#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ
#মায়িশা_নুরাইন
#পর্ব_৩৩
(কপি করা নিষেধ)
সায়েদ ইসলাম আজ অফিসে হাফ টাইম করেই ছুটি নিয়ে চলে আসছেন। যদিও ওনি একদমই নাফসানের ফ্ল্যাটে আসতে চান নি। তবে নাওরার অনুরোধে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এসে বাসায় সিয়ামকে নাহিলের সাথে বসে থাকতে দেখে। এখানে সিয়ামকে দেখেই তিনি প্রচন্ড রে'গে যান।
--- " এই ছেলে এখানে কেন নাফসান? "
সিয়াম তো মাথা নিচু করেই দাড়িয়ে থাকে। নাফসান ব্যপারটা বুঝতে পেরে বলে,,
--- " আমিই ডেকেছি মামা। হয়তো শুনতে একটু অন্যরকম লাগবে,,তবে গতকাল সিয়ামই নাওরাকে সাহায্য করেছে। "
--- " একবার সাহায্য করেছে বলে তুমি বিশ্বাস করে নিলে? এতটা সাধারণ জ্ঞানহীন মানুষ তো তোমাকে ভাবি নি আমি। "
নাফসান একটু লজ্জায় পরে যায়৷ যতই হোক, তাদের মেয়ের জামাই তো সে। এভাবে সরাসরি বলায় একটু তো লজ্জা লাগেই। তার উপর তার পরিবারও সাথে আছে। লোকটা যে এখনো তাকে মেনে নিতে পারে নি, সেটা ওনার কথাতে বুঝাই যাচ্ছে।
পরিস্হিতি সামলাতে নাওরা নিজেই বলে,,
--- " মামা, সিয়াম ভাই সত্যিই সাহায্য করেছে আমায়। "
--- " তো? তাই বলে কি এখন ওকে আমার মাথায় নিয়ে ঘুরবো নাকি? এই ছেলে বাসায় থাকলে আমি চলে যাবো। "
সিয়াম মাথা নিচু করে নাফসানের উদ্দেশ্যে বলে,,
--- " স্যার, আমি চলে যাই তবে। নাওরাকে দেখতে এসেছিলাম, দেখেছি তো। এখন চলে যাচ্ছি। "
তবে নাফসান সবার সামনেই সিয়ামকে ধ'মকে বলে,,
--- " বসো তুমি। তোমার সাথে আমার ইম্পর্টেন্ট কথা আছে, তাই তোমায় ডেকেছি আমি। নাওরাকে দেখার জন্য ডাকি নি আমি। চুপচাপ বসো তুমি। "
এখন আবার উল্টো কাহিনী হয়েছে। সায়েদ ইসলামের কথা মান্য করেনি বলে তিনি আরও রে'গে যান। এবার তিনি নাফসানের সাথে রাগ করে চলে যেতে চান।
নাওরা তো হতভম্ব হয়ে বসে আছে। এসব হবে জানলে কাউকেই আসতে বলতো না সে। এখন এতসব লোকের সামনে যেমন মামার সম্মান খারাপ হচ্ছে,,তেমনি নাফসানেরই ইগোতেও লাগছে।
অপরদিকে স্বামীর এমন ব্যবহার দেখে রুবিনা বেগম কি করবেন ভেবে পাচ্ছে না।
রিচি, রুপাও অবাক হয়ে বসে কাহিনী দেখছে।
শুধু দায়ছাড়া ভাবে বসে আছে নাহিল। যে কি এত সবার মাঝেও সাফিয়ার সাথে ফ্লার্ট করছে। কখনো চোখে চোখ পরলে মুচকি হাসি দিচ্ছে,, কখনো বা মেসেজের পর মেসেজ করছে। এ কয়দিনে সাফিয়াও একটু সহজ হয়েছে ওর সাথে। তাই সেও মাঝে মাঝে রাগান্বিত দৃষ্টি ছুড়ে দিচ্ছে। আর নাহিল এতে আরও উৎফুল্ল হয়ে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সিয়ামের সাথে নাহিলের বন্ধুত্ব মোটামুটি রকম চলছে। যেন দুইজনের মাঝে অভিমান চলছে। সিয়ামকে আসতে দেখে সৌজন্যতামূলক সাক্ষাৎ করেছে শুধু।
অপর দিকে একটা নতুন জিনিস দেখা যায়। ইলা বসে বসে কেউ একজনের সাথে ফোনে মেসেজ করছে। মুখে মুচকি হাসি। কিছু তো একটা গড়বড় আছে।
সায়েদ ইসলামকে যখন কোনভাবেই শান্ত করা যাচ্ছে না,,তখন নাফসান বাধ্য হয়ে ওনাকে একপাশে নিয়ে যান। সবাই কৌতুহল নিয়ে তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকে। তবে কি বলছে তারা বুঝা যায় না। হটাৎই যেন সায়েদ ইসলাম শান্ত হয়ে যান। নাফসানের দিকে রা'গান্বিত দৃষ্টি দিয়ে এসে বসে পরেন। আর নাফসান মুচকি হাসি দিয়ে সবার খাবারের ব্যবস্হা করতে থাকে।
🌿
খাবার টেবিলে নাহিল অভুক্তের মতো খেতে থাকে। সেটা দেখে মাহমুদা বেগম মৃদু ধ'মক দেন ছেলেকে। নাহিল মুখ কুঁচকে বলে,,
--- " ধ'মক দিচ্ছো কেন? যেই পরিমাণ পরিশ্রম করিয়েছো আমায় আজকে। আমি চার-পাঁচ প্লেট খাবার খেলেও তো কম হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। "
তার কথায় সবাই হেসে ফেলে। নাহিল আড়চোখে হাসতে থাকা সাফিয়ার দিকে তাকাতেই তার হাসি বন্ধ হয়ে যায়।
রুবিনা বেগম তো হেসে বলেন,,
--- " খাও বাবা। তবে আস্তে ধীরে খাও, গলায় আটকে যাবে তো। "
--- " এইতো আমার সুইট শ্বা...আন্টি। "
সবকিছুর মাঝে নাওরার জন্য একটা লজ্জাজনক কাহিনী ঘটে যায়। সবার মাঝে বসে নাফসান তাকে নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দিচ্ছে।
নাফসান মা-কে বলেছিলো সবাইকে একটু খাবার সার্ভ করে দিতে। সে তো শুধু রান্নাটা যা পারে। এসব খাতিরযত্ন করতে পারে না৷ তারপর সোজা গিয়ে নাওরার জন্য খাবার বেড়ে নাওরাকে বসিয়ে খাওয়াতে শুরু করে।
এমনিতে হলে হয়তো নাওরা লজ্জা পেতো না। কিন্তু এখন তো এখানে বড়রা সবাই আছে। বিশেষ করে মামা আছেন। মামা তো কিছুক্ষণ পর পর আড়চোখে তাদের দিকে তাকাচ্ছে। আর নাফসানের মুখে যেন একটা মুচকি হাসি লেগেই আছে।
বাকী সবাই মুচকি হাসছে আর খাচ্ছে। নাওরার অনেক লজ্জা লাগছে এখন। তবে সিয়াম শুধু মাথা নিচু করে খাচ্ছে। তার এখানে নিজেকে বাড়তি মানুষ হিসেবে মনে হচ্ছে। নাফসান-নাওরার দিকে তাকিয়ে ভাবে,,কি সুন্দর সুখে আছে তারা। তার কাছে থাকলে তো নাওরা ভালো থাকতো না বোধহয়। এটাই ভালো, নাওরা এখন সুখে আছে।
তার পাশেই রুপা বসা ছিলো। সে হটাৎই তাকে কনুই দিয়ে গুতো দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,,
--- " এক্সের দিকে না তাকিয়ে খাবার গিলুন৷ পেটও ভরবে, মনেও শান্তি আসবে। "
সিয়াম মন খারাপের মাঝেও নিঃশব্দে হেসে ফেলে।
🌿
--- " চলেই যাবে তুমি? "
--- " থাকলে তো আপনারই কষ্ট হবে। "
--- " কিসের কষ্ট আমার? "
--- " এইতো আমার সেবা করতে হচ্ছে। খাবার খাওয়ানো,,ড্রেস..... এসবই আরকি। "
নাফসান একটা মিচকে হাসি দিয়ে বলে,,
--- " আমার তো ভালোই লাগছিলো এসব করতে। কোন কষ্ট হয়নি তো। "
--- " অসভ্য লোক। আপনি তখন মামাকে কি বলেছিলেন? "
--- " কি আর বলবো। বলেছি,, বেশী করলে তোমাকে একেবারে নিজের কাছে নিয়ে চলে আসবো। আমার তো সেই রাইট আছে। এটা শুনেই তোমার মামা রা'গে ফুলে উঠলো। মানে এমন ভাব, যেন মেয়েকে আমার কাছে পাঠাবেনই না। "
বলেই নাফসান হোহো করে হেসে উঠে।
🌿
--- " এখনো আমার সাথে রাগ করে থাকবি? একটু ভালো করে কথা বলবি না? "
নাহিল সাথে সাথে সিয়ামকে জড়িয়ে ধরে। পিঠে চাপড় দিয়ে বলে,,
--- " আরে বেটা,, কে রাগ করেছে। একটু ব্যস্ততার জন্য সময় হয় নি। বন্ধুদের সাথে আবার রা'গ করা যায় নাকি। "
এই নাহিল তাকে তখন কম সাবধান করে নি। এখন তো বুঝতে পারে, তখন তার ভালোর জন্য ই নাহিল নিষেধ করতো। অথচ সে ভাবতো নাহিল নিজের অন্য কোন স্বার্থের জন্য তাকে মানা করতো।
তার চোখে পরে একটু দূরে দাড়ানো রুপার দিকে। সে মুচকি হাসি দেয়। সে তো নাহিলের সাথে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছিলো। অথচ এই মেয়েটাই তাকে ঠেলে পাঠালো নাহিলের সাথে সব মিটমাট করার জন্য।
তখনই নাহিলও রুপাকে খেয়াল করে, যে সিয়ামের দিকেই তাকিয়ে আছে। নাহিল হটাৎই সিয়ামের পেটে গুতো দিয়ে বলে,,,
--- " কিরে,,নিউ কেইস নাকি? "
--- " আরে দূর। ওসব কিছুই নাহ। "
--- " হুহ,, বুঝি তো। এসব দিন তো আমিও পার করছি। "
সিয়াম সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকালে নাহিল মাথা চুলকে সাফিয়ার দিকে ইশারা করে। সিয়াম অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,,
--- " দোস্ত,, বাচ্চা মেয়ে। "
--- " এহহ,, দুদিন পর বিয়ে করলে বাচ্চার মা হয়ে যাবে। এখনো বাচ্চা বলছিস তুই। "
সিয়ামও ফাজলামে করে বলে,,
--- " তাড়াহুরো করিস না দোস্ত। একটু সময় নিস,,বাচ্চা কিন্তু। "
--- " এহহ,, এখনো পটাতেই পারলাম না। আর তুই সুদূর ভবিষ্যতে চলে গিয়েছিস। "
এভাবেই দুই বন্ধুর খুনশুটি চলতে থাকে।
🌿
--- " আরে আঙ্কেল,, কেমন আছো তুমি? কতদিন পরে দেখলাম। "
--- " আরে লামিয়া মামনী। ঘুম হয়েছে ভালোমতো? "
--- " একদম আঙ্কেল। তো তুমি হটাৎ এলে যে। "
--- " তোমার বাবাই তো আমাকে আসতে বললো। আমার জন্য নাকি তুমি বখে গেছো। তাই তে আমাকে ব'কা দিচ্ছে। "
লামিয়া বিরক্ত দৃষ্টি নিয়ে বাবার দিকে তাকায়। জাহাঙ্গীর সাহেব বলেন,,
--- " দেখুন, শাহেদ সাহেব৷ আপনার বিপদে আমি সাহায্য করেছিলাম। আপনিও আমায় সাহায্য করেছেন। কিন্তু আমার সন্তানের ভালো-মন্দের বিষয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। দয়া করে আমার মেয়ের ব্যপার আমাকেই ভাবতে দেন। "
শাহেদ খান হোহো করে হেসে উঠে।
--- " আরে কি যে বলেন না জাহাঙ্গীর সাহেব। আমি তো আপনার ঋণ শোধ করতেই পারলাম না৷ ভেবেছিলাম আমার ভাতিজার সাথে আপনার মেয়ের বিয়ের ব্যবস্হা করে দিতে। হলো না তো সেটা। ঋণ শোধ হলো কিভাবে বলুন। "
--- " লাগবে না আপনার ঋণ শোধ করার। যথেষ্ট করেছেন আমার৷ সত্যিই আর কিছুর প্রয়োজন নেই। "
--- " এভাবে বললে তো হবে না। শোধ তো আমি করবোই। "
তারপর লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,,
--- " চলো মামনী,,তোমায় ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে আসি। "
লামিয়াও খুশি হয়ে যায়। লামিয়ার বাবার মনটা খারাপ হয়ে যায়৷ তার মেয়ে এখন তার থেকেও বাহিরের এই লোকটার উপর বেশী নির্ভরশীল হয়ে পরেছে।
শাহেদ খানের সাথে ওনার পরিচয় এক ঝড়-বৃষ্টির রাতে। তার মেয়ে তখন বেশ ছোট। ওনার ওয়াইফের মৃত্যুর পর মেয়েকে বাড়ির কেয়ারটেকারের কাছে রেখে কাজে যেতেন। নিজের পরিবার বলতেও আর কেউ ছিলো না।
সেদিন একটা কাজে ওনার কাজ থেকে আসতে প্রায় রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যায়। মেয়ের জন্য এই খারাপ আবহাওয়ার মাঝেও তাকে বেরুতে হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির জন্য রাস্তায় গাছপালা ভেঙে খারাপ অবস্হা ছিলো। তখনই ওনার গাড়ির সামনে কেউ এসে পরে যায়। ওনি ভয় পেলেও গাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। একজন লোককে আহত, সাথে পায়ে গু'লি লাগা অবস্হায় পান। অপরিচিত বলে একটু সংকোচ করছিলেন। তবুও মানবতার খাতিরে লোকটাকে তিনি এনে চিকিৎসা করান৷ তখনও সেই লোকটার পরিচয় কিছুই জানতো না।
ধীরে ধীরে খোজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন, তিনিই শাহেদ খান। খান পরিবারের ছোট ছেলে। যদিও সেই খান পরিবার নিয়ে ওনার তখন তেমন চেনা-জানা ছিলো না। শাহেদ খান সুস্হ হলে ওনাকে ফ্যামিলিতে ফিরতে বললে তিনি যেতে চান না। বাধ্য হয়ে ওনার বাসাতেই তাকে আশ্রয় দিতে হয়।
যদিও প্রথম দিকে ওনার সাহায্যই হতো। শাহেদ খান বিজনেসে পরিপক্ক ছিলেন। অন্যদিকে ওনি সদ্য বিজনেস নিয়ে চর্চা করছিলেন। সেসময় শাহেদ ওনার অনেক সাহায্য করেছেন। ওনার ব্যবসা আজ এতদূর আনতে শাহেদ খানেরও অনেক অবদান আছে।
পাশাপাশি ওনার মেয়ের বিপথে যাওয়ার পিছনেও এই শাহেদ খানেরই অবদান আছে। নাহ,,আর এমনটা হতে দেওয়া যাবে না খুব শীঘ্রই শাহেদ খানের ব্যপারটা ফাঁস করতে হবে।
🌿
মাঝখানে পেরিয়েছে বেশ কয়েকদিন। নাওরা এখন মোটামুটি সুস্হ। শরীরের আঘাতগুলো মিলিয়ে গেছে। হাতের প্লাস্টারও খোলা হয়েছে। সবই মোটামুটি ভালোই আছে। হাত নাড়াতে আর সমস্যা হয় না। সেদিনই নাওরা মামা-মামীর সাথে বাসায় চলে গিয়েছিলো। তারপর শরীরে যা ঔষধ লাগানো, সাফিয়া দিয়ে দিতো। মামা-মামীকে এখনও কিছুই জানানো হয় নি। শুধু সাফিয়াকে জানানো হয়েছিলো। মেয়ে তো শুনেই কান্না করে দিয়েছিলো।
এ কয়েকদিন নাওরা ভার্সিটি যায় নি। রুপার থেকে জেনেছে,, লামিয়া নাকি বেশ আনন্দেই থাকে। এসব শুনে তো নাওরার আরও গা জ্বলে যায়। নাফসানকে তো একটু হিন্ট দিয়েছিলো। কোথায়, কোন কিছুই তো জানালো না এখনো।
নাওরা থম মেরে বসে থাকে। তার সাথেই সাফিয়া বসে ফোন দেখছিলো। তখনই তার ফোন বেজে উঠতেই সাফিয়া থতমত খেয়ে উঠে।
নাওরা তাকাতেই সাফিয়া ফোন লুকিয়ে আমতা আমতা করে বলে,,
--- " ই-ইলা ফোন দিয়েছে। কথা বলি গিয়ে। "
--- " আচ্ছা যাহ। "
মুখে এটা বললেও একটু তো সন্দেহ হয়। কে এমন ফোন দিলো যে মেয়ে সামনে থেকে গিয়ে ফোন ধরতে গেলো!!
🌿
--- " আপনাকে না ফোন দিতে না করেছিলাম? ফোন দিয়েছেন কেন? "
--- " আরে পিচ্চি, রাগ করো না। শোনো একটা মহৎ কাজে যাচ্ছি,,তাই তোমাকে ফোন করে যাচ্ছি। "
--- " কি কাজে যাচ্ছেন? "
--- " কয়েকটা মেয়েকে তুলে আনতে যাচ্ছি,,,"
--- " কিহ!! আপনি মেয়েদের নিয়ে কি করবেন? "
নাহি মজা করে বলে,,
--- " বেঁচে দিবো। জানো না তো কি কষ্টের কাজ এটা। মেয়দের খুঁজে খুঁজে বের করতে হয়। কেন যে এই কষ্টের কাজটা ভাইয়া আমকেই দিলো, ধুর,,, "
সাফিয়া ভয় পেয়ে যায়। সত্যিই কি তবে ওরা নারী পাচারের কাজ করে!! সে তো শুনেছে,, এরা নাকি মেয়েদের ধরে ধরে পাচার করে দেয়।
সাফিয়া ভয়ে কাপা কন্ঠে নাহিলকে বলে,,,
--- " আ-আপনারা নারী পাচারকারী? "
--- " হ্যা তো,,জানতে না তুমি? "
--- " আ-আমাকে আর ফোন দিবেন না। আ-আর কথা বলবো না আমি। "
ভয়ে ভয়ে এটুকু বলেই সাফিয়া ফোন রেখে দেয়। নাহিল তো হতভম্ব হয়ে থাকে। মেয়ে কি ভয় পেয়ে গেলো নাকি! সে তো একটু মজা করেছে,,,
🌿
--- " আ-আপু,,,ওরা মেয়ে পাচারকারী। তোমাকে ওদের ওখানে আর যেতে দিবো না। পরে ওরা তোমাকেও পাচার করে দিবে। "
নাওরা হা হয়ে তাকিয়ে থাকে। হটাৎ কি হলো মেয়ের!!
--- " কিরে, কি হয়েছে? "
--- " আপি, মাত্র ফোন দিলো না আমায়? ও-ওটা ওই নাহিল ভাই। আমাকে বললো সে নাকি মেয়ে ধরতে যাচ্ছে,, পরে পাচার করে দিবে। "
--- " কি উল্টা পাল্টা কথা বলছিস? "
--- " সত্যি বলছি আপু। বলেছে নাফসান ভাইয়া নাকি ওনাকে মেয়ে খুঁজতে বলেছে। আমি তো মুভিতে দেখেছি,,
এরা অনেক খারাপ হয়। প্রথমে প্রেমের অভিনয় করে, পরে পাচার করে দেয়। তোমাকেও করে দিবে পরে। আমি তোমাকে আর যেতে দিবো না। তুমি আমাদের সাথেই থাকবা। "
বলেই সাফিয়া সোজা নাওরাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। নাওরা অবাক হয়ে বসে থাকে। সাফিয়া যে সত্যিই ভয় পেয়েছে,, সেটা বুঝাই যাচ্ছে। তাই বোকা মেয়েটাকে স্বান্তনা দিতে নাওরা বলে,,
--- " আরে বোকা মেয়ে,,কোন পাচারকারী কি বলে বেড়াবে যে তারা নারী পাচার করে? "
সাফিয়া ভাবুক ভঙিতে বসে। তারপর বলে,,
--- " কিন্তু, ওই নাহিল ভাইয়া যে বললো আমায়। "
--- " তোকে কি সাধে বোকা বলি? মজা করছে তোর সাথে।
দাড়া স্যারকে ফোন দিচ্ছি। "
নাফসানকে ফোন দিতেই কিছুক্ষণ পর সে ফোন ধরে।
--- " এই কোথায় ছিলেন আপনি? এত দেরী হলো কেন ফোন ধরতে? "
--- " অন্য বউদের সাথে সময় কাটাচ্ছিলাম। ওরা তো আমাকে ছাড়তেই চাচ্ছিলো না। তোমার মতো তো আর ধরার আগেই লাফায় না। কিছু করার আগেই ব্যাঙের মতো লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করো। ধরে বেঁধে রাখতে হয়। "
নাওরা তাড়াতাড়ি ফোনের স্পিকার অফ করে মেকি হাসি দিয়ে সাফিয়ার দিকে তাকায়। সাফিয়া নিজেও লজ্জা পেয়ে যায়। এসব কথা বুঝার মতো যথেষ্ট বড় হয়েছে সে। তাই তো লজ্জা পেয়ে সুরসুর করে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
--- " কি গো বউ,, কথা বলছো না কেন? "
--- " একদম ন্যাকামো করবেন না বলছি। ফোন আমার স্পিকারে ছিলো। সাফিয়া শুনে নিয়েছে। "
নাফসান নিজেও লজ্জা পেয়েছে একটু। তাই উল্টো নাওরাকে ধ'মকে বলে,,
--- " ফোন স্পিকারে রেখেছিলে কেন,বে'য়াদব মেয়ে? জানো না আমরা বিবাহিত। যখন তখন কত কি-ই তো বলে ফেলতে পারি। "
--- " আপনি যে এসব ঢং শুরু করবেন,,আমি কি জানতাম নাকি? "
--- " ফোন কেন দিয়েছো বলো,,,"
--- " কেন,,আপনার বউরা কি ডাকছে নাকি? "
--- " একটাকেই সামলাতে পারি না। আরও কয়েকটা থাকলে তো আমাকে খুঁজেই পাওয়া যেতো না। "
--- " এহহ,,ঢং। এই আপনি নাহিল ভাইকে কিসের মেয়ে ধরে আনতে বলেছেন? "
--- " কেনো? কি হয়েছে? "
--- " নাহিল ভাইয়া সাফিয়াকে ফোন দিয়ে কিসব বলেছে। এখন সাফিয়া আমাকে আপনার কাছেও যেতে দিবে না বলছে। আপনারা নাকি মেয়ে পাচারকারী। আমাকেও নাকি পাচার করে দিবেন। "
এখন নাফসান হাসবে, নাকি কাঁদবে,, বুঝতে পারছে না। শেষে বলেই ফেলে,,
--- " নাহিলকে বলেছিলাম লামিয়াদের উঠিয়ে আনতে। ওটাই হয়তো মজা করে বলেছে। "
--- " কেনো? কি করবেন ওদের? "
--- " আমি নয়,, তুমি করবে। একটু খাতিরযত্ন। "
নাওরার মনটা খুশি খুশি হয়ে যায়। তার মানে নাফসান তবে তার কথা বুঝেছিলো। সে খুশিতে লাফিয়ে উঠে বলে,,
--- " স্যার, কখন যাবো? "
--- " সময় হোক। আমি জানাবো। "
--- " আপনার সময় কখনোই হয় না। যাই হোক,,অপেক্ষায় আছি। "
হটাৎই নাওরা বলে,,
--- " এই শুনেন। আপনার ভাই সাফিয়াকে ফোন দিলো কেন? ব্যপারটা বুঝতে পেরেছেন আপনি? "
--- " তোমার মতো মেয়ে বুঝতে পারলে,,আমি কেন পারবো না? "
--- " এই, আমার মতো মেয়ে মানে? "
--- " তোমার মতো বোকা, গর্ধব। "
নাওরা রে'গে বলে উঠে,,
--- " আপনার বউ গর্ধব। "
--- " ঠিক বলেছো। "
নাওরা নিজের কথায় নিজেই ফেসে গিয়ে থম মেরে বসে থাকে। আর নাফসান এতে মুচকি হাসে। বো'কা বউ তার,,,,
চলবে......
(ইলার জন্যও কেউ আসছে,,,শীঘ্রই। আমি কেন যেন কাউকেই ফেলে রাখতে পারি না। মাঝে মাঝে মনে হয়,,পিচ্চি মাহরুর জন্য কাউকে এনে দিই। পিচ্চিটাকে নিজের হাতে বড় করে পরে বিয়ে করে নিবে🤭)