আমি তোমার হতে চাই
পর্ব ১
আমি আদ্রিজা শেখ আনিকা এটা আমারই গল্প। আমি শেখ বাড়ির মেয়ে। আমার আব্বুরা তিন ভাই। আমার বড় আব্বু মাহাতাব শেখ। তার স্ত্রীর শারমিন শেখ। তাদের এক ছেলে নাম আদনান শেখ । আমার আব্বুর নাম আফতাব শেখ এবং আম্মু মরিয়ম শেখ। আমরা এক ভাই এক বোন। আমার ভাইয়ার নাম আদ্রিয়ান শেখ আদ্র। ছোট আব্বুর নাম ইমরান শেখ। তার স্ত্রী ফারজান শেখ। তাদেরও এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলের রাফি শেখ এবং মেয়ে রিদিতা শেখ। রিদিতা ও আমি একই স্কুলে পড়ি। আমরা এইবার এসএসসি পরীক্ষা দেব। রিদিতা মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর। সবাই বলে তার থেকেও অনেক বেশি সুন্দর নাকি আমি। যে একবার আমার দিকে তাকায় সে নাকি চোখ ফেরাতে পারে না। তার প্রমাণ আমিও অনেকবার পেয়েছি। আমাকে অনেকে পছন্দ করলেও কোনদিন বড় কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি যতদিন না জীবনে তার আগমন ঘটেছে। আমার লাইফে কি কি ঘটেছে তা গল্পের মাধ্যমে জানতে পারবে।
পাঁচ বছর পর বাড়িতে ফিরতে যাচ্ছে সিকদার বাড়ির বড় ছেলে তৌফিক সিকদার ইয়াশ। দেখতে যেমন সুদর্শন ঠিক তেমনি বদরাগি এবং গরুগম্ভীর স্বভাবের। তার এই স্বভাবের সকলে তার কথা মেনে চলে। সে একবার যা বলে তাই করে। তার দেশে ফেরা মূলত তার বোন কিয়ারার বিয়ে উপলক্ষে। প্রথমে সিকদার বাড়ির কেউ রাজি না থাকলেও ইয়াশের কথাই সকলে পরবর্তীতে রাজি হয়। কিয়ারা এবং শেখ বাড়ির ছেলে আদনান শেখ দুইজন দুইজনকে ভালবাসে। এই কথা সে ইয়াশকে জানাই। বোনের খুশির জন্য আদনানের সম্পর্কে সকল খোঁজ খবর নিয়ে সে বিয়েতে রাজি হয় এবং পরিবারের সকলকে রাজি করে। তার মা আমিনা সিকদার অনেক শক্ত স্বভাবের মহিলা ও শর্তেও ছেলে বাড়ি ফিরে খুশিতে নিজের চোখের পানি আটকাতে পারেনি। তার বাবা মোস্তাফিক সিকদার তিনি মন্ত্রী। তিনি তার স্ত্রীকে বলে, " উফ! আমিনা এভাবে কান্না করার কি আছে আমি বুঝতে পারছি না। ছেলে বাড়িতে ফিরে এসেছে এতে খুঁশি না হয়ে আরো কান্নাকাটি করছো। বছর আগেও তো তোমাকে নিয়ে গিয়েছিলাম ছেলের সাথে দেখা করাতে"।
এই কথা শুনে আমিনা সিকদার বলে, "তুমি কি বুঝবে না আমি জানি ছেলে দূরে থাকার যে কি কষ্ট"।
আমাদের কথা শুনে বিরক্তি নিয়ে বলে, "তোমাদের কথা কথা শেষ হলে উপরে গিয়ে একটু রেস্ট নিতে চাই "।
ছেলের কথায় তারা ছেলের দিকে মনোযোগ দেয়।এরপর ইয়াশকে শরবত খেতে দেয়। এখনই নিচে নেমে আসে তার বোন কিয়ারা এবং তার ভাই রায়হান। তারা এসে তাকে জড়িয়ে ধরে। সে তাদের সাথে কৌশল বিনিময় করে তার রুমে। আর যাওয়ার সময় বলে যায় তাকে যেন কেউ বিরক্ত না করে।
সময়টা যখন বিকেল ইয়াশ তার রুম থেকে বের হয় এবং তার মাকে বলে খাবার দিতে। খাবার খেয়ে সে ও তার এসিস্ট্যান্ট রাকিবকে নিয়ে একটি মিটিং এর উদ্দেশ্যে বের হয়।
আনিকা কে ফোন দিয়েছে তার বান্ধবী প্রিয়া। প্রিয়া বলে," কিরে তোর আর রিদিকার তো কোন খোঁজই নেই"।
আনিকা বলে, "আরে আর বলিস না বাড়িতে ভাইয়ের বিয়ের কথা চলছে"।
এই কথা শুনে প্রিয়া বলে, "কবে বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছে নাকি?"
আনিকা বলে," আরে না এখনো বিয়ের তারিখ ঠিক হয় কথা চলছে আরকি"।
এই কথা শুনে প্রিয়া বলে , "আচ্ছা শোননা আজকে আমরা মেলায় ঘুরতে যাব। তুই আর রিদিতা ও চল আমাদের সাথে"।
আনিকা বলে, "আচ্ছা আমরা বড় আব্বুকে বলি উনি রাজি হলে আর কেউ না করবে না"।
এই কথা বলেছে ফোন কেটে দেয়।তারপর রিদিতাকে সব বলে। দুজনে মিলে গিয়ে তাদের বড় আব্বুকে রাজি করায়।তিনি রাজি থাকায় আর বাড়ির কেউ কিছু বলেনি। এরপর ফারজানা শেখ রিদিতাকে একটা সবুজ শাড়ি এবং আনিকাকে একটা নীল শাড়ি পরিয়ে দেয়।এরপর দুইজনের রেডি হয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি রিক্সা নিয়ে মেলায় যায়। গিয়ে দেখে মেলার একটু সামনে প্রিয়া ও দিয়া দাঁড়িয়ে আছে তাদের জন্য।
প্রিয়া বলে, "কিরে তোদের এতক্ষণ লাগল কেন আসতে "?
তখন রিদিকা বলে, "আনিকার জন্য দেরি হয়েছে" এবং আনিকা বলে, "আমার জন্য না তোর জন্য দেরি হয়েছে "।
তাদের এই ঝগড়া দেখে দিয়া বলে, "আরে তোরা চুপ কর। ওদের তো আজকে অনেক সুন্দর লাগছে"। রিদিতা বলে," তোদেরকেও"।
মেলা হওয়ায় রাস্তায় অনেক জ্যাম।তারা চারজন জ্যামের মধ্যে দিয়ে রাস্তা পার হতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ সামনে একটা গাড়ি আসায় তারা সামনে চলে গেলেও আনিকা একটু পিছিয়ে পড়ে। ঘটনাবশত ওই রাস্তা দিয়ে ইয়াশ ও রাকিব যাচ্ছিল। ইয়াশ বলে, "কিরে আর কতক্ষণ লাগবে "?
রাকিব বলে, "ভাই সামনে একটা মেলা তাই হঠাৎ জ্যাম লেগে গেছে তাই একটু অপেক্ষা করতে হবে। ইয়াশ বলে, " তুই জানস না পাঁচটায় কত জরুরী মিটিং আছে। দেরি হলে কত বড় লস হবে। এ রাস্তায় জ্যাম হলে তুই অন্য রাস্তা দিয়ে আসতি"।রাকিব বলে, "সরি ভাই"।ইয়াস রাগে আর বেশি কিছু বলে না। হঠাৎ তার দৃষ্টি বাইরে যেতেই তার চোখ আটকে যায় নীল শাড়ি পরিহিত একটি মেয়ের দিকে। তার মায়াবী চোখ দেখে সে হা করে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ তার দিকে চেয়ে আনমনে গুনগুন করে গেয়ে ওঠে।
" তুমি দেখা দিলে তাই মনে
জাগে প্রেম প্রেম কল্পনা "
আমি তোমার হতে চাই
এটা মিথ্যে কোনো গল্প না "
ইয়াশের মুখে গান শুনে রাকিব চরম আশ্চর্য হয়। যার মুখে কোনদিন কোন অকাজের কথা শুনেনি সে কিনা গান গাচ্ছে এটাও সম্ভব। ইয়াসের ভৌম কাটে রাকিবের ডাকে।
#আমি তোমার হতে চাই....
#অনামিকা ইসলাম বীথি
পর্ব ১
চলবে.....