ফন্ট সাইজ:
থিম:
মেঠোপথের ওপারে

১ম পর্ব

লেখক: safa tasnim

এটা আমার প্রথম তাই কেউ খারাপ মন্তব্য করবেন না। আশা করবো সকলের কাছে ভালো লাগবে। 

★★★★★★
কিছু পথ গন্তব্যে নিয়ে যায়। 
আর কিছু পথ মানুষ-কে এমন একজেনের কাছে নিয়ে যায়, যার সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা ছিলো না।
শহর থেকে গ্রামের দিকে চলে যাওয়া সেই সরু মেঠো পথটা-ও ছিলো তেমন-ই।
পথটার এক পাশে ধান ক্ষেত, অন্য পাশে পুরোনো তাল গাছের সারি।বর্ষায় পথের দু'পাশে পানি জমে থাকতো, শীতে ধুলোর আস্তরন পড়তো,আর বিকেলের শেষ আলোয় পথটা দূর থেকে মনে হতো–কোথাও গিয়ে হারিয়ে গিয়েছে।কিন্তু গ্রামের মানুষ জানতো —
মেঠোপথ-টা হারিয়ে যায়নি। 
ওপারে একটা পুরোনো নদী আছে৷ 
আর নদীর ওপারে আছে এমন কিছু গল্প, যেগুলো গ্রামের মানুষ বহু বছর ধরে কাউকে বলেনি। 
★★★★★
—আমি কিন্তু বলে দিচ্ছি, এই জায়গায় আমি এক সপ্তাহের বেশি থাকবো না। 
গাড়ির জানালায় মাথাটা ঠেকিয়ে কথাটা বললো শাওন দেওয়ান। 
পঁচিশ বছরের শাওন শহরের ব্যস্ত জীবনে-ই অভ্যস্ত।বড় বড় রাস্ত, অফিস,কফি-শপ, মানুষের ভির –এসব-ই তার পরিচিত। 
অথচ গত তিন ঘন্টা ধরে সে যে রাস্তা দিয়ে আসছে, সেখানে একটা ট্রাফিক সিগন্যাল-ও নেই। 
সামনের সিট থেকে সাজিদ হেসে বললো,
—এক সপ্তাহ?  তুই তিন দিন পরে-ই পালানোর রাস্তা খুঁজবি। 
পাশ থেকে মাসুম হেসে বললো,
—পালাবে কিভাবে? চারপাশে শুধু ধানক্ষেত। 
ইবাদুল যোগ করলো,
—আর তুই যেই রাস্তা দিয়ে এসেছিস, সেটা আবার চিনবি কিভাবে?
শাওন বিরক্ত হয়ে দুজনের দিকে তাকালো।
—তোরা দুজন আমার বন্ধু নাকি শত্রু?
মাসুম হেসে বললো, 
—দুটো-ই।   
শাড়ির ভেতর হাসির শব্দ ছড়িয়ে পরলো।
শাওন আর কিছু বললো না। 
জানালার বাইরে তাকাল।
শহর অনেক আগে-ই শেষ হয়ে গেছে।এখন শুধু সবুজ। 
অনেক দূরে একটা মাটির রাস্তা ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে।
রাস্তার পাশে একটা মেয়ে হাঁটছে। 
সাদা-হলুদ রঙের পোষাক,হাতে কয়েকটা বই।
শাওনের চোখ অজান্তে-ই সেদিকে চলে গেল।
তারপর গাড়িটা হঠাৎ একটা গর্তে পরে ঝাকুনি খেল।
—উফ!
শাওন সামলে বসতে না বসতে-ই সামনের মেয়েটা ঘুরে দাঁড়ালো । 
তারপর—
একটা হাত তুলে গাড়িটা-কে থামার ইশারা করল।
ড্রাইভার ব্রেক করলো।
শাওন বিরক্ত হয়ে জানালা নামিয়ে বললো,
—কি হয়েছে? 
মেয়েটি এগিয়ে এসে শান্ত গলায় বলল,
—আপনার গাড়িটা একটু আগে রাস্তার পাশের দা-টা আমার উপর ছিটিয়ে দিয়েছে। 
শাওন একবার তার পোষাকের দিকে তাকাল।
সত্যি-ই নিচের অংশে সামান্য কাদা লেগেছে। 
—সরি। 
মেয়েটা অবাক হলো।
মনে হলো সে হয়তো অন্য কিছু আশা করেছিল।
কিন্তু তারপর বলল,
—শুধু সরি বললে-ই হবে?
শাওন ভ্রু তুলল।
—আর কি করতে হবে?
—আগে রাস্তা দেখে গাড়ি চালাতে শিখুন।
পেছন থেকে মাসুম মুখ ঘুড়িয়ে হাসি আটকানোর চেষ্টা করলো। 
শাওনের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
—আপনি কি সবার সঙ্গে-ই এভাবে-ই কথা বলেন?
মেয়েটা বলল,
—যারা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অন্যের পোষাক নষ্ট করে,তাদের সাথে-ই বলি।
শাওন কিছু বলল না। 
মেয়েটা বইগুলো ঠিক করে নিয়ে হাটতে শুরু করলো। 
ইবাদুল গাড়ির দরজা খুলে নিচে নামতে নামতে বলল,
—ভাই মেয়েটা তোকে হারিয়ে দিল।
শাওন তাকাল।
—চুপ কর।
শাড়ি আবার চলতে শুরু করলো।
কিছুদূর যাওয়ার পর শাওন পিছনের আয়নায় তাকাল।
মেয়েটা তখন-ও হাঁটছে। 
কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার–
রাস্তার একটা জায়গায় গিয়ে সে থেমে গেল।
তারপর মেঠোপথের দিকে তাকিয়ে রইলো।
যেন পথটার ওপারে কিছু একটা আছে।
যেটা সে ছাড়া আর কেউ জানে না।
*****
দেওয়ান বাড়িতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।
পুরোনো বাড়িটা আগের মতো-ই দাড়িয়ে আছে।
বড় ফটক।লম্বা বারান্দা। পুকুর।তার পিছনে সেই বিশাল আম বাগান।
শাওন গাড়ি থেকে নামতে-ই তার ছোটো ভাই বোনেরা ছুটে এল।
সূচনা এসে বলল,
—ভাইয়া!
সাজিদ-কে দেখে মিহি আর স্বর্ণ-ও এগিয়ে এলো।
বাড়ি-টা হঠাৎ মানুষের শব্দে ভরে উঠল।
শুধু শাওন চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
তার চোখ আটকে গেল বাড়ির পেছনের দিকে।
একটা সরু মেঠোপথ।
বাড়ির সীমানা পেড়িয়ে পথটা ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে চলে গেছে। 
সে মেহেদী কাকার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
—ওই রাস্তা কোথায় গেছে?
মেহেদী কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
—ওপারে। 
—ওপারে কোথায়?
—নদীর কাছে।
শাওন আবার জিজ্ঞেস করল,
—তারপর?
মেহেদী কিছুক্ষণ এবার হালকা হেসে বলল,
—তারপর আর কিছু নেই। 
কথাটা অদ্ভুত লাগল শাওনের কাছে।
কারণ একটা রাস্তার শেষে কিছু না কিছু থাকে। 
কিন্তু মেহেদী এমনভাবে বলল—
যেন রাস্তার ওপারের কথা-টা বলা নিষেধ। 
***
সেই রাতে-ই শাওন স্নিগ্ধার নাম জানতে পারল।
খাওয়ার টেবিলে কথা বলতে বলতে সূচনা হঠাৎ বললো,
—আজকে স্নিগ্ধার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। 
শাওন থমকে গেল। 
—স্নিগ্ধা কে? 
সূচনা অবাক হয়ে বললো, 
—তুমি জানো না? 
—না। 
—তালুকদার বাড়ির মেয়ে।
শাওনের হাতে থাকা গ্লাসটা থেমে গেল।
তালুকদার। 
এই নামটা সে ছোটোবেলা থেকে শুনেছে। 
দেওয়ান আর তালুকদার—গ্রামের সবচেয়ে পুরোনো দুই বাড়ি।
কিন্তু বহু বছর ধরে তাদের মধ্যে আগের মতো সম্পর্ক নেই। 
শাওন সহজভাবে বলল,
—ওদের সাথে আমাদের কি সমস্যা?
টেবিলটা হঠাৎ নিরব হয়ে গেল। 
কেউ উত্তর দিলো না।
শেষ পর্যন্ত মেহেদী কাকা বলল,
—সব প্রশ্নের উত্তর এখন-ই জানতে নেই।
শাওন তাকিয়ে রইলো। 
—কেন??
—সময় হলে নিজে-ই বুঝবি।
*****
পরদিন সকালে শাওন একা বের হলো।
কেন যেন তার পা বারবার সেই মেঠোপথের দিকে যাচ্ছিল।
পথটা ধরে হাঁটতে হাঁটতে সে অনেক দূরে চলে গেল।
চারপাশে শুধু বাতাস। 
ধানের শীষ দুলছে।
পাখির ডাক। 
দূরে নদীর শব্দ।
হঠাৎ সামনে সেই মেয়েটা-কে দেখতে পেল।
স্নিগ্ধা।
সে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে ছিল।
শাওন কিছুক্ষণ দূর থেকে তাকিয়ে রইলো। 
স্নিগ্ধা তাকে দেখে বলল,
—আপনি আবার? 
শাওন বলল,
—মনে হচ্ছে এই পথটা আপনার-ও খুব পরিচিত। 
স্নিগ্ধা নদীর দিকে তাকিয়ে বলল,
—এই পথটা ছোটোবেলা থেকে চিনি।
—ওপারে কি আছে??
স্নিগ্ধা এবার তার দিকে তাকাল।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
—সবাই ভাবে ওপারে শুধু নদী আছে। 
শাওন ভ্রু ।
—আসলে?
স্নিগ্ধা মৃদুস্বরে বলল,
—আসলে ওপারে গেলে মানুষ অনেক কিছু জানতে পারে।
—কি জানতে পারে?
স্নিগ্ধা উত্তর দিল না। 
শুধু মেঠোপথটার দিকে তাকিয়ে বলল,
—কিন্তু সবাই-র সবকিছু জানা উচিৎ-ও না। 
শাওন কিছু বলার আগে-ই সে চলে গেল।
শাওন দাঁড়িয়ে রইল।
তার মনে হলো—
গতকাল যে মেয়েটার সঙ্গে তার ঝগড়া ,সে হয়তো গ্রামের একটা সাধারণ মেয়ে নয়।
তার চোখে এমন কিছু আছে–
যেন সে এই গ্রামের অনেক গল্প জানে।
সেই গল্পের কোনো একটা অংশের সাথে শাওনের পরিবারের সম্পর্ক আছে।
শাওন ধীরে ধীরে মেঠোপথটার দিকে তাকাল।
তারপর নিজের অজান্তেই বলল,
—তাহলে দেখি..... ওপারে আনলে কি আছে।
দূরে তখন বাতাসে ধানের শীষ দুলছিল। 
আর মেঠোপথটা চলে যাচ্ছিল আরো দূরে।
ওপারে –
যেখানে অপেক্ষা করছিল,একটা পুরোনো সত্য।
কিছু অসমাপ্ত সম্পর্ক। 
আর এমন এক ভালোবাসা, 
যার শুরু হয়েছিলো ভুল বুঝাবুঝি দিয়ে।
............
সকালের দেওয়ান বাড়ি আর রাতের দেওয়ান বাড়ির মধ্যে যেন আকাশ পাতাল পার্থক্য। 
রাতে যে বাড়িটা-কে এতো নীরব মনে হয়েছিল,
সকাল হতে-ই সেই বাড়িটা মানুষের কোলাহলে ভরে উঠেছে।
কোথাও কারো হাসির শব্দ, কোথাও ছোটোদের দৌড়াদৌড়ি, আবার কোথাও রান্না ঘর থেকে ভেসে হাড়ি-পাতিলের শব্দ। 
শাওন ঘুম থেকে বারান্দায় এসে তার সামনে দিয়ে একটা বালিশ উড়ে গেল।
—এইইই!ধর!
চমকে গিয়ে শাওন বালিশটা ধরে ফেলল।
সামনে দাড়িয়ে সায়মন হাঁপাচ্ছে। 
—ভাইয়া! দেন! দেন! মাহিন-কে মারবো। 
শাওন বালিশটা হাতে নিয়ে শান্তভাবে বলল,
—তুই মাহিনকে বালিশ দিয়ে মারবি কেন??
সায়মন গম্ভীর মুখে বলল,
—ও আমার ডিম-টা খেয়ে ফেলেছে। 
শাওন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
—ডিমের জন্য যুদ্ধ? 
—ওটা আমার ডিম ছিল!
পেছন থেকে মহিন চিৎকার করে বলল,
—মিথ্যা!ডিম-টা ফ্রিজে ছিল।
তহিন-ও এসে যোগ দিলো।
—আর ফ্রিজে যে ডিম থাকে,সেটা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি না।
সায়মন রাগী চোখে তাকাল।
—তোমরা দুজন সব সময় ওর পক্ষ নেও।
শাওন হেসে ফেলল।
—তোদের বয়স কি চৌদ্দ পনেরো, নাকি এখনো পাঁচ? 
মাহিন সঙ্গে সঙ্গে বলল,
—ভাইয়া! আপনি শহরে থেকে অনেক বড় হয়ে গেছেন।আমরা কিন্তু গ্রামের মানুষ। 
শাওন মাথা নাড়লো। 
—হ্যা, সেটা বুঝতে পারছি।
ঠিক তখন-ই পিছন থেকে সাজিদের গলা শোনা গেল।
—শাওন, নিচে আয়।সবাই নাশতা করছে।
শাওন সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে দেখল,সাজিদ এক হাতে ফোন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। 
শাওন বলল,
—সকাল সকাল ফোনে কি করিস?
সাজিদ ফোনটা লুকিয়ে ফেলল,
—কিছু না।
শাওন মুচকি হাসল,
—কিছু না মানে?
—কিছু না। 
—স্বর্ণ-কে মেসেজ করছিলি?
সাজিদ থমকে গেল। 
—তুই এত কিছু কিভাবে বুঝিস?
শাওন হেসে বলল,
—ভাই হয়ে এতোটুকু তো বুঝতে-ই পারি।
সাজিদ বিরক্ত হয়ে বলল,
—তুই নিজের জীবন নিয়ে ভাব।
—আমি তো ভাবছি-ই। 
—তাহলে ভালো।
দুজন নিচে নামতে নামতে একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসল।
******
ডাইনিং রুমে তখন প্রায় সবাই বসে গেছে।
মাহবুব দেওয়ান মাথার পাশে চশমা রেখে খবরের কাগজ পড়ছেন।
মাকসুদ দেওয়ান চুপচাপ চা খাচ্ছেন। 
মেহেদী দেওয়ান রান্না ঘর থেকে বারবার কার-ও না কার-ও জন্য কিছু নিয়ে আসছেন।
স্বর্ণ আর মিহি পাশাপাশি বসে কথা বলছে।
সূচনা এক পাশে বসে মোবাইল দেখছে।
শাওন ঢুকতে-ই স্বর্ণ বলল,
—এই যে শহরের সাহেব!এত দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে?
শাওন চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল,
—গ্রামে এসে প্রথম দিনে-ই যদি সকাল ছয়টায় উঠতে হয়, তাহলে শহরে থাকা-ই ভালো।
মিহি হেসে বলল,
—কি হয়েছে?গ্রামের বাতাসে ঘুম বেশি হয়েছে?
—হ্যা। 
—নাকি রাতে ভুত দেখছো?
শাওন তাকাল। 
—তুই ভুতে বিশ্বাস করিস?
মিহি বলল,
—না। 
সায়মন সঙ্গে সঙ্গে বলল,
—আমি করি।
মাহিন বলল,
—তুই সব কিছুতে-ই বিশ্বাস করিস।
—আমি বাস্তববাদী। 
তহিন হেসে বলল,
—তুই শুধু খাবারের ব্যাপারে বাস্তববাদী। 
সবাই হেসে উঠল।
সায়মন মুখ গোমড়া করে বসে রইল।
_______
খাওয়ার মাঝখানে সূচনা হঠাৎ বলল,
—ভাইয়া!
—হুম?
—কাল তুমি যার সাথে ঝগড়া করেছিলে,তাকে কিন্তু আমি চিনি।
শাওন ভ্রু তুলল।
—কাকে? 
—স্নিগ্ধা-কে। 
স্বর্ণ এবার কৌতূহল নিয়ে তাকাল।
—তুই স্নিগ্ধার সঙ্গে ঝগড়া করেছিস?
শাওন শান্ত ভাবে বলল,
—ঝগড়া করি নি। 
মিহি বলল,
—তাহলে?
—ওর সঙ্গে একটু কথা হয়েছে।
সূচনা হেসে বলল,
—তোমার সঙ্গে যে মেয়ের কথা হয়,সেটা যদি একটু কথা হয়, তাহলে ঝগড়া কাকে বলে?
সাজিদ হাসতে হাসতে প্রায় চা ফেলে দিল।
শাওন বিরক্ত হয়ে বলল,
—তোরা সবাই আমার বিরুদ্ধে কেন?
মাহবুব দেওয়ান খবরের কাগজের আড়াল থেকে বলল,
—কারণ তুই শহর থেকে এসে দুই দিনের মধ্যে গ্রামের মানুষের সঙ্গে ঝামেলা শুরু করেছিস।
শাওন বলল,
—আমি ঝামেলা করি নি। 
মেহেদী কাকা হেসে বললেন,
—তাহলে মেয়েটা করেছে?
সবাই আবার হেসে উঠল।
শাওন মাথা নিচু করে নাশতায় মন দিল।
_________
অন্য দিকে তালুকদার বাড়িতে-ও সকালটা কম ব্যস্ত নয়। 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন