ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার নীল নেশা

২০তম পর্ব

লেখক: ফাতেমা ফারিয়াল

#তুমি_আমার_নীল_নেশা [পর্ব সংখ্যা -২০]

#লেখনিতে_ফাতেমা_ফারিয়াল 
শো-রুম থেকে বেরিয়েই একটা কোরিয়ান রেস্টুরেন্টে এসে বসল সামির, পিহু আর চেরি। কেনাকাটা কিন্তু এখনো শেষ হয়নি, বরং মেলা কিছু এখনো বাকি। পিহুর জন্য এ টু জেড নতুন করে কিনতে হবে। তদুপরি, আগামীকাল চেরিরও স্কুলে ভর্তি আছে। সেই সূত্রে চেরির জন্যও বেশ কিছু কেনাকাটা করতে হবে। ​যদিও এত কেনাকাটার বহর মাত্র কয়েক ঘণ্টায় শেষ করা কোনোমতেই সম্ভব নয়; তবুও সামিরের সময় হবে না বলে আজকেই যতদূর পারা যায় কমপ্লিট করতে চেয়েছিল। কিন্তু এই অবুঝ মা আর মেয়ে মিলে গণ্ডগোল বাঁধিয়ে তার মূল্যবান সময় নষ্ট করে দিয়েছে। ​তার ওপর শোরুম থেকে বের হতেই মা-মেয়ে এই রেস্টুরেন্টের সামনে এসে ফ্লোরে হাত-পা ছেড়ে বসে ছিল ক্ষুধা লেগেছে বলে। বাধ্য হয়ে, সামির ওদের দুজনকে নিয়ে এখানে এসেছে। চেরি ছোট ছোট আঙুল দিয়ে রঙিন মেনু কার্ডে ইশারা করে পাকা বুড়িদের মতো করে বলল,
“পাপা, ও পাপা! আমি রামিন খাবু। এই যে দেখু, এই এটা অর্ডার দাউ! আমি এটা খাবু!”
​সামির হালকা হেসে চেরির গাল আলতো করে টেনে বলল,
“কিন্তু মা, এখানকার রামেন তো প্রচুর স্পাইস! তুমি এত ঝাল খেতে পারবে না, মা।”
“​অনেক ঝাল?” চেরি নিজের চোখ দুটো গোল গোল করে জিজ্ঞেস করল।
“​হ্যাঁ, মা। অনেক ঝাল। তুমি বরং এই মেনু থেকে মিষ্টি বা চিজের কোনো আইটেম বেছে নাও। বাড়িতে গেলে জোসনা খালা তোমাকে ঝাল ছাড়া রামেন বানিয়ে দেবে। কেমন?”
​চেরি মেনুর পাতা উল্টে আবার আঙুল ঠেকাল, 
“তাহলে আমি এটা খাবু পাপা। টকবুক্কি!”
“​টকবোক্কি? ওহ আচ্ছা ত্তোকবোক্কি!” সামির এবার কপালে হাত দিয়ে হেসে ফেলল, “বাট মা, এটাও তো অনেক স্পাইসি! তুমি খেতে পারবে না।”
“​না! আমি আজ এটাই খাবু, মানে এটাই খাবু! প্লিজ পাপা।”
চেরি নিজের ছোট ছোট পা নাড়িয়ে টেবিলে হালকা চাপড় দিয়ে জেদ ধরল। ​সামির আর চেরির কথায় কোনো পাল্টা যুক্তি দিল না। চেরির ওপর কোনো বিষয় নিয়ে বেশি জোর খাটানো যায় না। তাই সে মৃদু হেসে চেরির জেদটাই মেনে নিল। এবার চোখ জোড়া ঘুরিয়ে তাকাল পাশে বসা পিহুর দিকে। মেয়েটা মেনু কার্ডটা উল্টো করে ধরে গম্ভীর মুখে মেনু কার্ড দেখেই যাচ্ছে, যেন বড় কোনো গবেষণার কাজে লিপ্ত! চেরি পিহুর জামা টেনে বলল, 
“মাম্মা, ও মাম্মা! তুমি কী খাবে বলু না?”
​পিহু এবার অপ্রস্তুত হয়ে নিজের মাথার চুলকাতে লাগল। এই রেস্টুরেন্টের পরিবেশটাই কেমন যেন অদ্ভুত, আর মেনুর ভেতরের সব খাবারগুলোও অদ্ভুত! যা সে খাওয়া তো দূরের কথা, জীবনে চোখেও দেখেনি! এমনিতেও সে ইংরেজিতে কাঁচা, তার ওপর এখানে প্রতিটা খাবারের নাম খটমট ইংরেজিতে লেখা। মনে মনেও বানান করে একেকটার নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে তার দাঁত ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে!
“​মাম্মা, আমি তো নিজের জন্য টকবুক্কি অর্ডার করেছি। এবার বলু না তুমি কী খাবে? পাপাকে বলু! মাম্মা, পাপাকে বলু তুমি খাবে!”
চেরি আবার তাগাদা দিল। ​পিহু এবার নিজের ইজ্জত বাঁচাতে খাবারের নাম উচ্চারণ করতে না পারলেও আঙুল দিয়ে মেনু কার্ডের কয়েকটা অদ্ভুত দেখতে কোরিয়ান আইটেম দেখিয়ে দিল। ​সামির পিহুর দেখানো আইটেমগুলোর দিকে তাকিয়ে ভ্রু জোড়া কুঁচকে সন্দেহের সুরে বলল, 
“তুমি কি শিওর তুমি এসব খেতে পারবে? আমরা অন্য কোনো রেস্টুরেন্টে যেতে পারি। অর্ডার করার আগে আর একবার ভেবে দেখ!”
​সামিরের কথা শুনেই পিহুর রাগ এক মুহূর্তে নাকের ডগা থেকে সোজা মাথায় চড়ে বসল। মুখ লাল করে চোখ রাঙিয়ে বলে উঠল,
“হেহ! আপনার কী মনে হয়? আমি জংলি? এসব খাবার জীবনে কোনোদিন খাই নাই? খামোখা আমারে জ্ঞান দিতে আসবেন না কইলাম! শোনেন, এইগুলা আমি ছোটবেলা থেকে গপাগপ খেয়ে খেয়ে বড় হইছি, বুঝছেন? আমাদের গ্রামে ওই যে পূর্ব পাড়ার শিমুলের চাচার একটা মস্ত বড় হোটেল আছে না? ওইখানে আমরা বান্ধবীরা মিলে প্রায়ই যাইতাম। এসব খাবার খেয়ে খেয়ে আমরা অভ্যস্ত, বুঝছেন? আমাদের কাছে এগুলা ডাল-ভাতের মতো!”
​পিহু এত বড় বড় মিথ্যা এমন অবলীলায় বলল, যেন সে সত্যিই শিমুলের চাচার হোটেলে বসে কোরিয়ান কিমচি আর রামেন খেয়ে বড় হয়েছে! সামির ভ্রু ধনুকের মতো বাঁকা করে এক চরম অবিশ্বাস্যে পিহুর দিকে তাকিয়ে রইল। একটা মানুষ এত বড় চাপা কীভবে মারতে পারে, তা এই দস্যিমেয়েটাকে নিজের চোখে না দেখলে কোনোদিন বিশ্বাসই করত না!
​চেরি পিহুর কথা শুনে বলল, 
“মাম্মা! তুমাদের ওই ছিমুলের চাচুর হোতেলে কি... কিমচি রাইস, রামেন, কিমবাপ, এইসব পাওয়া যায়?”
​পিহু এবার সামিরের উপহাস ভরা চাউনি দেখে ঠোঁট টেনে কৃত্রিম একটা বোকা হাসি দিল। তারপর চেরির নরম গালটা টেনে দিয়ে বলল, 
“হ্যাঁ চেরি সোনা, যায় তো! শুধু এইগুলাই না, ওনার হোটেলে আরও অনেক রকমের বিদেশী খাবার পাওয়া যায়, যা এই ঢাকা শহরেও নাই!”
​সামির এবার হাসির বেগ চেপে রাখতে না পেরে মুখটা অন্যাদিকে ফিরিয় হেসে নিল। এরপর একটু ঝুঁকে পিহুর দিকে চেয়ে রসিকতা করে বলল, 
“তাই নাকি? তা যখন এতই খেয়ে অভ্যস্ত, তখন কয়েকটা আইটেমের নাম বলো তো দেখি! আর কী কী খেয়ে তুমি ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছ, তাও বলো? না মানে, পরবর্তীতে তাহলে তোমার পছন্দমতোই অর্ডার করব!”
​সামিরের এমন কথায় পিহু এবার ফাঁপরে পড়ে গেল। সে সামিরের এক মরণ চাউনি হেনে আবার মেনু কার্ডের দিকে চোখ নামাল। জিভ দিয়ে ঠোঁটজোড়া একটু ভিজিয়ে নিয়ে, অক্ষরের ওপর আঙুল রেখে মনে মনে বানান করে করে খুব কষ্টে বলতে লাগল,
“C... o... r... n... ক... ক... কর্ন, C... h... e... e... s... e... চীস... হ... হ...”
“​কর্ন চিজ হট ডগ!” সামির পিহুর এই করুণ অবস্থা দেখে নিজেই নামটা বলে দিল।
“​হ্যাঁ! ওটাই!” পিহু নামটা শোনা মাত্রই নিজের চতুর রূপ ধারণ করে বুক ফুলিয়ে বলল, “আমি তো এটাই বলতে যাচ্ছিলাম! আপনি মাঝখান থেকে বাম হাত ঢুকায়া দিলেন কেন, হ্যাঁ? আমারে কি আপনি বোকা ভাবছেন?”
​সামির এবার হতাশ হয়ে কপালে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। এই মেয়ের সাথে তর্কে জেতা আর নিজের মাথা ঠুকে দেওয়া সমান! সে একটু নড়েচড়ে বসে গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, 
“এই মেয়ে, তুমি আসলে কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়াশোনা করেছ বলতো? তোমার বিদ্যার দৌড়টা আমি একটু জানতে চাই।”
​পিহু নিজের মুখটা একপাশে বাঁকিয়ে চরম অবজ্ঞার সুরে বলল, 
“ক্যান? আপনার কী মনে হয়, আমি গণ্ডমূর্খ? হেহ? শোনেন, আমি কিন্তু আমাদের ক্লাসের একদম টপে ছিলাম, বুঝছেন? পুরো ক্লাসের মধ্যে সব থেকে বেশি রোল কিন্তু আমারই ছিল! পিহুরে এতটাও গর্দভ মনে কইরেন না।”
“​হুম, ক্লাসের একদম টপেই ছিলে!” সামির মুচকি হেসে বলল, “রোল নাম্বার মেলা বেশি ছিল বলেই তো এখন সব বিষয়ে এক ডিগ্রি বেশি বোঝো!”
“​বুঝব না ক্যান? আমার ব্রেন মেলা ভালো। আল্লা আমারে বুদ্ধি দিছে, তাই আমি বেশি বুঝি। আপনাদের মতো আমার মাথায় তো আর গোবর ভরা না! আমার যে কত বুদ্ধি আছে, তা আমাদের গ্রামের সবাই জানে। সবাই আমারে বলত, 'পিহুরে, তোর মাথায় এত বুদ্ধি। তুই যদি এইবার মেট্রিক পরীক্ষাটা দিতিস, তবে নিশ্চিত গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে ফাটায়া দিতিস!' আমিও জানি আমি এ প্লাস পাইতাম। খালি পড়াশোনা জিনিসটা আমার একটুও ভল্লাগে না, তাই আমি আর পরীক্ষাটা দেই নাই। নাইলে দেখতেন এই পিহু পরীক্ষা দিয়ে পুরো বাংলাদেশরে তাক লাগায়া দিত! আমার সাথে কেউ টেক্কা দিয়ে পারত না। আগেও পারে নাই, এখনও পারবে না। কারণ এই দুনিয়ায় পিহু এক পিসই আছে। অনলি ওয়ান পিস! পিহুকে টেক্কা দেওয়া এত সহজ না। আপনিও পারবেন না কোনোদিন...”
​পিহুর এই অন্তহীন কথার তুবড়ি আর বন্ধহীন রেডিওর মতো বকবকানি শুনতে শুনতে সামির এবার অতিষ্ঠ হয়ে গেল। সে নিজের দুই হাত জোড় করে কাতর কণ্ঠে বলল,
“আল্লাহর দোহাই লাগে এবার অন্তত একটু চুপ করো! আমি তোমার সামনে হাত জোড় করছি, দয়া করে নিজের মুখটা এবার বন্ধ করো। একটা মানুষ কীভাবে এত কথা বলতে পারে, আল্লাহ মালুম! কেন যে আমি খামোখা তোমার পড়াশোনার কথা তুলতে গেলাম, উফ!”
​সামির নিজের চুলগুলো নিজেই দুই হাতের মুঠোয় চেপে ধরে টেবিলে মাথা নিচু করল। কিন্তু পিহু তো দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। সে আরও উৎসাহ নিয়ে বলতে লাগল,
“আরে আমি তো আসল কথাই এখনো বলি নাই! শোনেন শোনেন, একবার আমাদের গ্রামে কী হইছিল জানেন? একবার আমি আর নৌশিন মিলে ওখানের...”
“​চুপ! একদম চুপ আর একটা কথাও নয়!” সামির চোখ রাঙিয়ে ধমক দিল।
“​আহা, শুনবেনই তো কী হইছিল! একবার আমি আর নৌশিন ওই নদীর ঘাটে গিয়ে...”
“​তুমি আর তোমার ওই নৌশিন মিলে গোল্লায় যাও, তাতে আমার কী আসে যায়?”
সামিরের কথায় এবার পিহু ভড়কে গেল। চোখ গোলগাল করে তাকল লোকটার দিকে। কেমন লাল হয়ে গেছ রাগে। সামির মাথা ঝাঁকিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
“এই দেখো, আমাদের টেবিলে খাবার চলে এসেছে। এবার চুপচাপ মুখ বন্ধ করে খাওয়া শুরু করো। আর একটা বাড়তি কথা যদি তোমার মুখ থেকে বের হয়েছে, তবে আমি তোমার মুখে টেপ লাগিয়ে দেব!”
​ছোট্ট চেরি নিজের পাপার কথা শুনে নিজের চোখের পাতা পিটপিট করে অবুঝের মতো বলল, 
“পাপা, তুমি মাম্মার মুখে টেপ লাগিয়ে দিলে মাম্মা কীভাবে খাবার খাবে? তুমি মাম্মার মুখে টেপ লাগিও না। মাম্মা... মাম্মা আর একটাও কথা বুলবে না। তাই না মাম্মা?”
​পিহু এবার সামিরের তীক্ষ্ণ চোখের দিকে চেয়ে কোনো কথা বলার সাহস পেল না। দ্রুত নিজের চোখ জোড়া নামিয়ে এনে সামনের খাবারের দিকে মনোযোগ দিল। কিন্তু খাবারের দিকে তাকাতেই পিহুর চোখ এক্কেবারে কপালে উঠে গেল!
​এগুলো কী ধরনের অদ্ভুত খাবার? কাঠের বাটির ভেতর কাঁচা সবজি, কালো সামুদ্রিক শৈবাল আর অদ্ভুত কিছু সস ছড়ানো। জীবনেও তো সে এসব জিনিস চোখে দেখেনি! এখন তো নিজের অজ্ঞতার কথা মুখে বলাও যাবে না। বললেই চেরি আর চেরির এই সুদর্শন বাপটা তাকে নিয়ে মজা নেবে। হাসাহাসি করবে। ​তাই পিহু নিজের ইজ্জত বাঁচাতে চারপাশে একবার চতুর চোখে দেখে নিল। তারপর চেরি আর সামিরকে অনুকরণ করে চপস্টিক তুলে নিল। ছোট্ট চেরি কত অভিজ্ঞ! পাকা মানুষদের মতো সুন্দর করে চপস্টিক দিয়ে নুডলস তুলে মুখে পুরছে। আর পিহু নিজের হাতের দিকে তাকিয় ভেবেই পায় না যে, এই দুনিয়ায় মানুষ এই চিকন চিকন দুইটা কাঠের কাঠি দিয়ে খাবার খায় কীভাবে? এর চেয়ে হাত দিয়ে মাখিয়ে খেলে এতক্ষণে সে পুরো বাটি সাবার করে দিত!
​পিহু আঙুল বাঁকা করে শত চেষ্টা করেও চপস্টিক দুটো এক লাইনে সোজা করে ধরতে পারল না। কাঠি দুটো বারবার হাত থেকে পিছলে পড়ে যাচ্ছিল। সামির অবশ্য এতক্ষণ ধরে পিহুর যুদ্ধ খুবই সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করছে। তবে সে দেখতে চায়, এই দেমাকী মেয়েটা আর কতক্ষণ নিজের মেকি আত্মসম্মান নাকের ডগায় নিয়ে এভাবে জেদ ধরে বসে থাকতে পারে। পিহু নিজে থেকে তার কাছে সাহায্য না চাইলে সেও যেচে কোনো সাহায্য করবে না। এতক্ষণ তো মেলা বড় বড় চাপা মেরছিল, এখন একটু নাকানিচুবানি খাক না!
​চেরি পিহুর কাঠি নিয়ে এই কুস্তি করা দেখে অবুঝের মতো জিজ্ঞেস করল, 
“মাম্মা, তুমি খাবার খাচ্ছু না কেনু? অনেক অনেক টেস্টি! ট্রাই করে দেখু না!”
“​এইতো চেরি সোনা... খা-খাচ্ছি তো!”
এই বলে পিহু আবারও কাঁপা কাঁপা হাতে চপস্টিক দিয়ে একটা রাইস কেক তোলার ব্যর্থ চেষ্টা করল। ওমনি সেটা ধপাস করে পড়ে গেল। ​সামির এবার আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। হাসল প্রচুর। তবুও মেয়েটা হাল ছাড়ল না। সে নিজের চেয়ারটা এক টানে পিহুর একদম গা ঘেঁষে এসে বসল। পিহু কিছু বুঝে ওঠার আগেই, সামির পেছন থেকে হাত বাড়িয়ে পিহুর কোমল হাত দুটোকে নিজের শক্ত হাতের মুঠোয় পুরে নিল। তারপর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পিহুর আঙুলের ফাঁকে চপস্টিক দুটো সেট করে দিয়ে ফিসফিসিয়ে চপস্টিক ধরা শেখাতে লাগল,
“হোল্ড ইট লাইক দিস! এবার এই নিচের কাঠিটা সোজা রেখে, উপরের কাঠিটা এভাবে আঙুল দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরবে, তারপর এভাবে খাবারটা ওপরে তুলবে। ওকে? এবার ট্রাই করো।”
​এই কথা বলতে বলতেই সামির আরেকটুখানি সামনের দিকে ঝুঁকে এসে পিহুর মুখের সামনে চপস্টিক দিয়ে খাবার তুলে ধরল। পিহু এখন খাবার মুখে পুরবে নাকি নিজের প্রাণ বাঁচাবে, তা ভেবে পেল না। সামিরের এমন আচমকা স্পর্শে তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সামিরের ধারালো চিবুকটা এখন পিহুর বাম কাঁধের ওপর এসে ঠেকেছে। আর ওনার মুখের তপ্ত, উষ্ণ নিঃশ্বাস এসে সরাসরি আছড়ে পড়ছে পিহুর উন্মুক্ত গলার চামড়ায়। সামিরের শরীর থেকে নির্গত হওয়া সেই চিরপরিচিত পুরুষালি আর পারফিউমের নেশাল ঘ্রাণটা পিহুর পুরো চেতনাকে এক নিমেষে বাকরুদ্ধ করে দিল। সে তীব্র এক ঘোরের মধ্যে নিজের ঘাড়টা সামান্য ঘোরাতেই সামিরের তীক্ষ্ণ নাকের ডগার সাথে তার নিজের রাঙা নাকটা এসে আলতো করে ঠেকে গেল। ​ঠিক সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তেই পাশে বসা ছোট্ট চেরি হুট করে চেঁচিয়ে উঠল,
“মাম্মা, পাপা... স্মাইল!”
​পিহু কিছু বুঝে ওঠার আগেই, চেরির গলায় ঝুলতে থাকা সেই ছোট ডিজিটাল ক্যামেরাটার ফ্ল্যাশ লাইট এক তীব্র আলোয় ঝলসে উঠল। ক্যামেরা ক্লিকের শব্দে পিহু এক ঝটকায় নিজের ঘোর থেকে বাস্তবে ফিরে আসল। নিজেকে সামলে নিয়ে দ্রুত সামিরের বাঁধন থেকে নড়েচড়ে সরে বসল। ​সামিরের মাথায়ও এতক্ষণে কাজ করল যে সে কোথায় কী করে বসেছে! সে এবার পিহুর থেকে নিজেকে সামান্য সরিয়ে আগের জায়গায় ফিরে গেল। আড়চোখে তাকিয়ে দেখল, মেয়েটা লজ্জায় এক্কেবারে লালরঙা হয়ে আছে। তার চোখের পাতা কাঁপছে। সামির নিজের ভেতরের অস্বস্তি লুকাতে দ্রুত পিহুর হাত থেকে চপস্টিক দুটো সরিয়ে কাঁটা চামচ এনে পিহুর হাতের মুঠোয় ধরিয়ে দিল। গলা ঝেড়ে একটু নিচু স্বরে বলল, 
“চপস্টিক দিয়েই খেতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই । তোমার যেটা কমফোর্টেবল মনে হয়, তুমি সেটা দিয়েই নিজের মতো করে খেতে পারো।”
​পিহু এবার আর কোনো ত্যাঁদড়ামি করল না। একটা টু শব্দও তার মুখ থেকে বের হলো না। সে মাথা নিচু করে চুপচাপ খেতে লাগল। সামির এবার চেরিকে কাছে টেনে খাইয়ে দিতে লাগল। যদিও চেরি নিজে নিজে খেতে পারে, তবুও ওর খাবার শেষ করতে সময় লেগে যাবে। আর এখন সামিরের হাতে ওত বাড়তি সময় একদম নেই। দেখতে দেখতে তাদের মুখর টেবিলটায় হুট করেই একরকম ভারী, নিস্তব্ধ আর গভীর নীরবতা ভর করল।
​তবে তারা কেউই খেয়াল করেনি যে, রেস্টুরেন্টের একদম শেষ কোণায় সিঙ্গেল টেবিল থেকে একজন আগন্তুক এতক্ষণ ধরে তাদের সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল।
শপিং মলের সেই শোরুম থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টে সামির আর পিহুর এই ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রতিটা মুহূর্ত, সেই আগন্তুক ক্যামেরার লেন্সে বন্দি করেছে। এবার নিজের কালো ক্যাপটা আরেকটু নিচের দিকে নামিয়ে দিল। চোখে একটা ডার্ক সানগ্লাস পরে সে টেবিল থেকে বিল চুকিয়ে ধীরপায়ে রেস্টুরেন্টের বাইরে বেরিয়ে গেল। 
কাঁচের ওপাশে ​সামিরদের টেবিলের সোজাসুজি দাঁড়িয়ে লোকটা কাউকে কল করল। ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হতেই সে ঠাণ্ডা গলায় বলল,
“আপনি একদম ঠিকই শুনেছেন স্যার! এটাই সৈকত খন্দকারের ছোট ভাই, সামির খন্দকার! আমি অলরেডি ছবি আর বায়োডাটা আপনার পার্সোনাল মেইলে পাঠিয়ে দিয়েছি। আরেকটা ব্রেকিং নিউজ আছে স্যার... সামির খন্দকার ইজ নিউলি ম্যারেড! গতকালই সে তার মায়ের এক বান্ধবীর তেজি মেয়েকে বিয়ে করে ঢাকায় পালিয়ে এসেছে।”
​ফোনের অপর প্রান্ত থেকে গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল, 
“আর ইউ ডেড শিওর?”
“​ইয়েস স্যার, হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিওর! ছবিগুলো দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন, সামির খন্দকার এখন এই মেয়েটার প্রেমে এক্কেবারে অন্ধ!”
আগন্তুক চতুর হেসে জবাব দিল।
“​ওকে! দ্যাটস পারফেক্ট। লেটস স্টার্ট দ্য গেম নাউ!”
​এই একটিমাত্র বাক্য বলেই, ফোনের অপর প্রান্তের সেই অদৃশ্য ব্যক্তিটি পৈশাচিক অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। সেই হাসির শব্দ এতটাই ভয়ঙ্কর আর কুৎসিত ছিল যে, যেকোনো মানুষের শরীর ভয়ে শিউরে উঠবে! 
★
অলিন্দপুর থেলে বিদায় নিয়ে আজ দুপুরের মধ্যেই তাহমিদ খন্দকার তার পুরো পরিবারসহ ঢাকার ফিরে এসেছেন। যদিও এবার অলিন্দপুরে আরও বেশ কিছুদিন থাকার কথা ছিল। জমিজামার মীমাংসা আর স্কুল তৈরির ব্যাপারে। ​কিন্তু সামির আর পিহুর বিয়েটা নিয়ে ঝামেলা ও লাঞ্ছনা তৈরি হয়েছে, তাতে শেষমেশ একপ্রকার বাধ্য হয়েই বিদায় নিতে হয়েছে।
​এদিকে সৈকতে ছুটিও শেষ। ব্যাগপত্র গুছিয়ে রেখেছে। আগামীকালই বেনাপোল গিয়ে জয়েন করার কথা। কিন্তু আগামিকাল একটা জরুরি কাজ আছে। সেটার কথা মাথায় রেখেই সে ঢাকা হেড অফিস থেকে এক দিনের বিশেষ ছুটি ম্যানেজ করে রেখেছে। কাজ শেষ করে কাল রাতেই সে ঢাকা ছাড়বে। তারপর আবার কবে ফিরবে তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই।
​জাবেদা খন্দকার ছেলের এমন হুট করে চলে যাওয়ার কথা শুনে অস্থির হয়ে পড়েলেন। তিনি আর কালবিলম্ব না করে, নৈশ ভোজ শেষ হতেই সবাইকে ডেকে জরুরি বৈঠক বসিয়েছেন। সৈকত ভীষণ বিরক্ত হলো। তবুও মায়ের মুখের দিকে চেয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সোফায় এসে বসেছে। সে বসতেই পাশ থেকে শিরিন জিজ্ঞেস করল,
“এই সৈকত ভাই! তোর সাথে কি আজ সামিরের কোনো কথা হয়েছে? আমি আর কাকিমা মিলে সকাল থেকে ওকে এতবার ফোনে ট্রাই করলাম, কিন্তু ওর ফোন তো বন্ধ দেখাচ্ছে। কোনোভাবেই ওরে লাইনে পেলাম না। এখন কই আছে, কেমন আছে কে জানে!”
​সৈকত গম্ভীর গলায় আশ্বাস দিয়ে বলল, 
“ওরা যেখানেই আছে, ঠিক আছে। শুধু শুধু চিন্তা করার দরকার নাই।”
​আইরিন খন্দকার এবার উদ্বেগ সামলাতে না পেরে ব্যাকুল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, 
“ওরা কোথায় আছে তুই কি জানিস সৈকত? যদি জেনে থাকিস, আমাকে ওই বাসার অ্যাড্রেসটা দে তো বাবা। আমি আর শিরিন মিলে কাল দুপুরে একবার ওখান থেকে ঘুরে আসব। পিহুকে কিছু জিনিসপত্র কিনে দিয়ে আসব।”
​সৈকত এবার নিজের বসার ভঙ্গিটা একটু নড়েচড়ে বদলে নিল। কপালের চামড়া কুঁচকে কুৎসিত একটা চাউনি দিয়ে বলল, 
“যাওয়ার কোনো দরকার নাই কাকিমা। সামির অলরেডি পিহুকে সাথে নিয়ে যা যা দরকার সব কেনাকাটা করে নিয়েছে।”
“​সে করুক না! তবুও আমি আর শিরিন একবার নিজের চোখে গিয়ে দেখে আসলে মনে শান্তি পেতাম। তুই খামোখা কথা না বাড়িয়ে ঠিকানাটা দে না!”
আইরিন খন্দকার আবার তাগাদা দিলেন। ​সৈকত রুক্ষ কণ্ঠে বলল, 
“আমি জানি না।”
​তাহমিদ খন্দকার এবার গমগমে স্বরে গর্জন করে উঠলেন, “সে কী! তুমি নিজের ভাইয়ের ঠিকানা জানো না মানে? ওরা কোথায় আছে না আছে, সব তো তোমারই জানার কথা!”
“​স্ট্রেইঞ্জ!” সৈকত এবার নিজের মেজাজ পুরোপুরি হারিয়ে দাদুর দিকে তাকিয়ে চড়া গলায় বলল, 
“আমি যখন বলেছি যে আমি ওদের ঠিকানা জানি না, তো জানিনা। এটুকু গ্যারান্টি দিতে পারি, সামির পিহু ভালো আছে, সুস্থ আছে। দ্যাটস অল, আমার কথা এখানেই শেষ!”
সৈকত আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না। রাগেমেগে হনহন করে বেরিয়ে গেল বাসা থেকে। আসল কাজের কথা তো এখনো বলাই হয়নি, তার আগেই ছেলেটা চলে গেল। আজকে সারাদিন এমন করেই কথা বলেছে ছেলেটা। একটা কথা দুবার জিজ্ঞেস করলেই সে রেগে আগুন হয়ে যায়। ছেলেটার মনে আসলে কী চলছে কে জানে! 
জাবেদা খন্দকার ছেলের আচরণে ভীষণ চিন্তিত আর মর্মাহত হলেন। ​ছেলেটার বয়স হয়ে যাচ্ছে, অথচ সংসারের প্রতি কোনো মন নেই। তাই তো বৈঠকে এবার জাবেদা খন্দকার বিয়ের কথা তুললেন। তিনি তাহমিদ খন্দকারের দিকে তাকিয়ে একটু নিচু স্বরে বললেন,
“বাবা, আমার এক মামাতো বোনের একট মেয়ে আছে, নাম অহনা। ওদের বাড়ি যশোরের শহরে। মেয়েটার স্বভাব-চরিত্র ভালো, দেখতেও মাশাল্লাহ সুশ্রী। কিছুদিন আগেই বাংলায় ডিগ্রি শেষ করেছ। এখন ওখানকারই একটা প্রাইমারী স্কুলে চাকরি করে। আমি ভাবছিলাম আমাদের সৈকতের জন্য অহনাকে আনতে।আপনি কী বলেন বাবা?”
​তাহমিদ খন্দকার কিছু একটা বলবে, তার আগেই পাশ থেকে শিরিন ফোড়ন কেটে বলে উঠল, 
“বাহ! আবার বিয়ে! এই বাড়িতে কি বিয়ে, বিয়ে আর বিয়ে ছাড়া তোমাদের মুখে আর কোনো কথা নাই? আর দাদুই বা কী বলবে মা? তাছাড়া তুমি কি ভাইয়াকে এই অহনার ব্যাপারে কিছু বলেছ? ভাইয়া কি এই বিয়ের খবর জানে? জানে না তো! ওই যে একটা খাঁটি বাঙলা প্রবাদ আছে না, 'যার বিয়া তার খবর নাই, পাড়াপড়শির ঘুম নাই!' আমাদের বাড়ির অবস্থাটাও এখন তেমন হয়ে গেল না, মা?”
আইরিন খন্দকার শিরিনের এমন কথা শুনে ধমকে উঠলেন, 
“শিরিন! একটা থাপ্পড় দিয়ে তোর মুখের দাঁত এক্কেবারে আলগা করে দিব বেয়াদব মেয়ে! নিজের মায়ের সাথে কেউ এভাবে কথা বলে?”
​নিজের মেয়ের এমন বাঁকা কথা শুনে জাবেদা খন্দকারের বুকের ভেতরটা এবার সত্যি সত্যি তোলপাড় করে উঠল। তার পুরো শরীর এবার রাগে কাঁপতে লাগল। তিনি সোফা ছেড়ে উঠে গজগজ করে বলতে লাগলেন,
“তোরা দুই ভাই-বোন মিলে যা নাটক শুরু করেছিস, এমনিতেই হারাম হয়ে গেছে! আমার মাথা ঠিক নাই। তোরা আমারে আর কত জ্বালাবি, বল? আর কত তিলে তিলে শেষ করবি আমাকে? তোরা কি তোদের এই হতভাগী মায়েরে শান্তিতে একটু মরতেও দিবি না? হেহ? তোদের জন্য কি আমি কবরে গিয়েও একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারব না! তোরা সবসময় নিজেদের মনমর্জি মতো চলবি, আর আমি... আ... আ মি...”
​বাকি কথাগুলো আর সম্পূর্ণ করতে পারলেন না জাবেদা খন্দকার। নিজের বুকটা শক্ত করে চেপে ধরে জোরে জোরে হাঁ করে দম নিতে লাগলেন। শ্বাসকষ্টের টানটা এক মুহূর্তে মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। আইরিন খন্দকার দ্রুত গিয়ে ধরলেন। সোফায় বসানোর চেষ্টা করতে করতে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, 
“ভাবি, ও ভাবি! আপনি শান্ত হোন। আপনার এখন এসব কথা বলে মাথা গরম করার কোনো দরকার নাই। আপনি.. আপনি আমার সাথে চলেন। চলেন ঘরে চলেন।”
​জাবেদা খন্দকার লম্বা দম নিয়ে নিজের সমস্ত শক্তি এক করে আইরিন খন্দকারকে এক ঝটকায় সরিয়ে দিলেন। ঘনঘন নিশ্বাস নিতে নিতে ভাঙা ও ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললেন, 
“না আইরিন! আজকে এই দুই ভাই-বোন আমারে স্পষ্ট করে বলবে যে, ওদের বিয়ে করতে আসলে সমস্যাটা কোন জায়গায়? আমি আজ ওদের নিজের মুখ থেকে শুন... শুনতে চা... ই!”
​শিরিন নিজের মায়ের এমন ভয়ঙ্কর অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেল। সে দ্রুত মায়ের হাত দুটো ধরতে চাইল, 
“মা... ও মা! তুমি প্লিজ আগে শান্ত হয়ে বসো। একটু পানি খাও মা, আমি নিয়ে আসছি।”
“​তুই আমারে একদম ছুঁবি না শিরিন! আমি এক ফোঁটা পানিও মুখে দিব না।”
জাবেদা খন্দকার নিজের বুক চেপে ধরে সোফার ওপর এলিয়ে পড়তে লাগলেন। ওনার ঠোঁট দুটো বেগুনি হয়ে আসছে। শরীর ক্রমাগত ঘামছে। আরো খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে। শিরিন সৈকতকে কয়েকবার কল দিল, কিন্তু রিসিভ করল না। স্বাভাবিক, রাগের বসে বেরিয়েছে রিসিভ করার কথাও না। সে একটা টেক্সট করে রাখল। হাফসা রান্নাঘর থেকে দৌড়ে পানি নিয়ে আসল। তাহমিদ খন্দকার নিজের পুত্রবধূর এমন আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলের তর দিকে তাকিয়ে এক বজ্রকণ্ঠে গর্জন করে উঠলেন,
“হাদারামের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী দেখছিস গর্দভ কোথাকার! দ্রুত গিয়ে গাড়ি স্টার্ট কর, বড় বউমাকে এখনই হাসপাতালে নিতে হবে। এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করিস না, দ্রুত যা!”
​বাবার এমন মারাত্মক ধমক শুনে তাহের খন্দকার আর বিন্দুমাত্র দেরি না করে দরজার দিকে দৌড়ে গেলেন। জাবেদা খন্দকার তখন সোফয় শুয়ে পড়ে নিশ্বাস নেওয়ার জন্য ছটফট করছেন। দম আটকে ওনার চোখ দুটো যেন এক্কেবারে কোটর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসছে। গলার আওয়াজ ফ্যাসফ্যাস করছে। ​শিরিন, বোরহান আর খাইরুল খন্দকার মিলে মেলা ধরাধরি করে জাবেদা খন্দকারের অবশ শরীরটাকে গাড়িতে তুলে দিল। পেছনের গাড়িতে আইরিন খন্দকার আর খাইরুল খন্দকার ছুটে গেলেন। আপাতত তাহমিদ খন্দকার বাড়িতেই রশে গেলেন। বাদবাকি এখন আল্লাহ ভরসা!
চলবে.....
(কঠোরভাবে কপি করা নিষিদ্ধ 🚫, চাইলে লিংক শেয়ার করতে পারেন।)
নোট: এই পর্বে অন্ততপক্ষে ১k+ রিয়েক্ট আর ১০০কমেন্ট না হওয়া অব্ধি পরবর্তী পর্ব আসবে নট। নট মানে না। মামলা ডিসমিস, হুহ! 😼
হ্যাপি রিডিং 🫶🏻

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন