ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি শিউলি ফুলের ঘ্রান

৯ম পর্ব

লেখক: মোনালিসা মেহরোজ

#তুমি_শিউলি_ফুলের_ঘ্রাণ (৯)

#মোনালিসা_মেহরোজ✍️

পরেরদিন সকাল।

আজ তড়িঘড়ি করে তূর্য বের হলো তার ঘর ছেড়ে। ভোরে উঠে যাবতীয় কাজ সেরে সরাসরি ইউনিফর্ম পড়ে রেডি সে। কাল রাতেই মিরাকে জানিয়ে দিয়েছিলো যে আজ তার তাড়া আছে। সকাল সকাল বের হবে। অফিসে অনেক কাজ জমা আছে। সেই অনুসারে মিরা বেশ সকাল সকাল স্বামীর জন্য নাস্তা তৈরি করে রেখেছিলো। যদিও তূর্য বলেছিলো কষ্ট করে সকালে উঠতে হবে না। সে বাহিরে খেয়ে নিবে। তবে মিরা শোনেনি, চুপচাপ সকাল সকাল উঠে কাজে লেগে পরেছিলো। আয়ান যেহেতু রাতে দেরি করে ঘুমায় তাই সকালে একটু লেট করেই ওঠে। ফলে তাকে নিয়েও খুব একটা সমস্যা হয়না। সাথী এখনো ওঠেনি।

তূর্য নিজের ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে আসতেই খেয়াল করে মিরা তন্ময়ের প্লেটে খাবার বাড়ছে মনোযোগ সহকারে। সেও পুরোপুরি তৈরি তূর্যের সাথে যাবে বলে। হটাৎ তূর্যের নিরব উপস্থিতিতে তন্ময় ঘাড় বাঁকিয়ে তাকায়। ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি টেনে বলে----

—চলে এসেছি স্যার, আপনাকে ফকির বানাতে।

তূর্য এগিয়ে এলো। মিরা আড়চোখে একবার চাইলো তার পানে। তূর্য তন্ময়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেঁসে বললো----

—কি এমন খাস যে ফকির বানাবি?

তন্ময় হাসলো। মিরা তূর্যের প্লেট তার দিকে বাড়িয়ে বললো-----

—নিন, চটপট খেয়ে নিন। নইলে লেট হয়ে যাবে।

মাথা দোলালো তূর্য। মুখ তুলে বললো----

—না করলেও হতো!

মিরা তার কথার পাছে সামান্য হাসলো। বললো না কিছুই। আপনমনে স্বামীর পানে একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে এগিয়ে গেলো কিচেনের দিকে। তূর্য তপ্ত শ্বাস ফেলে৷

মিনিট দশেকের মাথায় তন্ময়-তূর্য টেবিল ছেড়ে ওঠে। ততক্ষণে ঘুমো ঘুমো চোখে সাথীও সোফায় এসে বসেছে। ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে।

তূর্য টিস্যু নিয়ে হাত মুছতে মুছতে তাকায় স্ত্রী'র পানে। যে এখন তাদের এঁটো প্লেটগুলো গুছিয়ে নিচ্ছে অতি যত্ন সহকারে।

—আসছি।

মিরা মাথা তোলে। দৃষ্টি মিলিত হয় তাদের। রমণী হাসে মৃদু। সম্মতি প্রকাশ করে বলে---

—সাবধানে যাবেন।

----------------------------------

অফিসে আসার পর থেকেই বেশ ব্যাস্ত সময় পার করছে তূর্য। নেভি বেসের নির্দিষ্ট দপ্তরে নিজের ডেস্কের সামনে বসে একের পর এক ফাইল পরখ করে যাচ্ছে সে। টেবিলের একপাশে সাজানো কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ নথি। অন্যপাশে ল্যাপটপ খোলা। স্ক্রিনজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন রিপোর্ট। চোখে-মুখে বরাবরের মতোই গাম্ভীর্য। প্রতিটি কাগজ মনোযোগ সহকারে পড়ছে সে। কোথাও সামান্য অসঙ্গতি পেলেই কপালে গাঢ় ভাঁজ ফুটে উঠছে।

গায়ে নিখুঁতভাবে পরা নেভাল ইউনিফর্ম। কাঁধের ব্যাজ আর বুকের উপর থাকা নামের প্লেটটা রূমের ঝকঝকে আলোয় চকচক করছে কেমন!

দপ্তরের বাইরে নির্দিষ্ট বিরতিতে অফিসারদের যাওয়া-আসা চলছে। কেউ ফাইল হাতে দ্রুত পায়ে হেঁটে যাচ্ছে, কেউবা পাশের ডেস্কে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় কোনো বিষয়ে আলোচনা করছে। অথচ তূর্যের চারপাশে যেনো এসবের কোনো প্রভাবই নেই। নিজের কাজের মধ্যে সম্পূর্ণ ডুবে আছে পুরুষটি। এখানে অবশ্য বাহিরের মৃদু কোলাহল খুব একটা টের পাওয়া যায়না। ফলে তূর্য নিশ্চিন্তে নিস্তব্ধতায় মোড়ানো আবহাওয়ায় সাড়ে নিজের কাজ।

ঠিক তখনই দরজার সামনে এসে থামলো একজন জুনিয়র অফিসার। দরজায় দু'বার টোকা দিয়ে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলো সে।

—ক্যাপ্টেন! মে আই?

তূর্য চোখ না তুলেই গম্ভীর গলায় জবাব দিলো----

—কাম ইন।

জুনিয়র অফিসারটি ভেতরে প্রবেশ করে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। মুখভঙ্গিতে খানিকটা ইতস্ততভাব। তূর্য তখনো নিজের নথি থেকে চোখ সরায়নি। তবে অফিসাটির নিরবতা দেখে কয়েক সেকেন্ড পর তূর্য নিজেই ভ্রু কুঁচকে তাকালো তার পানে।

—কিছু বলবেন, মিঃ শাহীন?

—ইয়েস, ক্যাপ্টেন।

ছেলেটা সামান্য গলা খাঁকারি দিলো। চোখে তুলে চেয়ে বললো---

—ক্যাপ্টেন, কমোডোর আপনাকে তার কেবিনে যেতে বলেছেন।

তূর্যের হাতের কলমটা থেমে গেলো তৎক্ষনাৎ । কপালে পরলো সরু ভাজ। অতঃপর কিছু সময় নিয়প ধীরে হাতের কলমটা টেবিলের উপর রেখে চেয়ারে হেলান দিলো। ঠোঁট কামড়ে বললো----

—কমোডোর?

—জি,

—কখন বলেছেন?

—এইমাত্র। উনি বিশেষভাবে বলেছেন, আপনাকে পার্সোনালি দেখা করতে।

তূর্যের কপালের ভাজ গাঢ় হলো। পার্সোনালি? সাধারণ কোনো অফিসিয়াল বিষয় হলে এভাবে আলাদা করে ডাকার প্রয়োজন পড়ে না। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা হলে অধস্তন কাউকে দিয়েই জানিয়ে দেওয়া যেতো। অথচ তাকে সরাসরি নিজের অফিসে ডাকা হয়েছে। কেনো? তূর্য বুঝতে পারে না।

পুরুষটি কয়েক মুহূর্ত কিছু না বলে বসে রইলো। মাথার ভেতর দ্রুত কয়েকটা সম্ভাবনা ঘুরে গেলো তার। গত কয়েকদিনের কাজ। সাম্প্রতিক রিপোর্টসহ সমুদ্রপথে চলমান নজরদারি। সবকিছুর কথাই একে একে মনে পড়ে গেলো। কিন্তু তাতে তো কোন সমস্যা নেই! সবকিছু তার দিকনির্দেশিকা অনুযায়ীয় হচ্ছে। তাহলে? তূর্য তপ্ত শ্বাস ফেলে।

—ওকে।

শান্ত গলায় কথাটা বলেই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো তূর্য। জুনিয়র অফিসারটি সঙ্গে সঙ্গে একপাশে সরে দাঁড়ালো। তূর্য টেবিলের উপর রাখা একটা ফাইল তুলে নিলো, যা এতোক্ষণ ধরে দেখছিলো সে। ফাইলটার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে তা গুছিয়ে আবার জায়গামতো রেখে দিলো। সামনে অফিসারটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সুধালো---

—আর কিছু?

—নো, ক্যাপ্টেন।

তূর্য আর কোনো কথা বললো না। দৃঢ় পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো। তূর্য দপ্তর থেকে বেরিয়ে করিডোর ধরে এগিয়ে যেতে লাগলো সামনের দিকে। তার প্রতিটি পদক্ষেপে ছিলো অদ্ভুত এক দৃঢ়তা। মুখ বরাবরের মতোই নিরাবেগ। তার মধ্যেও কপালে তার সরু ভাজ সুস্পষ্ট।

কয়েক মুহূর্ত পর সিনিয়র অফিসারদের নির্দিষ্ট দপ্তরের সামনে এসে থামলো তূর্য। দরজার সামনে থাকা অফিসারকে একপলক দেখে নিজের ইউনিফর্মটা ঠিক করে নিলো সে। তারপর সটান হয়ে দাঁড়িয়ে দরজায় দু'বার নক করলো। ভেতর থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো----

—কাম ইন।

তূর্য দৃঢ় পায়ে ভেতরে প্রবেশ করলো৷ প্রথম কয়েক পা এগিয়েই হঠাৎ তার দৃষ্টিযুগল থেমে গেলো সামনের দেওয়ালের পানে। এটা প্রতিবার'ই হয়। এ রূমে এলে সবার আগে যেকোন মানুষের'ই নজর গিয়ে আটঁকায় সামনের দেওয়ালটায়।যেখানে বেশ বড়সড় একটা ফটো ফ্রেম টাঙানো। ঘরের মৃদু আলোয়ও ছবিটা কেমন স্পষ্ট হয়ে আছে। নেভাল ইউনিফর্ম পরিহিত এক মানব বসে আছে চেয়ারে। মুখশ্রীতে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা। চোখদুটো স্থির, তীক্ষ্ণ। পরনে নিখুঁতভাবে পরা ক্যাপ্টেনের পোশাক। বুকের উপর নামের প্লেটটাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

তূর্যের চোখ স্থির হয়ে এলো ছবিটার পানে।

মানবটাকে সে চেনে। অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে নয়। চেনা তার কাজ আর অবদানের মাধ্যমে। নেভিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সিনিয়রদের মুখে বহুবার শুনেছে তার নাম। প্রশিক্ষণের সময়ও তার কথা এসেছে। নেভির পুরোনো নথিপত্র ঘাঁটতে গিয়েও চোখে পড়েছে নামটা।

দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা একজন দক্ষ অফিসার—মহিউদ্দিন কাবির।প্রায় ষোল বছর আগে এক অভিযানে প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি।

তখন তূর্য অনেকটাই ছোট। অথচ নেভির ইতিহাসে তার নাম এখনো অমলিন। সিনিয়র থেকে জুনিয়র—প্রায় সকলেই তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। একজন অফিসার হিসেবে তার নিষ্ঠা, সাহস আর দায়িত্ববোধের গল্প এখনো নেভির অন্দরমহলে ঘুরে বেড়ায়।

আর আজ সেই মানুষটির ছবিই টাঙানো রয়েছে কমোডোরের ব্যক্তিগত দপ্তরের দেওয়ালে। অতি সম্মানের সহিত। শুধু তিনিই নন, পুরো ডিপার্টমেন্টের সকলে তাকে শ্রদ্ধা করে, হৃদয়ে এখনো মানুষটার জীবনী ভেসে বেড়ায়। তার সততা অনুসরণ করে অন্যান্য অফিসাররা। তূর্যও তার ব্যাতিক্রম নয়। মানুষটাকে সে নিজেও নিজের আইডল ভাবে অতীতে করা সেই কাজগুলের জন্য৷

তূর্য তপ্ত শ্বাস ফেলে নিজের দৃষ্টি ছবিটার দিক হতে চোখ ফিরিয়ে নিলো।ঠিক তখনই সামনে থেকে চেয়ার ঘোরানোর ক্ষীণ শব্দ ভেসে এলো। তূর্য চোখ সরিয়ে তাকালো সেদিকপানে।

কমোডোর নওশাদ সিদ্দিকি নিজের চেয়ারে বসে আছেন। এতক্ষণ তিনিও ছবিটার দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। চশমার উপর দিয়ে তার দৃষ্টি স্থির সেই ফ্রেমের উপর। মুখে বরাবরের মতোই গাম্ভীর্য। দু'হাত টেবিলের উপর রাখা। পাশে কয়েকটি ফাইল সাজানো থাকলেও সেদিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বেশ বয়স হয়েছে মানুষটার। চাকরি জীবন শেষের পথে।

তূর্য নিঃশব্দে তার পেছনে দাঁড়িয়ে রইলো।কয়েক সেকেন্ড পেরিয়ে গেলো। ঘরটা অদ্ভুত এক নীরবতায় মোড়ানো। যেনো নিশ্বাসের ক্ষীন শব্দও কানে বাজে

তন্মধ্যে কমোডোর নওশাদ সিদ্দিকি ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন।ছবিটার দিকে তাকিয়েই গম্ভীর কণ্ঠে বললেন---

—জানো, এই মানুষটার একটা বিশেষ গুণ ছিলো?

তূর্য সামান্য ভ্রু কুঁচকালো। কণ্ঠে যথাযথ সম্মান রেখে উত্তর দিলো---

—স্যার?

কমোডোর এবারও পেছন ফিরে তাকালেন না। ছবিটার দিকেই তাকিয়ে রইলেন তিনি।একদম অপলক দৃষ্টিতে।

—উনি কখনো অন্যায়ের সাথে আপস করতেন না।

তূর্যের চোখ সরু হয়ে এলো। বুঝতে পারলো না, এসব বলার মানেটা। নওশাদ সিদ্দিকি বসা হতে উঠে ধীরে ধীরে ছবিটার দিকে কয়েক পা এগিয়ে গেলেন। একেবারে ফ্রেমের সামনে গিয়ে থামলেন। পকেটে হাত গুঁজে বললেন---

—তিনি যে কাজটা সঠিক মনে করতেন, সেটাই করতেন। সেটা করতে গিয়ে সামনে যত বড় বাধাই আসুক না কেন।

একটু থামলেন তিনি। তারপর খুব ধীর গলায় বললেন---

—এমনকি নিজের জীবটাকেও মূল্যহীন ভাবতেন নিজের দেশের সামনে।

বলতে বলতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে নওশাদ সিদ্দিকি তূর্যের পানে ফিরলেন।

—তোমাকে আজ এখানে ডাকার কারণটা বুঝতে পারছো?

তূর্য কয়েক মুহূর্ত তার পানে তাকিয়ে রইলো। তারপর শান্ত গলায় বললো---

—নো, স্যার।

নওশাদ সিদ্দিকির চোখে খানিক কঠোরতা ফুটে উঠলো। তিনি নিজের ডেস্কের দিকে ফিরে গেলেন। টেবিলের উপর রাখা একটা কালো ফাইলের উপর হাত রাখলেন। অতঃপর বেশ ভরাট কন্ঠে আওড়ালেন---

—তাহলে বসুন, ক্যাপ্টেন তূর্য চৌধুরী।

তূর্য আর কোনো প্রশ্ন করলো না। ধীর পায়ে এগিয়ে এসে সামনের চেয়ারটায় বসলো।

কেমন অদ্ভুত সবকিছু! তাকে পার্সোনালি ডেকে এসব বলার কারণ ঠিক খুঁজে পেলো না।

কমোডোর নওশাদ সিদ্দিকি কিছুক্ষণ তূর্যের পানে তাকিয়ে রইলেন। যেনো তূর্যের মুখের প্রতিটি রেখা পড়ার চেষ্টা করছেন তিনি। অতঃপর ধীরে হাত বাড়িয়ে টেবিলের উপর রাখা কালো ফাইলটা নিজের দিকে টেনে নিলেন।

ফাইলটার উপর ধুলো জমেনি। বরং বেশ যত্ন সহকারেই রাখা হয়েছে। তবুও দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এটা নতুন কোনো নথি নয়। বহু বছরের পুরোনো।

নওশাদ ফাইলটার উপর হাত বুলিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

—এই ফাইলটা প্রায় ষোল বছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।

তূর্যের ভ্রু কুঁচকে এলো। কমোডোর এবার ফাইলটা তার দিকে এগিয়ে দিলেন। বললেন---

—আজ থেকে এটা তোমার।

ভ্রু কুঁচকে যায় তূর্যের। সে কয়েক মুহূর্ত ফাইলটার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর ধীর হস্তে সেটা তুলে নিলো। কভারের উপরে পুরোনো কালিতে লেখা কিছু কোড আর একটি কেস নম্বর তার চোখে পরলো। তার নিচে কয়েকটি শব্দও ছিলো।

তূর্যের চোখ মুখ বেশ গম্ভীর হয়ে এলো ফাইলটা পরখ করতে গিয়ে। সে ফাইল খুলে প্রথম পাতাটা উল্টালো। আর সেখানেই থমকে গেলো তার দৃষ্টিযুগল। প্রথম পৃষ্ঠায় সুস্পষ্ট লিখা—ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন কাবির। যে একসময় তার দ্বায়িত্ব পালন করতো, যা আজ তূর্য নিজে করছে।

—স্যার...

নওশাদ সিদ্দিকি চেয়ার ছেড়ে উঠে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন। বাইরে পরিবেশও বেশ শান্ত। চারিদিকে গার্ড আর নেভি অফিসারদের যাতায়াত চলমান। তপ্ত শ্বাস ফেলেন নওশাদ সিদ্দিকি। বলেন---

—এই কেসটাই ছিলো মহিউদ্দিন কাবিরের শেষ দায়িত্ব।

তূর্য আবার ফাইলের দিকে তাকালো। একটার পর একটা নথি চেক করলো। পুরোনো রিপোর্ট। কয়েকটি অস্পষ্ট ছবি ও কিছু নাম আছে সেথায়। সাথে বেশ কিছু কোড ও তথ্য।

নওশাদ ধীর গলায় বলতে শুরু করলেন---

—ষোল বছর আগে দেশের সমুদ্রসীমা ব্যবহার করে একটা সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কিছু পণ্য পাচার করছিলো। শুধু চোরাচালান বললে ভুল হবে। এর সাথে জড়িয়ে ছিলো অস্ত্র, নিষিদ্ধ সরঞ্জাম, মানুষের শরীর মূল্যবান অংশ আর দেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য বিদেশে পাচারের চেষ্টা। মহিউদ্দিন সেটা শুধু জানতে পারেননি। প্রমাণও পেয়েছিলেন।

কমোডোরের কণ্ঠ এবার আরও নিচু হলো। জিভ দ্বারা অধর ভিজিয়ে নিলেন তিনি। পুনরায় বললেন----

—কিন্তু যতই তিনি তদন্ত এগিয়ে নিয়েছেন, ততই বিষয়টা ভয়ংকর হয়েছে। কারণ চক্রটা বাইরে যতটা বড় মনে হয়েছিলো, ভেতরে তার চেয়েও দ্বিগুন বড় ছিলো। কারণ এর সাথে বাহিরের কিছু গ্যাংস্টার-সহ আমাদের দেশের রাজনৈতিক কিছু নেতারাও জড়িত আছেন। তবে কে বা কারা, তা জানা যায়নি সেভাবে।

তূর্য নীরবে শ্রবণ করছে সবকিছু। মাথা তার নোয়ানো। নওশাদ সিদ্দিকি একবার তার মুখের পানে তাকালেন। পুনরায় বললেন---

—মহিউদ্দিন কাবির কয়েকজনকে সন্দেহ করেছিলেন। কিছু লেনদেনের হিসাব পেয়েছিলেন। কিছু যোগাযোগের তথ্যও বের করেছিলেন। এমনকি একটা গুরুত্বপূর্ণ নথির সন্ধানও পেয়েছিলেন, যেটা পুরো চক্রটাকে প্রকাশ্যে এনে দিতে পারতো।

তূর্য মাথা তুলে তাকালো। সুধালো---

—নথিটা কোথায়?

নওশাদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তারপর ধীরে বললেন---

—সেটাই তো আজও রহস্য।

—মানে?

—মহিউদ্দিন কাবির মারা যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত নথিটা তার কাছেই ছিলো। তারপর.......জানা নেই সেটা এখন কোথায়! এছাড়া তার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। ষোল বছর আগের সেই রাতেই পুরো পরিবারকে শেষ করা হয়েছিলো। তার স্ত্রী ও দুই নিষ্পাপ সন্তান...আহ্।

নওশাদ সিদ্দিকি চোখ বুঁজে নিলেন। মহিউদ্দিন কাবিরের সাথে তার ছিলো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। মহিউদ্দিন ছিলেন অতন্ত্য মিশুক একজন মানুষ। যার দরুন নওশাদ সিদ্দিকি তাকে বেশ পছন্দ করতেন। এছাড়াও মহিউদ্দিন প্রেম করে বিবাহ করেন। নওশাদ সিদ্দিকি নিজে দ্বায়িত্ব নিয়ে তার বিয়েটা দিয়েছিলেন মেয়ের পরিবারের সাথে কথা বলে। এবং পর পর দু'টি কন্যা সন্তানও হয় মহিউদ্দিন কাবিরের। তবে সেই বিষাক্ত রাতে সবটা শেষ হয়ে যায়।

নওশাদ সিদ্দিকি চোখ খুললেন। নিজেকে সামলে নিলেন তিনি। অতঃপর বললেন---

—অফিশিয়ালি বলা হয়েছিলো, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু আমরা জানতাম, বিষয়টা এত সহজ ছিলো না। তাকে শেষ করা হয়েছিলো নিজেদের সার্থে। তাকেসহ তার নিষ্পাপ সন্তানদের খু*ন করা হয়েছিলো।

হুট করেই তূর্যের বুকের ভেতরটা শুকিয়ে এলো। নিজের মনে কল্পনা করলো, সেই নিষ্পাপ দু"টি শিশুর মুখ। না চাইতেও তার মনে অদ্ভুত এক অনুভূতি হলো।

পুরুষটি কয়েক মুহূর্ত নিরব থাকলো। অতঃপর

নিচের পাতাটা উল্টালো আস্তে করে। একটা পুরোনো পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখা মিললো সেথা। তারপর তদন্ত প্রতিবেদন। কিছু জায়গায় লাল কালি দিয়ে দাগ দেওয়া।

—তাহলে এত বছর পরও কেসটা বন্ধ হয়নি?

নওশাদ মৃদু হেসে মাথা নাড়লেন।

—কেস বন্ধ হয়েছে কাগজে। তবে সত্যিটা জানা যায়নি।

তূর্য ফাইলটা বন্ধ করে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইলো। তারপর গম্ভীর কণ্ঠে প্রশ্ন করলো---

—কিন্তু এটা আমাকেই কেনো দিলেন?

নওশাদ সিদ্দিকি এবার বেশ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে এসে তূর্যের সামনের চেয়ারের বিপরীতে দাঁড়ালেন।

—কারণ গত কয়েক মাস ধরে আমি তোমাকে পর্যবেক্ষণ করছি। হয়তো তুমি জানো না তা!

তূর্য নীরব রইলো। নওশাদ সিদ্দিকি মৃদু হেঁসে আওড়ালেন---

—তোমার কাজ দেখেছি। তোমার সিদ্ধান্ত দেখেছি। এমন অনেক জায়গায় তুমি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছো, যেখানে একটু আপস করলে তোমার কাজটা সহজ হয়ে যেতো। কিন্তু তুমি তা করোনি।

একটু থামলেন তিনি। ফের বললেন---

—তোমার একটা জিনিস আমার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে, ক্যাপ্টেন।

তূর্য স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সামনের দিকে। নওশাদ সিদ্দিকি দৃঢ় গলায় বললেন---

—তোমার জেদ।

তূর্যের ভ্রু সামান্য কুঁচকে গেলো তৎক্ষনাৎ। নওশাদ সিদ্দিকি তা দেখে হালকা হাসলেন।

—আমি বরাবরই বলি, জেদ থাকা ভালো। জেদ মানুষকে উচ্চতার চরম শিখরে পৌঁছে দেয়। আর তার সাথে যদি থাকে আত্নবিশ্বাস, তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধি ও সাহসিকতা।আর আমি লক্ষ করেছি, তোমার কাছে সব আছে—যা আমি চাই।

কথাগুলো শুনে তূর্য চুপ করে রইলো। নওশাদ আবার বললেন---

—এই কেসে তোমার মতো একজন অফিসারই দরকার। এমন একজন, যে চাপের কাছে মাথা নত করবে না। এমন একজন, যে সামনে যত বড় নামই আসুক, প্রমাণ ছাড়া কাউকে বিশ্বাস করবে না। আর প্রয়োজন হলে নিজের অবস্থান বিপদে পড়লেও সত্যিটাকে সামনে নিয়ে আসবে। আর আমি চাই, এই কেসটা তোমার জেদ হোক। আজও যত অপরাধ চক্র মাথা তুলে নিজেদের অপকর্ম করছে, তাদের তুমি রূখে দাও। সুরক্ষা দাও আমাদের দেশকে।

তূর্য বেশ কিছু মুহূর্ত নিরব রইলো। সে জানে, এই কেস মোটেও সহজ নয়। এতোবছর বাদে এই কেসটা ফের ওপেন করা হয়েছে, আবার তাকেই দেওয়া হচ্ছে। নিশ্চয়ই এই কেসটা দেওয়ার মতো যোগ্য কাউকে এতোদিন খুঁজে পাননি নওশাদ সিদ্দিকি। আর আজ তাকে দিচ্ছেন, এটা মোটেও সহজ কথা নয়।

টেবিলের উপর রাখা পানির গ্লাসটা আস্তে করে তুলে নিলো তূর্য। এক চুমুকে সবটুকু পানি পান করে নিলো। নওশাদ সিদ্দিকি এখনো স্থির হয়ে তার পানে চেয়ে। তূর্য কিছু বলছে না বলে তিনিই বললেন----

—আমি জানি, তুমি নিজের প্রাণের ভয় করো না। তবে.....

—তবে?

তূর্যের তীক্ষ্ণ কন্ঠে নওশাদ সিদ্দিকি হাসলেন। বললেন---

—তুমি বোধহয় দ্বিধায় আছো!

—আপনার এমন কেনো মনে হলো?

নওশাদ সিদ্দিকি তূর্যের চোখের পানে তাকালেন। বললেন----

—কারণ তোমার স্ত্রী-সন্তান। আর তুমি এটাও জানো, এই দ্বায়িত্বটা তোমায় কিভাবে কিভাবে ধংস করতে পারে।।

এক মুহূর্তের জন্য স্ত্রী-সন্তানের কথায় শুনে থমকে গেলো তূর্যের মস্তিষ্ক। তার মাথায় ধাক্কা খেতে লাগলো নওশাদ সিদ্দিকির কথাটা। হ্যাঁ, সে সত্যিই কারো স্বামী। আর বাবা? আয়ানের সাথে তার সম্পর্কটা!

অফিশিয়ালি আলোচনা কয়েক মুহূর্তের জন্য পুরুষটির মস্তিষ্ক থেকে বের হলেও পরক্ষণেই বাঁকা হাসলো তূর্য। ধপ করা বসা হতে উঠে পরলো। দৃঢ় হাতে ফাইলটা নিজের ডান হাতে নিয়ে চোখের সামনে ধরলো। তীব্র আত্নবিশ্বাসী কন্ঠে আওড়ালো----

—স্ত্রী-সন্তান একদিকে, আর আমার দেশ, আমার মাতৃভূমি আর একদিকে। আমি তূর্য চৌধুরী—সবদিক সামলাতে জানি। দেশের জন্য যেমন প্রাণ দিতে পারি—ঠিক তেমনি, আমার পরিবার, আমার অস্তিত্বের জন্য প্রাণ নিতেও পারি।

তূর্য পিছু ফিরলো। এক ধাপ এগিয়ে সামান্য ঘাড় ঘুড়ালো অলক্ষ্যে। ঠোঁট বাকিয়ে বললো----

—সো, ডোন্ড ওয়ারি কমোডোর। আই উইল ম্যানেজ এভরিথিং। আর যখন পার্সোনালি এটা নিয়ে কথা হলো, তখন এটা সিক্রেট মিশন হয়েই থাকবে, কেউ জানবে না।

তূর্য ধুপধাপ পা ফেলে তীব্র আত্নবিশ্বাসীর সহিত কেবিন ছাড়লো। অন্যদিকে নওশাদ সিদ্দিকি কয়েক মুহূর্ত পাথরের মতো স্থির রইলেন। চোখজোড়া তার চকচক করে উঠলো ধীরে ধীরে। এক চিমটি হাসি ছুঁড়ে আপন মনেই আওড়ালেন----

—এটাই তো চেয়েছিলাম। আই হোপ, তুমি বিজয়ী হবে।

-----------------------------------

নিজের কেবিনের দরজা ঠেলে ধীর পায়ে ভেতরে প্রবেশ করলো তূর্য। তার মাথায় তখনো চলছিলো কমোডোর রূমের আলোচনা। তন্মধ্যে হুট করেই পিছন হতে একজোড়া সরু হাত আলতো করে তাকে জড়িয়ে নিলো নিজের সাথে। তূয থমকে গেলো। তার পা-জোড়া মাঝপথেই আঁটকে গেলো। ভ্রু জোড়া কুঞ্চিত হলো তৎক্ষনাৎ।

পিছনের রমণী হাসিমুখে তার মাথা ঠেকালো তূর্যের চওড়া পিঠে। লম্বা এক শ্বাস টেনে পুরুষটির শরীরের তীব্র ঘ্রাণ শুষে নিলো নিজের নাসারন্ধ্রে। চোখ বন্ধ করে মিষ্টি হেঁসে আওড়ালো----

—অ্যাম ব্যাক, ক্যাপ্টেন সাহেব।

রমণীটির হুটহাট স্বরে তূর্য তপ্ত শ্বাস ফেলে। মুখে খানিক অস্বস্তি আর বিরক্তির ছাপ ফেলে আওড়ায়----

—হোয়াট আর ইউ ডুয়িং, মৌ? এটা কিরূপ আচরণ?

ওপাশ থেকে তৎক্ষনাৎ হাত সরিয়ে নিলো রমণী। মুখে খানিক অভিমানের ছাপ গেড়ে এগিয়ে এসে দাঁড়ালো তূর্যের অভিমুখে। বললো----

—এতোদিন পর দেখা। তবুও এতো রূড বিহেভিয়ার করছিস আমার সাথে?

তূর্য কথা বলে না। সামনের রমণীটির পান হতে নজর সরিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে নিজের চেয়ারে গিয়ে বসলো। বেশ গম্ভীর গলায় সুধালো----

—ইট'স আওয়ার ডিউটি টাইম। সো, পার্সোনাল আলাপ এখানে না করলে খুশি হতাম মিস মৌ।

কয়েক মুহূর্ত থেমে কপালে স্লাইড করতে করতো ফের বললো----

—এছাড়াও, যখন-তখন আমাকে টাচ করা আমার পছন্দ নয়। বিশেষ করে আজকের মতো কিছু। গট ইট!

মুখটা কালো হয়ে এলো মৌ-য়ের। ধপ করে চেয়ারে বসে পরলো রমণী। কথা বাড়ালো না আর। তূর্য তাকে উদ্দেশ্য করে পুনরায় বললো----

—এনি ওয়ে, রিপোর্ট?

মৌ ঠোঁট কামড়ে ধরলো। বললো----

—আমি অফিসিয়াল কোন কাজের জন্য আসিনি। জাস্ট দেখা করতে এসেছি তোর সাথে। তাই.....

তূর্যের চোখের দৃষ্টি সরু হয়ে এলো। তীক্ষ্ণ কন্ঠে বললো----

—টাইম টু টাইম আমি সকল ইনফরমেশন চাই। সেখানে এরূপ গাফিলতির মানে কি?

মৌ মাথা নুইয়ে নিলো। প্রায় দু'মাস বাদে সে আজ ফিরেছে। অফিসিয়াল কাজের জন্য তাকে বান্দরবন পাঠানো হয়েছিলো। আর সেখান থেকে ফিরেই অতি উৎসাহের সহিত তূর্যের সাথে দেখা করতে এসেছে সব ফেলে। দু'টো মাস পুরুষটার সাথে দেখা, ভালোভাবে কথা না হওয়া ছটফট করছিলো সে। তাই কোনকিছু না ভেবে চলে এসেছে তাকে সারপ্রাইজ দিতে। অথচ এতোদিন বাদে দেখা হওয়ার পরেও লোকটার এহেন আচরণে ভিষন কষ্ট হয় রমণীর। অভিমানে চোখে পানি আসে। ঠোঁট কামড়ে আওড়ায়----

—স...সরি ক্যাপ্টেন।

তূর্য আড়চোখে একবার তাকালো তার পানে। তবে বললো না কিছুই। তখনি দরজায় নক হলো। তূর্য ও মৌ দু'জনেই মাথা তুলে চাইলো।

—ক্যাপ্টেন, ফাইলটা......

বলতে বলতেও থেমে গেলো তন্ময়। সামনে মৌ-কে দেখে মুহূর্তেই উচ্ছাসিত হয়ে পরলো। দ্রুত কদমে এগিয়ে এসে চটপট আওড়ালো-----

—আরে, আমাদের কুইন ফিরেছে? তা কখন আসলেন?

মৌ না চাইতেও হাসলো এ পর্যায়ে। উঠে দাঁড়িয়ে তন্ময়ের সাথে হাত মেলালো।

—সকালেই ফিরেছে।

—আরো দু'দিন পর ফেরার কথা ছিলো তো! এতো তারাতাড়ি এলি?

তন্ময় প্রশ্ন করলেও মৌ উত্তর দিতে পারলো না এর। সে তো চটজলদি কাজ সেরে তূর্যের কাছে ফিরতে চেয়েছিলো, তাই জন্যই তো এতো তারাহুরো। অথচ ফিরেও যেনো তার ফেরা হলো না। পাষাণ লোকটা তাকে এড়িয়ে গেলো। মনে মনে ঠোঁট বাঁকালো মৌ। তূর্যের দিকে না ফিরে তন্ময়কে বললো----

—কেনো? তারাতাড়ি এসেছি বলে কি খুশি হোস নি? না হলে বল! আবার ফিরে যাই।

তূর্য তার কথায় আড়চোখে একবার তাকালো। তন্ময় মৌ-এর এহেন অভিমানে হেঁসে উঠলো। বললো----

—না না রাণী সাহেবা, আপনাকে আর ফিরে যেতে হবে না। আমরা খুব খুশি হয়েছি।

মৌ হাসলো তাদের কথায়। তন্ময়ের কাঁধে চাপড় মেরে বললো----

—আজকে পার্টি হবে। তাও আমাদের ক্যাপ্টেন সাহেবের আপার্টমেন্টে। শেফ কিন্তু আমিই হবো।

মৌ-এর কথায় হুট করেই তন্ময়ের হাসি হাসি মুখটা মিলিয়ে গেলো। সেখানে ফুটে উঠলো খানিক হতাশা। তূর্যও একপলক তাদের দিকে চাইলো। ডাকলো তন্ময়কে----

—তন্ময়, এদিকে আয়।

তন্ময় খানিক চমকে দ্রুত তূর্যের দিকে এগিয়ে গেলো। বুক চিরে বেরিয়ে এলো দীর্ঘশ্বাস। অন্যদিকে মৌ কয়েক মুহূর্তের জন্য কপাল কুঁচকে নিলো তন্ময়ের ভাবগতি দেখে। পরক্ষণেই ঠোঁট এলিয়ে হেঁসে কেবিনের এক কোণে এগিয়ে গেলো। সোফায় ধপ করে বসে নজর দিলো সামনের পুরুষটার পানে। যে পুরোপুরি মগ্ন নিজের কাজে। মৌ-এর চোখে ফুটে উঠলো তীব্র মুগ্ধতা। অপলক চেয়ে রইলো সে, চোখ ফেরালো না—এক বারের জন্যও না।

চলবে..........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন