##এক_বনে_দুই_বাঘ
৩.
®রোজা রহমান নাঈমা
‘
মালিথা বাড়ির বড় কর্ত্রী— জাকিয়া জামান মীর। বলা চলে, এই বিশাল সংসারের বর্তমান প্রাণকেন্দ্র তিনি। নিজের হাতে সাজিয়ে-গুছিয়ে গড়ে তুলেছেন বাড়িটির প্রতিটি কোণ, প্রতিটি নিয়ম, প্রতিটি সম্পর্ক। সংসারের শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে সন্তানদের চরিত্র গঠন ও সংযম সবকিছুর পেছনেই রয়েছে তাঁর নিরলস শ্রম, প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি। বলা যায়, এই বাড়ির সন্তানরা জাকিয়া জামান ও বড় কর্তা জাকির মালিথার আদর্শের ছাঁচে গড়ে ওঠা একেকটি রত্ন। তাঁদের মূল্যবোধ, শিষ্টাচার ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ছাপ মালিথা পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আচরণে স্পষ্ট।
জাকিয়া বাণিজ্যে বি.কম ও এম.কম ডিগ্রিধারী হয়েও এই সংসারকে যেভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতে শুরু করেছিলেন— তাতে শুধু জাকির মালিথা নন, শ্বশুর-শাশুড়ীও দেখে গর্ববোধ করতেন। তাঁর মানসিকতা ও বিচক্ষণতার আদর্শে আজ বাড়ির পরবর্তী দুই বউও একই ভাবে চলার চেষ্টা করেন৷ তিনি চাইলে এত শ্রম সংসারে না দিয়ে স্বামীর মতো কিংবা স্বামীর সাথে কোনো একটি ব্যাংকে চাকরি গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু না, তিনি তা করেননি। জাকির মালিথার সাথে বিয়ের পরেই তিনি স্নাতকের শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। জাকির মালিথাই ওনাকে পড়িয়েছেন।
এমনকি তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারও করেছেন। বড় ছেলে তুষারের জন্ম বিয়ের এক বছরের মাঝেই হয়েছিল৷ তবুও তিনি নিজেকে ভেঙে যেতে দেননি। শক্ত একটা ভিত ছিল যেন জাকিয়া জামান। জাকির মালিথাও তখন সদ্য একজন সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা৷ সংসারের হাল পুরোপুরি ধরতে পারেননি। অনেক সময় বাবা-মায়ের সাহায্য ওঁনাকে নিতে হতো। সন্তানও যে দ্রুত এসেছিল! তবুও জাকিয়ার মাঝে সে-সব নিয়ে কখনো ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি৷ বরং তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যশীলতায় জাকির মালিথা আজ সরকারি ব্যাংকের একজন উচ্চ পদের কর্মকর্তা। তিনি কুষ্টিয়া শাখার সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (DGM)।
বাড়ির মেজো বউ— আম্বিয়া হক। তিনি একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। শিক্ষিত ও বিচক্ষণ এই নারী এ সংসারের সম্পূর্ণ নিয়ম-কানুনকে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন৷ শুরু থেকেই তিনি যতটা সময় পেরেছেন এই সংসারে দেয়ার চেষ্টা করেছেন, বাকি দায়িত্বটা তাঁর বড় জা জাকিয়া জামান সামলেছেন৷ এমনকি তাঁর সন্তানদেরও। শহুরে মেয়ে আম্বিয়া হক, শিক্ষিত ও মার্জিত নারীর প্রতিচ্ছবি তাঁর চেহারার জৌলুশে ও আভিজাত্যময় দেহের ভাজে ভাজে লক্ষ্য করা গেলেও অহংকারের ছিটেফোঁটাও সেখানে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তার ওপর তিনি একজন ইন্টেলিজেন্স অফিসারের স্ত্রী। জাহিদ মালিথা বর্তমান র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (RAB) এর গোয়েন্দা শাখার একজন উচ্চপদস্থ অফিসার৷
‘
বেলা তখন দুপুর দু’টো বেজে পার হয়েছে। বাড়ির যে সদস্যগুলো এসময়ে বাড়িতে থাকে তারা একসঙ্গে খাবার খায়। জাকির মালিথা অফিসে আছেন এখন। অফিস থেকেই দুপুরের খাবার খেয়ে নেন৷ আর জাহিদ মালিথা ঢাকাতে থাকেন। তিনি আগাগোড়াই একা বাইরে থেকেছেন। আম্বিয়া হককে কখনো সাথে নিতে পারেননি। বরং আম্বিয়া নিজে থেকেই যাননি। তিনি তাঁর শিক্ষকতা ও এই সংসার থেকে আলাদা হোননি৷ এতে জাহিদ মালিথা কখনো কোনো প্রশ্ন তোলেননি। তিনি স্ত্রীর পেশাকে সম্মানের সাথেই ধরে রাখতে দিয়েছেন৷ এবং নিজের ভাই-ভাবির ছায়াতলে রেখে গিয়েছেন।
জাকিয়া ও আজমীরার সাথে কুয়াশা, শিশির, নীহার ও হিম দুপুরের খাবার খেতে বসেছিল, তখন তুহিন ফিরল ক্যাম্পাস থেকে। গরমে ঘর্মান্ত চেহারা আর অতিরিক্ত ফর্সা মুখটা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। এই বাড়ির প্রতিটি সদস্যের একটা বিশেষত হলো— প্রতিটি সদস্য উচ্চতায় লম্বা ও গায়ের রঙে ফর্সা৷ কিন্তু সবার ফর্সাকে ছাপিয়ে তুহিন হয়েছে বিদেশি ধাঁচের ফর্সা৷ কেমন ফ্যাকাশে ও রক্তশূণ্য লাগে তুহিনের রঙকে। তুহিন খাবার টেবিলে কুয়াশাকে দেখতে পেয়ে একটু স্বস্তির সাথে যেন বলল,
“ কুহেলি, তুই কখন এসেছিস? তোদের স্কুলের সামনে এক্সিডেন্ট হয়েছে তখনও তুই ছিলি সেখানে? আশেপাশে কোথাও ছিলি নাকি? ঘটনা ঘটার পর স্কুল থেকে বেরিয়েছিলি?”
এ-বাড়িতে দু’জন ব্যক্তি কুয়াশাকে কুহেলি বলে ডাকে। একজন তুহিন ও একজন ওর বড় চাচু। আর ওর বাবা ডাকতো কুহেলিকা বলে।
কুয়াশাকে তুহিনের কথাতে বেশ অবাক হতে দেখা গেল। মায়ের দিকে একবার দেখে প্রত্যুত্তরে বলল,
“ না, তো, মেজো ভইয়া? আমি টিফিনের শুরুতেই চলে এসেছি। প্রচণ্ড শরীর খারাপ করছিল।”
তুহিন স্বস্তিতে ফোনটা পকেটে রেখে দিতে দিতে বলল,
“আচ্ছা, খাবার খা। তেমন কিছু হয়নি। ভেবেছি তুই হয়তো ওই ঘটনার জন্য স্কুল থেকে চলে এসেছিস। বাসায় এ-সময় তো থাকার কথা ছিল না।”
“ এভাবে বলছিস কেন, তুহিন? অনেক বড় এক্সিডেন্ট নাকি?”
জাকিয়ার কথাতে তুহিন ইতস্তত বোধ করল বলে মনে হলো। ছোট সদস্যদের সামনে কথাটা বলতে চাইছে না বোধহয়। খবরটা অবশ্য ছড়িয়ে গেছে ইতোমধ্যে। বিভিন্ন চ্যানেলে লাইভ প্রচার করা শুরু করেছে। গুরুতর একটা সংঘর্ষ হয়েছে মোটরবাইক ও কার গাড়ির৷ এনএস রোডটা মার্কেট রোড। এছাড়া খুব বেশি চওড়া না হওয়ায় পাশাপাশি দু’দিকের গাড়ি চলাচল করে। ঠিকঠাক নিয়ম না মেনে পাশাপাশি ক্রস করতে গিয়ে বাইকটা ধাক্কা খায় এরপর উল্টে পড়েছে তো পড়েছে কারের নিচেই। আসলে বিপদ কখনো নিয়ম মেনে আসেনা। কারটাও জোরে চলছিল। ফলস্বরূপ বাইকারের মাথার ওপর দিয়ে চলে গেছে। হেলমেট না থাকায় মাথার ভেতরে যা ছিল সবটাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাস্তার সাথে মিশে গেছে। পরিচয় বের করা এখনো সম্ভব হয়নি। বাইকারের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।
তুহিন কুয়াশাকে দেখে নিয়ে আস্তে করে বলল,
“ একটু আরকি।”
“ একটু? মেজো ভাইয়া, বলো কেমন এক্সিডেন্ট ওটা?”
“ শুনতে হবে না তোর। খাবার খা, কুহেলি।”
“ আমি শুনব। এছাড়া তুমি না বললে আমি ইশা কিংবা স্মৃতির কাছ থেকে ঠিকই জানতে পারব। কারণ ওরা স্কুলে থেকে গেছে৷”
তুহিন ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ তোকে জানতে হবে কেন?”
“ হবে।”
তুহিন ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে শ্রান্ত কণ্ঠে বলল,
“ মাথাটা পুরো ফালাফালা হয়ে গেছে। ফালাফালা বললেও ভুল হয় ডাল হয়ে গেছে। রাস্তার সাথে মিশে থাকায় এতক্ষণে ধুয়েমুছে তোলার চেষ্টা হচ্ছে হয়তো। আরো শুনতে চাস?”
“ আচ্ছা।”
“ আচ্ছা?”
উপস্থিত শিশির খাবার চিবাতে চিবাতে ভ্রু কুঁচকে কুয়াশার দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করল। এখনো তাকিয়েই আছে কুয়াশার দিকে৷ বিরক্ত যেন তার মুখাবয়বের চারপাশে লেপ্টে আছে। এতক্ষণ চুপচাপ কুয়াশার জিদকে মেনে নেয়ার বৃথা চেষ্টা করছিল সে৷ তুহিন যখনই বলেছিল শুনতে হবে না, তখনই ওর বোঝা উচিত ছিল খুবই বাজে দুর্ঘটনা হয়তো৷ এজন্য বলতে চাইছে না৷ কিন্তু নাহ, এই মেয়ের তো আঁটি ভেঙে শাঁস চাই!
কুয়াশা বেশ নির্বিকার ও শান্ত সুরে কেমন করে যেন উত্তর করল,
“ এর চেয়ে ভয়ঙ্কর লাশ আমি ২০১০ সালে দেখে নিয়েছি, মেজো ভাইয়া। এখন আর কিছু মনে হয়না।”
তখনই সবার দৃষ্টি থমকে গেল কুয়াশার ওপর। কুয়াশা মাথাটা নিচু করে চুপচাপ খাচ্ছে। অথচ সবাই ওকেই দেখছে। একটি তেরো বছরের মেয়ে কুয়াশা। তার মস্তিষ্কে ঠিক কতটা গেঁথে আছে সেই দুর্ঘটনা? সে কি এখনও সেই বছরটা থেকে বের হতে পারেনি? সর্বনাশ! এটা কীভাবে হতে দিল তারা? এতগুলো সদস্য অথচ এটা খেয়াল করল না? গত দুইটা বছর তাদের মেয়ে সেই স্মৃতি নিয়েই কাটিয়ে দিচ্ছে! কুয়াশার সেই ছোট মস্তিষ্ক এখনও ওই ভয়ঙ্কর দিনের সাথে জুড়ে আছে? কত বয়স ছিল তখন ওর? সদ্য এগারো বছরের বাচ্চা একটা মেয়ে? হ্যাঁ, তাই তো ছিল! সেই মস্তিষ্ক যে এতটা বাজেভাবে প্রভাবিত হতে পারে তারা ভুলেই গেছে!
তুহিন, শিশির ও নীহার তারা একে অপরের দিকে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল। এরপর মায়েদের দিকে তাকাল। কুয়াশার চোখে পানি টলমল করছে। কখন টুপ করে ভাতের থালায় পড়বে। গলার ভেতরটায় কেমন আটকে আসা ব্যথা করছে। ভাত গিলতে সমস্যা হচ্ছে। তবুও সে চুপচাপ ভাতের লোকমা মুখে পুরছে আর চিবাচ্ছে। ওর মুখের দিকে আজমীরা অসহায়ের মতো তাকালেন। এই মুহূর্তে তাঁর মনে হলো— তাদের মতো অসহায় এই আল-খালিকের পৃথিবীতে সৃষ্টি আর কোনো প্রাণী নেই। নেহাত এই বাড়ির প্রতিটি মানুষ দয়াবান। নয়তো তাদের কোনো কূলকিনারাই নেই!
আজমীরা ছোট্ট করে একটা ঢোক গিললেন। ভীষণ ভয় পেলেন মেয়েকে নিয়ে তিনি। তিনি এতটাই নিরুপায় যে এমন সময়ে মেয়ের জন্য কিছুই করার ক্ষমতা তাঁর নেই৷ ঘুরে জাকিয়া জামানের দিকে তাকালেন। জাকিয়াও কেমন একটা অসহায় বোধ করলেন। সেই অসহায়ত্ব নিয়ে শিশির, নীহার ও তুহিনের পানে তাকালেন। অর্থাৎ তোরাই সাহায্য কর আমাকে।
সেই অপ্রকাশিত বাক্য যেন উপস্থিত তিন ছেলে বুঝে নিল। জাকিয়ার মুখের ওপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে কুয়াশার দিকে তাকাল ওরা। সময়ের সাথে তারা নিজেরা দুর্ঘটনাটাকে গিলে নিতে পারলেও এই মেয়েটা তা পারেনি। এভাবে চললে গুরুতর কোনো সমস্যা হতে সময় নেবে না। মস্তিষ্কের সেই বাজে আঘাতের ফলে তারা তাদের একমাত্র মেয়ে কিংবা বোনটাকে হারিয়ে ফেলবে।
কেননা হঠাৎ ভয়াবহ ও মানসিকভাবে বিধ্বংসী কোনো ঘটনা মানুষের মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। বাবার লাশ দেখা একটি মেয়ের জন্য তা গুরুতর ট্রমাটিক অভিজ্ঞতা হবে এটাই স্বাভাবিক। সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করার দরকার ছিল।
কুয়াশা আর খেল না। চুপচাপ উঠে চলে গেল। যেতে যেতে কয়েকবার চোখও মুছল৷ শরীরটা যথেষ্ট ভারী হয়ে গেছে বাবার স্মৃতির আঘাতে। ওরা আজ বিশেষভাবে খুঁটিয়ে দেখে কুয়াশার মাঝে বেশ কিছু বিষয় লক্ষ্য করল। কুয়াশা বাবার মৃত্যুর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ঘটনাটা মন থেকে মুছতে পারেনি। ভয়াবহ সেই স্মৃতি তার কৈশোরের সরলতা কেড়ে নিয়েছে। বয়স তো মাত্র তেরো, অথচ আচরণে যেন অনেক বড় হয়ে গেছে। আগের মতো প্রাণ খোলা হাসি তাকে হাসতে দেখা যায় না, অকারণে কারোর সঙ্গে কথাও বলতে দেখা যায় না। শিশিরের সাথে ঠোকাঠুকি লাগলেই আগে যেমন মারামারি পর্যায়ে চলে যেত বিগত বছরদুটোতে তা কমই লক্ষ্য করা গেছে। বরং কুয়াশা অকারণেই চুপচাপ হয়ে যায়। আগ্রহ নিয়ে আগের মতো কিছু চাইতে বা করতে দেখা যায় না তাকে৷ সামান্য বিষয়েও বিরক্ত হয়ে ওঠে সে।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে ট্রমার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বলা যেতে পারে। বাবার মৃত্যুর সেই নির্মম দৃশ্য তার মস্তিষ্কে এমন গভীর ছাপ ফেলেছে যে, আজও সে পুরোপুরি সেই অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। কুয়াশা চলে গেলে নীহার আস্তে করে জাকিয়াকে বলল,
“ আমি ভালো কোনো সাইকোলজিস্ট অথবা সাইকিয়াট্রিস্টের খোঁজ নিচ্ছি, বড় আম্মু। এভাবে আর চলবে না। আমরা ঠিক করে ফেলব আমাদের বোনকে৷ সদ্য বাবা হারানোর বিষয়টা ও মেনে নিতে পারেনি, এটা আমাদের আগেই বোঝা উচিত ছিল। আমরা নিজেরাও নিজেদের মানাতে গিয়ে ওর ওপর বিশেষ নজর রাখতে পারিনি৷ তার জন্য আমরা ভীষণ স্যরি, ছোট আম্মু। তুমি এবারের মতো আমাদের দায়িত্ব দিয়ে দাও। সত্যি বলছি আমরা ওকে সুস্থ করে ফেলব। আবার আগের মতো হাসিখুশি কুশুকে ফিরিয়ে আনব৷ ও আবার পাগলামি করবে। আমাদের সাথেই করবে। ওর সব আবদার আমরা পূরণ করব। কথা দিচ্ছি, ছোট আম্মু।”
নীহারের বলতে থাকা মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন আজমীরা। কেমন ফ্যালফ্যালে দৃষ্টি। তিনি কী বলবেন, কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারেন না। এই যৌবনকালেই স্বামী হারানোর ব্যথাটা কি অন্যরা বোঝে? নাকি ভেতরের খবরটাই পায়? হৃদয়ের শব্দ যে বাইরে শোনা যায় না!
তুহিন আরেকটু এগিয়ে এসে বলল,
“নীহার ঠিকই বলছে, ছোট আম্মু। আমাদের একজন ভালো সাইকোলজিস্ট কিংবা সাইকিয়াট্রিস্টের সাহায্য নেওয়া উচিত। কুহেলির কিছু আচরণ আর লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, ও হয়তো এখনও ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের কিছু লক্ষণও হতে পারে এগুলো। তবে এখনই নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাবে না। আমরা ওর কিছু হতে দেব না। তুমি প্লিজ এত চিন্তা কোরো না।”
আজমীরা যেন আঁতকে উঠলেন৷ একমাত্র মেয়ের করুণ পরিণতি মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে তাঁর জন্য। ওই একমাত্র মেয়ে ও ছেলেটার জন্যই তিনি বেঁচে আছেন। নয়তো কবেই তো নিঃশেষ হয়ে যেতেন? ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে কেউ এভাবে বাঁচতে পারে নাকি? আজমীরার মতে, কখনো পারে না। তবুও তিনি বেঁচে আছেন কীভাবে? সেই মানুষটা বেঁচে থাকলে এসময়ে বলতেন,
“ শুনো আজমী, আহত আত্মাও একসময় বর্ম পরতে শেখে। তুমি না হয় আহত হয়েই ক্ষত শুকোতে শেখো? মানুষ তো স্মৃতি নিয়েও বাঁচে, আজমী!”
আজমীরার ভেতরটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা বোধ হতে লাগল। তিনি নীরবতাকে বেছে নিলেন তখন। কাঁদলেন না। শুধু শান্ত হয়ে গেলেন। এরপর খাওয়ায় মনোযোগী হলেন। খেয়ে দেয়ে বাঁচতে হবে যে!
তুহিন বড় আম্মুকে বলে উপরে চলে গেল। তার গোসল দেয়া প্রয়োজন এখন৷ মাথাটা ঝিমঝিম করছে তারও। সবটা কেমন যেন স্তব্ধ হয়ে আছে। এমনটা ছিল না৷ থাকার কথাও নয়৷ আবার থাকেও না। এখন তাদের একটাই কাজ এই বাড়ির প্রাণ ফেরানো। এভাবে চলা অসম্ভব! দুর্ঘটনাকে পুঁজি করে তারা তাদের ভবিষ্যতকে থামিয়ে রেখেছে৷ যা অনুচিত৷ একটা ছোট্ট বাচ্চা মেয়েও কিনা সেই দুই বছর আগের ঘটনায় থমকে আছে! অভাবনীয় ব্যাপার!
শিশিরও আর খেল না৷ সে ধীরে উঠে গেল বেসিনের দিকে। হাঁটার গতি শ্লথ৷ মস্তিষ্কে তখন ঘুরছে ছোট চাচু। ছোট চাচু থাকলে এই মুহূর্তকে কী বলতেন? নিশ্চয় তার পাশে এসে তার সাথে চলতে চলতে বলতেন,
“ হোয়াট আর ইউ থিঙ্কিং অ্যাবাউট, কমরেড?”
প্রশ্নটা করে নিজেই বোধহয় প্রাণখোলা হাসিতে ফেঁটে পড়তেন। এরপর তার শীর্ষ শিশিরকে বিজ্ঞের মতো বলতেন,
“ শোন, কথাটা সবসময় মনে রাখবি— The deepest wounds leave no blood, অর্থাৎ সবচেয়ে গভীর ক্ষতগুলো রক্ত ঝরায় না। তোর ক্ষতের রক্ত ঝড়ছে না বলে কি তা অগভীর? নাকি ক্ষতটাই নেই? হুঁ? অবশ্যই আছে! অন্যরা প্রকাশ করতে পারে, তুই তা পারিস না। অর্থাৎ Not everyone is the same, nor can they be the same, comrade.”
এরপর হয়তো শিশিরকে একটা চোখ টিপে দিতেন। টিপেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতেন,
“ বল লাস্ট লাইনে কী বুঝলি?”
প্রশ্নটা করে নিজেই আবার উত্তর করে বসতেন,
“ অর্থ এই যে, সবাই একরকম নয়, আর সবাই একরকম হতে পারে না।”
শিশিরও তখন তার গুরু চাচুর কথাতে প্রভাবিত হয়ে যেত। তার চাচুকে সে গুরু মেনে সারাটা জীবন গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য তৎপর হতো৷ উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা তো মনুষ্যকূলের শ্রেষ্ঠ গুণ!
…
বিকেলের দিকে কুয়াশাকে একা একা বসে থাকতে দেখা গেল বসার ঘরের সোফায়। বাড়িতে তো আর মেয়ে নেই। আর কুয়াশা স্কুল, কোচিং ও প্রাইভেট কিংবা প্রয়োজন ছাড়া বের হয়না৷ এমন নয় যে কুয়াশা মিশতে জানেনা। ও ভীষণ মিশতে পারে। ওর ভালো বান্ধবী আছে দু'জন। তবে তাদের সাথে স্কুল, কোচিং ও প্রাইভেটে গেলেই মেশা হয়৷ এছাড়া একে অপরের বাড়িতে প্রয়োজনেও যাওয়া-আসা হয়। আর যখন বাড়িতে থাকে, তখন একলা একা মেয়েই সে।
সবকিছুর মধ্যে শুধু বাবার মৃত্যুকে সে স্মৃতিতে নিয়ে ঘোরে বলেই অনেকসময় অনেককিছু থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে ফেলে৷ আর ওর এই ব্যাপারটাই বাড়ির সদস্যরা মানতে পারছে না। কুয়াশা যে এমনটা ছিল না!
তবে ওর একলা সময়টাকে জমিয়ে দিতে হাজির হয়ে গেল তুহিন ও নীহারের মামাতো বোন ইয়াসমিন ও ইশা। আম্বিয়া হকের বাবার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের জেলখানা মোড় সংলগ্নে। ফুপুর বাড়ি খুব একটা দূর না হওয়াতে মাঝেমধ্যেই আসে দু'জন। আরো বিশেষভাবে আসে কুয়াশার জন্যই। কুয়াশার সেই দু’টো ভালো বান্ধবীর মধ্যে একজন হলো তুহিন ও নীহারের মামাতো বোন ইশা।
ইয়াসমিনকে আসতে দেখে কুয়াশা ভীষণ খুশি হয়ে গেল। তার বড় তো কোনো বোন নেই। ইয়াসমিনকে সে ভীষণ ভালোবাসে। এবং ভীষণভাবে পছন্দ করে। এসবের পেছনে আরো একটা বিষেশ কারণ অবশ্য আছে। ইয়াসমিন মেয়েটা খুব শিঘ্রই এই বাড়ির পুত্রবধূ হতে চলেছে। কুয়াশার মেজো ভাইয়ার বউ। অর্থাৎ তুহিন মালিথার বউ। অনেক আগে থেকেই তাদের বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল। বিশেষভাবে আম্বিয়া হক ও তাঁর বড় ভাইয়ের ইচ্ছামতেই। পারিবারিক ভাবে ঠিকঠাক করা এই সম্বন্ধকে দু'জনেই মেনে নিয়েছে। তুহিনের লেখাপড়া শেষ হলেই ইয়াসমিনকে বউ করে আনা হবে মালিথা বাড়িতে।
কুয়াশা উৎফুল্লতার সাথে ছুটে গিয়ে ইয়াসমিনকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“ তোমাকে ভীষণভাবে মিস করছিলাম, বুবু। তুমি আমার মন পড়ে চলে এলে নাকি?”
“ ইয়েস ইয়েস, একদমই তাই! আমি কুয়াশা বুড়ির মন পড়তে পেরেই ছুটে চলে এসেছি। আমার মনটা আমাকে ভীষণভাবে বলছিল, আজ বুঝি বুড়িটা মন খারাপ করে বসে আছে। তাই তো রিক্সা নিয়ে উড়ে চলে এলাম।”
বলেই হেসে ফেলল। কুয়াশাও হেসে ফেলেছে। মনটা তার ফুরফুরে হয়ে উঠল যেন। কিছুক্ষণ আগেও যে ভারটা ছিল তা নিমেষেই দূর হয়ে গেল। কুয়াশা মেয়েটা এই কিশোরী বয়সকাল থেকেই নিজেকে যেন নিয়ন্ত্রণ করা শিখে গেছে৷ তার এই পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখানোটা চরমভাবে নজরে পড়ার মতো বিষয়। এতটুকু বয়সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা কি স্বাভাবিক কোনো ব্যাপার? যে বয়সে মন-মস্তিষ্ক হয় বাঁধনহারা?
কুয়াশাকে সুন্দর করে হাসতে দেখে ইয়াসমিন স্বস্তি পেল। বিশেষত কুয়াশার জন্যই সে এসেছে। দুপুরের দিকে তুহিন ফোনকলে আজ কুয়াশার ব্যাপারে বিস্তারিত বলেছে তাকে। ব্যাপারটা গুরুতর বলেই মনে হয়েছে। একটা বাচ্চা মেয়ে এভাবে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারে না। সম্পূর্ণ পরিস্থিতিটাকে বোঝানোর ব্যাপার আছে। তুহিন তাকে কিছু বিষয়ে অবগত করেছে এবং বুঝিয়ে দিয়েছে। সে অনুযায়ী তাকে কাজ করতে হবে। তুহিন ও তার মাঝে ফোনালাপ চলে টুকটাক। টুকটাক বললে ভুল হয়, ভালোমতোই চলে। তারা প্রেম না করলেও প্রেম প্রেম ভাব একটা আছেই যেন।
ইয়াসমিন তখন বলল,
“ শুনলাম আজ স্কুল বাঙ্ক দিয়ে চলে এসেছিস?”
কুয়াশা ইশার দিকে তাকাল তখন। ইশা তড়িঘড়ি করে দু'দিকে ঘনঘন মাথা নাড়িয়ে না বোঝাল। অর্থাৎ সে বলেনি। কুয়াশা বিশ্বাস করল। এখানে মূলে আছে মেজো ভাইয়া৷ কুয়াশা এখন আর ছোটটি নেই বেশ। সে অনেক কিছু বুঝতে পারে। তার কত ক্লাসমেটরা প্রেম করে। সে ও তার বান্ধবীদ্বয় শোনে সেসব। তাই মিটিমিটি হেসে বলল,
“ মেজো ভাইয়া বলেছে বুঝি?”
“ সর, পাজি!”
ইয়াসমিন যেন কুয়াশার বলার ধরনে লজ্জা পেল। সে কুয়াশার কথাকে উড়িয়ে দেবার ভঙ্গিমা নিয়ে গিয়ে সোফাতে ঢাস করে বসে পড়ল। ছিমছাম গড়নের লম্বাটে মেয়েটি। সাদা চন্দন রঙা গায়ের রঙ। মাথার চুলগুলো প্রাকৃতিকভাবেই সোনালি রঙের। পাতলা ঠোঁট, হালহা দাবানো নাক ও হরিণী চোখের মেয়েটি ভীষণ মায়াবী। ইয়াসমিন ফুলের মতোই যেন সে একটি সুগন্ধি ছড়ানো ফুল। নামের সাথে সদৃশতা আছে বলতে হয়। সে যখন সোফাতে বসেছে, কুয়াশাও ওর পাশে গিয়ে বসে পড়ে বলল,
“ আমাকে বাচ্চা ভেবো না, বুবু। আমি বেশ বুঝি তোমাদের প্রেম চলে।”
ইয়াসমিন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে সচেতন কণ্ঠে বলল,
“হ্যাঁ? তুই প্রেম কী তা বুঝিস? এই তুই কি পেকে যাচ্ছিস?”
“ও তো পাকাই, উডবি ভাবি। বরং তোমরাই বোকা। ওকে শিশু ভাবো।”
কথাগুলো বলল সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে পেছনে দাঁড়িয়ে যাওয়া শিশির। ইয়াসমিনকে সে শুধু ভাবি ডাকে না। হয় উডবি ভাবি ডাকবে আর নয়তো হনেওয়ালা ভাবি ডাকবে। কারণ জানতে চাইলে, উত্তর একটাই— ইয়াসমিন এখনও এবাড়ির পুরোপুরি বউ হয়নি। এবং তাদের পুরোপুরি ভাবিও হয়নি।
শিশিরকে ওটুকু বলেই থামতে দেখা গেল না। সে আবারও বলল,
“ নতুন করে পাকার কিছু আছে নাকি ওর? সারাদিন সঙ্গীত বাংলা, স্টার-প্লাস, এ প্লাস, সে প্লাস কী এমনি এমনি দেখে?”
ইয়াসমিন পেছন মুড়ে শিশিরের দিকে তাকিয়েছে। পরনে কালো থ্রি-কোয়াটার প্যান্ট ও জলপাই রঙের পাতলা টিশার্ট। সতেরো বছরের এই কিশোর ছেলেটি যেন তাল গাছের মতো বেড়ে উঠেছে। এত অল্প বয়সে এত বেশি বেড়ে উঠার ফলে পিঠটা স্বাভাবিকের তুলনায় কিঞ্চিৎ কুঁজো দেখায়। হলুদেটে ফর্সা মুখে দাড়ি-গোঁফ এখনো ঠিকঠাক ভাবে গজিয়ে উঠতে পারেনি। শারীরিক গঠনটা পাতলা তবে চওড়া। মুখটার দিকে তাকালে তো একদমই আট-দশ বছরের বাচ্চাদের মতো বলে মনে হয়। কিউটের একটা ডিব্বাই যেন ইয়াসমিনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেরাও যে এতটা কিউট হতে পারে তা ইয়াসমিন শিশিরকে না দেখলে জানতই না বোধহয়। এই বয়সেই তার সহজাত আকর্ষণের কাছে বোধহয় শত শত মেয়ে ক্রাশিত হয়ে মাঠে বসে ঘাস খায়।
শিশিরের চেহারার সবচেয়ে মুগ্ধকর দিক হলো তার চোখজোড়া। বড়, গভীর ও স্বচ্ছ চোখদুটোতে যেন এক অদ্ভুত আকর্ষণ লুকিয়ে আছে৷ যে আকর্ষণে মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও দ্বিতীয়বার তাকাতে বাধ্য। মনে হয় সৃষ্টিকর্তা চোখদুটোকেই কেন্দ্র করে তার মুখাবয়বের বাকি রেখাগুলো এঁকেছেন। মুখটা পুরোপুরি গোল নয়, আবার দীর্ঘও নয়; নিখুঁত ডিম্বাকৃতি। প্রশস্ত কপাল, সুগঠিত চোয়াল আর সামান্য দীর্ঘায়িত চিবুক মুখাবয়বে এনে দিয়েছে এক অনন্য সামঞ্জস্যতা। সেই সামঞ্জস্যতাই চোখের সৌন্দর্যকে আরও প্রকট করে তুলেছে। উঁচু খাঁড়া নাক, সুষম কপাল আর ঘন কালো ভ্রু মুখশ্রীতে যোগ করেছে আলাদা সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব। হলদেটে গায়ের রঙের সঙ্গে সবকিছু এমন নিখুঁতভাবে মানিয়ে গেছে যে, তাকে দেখলে প্রথম দৃষ্টিতেই চোখ আটকে যাবে।
ইয়াসমিনও কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে বলে বসল,
“ দিন দিন হিরো হচ্ছিস যে? রূপের কোনো মন্ত্র-টন্ত্র পাঠ করিস নাকি?”
“ তুমি তো আগেই বিবাহিত হবে বলে, হবু যুক্ত করে বসে আছ! নয়তো রূপের মন্ত্র-টন্ত্র পাঠ করা বাদ দিয়ে তোমাকে পটানোর মন্ত্র পাঠ করা যেত।”
বলতে না বলতেই শিশিরে বাহুতে চাপড় মারল ইয়াসমিন। মুখে বলল,
“ সর, ফাজিল!”
“ তোর নজর তো সংযত নয় রে! আম্মু এ কার সাথে আমার নিরীহ ভাইটার বিয়ে ঠিক করেছে?”
ইয়াসমিন নীহারের দিকে চোখ ছোটছোট করে তাকাল। ইয়াসমিন আর নীহার সমবয়সী। তবে ইয়াসমিনই তিন মাসের বড়। ওরা একই ব্যাচে একই কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ইয়াসমিন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চেষ্টা করবে।
ইয়াসমিনও নীহারকে ছেড়ে দিল না বোধহয়। সবার সামনে পচানি দিতে বলল,
“ কেন, তোর ওই গার্লস কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকাটা দেখে ফেলেছি বলে?”
নীহার যেন এবার চুপসে গেল৷ বাকিরা এবার নীহারের দিকে হা হয়ে তাকাল৷ সত্যি কী মিথ্যা সে-সব জানার চেষ্টা করল না বা প্রয়োজন নেই কারো। ওরা নীহারকে দেখতে ব্যস্ত। নীহার যেন নিজেকে লুকানোর চেষ্টাতে আছে। কিন্তু কোথায় লুকাবে ঠিক বুঝে পাচ্ছে না৷
| চলবে|
নোট-১ঃ
★The deepest wounds leave no blood.
★Not everyone is the same, nor can they be the same.
এই দুটো বাক্যই লেখিকার লেখা। পয়েট হিসেবে। সেখানে আলাদাভাবে যদি ব্যবহার করেন, তবে অবশ্যই লেখিকার নামসহ ব্যবহার করবেন।
নোট-২ঃ ২০১২ সালের হিসাব মতে কুষ্টিয়া শহরের বর্ণনা আছে। তাই এখনের আধুনিকতার সাথে মেলাতে যাবেন না। মিল পাবেন না৷ সময়ের সাথে বর্ণনা উপভোগ করবেন৷ বাকিটা কল্পনায় লেখা ভেবে নিবেন৷
নোট-৩ঃ উপন্যাসে উল্লেখিত সালগুলো মনে রাখার চেষ্টা করবেন। কিংবা অবশ্যই পড়ার চেষ্টা করবেন। এতে আপনাদের বুঝতে সাহায্য করবে৷ সালগুলো বিশেষ।
নোট-৪ঃ বুনো ওল বাঘা তেঁতুলের সাথে মেলাতে গেলে অবশ্যই ঠকে যাবেন। তাই অনুরোধ কম্পেয়ার করা বন্ধ করুন। নয়তো ওটা আমি ডিলিট করতে বাধ্য হব। এত কষ্ট করছি এমনি এমনি না। যদি এটা পড়েন তবে বুনো ওল বাঘা তেঁতুল এর সম্পূর্ণ প্লটকে ভুলে আসতে হবে।
এবং আমি এটাতে সব চরিত্রদের প্রাধান্য দেয়া চেষ্টা করব৷ এখানে বিশেষ চরিত্র কম পাবেন, কারণ সবাই বিশেষ।
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যদি পড়তে না চান, তাহলে বলব এই উপন্যাসের যাত্রা এখানেই শেষ করুন। আমার লেখা থামবে না।