#আমার_কাদম্বিনী__ 🍂 [ #_পার্ট_১২]
রানি বেগম রেগে গেলো কিন্তু চৌধুরী বাড়ির মেয়ের সাথে মুখে মুখে তর্ক করার সাহস পেলো না। কলিং বেলের শব্দে মিমি দৌড়ে গেল। সায়মন এসেছে রুশা আর ইশা কে নিতে। সায়মন খানিক এগিয়ে আসতেই রুশা কোনো মতে উঠে সায়মন কে জরিয়ে ধরলো। চিৎকার দিলো ইমার নাম ধরে। তাল সামলাতে না পেরে সায়মন দু হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো রুশাকে । হতভম্ব হলো কিছুটা।
____আমাকে নিতে এসেছেন কেন কেন সায়মন ভাই? আমি বাড়ি গিয়ে কি করবো । আমার আপু নেই আমার আপু নেই তো। বলুন না!
ইশা কে এভাবে কখনো কাঁদতে দেখে নি সায়মন । কষ্ট হচ্ছে খুব তার । সায়মন নরম স্বরে বললো,,,
____ইশা এমন করে কাঁদলে হবে ? নিজেকে সামলান।
ইশা সায়মনের চোখের দিকে তাকালো। ভাঙা কন্ঠে বললো,,
____কিভাবে সামলাবো আমি কিভাবে? বলুন ? বলুন না !
ইশা কে এমন পাগলামো করতে দেখে সবারই খারাপ লাগছে। সায়মন ইশা সামলে কিছুক্ষনের মধ্যে রওনা হলো চৌধুরী বাড়ির উদ্দেশ্যে।
আবরার সহ বাকি সকলে প্লেনের ইমার্জেন্সি টিকেট কেটে রওনা দিয়েছে বাংলাদেশর উদ্দেশ্য। আবরার এর খুব খারাপ লাগছে, তবে তা চোখে মুখে স্পষ্ট নয়। এই মুহূর্তে কেন জানি তার রুশার মুখটা বার বার ভেসে উঠছে তার সামনে। রুশা কে কাছে পেলে হয়তো অস্থিরতা একটু কমবে।
আবরার নিশ্চুপ ভাবে তাকিয়ে আছে আশরাফ এর দিকে। এখনো কেঁদেই যাচ্ছে। ছেলে মানুষ হয়েও কাঁদছে। হয়তো খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে তার। আবরার নিজের খারাপ লাগা চাপা দিয়ে রাখতে জানে হয়তো সেইজন্য কারো চোখে পড়ছে না।
রুশারা চৌধুরী বাড়িতে এসেছে ঘন্টা খানেক পার হলো । সাথে তার নানি ফিহাদ সহ আদিব ও এসেছে।
রুশা ঘন্টা খানেক পর উপরে আসলো । নিজের মোবাইল চেক করতে । আবরার কে কল করবে এটা ভেবে ।
রুশা রুমে ঢুকে দেখলো মোবাইল অযত্নে বিছানায় পরে আছে। ভয়ে হাত পা কেপে উঠছে বার বার । তবুও এগিয়ে গিয়ে মোবাইল হাতে নিলো।অন করতেই এক প্রকার হতভম্ব হয়ে গেল রুশা। কয়েকশ কল ম্যাসেজ। রুশা কাঁপা কাঁপা হাতে আবরার এর নাম্বারে কল দিলো। বুকের মধ্যে কেমন ডিবডিব শব্দ হচ্ছে ভয়ে। রিং হলো কিন্তু কল রিসিভ হলো না। ভয়ে ভয়ে আরো একটা কল দিলো আবরার কে।
এবারে কলটা রিং হওয়ার সাথে সাথেই কেটে গেল। রুশা ঠোঁট উল্টে কেঁদে উঠলো।
____আমি তো ভুলে মোবাইল ফেলে রেখে গিয়েছিলাম । ওনি কেন কল কাটবে।
রুশা আগের ন্যায় আরেকটি কল দিলো এটাও কেটে গেলো। রুশার এবার বেশ রাগ হলো। অতিরিক্ত রাগে মোবাইল টা হাতে থেকে ফ্লোরে ছুড়ে মারলো ।সাথে সাথেই ভেঙে চুরমার হলো মোবাইল টা। রুশা কাঁদতে কাঁদতে নিচে চলে আসলো।
আবরার সহ বাকি সকলে মাত্রই এসে পৌঁছেছে চৌধুরী বাড়িতে। আবরার এসে কোনো মতে সামলালো তার কাকিয়া কে। রুশা সামনে থাকায় এক নজরে তাকিয়ে ছিল আবরার এর দিকে। তবে আবরার এর এ দিকে কোনো খেয়াল নেই। রুশা ইশা কে শান্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। লাশ চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িং রুমে রাখা। শেষ বিদায় দেয়ার আগে সবাই এক পলক করে দেখে নিলো ইমাকে। তানিয়া বেগম এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার মেয়ের দিকে। মনে হচ্ছে তার বুকের মধ্যে ছুরি দিয়ে কেউ আঘাত করছে। একটা বার যদি ইমা তাকে এসে মা ডাকতো। একটু হাসতো। কতদিন হয়েছে সে মেয়ের সেই হাসি মাখা মুখ খানা দেখে না । ইমা ই তো তাদের এক মাত্র সন্তান ছিল। এখন কি নিয়ে বাঁচবে তারা। তানিয়া বেগম ভাঙা কন্ঠে বললেন,,,
____আবরার আমার ইমা, ও ,,ও আমার অনেক যত্নের কিভাবে থাকবো আমি! আল্লাহ ও আল্লাহ ওকে নেয়ার আগে আমাকে নিতে। আল্লাহ আমার থেকে আমার মেয়ে তোমার কাছে বেশি প্রিয় হয়ে গেল। কি নিয়ে বাঁচব আমি আল্লাহ । এই আবরার ওকে আমার ইমা কে বলো না আমার সাথে কথা বলতে।
আবরার তার কাকিয়ার এমন পাগলামো দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারলো না। অঝরে হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠলো। এতক্ষণ নিজেকে সামলেও ইমার লাশ দেখে নিজেকে আর সামলাতে উঠতে পারছিলো না। সে ও রক্তে মাংসে গড়া মানুষ কষ্ট তো তার ও হয় । আবরার এর মতো কঠিন পার্সোনালিটির মানুষ কে এভাবে কাঁদতে দেখে সবাই অবাক হলো কমবেশি। আবরার কাঁদছে হুম আবরার কাঁদছে তার প্রিয় বোনের জন্য। যাকে ঘিরে ছিল তার সকল খুশি। সবাই বুঝলো আবরার এর এক একটা বোন চৌধুরী বাড়ির এক একটা সদস্য তার কলিজা। ইশা এসে আবরার কে জড়িয়ে ধরলো। চিৎকার করে উন্মাদ এর মতো বললো,,,
____ ভাইয়া ভাইয়া আমাদের ইমা আপু কে নিয়ে আসো। আল্লাহ কে বলো না আমাদের ইমা আপু কে দিয়ে দিতে।
আবরার ইশার চোখ মুছে দিয়ে ভাঙা কন্ঠে বললো,,,
____ আসবে না আর ইমা। অনেক স্বার্থপর তার আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।
এ কথা শুনে সবার চোখে পূর্নরায় পানি চলে আসলো। রুশা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আবরার এর দিকে। রাগি জেদি মানুষ টাও কেঁদে কেঁদে চোখ মুখ লাল করে ফেলেছে। কষ্ট হচ্ছে তার আবরার কে এভাবে অসহায়ের মত কাঁদতে দেখে। এদিকে একজন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরক্ষ করছে ইশা কে যেন ইশা তার শিকার মাত্র। আবরার এর কলিজা ইশা। তাকে শেষ করলে আবরার আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। আদিব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে কথা গুলো ভেবে এক চিমটে বাঁকা হাসলো।
শেষ বিদায় দিয়ে এশারের পর জানাজা পড়ানো হলো । চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িং রুমে ছেয়ে আছে নিরবতা। রাত প্রায় দশটা বাজে। এখনো কেউ কিছু খায়নি। রুশার নানি রুশাকে নিয়ে কিছু শুকনো খাবার নিয়ে আসলো তাদের সামনে তবে কেউ কিছু খেল না। রুশার নানি নিরাশ হলো এই পর্যায়ে।
নিচে আত্নীয় স্বজন সহ অনেক মানুষের ভিড় থাকায় অনেক টা গরম লাগছে। ড্রয়িং রুম বেশ বড় হওয়ায় সেখানে এসির সংখ্যা ও বেশি। তার পরেও ভাবসা গরম লাগছে। মেঘ ডাকছে খানিক পর পর। বৃষ্টি হবে বোধহয়। রুশা উপরে আসলো ঘেমে নেয়ে একাকার হয়েছে শরীরের অবস্থা। আরেকদফা সাওয়ার না নিলে চলবে না। রুশা ব্যাস্ত পায়ে হাতের সামনে থাকা একটা অফ হোয়াইট কালারের শাড়ি বের করে ওয়াস রুমে গেলো।
____সায়মন ।
____জ্বি স্যার ?
____আমি সাওয়ার নিয়ে এরপর বেরবো ফিরতে দেরি হবে। খেয়াল রেখো সবার। প্রয়োজন হলে কল করে নিও।
____ আচ্ছা স্যার।
এদিকে রাত প্রায় বারোটা বাজতে চলেছে। রুশা ভয় পায় দেখে রুমের দড়জা লক করে ওয়াস রুমের দরজা হালকা খোলা রেখে সাওয়ার নিচ্ছে। গায়ে শুধু মাত্র একটি টাওয়াল পেচানো। আবরার রুমের সামনে এসে দেখলো দড়জা লক করা তাই পার্সোনাল চাবি দিয়ে খুলে রুমে প্রবেশ করল। লাইট অন ছিল তাই ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ে থাকা মোবাইল টা তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থেকে এরালো না। কাছে গিয়ে যত্ন
সহকারে মোবাইল হাতে নিলো। এপিট ওপিট ঘুরিয়ে দেখলো এটা আর কারো না এটা রুশার মোবাইল। আমেরিকায় যাওয়ার পর সায়মন কে দিয়ে আনিয়ে দিয়েছিল মোবাইল টা। রুশার সাথে একান্ত কথা বলার জন্য। ভাঙার কারনটা হয়তো আন্দাজ করতে পারলো খানিকটা । তবে আবরার এর মুখ ভঙ্গিমা স্বাভাবিক ই রইলো। মোবাইল টা সাইট টেবিলের উপর রেখে হাতে একটা টাওজার আর টি-শার্ট নিয়ে ওয়াস রুমের দিকে এগোলো। ওয়াস রুমের দিকে এগোতে নিলে খানিকটা অবাক হলো আবরার। টেপ থেকে পানি পড়ার আওয়াজ আসছে। আবরার বুঝলো না বিষয় টা। দড়জা লক করা থাকলে ভেতরের ওয়াস রুমে কে থাকবে ? কৌতুহল বসতো ধীর পায়ে এগিয়ে গেল আবরার। দড়জা খুলতে চোখ বড় বড় হলো আবরার এর ।
চলবে,,,
🚫 কপি করা নিষিদ্ধ 🚫
#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #viralpost #viralpostchallenge