#Bloody_Vampire
#Dimple_Sakura
#পর্ব-২
"নিমাই রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলো। ভীর ও কমে গেলো।
রাত সাকুরা কে জরিয়র ধরলো " সাকু, হাত কাপছে তোর। সাকুরা নিজের হাতের দিকে তাকালো ঘুষি মারার পর থেকে হাত জ্বলছে। আর লকেকটা এখনো গরম। দাদুর কথা মাথায় বাজছে " খুলিস না কখনো।
চল ক্লাসে সাকু ফিসফিস করে বলল,, আমার ভালো লাগছে না
সবাই ওকে ঘিরে ক্লাসের দিকে হাটা ধরলো কিন্তু সাকুরার মনে হলো - ক্যাফে ব্ল্যাক কফির দোতলা থেকে কেউ একজন পুরো সিনটা দেখে হাসলো।
*দুপুর টাইম- মানবিক ভবন, ক্লাসরুম **
সাকুরা ব্রেঞ্চে সোজা হয়ে বসে আছে। ইতিহাস ক্লাস চলছে। ম্যাম ব্ল্যাকবোর্ড এ পলাশির যুদ্ধ লিখছেন।
" বিশ্বাসঘাতকতা কিভাবে মানুষ কে ধ্বংস করে তাই বলছে ম্যাম"
সাকুরার মুঠো শক্ত হয়ে গেলো,, নিমাই এর মুখ টা ভাসছে। হাতটা এখনো জ্বলছে,"ভাবছে হুট করে এটা কি করে ফেললো।
পাখি খাতায় লিখলো " সাকু রাগ করিস না" তোর চোখ লাল হয়েছে কেনো?
" কিছু হয়নি পাখি আমাকে টাচ করিস না প্লিজ" আমার ভালো লাগছে না তোর সাথে কথা বলতে, একা থাকতে দে না আমাকে "এতো আদিখ্যেতা দেখাস না তো। " কথা টা শুনে পাখির একটু খারাপ লাগলো তবে কিছু বললো না।
"মেঘ পেছন থেকে বলল ম্যাম পানি খাবো" ম্যাম না তাকিয়েই বললো " খা"
জেনিফা সাকুরার দিকে তাকালো কিছু বললো না ও বুঝতে পারে সাকুরার কখন কি হয় কখন মন খারাপ কখন মন খুশি।
সবাই ক্লাস শেষ করে বের হলো
" চল ক্যান্টিনে যাই " জেনিফা বলল
সাকু বলল না *বাড়ি জাবো
**বিকাল ৩.০০ বাড়ি ফেরার সময় **
রাস্তা আধা ফাকা। আকাশে মেঘ।সাকুরা বাইক চালাচ্ছে। স্পিড ৬০ হঠাৎ মনে হলো পেছনের সিট ভাড়ি। যেনো কেউ বসেছে,,,
সাকুরা ব্রেক কষলো না বরং স্পিড বারালো একদম ৮০ তে।
লুকিং গ্লাসে তাকালো। না কেউ নেই মনের ভুল। হঠাৎ ঘারের কাছের কেউ বলল " তোমার রক্ত -- যেটা আমার পছন্দ //
সাকুরা পেছনে তাকালো না বরং হাত দিয়ে পেছনে ঘুষি চালালো। কেউ নেই শুন্য লাগলো।
"সামনে আয়" সাকুরা চিৎকার করলো পেছন থেকে কথা কেন বলিস সাহস থাকলে সামনে আয়।
কোনো জবাব নেউ সুধু বাতাসে ভেজা মাটির গন্ধ। দাত কিরমির করলো আর বললো যেদিন সামনে পাবো,,সেদিন তোর রক্ত দিয়ে গোসল করবো you bloody witch ...
"সাথে সাথে লকেট ঠান্ডা একদম বরফ""" কিন্তু হঠাৎ পিছন থেকে শব্দ ভেসে এলো।
সাকুরা পেছনে তাকিয়ে দেখলো কিছু একটা তড়িৎ গতিতে তার পাশ দিয়ে চলে গেলো সাকুরা একটু ভয় ও পেলো কিন্তু প্রতিক্রিয়া করলো না...
**বিকাল ৪.০৫ সাকুরার বাড়ি**
গেট খুলেই সাকুরা হর্ন দিলো। মা দৌড়ে এলেন,,, কি হয়েছে মা এতো জোরে কে বাইক চালায়??
" কিছু না আম্মু " সাকুরা হেলমেট খুললো।
মেজাজ খারাপ ছিল মা এখন ঠিক আছি "।
""বাবা বারান্দা থেকে নামলেন।" নিমাই এর বাবা ফোন করেছিল আমি বলেছি আমার মেয়ে অন্যায় কিছু করেনি""
" আব্বু আমি ভয় পাইনি কেউ আমার পিছু নিলে আমি তাকে গুরিয়ে দেবো।
বাবা মাথায় হাত রাখলেন " এটাই আমার মেয়ে হোক যে ছোটুমটু কিন্তু কলিজা টা বাঘের কলিজা"
সাকুরা ঘরে ডুকলো,,ব্যাগ থেকে সব বই বের করার সময় হঠাৎ চোখে পরলো ইতিহাস বইয়ের মলাটে আঙুলের ছাপ। লালচে,, শুকনো রক্ত " সাকুরা ভয় পেলো না অবাক হলো,, বইটা নাকের কাছে নিলো শুকলো।
" রক্ত" কিন্তু কার,,তুই যেই হোস সামনে আয় আমি রেডি"
বাইরে বিদ্যুৎ চমকালো।
হুট করে দেখলো বৃষ্টির ভেতর কেউ একজন দাড়িয়ে আছে কালো সার্ট ভিজে গায়ে লেপটে আছে। মুখ দেখা যায় না তবুও বোঝা গেলো লোকটা সুন্দর ভীষন সুন্দর।
চুপ করে সাকুরার দিকে তাকিয়ে আছে।
"বাঘিনি...একদম জেদি তুমি। ফিসফিস এলো বৃষ্টির সাথে। ""
সাকুরা জানালা খুলে দিলো। বৃষ্টির ছাট আসছে। "" কি বললি জোরে বল??
সাকুরা জানালা বন্ধ করলো না খোলা-ই রাখলো
* সকাল ৯ টা -- সাকুরার বাড়ি**
আজকে কলেজ বন্ধ। শুক্রবার আজকে.. বাইরে রোদ।
গতকালের বৃষ্টির পর আকাশ একদম পরিষ্কার।
সাকুরা বারান্দায় বসে ইতিহাস বই পরছে *** মুক্তি যুদ্ধে নারীর ভূমিকা"।
লকেট ঠান্ডা বইয়ের মলাটের রক্ত সুকিয়ে গেছে কারন সে ইচ্ছে করেই মুছে নি।
কিরে মা,, এতো সকালে পড়া? " বাবা চায়ের কাপ পাশে নিয়ে বসলেন।
হ্যা আব্বু ম্যাম বললো সোমবার জমা দিতে হবে সব আর মানবিকের পড়ায় লেখা বেশি।
মা রান্নাঘর থেকে পেয়াজু আর মুরি নিয়ে এলেন 'নে খা। তারপর গল্প শুরু করলেন।
আব্বু দাদি কেমন ছিল?? রুকাইয়া ম্যাডাম?
বাবা চা খেতে খেতে বলল তোর মতো জেদি ইতিহাসের শিক্ষক শুধু পরাতো না ইতিহাস তৈরি করতো অন্যায় দেখলে রুখে দাড়াতো একবার গ্রামের চেয়ারম্যান এর ছেলে কে থাপ্পড় মেরেছিলো মেয়েদের ইভটিজিং করেছে দেখে"
সাকুরা হাসলো " আমার রক্ত "
হুম তবে তোর দাদু বলতো জেদ ভালো তবে একা লরতে যেওনা,,বন্ধু বান্ধব মা বাবা এদের সাথে থেকো।
সাকুরা লকেটটা ছুয়ে বলল মা দাদি এই লকেটের কথা কিছু বলেছিল
মা বাবা দুজন দুজনের দিকে তাকালেন
বলেছিল এটা তোর দাদুর ছিল রুকাইয়াহ বেগমের,,এই লকেটে তার শেষ চিন্হ আর তার আশির্বাদ এটা কখনো খুলবি না বিপদ হবে।
সাকুরা বললো কি বিপদ হবে??
জানিনা রে মা তোর দাদি আর কিছু বলে নি
সুধু বলল ও বড় হলে সব জানবে ও আপাতত ইতিহাস নিয়ে পরুক ইতিহাস ঘাটুক একদিন নিজের ইতিহাস নিজে জানবে""
সাকুরা মাথা নাড়ালো ঠিক আছে আমি জোর করবো না কিন্তু কেউ আমার সাথে লুকোচুরি খেললে তার পরিনাম হবে মৃত্যু।
বাবা হাসলেন। " এটাই তো চাই তবে সাবধানে
**১০.০০ টা ** উঠান**
সাকুরা উঠানে দড়ি লাফাচ্ছে। ব্যায়াম। রাইডার কুইনদের ফিট থাকতে হবে।
পাশের বাসার ছোট ছেলে টা এলো সাকু আপু তোমার জন্য চিঠি।
চিঠি?? কে দিলো??
সাকুরা চিঠি নিয়ে দেখলো নাম নাই।।
ভেতরে একটা ব্লেড চিকচিক করছে আর ছোট করে লেখা " পলাশির যুদ্ধে বিশ্বাস ঘাতকতার জন্য মীরজাফর ছিল আর তোমার যুদ্ধে আমি। M**
সাকুরার লকেট হঠাৎ গরম হয়ে গেলো
"M" কি?? মৃত্যু নয়তো
সে ভয় পেলো না কাগজ মুচরে ফেললো
" আব্বু "" সাকুরা ডাকলো। বাইরে কে এসেছিল?
বাবা এসে বলল কই কেউ না তো আমি তো বারান্দায় ই ছিলাম
সাকুরা গেটের দিকে তাকালো রাস্তা ফাকা
ছোট ছেলে টা বলল এইতো ছিল আপু এখনই চলে গেছে হেটে হেটে। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি কীভাবে চলে গেলো।
সাকুরার চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে " লুকোচুরি আবার"
আসুক আমি রেডি..
মা ভয় পেলেন "কি হইছে সানজু
কিছু না মা আমাকে কেউ একজন আমাকে ইতিহাস পড়াতে চায় কিন্তু আমি তাকে নিয়ে ইতিহাস গড়তে চাই।
বিকাল ৫.০০ টা ছাদ
সাকুরা ছাদে বসে সুর্যাস্ত দেখছে হাতে বই,,, ফোন বাজলো। গ্রুপ কল। মেঘ রাত জেনিফা পাখি রিহান সবাই আছে।
সাকু কি করিস রাত বলল
ছাদে আমি**তোরা??
আমি ক্রিকেট খেলছি আয় না মেঘ বললো।" সাকুরা বললো না আজ পরিবারের সাথে সময় কাটাবো কাল দেখা হবে কলেজ এ
রিহান চুপ কিছু বললো না শুধু শুনছে সাকুরার গলা সুনতে তার ভালো ই লাগে কিন্তু বলবে না
" ঠিক আছে রাত বলল।৷ " রেস্ট নে। কালকে মানবিক ভবনে আড্ডা হবে।
ফোন রাখলো
সাকুরা আকাশের দিকে তাকালো সূর্যের দিকে।
" M" তুই যেই হোস সামনে আয় আমি সাকুরা যেমন কলম ধরতে পারি তেমন ব্লেড ও।
হঠাৎ ছাদের কোনায় বাতাস বইলো শুকনো পাতা উরলো
মনে হলো কেউ ফিসফিস করে বলছে ** জানি তাই তো এতো বছর ধরে অপেক্ষা করেছি।"
সাকুরা ঘুরে তাকালো না। মুচকি হাসলো " বললো অপেক্ষা কর আমি আসছি " অমনি পেছন থেকে দাদু ডাকলো " দাদুভাই এদিকে আয় তো***
#চলবে
#কপি_করা_নিষিদ্ধ