উপন্যাস:হৃদয়ের ত্রিকোণ অধ্যায়
লেখিকা:ফারিহা জান্নাত
পর্ব:২
বিকেলের দিকে যখন আকাশ পুরোপুরি কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিলো জারা তখন কলেজের গেট পার হয়ে জোড়ে জোড়ে হাটতে লাগলো তার উদ্দেশ্যে একটাই তাড়া তাড়ি একটা রিক্সা ধরে বৃষ্টি আসার আগেই বাড়ি ফিরতে হবে।
ঠিক তখনি একটি চেনা কন্ঠ জারাকে পিছন থেকে ডাকলো
-"এই জারা কোথায় যাও? বৃষ্টি নামবে এখনি ভিজে যাবে তো।"
জারা পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলে নিলা ডাকছে তার সাথে আয়াত এবং ইনায়া ও আছে।
জারা দ্রুত কন্ঠে বললো,"আমাকে বৃষ্টির আগে বাড়ি ফিরতে হবে।"
জারার কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে মুশলধারে বৃষ্টি নামলো।জারা দৌরে ইনায়াদের সাথে পাশের একটি দোকানে গিয়ে দাড়ালো।জারা আয়াত কে বললো,"তুমি কি আমার উপর রেগে আছো?"
আয়াত বললো,"না রেগে থাকবো কেনো?"
জারা আবার বললো,"না মানে আমি আজকে ইনায়ার সাথে বসেছিলাম তাই।"
আয়াত বললো," না সমস্যা নাই।"
জারা বললো,"আচ্ছা আমরা আজ থেকে বন্ধু?"
আয়াত ভীত চোখে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বললো,"তুমি ওকে বলো।"
এদিকে ইনায়ার ওদের দিকে কোনো মন নেই ও আপন মনে বৃষ্টি দেখতে ব্যাস্ত
জারা নিরবতা কাটিয়ে বললো,"আচ্ছা ও কি কথা বলে না?"
আয়াত বললো,"না খুব কম কথা বলে ও।বললেও বুজে শুনে বলে।এই দেখো আমি আর নিলা ক্লাসের সবার সাথে আমাদের ভালো সম্পর্ক কিন্তু ওর শুধু আমার আর নিলার সাথেই ভালো সম্পর্ক।"
জারা বললো,"হুম বুঝলাম।"
জারা এবার ইনায়ার উদ্দেশ্য বললো,"ইনায়া আমরা কি বন্ধু হতে পারি?আমি কি তোমার বন্ধু মহলের আরেকজন সদস্য হতে পারি?"
ইনায়া ধীর কন্ঠে বললো,"আচ্ছা।"
ওদের কথার মাঝে বৃষ্টি হটাৎ থামলো।ইনায়াদের গাড়ি এসে তাদের ৪ জনের সামনে দাড়ালো। ইনায়া ও আয়াত জারা ও নিলার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়ি তে উঠতে যাবে ঠিক এমন সময় বাইক নিয়ে তাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেলো মেহরাব খান। মেহরাব খানের যাওয়ার পানে ইনায়া এক পলক তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলো কিন্তু জারা নিলা ও আয়াত তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে ছিলো বেশ কিছুক্ষণ।
ইনায়া ধমকের স্বরে বললো,"আহাম্মক এর মতো তাকিয়ে আছিস কেন তোরা?যা তোরা বাসায় যা আর আয়াত গাড়িতে ওঠ তাড়া তাড়ি। "
আয়াত থতমত খেয়ে জারা ও নিলার পানে তাকিয়ে বললো,"আল্লাহ হাফিজ।কাল দেখা হবে।"বলে আায়ত গাড়িতে উঠে গেলো
নিমিষেই তাদের গাড়ি চলে গেলো।জারা ও নিলা নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময় করে যে যার মতো রিক্সা করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
***
গাড়ি এসে থামলো চৌধুরী বাড়ির সামনে।ইনায়া ও আয়াত গাড়ি থেকে নেমে চৌধুরী বাড়িতে প্রবেশ করলো।আয়াত চৌধুরী মহলে প্রবেশ করতেই সামনে আরিশা চৌধুরী কে দেখতে পেলো।আরিশা চৌধুরী কে দেখে ও জড়িয়ে ধরে বললো,"মিস ইউ বড়ো আম্মু!"
আরিশা চৌধুরী ও মেয়ের কপালে একটু চম্বন একে দিলেন
ইনায়া দূর থেকে তাদের ভালোবাসা দেখছিলো ও মুচকি মুচকি হাসছিলো।
তারপর করিডরে প্রবেশ করলো রাফিয়া চৌধুরী। রাফিয়া চৌধুরী কে দেখে আয়াত বললো,"কেমন আছো ছোট আম্মু?"
রাফিয়া চৌধুরী বললো,"আলহামদুলিল্লাহ ভালো।তুই?
আয়াত হাসি মুখে বললো, "আলহামদুলিল্লাহ ভালো।আরিয়ান কোথায় ছোট আম্মু?
রাফিয়া চৌধুরী বললো," দেখ হয়তো বাহিরে কোথাও খেলতে গেছে।ছেলেটা যত বড় হচ্ছে তত আরো নাগালের বাহিরে যাচ্ছে। কারো কথা শোনে না।ইনায়া কে দেখে একটু ভয় পায় কিন্তু কথা শোনে শুধু ইয়ান আর আয়ান এর।
বড় আম্মু এবার ছোট আম্মুকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,"যা তোরা উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয় আমি খাবার লাগিয়ে দিচ্ছি। "
যথারীতি ইনায়া ও আয়াত নিজের নিজের রুমে গেলো ফ্রেশ হতে।
কোনো একটা ভুল বোঝা বুঝির কারণে হয়তো ইনায়ার বাবা সাফওয়ান চৌধুরী ও আয়াত এর বাবা আরহাম চৌধুরী এক বাড়িতে থাকে না কিন্তু চৌধুরী বাড়িতে আয়াত ও আয়ান এর জন্য আলদা রুম আছে।এমন কি চৌধুরী গ্রুপের বর্তমান সিও আয়ান চৌধুরী। ও সব দেখা শোনা করে।
ইনায়া ও আয়াত নিচে নামতেই দেখতে পেলো আরিয়ান চৌধুরী বাড়িতে প্রবেশ করলো মাত্র
আয়াত আরিয়ানের কাছে গিয়ে মাথায় টোকা মেয়ে বললো,"কিরে কই ছিলি এতক্ষণ!?তোকে কত খুজলাম।"
আরিয়ান বললো,"উফ আপু মারো কেন খেলতে গেছিলাম আমি।"
ইনায়া আরিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বললো,"যা ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়।একসাথে খাবো।"
আরিয়ান পিছনে না ফিরে উত্তর দিলো,"আসছি ৫ মিনিট"
সহসা ইনায়া ও আয়াত খেতে বসেছে। আরিশা চৌধুরী ওদের জিজ্ঞেস করলেন,"ইয়ান কোথায় ওকে দেখেছো?"
ইনায়া ধীর কন্ঠে বললো,"জানি না। দেখো হয়তো আয়ান বা রিয়ান এর সাথে আছে।"
ঠিক তখনি কেউ একজন চৌধুরী মহলের দরজার ওইখান থেকে চিৎকার করে বলে উঠলো," I am hare."
সহসা৷ সবাই দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো ইয়ান এসেছে। ইয়ান সোজা খাবার টেবিলের সামনে গিয়ে আয়াত কে উদ্দেশ্য করে বললো,"কিরে পেত্নী তুই এখানে কেনো?তুই থাকবি তেঁতুল গাছে।"
বলতেই আয়াত উঠে গিয়ে ইয়ান কে বললো,"দারা হারামি দেখ তোকে এবার কি করি?"
ইয়ান ও আয়াত এর খুনসুটি দেখে সবাই হেসে উঠলো।চৌধুরী মহলের প্রাণ ই হলো ইয়ান,আয়াত ও আরিয়ান।বাড়ির বড় মেয়ে হওয়ার কারণে ইনায়াকে সবাই চোখের মণি করে রাখে।তার বাবার আদরের রাজকন্যা সে।ছোট বেলা থেকে কোনো চাওয়া অপূর্ণ রাখে নি ওর। বাবা যদি কিছু দিতে একটু দেড়ি করেছে আয়ান তার আগে ওর সব চাওয়া পূরণ করে দিছে।আয়ান এর কথা না বললেই না চৌধুরী বাড়ির বড় ছেলে আয়ান বলে কথা।
আরিয়ান আসতেই আয়াত আরিয়ান ইনায়া ও ইয়ান খেতে বসলো।
বড় আম্মু ও ছোট আম্মু মিলে তাদের খাবার পরিবেশন করতে লাগলো।খাওয়ার মাঝে হটাৎ ইয়ান বলে উঠলো,"এখন আয়ান ভাইয়া থাকলে কতই না ভালো হতো খাবার টেবিল টা পরিপূর্ণ লাগতো।"
ইয়ান এর কথায় সাথে আয়াত ও আরিয়ান সাই দিলো কিন্তু ইনায়া একটু মনে মনে বিরক্ত হলো।
ইয়ান আয়ানের নাম্বারে কল লাগালো
-"ভাইয়া তুমি কই?"
আয়ান বললো-"এইতো কাজে একটু বাহিরে আছি।"
ইয়ান বললো,"ভাইয়া বাসায় এসো খাবার খেয়ে যাও।আমারা তোমার জন্য আপেক্ষা করছি। "
আয়ান বললো,"কে কে অপেক্ষা করতেছিস?"
ইয়ান বললো,"আমি আয়াত আরিয়ান"
আয়ান বললো,"আর ইনায়া?"
ইয়ান বললো, "আসো আগে তুমি"
আয়ান বললো আচ্ছা দারা,"আমি আসছি ৫ মিনিট।একটা কাজ আছে ওটা সেরে আসতেছি।"বলে আয়ান কল রেখে দিলো
ঠিক ৫ মিনিট পর চৌধুরী বাড়ির সামনে আয়ান এর বাইক এসে থামলো। আয়ান বাড়িতে প্রবেশ করতে করতে দেখলে ইনায়া খাওয়া শেষ করে উঠে যাচ্ছে। ও এক পলক ইনায়ার দিকে তাকালো।ইনায়া তাকাতেই দুজনের চোখাচোখি হলো কিন্তু ইনায়া সেদিকে কোনো ভুরু ক্ষেপ করলো না ও নিজের রুমে চলে গেলো।
আয়ান আসতেই ৩ ভাই বোন যেনো খুশির ঝলক দেখতে পেলো।
খাওয়া শেষে যে যার রুমে চলে গেলো। আয়ান একটু বিশ্রাম নিয়ে আয়াত কে বাসায় যাওয়ার কথা বলে নিজের কাজে চলে গেলো।
খাবার শেষ করে আরিয়ান চলে গেলো ইয়ান এর রুমে গিয়ে বললো,"ভাইয়া চলো বাহিরে যাই একটু ঘুরে আসি।"
সহসা ইয়ান ও আরিয়ান বাহিরে চলে গেলো
সন্ধার দিকে আয়াত ইনায়া ও বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চৌধুরী মহল ত্যাগ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
চলবে.....