#উপন্যাস: সে বলেছিল আমায় ঘৃণা করতে
#লেখিকা: জান্নাতুল ইসলাম নওরিন
#পর্ব:০১
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
রাতে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হওয়ায় সকাল হতে পাখির কিচিরমিচির ঠান্ডা আবহাওয়া সূর্যের মিষ্টি আলোয়ে হালকা রোদের ছোঁয়া পুরো শহরকে যেন সেই আবহাওয়ার সাথে মিলিয়ে নিচ্ছে।
ঠিক তখনই জানালার ওপাশ থেকে পর্দা সরানোয়ে রোদের সেই মিষ্টি আলো মাহিরার চোখে এসে বিনল।
মাহিরা চোখের উপর থেকে চুলগুলো সরাতে সরাতে চোখ ডলতে ডলতে তাকালো
আর দেখলো কোমরে এক হাত দিয়ে মাহিরার দিকে চোখ বড় বড় করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার মামী হালিমা খাতুন।
মাহিরা তড়িঘড়ি করে উঠে বসলো আর আর ভয়ে ভয়ে বলল এত সকাল সকাল তুমি এভাবে রেগে তাকিয়ে আছো কেন আমার দিকে মামি
আমি কি কিছু করেছি(কিছুটা ভয়ে ভয়ে)
তখন তার মামী কোমরে আরেক হাত দিয়ে বলল আহা না নবাবজাদি আপনি আবার কি করবেন এই কথাটা কিছুটা ঠেস মেরে শান্তভাবে বললেও
পরের
কথাটা একদম চড়া কন্ঠে রেগে বলল
কয়টা বাজে তার কি কোন খবর আছে আবার বলছিস আমি কি করেছি
তার কথার স্বরে মাহিরার পাশে শুয়ে থাকা তার বিড়াল ডোরাও উঠে গেল।
মাহিরা কাল রাত প্রায় অনেক সময় পর্যন্ত অনেক রাত জেগে বারান্দায় বসে কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছিল আর বৃষ্টি অনুভব করছিল পরে অনেক দেরি করে ঘুমিয়েছিল তাই আজকে সকালে এত ঝরে বইছে তার উপর
মাহিরা আর কিছু না বলে তৎক্ষণত বালিশের পাশে রাখা ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল সাড়ে নয়টা বেজে গেছে
তার মাথায় হাত ,,,,
সে আধা ঘণ্টার মধ্যে কিভাবে রেডি হয়ে যাবে তার বেস্ট ফ্রেন্ড নিহা তাকে আজকে তাড়াতাড়ি আসতে বলেছিল তারা একসাথে সকালের তান্দুরি চা খাবে বলে
ধ্যাত আর কি করার এখন দুজনের কাছেই বকা
খেতে হবে
একে তো মামি শুরু করেছে সকাল থেকে এখন আবার নিহার কাছে গিয়েও বকা খেতে হবে নিহা নিশ্চয়ই তার জন্য অপেক্ষা করছে
তাই সে আর দেরি করল না সে কোন মতে তার মামীকে বলল মামী তুমি খাবার রেডি করো আমি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আসছি
হালিমা খাতুন ও আর কিছু বলল না সে বলল ঠিক আছে তাড়াতাড়ি কর সময় হয়ে গিয়েছে।
তার মামী চলে যাচ্ছিল ঠিক তখনই মাহিরা আবার তার মামীকে ডাক দিয়ে হাসিমুখে বলল মামী...
হালিমা খাতুন পিছন ফিরে তাকালো কিছুটা নরম স্বরে বলল কি হয়েছে
মামি আজকে আবহাওয়াটা অনেক সুন্দর। আজকে একটু গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি রান্না করো না প্লিজ।
হালিমা খাতুন কিছুটা হাসিমুখে চোখ টানা দিয়ে বলল তাই নাকি তো রেডি হয়ে নিচে আসেন আপনি বলার আগেই আপনার শর্ত পূরণ হয়ে গিয়েছে
মাহিরা তো শুনে বেশ খুশি তাই নাকি মামী তুমি খুব ভালো
হ্যাঁ আমি তো ভালোই তো এখন তাড়াতাড়ি নিচে আয়
ঠিক আছে মামী আসছি,,,
এই বলে হালিমা খাতুন নিচে চলে গেল
(তো এর মাঝখানে সবার পরিচয় দেই। মাহিরা হচ্ছে মির্জা পরিবারের একমাত্র মেয়ে। মাহিরা বিনতে মেহেরিন ডাকনাম মাহিরা সবাই তাকে মাহিরা বলেই ডাকে তার মা সায়মা খাতুন(মৃত)।এবং বাবা রাশেদ মির্জা এবং তার মামি হালিমা খাতুন আর তার মামা নওশাদ শিকদার তারা পরিবারের এই কয়জন সবাই একসাথেই থাকে)
তার মামী চলে যেতেই মাহিরা মুখে হাই তুলে শরীরটা একটু মোড়ামরি করে তার পাশে থাকা বিড়ালটাকে আদর করে কোলে নিল আর বলল
কিরে ডোরা কাল সারারাত তো ঠান্ডা আবহাওয়া'য় নাক ডেকে আমার কোলের মধ্যে গুটিয়ে ঘুমিয়েছিস
আর এখন দূরে বসে আছিস
তো বলতো
আজকের পরিবেশটা অনেক সুন্দর না ডোরা চোখ পিটপিট করে মাহিরার কোলে মাথা এলিয়ে শুয়ে পড়লো
মাহিরা তাকে আরো কিছুটা কাছে নিয়ে একটা চুমু খেয়ে বলল তুই থাক আমি যাচ্ছি ঘুমা নাক ডেকে (কিছুটা হেসে)
আর শোন কোন কিছু নষ্ট করিস না কিন্তু তাহলে কিন্তু মামি তোকে বকবে আর আমাকেও বকবে
এই বলে সে ডোরাকে কোল থেকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে গায়ে কম্বল টেনে দিয়ে
সে সেখান থেকে বারান্দার দিকে গেল
বারান্দায় পা রাখতেই নিচে বৃষ্টিতে ভেজা ফ্লোরের উপরের তার পা পরল
মাহিরার বারান্দার কিছুটা ভিতরে যেয়ে তার গাছের সকাল-সন্ধ্যা ফুলের ঘ্রান নিল
তার বারান্দাটা পুরোপুরি গাছে ভরা ছিল এবং বারান্দার এক কোণে ছিল পাখির ঘর সেখানে সে সুন্দর আকাশি রং এর বাজিগার পাখি পোষে তার পশু পাখি প্রকৃতি খুবই
ভালো লাগে
এসব কিছুর দায়িত্ব তার কাছেই সেই সমস্ত গাছের এবং পাখির দায়িত্ব পালন করে
তো সকাল সন্ধ্যা ফুলের ঘ্রাণ নিয়ে হালকা নিঃশ্বাস পেলে বলল আহ ....
আজকের আবহাওয়াটা সত্যিই অনেক সুন্দর আর গাছগুলোর থেকে আসছে হালকা মিষ্টি করে বৃষ্টির ঘ্রাণ
ইসসস...
এরকম আবহাওয়াটা যদি প্রতিদিন থাকতো এই বলে সে তার পাখির কাছে গেল এবং খাঁচার ভেতরে তার একটা আঙুল দিল তৎক্ষণাৎ তার বাজিগার পাখিটি আস্তে করে তার আঙুলে একটা ঠোক দিল আর শুরু করলো কিচিরমিচির ঠিক তখনই মাহির মনে পড়ল
এই বাবা এমনিতেই দেরি হয়ে যাচ্ছে আর এই এখানে দাঁড়িয়ে আমি দেরি করেছি আরো।
এই বলে সে তাড়াতাড়ি বারান্দা থেকে বের হয়ে সোজা চলে গেলো এবং ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হলো আর তড়িঘড়ি করে রেডি হয়ে নিচে নামলো
কিন্তু সেখানে হালিমা খাতুনকে দেখলো না।
তখন মাহিরা বলল যাক বাবাাহ মামী দেখেনি আমি আবারও দেরি করে বের হয়েছি
এ বলে সে ফোনের স্ক্রিনে সে এই সেই করে ১৫ মিনিট এমনিতেই কাটিয়ে দিয়েছে তারপর টেবিলের দিকে চোখ পড়তেই দেখল আবহাওয়া সাথে মিল রেখে তার পছন্দের খাবার রাখা টেবিলের উপর
তার পছন্দের সুস্বাদু খাবারের ঘ্রানে তৎক্ষণাৎ সে খাবার খেতে বসলো
তবে কোনমতে খাবারের স্বাদ না বুঝেই তাড়াহুড়া করে খেয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলো মেয়েটা ।
তারপর খাবার খেয়ে তার মামীর কাছে গিয়ে বলল মামী আমি যাচ্ছি,,,,,
তার মামী বলল তাড়াতাড়ি যা এই নে ছাতাটা নিয়ে যা যে কোন সময় বৃষ্টি আসতে পারে
মাহিরা আর কিছু না বলে ছাতাটা নিয়ে সেখান থেকে চলে গেল
আর একটা রিকশা ভাড়া করে সোজা চলে গেল কলেজে। যেখানে নিহা তাকে আসতে বলেছিল সে প্রথমে সেখানেই গেল কিন্তু সেখানে নিহাকে দেখতে না পেয়ে সে ক্লাসরুমে চলে গেল।
সেখানে গিয়ে দেখল নিহা সামনের বেঞ্চে বসে বই পড়ছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে মেয়েটার রাগে ফুশছে
মাহিরা তার সামনে যেতেই নিহা একবার তাকে এক নজর দেখল কিছু না বলে আবার পড়া শুরু করে দিল।
ক্লাসের ঘন্টা তখনো পড়েনি
মাহিরা তার পাশে এসে বেঞ্চে বসতেই ঘন্টা পড়লো।
নিহা তখনও তার সাথে কোন কথা বলছে না মাহিরার বেশ ভালো করেই বোঝা হয়ে গেছে যে তার এমন করার কারণ কি মেয়েটা একটু অভিমানী তবে মনটা খুব ভালো।
মাহিরা আস্তে করে তার পাশে গিয়ে কিছুটা তার সাথে লেগে বসলো আর তার মুখের সামনে মুখ নিয়ে বলল সরি দোস্ত অনেক লেট হয়ে গেছে
নিহা তখন কিছুটা কপাল কুঁচকে মাহিরাকে এক পলকে দেখে বলল আর একটা কথা বলবি তোর খবর আছে যা দূরে গিয়ে মর আমার সাথে বসবি না
মাহিরা কিছুটা হতাশা নিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল সরি দোস্ত
বললাম তো সরি এখনো রাগ করে থাকবি...
নিহা তখন আবার কিছুটা রেগেই বলল
তোকে বলতে বলছি আমি সরি কথা বলবি না আমার সাথে।
তখন মাহিরা বলল যে সে রাতে বৃষ্টি দেখতে দেখতে গান শুনতে শুনতে অনেক রাত করে ঘুমিয়েছে তাই আজকে অনেক লেট হয়ে গেছে আর সকালে তার মামীও তাকে অনেক বকেছে নিহা আর কিছু বলল না চুপ করে রইল।
মাহিরাও কিছুক্ষণ চুপ করে মন খারাপ করে আবার বলল দেখ দোস্ত আর হবে না আমরা ছুটির পরে তান্দুরি চা খেতে যাব
তখন নিহা কিছুটা বিরক্তি নিয়ে আর শক্ত কন্ঠে জবাব দিল মাফ চাই ভাই তোর সাথে আমি আর কোন প্ল্যান করব না প্ল্যানটা কত সুন্দর ছিল সকালে ভোরে তান্দুরি চা খাবো দুই বেষ্টি আবার সাথে এত সুন্দর ওয়েদার হয়েছে কিন্তু সমস্ত প্ল্যান তোর জন্য নষ্ট হয়ে গেল তোর অবহেলার কারণে তোর !!!
মাহিরা কিছুক্ষণ চুপ থেকে কাঁদো কাঁদো গলায় ঠোঁট উল্টে কিছুটা আবেগ নিয়ে বলল সত্যি দোস্ত আমার অবহেলার কারণে হয়েছে আমরা এত সুন্দর কিছু মিস করলাম শুধুমাত্র আমার অবহেলার কারণে রাতে যদি আমি অত রাত করে গান না শুনে ঘুমিয়ে যেতাম তাহলে হয়তো আজকে তোর সাথে এই সুন্দর মুহূর্তটা উপহার হিসেবে লিখে রাখতে পারতাম
কিন্তু কে জানতো রাতের ওই ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে পাখির কিচিরমিচিরে ঠান্ডা আবহাওয়া রোমান্টিক গানের তালে আমার মন সেই আবহায় মাতিয়ে যাবে,,,,,
এই বলে সে নিহার দিকে তাকাতে দেখল নিহা এক ভুরু উঁচু করে মুখ হা করে কিছুটা সন্দেহজনক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে
মাহিরাও কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল কি হয়েছে ??
এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন
নিহা তখন এক গালে হাত দিয়ে তার দিকে জিজ্ঞাসাসূচক দৃষ্টিতে বলল না মানে ভাবছি তুই আবার প্রেম টেমে পড়লি কিনাহ ।
মাহিরা একটা হাহ করে নিঃশ্বাস ফেলে বলল ধুর
তুইও না কি যে বলিস
নিহা তখন বলল
না মানে তুই যেভাবে বলছিস তাইইই ভাবলাম আর কি
মাহিরা বলল Btw তোর কি রাগ কমে গেছে
নিহা তখন তার গাল চেপে ধরে বলল,,,
তোর ওই ইনোসেন্ট
মুখটা দেখলেই তো আমার এমনিতেই হাসি পায় bestu......
এই বলে
দুইজনেই হেসে উঠে
আর পেছন থেকে তাদেরই একজন ফ্রেন্ড মারুফ
বলে উঠে
মামাআআ..
তোদের জুটি টা কিন্তু সেই মারাত্মক।
নিহা তখন মজার ছলে একটা ঝাড়ি দিয়ে বলল তুই
চুপ থাক গর্ধব....
দুই হাতে দুইটা ঘড়ি পারছিস কেন
হেহেহেহ,,,,,
মাহিরাও হেসে উঠল মারুফ ও তখন হাতের দিকে
লক্ষ্য করে বলল উফ,,,
আরে ইয়ার তাড়াহুড়ার কারনে রে..
এই বলে মুচকি হেসে এক হাত থেকে ঘড়ি খুলে ব্যাগে রাখল
ঠিক তখনই অংক স্যার মফিজ আসল আর নিহা আস্তে করে বলে উঠলো ওইজে আসছে টাকলা মফিজ,,,,,
মাহিরা বলল আস্তে চুপ থাক,,,
তখন স্যার সবার উদ্দেশ্যে বলল sorry student,,,
আজকে একটু লেট করে ফেললাম তো সবাই ক্লাসে মন দেই,,,,,,,
তখন সবাই যে যার মতো ক্লাসে মন দিল।
চলবে,,,,,,