ফন্ট সাইজ:
থিম:
Bloody Vampire

৩৬তম পর্ব

লেখক: ‎Dimple Sakura

#Bloody_Vampire

#Dimple_Sakura
#পর্ব-৩০ (প্রথম অংশ) 
"ল্যাবের বিশাল কক্ষে তখন এমন এক নীরবতা নেমে এসেছে, বিশাল মনিটরের ওপর এখনও জ্বলছে সেই বার্তাটি—
DON’T TOUCH HER.
তার নিচে শেষ লাইনটি যেন আরও অন্ধকার হয়ে উঠেছে "তার কিছু হলে তোদের অস্তিত্বই মুছে দেব।
কাইরান ধীরে ধীরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। রাফায়েলের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। ভিক্টর বারবার চারপাশে তাকাচ্ছে। নোভা নিজের মুঠো শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে, আর ড্যামিয়েনের চোখে প্রথমবারের মতো সেই আত্মবিশ্বাসের বদলে সতর্কতার ছাপ।
শুধু আলবার্ট স্থির।
অস্বাভাবিক রকমের স্থির।
সে ধীরে ধীরে মনিটরের সামনে এগিয়ে গেল। আঙুল বাড়িয়ে স্ক্রিনে ভেসে থাকা বাক্যটির ওপর স্পর্শ করল।
তার ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি ফুটে উঠল।
রাফায়েল নিচু স্বরে বলল,
“স্যার...”
আলবার্ট উত্তর দিল না।সে শুধু চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল। তারপর খুব ধীরে বলল,
 “ওকে আমি রাগাতে চাইনি।”
কাইরান অবাক হয়ে তাকাল।
"কাকে?
আলবার্টের মুখের হাসিটা এবার মিলিয়ে গেল।
"যাকে তোমরা কেউ সামনে থেকে দেখলে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না।
ঠিক সেই মুহূর্তে—ল্যাবের সব আলো একসঙ্গে নিভে গেল।
চারপাশ ডুবে গেল কালো অন্ধকারে।কেউ অস্ত্রের দিকে হাত বাড়াল।কেউ পিছিয়ে গেল।তারপর অন্ধকারের একেবারে শেষ প্রান্ত থেকে ভেসে এল একটি শব্দ—একটি পায়ের শব্দ...কাঁচের দেয়ালের ওপারে হঠাৎ ক্ষীণ নীল আলো জ্বলে উঠল।
সেই আলোয় প্রথমে দেখা গেল একটি ছায়া
তারপর ধীরে ধীরে মুখটি আলোর মধ্যে এলো।এলোমেলো কালো চুল কপালের ওপর নেমে এসেছে। মুখের রেখাগুলো অস্বাভাবিকভাবে স্থির । চোখ দুটো গভীর, ধূসর বেগুনী—কিন্তু তার ভেতর যেন লুকিয়ে আছে এমন এক বিপজ্জনক শীতলতা, যার সামনে শব্দও থেমে যেতে চায়। ঠোঁটের এক কোণে ক্ষীণ হাসি। সেই হাসিতে কোনো উষ্ণতা নেই; বরং এমন এক নিশ্চয়তা আছে, যেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি মানুষ ইতিমধ্যেই তার হিসাবের খাতায় লেখা।
সাতজনের মধ্যে কেউ একজন অজান্তেই ফিসফিস করে উঠল—
" হেভেন...
হেভেন থামল।
তার চোখ ধীরে ধীরে প্রত্যেকের মুখের ওপর দিয়ে ঘুরে গেল।শেষে এসে থামল আলবার্টের ওপর।দুজনের চোখ মিলতেই ল্যাবের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠল।
আলবার্টের ঠোঁটে আবার সেই পুরোনো হাসি ফুটল।
"আমি ভাবছিলাম, তুমি কবে আসবে।
হেভেন মৃদু হেসে বলল,
— আর আমি ভাবছিলাম, তুমি কবে এতটা বোকা হলে যে সাকুরার নামটা আবার মুখে আনলে।
হেভেন ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এল।তার জুতোর শব্দ কাঁচের মেঝেতে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।সে টেবিলের কাছে এসে থামল।
তার দৃষ্টি গেল সাকুরার নাম লেখা ফাইলটির দিকে।
আঙুল দিয়ে ফাইলটা বন্ধ করে দিল সে।
" এই নামটা তোমাদের ল্যাবে আর একবারও দেখতে চাই না।
আলবার্ট হেসে বলল,
“তুমি এখনও ওকে লুকিয়ে রাখতে চাইছো?”
হেভেন তাকাল।
— লুকিয়ে রাখছি না।
এক মুহূর্ত থেমে তার চোখ সরু হলো।
— রক্ষা করছি,,কারণ আমি চাই না ওর জীবনের প্রতিটা সকাল প্রতিশোধের কথা দিয়ে শুরু হোক।
আলবার্ট এবার কিছু বলল না।হেভেন চারপাশে তাকিয়ে দেখল সাতজনকে।
তারপর হঠাৎ বলল,
" চলো।
কাইরান : কোথায়?”
হেভেন টেবিলের ওপর পড়ে থাকা কালো একটি ধাতব বাক্স তুলে নিল।বাক্সের ঢাকনা খুলতেই ভেতরে দেখা গেল কয়েকটি কালো কার্ড।
হেভেনের ঠোঁটে ধীরে ধীরে সেই ভয়ংকর হাসিটা ফিরে এল।
" খেলব।
রাফায়েল: খেলা?
"হ্যাঁ।
হেভেন একটা কার্ড তুলে নিল।সে কার্ডটা বাতাসে ছেড়ে দিল।কার্ডটা ঘুরতে ঘুরতে মেঝেতে পড়ল।তাতে লেখা—SEVEN SECRETS.
হেভেন ধীরে বলল,
— সাতজন মানুষ। সাতটা গোপন সত্য। আর একটা রাত।
"নোভা: আমার সঙ্গে খেলা খেলতে এসেছিস?
" না।
হেভেন তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
— খেলা খেলতে আসিনি। তোর মুখ থেকে এমন কিছু কথা শুনতে এসেছি, যেগুলো তুই নিজেও জানিস না।”
কথাটা শেষ হতেই ল্যাবের দরজা—নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।লাল আলো জ্বলে উঠল।একটার পর একটা স্ক্রিন সক্রিয় হলো।
হেভেন হাত তুলে বলল,
"নিয়ম খুব সহজ।
সে সাতটি কার্ড টেবিলের ওপর সাজিয়ে দিল।
"প্রত্যেকে একটা কার্ড তুলবে। কার্ডে থাকবে একটা প্রশ্ন, একটা স্মৃতি অথবা একটা সিদ্ধান্ত।তার চোখে অদ্ভুত ঝিলিক।
— সত্যি বললে খেলা এগোবে।
একটু থেমে সে যোগ করল,
মিথ্যা বললে... তোমাদের মধ্যে অন্য একজনকে সেই মিথ্যার মূল্য দিতে হবে।
ড্যামিয়েন গম্ভীর গলায় বলল,
" আর যদি কেউ খেলতে না চায়?
হেভেন তার দিকে তাকাল।
" তাহলে সে নিজেই প্রমাণ করবে যে তার লুকানোর মতো কিছু আছে।
ড্যামিয়েন আর কিছু বলল না।হেভেন হাততালি দিল।সঙ্গে সঙ্গে ল্যাবের মাঝখানে সাতটি আলোর বৃত্ত জ্বলে উঠল।
" বসো।
এইবার কেউ আপত্তি করল না।একজন একজন করে সবাই বসে পড়ল।আলবার্ট শেষ পর্যন্ত নিজের চেয়ারে বসল।হেভেন তার সামনে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসল।
" তুমিও খেলবে?
আলবার্ট বলল,আমি তোমাদের মতো ভয় পাই না।”
" জানি।
হেভেন মাথা নাড়ল।
" তাই তোমাকে শেষের জন্য রেখেছি।সে প্রথম কার্ডটা তুলে নিল।কার্ডের পেছনে কালো অক্ষর।হেভেন কার্ডটা রাফায়েলের দিকে বাড়িয়ে দিল।
" তুই শুরু কর।
রাফায়েল কার্ডটা নিল।উল্টাতেই তার মুখের রং বদলে গেল।
হেভেন জিজ্ঞেস করল,
"পড়ে শোনাবি?
রাফায়েল শুকনো গলায় পড়ল,
— সতেরো বছর আগে জাইফার পরিবারের ওপর নজরদারি করার দায়িত্ব কার ছিল?
রাফায়েল ধীরে আলবার্টের দিকে তাকাল।আলবার্টের মুখে কোনো পরিবর্তন নেই।
রাফায়েল বলল,
" আমার।
হেভেন মাথা নাড়ল।
— শুধু তোর?
রাফায়েল থেমে গেল।
হেভেনের চোখ এবার তার চোখের ভেতর গিয়ে স্থির হলো।
— পুরো সত্যি।
রাফায়েল দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— না। আমি একা ছিলাম না।
হেভেন মৃদু হাসল।
— এবার ঠিক বলেছিস।
দ্বিতীয় কার্ড গেল কাইরানের হাতে।সে কার্ড খুলতেই লেখা..তুমি কি জানো, কেন সাকুরাকে এত বছর নজরদারিতে রাখা হয়েছিল?
কাইরান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।তারপর বলল,
— তার রক্তের জন্য।
হেভেনের চোখ স্থির হয়ে গেল।
— আর?
কাইরান মুখ তুলল না।
— তার শক্তির জন্যও।
আলবার্ট এবার ধীরে ধীরে চোখ তুলল।হেভেন সেটা লক্ষ্য করল।
তৃতীয় কার্ড।ভিক্টর।
কার্ডে লেখা—
সতেরো বছর আগের রাতের সবচেয়ে বড় ভুল কী ছিল?
ভিক্টর অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— সাকুরাকে বাচিয়ে রাখা।
হেভেনের ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটল। ঘরের প্রত্যেকটি মানুষ নিঃশব্দ হয়ে গেল।
চতুর্থ কার্ড গেল নোভার হাতে।সে কার্ড খুলল।কয়েক সেকেন্ড পড়ে থাকার পর তার আঙুল কেঁপে উঠল।
হেভেন বলল,
— পড়।
নোভা ধীরে বলল,
— সাকুরার সম্পর্কে এমন কী জানো, যা আলবার্ট জানে না?
আলবার্ট এবার সত্যিই সোজা হয়ে বসল।নোভা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
হেভেন শান্ত গলায় বলল,
"ভয় পাস না।
তার চোখের কোণে রহস্যময় হাসি।
" আজ শুধু সত্যি বের হবে।
নোভা ধীরে বলল,
— আমি জানি... সাকুরার শক্তি পুরোপুরি জেগে উঠলে তাকে থামানো কঠিন হবে।
হেভেন মাথা নাড়ল।
— এই তথ্য তো আলবার্টও জানে।নোভা চমকে তাকাল।হেভেন এবার আলবার্টের দিকে তাকিয়ে বলল,
"তাই না?
আলবার্ট কিছু বলল না। পঞ্চম কার্ড গেল রেনের হাতে।
কার্ডে মাত্র একটি বাক্য—
এই সাতজনের মধ্যে কাকে তুমি সবচেয়ে কম বিশ্বাস করো?রেন একে একে সবার দিকে তাকাল।তারপর—আলবার্টের দিকে।ঘর জমে গেল বরফের মতো।
আলবার্ট ধীরে বলল,
"সাবধানে উত্তর দে গা*ধা।
রেনের গলা শুকিয়ে গেল।হেভেন হেসে বলল,
"দেখলি।
আলবার্ট ঠান্ডা গলায় বলল,
— খেলা শেষ হলে তোর এই হাসিটা থাকবে না।
হেভেন হাসলো।ষষ্ঠ কার্ড।ড্যামিয়েনের হাতে।কার্ডে লেখা—তোমাদের গবেষণার আসল উদ্দেশ্য কী?ড্যামিয়েন চুপ।
আলবার্ট বলল,
"উত্তর দিও না।
হেভেন সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে তাকাল।
" আলবার্ট।
তার কণ্ঠস্বর এবার আগের চেয়ে নিচু।
"তুই ভুলে যাচ্ছিস, এটা আমার খেলা।
ড্যামিয়েন ধীরে বলল,
— দীর্ঘায়ু।
হেভেনের চোখে এক মুহূর্তের জন্য কঠিনতা ফুটে উঠল।
— আর?
ড্যামিয়েন বলল,
— মানুষের শরীরের পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করা। সৌন্দর্য রে দীর্ঘদিন ধরে রাখা।হেভেনের দৃষ্টি ধীরে সাকুরার নাম লেখা ফাইলের দিকে গেল।
— আর সেই গবেষণার শেষ চাবি?
ড্যামিয়েন আর উত্তর দিল না।হেভেন বুঝে গেল।আলবার্ট এবার উঠে দাঁড়াল।
" যথেষ্ট হয়েছে।
হেভেন তার দিকে তাকাল।
— না। এখনো একজন বাকি।সে ধীরে ধীরে শেষ কার্ডটা তুলে নিল।তারপর কার্ডটা নিয়ে আলবার্টের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।কার্ডটা আলবার্টের হাতে দিয়ে বলল,
" এবার তোর পালা।
আলবার্ট কার্ডটা উল্টে দেখল।তার চোখে প্রথমবারের মতো এক মুহূর্তের জন্য বিস্ময় ফুটে উঠল।
কার্ডে লেখা—
তুমি কি সত্যিই সাকুরার শক্তি চাও?
আলবার্ট ধীরে মাথা তুলল।হেভেন তার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।
" উত্তর দে।
আলবার্ট : হ্যাঁ।
হেভেন কিছু বলল না।আলবার্ট আবার বলল,
" ওর শক্তি আমার দরকার।কিন্তু তুই ভুল ভাবছিস। আমি ওকে শুধু গবেষণার জন্য চাই না।
হেভেনের চোখ সরু হয়ে গেল।
" তাহলে?
আলবার্ট ধীরে ধীরে হাসল।
"ওর শক্তি দিয়ে আমি এমন কিছু ফিরিয়ে আনতে পারব... যেটা সতেরো বছর আগে হারিয়ে গেছে...
ল্যাবের সব আলো হঠাৎ নিভে গেল।
আলবার্ট : বাচ্চামো করিস না, হেভেন। এত বছর পরেও তুই একই রকম আছিস। সবকিছু নিজের মতো করে চাইবি, আর কেউ তোর সামনে দাঁড়ালেই শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিবি।
হেভেন কোনো উত্তর দিল না। তার দৃষ্টি স্থির ছিল আলবার্টের ওপর।
আলবার্ট এবার ধীরে ধীরে হাত দুটো ছড়িয়ে বলল, — আমি সাকুরাকে চাই। সরাসরি বলছি। ওকে আমার হাতে তুলে দে। বিনিময়ে তুই যা চাইবি, তা পাবি। আরও সুন্দরী নারীদের তোর চারপাশে লাইন লাগিয়ে দেব, চাইলে একটা নতুন সাম্রাজ্য গড়ে দেব। শুধু সাকুরাকে আমার হাতে তুলে দে।
কথাগুলো শেষ হতেই হেভেনের মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল।
"তুই এখনও বুঝতে পারিসনি, আলবার্ট।
হেভেন ধীরে ধীরে এক পা এগিয়ে এলো।
"সাকুরা কোনো জিনিস নয়। কোনো পুরস্কার নয়। কোনো চুক্তির অংশ নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা—ওকে পাওয়ার জন্য আমাকে পৃথিবীর কোনো কিছুর দরকার নেই।কারণ আমি ওকে ভালোবাসি।”
সাতজনের মধ্যে কয়েকজন অস্বস্তিতে একে অপরের দিকে তাকাল।
হেভেন থামল না।
" তুই জানিস, ভালোবাসা আর মালিকানার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? তুই সাকুরার রক্ত চাস। ওর শক্তি চাস। ওর অস্তিত্বকে নিজের গবেষণার একটা অংশ বানাতে চাস। আর আমি চাই ও যেন নিজের মতো করে বাঁচে।কিন্তু ওর একটু হাসির জন্য আমি আমার পুরো সাম্রাজ্য ছেড়ে দিতে পারি। কিন্তু ওর চোখে একফোঁটা ভয় দেখলে... সেই সাম্রাজ্যটাই পুড়িয়ে ফেলতেও আমার এক মুহূর্ত লাগবে না।
আলবার্ট ঠান্ডা গলায় হেসে বলল, — অতিরিক্ত আবেগ দেখাচ্ছিস।
" হয়তো।
হেভেনের ঠোঁটে অদ্ভুত এক হাসি ফুটল।
" কিন্তু সাকুরার ব্যাপারে আমার আবেগই আমার সবচেয়ে ভয়ংকর দিক।
কিছুক্ষণ কেউ কথা বলল না।তারপর হেভেন টেবিলের ওপর পড়ে থাকা কালো কার্ডগুলোর দিকে তাকাল।
" তোমরা খেলা খেলছিলে, তাই না?
সে ধীরে ধীরে একটি কার্ড তুলে নিলো।প্রথমে যে লোকটি আগে নিজের নাম রাফেল বলে পরিচয় দিয়েছিল, তার দিকে হেভেন তাকাল।
— রাফায়েল।
লোকটি সতর্ক হয়ে উঠে দাঁড়াল।হেভেন মৃদু হাসল।
— তুই তো বলেছিলি সাকুর পরিবারের বিরুদ্ধে পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছিলি।
রাফায়েল চুপ।
হেভেন কার্ডটা আঙুলের মধ্যে ঘুরিয়ে বলল, —আমার খেলায় একটা নিয়ম আছে। জিতলেও পুরস্কার নেই। হারলেও পুরুষ্কার।
সে এক মুহূর্ত থামল।
" তবে পুরস্কার একটাই... মৃত্যু"
রাফায়েলের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
" এত সহজ না, হেভেন।
পরক্ষণেই সে হাত তুলল।
ঘরের বাতাস হঠাৎ কেঁপে উঠল। অদৃশ্য কালো কোনো শক্তি যেন হেভেনের দিকে ছুটে এল।কিন্তু হেভেন নড়লও না।তার চোখের সামনে এসে সেই কালো শক্তি যেন অদৃশ্য দেয়ালে ধাক্কা খেল।
এক মুহূর্তের নীরবতা।
তারপর হেভেন শুধু আঙুলের সামান্য ইশারা করল।
রাফায়েল কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। আর উঠে দাঁড়াল না।তার দেহ টা মূহুর্তের মধ্যে বিস্ফরিত হলো। পড়ে রইলো সামান্য কালো মাটি।ঘরে উপস্থিত বাকিরা জমে গেল।
কাইরান এবার পেছনে সরে যেতে চাইল।হেভেন তাকাতেই তার পা যেন মেঝের সঙ্গে আটকে গেল। তার শরীর শূন্যে ভেসে উঠলো মূহুর্তের মধ্যে তার শরীর ও বিস্ফরিত হলো।
নোভা মরিয়া হয়ে শক্তি ব্যবহার করার চেষ্টা করল। চারপাশের ধাতব যন্ত্র কেঁপে উঠল, কয়েকটি টেবিল নিজে থেকেই সরে গেল। কিন্তু হেভেনের মুখে কোনো পরিবর্তন নেই।
পরের মুহূর্তে অদৃশ্য এক শক্তির ধাক্কায় কাইরান মাটিতে ছিটকে পড়ল।
ভিক্টর এবার আক্রমণ করার আগেই হেভেন তার দিকে তাকাল।হেভেনের দৃষ্টি কঠিন হয়ে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে ভিক্টর দু*ভাগ হয়ে মাটিতে পড়ে গেল।
ড্যামিয়েন আর রেন একসঙ্গে পেছাতে শুরু করল।তাদের চোখে এবার প্রথমবারের মতো সত্যিকারের ভয়।হেভেন ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে গেল।
" পালানোর দরকার নেই। তোমরা তো এতক্ষণ খুব সাহসী ছিলে।সে ধীরে ধীরে আলবার্টের দিকে ফিরে দাঁড়াল।
ল্যাবের সাতজনের মধ্যে এখন মাত্র তিনজন বাকি।
আলবার্ট। আর ড্যামিয়েন আর রেন।হেভেন কিছুক্ষণ তাদের দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর ঠোঁটের কোণে আবার সেই অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল।
"বাকি তিনজনকে আজ আমি ছুঁবো না।
আলবার্টের চোখ সরু হলো।
হেভেন বলল,
— ওদের জন্য আমার মুন আছে।
কথাটা বলার সময় তার কণ্ঠে এমন এক নিশ্চয়তা ছিল, যেন সাকুর ক্ষমতার ওপর তার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
— দেখি তো, এত বছর ধরে যে শক্তির জন্য তোরা ছুটে বেড়াচ্ছিস... সেই শক্তি যখন নিজের ইচ্ছায় তোদের সামনে দাঁড়াবে, তখন তোদের মুখের হাসিটা কতক্ষণ থাকে।
আলবার্ট দাঁত চেপে বলল,
— তুই সাকুরাকে এই খেলায় নামাচ্ছিস?
"না।
সে দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল।
— আমি শুধু ওকে একটা সুযোগ দিচ্ছি..
নিজের অতীতের সঙ্গে নিজেই দেখা করার সুযোগ।
হেভেন অন্ধকারে পা রাখল।এক মুহূর্ত পর তার অবয়বটাও ছায়ার মধ্যে মিলিয়ে গেল।
**চলবে**
#কপি_করা_কঠোরভাবে_নিষিদ্ধ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন