পর্ব–১: যে ছেলেটা কান্নাকে হাসিয়ে দিত
সকালের প্রথম সূর্যের ☀️ আলোটা তখন গ্রামের ছোট্ট বাজারের ওপর পড়েছে।
দোকানিরা দোকান খুলছে, চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, 🍵🥃
আর সেই ধোঁয়ার মাঝখান দিয়ে দৌড়ে আসছে একটা ছেলে।🏃♂️
— "চাচা! আজকে চা ফ্রি, তাই না?"
চায়ের দোকানি রহিম চাচা হেসে বললেন, — "কেন রে?"
ছেলেটা বুক ফুলিয়ে বলল, — "কারণ আজকে আমি খুব সুন্দর লাগছি!"
দোকানে বসে থাকা সবাই একসঙ্গে হেসে উঠল। 😁
ছেলেটার নাম আয়ান। বয়স মাত্র বাইশ। পুরো গ্রামে ওর একটা পরিচয়—"হাসির রাজা।"😁😝
যে মানুষটা পাঁচ মিনিট আগে রাগে ফুঁসছিল, আয়ানের সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বললেই হেসে গড়াগড়ি খেত।
একদিন গ্রামের মসজিদের সামনে একটা ছাগল কারও সবজি খেয়ে ফেলেছে। দুই প্রতিবেশী তুমুল ঝগড়া করছে।
আয়ান এসে বলল, — "এই ছাগলকে জিজ্ঞেস করেছেন? হয়তো ও ডায়েট করছে!"
একজন রেগে বলল, — "তুই সিরিয়াস?"
আয়ান বলল, — "না, আমি তো দাঁড়িয়ে আছি!"
সবাই আবার হেসে উঠল। ঝগড়াটাও শেষ হয়ে গেল।
গ্রামের স্কুলের বাচ্চারা প্রতিদিন বিকেলে ওর জন্য অপেক্ষা করত।
আয়ান কখনও কাকের ডাক নকল করত, কখনও শিক্ষকের মতো মুখ বানিয়ে বলত, — "আজকে সবাইকে হোমওয়ার্ক—হাসতে হবে!"
বাচ্চারা এত জোরে হাসত যে পাশের বাড়ির মানুষও জানালা খুলে দেখত কী হচ্ছে।👀
আয়ানের একটা ছোট্ট স্বপ্ন ছিল—একদিন বড় কমেডিয়ান হবে। টিভিতে মানুষকে হাসাবে।🤫
কিন্তু নিজের স্বপ্নের কথা সে কাউকে বলত না।🤫
কারণ সে বিশ্বাস করত—😌
"নিজের স্বপ্ন যত কম বলা যায়, তত বেশি পূরণ হওয়ার সুযোগ থাকে।"
বাড়িতে ছিল শুধু তার মা, রোকেয়া বেগম।
মা প্রায়ই বলতেন, — "বাবা, তুই সারাদিন সবাইকে হাসাস। নিজের জন্যও একটু বাঁচ।"
আয়ান হেসে উত্তর দিত, — "আমি তো নিজের জন্যই হাসাই। মানুষ হাসলে আমার মনে হয় আল্লাহ আমাকে একটা নতুন জীবন দিলেন।"
রোকেয়া বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন।
সন্ধ্যায় আয়ান বাড়ির উঠোনে বসে বাঁশি বাজাত।
পাশের বাড়ির ছোট্ট মেয়ে মীম প্রতিদিন এসে বলত, — "ভাইয়া, একটা নতুন গল্প বলো।"
আয়ান বলত, — "এক ছিল রাজা, এক ছিল রানি। দুজনেই ডায়েট করছিল, তাই গল্প শেষ!"
মীম রাগ করে বলত, — "এটা কোনো গল্প হলো?"
আয়ান বলত, — "ছোট গল্প। সময় বাঁচাও!"
আবারও হাসির রোল পড়ে যেত।
এভাবেই চলছিল দিন।
যেন পুরো পৃথিবীটা হাসিতে ভরা।
কেউ বুঝতেই পারেনি—
এই ছেলেটার বুকের ভেতরেও একটা অদৃশ্য ঝড় ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছে।
এক রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর আয়ান একা উঠোনে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল।
হঠাৎ তার কাশি উঠল।
প্রথমে সাধারণ কাশি।
তারপর আবার।
তারপর আরও জোরে।
কাশি থামার পর সে হাতের রুমালটা খুলে দেখল...
রুমালের সাদা কাপড়ের মাঝখানে লাল রঙের ছোট্ট একটি দাগ।