ফন্ট সাইজ:
থিম:
Bloody Vampire

১৭তম পর্ব

লেখক: ‎Dimple Sakura

#Sakur_Vampire 

#Dimple_Sakura
পর্ব-১৪
"হুট করেই নজর পরলো রুবার নিথর দেহটার ওপর হাতটা হালকা নড়ছে,, রুবা মরে নি। ওর নিঃশ্বাস চলছে বুকটা উঠানামা করছে। সুধু জ্ঞান হারিয়েছে,,রুকাইয়া রুবার সামনে হাটু গেড়ে বসে আছে। 
" হুট করেই পাশের রুম থেকে একটা শব্দ ভেসে এলো। কিসের শব্দ কেউ ই বুঝতে পারলাম না তবে ওই ৭ জন লোকগুলো তরিৎ গতীতে পাশের রুমে চলে গেলো।  
দাদু: তখনই রুকাইয়া চোখ মুছে উঠে দাঁড়ালো। "এভাবে চলবে না" পালাতে হবে নইলে সব শেষ হয়ে যাবে। 
দাদু: ঘরেই একটা পুরোনো দরজা ছিল। কেউ জানতো না তবুও তখন আর কেউ কিছু বলার সাহস করলো না,,রুকাইয়া দরজা খুলে ফেললো । পেছনে জঙ্গলের রাস্তা। অন্ধকার। গাছের ডালপালা বাতাসে শব্দ করছে। 
দাদু: "পালাও! সবাই দৌড়াও! ওই রাস্তা দিয়ে জঙ্গলে" রুকাইয়া ঠান্ডা ভাবে বলে উঠলো।
দাদু: মাহতাব দৌড়ে এসে রুবাকে পাঁজাকোলে করে তুলে নিলো। আমরা সবাই দৌড়ে যেতে লাগলাম সেই জঙ্গলের ভেতর দিয়ে।
 আর পেছনে... ওই ৭ জন যেনো আজ তারা কোনোভাবেই পিছু ছাড়বে না সবাইকে শেষ করেই শান্ত হবে। কিন্তু ওরা দৌড়াচ্ছে না। হাঁটছে ধীরে ধীরে। কিন্তু ওদের পা মাটি ছুঁচ্ছে না। বাতাসে ভাসছে। 
দাদু: জঙ্গলের রাস্তা যত গভীর হচ্ছে, অন্ধকার তত ঘন হচ্ছে। গাছগুলো যেন হাত বাড়িয়ে আমাদের ধরতে আসছে।
দাদু: আমরা দৌড়াচ্ছি। জঙ্গলের রাস্তা অন্ধকার। গাছের ডালপালা আমাদের মুখে আচড় কাটছে। পেছনে ওই ৭ জন তেড়ে আসছে।
দাদু: একটা ঘন ঝোপ দেখে সবাই লুকিয়ে পড়লাম,, সবাই চুপ। সুধু হৃদপিন্ডের আওয়াজ শোনা যাচ্ছ। ওই ৭ জন এসে পড়লো। "কোথায় লুকোবে?? 
দাদু: মাহতিম আর সহ্য করতে পারলো না। "আম্মু..." বলে কান্না করে উঠলো।" ওরা শুনে ফেললো। "
 "মাহতিম এর দিকে তেড়ে আসতে লাগলো।
" কিন্তু মাহতিম এর মা এক ঝটকায় রাফার বুক থেকে নিশিকে ছিনিয়ে 
নিলো। "ধাক্কা মেরে নিশিকে ওদের দিকে ছুঁড়ে মারলো লোকটার পায়ের কাছে।" লোকটা সাথে সাথে নিশীকে কোলে তুলে নিলো।
"রাফা পাগলের মতো বলতে লাগলো "ছেড়ে দাও... ছেড়ে দাও আমার মেয়েকে..." একটা লোক হাত বাড়িয়ে তোর দিকে এগিয়ে এলো হাসতে হাসতে " বললো 
"এই তো এই পরীর গলায় লকেট আছে... যখন গলা ছুঁতে যাবে...ঠিক তখনই লোকটা এক ঝটকায় ৫ হাত দূরে ছিটকে গেলো। সবাই থমকে গেলো।  
"ওরা ভয় পেলো না সুধু হাসলো হাসলো। "তাহলে তোর মেয়ে বেঁচে থাকবে ... আর তোর বাকি সবাই... মরবে। এখনি..."
ওকে নিয়ে গেলাম" ওরা নিশিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নিশীকে আরও শক্ত করে ধরলো।
 তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল: "আরেকজন কে রেখে গেলাম। দেখে রাখিস। ওর গায়ে যেন ফুলের টোকাও না লাগে। ১৮ বছর হলে নিতে আসবো সেদিন তোরা মরবি।"
দাদু: ওরা পেছন ফিরে হাঁটতে লাগলো। নিশি কাঁদতে কাঁদতে ... মা..." বলে হাত বাড়াচ্ছে। রাফা দৌড়ে যেতে চাইলো, জিহাদ জড়িয় ধরে রাখলো।
"কিন্তু রুকাইয়া আর সহ্য করতে পারলো না দৌড়ে ওদের আটকাতে গেলো। 
"ওদের মাঝখানের সবচেয়ে লম্বা লোকটা পেছনে ফিরলো না। সুধু একটা হাত পেছনে বাড়ালো।
" রুকাইয়ার গলা কেউ যেন অদৃশ্য হাত দিয়ে চেপে ধরলো। পা মাটি থেকে উঠে গেলো শরীর টা শূন্যে ঝুলছে হাত-পা ছোঁড়াছুড়ি করছে।
"এক ঝটকায় রুকাইয়াকে গাছের মধ্যে ছুঁড়ে মারলো। বয়স্ক মানুষ টার শরীরটা ডালপালা ভেঙে মাটিতে পড়লো।
 
"রাফা দৌড়ে গিয়ে তার মাথা টা কোলে নিলো। 
দাদু: রুকাইয়া কাঁপা হাতে রাফার গাল ছুঁয়ে দিলো। "মা... আমার ওকে ... দেখে রাখিস... ফুলের টোকাও... লাগতে দিস না... আ..আর ও বড় হলে বলি হলে নীশিকে ফিরিয়ে আনতে ও পারবে নীশিকে ফেরাতে..আ... আমি তোদের বাচাতে পারলাম না রে মা রুবাকে বলিস আমাকে ক্ষমা করে দিতে। "শেষ বারের মতো তোকে ছুঁয়ে দিলো " আ,,আমার কথা কিন্তু রেখো দাদুভাই। বলে শেষ নিঃশ্বাসটা ছাড়লো। চোখ দুটো খোলা রেখেই চলে গেলো।
দাদু: পুরো জঙ্গল নীরব হয়ে গেলো। সুধু কান্না আর গাছের পাতার শব্দ।
দাদু: ওই ৭ জন আস্তে আস্তে অন্ধকারে মিশে গেলো। নিশিকে নিয়ে। ওদের শেষ কথা বাতাসে ভাসছে: "১৮ বছর পর দেখা হবে ... মনে রাখিস আবার আসবো......"
*দাদু:* ভোরের আলো ফুটতে আরো অনেক দেরি তার আগেই আমরা রুকাইয়ার নিথর দেহটা আর অজ্ঞান রুবাকে নিয়ে কোনোভাবে জঙ্গলের সীমানা পেরুলাম" রাফার চোখে এক ফোঁটা জল নেই। সব কান্না যেন বুকের ভেতর জমে পাথর হয়ে গেছে। শুধু হাঁটতে হাঁটতে মাঝে মাঝে কাঁপা হাতে রুকাইয়ার কপালটা ছুঁয়ে দেয়।
মেঠো পথে উঠতেই একটা ভ্যান পেলাম। ভ্যানচালক প্রথমে রাজি হচ্ছিল না। লাশ দেখে ভয় পেয়েছিলো। রাফা এগিয়ে গিয়ে হাত ধরল। গলার স্বর ভেঙে যাচ্ছে, "চাচা, আমার মা কে... বাড়ি নিয়ে যেতে হবে। আর আমার বোন টা... ও বাঁচবে না চাচা"। ওকে হাসপাতালে নিতে হবে।
হাসপাতালে পৌঁছে ডাক্তার বললেন, "তীব্র মানসিক আঘাত,,মনে হচ্ছে মেয়ে টাকে রে**ইপ করা হয়েছে আ..আপনারা থানায় কমপ্লেইন না করে হাসপাতালে কেনো এনেছেন?? এখানে আমরা আরো ঝামেলায় পড়ে যাবো। " আর এসব হলো কীভাবে,,, আপনাদের সবার অবস্থাই তো অনেক খারাপ। 
" মাহতাব : দেখুন আমাদের মেয়ে কে আগে বাঁচান,,, থানায় যাবো কি যাবো না এটা আমরা ভেবে নেবো।"ডাক্তার ও আর কিছু বললো না।
রাফা রুবার বেডের পাশে বসে ওর হাতটা মুঠো করে ধরে আছে।, "চোখ খোলো রুবা। মা-ও নেই... তুমিও চলে যেও না।
অন্যদিকে বাড়িতে ততক্ষণে খবর পৌঁছে গেছে। দাদুর গোসল, কাফন, দাফন... সব নিয়ম মেনে হলো। কিন্তু আশ্চর্য! কারো চোখে জল নেই। সবাই যেন পাথর হয়ে গেছে। শোক এত গভীর হলে মানুষ কাঁদতেও ভুলে যায়।
দাফন শেষে কোর সিমরান এসে দাঁড়ালেন রাফার সামনে। চোখ দুটো লাল, কান্নায় গলা বসে গেছে।
 "থাক, আর অভিনয় করতে হবে না। তোর বাচ্চাদের জন্যই আমার ননদটা মরার পথে।" আর তুই অপয়া নিজের সন্তান কেও রক্ষা করতে পারলি না নিয়ে গেলো তো জানোয়ার গুলো। 
রাফা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু একটা শব্দও বের হচ্ছে না।
সিমরান : "আমি আর থাকব না এই অভিশপ্ত বাড়িতে। তোর ছায়াও আমি দেখতে চাই না। কাল ভোরেই আমি বাপের বাড়ি চলে যাব। তুই তোর ভাগ্য নিয়ে থাক"।কথা শেষ করে আঁচলে মুখ ঢেকে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। তারপর পেছন ফিরে হেঁটে চলে গেলেন।
#চলবে 
#কপি_করা_নিষিদ্ধ 
 ( ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন