ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের দহন

৩য় পর্ব

লেখক: ফাহমিদা মিমি

#প্রণয়ের_দহন

#ফাহমিদা_মিমি

#পর্ব_৩

(অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ 🚫)

--------------------

ভুঁইয়া বাড়িতে আজ যেন উৎসবের ঢল নেমেছে। চারদিক মানুষের কোলাহলে মুখরিত আত্মীয়-স্বজন, দলের লোকজন, শুভাকাঙ্ক্ষী সবাই ভিড় জমিয়েছে এই বিশাল প্রাঙ্গণে। কয়েকটি গাড়ির বহর নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ছোট কর্তা, জুলফিকার সম্রাট ভুঁইয়া। গাড়ি থেকে নামতেই তার চোখে পড়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তার বাবা, মাহতাবউদ্দিন ভুঁইয়া।

সম্রাট তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে দুহাত মেলে বাবাকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে,

—“বাবা, অভিনন্দন! আজ আপনার মুখে এই জয়ের হাসি দেইখা সত্যিই খুব ভালো লাগতাছে।”

ছেলের আনন্দে মাহতাবউদ্দিন ভুঁইয়ার মুখেও তৃপ্তির ছাপ ফুটে ওঠে। তিনি স্নেহভরা কণ্ঠে বলেন,

—“আরে আব্বা, আমি তো তোর জন্যই জয়লাভ করলাম। অভিনন্দন তো আসলে তোরই প্রাপ্য। তুই না থাকলে এই জয় কখনোই সম্ভব হতো না।”

কিছুদিন আগে এমপি পদে জয় লাভের পর গতকালই তিনি শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। সেই উপলক্ষেই আজ বাড়িতে এমন আনন্দ আয়োজন। চারপাশে যেন উৎসবের আবহ হাসি, কোলাহল আর গর্বে ভরা মুহূর্ত।

মাহতাবউদ্দিন ভুঁইয়া ছেলেকে নিয়ে ড্রয়িংরুমে যান। দেয়ালে টানানো বড় একটি ছবির সামনে গিয়ে থামেন তারা।এ বাড়ির প্রয়াত প্রধান কর্তা, জুলফিকার ভুঁইয়ার প্রতিকৃতি। ছবির সামনে দাঁড়িয়ে মাহতাবউদ্দিন আবেগভরা কণ্ঠে বলেন,

—“আব্বা, দেখুন... আজ আমি মন্ত্রীত্ব পেয়েছি। আর দেখুন, আপনার নাতিই আমাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।”

দুই বছর আগে ইন্তেকাল করা জুলফিকার ভুঁইয়ার স্মৃতি আজও এই পরিবারের প্রতিটি কোণে জীবন্ত। তার নামেই বড় নাতির নাম রাখা হয়েছে। আর সেই কারণেই মাহতাবউদ্দিন কখনো ছেলেকে নাম ধরে ডাকেন না, স্নেহভরে ‘আব্বা’ বা ‘বাপজান’ বলেই সম্বোধন করেন।

সম্রাট ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি গভীর আগ্রহী। পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও সে তা গ্রহণ করেনি। মাস্টার্স শেষ করেই সে বাবার রাজনৈতিক পথচলায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেছে এবং অল্প সময়েই নিজের বিচক্ষণতা ও পরিশ্রম দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ধরে রাখছে।

এদিকে বাড়ির ভেতরে আনন্দ-উল্লাসের কোনো কমতি নেই। মাহতাবউদ্দিনের বোন জুলিয়া ভুঁইয়া তার ছেলে-মেয়ে,এনিফা ও একমিকে নিয়ে এসেছেন।

জুলিয়ার ইচ্ছে, তার মেয়ে এনিফার সঙ্গে সম্রাটের বিয়ে দেওয়া হোক। তবে সম্রাটের তাতে তেমন আগ্রহ নেই। তার স্বভাব স্বাধীনচেতা, একরোখা যা ঠিক মনে করে, সেটাই করে; আর যা করতে চায় না, তা কোনোভাবেই করানো যায় না।

।

।

।

।

চাকরির প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই কাউসার রহমান স্ত্রী হুমায়রা বেগম এবং দুই মেয়ে,হৃদিকা কায়নাত ও রানিয়া রহমানকে নিয়ে আজ আবারও ঢাকায় এসে উঠেছেন। তিনি অনেক চেষ্টা করেছিলেন এই বদলি এড়াতে, এমনকি অফিসের মূল শাখায় গিয়ে অনুরোধও করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি। কর্তৃপক্ষের কঠোর সিদ্ধান্তে তাকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হতেই হয়েছে।

নিজের বাড়িতেই উঠেছেন,আসবাবপত্র নিয়ে বাসায় এসে কাউসার সাহেব সোফায় হেলান দিয়ে কপালে হাত রেখে আধশোয়া হয়ে ছিলেন। ক্লান্তি আর অস্বস্তি যেন তার চেহারায় স্পষ্ট। অনেকক্ষণ ধরে বাবাকে একইভাবে নিশ্চুপ দেখে হৃদিকা ধীরে কাছে এসে কাঁধে হাত রাখতেই তিনি চমকে উঠলেন। হৃদিকা মৃদু হাসিতে বলল,

—“আরে বাবা! আমিই তো ধরলাম, এভাবে চমকে উঠলে কেনো?”

কাউসার সাহেব নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন,

—“না, কিছু হয়নি। দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? বস। কতক্ষণ থেকে কাজ করছিস, ঠিকমতো বিশ্রামও নিচ্ছিস না।”

বলতে বলতেই তিনি মেয়ের হাত ধরে পাশে বসালেন। হৃদিকা বাবার কাঁধে মাথা রাখল,এই জায়গাটাই তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, তার ভরসা আর বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু।

হৃদিকা এখন অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী, আর রানিয়া ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে পড়ে। ঠিক তখনই গোসল সেরে বের হয়ে রানিয়া তাদের দেখে ঠাট্টার সুরে বলল,

—“বাহ! সব আদর যদি তাকেই দাও, তাহলে আমাকে কেনো দুনিয়ার মুখ দেখালে? তোমাদের এসব দেখার জন্য?”

রানিয়ার কথা শুনে হৃদিকা মুচকি হেসে জবাব দিল,

—“হ্যা, তোকে দুনিয়াতে আনা হয়েছে,চোখ দিয়ে আমাদের বাবা-মেয়ের ভালোবাসা দেখবি, আর লুচির মতো ফুলবি। আর মন দিয়ে হিংসে করার জন্য। বুঝেছিস এবার?”

রানিয়া মুখ ভেংচি কেটে দুহাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে রইল। তা দেখে হৃদিকা হেসে উঠল, আর কাউসার সাহেবও দুই মেয়ের খুনসুটি দেখে মৃদু হাসলেন। হঠাৎ হৃদিকা উঠে দাঁড়াতেই রানিয়া ইচ্ছা করে তাকে ধাক্কা দিয়ে বলল,

—“যা, হিংসুটে মহিলা! এবার গিয়ে বস বাবার সাথে।”

হৃদিকা হেসে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল মাকে সাহায্য করতে,রানিয়া গিয়ে বাবার পাশে বসে কাঁধে মাথা রেখে বসে পড়লো। রান্নাঘরে গিয়ে দেখে, হুমায়রা বেগমের রান্না প্রায় শেষ। পাশে দাঁড়িয়ে সে জিজ্ঞেস করল,

—“মা, কিছু করতে হবে? বলো, করে দিচ্ছি।”

হুমায়রা বেগম স্নেহভরা কণ্ঠে বললেন,

—“না, তিনদিন ধরে তো অনেক কাজ করছিস। দিসনি তো একটুও ধরতে। এখন না হয় আমিই করি। চুপচাপ গিয়ে বিশ্রাম নে, আর নয়তো দাঁড়া কফি বানিয়ে দিচ্ছি।”

মায়ের কথা শুনে হৃদিকা পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরল। আর সেই অবস্থাতেই হুমায়রা বেগম কাজ করতে থাকলেন। মেয়ের এই নিঃশব্দ ভালোবাসা আর মায়ের স্নেহময় যত্নে ঘরের ভেতর যেন এক উষ্ণ, শান্ত আবহ ছড়িয়ে পড়ল। এরমাঝেই তিনি মেয়ের জন্য এক কাপ কফিও বানিয়ে দিলেন।

।

।

।

।

সম্রাট নিজের ঘরে ঢুকতেই দেখে,তার রুমে এনিফা সেখানে উপস্থিত। সবসময়কার মতোই সে ওয়েস্টার্ন পোশাকে সজ্জিত; আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্রাট চোখ ফিরিয়ে নেয়। এনিফা তখন টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বই ঘাঁটছিল। সম্রাট কিছু না বলে সরাসরি ওয়াশরুমে ঢুকে যায়,ওয়াশরুমের দরজার আওয়াজে এনিফা বুঝতে পারে সম্রাট এসেছে, কিন্তু ততক্ষণে সে চলে গেছে ফ্রেশ হতে। দরজার শব্দে এনিফা ফিরে তাকায় এবং বুঝতে পারে সম্রাট ফ্রেশ হয়ে বের হবে।দ্রুত এগিয়ে গিয়ে সে সম্রাটের কাভার্ড খুলে আকাশি রঙের একটি শার্ট ও সাদা প্যান্ট বের করে নেয়। কাপড় দুটো হাতে নিয়ে ওয়াশরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পর সম্রাট টাওয়াল পরা অবস্থায় বের হতেই সামনে এনিফাকে দেখে তার রাগ মুহূর্তেই চড়ে যায়। কাভার্ড খোলা দেখে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিজেকে সামলে নিয়ে সে এনিফার হাত থেকে কাপড়গুলো নিয়ে ঠান্ডা অথচ কঠোর স্বরে বলে,

—“আবারও সাবধান করতাছি, এনিফা আমার জিনিসে হাত দেওয়া আমি পছন্দ করি না। নেহাত তুই মেহমান, নয়তো হাতটা এইখানেই কাইটা রাইখা দিতাম।”

কথা শেষ করে সে এগিয়ে যেতেই এনিফা হঠাৎ তার হাত ধরে টেনে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে। তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,

—“তুমি বুঝো না আমি বারবার তোমার কাছে কেন আসি? আর কী করলে বুঝবে? আর হাত কাটবে? ওকে, নাও কাটো তাতেও আমার শান্তি।”

সম্রাট রাগে গর্জে ওঠে,

—“দূরে সর বেহায়া মাইয়া মানুষ,নয়তো আমার বন্দুক দিয়া তোর কপাল ফুটা কইরা দিমু।সম্পর্কে আমি তোর মামাতো ভাই বেলাজ মাইয়া।”

বলেই এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে দূরে সরিয়ে দেয় তাকে। কিন্তু এনিফা থামে না। ব্যঙ্গের সুরে আবার বলে ওঠে,

—“হয়েছে, হয়েছে;এত নাটক করার কী আছে? এমন ভাব করছো যেন কখনো কোনো মেয়েদের কাছে যাওনি, কখনো ছোঁওনি।জানা আছে বড়লোকের ছেলেরা কোথায় যেতে পারে,তাও আবার মন্ত্রীর ছেলে।”

বলতে বলতেই সে সম্রাটের হাত নিজের কোমরের দিকে নিতে চাইলে, সম্রাট আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সজোরে এক থাপ্পড় বসিয়ে দেয় এনিফার গালে। কঠিন কণ্ঠে বলে,

—“যা, বের হয়ে যা। আর দ্বিতীয়বার যেন আমার ঘরে না দেখি। এখন গাল পর্যন্ত গেছে পরের বার ট্রিগার চালায়া দিমু, মাথার খুলি উড়ায়া। ফাতরামি করতে আইছোস আমার লগে? এই সম্রাটের রুচি এত খারাপ না,যেখানে মন চাইবো আর শুইয়া গেলাম।যার প্রতি সম্রাটের ভালোলাগা কাজ করে তারেই এখনো পাইনাই,তারে খোঁজা আমার এখনো শেষ হয়নাই।”

রাগে, অপমানে জ্বলতে জ্বলতে এনিফা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। আর সম্রাট মুচকি হেসে নিজের পোশাক পরে পরিপাটি হতে ব্যস্ত।

এদিকে ঘরে এনিফাকে ঘিরে সবাই উদ্বিগ্ন। শ্যামলা গালে থাপ্পড়ের স্পষ্ট দাগ পড়ে গেছে। জুলিয়া ভুঁইয়া রাগে ক্ষোভে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেছেন। এত আত্মীয়-স্বজনের সামনে এই ঘটনার জন্য সবাই বিস্মিত সম্রাট যে এতটা উগ্র, তা তারা জানত, কিন্তু মেয়ের গায়েও হাত তুলবে, তা কেউ ভাবেনি।জুলিয়া ভুঁইয়ার চিল্লাচিল্লিতে সম্রাটের মা সামিনা ভুঁইয়া শান্তনা দিচ্ছেন আর এখন চুপ থাকতে বলছেন,কিন্তু তিনি কারো কথাই শুনছে না।

সম্রাট ড্রয়িং রুমে আসতেই জুলিয়া ভুঁইয়া তীব্র কণ্ঠে প্রশ্ন করেন,

—“সম্রাট, তুই আমার মেয়েকে মারলি কেন? কী দোষ ছিল তার? দেখ তো, এনির গালটা কী অবস্থা গেছে!”

সম্রাট ঠোঁটে হালকা হাসি টেনে নির্বিকার ভঙ্গিতে জবাব দেয়,

—“আরে ফুপি, আপনার মাইয়া আমার কাছে ভালোবাসা চাইতে আইছিলো। এখন সে সইতে না পারলে আমার কী দোষ? আমার ভালোবাসার ভার অনেক ওরে কইবেন, আগে সেই ভার নেওয়া শিখুক, তারপর ভালোবাসতে আসুক।”

জুলিয়া ভুঁইয়া রেগে সামিনা ভুঁইয়াকে বলেন,

—“এসব শিক্ষা দিয়েছো ছেলেকে? ম্যানারলেস একটা,আর হবেই না কেনো তোমার মধ্যেই তো কোনো সভ্যতা নেই ছেলেকে কি শিখাবে।”

সম্রাট মাত্রই সদরদরজা পেরুতে যাবে তখনই জুলিয়া ভুঁইয়ার কটু কথা কানে যায়,যা তার মাকে নিয়ে বলা হচ্ছে। সম্রাট সেখানে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে তাকিয়ে বলে,

—“উফফফ প্লিজ রে!ফুপি আপনি কোথায় বইসা কথা কইতাছেন মাথায় আছে তো নাকি?আমার বাড়িতে বইসা আমার মারে নিয়া কটু কথা,এই সম্রাট তো মাইনা নিবো না আর,না কাউরে মইনা নিতে দিবো।আর একদিন যদি আমার বাসায় বইসা আমার মারে নিয়া কটু কথা শুনছি পরবর্তীতে যা হইবো তাতে আমার কোনো হাত নাই,আমি আগেই বইলা রাখলাম।”

সম্রাটের কথায় এনিফা গাল হাত রেখেই মাথা নিচু করে ফেলে,কেননা সম্রাট ঘরভর্তি মানুষের সামনেই এসব বলছে।সম্রাটের এমন আচরণে জুলিয়া ভুঁইয়া আরও ক্ষুব্ধ হয়ে মাহতাবউদ্দিন ভুঁইয়ার কাছে অভিযোগ জানান। তিনি পরিস্থিতি সামলাতে শান্ত স্বরে বলেন,

—“সম্রাট বাড়ি ফিরুক, আমি কথা বলে দেখছি।”

।

।

।

।

পূবের আকাশে সাদা মেঘেরা যেন নিজেদের মধ্যেই খেলায় মেতে উঠেছে। শরতের কোমল সকালে শিউলি ফুলের মৃদু সুবাস ভেসে এসে লাগে হৃদিকার নাকে। তার ঘরের বারান্দার পাশেই শিউলি গাছ,হাত বাড়ালেই ফুল ছোঁয়া যায়। ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে হৃদিকা নিঃশব্দে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। দূরের আকাশে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার মন ধীরে ধীরে ডুবে যায় অতীতের স্মৃতিতে।

এই শহরে তার দ্বিতীয়বার আসা। ঠিক পাঁচ বছর আগে, এমনই এক শরতে, সে প্রথম ঢাকায় এসেছিল। তখন দেড়মাসের জন্য এখানে থাকা হলেও হঠাৎ করেই কোনো এক অজানা কারণে তার বাবা, কাউসার রহমান পরিবারসহ আবার রংপুরে ফিরে গিয়েছিলেন। সেই কারণ আজও অজানাই রয়ে গেছে হৃদিকার কাছে। আকাশের ভাসমান মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সে হারিয়ে যায় সেই পাঁচ বছর আগের স্মৃতিতে।

পাঁচ বছর আগে,

হৃদিকা তখন নতুন ঢাকায় এসেছে। বাবার চাকরির সুবাদে হঠাৎ করেই মাঝপথে স্কুল বদলাতে হয়েছিল তাকে। ক্লাস এইটে পড়ে, সামনে বোর্ড পরীক্ষা এই সময়ের এমন পরিবর্তনে তার বেশ অসুবিধাই হচ্ছিলো তার। নানা ভাবনায় ডুবে স্কুলের গেট পেরোতেই দেখতে পায়, তার মা সাহিদা বেগম গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। মাকে দেখেই সে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বলে,—“তুমি এলে যে! আমি তো বাড়িটা চিনি,খামাখা আসতে গেলে কেন?”

সাহিদা বেগম মৃদু হেসে বলেন,

—“আরে, সেজন্য আসিনি। তোকে নিয়ে একটু মার্কেটে যাবো।”

মা-মেয়ে কথা বলতে বলতে এগোতেই হঠাৎ বৃষ্টি নেমে আসে। ভিজতেই ভিজতেই তারা কোনোভাবে বাড়ি ফিরে। সেই পথেই চোখে পড়ে এক অচেনা ছেলেকে,মারামারিতে লিপ্ত। দৃশ্যটা অস্বস্তিকর হলেও তা তখন গুরুত্ব পায়নি। কিন্তু আশ্চর্যভাবে, কিছুদিন পর যখন তারা আজিমপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছিলো, তখনও সেই একই ছেলেটিকে একইভাবে মারামারিতে জড়িয়ে থাকতে দেখেছিল হৃদিকা।

হঠাৎই বর্তমানের টানে ছিন্ন হয় স্মৃতির সেই জাল। রানিয়ার কণ্ঠ ভেসে আসে,

—“এই আপু, কী করছিস? আম্মু ডাকছে নিচে চল।”

চমকে উঠে হৃদিকা বর্তমান ফিরে আসে। মৃদু হাসি নিয়ে বোনের দিকে তাকায়, তারপর তাকে সঙ্গে নিয়ে নিচে নেমে যায়,মনে ভাসতে থাকে অতীতের কিছু অজানা প্রশ্ন আর অদ্ভুত এক অনুভূতি।

চলবে_

[গল্পে কোনোপ্রকার ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।গল্পপুরোটা পড়ে মন্তব্য করবেন,অল্প পড়েই অন্য গল্পের সাথে মিলাবেন না দয়া করে।আর গল্পটা পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই রিয়েক্ট কমেন্ট করবেন,আর বেশি বেশি রেসপন্স করবেন ভালো লাগবে।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন