাওরা থাকলে খুশিতে গদগদ হয়ে পেঁচাল পারতে থাকতো। আগে তো সে দেখেছেই কতটা হাসি খুশি ছিলো সিয়াম। আর এখন দেখলে মনে হয় ছেঁকা খেয়ে বাঁকা হয়ে বসে আছে।

যদিও সত্যিই ছেঁকা খেয়েছে,,কিন্তু প্রেম ছাড়াই ছেঁকা।

--- " আপনার কোন হিডেন প্রেমিকা আছে কি? যে আপনাকে কষ্ট দেওয়ায় নাওরাকে শাস্তি দিলো। "

সিয়াম একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে,,

--- " আমার আবার প্রেমিকা!! একজনকে ভালোবেসে যা পেলাম, আর কাউকে দরকার নেই আমার। "

--- " হাহ,, আপনার হিডেন কেউ থাকতেই পারে। নয়তো নাওরাকে কে আঘাত করতে যাবে। "

--- " জানি না আমি। এমনও তো হতে পারে,, তোমাদের নাফসান স্যারের কেউ আছে। "

--- " আমাদের নাফসান স্যার অনেক ভালো। ওনার তেমন কেউ নেই। থাকলে নাওরাকে ভালোবেসে বিয়ে করতে যেতো না। "

সিয়াম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সে-ও তো ভালোবেসেছিলো। কিন্তু জীবনে জড়াতে পারলো না। ভাগ্য একটা বড় বিষয়। কেউ ভাগ্যে থাকলে আপনা আপনিই চলে আসবে। আর ভাগ্যে না থাকলে হাজার চেষ্টা করেও তাকে পাবে না।

রুপা নিজেও চুপ করে থাকে। আর কিছুই বলে না। সিয়ামকে প্রথম দিকে বেশ ভালোই লাগতো। কিন্তু যখন জানলো সে নাওরাকে ভালোবাসে,,তখন দূরে সরে গেলো। এখন আবার ছেলেটার এমন ভগ্ন দশা দেখেও মায়া লাগে। রুপা এখন নিজের অনুভূতি নিয়েই চিন্তিত। এ কি এক অসহ্যকর অনুভূতি। ভালোবাসা যায় না,, আবার অবহেলাও করা যায় না।

চলবে..........

(গত পোস্টে সবার এত চয়েস দেখে আমি টাশকি খেয়ে গেছি। সবার ইচ্ছানুযায়ী গল্প লিখা তো সম্ভব না। বেঁচে থাকলে সবার সবগুলো ইচ্ছে অনুযায়ী লিখার চেষ্টা করতে পারি। তবে আমি চাচ্ছিলাম সেকেন্ড ম্যারেজ টাইপ কোন গল্প লিখতে। যদিও এই টাইপ গল্পগুলো একই রকম হয়ে থাকে। তবে আমি চেষ্টা করবো একটু ভিন্নতা রাখার। পড়বেন কি সবাই?????)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন