গল্পের নাম :তুমি আমার
লেখিকা: আজওয়া খান
পর্ব:৪
তোরা তুবা রেডি হচ্চে ইফতার করা শেষ অনেক আগে এখন তারা যাবে শপিং করতে ঈদ শপিং এটা অনেক আনন্দের।তোরা রেডি হয়ে নিচে বলল নামল আইরিন বেগম কে বলো কী নিয়ে যাবে মামনি ?আইরিন বেগম বলল আজকে কি
আর যেতে পড়বি কিনা জানি না কেও তো নেই আমারও ওঁকে কাজ আছে তোরা যেতে পারবি একটা ছেলে মানুষ সাথে দিলে ভালো হবে কিন্তু কেও তো ফ্রি নেই সবাই বিজি।ওইদিন পর ঈদ।কিন্তু এদের আর মাত্র ১২ দিন বাকি সবাই সব ড্রেস কিনে নিয়ে যাচ্ছে।তুবা নিচে নামল তার মন খারাপ দেখে জিজ্ঞেস করলো কি হইছে তোরা বললো।তোরা তুবা দুইজনই সোফায় বসে থাকলো।তোরা বলল তুই তৌসিফ ভাই কে বলে উনি নিয়ে যেতে পারবেন কিনা তুই বলল হয়তো উনি যাবেন।তুবা বলল না না তুই বল পরে রাজি না হলে আমি বলব। আরেহ। তোরা তৌসিফ কে কল দিলো ফাস্ট কল রিসিভ হলো না পরের টা রিসিভ হলো ফোনের ওপাশ থেকে তৌসিফ বলল কী হইসে ? তোরা ভয়ে ভয়ে বলল ভাইয়া আমাদের একটু শপিং এ নিয়ে যেতে পারবেন ।কেও নেই আম্মু রে এক ছাড়বেন না ।তৌসিফ বলল ভাই আমার ওঁকে কাজ মাঠ ব্যথা করতেসে তর অন্য কাউকে বল।তুবার মন খারাপ হয় যায়।তর বলল এখন তুই তর ফোন থেকে কল দে রিকোয়েস্ট কর।তুবা ভয়ে ভয়ে ফোন দিলো ফাস্ট কল এ এইসব হলো এক রিংয়ে।
হ্যালো তৌসিফ ভাই?
হুম বল?
আমাদের কে একটু শপিং এ নিয়ে যেতে হবে যাবেন প্লিজ।
তুবার এরকম আদুরী কণ্ঠ শুনে তৌসিফ আর না করতে পারল না কেনো জানি তৌসিফ এই নারির সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারেননা এই নারির সামনে তর কেনো এগো কাজ করে না।
আচ্ছা রেডি হও আমি আসতেসি।
ফোন ঠিক দুই বোন খুশিতে একজন আরেক জন কে জড়িয়ে ধরলো। তৌসিফ ২০ মিনিটের মধ্যে বাড়ি আসলো আসে তুবা আর তোরা কে নিয়ে গেলো।গাড়ি দিয়ে বাইক তো নেওয়া যাবে না তাই।তিন জন বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স (ঢাকা)
গেলো।তুবা আগে ড্রেস দেখলো কেনো তায় মনের মতন না।তোরা একটা লাল রোগের ড্রেস দেখলো।তোরা এটা নিলো। তুবার কিছুই ভালো লাগছে না তুবা এটি মধ্যে ৯ টা দোকান ঘুরে ফেলেছে এখন তোরা ভাবছে তৌসিফ ভাই কোহন জানি দমক মেরে বসে আর তুবা কান্না করে দিবে। ১০ নম্বর দুক থেকে তুবা বলল তৌসিফ ভাই আপনি একটা পছন্দ করে কিনে দিন।তৌসিফ এতক্ষণ এই জন্যই চিপ ছিল।তুবার বেশির ভাগ ড্রেস তৌসিফের পছন্দ করে কিনে দেওয়া।তৌসিফ একটা white dress দেখলো তুবার ভালো লাগলো। আর তুবা কিছু
মেকআপ আইটেম কিনল সাথে তোরা ও।বাকিদের জন্য শপিং করলতারা। ঈদের আনন্দই তো এটা।তোরা তুবা ব্ল্যাক কালার এর একটা ড্রেস নিলো সেম সেম। তুবা বলল তৌসিফ ভাই
একটা ফুল কিনে দিবেন ?তোরা তুবার পাশেই
না!কেনো ?ফুল দিলে তুই অঘটন ঘটিয়ে ফেলিস। তুবা বুঝলো তৌসিফ ভাই ওই জড়িয়ে ধরার কথা বলছে তোরা মনে মনে হয় হাসি কন্ট্রোল করার চেয়ে কতটা কঠিন এটা সে এখন বুঝতে পারচে।তৌসিফ বলল আচ্ছা কিনে দিবো আয়।তুবাকে তৌসিফ কয়েকটা গোলাপি সাথে সাদা মিক্স একটা গোলাপ আছে না এটা কিনে দিল এটা তুবার বেশি পছন্দের ফুল।সবার লাল হয় কিন্তু তুবার এই গোলাপ টা কেনো জানি বেশি পছন্দ। তুবা খুশি হলো তৌসিফ কে বলল থ্যাংক ইউ তৌসিফ ভাই। তোরা বলল বাড়ি গিয়ে তোকে কেনো যাবে তুবা(মনে মনে) মার্কেট এ তো ভিড় তৌসিফ হঠাৎ তুবার হাত শক্ত করে ধরে রাখলো তুবার বুকের ভিতর কেঁপে উঠল।
"সেকেন্ড স্পর্শ" তুবা কিছুই তেই ঠিক থাকতে পারতেসি না মনে হচ্চে হৃদয় টা বের হয়ে যাবে এখন এ।আজকে ৩ মানুষ অনেক শান্ত এত শপিং করে। মার্কেটে এত ভিড়। এত ভিড় দেখে জওরা তোরা বলছে সবার বিয়ে লাগচে মনে হয় সব এক সাথে এসে গেছে শপিং করতে।তুবা বলল তো তর কই নম্বর বিয়ে টা চলতেসে?তোরা বলো এত ভুল ধরবি না কথার কথা বলিস। বাসায় এসে তুবা তোরা একটা শান্তির ঘুম দিলো তৌসিফ ঘুমায় পারল না বই নিয়ে বসে এইসব ডাক্তারি বই দেখলে নাকি তুবার জোর আসে এই কথা ভেবেই তৌসিফ আন মনে হাসলো। তুবার কি জানি হইসে তুবা ঘুমালে খালি তৌসিফ কে স্বপ্নে দেখে।তোরা অপি কে কল দিলো আজকে সারা খো যে দুই জন হাত ধরে ছিল এইটা বলল
অপি বলল দেখো এই বছরের মধ্যেই ওদের নিয়ে হবে আমি বলে দিলাম ।তোরা ও সাই মিলালো।সারাদিন হেঁটে তুবার পায়ে এত ব্যথা করছে যে তোর তুবা উঠে দাঁড়াতে পারছে না। তোরা তুবাকে উঠে দাঁড়াতে বা চলাচলের কাজে অনেক হেল্প করেছে। তুবার মা আইরিন বেগম মেয়ের পায়ে সরষের তেল মালিশ করে গেছে। তৃপ্তি বেগম ভাইজিকে ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে তুবার ছোটবেলা থেকে অভ্যাস সে কোন ওষুধ খেতে চায় না তার নাকি বমি পায় ওষুধ দেখেলো। রুমে তৌসিফ প্রবেশ করলে বলল ছোট পিপি ওষুধ টা দেও! তৃপ্তি বেগম বিনা বাক্যে ওষুধ দিলো তৌসিফের হাতে তৌসিফ বলল ১ থেকে ৩ পর্যন্ত গুনবো এর মধ্যে ওষুধ শেষ করতে হবে।না করলে তর খবর আছে তুবা।তৌসিফ ১ বলেই তুবা ওষুধ গিয়েল ফেললো কিন্তু গিয়ে আর ল্যাব হলো না হর হর করে বমি করে দিলো।তৃপ্তি বেগম বৈজিকে ধরলেন। বুকে পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন ওইটাতো আর তৌসিফ পারবে না। তুবার কপালে হাত দিয়ে তৌসিফ তাপমাত্রা চেক করলো জোর আসে।এই ভয়ে e তুবাকে শপিং e নিয়ে যাইতে চায়নায় তৌসিফ।বমি ক্লিন করলো
বাসার বোয়া রিনা আপু! তবে জোর পিছনে পরে আছে লামিয়া বেগম এর লামিয়া কোলে মাথা দিয়ে আর তুবার মা তুবাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছি কিন্তু জেদি মেয়ে খেতে চাইছে না।তৌসিফের আজকে কাজে মন বসছে না। তুবাকে দেখতে মন চাইছে ইতিমধ্যে সে মেডিকেল e এসেছে ৫ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচবার তোরা কাছে ফোন দিয়ে খবর নিয়েছে। রোজার মাস কিন্তু তুবা রোজা রাখতে পারছে না।এটা তুবার অনেক বড় কষ্ট।সে তৌসিফ কে কেঁদে কেদে বলেছে।তৌসিফ টা মনো জক দিয়ে শূন্স ঈদের আর ৫ দিন বাকি। এই মধ্যে তুবার জোর।
তৌসিফ রাতে অনেক্ষণ বসে থাকে তবে কাছে জল পট্টি দেই।মাথা টিপে দেই তুবা তো জ্বরের ঘোরে বুঝতে পারেনা। যখন কেদে কেঁদে বলে আম্মু আমার পায়ে ব্যাথা তখন তৌসিফ পো টিপে দেই।মাঝে ।আজ আইরিন বেগম এসে মেয়র যত্ন দেই।আর তখন শেষ রাতে তৌসিফ ঘুমায়।আইরিন বেগম অনেক বলে আমি দেখব তুই যা।লামিয়া বেগম ও বলে কিন্তু ছেলে শুনে ।
কালকে ছাদ রাত তুবা সুস্থ। আজকে মেহেন্দি দিবে সব বোনেরা একেক সব বোন র মিলে মেহেন্দি নাইট করবে।এটা অপির বুদ্দি।সবাই সবুজ শাড়ি পড়বে ।অপির এখনো ২ মাস ও হয় নি পেট বুঝাই যায় না। আজকে শেষ ইফতার সবাই এক সাথে করলো। তুবা তাড়াতাড়ি করে বড় আম্মুর রুমে গেল বলল বড় আম্মু আমাকে শাড়ি পরিয়ে দাও সবুজ রঙের। তোমার আছে?
হুম আছে তুই দাড়া বের করি। তুবা পেটিকোট আর ব্লাউজ পড়ে রেডি হয়ে আসলো। আসতে আসতে তুবাকে শাড়ি পরিয়ে দিচ্ছে লামিয়া খান তুবা কখনও শাড়ি পরেনা আজকে কেন জানি পড়তে ইচ্ছা করলো সবার কথাই।লামিয়া খান বলল আঁচল কি ফেলে রাখবো? তুবা বলে হুম।লামিয়া খান খুব ভালো করে সেফটিপিন দিয়ে পিন করে দিয়েছে ।তুবা কে বারবার সাবধান করে দিল বেশি ছোটাছুটি যাতে না করে। লক্ষ্মী হয়ে বসে থাকতে। Tuab টিয়া করলো তুর্য ফুল আন দিলো গাদা ফুল দিয়ে ছোটখাটো ব্যাকগ্রাউন্ড সাজানো তুবা তুবা আবার এইসব কাজ ভালো পারে অনেক মেহেন্দি ও তুবাই দিয়ে দিবে সবাইকে।আগে সব বোনেরা মিলে ছবি তুলল তুবার ফোন দিয়ে। তুবার ফোন টা I phone ছবি ভালো হয়। তুবা নিচে সোফায় বসে আছে সাথে তটিনী ওর সাথে ছবি তুলছে। ফর্সা গায়ে সবুজ শাড়িটা অনেক মানিয়েছে কিন্তু তোমার সবুজ একটা পছন্দ না। হুমায়ূন আহমেদের একটি উক্তি আছে না ?
"মেয়েদের সবুজ শাড়িতে অনেক মানায় কিন্তু তারা এই রংটাকে পছন্দ করেনা" এমন কিছুই উক্তিটা। কলিগ বেল বেজে উঠল তোয়াব গন্ত তন্ত হয়ে দরজা খুলে।দেখে তৌসিফ আর তুর্য তিহান আসচে। তৌসিফ একটুর জন্য পর পর যায় নি তিহান ধরে ফেলে বলে ভাইয়া কুল।
পড়েই তো যেতে নিয়েছিলে। আমি না ধরলে তো এখন পড়ই যেতে।তৌসিফ তুবা কে ডেডিকেটেড করে একটা জ্ঞান গেলো
Tijhe pa ke jawab.
Mila hai asal
Tu hai woh sawaal
Tu Mila hai yeh Meri
Tu mujhese door na jaana
Teri nazron ka dil pe
Hua hai asar
TU Mera mehboob hai jaana
Teri ulfat mein jeeta har pal
Tu ik tohfa hai khuda ka
তুবা লজ্জায় লাল হয়ে গেলো তৌসিফের মুকে এই গান শুনে।তুর্য বড় ভাই এখন থাকা আর ভালো হবে না তায় চলে গেলো তিহান ও চলে গেলো।তৌসিফ প্রশ্ন করল চাঁদরাতে মানুষ মারা প্ল্যানটা কোন খুনির মাথায় এসেছে?তুবা চক তুলে বলল কী বলেছেন? আর এই প্ল্যান এটাতো বউ মনি করেছে। আমাকে সুন্দর লাগছে না বলুন? না তোকে অনেক বাজে লাগচে আয় একটা ছবি তুলে দেই আমার ফোন থেকে।তুবা নানা পোজ দিয়ে দাঁড়িয়ে তিন চারটে ছবি তুলল। তুবা বলল এখন বলুন আমাকে সুন্দর লাগছে না ? না তোকে পেত্নীর মতো লাগচে। শাড়ি খুলে ফেল তাহলে আমি হার্ট অ্যাটাক করব।তুবার বোন খারাপ হলো।সবাই কে মেহেন্দি দিতে বলে গেলো তুবা হাত পিট ব্যথা করছে।এখন আর নিজের হাতে দিতে হবে বাট মিহন্দি শেষ এখন কি হবে?তুবার তো লাগানোই হলো না! সবাই কে দিয়ে শেষ।তুবা মন খারাপ করে সোফায় বসে ছিল।তৌসিফ এসে পাশে বসলো বললো কি হয়েছে মন খারাপ কেন সবুজ পাখির? তুবা বলল মেহেদি শেষ এখন আমি মেহেদী কিভাবে দিব? আর আমার হাতে অনেক ব্যথা করছে।তৌসিফ তার পকেট থেকে দুই টা কোন বাইর করলো মেহেন্দির বলল হাত দে আমি পড়িয়ে দেই।তুবা বলল না থাক আপনার কষ্ট হবে।তৌসিফ চোখ রাঙ্গায় তুবা সঙ্গে সঙ্গে হাত বাড়িয়ে দেয় তৌসিফ মনোযোগ দিয়ে মেহন্দি দিয়ে দেই। তটিনী আসে বলে নাহ ভাইয়া আপু কে কত সুন্দর মেহেন্দি করে দিচ্ছ।তোরা বললো তৌসিফ ভাই আপনি এত সুন্দর মেহেন্দি দেওয়া কই থেকে শিখলেন বলেন তো! অপি তুবার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল "you are lucky girl" তুবা হাসলো আজকের দিন টা বেস্ট ছিল।সবাই একটা কম্পিটিশন করবে ভাবলো আর মেহেন্দি সবচাইতে বেশি কালার হয় তাকে নাকি জামাই বেশি ভালো বাসে বাকি সবাই তাই পরীক্ষা করবে কাল রং সবচাইত বেশি হয়। তোফা বলল (তুর্য বোন) দেখি আমার তায় রং হবে বেশি আমার ফিউচার হাসবেন্ট এ আমাকে বেশি ভালো বাসে। সবাই এনে কথা কাটাকাটি করছে কিন্তু তুবা চুপ।