ফন্ট সাইজ:
থিম:
Bloody Vampire

২৬তম পর্ব

লেখক: ‎Dimple Sakura

#Bloody_Vampire 

#লেখনীত_Dimple_Sakura
#পর্ব-২২
"জানালা দিয়ে রোদ এসে পড়েছে সাকুরার মুখে।
চোখ কচলাতে কচলাতে সাকুরা উঠে বসলো।  
মাথাটা ভারী। চোখ ফোলা। কালকের কান্নার ছাপ।
আর তারপরেই চোখ পড়লো সামনে।
হেভেন বিছানার একপাশে হেলান দিয়ে বসে আছে। শার্টের দুটো বোতাম খোলা। চুল এলোমেলো। ধূসর-বেগুনী চোখে ঘুম ঘুম ভাব।
সাকুরা ২ সেকেন্ড বুঝলো না।  
তারপর চোখ নিচে নামতেই...
ওর পরনে একটা ছোট্ট স্প্যাগেটি টি-শার্ট আর মিনি প্যান্ট
"আআআআআ"
সাকুরা লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নামলো।  
সাকুরা: "তু... তু... তুমি এখানে কেন?"
সাকুরা এদিক ওদিক দৌড়াচ্ছে। ড্রেস খুঁজছে। ওয়ারড্রব খুলছে বন্ধ করছে।  
সাকুরা: "কাপড়! আমার কাপড় কই! আল্লাহ!"
হেভেন বসে বসে দেখছে আর হাসছে।
তারপর বেডের পাশ থেকে একটা সাদা বাথ টাওয়েল তুলে সাকুরার দিকে ছুড়ে দিলো।
হেভেন: "এটা নাও। আগে নিজেকে ঢাকো। তারপর চেচাঁও।
সাকুরা: "তুমি এখানে কেনো হেভেন? 
হেভেন: "কি হয়েছিল? তুমিই তো আমাকে জড়িয়ে ধরে সারা রাত ঘুমিয়েছো Moon 
আমি তো শুধু পাহারা দিচ্ছিলাম।"
কথাটা শুনে সাকুরার মাথায় রক্ত উঠে গেলো।  
সাকুরা: "মিথ্যুক!"
এক দৌড়ে গিয়ে হেভেনের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়লো।  
দুই হাতে হেভেনের গলা চেপে ধরলো।
সাকুরা: "বলো! কি করেছো তুমি আমার সাথে!"
হেভেন একটুও নড়লো না। শুধু ভ্রু তুললো।  
তারপর ঠোঁটের কোণে সেই শয়তানি হাসি।
*
হেভেন: "উফ... Moon..."  
সাকুরার কোমর ধরে নিজের কাছে টেনে নিলো।  
হেভেন: "পজিশন টা দারুণ । বিয়ের পর কিন্তু ট্রাই করবো।"
সাকুরার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।  
সাকুরা: "অসভ্য!"
লাফ দিয়ে উঠে পড়লো। গাল দুটো টমেটোর মতো লাল।  
সাকুরা: "তুই... তুই একটা..."
হেভেন হেসে উঠলো। শব্দ করে।  
হেভেন: "কি? আমি কি?"  
বিছানায় দুই হাত রেখে হেলান দিলো নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে কথা গুলো বলছে।
হেভেন: "সারা রাত আমার বুকে ঘুমিয়ে এখন সকালে ন্যাকামি হচ্ছে তাই না?  
কাল রাতে কে কাঁদতে কাঁদতে 'হেভেন ছেড়ো না' বলেছিলো শুনি?"
কথাটা কানে যেতেই কাল রাতের কথা মনে পড়ে গেলো।  
লজ্জায় গালে লাল আভা দেখা দিলো। টাওয়েলটা আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
সাকুরা: "আ... আমি... আমি... আমার কিছু মনে নেই..."ওসব আবেগে পরে হয়ে গেছিলো।
বলেই দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।  
*ধাম* করে দরজা বন্ধ করে দিলো
বাইরে থেকে হেভেনের হাসির শব্দ ভেসে আসছে।  
হেভেন: "পালাও পালাও। লজ্জা পেয়েছো?"
সাকুরা : গলার আওয়াজ টা কমাও আমার বন্ধুরা শুনলে আমি বদনাম হয়ে যাবো। "আর তারাতাড়ি আমার রুম ত্যাগ করো।
"ওয়াশরুমের ভেতর সাকুরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের লাল হয়ে যাওয়া মুখটা দেখছে। বুকের ভেতর ধুকপুক করছে,, অচেনা এক অনুভূতি দড়জায় কড়া নাড়ছে।
কাল রাতে ও সত্যি হেভেনকে জড়িয়ে ধরেছিলো?
"ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে সাকুরা সারাদিন নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করলো প্রতিটা কাজের ফাঁকে ফাঁকে...
চায়ের কাপে চুমুক দিলে মনে পড়ে যায় কাল রাত হেভেনের বুকে মুখ গুঁজে কেঁদেছিলো সেই কথা ।  
বইয়ের পাতা উল্টালে কানে বাজে "Moon" ডাকটা।  
আয়নায় নিজেকে দেখলে লজ্জায় গাল লাল হয়ে যায়। কিন্তু কেনো হচ্ছে??  
*সারাদিন সাকুরার সবকিছুতেই হেভেনের কথা মনে পড়ছে।
বিকেল ৪:২০।  
রুম গোছাতে গিয়ে হঠাৎ থমকে গেলো।  
সাথে সাথেই বুকের ভেতর ধক করে উঠলো। সাকুরা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না। ফোন বের করে দাদুকে কল দিলো।
দাদু: "হ্যালো দাদুভাই?"
সাকুরা: "দাদু... খেয়েছো?"
দাদু: "খেয়েছি দাদুভাই । তুই কেমন আছিস? মাহতাবের কোনো খবর পেলি?"
এক সেকেন্ড নীরবতা।  
সাকুরা চোখ বন্ধ করে নিলো।  
সাকুরা: "দাদু শোনো। ওটা তোমার চোখের ভুল। আমি কাল রাতে গিয়েছিলাম। ওখানে কেউ ছিল না। অন্য কেউ ছিল। তুমি প্লিজ আর এসব ভেবো না। তুমি অসুস্থ হয়ে যাবে। ডাক্তার দেখাও। রেস্ট নাও। বুঝেছো?"
ওপাশে ৩ সেকেন্ডের নীরবতা।  
তারপর দাদুর দীর্ঘশ্বাস।  
দাদু: "আচ্ছা .. তুই যা বলিস। আমারই ভুল হবে হয়তো। বয়স হয়েছে তো..."
সাকুরা : আর হ্যাঁ বিশ্বাস হচ্ছে না তো জানি...তাই বাবাকে বলেছি সামনে মাসে তোমাকে আর মা- কে জাপান নিয়ে আসতে তুমি না বলেছিলে তোমার জাপান আসার খুব শখ? 
দাদু : হ্যাঁ রে তবে আমার তো বয়স হয়েছে এখন কি পারবো আগের মতো আনন্দে থাকতে?
সাকুরা : ধুর ছাই আমি আছি না আমরা সবাই মিলে খুব মজা করবো কেমন..
দাদু : আচ্ছা আচ্ছা দাদুভাই।
ফোন কেটে যেতেই সাকুরা 
আয়নার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো,  
 " দাদু তুমি জানো-ও না এখানে তোমার জন্য কত বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।"আমি চাচ্চু কে ফিরিয়ে আনবোই। যে করেই হোক।"
রাত ৯:৪০। ডুপ্লেক্সের কিচেন।
টেবিলের চারপাশে মেঝেতে বসে আছে চারজন। সামনে ছড়ানো ময়দা, চিজ, টমেটো সস।  
মিশন: Cheese Pizza..
রাত: " আরে ! ১০ মিনিট এ হয়ে যাবে রে!"  
মেঘ: " হ্যাঁ এটা ১০ মিনিটে ইট হয়ে গেছে!"  
জেনিফা: "আমার খিদে পেয়েছে।
  
সাকুরা: "চুপ! আমি করছি!"
২০ মিনিট পর...  
ময়দা শক্ত হয়ে গেছে । সস দেয়ালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লেগে আছে । চিজ পুড়ে যেনো কয়লা হয়ে গেছে ।সবাই হতাশ হয়ে বসে আছে। "ঠিক তখনই কিচেনের দরজায় কারো ছায়া।  
হেভেন
পরনে কালো শার্ট। হাতা ফোল্ড করা। চুল গুলো এলোমেলো।
*রাত*: "আরে প্রফেসর! আপনি? এত রাতে?
হেভেন একবারও কারো দিকে তাকালো না। সোজা সাকুরার দিকে তাকালো।  
সাকুরা চোখ নামিয়ে নিলো।
*হেভেন*: "সরো।"
ময়দার তালটা হাতে নিয়ে নরম করলো। চিজ গ্রেট করলো। সস সমান করে লাগালো। প্রতিটা কাজের দক্ষতা সবাই কে অবাক করে দিচ্ছে ।
মেঘ: "ওয়াও!!"  
জেনিফা: "সাকু দেখ! প্রফেসর কত ভালো !"
সাকুরা: "আমার দেখার দরকার নেই।"
হেভেন পিজ্জা ওভেনে দিতে দিতে পেছন থেকে ফিসফিস করে বললো, শুধু সাকুরা শুনবে এমন ভাবে,  
*হেভেন*: "কাল রাতের মতো আজকেও অভিমান হলে আমাকে ডেকো Moon আমি আছি।"
সাকুরার গাল টা লাল হয়ে গেলো মূহুর্তের মধ্যে ।  
সাকুরা: "কেউ ডাকবে না তোমাকে। অসভ্য "
"সবাই হাসতে হাসতে খাচ্ছে।  
সাকুরা এক কোণে বসে একটা স্লাইস হাতে নিয়ে নাড়ছে। তবে খাচ্ছে না।
ওর মাথায় শুধু দু-টো জিনিস ঘুরছে -  
কাল রাতের দৃশ্য গুলো। 
মনে মনে আবার প্রতিজ্ঞা করলো -  
"চাচ্চু... আমি তোমাকে ফিরিয়েই ছাড়বো।"
"সাকুরা রুমে বসে আছে চোখে মুখে রাগের ছাঁপ। " আর বেডে সুয়ে আছে হেভেন,, আজ যেনো তার জেদ বেড়ে গেছে দ্বিগুন। 
হেভেন : বেইবি.....দূরে কেনো আছো এখানে এসে বসো আমার কাছে... 
সাকুরা : কয়টা বাঁজে খেয়াল আছে?? প্লিজ রুম থেকে বের হও আমার ভালো লাগছে না ঘুুমাবো আমি। 
হেভেন : ঘুমাবে? ঘুমাও না করেছে কে? এই নাও একটু সরে গেলাম এখানে আসো।
সাকুরা : তোমার পাশে? অসম্ভব। তোমাকে তো আমার ঘার মটকে দিতে মন চাচ্ছে লুই*চ্চা বেডা।
ঘড়িতে রাত ১২:০৫। রুমের মধ্যে সাকুরা চেচামেচি করছে হেভেনের সাথে
ঠিক তখনই...
"আহ..." লাগছে তো এমন করিস না প্লিজ..
"উফফ... মেঘ..." কি করছিস ছাড় ঘুম পাচ্ছে খুব। 
পাশের লিভিং রুম থেকে আওয়াজ গুলো আসছে 
বাজে..একদম অস্বস্তিকর। যেন কেউ কারো ভালোবাসায় ডুবে যাচ্ছে।
সাকুরা লাফ দিয়ে উঠলো।  
সাকুরা: "এতো রাতে এসব কি?"
কপালে বিরক্তির ভাঁজ।  
পা টিপে টিপে লিভিং রুমের দিকে গেলো। পেছন পেছন হেভেন ও আসলো।দরজাটা হালকা লাগানো।
ভেতর থেকে আবার আওয়াজ।  
সাকুরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুললো।
আর পরের সেকেন্ডে...
সাকুরা:"আআআআআআআআআআআআ!!!!"
দুজনোর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো।
"সোফার উপর এলোমেলো অবস্থায় মেঘ আর জেনিফা।
জেনিফার চুল এলোমেলো। ওড়না একপাশে।  
মেঘের টি-শার্ট উঠানো। 
সাকুরা: "ছি! এসব কি! নির্লজ্জ!"
লজ্জায় ওর গাল, কান সব লাল।  
চোখ বন্ধ করে চিল্লাচ্ছে।
মেঘ লাফ দিয়ে সরে গেলো।  
মেঘ: "সা... সাকু? তুই? কখন এলি?"
জেনিফা চিৎকার দিয়ে কুশন দিয়ে মুখ ঢাকলো।  
জেনিফা: "ওহ মাই গড! দরজা নক করিস না কেন?"
ঠিক তখনই পেছন থেকে ঠান্ডা গলা,  
হেভেন: "কি হয়েছে এখানে?"
সাকুরা ঘুরে তাকালো।  
হেভেন দরজায় দাঁড়িয়ে। কালো টি-শার্ট। চুল এলোমেলো। চোখে ঘুম ঘুম ভাব। "এমন ভাব করছে যেনো স-বে মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে। 
সাকুরা আঙুল দিয়ে ভেতরের দৃশ্য দেখালো।  
সাকুরা: "ওরা! ওরা ওসব করছিল!"
হেভেন ভেতরে তাকালো। একবার।  
তারপর শান্ত গলায় বললো, 
 
হেভেন: "রুমে দরজা লাগিয়ে যা করার করো। এটা কমন স্পেস। বুঝেছো?"
ওর গলায় বিরক্তি, কিন্তু ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি।
মেঘ: "সরি ব্রো... আসলে আমরা..."  
জেনিফা: "আমরা মুভি দেখছিলাম!"
সাকুরা: "এইভাবে মুভি দেখে কেউ?" চোখ না খুলেই কথা টা বললো।  
সাকুরা: "আমি যাচ্ছি! ও মাই গড আমি কিছু দেখিনি!"
দরজা খুলে হেভেন ভেতরে ঢুকলো।
সাকুরা সাথে সাথে বালিশ ছুঁড়ে মারলো।  
হেভেন বালিশটা ধরে
 ফেললো। মুখ চেপে ধরে হাসছে।  
হেভেন: "রাগ কমেছে?"
সাকুরা: রাগ? আমি রাগ করিনি! আমি শকড হয়ে গেছি!"  
লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ঘরের মধ্যে পায়চারি করছে।  
সাকুরা: "ওরা এটা কিভাবে করতে পারলো? হ্যাঁ? কিভাবে? ওরা তো ভালো বন্ধু ছিল! ক্লাসমেট! একসাথে নোট শেয়ার করে! 
ও মাই গড! কি দেখলাম আমি? আমার চোখ!
"জেনিফা! ও তো ভদ্র মেয়ে! আর মেঘ! ও তো..."  
 "ছি ছি ছি! আমি আর ভাবতে পারছি না!"
হেভেন চুপচাপ ওর পাগলামি দেখছে।  
তারপর ধীরে বললো,  
হেভেন: "বাচ্চারা কন্ট্রোল করতে পারেনি।"
সাকুরা: "চুপ! "অসভ্য! একদম চুপ! তুমিও ওদের মতো?"
হেভেন কাছে এলো।  
হেভেন: " আমি কন্ট্রোল করতে না পারলে এতোদিনে দুই বাচ্চার মা হয়ে যেতে।"
সাকুরা: "আবার
 অসভ্যতা!" "আমার মাথা কাজ করছে না! বুঝেছো? আমার ফ্রেন্ডরা! আমার সামনে! এত রাতে!"
হেভেন: "ওরা যথেষ্ট বড়। ওদের নিজস্ব জীবন আছে। তুমি ওদের মা না।"
সাকুরা: "আমি মা না। কিন্তু আমি তো ওদের বন্ধু !"  
কথা টা শেষ করতে পারলো না। লজ্জায় মুখ ঢাকলো।
হেভেন: "লজ্জা পাচ্ছো?
সাকুরা:! আমি... আমি বিরক্ত!"
জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। বাইরে অন্ধকার শহর।  
সাকুরা: "দাদুকে কি বলবো আমি? যে আমার ফ্রেন্ডরা রাত ১২টায়..."
বাক্যটা শেষ হলো না।  
পেছন থেকে হেভেনের কোমর জরিয়ে ধরে গলায় মুখ গুজে দিলো।
"সাকুরা হতভম্ব হয়ে গেলো,, মুখের কথা যেনো আটকে গেলো। " সাকুরা ভাবছে __এটা কি হলো?? আমার তো উচিত এখন ওকে ধাক্কা দিয়ে আমার কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়া __ও কে আমাকে স্পর্শ করার? কিন্তু আমি পারছি না কেন আ...আমার হাত পা কাজ করছে না।
হেভেন: "কবে আমার হবে মুন?
সাকুরা: কখনোই না
হেভেন: "আচ্ছা?? তাহলে জোর করে আমার করবো?  
 
সাকুরা : পারবেনা।  
*নয় দিন পর __সকাল ৬:১৫ টা ডুপ্লেক্স এপার্টমেন্ট*
টোকিওর আকাশে হালকা রোদ। আর ডুপ্লেক্সের ভেতর দৌড়াদৌড়ি।সাকুরার চুল বাঁধা নেই। পরনে এপ্রোন। হাতে ঝাড়ু, এক হাতে ফোন।  
আজকের দিনটা তার কাছে অন্যরকম লাগছে। কারন দু-দিন বাদে *বাবা, মা আর দাদু* আসবে। অনেক দিন পর। প্রায় ৩-৪ মাস পর তাদের দেখবে সাকুরা। 
সাকুরা: "রাত! পর্দা গুলো ধুয়ে দিয়েছিস?"  
রাত: "হ্যাঁ মহারানী! আপনি শুধু হুকুম করুন।" জেনিফা আর মেঘ কোথায়?
সাকুরা: "কতবার বলেছি ওদের কথা আমার সামনে না বলতে? তুই কি ভুলে যাস রাত।
রাত : আচ্ছা বাবা আর বলবো না।
সাকুরা প্রতিটা কাজে আজ খুশি। কিন্তু মাঝে মাঝে থমকে গেলো। " চুল গুলো প্রায় কোমর বেয়ে নেমেছে। যে মেয়ে কাঁধ অব্দি চুল পড়তে না পড়তেই কেটে ফেলতো তার চুল আজ কোমর বেয়ে নামার উপক্রম? 
সাকুরা: " বাহ্ এমন চুলে কি আমাকে ভালো দেখায়? বেশ বড় হয়ে গেছে চুলগুলো। 
রাত : মেয়েদের সৌন্দর্য তাদের চুলে রে সাকু তোকে না অসম্ভব সুন্দর লাগছে..এমনই থাক না চুলগুলো। 
"সাকুরা আর কথা বাড়ালো না চুপচাপ কাজে মন দিলো। রাতও মুচকি হেসে কাজে মন দিলো।
"ঠিক তখনই পায়ের শব্দ।  
জেনিফা আর মেঘ নেমে এলো। দুজনের চোখ ফোলা। রাত জেগেছে বোঝা যাচ্ছে। কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না।
"জেনিফা পানি নিতে গেলে সাকুরা সরে গেলো।  
মেঘ টোস্ট নিলো। সাকুরা ওর থেকে ও মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
রাত: "কি হয়েছে? সবাই এমন চুপ করে থাকবি? এই তোদের বন্ধুত্ব?
কেউ উত্তর দিলো না।  
শুধু পিন পতনের শব্দ।
রাত: "সাকু? কথা বলবি না?"
সাকুরা ধীরে কফির মগ টেবিলে রাখলো।  
সাকুরা: ওরা... ওরা যা করেছে মনে হয় না এ জন্মে ওদের দিকে ফিরে তাকাবো.."
রাতের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।  
রাত: "কি এমন করেছে দুজন দুজনকে ভালোবাসে সাকু আর সেদিন রাতের কথা যদি বলি ওটা আবেগের বসে হয়ে গেছে "
রাত: " আর তোরা এখানেই এসব করতে গেলি? এই বাড়িতেই? এসব করতে এসেছিস তোরা?" "তোদের কাছ থেকে এটা আশা করিনি মেঘ। আর জেনি... তুই?"
জেনিফার চোখে পানি টলমল করছিল। এবার গড়িয়ে পড়লো।  
জেনিফা: "সরি... সরি রাত। ভুল হয়ে গেছে"
সাকুরা: "কিরে কন্ট্রোল করতে পারিস নি গাধা?"
জেনিফা হু হু করে কেঁদে উঠলো। সাকুরাকে জরিয়ে ধরে বললো__"আমি জানতাম না সাকু তুই এতো কষ্ট পাবি..."
"ঠিক তখনই...সাকুরা জেনিফা কে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিলো..জেনিফা সোজা টেবিলের কোনায় গিয়ে পড়লো..
রাত :আরে সাকু পাগল হয়ে গেলি নাকি? 
"আহ!!!"
জেনিফা পেট চেপে বসে পড়লো। "পেট... পেটে খুব ব্যথা করছে.... আমি আর নিতে পারছি না মেঘ কিছু করো.." মেঘ দ্রুত ওর পাশে বসে পরলো। 
মেঘ : কি হয়েছে জেনি?? খারাপ লাগছে কোথায় ব্যথা করছে বলো? 
 
সাকুরা দ্রুত গাড়ির চাবি বের করে এপার্টমেন্টের বাহিরে গেলো।
মেঘ ড্রাইভ করছে। পেছনে জেনিফা সাকুরার কোলে মাথা দিয়ে কাতরাচ্ছে।
সাকুরা: "জেনি কথা বল। চোখ খুলে রাখ।"
জেনিফা: "সাকু... আমি মরে যাচ্ছি..."আমার জান বেড়িয়ে যাচ্ছে!! কদিন ধরেই তলপেটে হালকা ব্যথা অনুভব হয় আজ আর সহ্য হচ্ছে না সাকু।
সাকুরা: "চুপ! কিছু হবে না তোর!" 
"হসপিটাল। ইমার্জেন্সি।  
স্ট্রেচার। ডাক্তার। নার্স।  
জেনিফাকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো..
"বাইরে ৪ জন।  
সাকুরা পায়চারি করছে।  
আর হেভেন সে খবর পাওয়া মাত্রই দৌড়ে এসেছে? হেভেন সাকুরার পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। 
১৫ মিনিট পর ডাক্তার বের হলো।  
  
সাকুরা : ডাক্তার আমার জেনি কেমন আছে? ওর কি কিছু হয়েছে বলুন না চুপ করে আছেন কেনো!! 
ডাক্তার: "পেশেন্টের হাসবেন্ড কে?" আর আপনারা সবাই ভেতরে আসুন।
চারজন একসাথে "হু?" করে তাকালো।
ডাক্তার: " সিগনেচার লাগবে ওনার হাসবেন্ড এর। উনি মা হতে চলেছে।
সাকুরার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়রলো  
রাত: "জেনি প্রেগন্যান্ট?"
ডাক্তার কাগজ দেখতে দেখতে বললো,  
ডাক্তার: "হ্যাঁ ২ মাস। হাসবেন্ডকে ডাকুন।"
পুরো করিডোরে পিন পতনের শব্দ।
সাকুরা : দেখুন ডক্টর আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে আমার বান্ধবীর তো বিয়েই হয় নি।
ডাক্তার : হোয়্যাট
মেঘ ঢোক গিললো। তারপর হঠাৎ লাফ দিয়ে জেনিফার হাত ধরলো।  
মেঘ: "এই যে! এই যে আমি ওর হাসবেন্ড!"  
 
"আমরা মজা করছিলাম ডাক্তার! আমরা অলরেডি বিয়ে করেছি! কোর্ট ম্যারেজ!"
ডাক্তার ভ্রু কুঁচকালো।  
ডাক্তার: "ম্যারেজ সার্টিফিকেট?"
মেঘ: "বাড়িতে... বাড়িতে আছে। নিয়ে আসছি।"  
ঘামছে।
রাত: "মিথ্যা বলিস না মেঘ!"
সাকুরা: "হ্যাঁ! মিথ্যা বলছি মজা করে ! ওদের বিয়ে হয়েছে তো!! 
হেভেন: "Moon এরা তো দেখি পাঁকা খেলোয়াড়। 
সাকুরা: তুমি চুপ করো অসভ্য। আমার বান্ধবী প্রেগন্যান্ট! আর এই গাধাটা বলছে বিয়ে হয়েছে!"  
  
নার্স: "পেশেন্টের জ্ঞান ফিরেছে। কিন্তু উনি খুব ভয় পেয়ে আছে।ঠিক মতো খাবার না খাওয়ার কারনে হয়তো শরীর দূর্বল হয়ে গেছে। এমন করতে থাকলে বেবির ক্ষতি হবে। 
  
জেনিফা বেডে শুয়ে আছে।
মেঘ ওর হাত ধরলো।  
মেঘ: "জেনি, সরি। আমি সব সামলে নেবো।"
জেনিফা কিছু বললো না।  
শুধু সাকুরার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো,"সাকু... আমাকে মাফ কর..."
#চলবে 
#কপি_করা_কঠোরভাবে_নিষিদ্ধ 
#আজকের পার্ট কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন আর ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন 🌸ধন্যবাদ🌸

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন