ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবরুদ্ধ হৃদয়

অবরুদ্ধ হৃদয়

লেখক: আরিশা

অবরুদ্ধ হৃদয় 

লেখিকা: আরিশা 
চারিদিকে আগুন দাও দাও করে জ্বলছে,,। রাতের অন্ধকারের মাঝে দূর হতে কিছু মানুষের আর্তনাদ ভেসে আসছে। মানুষ নিজের প্রাণ বাঁচাতে এদিক ওদিক ছুটতে লাগলো। ছোট্ট একটি গাছের নিচে বসে আছে ৬ বছর বয়সী একটি মেয়ে। তাঁর মাথায় খেলে যাচ্ছে আজারো ভাবনা। কোথায় তার আম্মু -আব্বু ? আম্মু না বলেছিল আসবে,,তাহলে এখন কোথায়।। আমার আব্বু,, আব্বু কোথায় তুমি,, মেয়েটি তার আম্মু কে খুঁজতে এদিক ওদিক ছুটতে লাগলো। আম্মু,,? 
এক চিৎকারে আরশি ঘুম থেকে উঠলো। চারিদিকে তখনো অন্ধকার। নির্জন রাস্তায় কিছু কুকুর ডাকছে। আরশি অন্ধকারে বসে হাঁপাতে লাগলো। বিছানার পাশে রাখা জগ থেকে ঢক ঢক করে পানি খেল। এমন পরিস্থিতিতে অবশ্য মাঝে মাঝে তাঁকে পড়তে হয়,,খানিকটা সময় নিয়ে সে নিজেকে শান্ত করলো। এখন আর ঘুম আসবে না,,,আরশি বিরক্ত হয়ে বিড়বিড় করলো: বা*ডা আমার জীবন টাকে তেজ পাতা করে দিলো। বলি হারি তোর কি খেয়ে দেয়ে কাজ নেই,,? তোর জন্য কি একটু ঘুমাতে পারবো না? বিড়বিড় করতে করতে সে বাথরুমে ঢুকে গেল। এ সময় কেউ তাকে দেখলে নির্ঘাত ভাবতো মেয়ে টা পাগল হয়ে গেছে,,তা না হলে স্বপ্নের সাথে আবার কে কথা বলে। খানিকটা সময় পর আরশি বের হলো,, এখন আর ঘুমাবে না। অবশ্য ততক্ষনে বাহিরে আলো ফুটতে শুরু করেছে। পাখির কিচিরমিচির শোনা যাচ্ছে। এই সময় টা আরশির বড্ডো প্রিয় একটা সময়। আরশি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। তাঁর বারান্দায় কালো গোলাপের একটা গাছ আছে,,যেটা আরশির একটু বেশি পছন্দের। 
এভাবেই অনেক টা সময় সে দাঁড়িয়ে থাকলো। দরজায় টোকা পড়লো। এক বার,দুই বার,, তিন বার। তবুও আরশি দরজা খুললো না। 
"কীরে শালীর মাইয়া ? আছোস না গেছস। গেলে অবশ্যই ভালো,,মিষ্টি দিমু পাড়ায় পাড়ায়। " 
আরশি এবার দরজা খুলে দিলো। সাথে সাথে রোকেয়া বেগম ঘরে প্রবেশ করলো। 
" মরি নাই এখনো" শান্ত ভাবে বললো আরশি। 
রোকেয়া বেগম বিছানায় বসে বিড়বিড় করলো 
" মরোছ নাই কেন ?"
 কিন্তু সেই বিড়বিড় করে বলা কথাটা আরশি শুনলো। আরশি শান্ত ভাবে তাকালো রোকেয়া বেগমের দিকে। 
" দাদী এতো সুন্দর গাছ লাগাইছো,,ফল কেমন হয় দেখবা না ? " না দেখলে পাপ হবে পাপ "
বলে আরশিও রোকেয়া বেগম এর সাথে বসলো। 
" বড্ডো বেশি পটপট করিস তুই "
"জানোই তো "
" মা** কথা কম ক। "
আল্লাহ মুখ দিছে কথা বলাল জন্য।" 
"সমস্যা তো তোর না,তোর রক্তের । "
" সমস্যা তো আমার রক্তের -ই।" 
রোকেয়া বেগম বিরক্ত মাখা কন্ঠে বললো,,খাইতে আয়,, ইস্কুলে যাবি না ? 
" দাদী ভুলে যাচ্ছো আমি ভার্সিটিতে পড়ি। আর ওইটা স্কুল হবে ইস্কুল না। " 
" ওই একোই" 
বলে রোকেয়া চলে গেল। আরশি সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সে খেতে চলে গেল। তার আবার ভার্সিটিতে ক্লাস আছে।গত ১০ মিনিট দরে আরশি রিয়ানার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। রিয়ানা তার ১ টা মাত্র best friend । কিন্তু রিয়ানার  এখনো রেডি হচ্ছে। আরশি ওর বাসার ভিতরে ঢুকবে না,,পরে আবার রিয়ানা আরো বেশি সময় নিবে। কিছু সময়ের মাঝে রিয়ানা বেড়িয়ে আসলো। 
" Sorry sorry pakhi ,,দেরী হয়ে গেল। "
" Ok চল ভাই " 
বলতে বলতে আরশি রিয়ানাকে খেয়াল করলো,, মেয়েটার গাঁয়ের রং ফর্সা,,বলতে গেলে অসম্ভব সুন্দর একটা মেয়ে রিয়ানা। তার সাথে আবার পড়েছে হালকা নীল রংয়ের জামা,,বেশ মানিয়েছে তাকে। আরশি তেমন ফর্সা না। তাঁর গায়ের রং হালকা হলুদ টাইপের। তবে একটা জিনিস বলতেই হয় আরশির চুল গুলো অসম্ভব রকম সুন্দর,, যেমন লম্বা তেমন ঘনো। আরশি পড়েছে কালো রংয়ের টি-শার্ট আর কালো জিন্সের প্যান্ট । চুল গুলো ছাড়া। আরশি আর রিয়ানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।রিয়ানা আরশিকে উদ্দেশ্য করে বললো " আচ্ছা আরু তোর ওই বইটা একটু দিবি,,?"
" কোনটা ? "
" আরে ওইদিনের টা! " 
"আচ্ছা " 
বলতে বলতে তারা সামনে হাঁটতে লাগলো।হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই আরশি বলে উঠলো: আচ্ছা রিনু,,ধর কোনো একদিন আমার তোকে খুব প্রয়োজন,, তখন আমাকে সাহায্য করবি,,?
" শুধু একবার বলে দেখ তোর জন্য জীবন দিতে রাজি। " 
" জীবন দেওয়া লাগবে না " 
 এর মধ্যেই তারা ক্লাসে পৌঁছে গেল। 
দুপুরের দিকে ক্লাস শেষ করে,, তাঁরা বের হলো।হঠাৎ একটা ছেলে হুমড়ি খেয়ে আরশির উপর পড়লো। ছেলেটার গা রক্তের চুপচুপা। এমনিকি তার রক্তে আরশি পর্যন্ত ভিজে গেছে আরশি খানিক টা বিরক্ত মাখা কন্ঠে বললো: বা*ল ছাল আমার কাছেই কেন আসতে হবে আরশি পা দিয়ে ছেলেটাকে সাইডে সরিয়ে সামনে এগিয়ে গেল।  তাকে দেখে মনে হচ্ছে এসব তার কাছে দুধ ভাত মাত্র। সে যে এই মুহূর্তে ভার্সিটিতে আছে এটা যেন ভুলেই গেছে। অন্য দিকে রিয়ানা ভয়ে কাঁপছে। সবাই আরশির দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । আরশি জোর করে রিয়ানার হাত ধরে সামনে এগোলো। কিন্তু কেউ একজন যে তাঁর দিকে সরু নজরে তাকিয়ে আছে সেটা সে খেয়াল করলো না। হঠাৎ পেছন থেকে ভেসে এলো এক অপরিচিত পুরুষের কন্ঠ " দাড়াও !"
( উপন্যাস টা পড়তে পারেন,, ভালো লাগবে আশা করি,, অবশ্য তেমন ভালো হবে কিনা জানিনা,, আমার লেখা প্রথম উপন্যাস এটা। তবে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ ) 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে অবরুদ্ধ হৃদয় শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন