#গাজড়া
#সুমাইয়া_হাওলাদার
#পর্ব ০২
আবেদা কলেজের পিছনের বাগানে বসে বসে অপেক্ষা করছে, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এখানে বসে অপেক্ষা করছে আরিফ স্যার এর জন্য কিন্তু আসার কোন খবরই নেই। আরিফ তার কলেজ টিচার, তাদের প্রায় দের বছর ধরে সম্পর্ক কলেজের প্রায় অধিকাংশ স্টুডেন্ট তাদের সম্পর্কের কথা জানে, সে এবার অনার্স ২য় বর্ষে আছে, আরিফকে আসতে দেখে আাবেদা সস্তি পেলআরিফ সামনে আসতেই আবেদা বলল, স্যার এর দেখছি সময়ই নেই,
হাটতে হাটতে তারা ক্যমপাসে চলে আসে,
তখনি দূর থেকে সাকিব ডেকে বলল, ওই আবি তর প্রেম শেষ হইলে এই দিকে আয়, দেখ শালা ইষাইন্না কি কয় ওয় নাকি তর বইনরে বিয়া করব।
আরিফ অন্য দিকে চলে যায়,আবেদা তাদের কাছে চলে আসে, তাকে দেখে ইষান হাসতে শুরু করল, আবেদা বলল কি বলেছিস আমার বোন কে বিয়ে করবি ?
ইষান মাথা ওপর নিচ নাড়ায়,
সাকিব বলে উঠলো তোর কি যোগ্যতা আছে তুই আহি রে বিয়া করতে চাস?
ইষান বলল তোর যেই যোগ্যতা আছে আমার তাই আছে।
তাদেরকে থামিয়ে দিয়ে আবেদা বলল, আমার বাবা তো কোন দিন ও রাজি হবেন না, তোদের মতো বেকার ছেলেদের কাছে মেয়ে বিয়ে দেয়ার জন্য, আমার বোন কে বিয়ে করা তোদের জন্য বিলাসিতা।
আজ বৃহস্পতিবার ছিলো, তাই ১২টা বাজেই মাদ্রাসা ছুটি হয়েছে,
আহিয়া পরার টেবিল থেকে একটা ইসলামিক বই নিয়ে বারান্দায় চলে এল।
তার রুমের বারান্দার সাইটে একটা চেয়ার নিয়ে বসল, এখান থেকে সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়, যতদূর চোখ যায় ফসলের ক্ষেত গুলোতে পানি থৈথৈ করছে, বর্ষা কাল শেষের দিকে প্রায়।
দেখতে দেখতে শীতকাল চলে এল, এবার মনে হচ্ছে ঠান্ডা অনেক বেশি পড়েছে, দিনের বেলায় ও প্রচন্ড শীত লাগে, সূর্য মেঘে ঢেকে থাকে তার মধ্যে প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস।
আহিয়া ও শারমিন মাদ্রাসা থেকে বাসায় ফিরছে আহিয়া আজ শারমিনদের বাসায় যাবে,
আবেদা কিছুদিন ধরে বলছিল নানু বাড়ি যাব বাড়িতে আর ভালো লাগছে না।
আমেনা বেগমের নিজের ও খুব ইচ্ছে করছিল কিছুদিনের জন্য বাবার বাড়ি থেকে ঘুরে আসতে,তাই তিনিও রাজি হয়েছেন যাওয়ার জন্য।
আমেনা বেগম আহিয়াকে সকালে বলে দিয়েছেন মাদ্রাসা থেকে যেন শারমিনের সাথে তাদের বাড়ি চলে যায়। উনারা বিকেলে যাবেন শারমিনদের বাড়ি,
আহিয়ার নানা মারা গেছেন আরও পাঁচ বছর আগে, তার নানি এখনো বেচে আছেন, নূরবানু বেগমের এক ছেলে দুই মেয়ে ছোট মেয়ে রুমাকে।
হাড় কাপানো শীতের সকাল তায়েবা বেগম মলিন মুখে রান্না ঘরে কাজ করছিলেন, কিছুদিন ধরে খুব উদাস থাকেন, আজম তালুকদার স্ত্রীর এমন মন খারাপ করে থাকার বিষয়টা খেয়াল করেছেন, তিনি ডাকলেন "তায়েবা "
আজ কে আসবে জানো নাকি?
তায়েবা বেগম জিজ্ঞেস করলেন কে আসবে?
আজম তালুকদার বললেন, মেহমেত আসবে বাড়িতে। তায়েবা খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন। কত দিন পর শুনেছেন ছেলে আসবে,তিনি জিজ্ঞেস করলেন কখন আসবে?
চলবে.........!