#প্রণয়ের_দহন
#ফাহমিদা_মিমি
#পর্ব_৮
(অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ 🚫)
-------------------------
[⚠️ এই পর্বে কিছু সহিংসতার বর্ণনা রয়েছে, যা কিছু পাঠকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।যারা সহিংসতা পছন্দ করেন না তারা এড়িয়ে যাবেন।]
হাসপাতালের করিডোরটা হৃদিকার কাছে অস্বাভাবিক ঠেকছিল,চারপাশে ভিড় থাকলেও কেনো যেন একা একা লাগছিল তার। ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে দ্রুত কেবিনের দিকে ফিরছিল সে, কিন্তু মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছিলো সকালের সেই রহস্যময় বক্স আর ‘হৃদ’ নামটি। এক অজানা অস্বস্তি তাকে ঘিরে ধরেছিলো।
করিডোরের মোড় ঘুরতেই হঠাৎ কারও সঙ্গে ধাক্কা লাগে। হাতের ওষুধের প্যাকেটটি পড়ে যায় হৃদিকা সেগুলো নিচু হয়ে উঠাতে গিয়ে বলে,
—“সরি, সরি… দেখিনি...”
কথা বলতে গিয়েও থেমে যায় হৃদিকা। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখে সে চমকে ওঠে,মোস্তাফিজ ভুঁইয়া,তখন ওয়াশরুমে যাকে টিস্যু দিয়েছিলো তিনি। তিনিও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন হৃদিকার দিকে। তারও সবুজ চোখ, অদ্ভুত এক পরিচিতির আভাস যেন বারবার ধাক্কা দেয় মনে।
—“তুমি, দাঁড়াও মা আমি উঠিয়ে দিচ্ছি।”
কিছুটা দ্বিধা নিয়ে থেমে যায় হৃদিকা।
—“জি?”
মোস্তাফিজ ভুঁইয়া ঔষধপত্র তুলে দিয়ে হৃদিকার হাতপ তুলে দেয়, মৃদু হাসি নিয়ে বলেন,
—“তোমার নামটা কী? তোমার সঙ্গে কিন্তু আমার ভীষণ মিল আছে।তখন তো তাড়াহুড়ো করে চলে গিয়েছিলে কথাই হলো না,ধন্যবাদ তখন টিস্যুটা দেওয়ার জন্য ।”
হৃদিকা মুচকি হেসে জবাব দেয়,
—“ আঙ্কেল আমার নাম হৃদিকা। জি, আপনার সঙ্গে আমার চোখের মিল আছে,আপনার চোখ আর আমার চোখ একই।হ্যা তখন কল এসেছিলো ফার্মেসীতে যেতে হয়েছিলো তাই।”
নামটি শোনার পর তার দৃষ্টি আরও গভীর হয়ে ওঠে। কয়েক মুহূর্ত নীরব থেকে তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন,
—“তোমার মা-বাবা… মানে, তুমি এখানে কেন?”
একটার পর একটা প্রশ্নে হৃদিকার ভেতরে অস্বস্তি বাড়তে থাকে।
—“জি, আমার আব্বু এই কেবিনে। উনি অসুস্থ।”
মোস্তাফিজ কিছু বলতে গিয়েও থেমে যান। তারপর ধীরে মাথা নাড়িয়ে বলেন,
—“ও আচ্ছা… যাও মা, আগে যাও। তোমার আব্বু হয়তো ওষুধের জন্য অপেক্ষা করছেন।”
হৃদিকা আর দেরি না করে দ্রুত পা চালিয়ে চলে যায়। আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি তার দিকে তাকিয়ে থাকেন,চোখে ভাসে এক অদ্ভুত, গভীর চিন্তার ছায়া।
।
।
।
।
হাসপাতালের অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সম্রাট দূর থেকেই সবকিছু লক্ষ্য করছিল হৃদিকা আর তার চাচা মোস্তাফিজ ভুঁইয়ার কথোপকথন। চোখ সরু করে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সে। পাশে দাঁড়িয়ে রিয়েল ধীরস্বরে বলে,
—“ভাই, ভাবি হাসপাতালে কেন? ভাবির আবার কিছু হইলো না তো?”
সম্রাট সিগারেট ঠোঁটে তুলতেই এক নার্স এগিয়ে এসে বলে,
—“স্যার, এখানে ধূমপান করা নিষেধ।”
সম্রাট যেন কিছুই শুনছে না, তার দৃষ্টি তখনও হৃদিকার কেবিনের দিকে। নার্স আবারও বলে,
—“এক্সকিউজ মি, স্যার! এটা হাসপাতাল,এখানে ধূমপান করবেন না, প্লিজ। ধূমপান এমনিতেই স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।”
ধীরে ধীরে সিগারেটটি ফেলে পা দিয়ে পিষে দিয়ে সম্রাট ঠান্ডা গলায় বলে,
—“রিয়েল, তোর ভাবি কেন হাসপাতালে,খোঁজ লাগা।”
রিয়েল মাথা নাড়িয়ে রিসেপশনের দিকে চলে যায়, আর সম্রাট ঢুকে পড়ে তার বোনের কেবিনে।
এদিকে হৃদিকা কেবিনে ঢুকতেই দেখে,কাউসার রহমান হেলান দিয়ে বসে আছেন, পাশে সাহিদা বেগম ফল কেটে দিচ্ছেন, আর একটু দূরে সোফায় বসে ফোন দেখছে রানিয়া। শব্দ পেয়ে সাহিদা বেগম তাকিয়ে মৃদু হেসে বলেন,
—“এত দেরি হলো কেন, হৃদি?”
হৃদিকা এগিয়ে এসে সাইড টেবিলে ওষুধ আর প্রেসক্রিপশন রেখে বাবার পাশে টুল টেনে বসে বলে,
—“ওষুধ আনতে দেরি হয়নি। দেরি হলো কেবিনের বাইরে,একজনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ওষুধ পড়ে গিয়েছিলো। তারপর উনি হাজারটা প্রশ্ন করছিলেন, আমিও জবাব দিচ্ছিলাম। গুরুজন, তাই এড়িয়ে যেতেও পারছিলাম না।”
সাহিদা বেগমের হাত থেকে ছুরি আর ফল নিয়ে নিজের কাছে টেনে নিতে নিতে হৃদিকা আবার বলে,
—“কিন্তু জানো, এই প্রথম আমার চোখের মণির রঙের মতো আরেকজনের চোখ দেখলাম।”
কথাটা শুনে কাউসার রহমান মেয়ের দিকে সরু চোখে তাকান, তারপর দৃষ্টি ঘুরে যায় সাহিদা বেগমের দিকে। সাহিদা বেগমও একবার মেয়ের দিকে, একবার স্বামীর দিকে তাকিয়ে ধীরস্বরে জিজ্ঞেস করেন,
—“পুরুষ মানুষ ছিল?”
হৃদিকা বাবার মুখে ফল তুলে দিতে দিতে শান্তভাবে উত্তর দেয়,
—“জি।”
এই উত্তরেই যেন অস্থির হয়ে ওঠেন দু’জনেই। চোখের ইশারায় নিজেদের মধ্যে অদ্ভুত এক নীরব বার্তা আদান-প্রদান করতে থাকেন তারা।
।
।
।
।
হাসপাতালে মাহিয়াকে একদিন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবাই চলে গেলেও তার সঙ্গে থেকে যান মা সামিনা ভুঁইয়া। মা-মেয়ের কথোপকথনের মাঝেই দরজা ঠেলে কেবিনে ঢোকে সায়হান। শব্দ পেতেই মাহিয়ার দৃষ্টি গিয়ে থামে তার ওপর। কালো টি-শার্ট ও কালো ব্যাগি প্যান্টের ওপর সাদা ডাক্তারি অ্যাপ্রন,সেই পরিচিত গম্ভীর অবয়ব।
মাহিয়া তাকে দেখে তাড়াতাড়ি উঠে বসে। সামিনা ভুঁইয়া মৃদু হেসে বলেন,
—“আরে সায়হান, আসো আসো। তুমি এখনো বাড়ি যাওনি?”
সায়হান এগিয়ে এসে মাহিয়ার ফাইল দেখতে দেখতে জবাব দেয়,
—“না আন্টি, এখনই যাবো। ভাবলাম যাওয়ার আগে আপনাদের একটু দেখে যাই।”
এই সময় সামিনা ভুঁইয়ার ফোনে কল আসে। কেবিনে নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না থাকায় তিনি করিডোরে চলে যান। রুমে একা পড়ে থাকে মাহিয়া ও সায়হান। ফাইল হাতে সায়হান তাকিয়ে বলে,
—“এখন কেমন লাগছে? আর পড়লে কীভাবে? চোখ কি পকেটে রেখে ঘুরে বেড়াও, নিজের রুমের আলমারিতে রাখো? নাকি মাথায়ই সমস্যা আছে?”
মাহিয়া সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়,
—“চোখ আপনার মন পকেটে রেখে চলি! আর মাথায় সমস্যা থাকতেই পারে,মাথাভর্তি আপনি যে ঘুরে বেড়ান!”
সায়হান কপাল কুঁচকে বলে,
—“মানে?”
মাহিয়া মুখ বাঁকিয়ে বলে,
—“আল্লাহ জানে, এমন মাথাভর্তি গোবর নিয়ে ডাক্তার হয়েছেন কিভাবে!”
সায়হান তাকে বিড়বিড় করতে দেখে কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকেন মাহতাবউদ্দিন ভুঁইয়া। বাবাকে দেখেই মাহিয়ার চোখ ভিজে ওঠে; দ্রুত শুয়ে পড়ে, মুখ ঘুরিয়ে নেয়। মেয়ের এই আচরণে মাহতাবউদ্দিন হেসে ফেলেন। সামিনা ভুঁইয়া মৃদু কণ্ঠে বলেন,
—“এবার যাও, মেয়ে অভিমান করেছে,অভিমান ভাঙাও।”
মাহতাবউদ্দিন এগিয়ে গিয়ে মেয়ের মাথায় হাত রাখেন, নানা কথা বলে তাকে মানানোর চেষ্টা করেন। তবু কাজ না হওয়ায় ইশারায় সামিনা ভুঁইয়াকে কিছু বলতে সাইড টেবিলের ওপর রাখা চকলেটের বাক্সটি সামনে ধরতেই মাহিয়া আড়চোখে তাকায়। মুহূর্তেই উঠে বসে বাবার হাত থেকে বাক্সটি নিয়ে অভিমান ভরা কণ্ঠে বলে,
—“তোমাকে কখন খবর দেওয়া হয়েছিল বাবা, আর তুমি এখন এলে? তোমার মেয়ের চেয়ে দল আগে,তাই না বাবা? যদি আমার বড় কিছু হয়ে যেত, তখনও কি এমন দেরি করে আসতে? জানো, আমার ভাই-ই ভালো,সে যখন শুনেছে আমি ব্যথা পেয়েছি, সঙ্গে সঙ্গে চলে এসেছে।”
মেয়ের অভিমান বুঝে মাহতাবউদ্দিন তার কপালে চুমু খেয়ে আশ্বাস দেন, পরবর্তিতে এমন আর হবে না। বাবা-মেয়ের এই খুনসুটি নীরবে দাঁড়িয়ে দেখছিল সায়হান, ঠোঁটে হালকা হাসি। এরপর মাহতাবউদ্দিনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলে কেবিন থেকে বেরিয়ে যায় সে।
।
।
।
।
কাউসার রহমান সাহিদা বেগমকে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে পাঠান, যেন দ্রুত রিলিজের ব্যবস্থা করা যায়। সাহিদা বেগম দুই মেয়েকে বাড়ির পথে পাঠিয়ে নিজে ডাক্তারের কাছে যান।
মাহিয়া ও রানিয়া সিএনজি করে বাড়ি ফিরছিল। হাসপাতাল থেকে বাড়ির দূরত্ব খুব বেশি না হলেও মাঝপথে একটি নির্জন রাস্তা পড়ে, যেখানে সচরাচর গাড়ি চলে না। কিন্তু চালক সেদিক দিয়েই যেতে থাকলে প্রথমে চুপ থাকলেও রানিয়ার মনে ভয় ঢুকে পড়ে। হৃদিকা চালককে জিজ্ঞেস করে,
—“আঙ্কেল, এইদিকে কেন যাচ্ছেন? সোজা রাস্তা দিয়েই তো যেতে পারতেন।”
চালক জানায়, এদিক দিয়ে দ্রুত যাওয়া যায়। তবুও তার আচরণ হৃদিকার কাছে স্বাভাবিক মনে হয় না। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত নামায় দুই বোনের মনেই অজানা আতঙ্ক জমে ওঠে।
হঠাৎ সিএনজি থেমে গেলে রানিয়া ভয় পেয়ে হৃদিকাকে জড়িয়ে ধরে। হৃদিকা তাকে আশ্বস্ত করে। চালক জানায়, তেল শেষ হয়ে গেছে। এতে রানিয়া কান্না শুরু করলে হৃদিকা ধমকে চুপ করিয়ে বলে, সামনে একটু হাঁটলেই মেইন রোড,সেখান থেকে সহজেই যানবাহন পাওয়া যাবে।
ভাড়া মিটিয়ে দু'বোন হেঁটে এগোতে থাকে। কিছুদূর যাওয়ার পর পেছনে পায়ের শব্দ শুনে হৃদিকা থেমে যায়। পিছনে তাকিয়ে রানিয়াকে বলে,
—“তুই হাঁটতে থাক, একটুও পিছনে ফিরবি না। আমি তোর পিছনেই আছি। দৌড়া, রানিয়া!”
রানিয়া দৌড়াতে শুরু করে এবং অনেকটা পথ পেরিয়ে মেইন রোডে পৌঁছে যায়। ভয়ে পিছনে তাকাতেও সাহস পায় না। ঠিক তখনই কাঁধে হাত পড়তেই চমকে ওঠে সে।
—“আরে, আমি… ভয় পাস না, চল।”
হৃদিকার কণ্ঠ শুনে ঘুরে তাকাতেই রানিয়া তাকে জড়িয়ে ধরে। হৃদিকা তাকে শান্ত করে সামনে এগিয়ে একটি রিকশা নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেয়।
বাড়িতে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে তারা নিজ নিজ রুমে যায়। রানিয়ার চোখ পড়ে টেবিলের ওপর রাখা ফুলের বুকে-র দিকে। সকালে দেখেও তখন জিজ্ঞেস করা হয়নি, এবার সে প্রশ্ন করে,
—“আপু, এটা কি তুই বাবার জন্য এনেছিলি?”
হৃদিকার মনে পড়ে সকালের ঘটনা। সবকিছু লুকাতে সে মাথা নেড়ে বলে, হ্যাঁ,এটা বাবার জন্যই আনা হয়েছিল।
রাত গভীর হলে রানিয়া ঘুমিয়ে পড়ে। হৃদিকা আলমিরা খুলে বক্সটি বের করে খাটের পাশে বসে। খুলবে কি খুলবে না,এই দ্বিধায় কিছুক্ষণ কাটিয়ে শেষমেশ সাহস করে বক্সটি খোলে। খুলতেই তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যায় একটি হলুদ কামিজ, সঙ্গে সাদা সালোয়ার-ওড়না, আর একটি হলুদ জর্জেট শাড়ি। সবকিছুর শেষে একটি চিরকুট পায় সে,চিরকুটে লেখা-
“প্রিয় হলুদিয়া,
হলুদটা আমার কাছে শুধুমাত্র একটি রঙ নয়,এ যেন নরম রোদ, একটুখানি শান্তি, আর অদ্ভুতভাবে তোমার কথা মনে করিয়ে দেয়। তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম, সেদিনও তুমি হলুদে ছিলে; দ্বিতীয় দিনও তাই। চুলে গাজরা, আর সেই চোখ,যা সবার নজর কাড়ে। সেদিন থেকেই এই রঙটার মানে বদলে গেছে আমার কাছে। সবার কাছে হলুদ মানে উজ্জ্বলতা, আনন্দ; কিন্তু আমার কাছে হলুদ মানে,তুমি। তোমার হাসি যেমন নরম, তেমনই উজ্জ্বল; তোমার উপস্থিতি সকালের রোদের মতো মৃদু, কিন্তু একবার ছুঁয়ে গেলে সারাজীবন ছুঁতে ইচ্ছে করবে। এখন থেকে বেশি করে হলুদ রঙ পরার চেষ্টা করবে।
তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী।”
চিরকুটটি পড়ে হৃদিকা গভীর ভাবনায় ডুবে যায়,কে হতে পারে, যে তাকে এত গভীরভাবে লক্ষ্য করেছে? কিছুক্ষণ পর কাপড়গুলো আলমিরায় তুলে রেখে বক্স ও ফুলের বুকে-টি সরিয়ে রাখে। তারপর শুয়ে পড়ে, কপালে হাত রেখে নানা চিন্তার ভিড়ে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে সে।
।
।
।
।
নির্জন জায়গা থেকে সিএনজি চালককে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনা হয়। লোকটি আগেই গুরুতর জখম ছিল,চোখের পাশে কিছু বিঁধে আছে, শরীর ক্লান্ত ও অসহায়। দু’জন মিলে তাকে একটি কালো গাড়িতে তোলে।পুরোনো এক গুদামঘরের সামনে এনে তাকে ভিতরে নেওয়া হয়। সেখানে একটি চেয়ারে বেঁধে রাখা হয় লোকটিকে।
ঘরে ঢুকেই সম্রাটের ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটে ওঠে, কিন্তু মুহূর্তেই তা মিলিয়ে যায়, যখন সে বুঝতে পারে লোকটি আগেই জখম। রিয়েলের দিকে তাকিয়ে রাগমিশ্রিত স্বরে বলে,
—“কে মারছে? আমি বলিনাই,তারে আমি নিজ হাতে তারে মারমু।”
রিয়েল শান্তভাবে জবাব দেয়,
—“ভাই, লোকটা আগেই জখম ছিল। আমরা যাইতে যাইতে দেখি, মাটিতে পড়ে আছে।”
সম্রাট তখন রিয়েলকে হাসপাতালে রেখে এসেছিল, যেন হৃদিকাকে নজরে রাখা যায়। কিন্তু পথে হঠাৎ এক লোক গাড়ির সামনে পড়ে যাওয়ায় তারা হৃদিকাদের চোখের আড়াল করে ফেলে। পরে ঘুরে এসে রিয়েল দেখতে পায়,সিএনজি দাঁড়িয়ে আছে, আর একজন লোক হৃদিকার সঙ্গে জোরজবরদস্তি করছে। অস্ত্র আনতে গাড়ির দিকে ছুটে গিয়ে ফিরে এসে হৃদিকাকে আর না পেলেও জখম অবস্থায় চালককে পায়।
গুদামঘরে ফিরে সম্রাট ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। তার ভেতরের রাগ আর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঠান্ডা অথচ তীব্র কণ্ঠে বলে,
—“দুনিয়ায় মানুষ কম পড়ছিল? তুই আমার জিনিসের দিকেই নজর দিলি?”
সম্রাট আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। ছুরিটা তুলে নিয়ে লোকটার আঙুলের ওপর চেপে ধরল। ধীরে, নিষ্ঠুর এক ছন্দে তাকে যন্ত্রণা দিতে শুরু করল। পাশে দাঁড়ানো একজনকে ইশারা করে বলল মরিচের গুঁড়ো আনতে।
গুঁড়ো এনে দিতেই সে ঠান্ডা মুখে ক্ষতস্থানে ছড়িয়ে দিল। যন্ত্রণায় লোকটা ছটফট করতে লাগল।সম্রাট রিয়েলকে চোখের ইশারায় বলল মুখের বাঁধন খুলে দিতে। কাপড় সরাতেই লোকটার আতঙ্কমিশ্রিত চিৎকারে পুরো গুদামঘরের বেজমেন্ট কেঁপে উঠল।
এরপর সম্রাট ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল,রুমের একটা কোণায় রাখা আধভাঙা কাঠের আলমারির দিকে। ভেতর থেকে একটি চাপাতি বের করল। কিছুক্ষণ সেটার ধার পরীক্ষা করে আবার লোকটার সামনে ফিরে এল। তার চোখে তখন অদ্ভুত এক উন্মাদনা।
আঙ্গুল তাক করে এক কোপ বসিয়ে দেয়।আর আরেক কুপ বসায় লোকটার বুকের ছাতিতে, কুপিয়ে তার কলিজাটা বের করে এনে টেবিলের উপর রাখে,একদলা থুথু মেরে দেয়।বিরাট অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে সম্রাট,
—“আরে শা'লা,এইটুকুনি কলিজা নিয়া সম্রাটের হবু বউ-এর দিকে হাত বাড়াইছে।উফফফ প্লিজ রে!শুধু শুধু নিজের প্রাণটা হারাইলিরে চান্দু।”
নিথর দেহটার দিকে অবহেলায় এক লাথি মেরে সরে দাঁড়ায় সে। তার চেহারায়, চোখে-মুখে জমে থাকা রক্তের ছাপ তাকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে,যেন সদ্য কোনো অন্ধকার থেকে উঠে এসেছে।
এরপর রিয়েলকে ডেকে বেজমেন্টের আরেকটা ঘরে লোকটার দেহাবশেষ টুকু এসিডে ডুবিয়ে দিতে বলে।তার অস্তিত্ব টুকুও যেনো কেউ না পায়।
রিয়েল নিঃশব্দে মাথা নাড়ে। আর সম্রাট স্থির দাঁড়িয়ে থাকে,চোখে জ্বলতে থাকা অদ্ভুত, গভীর অন্ধকার নিয়ে।
চলবে_
[ভুলত্রুটি হলে মার্জনা করবেন।আপনারা গল্পটা পড়ে কোনো রেসপন্স করেন না কেনো? গল্প দিতে দেরি করলে তো ঠিকই কথা শুনাতে চলে আসেন।বেশি বেশি রেসপন্স করবেন রিয়েক্ট কমেন্ট করবেন।]
গ্রুপ লিংক:
https://facebook.com/groups/1436147001028443/